তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। গরমের তীব্রতায় বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গলে গেছে রাস্তার পিচ। ক্লান্ত নাজেহাল অবস্থায় ঘরে-বাইরে বিপর্যস্ত মানুষ। প্রতিটি জেলায় গতকাল রেকর্ড হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রোদের তাপ এত বেশি যে, রাস্তা থেকে উঠছে গরম ভাঁপ। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনিতেই ঘামছে শরীর। এই আবহাওয়ায় সাধারণ কাজকর্ম করতেও কষ্ট, সেখানে শ্রমজীবী মানুষ পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় কষ্ট। রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের চিত্র একই।
এ অবস্থায় গতকাল রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেড়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে যশোর-চুয়াডাঙ্গা-বাগেরহাটে এই তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি। গতকাল যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৩ ডিগ্রি ও বাগেরহাটে ছিল ৪১ ডিগ্রির বেশি। পাবনা, কুষ্টিয়াসহ মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গে প্রায় একই রকম তাপমাত্রা বিরাজ করে গতকাল। তবে কোনো সুখবর দেয়নি আবহাওয়া অফিস। বরং গত শুক্রবার তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এমন তাপমাত্রা আজ ও আগামীকালও বহাল থাকবে।
অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাবনা জেলায় চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এমন তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজন মারা গেছেন।
এদিকে, ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে আজ ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও তীব্র গরমের কারণে আরও পাঁচ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ঘোষণা থাকলেও পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্কুল-কলেজ খুলবে আগামী ২৮ এপ্রিল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে এ ছুটি আরও বাড়তে পারে। এ ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাউশির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাজধানীতে ৪০ ডিগ্রির বেশি এবং যশোর-চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠে যাওয়ায় সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকেই স্কুল-কলেজে ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সকালে প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেসময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান দাবদাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয়সমূহ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।
মাউশির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি বা উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ পরিবর্তিত হতে পারে।
তীব্র তাপদাহের কারণে একইদিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহের কারণে পরবর্তী তারিখ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকবে।
তবে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। অবশ্য ঘোষণা না দিলেও একটি গণমাধ্যমকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক জানিয়েছেন, মাউশির অধীন স্কুল ও কলেজগুলোর মতো তাদের অধীন মাদ্রাসাগুলোও ছুটি থাকবে। অর্থাৎ মাদ্রাসাগুলোও খুলবে ২৮ এপ্রিল।
এদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, তারাও মাউশির অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আজ এ ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে দাবদাহের কারণে তিন দিন হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস। গত শুক্রবার এটি জারি করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার থেকে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এ সময় সবাইকে গরম থেকে বাঁচতে সতর্কতার সঙ্গে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজ রোববারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
তীব্র এ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শিশু, বয়স্করা। এই সময়ে পানি বেশি খাওয়াসহ তরল খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কোনো অবস্থাতেই তেল ও মসলা জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। এমনকি গরমে বাইরে থেকে বাসায় গিয়েই ঠাণ্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। একইসঙ্গে রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় বিক্রি করা ঠাণ্ডা শরবত না খাওয়ার কথাও জানান। কেননা এসব শরবত খেলে ডায়রিয়া-টাইফয়েডসহ নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের এলাকা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।
যশোর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। প্রচণ্ড গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা মালামাল লোড-আনলোড করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ শিশু ঠাণ্ডা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে শনিবার বিকাল ৩টায়। জেলায় অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহে গতকাল সকাল থেকেই রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরম। তীব্র রোদের তাপে মানুষ বাইরে যেতে পারছেন না। সকাল ৯টার পর থেকে রোদের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
পাবনায় হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু
পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলার ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিট স্ট্রোকে সুকুমার দাস নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিট স্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনা শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।
রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে বাগেরহাট
