মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ ফাল্গুন ১৪৩২

মৌসুমের রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত জীবন

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি
তীব্র গরমে মাঠে ধান কাটার সময় একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। গতকাল চুয়াডাঙ্গার একটি খেত থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২১ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০২

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। গরমের তীব্রতায় বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গলে গেছে রাস্তার পিচ। ক্লান্ত নাজেহাল অবস্থায় ঘরে-বাইরে বিপর্যস্ত মানুষ। প্রতিটি জেলায় গতকাল রেকর্ড হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রোদের তাপ এত বেশি যে, রাস্তা থেকে উঠছে গরম ভাঁপ। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনিতেই ঘামছে শরীর। এই আবহাওয়ায় সাধারণ কাজকর্ম করতেও কষ্ট, সেখানে শ্রমজীবী মানুষ পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় কষ্ট। রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের চিত্র একই।

এ অবস্থায় গতকাল রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেড়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে যশোর-চুয়াডাঙ্গা-বাগেরহাটে এই তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি। গতকাল যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৩ ডিগ্রি ও বাগেরহাটে ছিল ৪১ ডিগ্রির বেশি। পাবনা, কুষ্টিয়াসহ মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গে প্রায় একই রকম তাপমাত্রা বিরাজ করে গতকাল। তবে কোনো সুখবর দেয়নি আবহাওয়া অফিস। বরং গত শুক্রবার তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এমন তাপমাত্রা আজ ও আগামীকালও বহাল থাকবে।

অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাবনা জেলায় চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এমন তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজন মারা গেছেন।

এদিকে, ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে আজ ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও তীব্র গরমের কারণে আরও পাঁচ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ঘোষণা থাকলেও পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্কুল-কলেজ খুলবে আগামী ২৮ এপ্রিল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে এ ছুটি আরও বাড়তে পারে। এ ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাউশির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীতে ৪০ ডিগ্রির বেশি এবং যশোর-চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠে যাওয়ায় সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকেই স্কুল-কলেজে ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সকালে প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেসময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান দাবদাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয়সমূহ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।

মাউশির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি বা উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ পরিবর্তিত হতে পারে।

তীব্র তাপদাহের কারণে একইদিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহের কারণে পরবর্তী তারিখ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকবে।

তবে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। অবশ্য ঘোষণা না দিলেও একটি গণমাধ্যমকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক জানিয়েছেন, মাউশির অধীন স্কুল ও কলেজগুলোর মতো তাদের অধীন মাদ্রাসাগুলোও ছুটি থাকবে। অর্থাৎ মাদ্রাসাগুলোও খুলবে ২৮ এপ্রিল।

এদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, তারাও মাউশির অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আজ এ ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে দাবদাহের কারণে তিন দিন হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস। গত শুক্রবার এটি জারি করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার থেকে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এ সময় সবাইকে গরম থেকে বাঁচতে সতর্কতার সঙ্গে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজ রোববারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

তীব্র এ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শিশু, বয়স্করা। এই সময়ে পানি বেশি খাওয়াসহ তরল খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কোনো অবস্থাতেই তেল ও মসলা জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। এমনকি গরমে বাইরে থেকে বাসায় গিয়েই ঠাণ্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। একইসঙ্গে রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় বিক্রি করা ঠাণ্ডা শরবত না খাওয়ার কথাও জানান। কেননা এসব শরবত খেলে ডায়রিয়া-টাইফয়েডসহ নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের এলাকা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।

যশোর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। প্রচণ্ড গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা মালামাল লোড-আনলোড করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ শিশু ঠাণ্ডা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে শনিবার বিকাল ৩টায়। জেলায় অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহে গতকাল সকাল থেকেই রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরম। তীব্র রোদের তাপে মানুষ বাইরে যেতে পারছেন না। সকাল ৯টার পর থেকে রোদের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

পাবনায় হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলার ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিট স্ট্রোকে সুকুমার দাস নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিট স্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনা শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।

রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে বাগেরহাট

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া হিটওয়েভের মধ্যে শনিবার বিকাল ৩টায় মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ। হিটওয়েভের কারণে সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে একাকার হয়ে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। সড়ক মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও অনেক কমে গেছে। অতি-প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরবাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, জ্বর-কাশি নিয়ে একমাত্র জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালের ৩২ বেডের শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছেন ১১২ জন। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৭১জন। তীব্র দাবদাহে বাগেরহাটের জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

পিরোজপুর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখা গেছে। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন।

বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৫ জন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯, মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৬, মহিলা ওয়ার্ডে ৫৩, শিশু ওয়ার্ডে ২৯, গাইনি ওয়ার্ডে ৬ ও স্ক্যানু ওয়ার্ডে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে

আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী আরও কয়েক দিন একই রকম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও রাঙামাটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।


