ড্রিমলাইনার-৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে দ্রুত কথা বলার জন্য বিমানকে নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান। তিনি বলেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আজিমের সঙ্গে শনিবার টেলিফোনে আলাপকালে এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
টেলিফোনে আলাপকালে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে থাকা ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো নতুন হওয়ায় আপাতত উত্থাপিত কারিগরি সমস্যা নিয়ে আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং যাত্রীনিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে উড়োজাহাজ তৈরিকারি কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশ সরকার ও বিমানের কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তাই মুখ্য বিষয়।
এ সময় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান কারিগরি ও মেইনটেন্যান্স সংক্রান্ত বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে অধিকতর তথ্য জেনে মন্ত্রীকে অবহিত করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল মার্কিন সিনেটের সামনে স্যাম সালেহপর নামে বোয়িংয়ের একজন সাবেক প্রকৌশলী দাবি করেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে সারা বিশ্বে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে থাকা মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজগুলো গ্রাউন্ডেড করা উচিত।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়িংয়ের সাবেক প্রকৌশলী স্যাম সালেহপর দাবি করেছেন, উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে উড়োজাহাজগুলোর অনেকগুলোরই ত্রুটিকে পাত্তা দেওয়া হয়নি।
স্যাম সালেহপর বলছেন, বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে থাকা বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজগুলো নিরাপত্তা পরীক্ষণের জন্য গ্রাউন্ডেড করা উচিত।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে মার্কিন টেলিভিশন এনবিসিকে বলেছেন, ‘আমি যতটুকু জানি, ড্রিমলাইনারের পুরো বহরের দিকে এখন নজর দেওয়া উচিত।’
তার এই বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিশ্ব। কারণ, বিশ্বজুড়েই আকাশপথে যাত্রায় নিরাপত্তাকেই প্রথম শর্ত হিসেবে ভাবা হয়ে থাকে।
অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বোয়িং। তাদের দাবি, ড্রিমলাইনারের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা অযৌক্তিক। উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্যই নকশা করা হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক লাখ ৬৫ হাজার ফ্লাইট সাইকেলে উড়োজাহাজগুলোর স্ট্রেস টেস্ট করা হয়েছে। এতে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল পাওয়া গেছে। কোনো উড়োজাহাজেই চিড় ধরার কোনো ঘটনা নেই।
এ বছরের শুরুতেই সালেহপর মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (এফএএ) তার উদ্বেগের কথা জানান। এ সময় ড্রিমলাইনারের পাশাপাশি বোয়িংয়ের ৭৭৭ মডেলের উড়োজাহাজগুলোর নিরাপত্তা শঙ্কার কথাও তিনি তুলে ধরেন। জবাবে এফএএ জানায়, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
গত ১৭ এপ্রিল সিনেটের শুনানিতেও সালেহপর ৭৭৭ প্রকল্পের বিষয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কর্মীরা ৭৭৭-এর পার্টস যুক্ত করার সময় ভুল প্রক্রিয়া অবলম্বন এবং অনিয়ন্ত্রিত শক্তি প্রয়োগ করে থাকে। অনেকাংশে তারা পার্টস যুক্ত করার সময় এগুলোর ওপর লাফিয়েছে এমন ঘটনাও আছে। একে তিনি নাম দিয়েছেন ‘টারজান ইফেক্ট’।
ওই শুনানিতে আসা বোয়িংয়ের আরেক সাবেক প্রকৌশলী ইড পিয়ারসনও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা তৈরি হলে বোয়িং বরাবরই বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি দাবি করেন, ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ৩০০ জনের বেশি প্রাণহানির আগে তিনি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছে বোয়িং। সালেহপর এর তোলা ৭৭৭ উড়োজাহাজ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।
এদিকে, মার্কিন নির্মাতা বোয়িংয়ের তৈরি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে পরামর্শ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের আকাশপথের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ নিয়ে বর্তমানে সংকটে আছে বোয়িং। গত প্রায় ৫ বছর ধরেই এই মডেলের উড়োজাহাজগুলো নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের দুটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন মারা যান। সম্প্রতি একই মডেলের একটি উড়োজাহাজের দরজায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনাগুলোর কারণে এই মডেলের অনেক উড়োজাহাজকে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। এতে বোয়িংয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরে গেছেন প্রধান নির্বাহী ডেভ কালাহন।
ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজগুলো গ্রাউন্ডেড করার কারণে গত তিন মাসে প্রায় ২০ লাখ ডলার ক্ষতির কথা জানিয়েছে মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনস।
এর মধ্যেই গত ১৭ এপ্রিল স্যাম সালেহপর তার বক্তব্য মার্কিন সিনেটের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, উৎপাদনের সময় উড়োজাহাজগুলোতে ফিউজেলেস সেকশনগুলো জোড়া দেওয়ার পাতলা ধাতুর আবরণ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হয়। তার দাবি, এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের ফলে ধাতুগুলোতে চিড় ধরতে পারে, যা হয়তো খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।
২০০৩ সালে বোয়িং জ্বালানি সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০০৪ সালের ২৬ এপ্রিল প্রকল্পটি শুরু হয়। এ সময় জাপানের অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ৫০টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেয়। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই ৭৮৭ মডেলের প্রথম উড়োজাহাজটি প্রস্তুত হয়। মডেলটির প্রথম ফ্লাইট ছিল ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর। তবে প্রথম ড্রিমলাইনার মডেলটি সরবরাহ করা হয় ২০১১ সালে। আর এটির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয় একই বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে।