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া হিটওয়েভের মধ্যে শনিবার বিকাল ৩টায় মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ। হিটওয়েভের কারণে সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে একাকার হয়ে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। সড়ক মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও অনেক কমে গেছে। অতি-প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরবাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, জ্বর-কাশি নিয়ে একমাত্র জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালের ৩২ বেডের শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছেন ১১২ জন। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৭১জন। তীব্র দাবদাহে বাগেরহাটের জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
পিরোজপুর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখা গেছে। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন।
বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৫ জন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯, মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৬, মহিলা ওয়ার্ডে ৫৩, শিশু ওয়ার্ডে ২৯, গাইনি ওয়ার্ডে ৬ ও স্ক্যানু ওয়ার্ডে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে
আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী আরও কয়েক দিন একই রকম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও রাঙামাটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শুধু মুসলিম বিশ্বের জন্য নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যও একটি বড় সম্পদ ও শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্ববাজারে হালাল খাদ্যের একটি বিশাল বাজার রয়েছে এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগকারী উভয়েই এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।’
আজ বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দুই দেশ যৌথভাবে তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশ ও বিশ্ববাজারে এর পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হালাল পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান ও সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করতে হবে। সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়াবে।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কূয়ালালামপুর সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন, তা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে তিনি মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জনগণের মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই এই সম্পর্ক টিকে আছে। হালাল শিল্প দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান ও বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আনোয়ার শাহিদ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সুত্র: বাসস
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করার আবেদনটি হাইকোর্ট কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এবার তা আপিল বিভাগে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি অবহিত করেছেন রিট আবেদনকারী ও আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ প্রদান করেন। ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং আবেদনকারীর পক্ষে সশরীরে শুনানি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
গত বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দাখিল করা হয়েছিল। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, "কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।"
আবেদনকারী আইনজীবী তাঁর যুক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, এই অনুচ্ছেদের অস্তিত্বের কারণে জাতীয় সংসদের সদস্যরা স্বাধীনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান না। এর ফলে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। হাইকোর্টে নিজের আরজি সফল না হওয়ায় এখন বিষয়টি সুরাহার জন্য তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। দ্রুতই এই আবেদনের ওপর শুনানির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল খুলাইফির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেছেন। আজ থেকে তাঁরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান।
দুদক সচিব বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। গত সোমবার গেজেটের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বেলা ২টার দিকে তাঁরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেছেন। আগামীকাল থেকে তাঁরা দুদক কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
দুদক সচিব বলেন, আগামীকাল (আজ) থেকে নতুন যাত্রা শুরু হবে দুদকের। আপনারা যেরকম প্রত্যাশা করেন, সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে।
গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ এর ধারা ৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ধারা ৫-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান পদমর্যাদা এবং বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে কমিশনার নিয়োগ পাওয়া দুজন কমিশনার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান পদমর্যাদা এবং বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান:
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এম এ সামাদ একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন।
আসাদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম অর্জন করে ১৯৮৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে এবং ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
হাই কোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন ২০০৩ সালের ২ আগস্ট । ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট একই বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন।
