বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

গরমে স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ রাখার নির্দেশ

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:২৫

সারা দেশে তিন দিনের জন্য ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামীকাল রোববার খুলবে দেশের সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে আপাতত স্কুলের অ্যাসেম্বলি বন্ধ রাখা নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আজ শনিবার সকালে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বেশ কয়েকটি ছুটি সমন্বয়ে টানা ২৬ দিন ছুটি কাটিয়ে আগামীকাল রোববার ফের শ্রেনীকক্ষে ফিরবে শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে করণীয় ঠিক করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর সৈয়দ জাফর আলী বলেন, বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তীব্র তাপপ্রবাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কী করণীয় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ছুটি বাড়ানো বা বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করতে হয়। কারণ হিট এল্যার্ট বা অন্য কিছু ঘোষণা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ রাখতে হয় তবে তাদের পরামর্শে তা করা হয়। এই যোগাযোগ করবে মন্ত্রণালয়। তবে আপাতত বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

এদিকে আবহাওয়া নিয়ে সহসাই কোনো সুসংবাদ নেই। এরকম দাবদাহ আগামী শনিবার থেকে আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ রকম এক অস্বস্তির মধ্যে রোববার শিশুদের স্কুলে পাঠাবেন কি না এমন চিন্তায় আছে অভিভাবকরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি দেশের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন তার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর ও ক্ষমতাবান হয়। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ পয়গাম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, বিচার, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে সেই কাঙ্ক্ষিত শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন সময় এসেছে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়নের।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। জনগণের সমস্যা, চাহিদা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের মতো আর কেউ এতটা জানেন না। তাই দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কল্যাণে ট্রাস্ট ও তহবিল গঠনের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনসহ আগামীতে সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ভোটেই চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।

মন্ত্রী সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সব বিভাগ ও জেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিটি গঠন করতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, দেশের স্বার্থে বিশ্বাসী সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, তৃণমূলের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মাধ্যমেই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণসহ সব ধরনের কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দিতে চাই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে এটি বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তাঁর সদয় সম্মতি দিয়েছেন এবং এই খাতে বিনিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখনই প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘বণিক বার্তা’ আয়োজিত "বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর" শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারণী সম্মেলনে (পলিসি কনক্লেভ) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

বক্তব্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে পরিচালিত হলে সেখানে স্বচ্ছতা অনেক বেশি বজায় থাকে এবং এতে রাষ্ট্রীয় কোশাগারের ওপর অযথা চাপ ও দায় অনেকটাই কমে আসে।

তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় বিপুল বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া উচিত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বিভিন্ন বৃহৎ সিটি ও অঞ্চলে পৃথক পৃথক বেসরকারি কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে গ্রাহকসেবার মান বহুগুণ বাড়বে এবং বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও সিস্টেম লস উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত পলিসি কনক্লেভে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিনিধিরাও তাঁদের দিকনির্দেশনামূলক মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ট্রানজিশন ও ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম রিজওয়ান খান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইডিকল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হক এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।


নির্বাচিত

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সংস্থান করা হয়েছে।

একনেক চেয়ারপারসন হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি বড় উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো হলো ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (১ম সংশোধন)’, ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় নতুন কূপ খননের প্রকল্পগুলো সভায় সবুজ সংকেত পেয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার সংক্রান্ত সংশোধিত প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়।

একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ১১টি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট নির্মাণ, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়ক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালীকরণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও বরিশালসহ ছয়টি জেলায় বিটাকের কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটিও সভায় আলোচিত হয়।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী "চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার)" গঠনের লক্ষ্যে দুই দেশের সার্বিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি পরিবহন করিডোর উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এছাড়া জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়েও উভয় নেতা মতবিনিময় করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।


নির্বাচিত

বস্ত্র খাতের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ে নিরসনের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ সময় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, "বস্ত্রখাতের সমস্যাগুলো অনেক পুরনো যা আগের কোনো সরকারই সমাধান করেনি।" শওকত আজিজ আরও জানান যে, সরকার আন্তরিকভাবে কাজ শুরু করলেও বিদ্যমান এসব সমস্যা পুরোপুরি সমাধানে আনুমানিক দেড় বছর সময় লাগতে পারে এবং দেশের উদ্যোক্তারা এই সময়টুকু সরকারকে দিতে সম্মত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া এই বৈঠকে বস্ত্র খাতের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বিটিএমএ সভাপতি জানান, সরকার এরই মধ্যে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে এবং নবগঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে নতুন করে বৈঠকে বসবে। সরকার আন্তরিক হলে বস্ত্র খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বন্ধ ও অর্ধ-বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ সফল হলে "১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে খুব স্বাভাবিক এবং ত্বড়িৎ গতিতেই।"

তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে ডাম্পিং প্রতিরোধের দিকে সরকারকে বিশেষ মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বস্ত্র খাতকে পুনরায় চাঙা করতে বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


নির্বাচিত

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধিতে ইকোসকের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসার আগে প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও নেপালের করা আবেদনটি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। সংস্থাটি এই আবেদনটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) বিবেচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করেছে। বুধবার ইকোসকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সদস্য দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি এই বাড়তি সময়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল অপরিহার্য।’ এর আগে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনার পর কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) মত দিয়েছিল যে, বাংলাদেশ ও নেপালের এই দাবিটি সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা যৌক্তিক হবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ইকোসক এখন সাধারণ পরিষদকে আগামী ২৪ নভেম্বরের আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ নভেম্বরই এই দুই দেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবটি ইকোসকে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এলডিসি থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে, সাধারণ পরিষদ যদি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে সবুজ সংকেত দেয়, তবে বাংলাদেশ এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল নীতিগত সংস্কার ও কাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে যাতে এলডিসি-উত্তর চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়।


নির্বাচিত

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে আইন (সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধনে সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত, দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করার সুপারিশও করবে ইসি।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রতি ১৫ বছর পরে নবায়ন করার সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নবায়নের সময় আবেদনকারীকে ফি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ইসি প্রত্যেক নাগরিকের ফ্যামিলি ট্রি বা বংশগত তথ্য তৈরি করতে পারে। ১৫ বছরের কম বয়সিদেরও এনআইডি প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। তবে এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়সসীমা পরে নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনের ১২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় সভা শুরু হয়ে বেলা ২টায় এক ঘণ্টার মুলতবি করে বিকাল সাড়ে ৫টার পরে শেষ হয়।

সভায় ২০০৯ সালে করা স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইন তথা—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের পর্যালোচনা করা হয়।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘এই আইনগুলোর ভেতরে আমাদের কমিশনের বিবেচনায় যেসব জায়গায় সংশোধন করা দরকার, আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সবগুলো আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার সুপারিশ করেছি।’ আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা মনে করি যে, সবগুলোর আইনে এটা (সশস্ত্র বাহিনী) যুক্ত করা উচিত।’

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ সুযোগ বাতিলের সুপারিশ সরকারের কাছে করতে যাচ্ছে ইসি।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি পারবেন না—এ বিষয়ে কমিশন মনে করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হয়।’

ঋণ খেলাপির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এখানে দুটো ক্ষেত্র একটা হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং জামিনদার। ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তিনি তো আছেনই, কিন্তু জামিনদারদেরও ঋণ খেলাপি হিসেবে অযোগ্য করার একটা প্রস্তাবনায় আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।

এর পাশাপাশি বিল খেলাপি—বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসা এ ধরনের যেসব সেবা প্রদানকারী সংস্থায় যদি কোনো বিল খেলাপি থাকে, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। এটা অযোগ্যতা হিসেবে আসবে। লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চার্জশিটভুক্তদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করবে ইসি। দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করবে ইসি। বিষয়টি নিয়ে সচিব বলেন, ‘কমিশন মনে করে তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই, এ বিষয়ে সংবিধানে বাধা আছে (জাতীয় নির্বাচনের কথা বলা আছে সংবিধানে)।

পাশাপাশি আচরণ বিধিমালাগুলো সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসি সচিব বলেন, ‘আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাব, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন।’ এ প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে দ্রুতই পাঠানো হবে বলে জানান ইসি সচিব।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত (আইন) করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা আইনের কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদ।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘শিডিউল চূড়ান্ত হলে জানাব।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের টাইমলাইনের বিষয়ে বলেন, ‘প্রস্তুতির ব্যাপারটা চলমান। আমরা বলেছি আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত যারা ভোটার নিবন্ধিত হবেন, তাদের নিয়ে আমাদের কাজ। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, তো সেই অনুযায়ী আমাদের ড্রাফট রেডি করে কাজ করতে হবে।’