বর্তমানে সারা বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে এক হাজারের বেশি ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানের কাছেও এই মডেলের ৬টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলো দিয়ে বিমান মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও কানাডায় ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
বিমানের আধুনিকায়নে ২০০৮ সালে বোয়িংকে ১০টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেয় বিমান। এর মধ্যে ৪টি ছিল ড্রিমলাইনার। ২০১৮ সালে বিমান প্রথম ড্রিমলাইন বুঝে পায়। আর চতুর্থটি যুক্ত হয় পরের বছর সেপ্টেম্বরে। এরপর বিমান আরও দুটি ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ কিনেছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পৃথক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি এই বন্ধুত্বপূর্ণ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এই বার্তার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিবিড় কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং তাঁর অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীন ও বাংলাদেশ কেবল ভালো প্রতিবেশী নয়, বরং একে অপরের অকৃত্রিম বন্ধু এবং বিশ্বস্ত অংশীদার। শি জিনপিংয়ের মতে, দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে এবং একে অপরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি মনে করেন, ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই সুসম্পর্ক বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেল বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শি জিনপিং তাঁর বার্তায় আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করা এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বার্তায় তিনি দুই দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। এছাড়া, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। এসব বার্তায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বেইজিং আশা প্রকাশ করেছে যে, সামনের দিনগুলোতে এই বন্ধুত্ব আরও টেকসই ও শক্তিশালী হবে। স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা এই উচ্চপর্যায়ের অভিনন্দন বার্তা দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী কূটনৈতিক মেরুকরণেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, এমপি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট (স্ট্র্যাটকম) ২০২৬’-এ অংশ নিতে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের কনরাড বসফরাস হোটেলে আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান এ তথ্য জানান।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ ২৬ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দা হয়ে মন্ত্রীর ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় তথ্যমন্ত্রী তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
সম্মেলনের কার্যসূচি অনুযায়ী, তথ্যমন্ত্রী ২৭ মার্চ সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সম্মেলনের প্রথম প্যানেল আলোচনায় অন্যতম আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
‘বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি নতুন কাঠামো: একটি কৌশলগত যোগাযোগ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক অধিবেশনে তাঁর সাথে উত্তর সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহসিন এরতুগ্রুলোগ্লু, সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা এবং কাজাখস্তানের সংস্কৃতি ও তথ্য উপমন্ত্রী কানাত ঝুমাবায়েভিচ ইসকাকভ আলোচনায় অংশ নেবেন। প্যানেলটি সঞ্চালনা করবেন টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সিনিয়র উপস্থাপক অ্যালিচান আয়ানলার।
সফরকালে তথ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
সম্মেলন শেষে আগামী ৩০ মার্চ সকালে তথ্যমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড ময়দানে আবারও অনুষ্ঠিত হলো সশস্ত্র বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নিয়ে সম্মিলিত বাহিনীর অভিবাদন ও সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় এমন বড় মাপের সামরিক প্রদর্শনী ও কুচকাওয়াজ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় প্যারেড ময়দানে কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে অভিবাদন মঞ্চে এসে উপস্থিত হন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানস্থলে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারেড মাঠে পৌঁছালে তাঁকে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়।
কুচকাওয়াজের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মানে চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন। প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হকের সাথে জিপে চড়ে তিনি বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শেষে অভিবাদন মঞ্চে ফিরে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় প্যারেড স্কয়ারজুড়ে সম্মিলিত বাহিনীর শৃঙ্খল ও সাহসিকতাপূর্ণ পদচারণা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর থেকে স্বাধীনতা দিবসে এই ধরনের কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী নিয়মিত আয়োজন করা হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালেও স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ প্যারেড বন্ধ ছিল, যদিও বিজয় দিবসে এটি আয়োজন করা হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৬ শে মার্চের এই রাষ্ট্রীয় প্যারেড পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়। এই আয়োজন সফল করতে পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই প্যারেড স্কয়ার মাঠে কঠোর অনুশীলন ও প্রস্তুতি শুরু হয় এবং গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতির সমাপ্তি ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর স্বাধীনতা দিবসের এই জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ জাতীয় ঐক্য ও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করতে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের রণকৌশল ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। মহান স্বাধীনতা দিবসের এই উৎসব প্যারেড ময়দান ছাড়িয়ে দেশজুড়ে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা আর গভীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরের সেই অকুতোভয় বীর শহীদদের স্মরণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আজ সকাল থেকেই নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ঢল। রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে স্মৃতিসৌধ এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে শহীদ বেদি, আর বাতাসের অনুরণিত হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান ও বীরদের প্রতি কৃতজ্ঞতার সুর।