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ কে এম আসাদুজ্জামান । দীর্ঘ বিচারিক জীবনে তিনি সংবিধান, ফৌজদারি আইন এবং দেওয়ানি বিষয়াবলীতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ও ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন এবং
সংবিধান সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ, মানবাধিকার রক্ষা এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে তাঁর বেঞ্চ থেকে প্রদত্ত একাধিক সিদ্ধান্ত আইন জগতে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
নতুন কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।
গতকাল ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব মোঃ মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ মহোদয়ের সঙ্গে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি মহোদয়।
সভায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বহুল প্রতীক্ষিত “সঞ্জীবন প্রকল্প”-এর Pre-Finance সুবিধা অনুমোদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হয়। এ বিষয়ে মাননীয় গভর্নর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সঞ্জীবন প্রকল্পের মঞ্জুরী দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন, যা বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক অন্তর্ভূক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এছাড়াও, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে Core Banking System (CBS) সফল বাস্তবায়ন ও ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের BSC-এর মাধ্যমে ২০৫টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম আগামী ০৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করা হয়।
প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং CBS বাস্তবায়ন ও আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। সভায় আরও আলোচনা করা হয় যে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে CBS বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।
একই সঙ্গে গ্রাহকসেবা আধুনিকায়ন এবং দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে BACH, NPSB, BEFTN/EFT এবং অন্যান্য জাতীয় পেমেন্ট ও ক্লিয়ারিং ব্যবস্থায় সদস্যপদ ও কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যগণ ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা গ্রহণ, Inter-Bank Fund Transfer, ডিজিটাল পেমেন্ট, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার এবং অন্যান্য আধুনিক ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর মহোদয়ের এই ইতিবাচক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার আশ্বাস আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক ব্যাংকিং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একটি লক্ষ্য— আধুনিক ব্যাংকিং। একটি অঙ্গীকার—বাহিনীর সদস্যদের দোরগোড়ায় নিরাপদ ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা।
সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মীর মোফাজ্জল হোসেন মহোদয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. কবীর আহমেদ এবং ডেপুটি গভর্নর মো. সারওয়ার হোসেন।
ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দুই গুণেরও বেশি কয়েদি বন্দি আছেন দেশের কারাগারগুলোতে। ঢাকাসহ সারাদেশের ৭০টি কারাগারে থাকার ব্যবস্থা আছে ৪২ হাজার ৮৮৭ জন বন্দির; আছে ৯৮ হাজার। অর্থাৎ কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৫৫ হাজার ১১৩ জন বেশি কয়েদি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ কয়েদির মধ্যে ৬৯০ জন এখনো পলাতক। তাদের মধ্যে নরসিংদী থেকে পালানো ১৬৬ জনের কোনো তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কারাগারের তথ্য ও সার্ভার পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পলাতকদের তথ্য উদ্ধারে আদালত থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অন্য পলাতকদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের নামে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজার-সংলগ্ন উমেশ দত্ত রোডে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
কারাগারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রম ও সংস্কার নিয়ে কথা বলতে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
কারাগারে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুঠোফোনসহ কোনো অবৈধ সুবিধা ভোগ করছেন কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, অবৈধ মুঠোফোনের ব্যবহার ঠেকাতে গত এক বছরে বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় তিন হাজারের বেশি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক হাজারের বেশি কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইজি প্রিজন বলেন, শুরুর দিকে অবৈধ মুঠোফোনের সংখ্যা বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে। কোনো কারারক্ষী বা অন্য কেউ অবৈধভাবে মুঠোফোন ঢোকানোর সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কারাগার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, অভিযোগগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রায় ৬০টি কারাগার পরিদর্শন করেছেন। এসব সফরে জেল সুপারদের উপস্থিতির বাইরে বন্দিদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
কারাগারের খাবারের পরিমাণ নিয়ে বর্তমানে তার কাছে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান আইজি প্রিজন। বিভিন্নভাবে তদন্ত করে তা দেখেছেন, বরাদ্দের পুরো চাল রান্না করলে অনেক সময় খাবার নষ্ট হয়। এ কারণে চালের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সকালের রুটি, সবজি, মাছ ও তরকারির বিষয়ে তিনি বলেন, শক্ত হওয়া ছাড়া বাকি খাবার তার দৃষ্টিতে পর্যাপ্ত। তবে খাবারের স্বাদ নিয়ে অভিযোগ আছে। বন্দীদের দিয়েই রান্না করানো হয় বলে দক্ষতার অভাবে অনেক সময় খাবারের স্বাদে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে মসলা বাড়ানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