ঈদুল ফিতরে রেলযাত্রার প্রস্তুতি: ৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আগামী ৩ মার্চ থেকে অনলাইনে এই টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে। রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা যাবে ২৩ মার্চ থেকে। প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ভিড় এড়াতে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল রাখতে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুই ভিন্ন সময়ে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকালে অনলাইনে উন্মুক্ত করা হবে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের টিকিট পাওয়া যাবে প্রতিদিন দুপুর থেকে। সার্ভারের ওপর বাড়তি চাপ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত এই সময় বিভাজন করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা যাতে সহজে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন, সেটিই এখন রেলওয়ে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

যাত্রী সেবা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ৫ জোড়া অর্থাৎ মোট ২০টি স্পেশাল ট্রেন ঈদের বিশেষ সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত গন্তব্যগুলোতে চলাচল করবে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা এবং স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য উৎসবমুখর ও নিরাপদ হবে।


প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টার দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনির্বাচিত সরকারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগকৃত উপদেষ্টাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক বিশেষ গেজেটের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে নতুন সরকারের এই নতুন বিন্যাস নিয়ে দিনভর ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মেধা ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচজন উপদেষ্টার মধ্যে তিনজনকে সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেছেন প্রবীণ নেতা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। তাঁরা সরাসরি সরকারের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও কৌশলগত বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। এছাড়া প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব দেশের প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কাজ করবেন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োজিত চারজন উপদেষ্টার ওপর একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গুরুভার সামলাতে হবে। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে। অন্যদিকে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে মাহদী আমিনের ওপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান—এই চারটি বড় দপ্তরের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও গবেষণার মানোন্নয়নে রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নবনিযুক্ত উপদেষ্টাগণ ইতিমধ্যে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভা ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের কাজ শুরু করেছেন। এই দায়িত্ব বণ্টনের ফলে সরকারের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে। বিশেষ করে তরুণ ও অভিজ্ঞদের এই সংমিশ্রণ রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন থেকে এই উপদেষ্টাদের সরাসরি তদারকিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর নীতিনির্ধারণী ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।


বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আলী হোসেন ফকির। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান নতুন আইজিপি নিয়োগের তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে আদেশ জারির কথা উল্লেখ করেছেন।

আলী হোসেন ফকির বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তা বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন আইজিপির কর্মজীবন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের এক বিশেষ দৃষ্টান্ত। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রথম দফায় রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে চাকরি হারান। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন। তবে রাজনৈতিক বৈষম্য তাঁর পিছু ছাড়েনি। ২০২২ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে আবারও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন লাভ করেন।

পেশাদারিত্ব এবং ন্যায়নিষ্ঠার প্রশ্নে আপসহীন এই কর্মকর্তা পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ায় বাহিনীর অভ্যন্তরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রতিকূলতা জয়ের মানসিকতা পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব ও শক্তিশালী সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশি সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, নতুন আইজিপির নেতৃত্বে তা আরও গতিশীল হবে বলে অভিজ্ঞ মহল আশা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।


চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: ফখরুল ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য প্রদান করেন। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী জানান, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীন কাজ করতে আগ্রহী, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

সাক্ষাৎকার শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময়। বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প ছাড়াও চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় চলমান অন্যান্য প্রকল্পগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেহেতু নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান, বেইজিং কেবল তিস্তা নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গ্রামীন উন্নয়ন ও সমবায় খাতের আধুনিকায়নেও অংশীদার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে।

কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সরকারিভাবে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি; খুব শীঘ্রই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এটি নির্ধারণ করা হবে। নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠক শেষে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি তাঁর দেশের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, চীন সবসময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সম্মান করে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন প্রকল্প ও সমবায় ভিত্তিক আয়বর্ধক কর্মসূচিতে চীনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। প্রশাসনিক সংস্কার ও জনসেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের উদ্যোগগুলোকে চীন সাধুবাদ জানিয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি আগামীতে বড় ধরণের বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


দায়িত্ব নিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন ৬ সিটির প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের নবনিযুক্ত ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকগণ আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে এই বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত প্রশাসকদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। প্রশাসকরা তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁরা নিজ নিজ শহরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার এবং নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে সচেষ্ট থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী তাঁদের জনকল্যাণে নিবেদিত হয়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এই ছয়জন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মো. আব্দুস সালাম এবং উত্তর সিটির জন্য মো. শফিকুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের অনুপস্থিতিতে মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও প্রশাসনিক যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ঢাকার প্রধান শহরগুলোর আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


ডিএসসিসি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আবদুস সালাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব বুঝে নেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণাংশের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সিটি করপোরেশনের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে গত সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মোঃ আবদুস সালামকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে মেয়রের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই ব্যক্তিত্বকে প্রশাসক হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে নাগরিক ভোগান্তি লাঘব এবং সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