আইন সংশোধনীর কারণে ভোট পেছানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘এটাতো আমি বলতে পারব না।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘সংসদ অধিবেশন তো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে আমরা যত দ্রুত দিতে পারব (সুপারিশ)। তত দ্রুত আরেকটা কাজ আগাতে পারব।’

আইন সংশোধনের কাজ তো স্থানীয় সরকার বিভাগের, সে দায়িত্ব ইসি কেন নিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইসির কি সুপারিশ করা বা প্রস্তাবনা দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি নেই? যদি বলে প্রস্তাবনা দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তাহলে একভাবে। আবার মনে করে পর্যালোচনা করার জন্য সুপারিশ। সুপারিশ যে রাখতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা মনে করেছি সুপারিশ করা যায়। সে জন্য সুপারিশ পাঠাব। রাখা বা না রাখা যার এখতিয়ার, তিনি করবে।’

এতে সরকার চাপে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির সচিব বলেন, ‘সরকার চাপে পড়বে কি না সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।’

কমিশন সভায় এনআইডি সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ভোটার স্থানান্তর নিয়ে কথা হয়েছে উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ভোটার এলাকা স্থানান্তর অনলাইনে আবেদন করা যাবে। স্থানান্তরের একটা সংশোধনী ফি দিতে হবে, এটা নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।’

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে প্রতি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কমিশন সভায় কথা হয়েছে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ‘এনআইডি নবায়নের জন্য নির্ধারিত একটা ফরম থাকবে এবং সেই ফরমে কী কী তথ্য থাকবে—একটা ফ্যামিলি ট্রির কথা বলা হয়েছে, আবেদনকারী বা এনআইডিধারী তার পরিবারের তথ্যটা দেবেন যাতে সংগতিটা আমরা মেনটেইন করতে পারি। এ ক্ষেত্রেও একটা ন্যূনতম ফি’র ব্যাপার আছে।’

বর্তমানে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সিদের এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাতে ১৮ বছর হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। আখতার আহমেদ বলেন, ‘এ তথ্য সংগ্রহের পর্যায়টা কোন পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাইমারি এনরোলমেন্ট—যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্তে আসব।’

বর্তমানে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কমিশন বিকল্প ভাবছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, ‘এখন পাবলিক পরীক্ষার সনদের (এসএসসি, জেএসসি ও পিএসসি) জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে এই সংশোধনগুলো করতে পারবে। সেই ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বর্তমানে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ব্যাপারে এটা টু-স্টেপ মেকানিজম ছিল। প্রবাসীরা ফরম জমা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরে আমাদের এখানে তদন্তে আসত, তদন্ত পারফর্ম হওয়ার পরে সেটা আপলোড হতো। এখন বায়োমেট্রিকটা আপলোড করে দেবেন, আমরা এখানে তদন্তে যথার্থতা পেলে এখান থেকেই অনুমোদন দিয়ে দেব। এতে একটা স্টেপ কমে যাবে।’


নির্বাচিত

তিন কূপ খননে মিলবে সোয়া লাখ কোটি টাকার গ্যাস

* সংকটে আশার আলো দেখাচ্ছে বাপেক্স * প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আজ উঠবে একনেকে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চুলায় ধোঁয়া নেই, কারখানায় স্থবিরতা-গ্যাসের তীব্র হাহাকারে হাঁসফাঁস করছে দেশ। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও এলপিজি কিনে ঘাটতি মেটাতে গিয়ে খালি হচ্ছে গ্রাহকের পকেট, চাপ বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। ফলে এলপিজি আর এলএনজির দামেও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে বড় এক আশার বাণী নিয়ে এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন কূপ খননের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা এলাকায় মোট তিনটি কূপ খনন করবে বাপেক্স। কারিগরি মূল্যায়ন বলছে, এসব কূপ থেকে প্রায় ৭১১ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় এই গ্যাসের আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যুক্ত হবে অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যা বিদেশি জ্বালানির ওপর চাপ অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ৫৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বাপেক্স তার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেবে ১৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের কারিগরি দিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালী অঞ্চলে বেগমগঞ্জ-৫ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীরতায় এবং বেগমগঞ্জ-৬ নামে একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ ৩ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সুনেত্র ভূগঠনে সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপটি ৫ হাজার ৩০০ মিটার গভীরতায় সমন্বিত খনন অপারেশন বা টার্ন-কি ভিত্তিতে খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে।

দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে অন্তত ৫৫০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় ও বিদেশি এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ মিলছে গড়ে মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার খরচ করে বাইরে থেকে গ্যাস এনে স্বনির্ভর হওয়া অসম্ভব। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে কূপ খননে শতভাগ সাফল্যের নিশ্চয়তা পৃথিবীর কোথাও দেওয়া যায় না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশীয় সক্ষমতা কাজে লাগানোই একমাত্র বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সংকটকালীন এই সময়ে বাঁচবে কোটি কোটি ডলারের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।


নির্বাচিত

বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ টিআইবির

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংসদীয় জবাবদিহির সংস্কৃতিকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক লিখিত বিবৃতিতে টিআইবি এসব কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের পর তা স্থায়ী কমিটি, বাছাই কমিটি বা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এর ক্ষেত্রে এসব কোনো প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়নি।

ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এমনকি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের অনুলিপি আগেভাগে সরবরাহের প্রচলিত রীতি থাকলেও এ ক্ষেত্রে বিল উত্থাপনের ঠিক আগে কপি দেওয়া হয়। ফলে সদস্যদের বিলটি পর্যালোচনার বাস্তব সুযোগ না দিয়েই তা পাস করা হয়েছে।

টিআইবির মতে, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ -ও পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে আনা হয়। এ ছাড়া বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত পাস করা হয়েছে। এতে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের একতরফা আইন প্রণয়নের ফলে কর্তৃত্ববাদী সময়ের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়—সেই প্রশ্নও উঠছে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮-এর চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এতে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

টিআইবির ভাষ্য, নব্বই-পরবর্তী সংসদীয় চর্চায় এ ধরনের নজির নেই। বিতর্কিত বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিটির সদস্য বা সভাপতি করা হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদে সরকারি হিসাব কমিটি, বিশেষ অধিকার কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদও সংসদে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের হাতে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি বলে দাবি টিআইবির।

সংস্থাটির মতে, এতে শুধু জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারই নয়, ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতে ঘোষিত নীতির আলোকে সব সংসদীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদের আলোকে সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে দ্রুত একটি পৃথক আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় সনদে উল্লিখিত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদেরও যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

ভিসা বাণিজ্যের ফাঁদে রেমিট্যান্স-যোদ্ধারা

*  বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পাচার * রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২৮৪১ * লাইসেন্সের মহোৎসবে ধুঁকছে খাত * শর্ত ভঙ্গ ও প্রতারণায় ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল * ২৫ মামলা, সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ৬৪ জন আসামি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

পদ্মা পারের এক প্রত্যন্ত গ্রামের যুবক সুমনের চোখে ছিল একটাই স্বপ্ন—একটি মধ্যপ্রাচ্যের ভিসা। সেই স্বপ্নের পেছনে পুঁজি ছিল বাবার ভিটেমাটির একাংশ বিক্রি করা আর এনজিও থেকে নেওয়া চড়া সুদের ঋণ। সব মিলিয়ে খরচ চার লাখ টাকা। কিন্তু রিয়াদ বা কুয়ালালামপুরের কোনো আধুনিক কনস্ট্রাকশন সাইটে নয়, সুমনের ঠাঁই হয়েছিল তপ্ত মরুর এক অনিশ্চিত অন্ধকার গলিতে। কোনো কাজ নেই, আকামা নেই, পাসপোর্ট আটকে রেখেছেন নিয়োগকর্তা—যেটি আদতে কোনো কোম্পানিই নয়, বরং একটি ‘ভিসা ট্রেডিং’ বা ভিসা বাণিজ্যের সিন্ডিকেট।

সুমনের এই নিঃশব্দ হাহাকার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দেশে বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো লাখো ‘রেমিট্যান্স-যোদ্ধার’ প্রতিদিনের রূঢ় বাস্তবতা। বৈচিত্র্যময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও গ্রামীণ সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান কারিগর যারা, তাদের বিদেশে যাওয়ার পথটি আজও নিরাপদ, সহজ ও দালালমুক্ত করা যায়নি। নিয়োগ ব্যবস্থার এই ক্ষত, রিক্রুটিং এজেন্সির নামে ‘ভিসা বাণিজ্য’, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা ও দায়সারা মনোভাবের ভেতর লুকিয়ে থাকা আসল কারণগুলো উন্মোচন করতেই আমাদের এই বিশেষ অনুসন্ধান।

লাইসেন্সের মহোৎসব ও ‘ভিসা বাণিজ্যে’ ধুঁকছে খাত: জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৪১টি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের তুলনায় বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা কেন এত অস্বাভাবিক বেশি?