দিবসের শুরুতে ভোর ৬টার দিকে কুয়াশাভেজা সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, যা এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন প্রদান করে এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ৮৪ একরজুড়ে বিস্তৃত এই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে মানুষের স্রোত বাড়তে থাকে। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন আর লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জমায়েত এক বিশাল মিলনমেলায় রূপ নেয়। শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার।
এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এছাড়া বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো পৃথকভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
বাঙালির ইতিহাসের এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে সারা দেশে সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই ২৬শে মার্চেই জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার চেতনাকে বুকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন দেশ উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আজকের নেতৃবৃন্দ। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতির গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টায় তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখান থেকে ঢাকা ফেরার সময় সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।
এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে’ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীর জন্য বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ জিয়া’র মাজারে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর সন্তানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দায়িত্বে থাকা পাঁচজন সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (চুক্তিভিত্তিক) ড. মো. নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম এবাদুর রহমানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব করা হয়েছে।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহা. রায়হান কাওছার পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. মোখতার আহমেদকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (অতিরিক্ত সচিব) ইয়াসমীন পারভীনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। একসঙ্গে ১২ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি, বদলি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন করা হয়েছে।
বুধবার রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা হলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (অতিরিক্ত সচিব) ইয়াসমিন পারভীনকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।
এ ছাড়া এসএম এবাদুর রহমানকে এক বছরের চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অপর দিকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। আর চারজন সচিবকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াই যেদিন শুরু হয়েছিল; সেই স্মৃতিময় ২৬ মার্চ আজ। বাঙালির গৌরবময় স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রত্যাশিত মহান স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশের। তাইতো কবির ভাষায় গাইতে হয়- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না। দুঃসহ বেদনার কন্টক পথ বেয়ে শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না। নতুন স্বদেশ গড়ার পথে তোমরা চিরদিন দিশারী রবে, আমরা তোমাদের ভুলব না।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। চট্টগ্রামে তার অধীনস্থ বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে তিনি এই সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেন। শুরু হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ, মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা ঘোষণার পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চের কালরাতে শুরু হওয়া গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) জনগণের স্বাধিকারের দাবি কখনো মেনে নিতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দ্বিজাতিতত্ত্বের। ভেতর দিয়ে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শোষণ ও দমন-পীড়ন চালাতে থাকে। তাদের নীল নকশার প্রথম আঘাত আসে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে জাতির বীর সন্তানরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের এ আত্মদানের ভেতর দিয়ে জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধিকারের চেতনায়। ক্রমে তা রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। মুক্তিকামী বাঙালিকে চিরতরে দমনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানের কতিপয় রাজনীতিবিদ ও সেনাবাহিনী।
আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। বৈঠকের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে তারা নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে ১৫ মার্চ থেকে ৩৫ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান। এতে পূর্ব বাংলায় বেসামরিক শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনা চলতে থাকলেও তা প্রহসনে পরিণত হয়; আলোচনার নামে শাসকগোষ্ঠী কালক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ‘পোড়া মাটি নীতি’ বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রী—২৫ মার্চ, যা এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার প্রতীক হয়ে আছে। অবশেষে লাখো শহীদের আত্মদানের পথ ধরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে আসে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, জন্ম হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