সচিবালয়ে আয়োজিত দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত প্রশাসককে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতেই এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশা নিধন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন।


এবার সাবেক দুই ভিসির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি বর্তমানে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এই আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুদকের কাছে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য রয়েছে যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিচার প্রক্রিয়া এড়াতে যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ ভ্রমণে জরুরি ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার নজির থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় পদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

আদালত দুদকের আবেদনটি আমলে নিয়ে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অনতিবিলম্বে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং তদন্তের প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রক্ষায় এই ধরণের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। এই আদেশের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম নিরসনে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিডিআর বিদ্রোহ: বিস্ফোরক মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে এবার এই মামলার আসামি করা হচ্ছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটির চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পিলখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার নির্মম মৃত্যুর পর কেটে গেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়, তবে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় নিহতদের পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হয়নি।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এই বিশাল মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে আটশ জন। মোট ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনশ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে থাকা এই মামলাটি এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই মামলার কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে এবং এরই মধ্যে কয়েকশ আসামি জামিন লাভ করেছেন। প্রসিকিউশন এখন নতুন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র পুনর্গঠন বা সম্পূরক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

ইতিহাসের অন্যতম এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি পর্যায় এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে থাকায় এর পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্ন হতে আরও সময়ের প্রয়োজন। নতুন করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আসামি করার উদ্যোগ মামলার গুরুত্ব ও জটিলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা আশা করছেন প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত হবে।


চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে সচিবালয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল ৯টায় তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন। দিনের শুরুতেই তিনি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী, আইন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এই বৈঠকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আলোচনার পাশাপাশি আজকের কার্যসূচিতে অন্যতম প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প। গত সপ্তাহে এই প্রকল্প সুচারুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে এই কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত থেকে ফ্যামিলি কার্ডের বণ্টন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করবেন। সভায় দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি নির্বাচিত ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে এই কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ের এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সরব উপস্থিতি এবং দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই বৈঠক থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত: এলজিআরডি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সংসদ অধিবেশনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দেশের ছয়টি বড় সিটি করপোরেশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত প্রশাসকরা এ সময় মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাঁরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগে শেষ হয়েছে বা হচ্ছে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোটের আয়োজন করবে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রথমে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।

প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে নতুন প্রশাসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং দাপ্তরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশনটি স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরণের গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের সংসদ অধিবেশনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ।


পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পুলিশের বর্তমান পোশাক পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য বিশেষ দাবি জানিয়েছে। সোমবার রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বর্তমান ইউনিফর্মের উপযোগিতা এবং পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জটিলতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বর্তমান পোশাকটি নির্ধারিত হয়েছিল। পোশাকের রং, স্থানীয় আবহাওয়া এবং দিন-রাত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই ইউনিফর্মটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। নতুন করে প্রস্তাবিত পোশাকের নকশা বা রং যদি অন্য কোনো বাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে পুলিশ বাহিনীকে দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বাহিনীর স্বতন্ত্র পরিচিতি সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য বর্তমান পোশাকেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। এই মুহূর্তে ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। বিশাল এই ব্যয়ের পরিবর্তে বরাদ্দকৃত অর্থ পুলিশের আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধিতে ব্যয় করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জামের সংস্থান করার মাধ্যমেই বাহিনীর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


একযোগে ৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড় ধরণের রদবদল এনেছে বর্তমান সরকার। সোমবার রাতে পৃথক নয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত ৯ জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এসব আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের আমলারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। এছাড়া জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের এবং ভূমি আপিল বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা—সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেসুর রহমান, সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ এবং সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগমের নিয়োগও এই আদেশের অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় আরও রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে প্রশাসনিক সংস্কারের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মূলত প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মকর্তাদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই গণ-ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ কর্মকর্তাদের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এমন আকস্মিক অব্যাহতি প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তনের পথ সুগম করল। এই আদেশের ফলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা যায়।

বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তার চুক্তি বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিকল্পনা কমিশন ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরগুলোতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল বর্তমান সরকার। একযোগে ৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়কে কেন্দ্র করে সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদগুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ৩৯তম বোর্ড সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে আয়োজিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের সামগ্রিক অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, জনগণ ও সংবাদ মাধ্যমই যেকোনো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। গণমাধ্যম সবসময় জনআকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করেছে এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সরকার সাংবাদিকদের জন্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটাতে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ অবসর ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান ইয়াসের খান চৌধুরী ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো কেবল দায়িত্ব নয়, বরং এটি তাঁদের কাজের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি অংশ। সভায় ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বোর্ড সভা শেষে তথ্য ভবন অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংবাদিক পরিবারের ৪০২ জন মেধাবী সন্তানের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এই বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত থেকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং এই পেশার মানোন্নয়নে ট্রাস্টের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংবাদকর্মীরা মনে করছেন।


banner close