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট অনিয়ম, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ ও প্রতারণার প্রমাণের ভিত্তিতে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে (যার মধ্যে ইউনিক ইস্টার্ন, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখযোগ্য)। বিশেষ করে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতারণামূলকভাবে কর্মী পাঠানোর অপরাধে ৩টি এজেন্সির লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, একদিকে যখন অনিয়মের দায়ে লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে, অন্যদিকে চলতি বছরই নতুন করে নিবন্ধন পেয়েছে আরও ২১৬টি এজেন্সি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যত্রতত্র লাইসেন্স প্রদান এবং তদারকির অভাবেই আজ শ্রম অভিবাসন খাতটি মধ্যস্বত্বভোগী ও ভিসা ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই সরাসরি কর্মী পাঠায় না; তারা ভিসা কিনে এনে গ্রাম্য দালালদের মাধ্যমে বিক্রি করে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক নেতাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে—দেড় থেকে দুইশ এজেন্সি ছাড়া বাকিরা মূলত অন্যের চাহিদার ওপর নির্ভর করে ‘পরিবারের সদস্য’ হিসেবে সাব-এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ চালায়।

বায়রার সাবেক এক মহাসচিব বলেছেন, ‘ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে একাধিক প্রতারক চক্র জাল ভিসা তৈরি করে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। গ্রামাঞ্চল থেকে সহজ-সরল লোকজন সংগ্রহ করে তারা প্রতারণা করে আসছে। এই ধরনের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। সৌদি আরব যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে অনেকে ধরা পড়ছে।’

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিএমইটির একাধিক ডেটাবেজ পরস্পর সংযুক্ত নয়, ফলে শ্রমবাজারের সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থা শক্তভাবে গড়ে ওঠেনি। সংস্থাটির হিসাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিদেশযাত্রার গড় খরচ প্রায় চার লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যার বড় অংশ যায় মধ্যস্বত্বভোগীর পকেটে। অন্যদিকে বোয়েসেলের চিত্র তুলে ধরে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ১১ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেলেও সরকারি এই এজেন্সির মাধ্যমে গিয়েছেন মাত্র ১৫,২৯৪ জন—যা মোট কর্মসংস্থানের মাত্র ১.৩ শতাংশ। আইটিইউসির জরিপও বলছে, গ্রামাঞ্চলে নিয়োগ প্রায়ই মৌখিকভাবে হয়; না থাকে রসিদ, না থাকে প্রমাণ। ফলে প্রতারিত হলে আইনি প্রতিকারের পথ কঠিন হয়ে পড়ে।

রেমিট্যান্সের মানবিক মূল্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।

আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয়, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং লাখো পরিবারের জীবিকা—সব ক্ষেত্রেই প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। রাষ্ট্র তাদের অবদানকে সম্মান জানায়, উন্নয়নের পরিসংখ্যানে তাদের পাঠানো অর্থের হিসাব তুলে ধরে। কিন্তু সংখ্যার এই সাফল্যের আড়ালে যে মানুষটি আছেন, তার গল্প কতটা বলা হয়? তপ্ত মরুভূমি, নির্মাণশ্রমের ধুলোমাখা পরিবেশ কিংবা কারখানার দীর্ঘ শিফটে কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত প্রতিটি ডলারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও অসংখ্য ব্যক্তিগত ত্যাগ। আমরা রেমিট্যান্সের পরিমাণ গণনা করি; কিন্তু সেই রেমিট্যান্সের মানবিক মূল্য খুব কমই হিসাব করি। অথচ অভিবাসনের প্রকৃত গল্প শুধু অর্থনীতির নয়; এটি মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও ত্যাগেরও গল্প।

প্রতারণার নানা রূপ ও ধরন: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতারণা একটি দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর সংকট। সরকারিভাবে নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, ভুয়া কাজের প্রতিশ্রুতি এবং মানবপাচারের মতো অপরাধের মাধ্যমে লাখ লাখ বিদেশগামী শ্রমিক প্রতিনিয়ত সর্বশান্ত হচ্ছেন। প্রতারণার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো-

অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় আদায়: সরকার-নির্ধারিত খরচের (যেমন মালয়েশিয়ার জন্য মাত্র ৭৮,৯৯০ টাকা) তোয়াক্কা না করে এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট তৈরি করে কর্মীদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি টাকা (প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা) হাতিয়ে নেয়।

