তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। গরমের তীব্রতায় বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গলে গেছে রাস্তার পিচ। ক্লান্ত নাজেহাল অবস্থায় ঘরে-বাইরে বিপর্যস্ত মানুষ। প্রতিটি জেলায় গতকাল রেকর্ড হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রোদের তাপ এত বেশি যে, রাস্তা থেকে উঠছে গরম ভাঁপ। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনিতেই ঘামছে শরীর। এই আবহাওয়ায় সাধারণ কাজকর্ম করতেও কষ্ট, সেখানে শ্রমজীবী মানুষ পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় কষ্ট। রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের চিত্র একই।
এ অবস্থায় গতকাল রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেড়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে যশোর-চুয়াডাঙ্গা-বাগেরহাটে এই তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি। গতকাল যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৩ ডিগ্রি ও বাগেরহাটে ছিল ৪১ ডিগ্রির বেশি। পাবনা, কুষ্টিয়াসহ মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গে প্রায় একই রকম তাপমাত্রা বিরাজ করে গতকাল। তবে কোনো সুখবর দেয়নি আবহাওয়া অফিস। বরং গত শুক্রবার তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এমন তাপমাত্রা আজ ও আগামীকালও বহাল থাকবে।
অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাবনা জেলায় চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এমন তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজন মারা গেছেন।
এদিকে, ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে আজ ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও তীব্র গরমের কারণে আরও পাঁচ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ঘোষণা থাকলেও পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্কুল-কলেজ খুলবে আগামী ২৮ এপ্রিল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে এ ছুটি আরও বাড়তে পারে। এ ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাউশির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাজধানীতে ৪০ ডিগ্রির বেশি এবং যশোর-চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠে যাওয়ায় সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকেই স্কুল-কলেজে ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সকালে প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেসময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান দাবদাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয়সমূহ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।
মাউশির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি বা উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ পরিবর্তিত হতে পারে।
তীব্র তাপদাহের কারণে একইদিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহের কারণে পরবর্তী তারিখ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকবে।
তবে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। অবশ্য ঘোষণা না দিলেও একটি গণমাধ্যমকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক জানিয়েছেন, মাউশির অধীন স্কুল ও কলেজগুলোর মতো তাদের অধীন মাদ্রাসাগুলোও ছুটি থাকবে। অর্থাৎ মাদ্রাসাগুলোও খুলবে ২৮ এপ্রিল।
এদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, তারাও মাউশির অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আজ এ ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে দাবদাহের কারণে তিন দিন হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস। গত শুক্রবার এটি জারি করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার থেকে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এ সময় সবাইকে গরম থেকে বাঁচতে সতর্কতার সঙ্গে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজ রোববারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
তীব্র এ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শিশু, বয়স্করা। এই সময়ে পানি বেশি খাওয়াসহ তরল খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কোনো অবস্থাতেই তেল ও মসলা জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। এমনকি গরমে বাইরে থেকে বাসায় গিয়েই ঠাণ্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। একইসঙ্গে রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় বিক্রি করা ঠাণ্ডা শরবত না খাওয়ার কথাও জানান। কেননা এসব শরবত খেলে ডায়রিয়া-টাইফয়েডসহ নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের এলাকা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।
যশোর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। প্রচণ্ড গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা মালামাল লোড-আনলোড করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ শিশু ঠাণ্ডা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে শনিবার বিকাল ৩টায়। জেলায় অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহে গতকাল সকাল থেকেই রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরম। তীব্র রোদের তাপে মানুষ বাইরে যেতে পারছেন না। সকাল ৯টার পর থেকে রোদের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
পাবনায় হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু
পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলার ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিট স্ট্রোকে সুকুমার দাস নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিট স্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনা শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।
রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে বাগেরহাট
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া হিটওয়েভের মধ্যে শনিবার বিকাল ৩টায় মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ। হিটওয়েভের কারণে সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে একাকার হয়ে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। সড়ক মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও অনেক কমে গেছে। অতি-প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরবাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, জ্বর-কাশি নিয়ে একমাত্র জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালের ৩২ বেডের শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছেন ১১২ জন। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৭১জন। তীব্র দাবদাহে বাগেরহাটের জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
পিরোজপুর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখা গেছে। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন।
বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৫ জন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯, মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৬, মহিলা ওয়ার্ডে ৫৩, শিশু ওয়ার্ডে ২৯, গাইনি ওয়ার্ডে ৬ ও স্ক্যানু ওয়ার্ডে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে
আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী আরও কয়েক দিন একই রকম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও রাঙামাটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া, তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছেন।
বিচারের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
মামলায় অভিযুক্ত বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।
এছাড়া, আরও ৮ আসামিকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।
গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হয়। তার আগে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
রায় পড়ার প্রাক্কালে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।’
মামলায় পলাতক থাকা আসামিরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, বেরোবির লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ, বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান ও বেরোবির সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। এরপর গত ৫ মার্চ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানান, এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
আবু সাঈদের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা এবং পটভূমির সাক্ষী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।
আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া এক আসামিকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন ছিল না, অর্থাৎ কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। তার ডেথবডিতেও (মরদেহ) কোনো ধরনের গর্ত বা ক্ষতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা আদালতে একাধিক পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।