কর্মসূচি: আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের লগ্নে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা জানাবেন জাতীয় সংসদের, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিদেশি কূটনীতি রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা। এর পরই জাতির গৌরব আর অহংকারের এ দিনটিতে সৌধপ্রাঙ্গণে ঢল নামবে লাখো মানুষের। তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে ওঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
বিএনপির কর্মসূচি: ভোর ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী বিএনপির সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় নেতাসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করবেন। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল হবে।
এ ছাড়া মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আগামীকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় বিএনপির অলোচনা সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় বিএনপির জাতীয় নেতাসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। এদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি এগুলো উদ্বোধন করেন।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বুধবার (২৫ মার্চ) ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
বার্তায় বলা হয়, ভারতের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ, যা আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের ভিত্তিটিকে রূপদান করে।
শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে আমরা সংযুক্তি, বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ও শিক্ষাসহ প্রধান খাতগুলোতে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে সীমান্তের উভয় পাশের নাগরিকদের কাছে বাস্তবিক সুফল পৌঁছে দিয়েছি।
শুভেচ্ছা বার্তায় আরও বলা হয়, ভারত আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আগ্রহী। অনুগ্রহ করে পুনরায় আমার সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভকামনা গ্রহণ করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে।
‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (২৫ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’
প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
একদিকে শিশুরা তৈরি করছিল একটি দেয়াল। উপাদান-কাগজের বাক্স। নির্মাণ শেষে শিশুরা দেয়ালের সামনে দাঁড়ায়। তারপরে প্রতীকী গুলি। গুলির আঘাতে শিশুরা লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। আরেক দিকে রং-তুলি দিয়ে শিশুদের কেউ আঁকছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেউ রক্তিম সূর্য। আবার কেউবা সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের চিত্র। পরে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো সাঁটানো হয় কাগজের বাক্স দিয়ে বানানো দেয়ালে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে এমন দৃশ্য দেখা গেল। ঐকতান সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সহযোগিতায় শিশু-কিশোরেরা মুক্তিযুদ্ধের ছবি এঁকে এই দেয়াল নির্মাণ করে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’।
বাংলাদেশ গণহত্যা দিবস ও কালরাত্রি স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ আয়োজন করেছে। আয়োজনে থাকছে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
শিশুদের নিয়ে আয়োজনের পাশে জাদুঘরের প্রাঙ্গণজুড়ে বসানো হয়েছে কাগজ দিয়ে বানানো সাদা পাখি। শান্তির বার্তা দিতে এই পাখিদের রং সাদা। কোনো পাখির গায়ে রক্তের মতো লাল রঙের ছাপ। যেন পাখির ডানা থেকে রক্ত ঝরছে।
কালো ব্যাজের ওপর পাখিগুলো বসানো হয়েছে। এই দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির সেই ভয়াল স্মৃতি। সেদিন গুলি করে নির্বিচার পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় এই পাখিদের মাঝে জ্বালানো হবে মোমবাতি। তারা বার্তা দিতে চান, যতই ঝড় আসুক, আলো জ্বলবেই।
আয়োজনে অংশ নেওয়া শিশুদের একজন আদি মদোক প্রভু। তার বয়স ৬ বছর। সে ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের শিক্ষার্থী। সে আঁকছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি।
শিশুদের চিত্রাঙ্কন পরিদর্শনে এসে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, শিশুরা ছবি আঁকছে। মুক্তির দেয়াল, স্বাধীনতার দেয়াল তৈরি করছে। এই ছবিগুলো যখন একটার পর একটা বাক্সের মধ্যে বসানো হবে, তখন অন্য রকম শক্তির বার্তা দেবে। শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তবে এই দেয়াল তাদের মনস্তত্ত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এনে দেবে।
শিশুদের নির্মাণ করা এই দেয়াল আগামী এক সপ্তাহ প্রদর্শন করবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
শিশুদের কাজে সহযোগিতা করছিলেন ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সাবেক শিক্ষার্থী নিরুপমা চক্রবর্তী। তিনি এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, এখানে এসে শিশুদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ল তার। শিশুদের মনস্তত্ত্বে এই কাজগুলোর ছাপ সবসময় থেকে যায়।
শিশুরা যাতে আনন্দের সঙ্গে সহজে মুক্তিযুদ্ধকে বুঝতে পারে, সে জন্য এই আয়োজন বলে জানালেন ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের শিক্ষক সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, শিশুরা জানে না ‘৭১ কী, যুদ্ধ কী, বীরাঙ্গনা কী, লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ কী। তাই শিশুদের সহজ ভাষায়, সহজ কাজে, সরল পথে, সত্য বলে মুক্তিযুদ্ধ বোঝাতেই এই দেয়াল নির্মাণ’।
আয়োজনে ঐকতানসহ কয়েকটি সংগঠনের ৩০ জন শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে বলে জানালেন সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, দেয়াল নির্মাণ শেষে শিশুরা জাদুঘর ঘুরে দেখবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে।
আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘রিমেম্বারিং দ্য ১৯৭১ জেনোসাইড: মেমোরি, ডিনায়াল অ্যান্ড লেসন্স’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। এ ছাড়া প্যানেল আলোচনা এবং সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হবে। আলোচনায় অংশ নেবেন তরুণ গবেষকেরা। সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করবে যথাক্রমে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র।