ভুয়া বা অস্তিত্বহীন চাকরি ও ‘ফ্রি ভিসা’ ফাঁদ: মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে কর্মীদের পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে অনেকে দেখেন কোনো চাকরি নেই। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে ‘ফ্রি ভিসার’ নামে ৮-৯ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়ার পর পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ আন্তর্জাতিক শ্রম আইনে ‘ফ্রি ভিসা’ বলে কোনো শব্দ নেই; প্রতিটি ভিসার বিপরীতে নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা থাকা বাধ্যতামূলক। দালালরা ভিজিট ভিসা বা পর্যটন ভিসা দিয়েও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, যা দিয়ে কাজ করার কোনো বৈধ সুযোগ নেই।

চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন ও ‘বন্দি’ জীবন: যে কাজের কথা বলে কর্মীকে বিদেশে নেওয়া হয়, সেখানে পৌঁছানোর পর সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদেশের মাটিতে বিমানবন্দরে কাউকে নিতে না আসা, থাকার জায়গা না থাকা, কম বেতন দেওয়া বা বেতন আটকে রাখা নিয়মিত ঘটছে। আকামা না করে দেওয়ায় অনেক শ্রমিক ‘অবৈধ’ হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পাচার: সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রতারণাটি দেখা গেছে রাশিয়াগামী কর্মীদের ক্ষেত্রে। ক্লিনার, ইলেকট্রিশিয়ান বা বেসামরিক কাজের কথা বলে বাংলাদেশি যুবকদের রাশিয়ায় নিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন কর্মী মারাও গেছেন।

বিমানবন্দরে হয়রানি ও জাল ভিসা: আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দালালরা হুবহু আসল ভিসার মতো দেখতে জাল কপি তৈরি করছে। কিউআর কোড স্ক্যান করলে ভুয়া ওয়েবসাইট বা পুরোনো তথ্য দেখায়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে একজন বিদেশ যাওয়া ব্যক্তি বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন—যার পেছনে জাল ভিসা, বিএমইটি ছাড়পত্র জালিয়াতি, বা শেষ মুহূর্তে কফিল কর্তৃক ভিসা বাতিল করা অন্যতম কারণ। বিমানবন্দরে ভুয়া টিকিট দেওয়া বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত টাকায় অন্য যাত্রী বোর্ডিং করানোর ঘটনাও ঘটছে।

সম্প্রতি মক্কায় কর্মরত কুমিল্লার আবদুর রশীদ জানান, তার দুই আত্মীয় সৌদি আরব আসার জন্য এক ব্যক্তিকে ১২ লাখ টাকা দেন (চুক্তি ছিল আসার পর আরও ৪ লাখ)। শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার আগ মুহূর্তে জানতে পারেন ভিসাগুলো জাল। একইভাবে জেদ্দায় অবস্থানরত এক প্রবাসী জানান, ফ্রি ভিসায় এসে প্রতারিত হয়ে এখন নাদাফে পানি সাপ্লাইয়ের কাজ করছেন, যা দিয়ে নিজের খরচই চলে না; তার ভাইও জাল ভিসার খপ্পরে সর্বস্ব হারিয়েছেন।

সরকারি পদক্ষেপ ও আইনি উদ্যোগ: অনিয়ম, অর্থপাচার ও রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতারণামূলক কর্মী পাঠানোর দায়ে ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

দুদকের মামলা: মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মীদের কাছ থেকে ২,২২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৫টি মামলা দায়ের করেছে, যেখানে সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ৬৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঢাকার এসবি ও পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, ভিসা জালিয়াতি রোধে কঠোর অভিযান চলছে এবং জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতারণা থেকে বাঁচতে বিদেশগামীদের করণীয়: এই খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা লেনদেনের আগে বিএমইটি অনুমোদিত এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স সচল আছে কি না তা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা বিএমইটি ডাটাবেজ থেকে নিশ্চিত হতে হবে। যেকোনো আর্থিক লেনদেন সরাসরি এজেন্সির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে করা উচিত এবং অবশ্যই বৈধ রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। বিএমইটি থেকে দেওয়া স্মার্ট কার্ডের কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে, সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভিসার সত্যতা এবং কাজের বিবরণ নিজে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহ বা প্রয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন এবং জেলা কর্মসংস্থান অফিসের সহায়তা নেওয়া উচিত।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ও সমন্বয়ক ড. সেলিম রেজা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘একজন মানুষকে বিদেশে পাঠানোই রাষ্ট্রের দায়িত্বের শেষ নয়, বরং সেখান থেকেই শুরু হয় প্রকৃত দায়িত্ব। প্রবাসীদের সংকট কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক নয়; এটি একটি জাতীয় নীতিগত প্রশ্ন।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান তখনই পূর্ণ অর্থ পাবে, যখন রেমিট্যান্সের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা সুরক্ষিত থাকবে। এ জন্য প্রয়োজন- ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি আর্থিক পরিকল্পনা, পারিবারিক যোগাযোগ এবং মানসিক সুস্থতা অন্তর্ভুক্ত করা। দেশে থাকা পরিবারের জন্য আর্থিক সচেতনতা, দাম্পত্য সম্পর্ক, সন্তান প্রতিপালন ও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচি চালু করা। সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি, সহজলভ্য আইনি সহায়তা, ডিজিটাল সেবা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা।


