মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

গরমে স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ রাখার নির্দেশ

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:২৫

সারা দেশে তিন দিনের জন্য ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামীকাল রোববার খুলবে দেশের সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে আপাতত স্কুলের অ্যাসেম্বলি বন্ধ রাখা নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আজ শনিবার সকালে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বেশ কয়েকটি ছুটি সমন্বয়ে টানা ২৬ দিন ছুটি কাটিয়ে আগামীকাল রোববার ফের শ্রেনীকক্ষে ফিরবে শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে করণীয় ঠিক করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর সৈয়দ জাফর আলী বলেন, বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তীব্র তাপপ্রবাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কী করণীয় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ছুটি বাড়ানো বা বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করতে হয়। কারণ হিট এল্যার্ট বা অন্য কিছু ঘোষণা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ রাখতে হয় তবে তাদের পরামর্শে তা করা হয়। এই যোগাযোগ করবে মন্ত্রণালয়। তবে আপাতত বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

এদিকে আবহাওয়া নিয়ে সহসাই কোনো সুসংবাদ নেই। এরকম দাবদাহ আগামী শনিবার থেকে আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ রকম এক অস্বস্তির মধ্যে রোববার শিশুদের স্কুলে পাঠাবেন কি না এমন চিন্তায় আছে অভিভাবকরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ শিগগিরই : শ্রমমন্ত্রী

রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স রুমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক বলেছেন, শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে। এজন্য শ্রমিক নেতাদের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স রুমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড দ্রুত গঠনের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় সভায় মালিক, শ্রমিক ও সরকারপক্ষ একমত হয়েছে। মালিকপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করেছে। এখন শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, শ্রমিক নেতাদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলা হয়েছে। প্রতিনিধি পাওয়ার পর সরকারি ছুটি না থাকলে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে আরিফুল হক বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের পর এ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো কারণ থাকার কথা নয়। ত্রিপক্ষীয় সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের মধ্যে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে।

যেসব কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে, সেসব কারখানার শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিস্থিতি জটিল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের বাইরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের বিষয়ে শ্রমিক ও তাদের নেতারা কথা বলবেন, আর মালিকেরা তাদের নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে আলোচনা করবেন। এর বাইরে কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

কারখানাভিত্তিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কারখানার মধ্যেই আলোচনার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কারখানায় সমস্যা হলে সরকার, মালিকপক্ষের সংগঠন ও শ্রমিক নেতারা সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে প্রয়োজনে দিনরাত আলোচনা করতে প্রস্তুত সরকার।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পকারখানা সচল রাখা জরুরি। শিল্প খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকলে শ্রমিকদের বেতন ও মজুরি নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রয়োজন কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।


নির্বাচিত

জাপানে ‘নিটসু লজিস্টিকস হাব’ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত ‘নিটসু লজিস্টিকস হাব’ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এ পরিদর্শনে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলাম এবং গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া পররাষ্ট্রসচিব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, স্বাভাবিক হচ্ছে সরবরাহ

আকস্মিক কারিগরি জটিলতার কারণে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আকস্মিক কারিগরি জটিলতার কারণে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটার পরপরই তা দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করেন। এর ফলে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ অঞ্চলে সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, সেখানেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

অপ্রত্যাশিত এই কারিগরি বিভ্রাটের কারণে সম্মানিত গ্রাহকদের যে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জ্বালানি খাতে বিগত ১৭ বছরের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাশুল দিতে হচ্ছে সরকারকে : জ্বালানিমন্ত্রী

রকার চতুর্মুখী সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি সহজে বুঝতে চাইছে না
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে জ্বালানি কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র আর্থিক ঘাটতি ও অবিরাম রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার চতুর্মুখী সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি সহজে বুঝতে চাইছে না। মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ খাতের গভীর আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ এমন এক বোঝায় পরিণত হয়েছে যে সেখানে হাত দিলেই ঋণদাতা ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ছুটে আসবে। কেন্দ্রগুলো উৎপাদনহীন বসে থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। কাতারের ওপর এলএনজি আমদানির একক নির্ভরশীলতা এবং সেখানে বোমাবর্ষণের কারণে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা তরলীকৃত গ্যাস সংকটকালে ৩০ ডলারে কিনতে হয়েছে। ফলে ভর্তুকি দিয়ে কোনোমতে সরবরাহ চালু রাখলেও কাঙ্ক্ষিত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম গ্রামাঞ্চলে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করতে দুই-তিন দিন সময় লেগে যাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ডেপুটি স্পিকার পর্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের কথার ফুলঝুরি পেরিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করেছে এবং সৌরবিদ্যুতের সমস্ত সরঞ্জাম আমদানি শুল্কমুক্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিশেষ আইনটি আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে তোলা হবে। তবে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডের আধুনিকায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, পারমাণবিক, জীবাশ্ম ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি একসঙ্গে সঞ্চালনের মতো উপযুক্ত সক্ষমতা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) এখনও গড়ে ওঠেনি। এ জটিল পরিস্থিতি উত্তরণে সবার সার্বিক সহযোগিতা পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।

বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী দাবি করেন, নিজস্ব ভূগর্ভে বিপুল গ্যাস সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিগত ১৭ বছরে কার্যকর কোনো নতুন কূপ খনন করা হয়নি। সেই অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার চরম মাশুল দেশকে আরও ৫০ থেকে ৬০ বছর দিতে হবে। তিনি জানান, ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় উৎপাদন ব্যবস্থার ৬৫ শতাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রাখার রূপরেখা থাকলেও বিগত সময়ে বাণিজ্যিক মুনাফার উদ্দেশ্যে তা পাল্টে ৭০ শতাংশ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর দল জোর করে ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি করে না। প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের পরিস্থিতি নিয়মিত এমআইএসের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সামান্য বিভ্রাটের খবর পেলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তলব করে দায়ীদের চিহ্নিত করছেন।

অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সন্ধিক্ষণে অর্থনীতিকে সচল রাখতে নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ অপরিহার্য। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির উল্লেখ করেন, দেশের ৯৬ শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় আমদানির কারণে তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জেটনেট-বিডি ও আইইএসডির যৌথ উদ্যোগে ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবে সহস্রাধিক তরুণ, নারী, গবেষক ও নাগরিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বিইপিআরসি, বিআইআইএসএস, বিএসআরইএ, সি৩ইআর, গ্রিনারি এনার্জি, আইইইএফএ, অক্সফাম এবং দ্য আর্থ সোসাইটির অংশীদারত্বে এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি নীতি প্রণয়নে ঐক্যবদ্ধ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।

বিষয়:

নির্বাচিত

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।'

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।'

এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়৷

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।'

জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান।

এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সবপক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।'

যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।'

দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, "বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করেছে, সেই বিবেচনায় স্বাস্থ্যখাতে অগ্রযাত্রা অনেক ভালো হচ্ছে। তবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।"

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাহীনতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির করাল গ্রাসে দেশের স্বাস্থ্যখাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি স্পর্শ করতে পারেনি। চিকিৎসাসেবার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোকে অধিকতর শক্তিশালী রূপ দিতে চলমান সংকটগুলো দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সরকারি বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রশাসন চিকিৎসা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তহবিল বণ্টন করেছে। তবে কেবল আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোই শেষ কথা নয়; ব্যয়িত প্রতিটি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার কাম্য। রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথার্থতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারলে সাধারণ মানুষ আরো উন্নত মানের সেবা ভোগ করতে পারবে।

আর্থিক অসচ্ছলতার অজুহাতে কোনো নাগরিক যেন ন্যুনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে চিকিৎসা গভীর সম্পর্কযুক্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাউকে যেন অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

দেশের অভ্যন্তরেই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধি বিস্তারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার প্রত্যাশায় নাগরিকদের যাতে অনাবশ্যকভাবে বিদেশে ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যে দেশীয় চিকিৎসা পরিকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষায়িত অবকাঠামো রূপায়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরি এবং যুগোপযোগী চিকিৎসা কৌশলের সম্প্রসারণের মাধ্যমেই সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার মানকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

কোলন ও রেক্টাল সার্জারিসহ আধুনিক চিকিৎসাক্ষেত্রে পারদর্শী বিশেষজ্ঞ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তরুণ প্রজন্মের সার্জনদের প্রতি গভীর আস্থা জ্ঞাপন করেন। তাঁর বিশ্বাস, উদীয়মান তরুণ চিকিৎসকদের নেতৃত্বেই এ দেশের স্বাস্থ্যসেবা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং সাধারণের দোরগোড়ায় উন্নত সেবা নিশ্চিত হবে।

চিকিৎসক সমাজের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মঞ্চ হিসেবে ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর মতো সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। এই ধরনের পেশাগত আয়োজন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি, বিশেষায়িত শল্যচিকিৎসার বিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অনন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম।


নির্বাচিত

দেশে ফিরলে মব নয়, ন্যায়বিচার পাবেন শেখ হাসিনা: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কোনো প্রকার মব বা উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না এবং প্রতিহিংসার বদলে আইনের শাসনের মাধ্যমেই তাঁর বিচার সম্পন্ন হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে, তবে প্রত্যাবর্তনের পর কোনো বেআইনি আচরণ নয় বরং সম্পূর্ণ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কোনো প্রকার মব বা উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না এবং প্রতিহিংসার বদলে আইনের শাসনের মাধ্যমেই তাঁর বিচার সম্পন্ন হবে। সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিবিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি আসবেন, আমরা হ্যাপি। আমাদের তাহলে ধরে বেঁধে আনতে হলো না, উনি আসলেন। উনি আসলে উনি বিচারের মুখোমুখি হবেন। উনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আসার পর লিগাল প্রসেসে যা যা হওয়ার, তাই হবে।’ আগামী ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চর্চা চলছে; ফলে ভিত্তিহীন অনুমান ও রাজনৈতিক জল্পনা নিয়ে বারবার জনপরিসরে আলোচনা না করাই সমীচীন।

আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা তুলে ধরে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটলিস্ট ১৮ বছর পরে। তবে হ্যাঁ, উনি দেশে ফিরে আসলে ন্যায়বিচার ফেস করবেন। উনি কোনো মব ফেস করবেন না, উনি কোনো রকম কোনো বেআইনি কিছু ফেস করবেন না।’ এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার দিয়ে উনার বিরুদ্ধে যে আমাদের প্রতিশোধগুলি, সেটা ন্যায়বিচার দিয়ে। উনি ন্যায়বিচার করেন নাই, আমরা ন্যায়বিচার করে সেটা করব। আসুক, উনাকে ধন্যবাদ, উনাকে ওয়েলকাম করি।’

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে ঢাকার অবস্থান পূর্বের মতোই অনড় ও পরিষ্কার। মূলত এই অমীমাংসিত সংকটের কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরটি আটকে রয়েছে। পাশাপাশি ভারতে বসে ওয়াশিংটন ডিসির প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া তাঁর বক্তব্যকেও ঢাকা কোনোভাবেই ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক অন্যান্য বিষয় টেনে তথ্য উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) মূল্যবৃদ্ধি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে এখন থেকে ফুটপাতের পিঠাপুলি ও ভাজাপোড়াসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সোলার এক্সপোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীর চলমান টোকিও সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এ সফরটি বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতে বৃহৎ জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এর প্রভাবে দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে একই অঞ্চলে অবস্থান করছে। বর্তমান গতিপ্রকৃতি বজায় থাকলে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যমান আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিচরণরত সব মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র এই ঘূর্ণিবায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল ও বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিপথ সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জরুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখার পাশাপাশি উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিয়মিত সরকারি নির্দেশনার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর আজ স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার নির্ধারিত শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া তাঁরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি।

এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর উভয়ে শীর্ষ বৈঠকে বসেন।

সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান: তাকাইচি

টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক, ঢাকাকে গভীর সমর্থনের বার্তা জাপানের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টোকিওতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় জাপানের সরকারপ্রধানের দাপ্তরিক কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকপরবর্তী যৌথ ব্রিফিংয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ঢাকার সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও সুসংহত করতে আগ্রহী টোকিও।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বেগবান করার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। সেখানে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বাজানো হয় উভয় দেশের জাতীয় সংগীত। অভিবাদন গ্রহণের পর তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন।

আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করে একান্ত বৈঠকে বসেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ‘কানতেই’-তে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী, যেখানে প্রথাগত শুভেচ্ছা পানপাত্র বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় নেতা বক্তব্য দেন। শীর্ষ এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক সম্পর্ক, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক নানা প্রসঙ্গের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী সড়ক সাজানো হয়েছিল দুই দেশের জাতীয় পতাকায়।

চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ছাড়াও স্থানীয় শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনেই তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

তারো আসোর সঙ্গে আলোচনায় ২০০৬ সালের পূর্ববর্তী সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বলে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে মারুবেনির শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কাফকোর আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় একটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাইকা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানো, দক্ষতা অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পায়।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর মালয়েশিয়া, চীন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফরের ধারাবাহিকতায় এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।


নির্বাচিত

কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান

রাশিয়া থেকে আনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) নতুন আরেকটি বহর সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশিয়া থেকে আনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) নতুন আরেকটি বহর সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি যানবাহন প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ৪১ টন জ্বালানিসমৃদ্ধ রাশিয়ার একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিশেষায়িত ওই উড়োজাহাজে ১২টি টিপিএসের মাধ্যমে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল।

বিষয়:

নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সানায়ে তাকাইচির উষ্ণ অভ্যর্থনা

দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুসংহত করার লক্ষ্যে শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুসংহত করার লক্ষ্যে শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওস্থ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ পৌঁছালে তাঁকে এ আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় সামরিক ব্যান্ডে উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সালাম গ্রহণ ও গার্ড পরিদর্শন করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পারস্পরিক পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর কান্তেই ভবনের পরিদর্শন বইয়ে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শেষে দুই সরকারপ্রধান একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক পরবর্তী সময়ে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন।

শীর্ষ এ বৈঠকে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত মতবিনিময় স্থান পায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কান্তেই কার্যালয় অভিমুখী প্রধান সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা স্থাপন করা হয়।

এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী, যেখানে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী সাবেক জাপানি প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় মৈত্রী লীগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, আইসিটি, জ্বালানি এবং কাফকোর আধুনিকায়নসহ দেশে দ্বিতীয় সার কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণ, একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষির আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর এ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ও চীনের পর এটি সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।


নির্বাচিত

জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে।

দুই দেশের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।

উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আথর্-সামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

সরকারি সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট-দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকা শক্তিতে রূপান্তর করা।’

জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলি, যা আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।’

এর আগে বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close