আইজি প্রিজনের ভাষ্য, আগে বাইরে থেকে রান্না করা খাবার বা বাসা থেকে খাবার কারাগারে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া তা হচ্ছে না। প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ হাজার বন্দি এই ব্যবস্থার খাবার গ্রহণ করছেন। আর্থিকভাবে সক্ষম বন্দিদের জন্য কারাগারের ক্যানটিন থেকে সীমিত পরিমাণে বিভিন্ন জিনিস কেনার সুযোগ আছে।
ক্যানটিনে অতিরিক্ত দামের অভিযোগের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কেন্দ্রীয় দলের মাধ্যমে দাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোথাও অতিরিক্ত দাম বা অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা বাড়াতে বন্দিদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের দাম বড় অক্ষরে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ক্যানটিনের লেনদেনে ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে বন্দি তার আরএফআইডি ও আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন ও কেনাকাটা করতে পারবেন। ফলে পুরো লেনদেনের রেকর্ড থাকবে। মুন্সীগঞ্জে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও তা চালুর পরিকল্পনা আছে। সরকারি অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে।
কারাগারে মাদক প্রবেশের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার বন্দি মাদকসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে আছেন। তাদের বড় একটি অংশ মাদকসেবী। মাদক না পেলে তাদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ সহিংস আচরণ করছেন, আবার কেউ কথা শুনছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেনী-২ ও কিশোরগঞ্জে দুটি মাদক বিশেষ কারাগার চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি কাশিমপুরের একটি কারাগারকেও মাদক বিশেষ কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারাগারে শুধু মাদকসংক্রান্ত মামলার বন্দিরা থাকবেন। তাদের জন্য শারীরচর্চা, কাউন্সেলিং, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলাসহ আলাদা রুটিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবেদনশীল বন্দিদের বিশেষায়িত জোনে রাখা হয়েছে জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, এসব এলাকায় ব্যাপক জ্যামিং ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কারণে মুঠোফোন কারাগারে ঢুকলেও সেখানে তা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
তৃতীয় লিঙ্গের বন্দিদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের সাধারণ ওয়ার্ডে না রেখে আলাদা জোন, সেল বা বিভিন্ন স্থানে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা বিশেষ জোন তৈরির বিষয়টি ভাবতে হবে। কারা ব্যবস্থাপনায় এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কারাগারে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৫১টি। এর মধ্যে মাত্র দুজন চিকিৎসক পদায়িত আছেন। অন্য কারাগারগুলোতে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে চিকিৎসক পাওয়া যায়। বর্তমানে বিভিন্ন কারাগারে ১০১ জন চিকিৎসক অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন বলে জানান আইজি প্রিজন।
কারা মহাপরিদর্শক বলেছেন, চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে ফার্মাসিস্ট ও ডিপ্লোমা নার্সদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সম্প্রতি পিএসসি থেকে ৫৫ জন নার্সের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তারা শিগগিরই যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফার্মাসিস্টও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আইজি প্রিজন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে কারাগারে ১৮৬ বা ১৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যুর তালিকা আছে। বর্তমানে ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত সাত মাসে ৫৬ হাজার বন্দিকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, কোনো বন্দি অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গভীর রাতেও জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ স্কোয়াড পাওয়া না গেলে নিজেদের স্কোয়াড দিয়ে বন্দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতার কারণে কখনো কখনো হাসপাতালে নেওয়ার পথেই বন্দির মৃত্যু ঘটে।
বন্দির মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হয়। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষা করে তা নথিবদ্ধ করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগার দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন।
কারাগারে বন্দির সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে আইজি প্রিজন বলেন, আগে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি নিয়ে কারাগার পরিচালিত হলেও বর্তমানে প্রায় ৯৮ হাজার বন্দি আছেন। প্রতিদিনই বন্দিদের আসা-যাওয়া চলছে। গত সোমবার ২ হাজার ৭৯৬ জন বন্দি কারাগারে এসেছেন এবং ৩ হাজার ৪৯ জন বের হয়েছেন।
গত ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২৬ হাজারের বেশি আসামি দণ্ডিত হয়ে কারাগারে এসেছেন। এক দিন থেকে শুরু করে পাঁচ দিন, সাত দিন, এক মাস বা তিন মাসের মতো অল্প মেয়াদের সাজা পাওয়া এসব বন্দি কারাগারের সংখ্যা বাড়ানোর অন্যতম কারণ উল্লেখ করে আইজি প্রিজন বলেন, বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে।
আইজি প্রিজন বলেন, বন্দির সংখ্যা বাড়লেও বর্তমানে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার কোনো সমস্যা নেই। তবে ভবিষ্যতে বন্দির সংখ্যা আরও বাড়লে খাবারের খাতে সরকারের রাজস্ব বাজেট বাড়াতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আইজি প্রিজন আরও জানিয়েছেন, নতুন কারাগারগুলোতে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে কিছু পুরোনো কারাগারে এসটিপি থাকার পরও সেগুলো সচল নেই। স্থানীয় একটি কোম্পানি ও একটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এসব এসটিপি পুনরায় চালুর কাজ চলছে।