আইনজীবী দোলন জানান, আসামিপক্ষের পক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রত্যাশিতভাবে খালাস না পাওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নীতিমালা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চারদিন আগে এ বিষয়ে টেলিকম উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। এটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ইআরএফ ও সিটিজেন প্লাটফর্ম’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার, সিটিজেন প্লাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর সম্পাদক জাহিদ হোসেন, প্রথম আলোর হেড অফ অনলাইন শওকত হোসেন মাসুমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার হলো বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ ব্যবহার রোধ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া একটি বিটিআরসি-পরিচালিত সিস্টেম। এটি গ্রাহকের এনআইডি ও সিমের সাথে হ্যান্ডসেটের ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর সংযুক্ত করে বৈধতা যাচাই করে এবং অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া ফোন ব্লক করে দেয়।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে কেউ গুম কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি বলে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারের বয়স ৪২ দিন, চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত। কিন্তু গত ৪২ দিনে দেশে একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি, একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। চাইল্ডহুড সোজ দ্য ম্যান, মর্নিং সোজ দ্য ডে। আমরা মানবাধিকারের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মানবাধিকার বিল ২০২৬ উত্থাপনের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের পরে আর কেউ হয়নি। আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমার বন্ধুরা, তারা বিগত ১৭ বছরে অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। অনেকের পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আমাদের সামনে যারা বসে আছেন তাদের অনেকে মানবাধিকার কী জিনিস সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় পরিবার হলো বিএনপি পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধের শিকার হলো বিএনপি পরিবার এবং জিয়া পরিবার। আমাদের সামনে বসে আছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম শিকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো পিছুটান নেই।
২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সেই অধ্যাদেশ রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি উত্থাপনের পর এর তীব্র বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি, অতীতে এই কমিশনকে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কমিশন বিএনপিকে দমনের বৈধতা দিয়েছিল। এমনকি আমরা কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো বৈধ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া এই সংসদের জন্য একটি ‘ব্যাকওয়ার্ড মুভ’ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল) হয়ে থাকবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি (রসালো)। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি।’
আইনমন্ত্রী বিলে উল্লিখিত কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিলের প্রথম লাইনেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা, যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামোতে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশেই আপাতত ২০০৯ সালের আইনটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয় এবং ২০০৯ সালের আইনটি পুনর্বহাল না করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বার্তা যাবে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশনই নেই। বিতর্ক শেষে স্পিকারের হস্তক্ষেপে বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হয় এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
সেনা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ডিজিএফআই এবং সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফোনের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের ছবি সংগ্রহ করে তা হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করছে। এরপর সেই পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের যোগাযোগ করা হয় না। কেউ যদি সেনা কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা কোনো ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট নম্বরসহ নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জানানো হয়, প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হবে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ায় পাবনা-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের বিলটির বিরোধীতা করে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দিলে বিরোধী দলের সদস্যের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর বিল পাসের প্রতিবাদ করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
বিল পাসের প্রক্রিয়ায় মীর শাহে আলম বলেন, ‘আইনটি পাস হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের মধ্যে আরেকটি বিষয় রয়েছে, তা হলো— দলীয় প্রতীকে যে নির্বাচন হতো, এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় এবং দলীয় প্রতীক বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা এই আইনে করা আছে। এই কারণে আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি।’
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলীয় মনোনয়ন নির্বাচন না করার স্বার্থে স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিলটি সংসদে পাস না হলে আসলে কারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে এটা কিন্তু বিবেচনার বিষয়। উনারা কাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে? রক্তপিপাসু জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা পুলিশের সাথে আমাদের হামলা করেছে, অস্ত্র ব্যবহার করেছে, হামলায় যারা আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সেই সমস্ত জনপ্রতিনিধি, এই আইনটি পাস না হলে আবার তারা পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে ফিরে আসবে। এই কারণেই এই অধ্যাদেশটি করে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং এই জায়গাগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম আট দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৯৭.৫ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭৭.৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে গত বুধবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭১৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার। বছরে মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০.৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় পূর্বের মতোই তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং পরে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
বিলটি নিয়ে আপত্তি জানায় জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে অবহিত করে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বিলের বিরোধিতা করে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও তিনি কোন ধারায় সংশোধন চান তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এ কারণে স্পিকার তার আপত্তির ওপর আলাদা করে কোনো ভোট গ্রহণ করেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’—এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লিখিত দলগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়, যা বর্তমান সংশোধনীতে বহাল রয়েছে।
বিলের বিষয়ে আপত্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সরকারগুলো, যেমন জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার আমলেও আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলের নাম এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিষয়টি প্রথম যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও কিছু পরিবর্তনসহ সেই ধারা বজায় রাখে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।
শফিকুর বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।
আলোচনা শেষে স্পিকার উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেননি, বরং সাধারণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেন এবং তা পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিল্টন ডিক এমপি’র নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ অ্যাপ চালু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে—ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন—মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্বসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিচ্ছেন, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিস্টেমটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
স্মার্টফোন না থাকলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড প্রিন্ট নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুকের আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং এর অব্যাহত অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনোয়ার ইব্রাহিমকে শুভেচ্ছা জানান এবং একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষই তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে আসা নিহত প্রবাসী শাহ আলমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় এই কথা জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘নিহত প্রবাসীর লাশ কুমিল্লায় নিয়ে যেতে এবং দাফনের জন্য প্রবাসী সরকার খরচ দেবে। সরকার পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটাও দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিশ্বে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সে সমস্যার সমাধান হোক।’
কিরগিস্তানে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের লাশ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছে তাদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাসহ অন্যান্য সমস্যা বাংলাদেশ সরকার দেখছে। ওইসব দেশে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা যেন আবার ফেরত যেতে পারে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আমরা দেখছি।’
প্রত্যাগত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সরকারের ম্যানুফেস্টোতেই রয়েছে, আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। যারা কর্ম হারিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা ফেরত যেত চায়, তাদের বিষয়েও কিন্তু আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।’