নির্বাচিত

গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডকে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, "কেউ পারফর্ম করতে না পারলে মন্ত্রিসভা কিংবা উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আনবেন প্রধানমন্ত্রী। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।" জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং প্রধানমন্ত্রী চাইলে যেকোনো সময় দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা দপ্তর পুনর্গঠন করতে পারেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। তবে এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার ওপর নির্ভর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা জানান, "ভুল তথ্য, অপতথ্য ও ফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেশের বহু নিরপরাধ ও সম্মানিত মানুষকে হেয় করা হচ্ছে। এগুলো রোধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।" সাইবার বুলিং থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া দেশত্যাগের সময় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতির তদারকি করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন নীতি বা কাজ নিয়ে জনমনে সমালোচনা থাকতে পারে এবং সরকার তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো দ্বিধা করবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন। এই রদবদল বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই হলো জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।


নির্বাচিত

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৭ সালের হজের ব্যয় ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) নতুন এই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হজের সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এছাড়া বাড়তি সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত উন্নত প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যারা পবিত্র হজ পালন করতে চান, তাদের জন্য সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্যাকেজগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রদানকালে মন্ত্রী জানান, সরকারি হজ প্যাকেজ-১ এর আওতায় হজযাত্রীরা মক্কায় পবিত্র হারাম শরিফ থেকে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে থাকার সুবিধা পাবেন এবং মদিনায় তাদের আবাসন হবে মারকাজিয়া এলাকায়। এই প্যাকেজে মিনায় জোন-২ এলাকায় তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে এবং মিনা-আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী খাদ্য ও মোয়াল্লেম সেবা নিশ্চিত করা হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে অবস্থানের সময়সীমা সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ দিন হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে কক্ষের মানোন্নয়ন বা স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ গ্রহণের পথও উন্মুক্ত থাকবে। অন্যদিকে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা মূল্যের সাশ্রয়ী বা দ্বিতীয় প্যাকেজটিতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হবে। হোটেলের দূরত্ব ২ কিলোমিটারের বেশি হলে সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের সুবিধা দেওয়া হবে এবং মিনায় জোন-৫ এলাকায় তাঁবু বরাদ্দ থাকবে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। বেসরকারি সাধারণ প্যাকেজের অধীনে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটার এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে হাজিদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জন থাকার নিয়ম রাখা হয়েছে এবং দূরত্ব বিবেচনায় বাসের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক। তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো সরকারি সাধারণ প্যাকেজের চেয়ে কম সেবা দিয়ে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না, তবে তারা চাইলে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তিনটি প্যাকেজ পরিচালনা করতে পারবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাশ্রয়ী ও মানবিক হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার হজ ফ্লাইটের বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে এবার বিমানভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা এবং তার আগে ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হজ সেবা প্রদানের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।


নির্বাচিত

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনতে জাতিসংঘ সমর্থিত 'সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ' বা নিরাপদ সড়ক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আইন তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদানকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত গৃহীত বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনার সাথে তাল মিলিয়ে দেশীয় আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিগত কাঠামো সংস্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা-পরবর্তী দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম এবং মহাসড়কে পথচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আইনি সংস্কারের সময়সীমা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক মহলের সাথে বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে বলে তিনি সভায় পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই অঙ্গীকার দুর্ঘটনা নিরসনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার আশা করছে, প্রস্তাবিত আইনটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।


নির্বাচিত

banner close