পুরোনো কারাগারগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুরোনো অনেক কারাগার আশপাশের এলাকার তুলনায় নিচু হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব কারাগার সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
জামিনে মুক্তির ক্ষেত্রে ‘জামিন–বাণিজ্য’ বা মুক্তি–বাণিজ্যের পুরোনো অভিযোগের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন।
তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বসে বিষয়টি কীভাবে আরও নিয়মতান্ত্রিক করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বেল বন্ড যাচাইসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কিছু প্রক্রিয়া থাকায় সময় লাগে। তবে অযাচিতভাবে কাউকে আটকে রাখা যাতে না হয়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এ ধরনের অভিযোগ ধীরে ধীরে কমে এসেছে।
বিনা আইনজীবীতে থাকা অসহায় বন্দীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে প্যারালিগ্যাল কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারি পিপি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে দেওয়া হয়। আইনজীবী নেই, এমন বন্দিদের সরকারি ব্যবস্থায় লিগ্যাল এইড সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে সাজা শেষ করে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন ১৭০ জন। তাদের নিজ নিজ দূতাবাস, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিদেশি বন্দিদের মৃত্যুর পর মরদেহ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও তথ্য দেন আইজি প্রিজন। তিনি জানান, গত দুই বছরে প্রায় ১৭টি এমন মরদেহের ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বা দুটি মরদেহ ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে তিনটি মরদেহ বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। মরদেহগুলোর পরিচয় ও ডিএনএ সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াই লাখ বন্দিকে ৩৯টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের অনেকে সেলাই মেশিন, কম্পিউটার সরঞ্জাম, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়েছেন, যাতে বাইরে কাজ করতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে দুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লাইন রয়েছে। সেখান থেকে কারাগারের নিজস্ব পোশাকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা হচ্ছে। বাইরের বিভিন্ন অর্ডারও বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে।
অপরাধীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের প্রসঙ্গে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে সাবান তৈরির স্বয়ংক্রিয় কারখানা করা হয়েছে এবং স্বয়ংক্রিয় ওয়াটার বটলিং কারখানা করার পরিকল্পনা আছে। ভবিষ্যতে কারেকশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক করা গেলে বন্দিদের দক্ষতাকে আরও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
সরকার বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ স্কুলশিক্ষার্থীর পোশাক দেওয়ার পরিকল্পনা করছে উল্লেখ করে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারের গার্মেন্টস লাইনে এসব পোশাক তৈরি করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে।
গত দুই বছরে কারা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে ৩০০টির বেশি নীতিপত্র তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য, পোশাক, বন্দি ব্যবস্থাপনা, টেলিফোন কল ও সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে এসব নীতিপত্রে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। সবকিছু ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে গেছে, তা নয়। তবে গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলো অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ জেল আর পিছিয়ে যাবে না; বরং সামনে এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ বাসসেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত জরুরি। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এসব বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০টি ইভি বাসের মধ্যে ১০০টি বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য রাখা হবে। এর ফলে নারী যাত্রীদের জন্য বাসসেবার পরিধি বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য ১৪টি বাস ১৩টি রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলবে। একটি বাস একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের শুধু বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ দিতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা ১ হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, সড়ক সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা প্রমুখ।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ দাবি করে নতুন বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোর সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।
বৈঠকে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোহিঙ্গা বিষয়ক বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সর্বশেষ বিবৃতিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে ভুল পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারাই নয়- এরপর ক্যাম্পে জন্ম নেয়া শিশু এবং রাখাইনে নতুন করে নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদেরও যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
বৈঠকে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। তারা নিজস্ব জাতিগত পরিচয়সম্পন্ন একটি জনগোষ্ঠী, যা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত স্বীকার করে এসেছে।
বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ নিজ সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মো। তিনি বলেন, যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রাখাইনে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করব।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে মির্জা ফখরুলের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকব।
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। এসময় তিনি প্রত্যেকের খোঁজ-খবর নেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহ-সভাপতি স্টার টিভির মাহবুব আলম রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালবেলার শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক বাসসের জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ৭১ টেলিভিশনের আব্দুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক জিটিভির সাজ্জাদ হোসেন ও নারীবিষয়ক সম্পাদক নিউজ টোয়েন্টি ফোর’র মোছা. শিউলী বেগম নাহিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ৭১ টেলিভিশনের নূর তাজমিন নীর, স্টার টিভির ফরহাদ বিন নূর, কালের কণ্ঠের মো. নবাব শরীয়তুল্লাহ (সৌম্য সরকার), সাম্প্রতিক দেশকালের নাসরিন আখতার, যুগান্তরের ইমরান খান, চ্যানেল আইয়ের তাফহিমুল ইসলাম ও নিউজ এজেন্সি এবিপির বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান, প্রথম আলোর তুহিন সাইফুল্লাহ ও বাসসের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগ।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারি চাকরি শুধু একটি পেশা নয়; এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একজন কর্মকর্তা তার কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগের আয়োজনে সম্প্রতি পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, একটি মন্ত্রণালয়ের সফলতা শুধু মন্ত্রী, সচিব বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একার ওপর নির্ভর করে না; প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেই একটি মন্ত্রণালয় সফলভাবে পরিচালিত হতে পারে।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মচারী যিনি মন্ত্রীর জন্য চা পরিবেশন করেন বা তার দরজা খুলে দেন, তিনিও নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে তার অবদান থাকে। তাই প্রত্যেকের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কর্মকর্তাদের জন্য যেমন আনন্দ ও গৌরবের বিষয়, তেমনি এর সঙ্গে দায়িত্বও বেড়ে যায়। নতুন পদে কর্মকর্তাদের আরও বেশি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কর্মনিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি তাদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসসহ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সার্ক’ (SAARC)-কে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ ও ভুটান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভুটানের পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দিক, বিশেষ করে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
বৈঠক চলাকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই সর্বপ্রথম দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক প্রতিষ্ঠার যুগান্তকারী ধারণাটি উত্থাপন করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর সংহতি গড়ে তুলতে এবং এই অঞ্চলের আপামর জনগণের জন্য সম্মিলিত সুফল নিশ্চিত করতে এই জোটকে পুনরায় সক্রিয় করার ওপর উভয় পক্ষই জোরালো মত প্রকাশ করে।
আঞ্চলিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখাও উঠে আসে এই বৈঠকে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভুটানের নিজস্ব উদ্যোগ ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি)-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে ভুটানের জন্য নির্ধারিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)-এর দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই দুটি বিশেষ অঞ্চল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে তা দুই দেশের অর্থনীতিতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক অর্থবহ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক এই উদ্যোগগুলো সফল হলে তা উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে কানেকটিভিটি বা যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফসিও)-এ অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যেই ভুটানের পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন।
চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা এই বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় আর্থিক খাতকে নতুন করে শক্তিশালী করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে কেবল ১৭ আগস্ট এক দিনেই দেশে ১ হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের ঠিক একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে, অর্থাৎ প্রায় ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেবল আগস্ট মাসেই নয়, চলতি অর্থবছরের সার্বিক হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। অথচ গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ২০ লাখ ডলার।
হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে মজবুত করার পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিগত পাঁচ মাসে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে আড়াইশোর বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এই নিয়মিত শুদ্ধি অভিযান শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে আড়াইশোর বেশি অবৈধ ক্লিনিক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তাদেরও তা নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, স্বাস্থ্য বিভাগের এই কড়া অবস্থানের পর ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর বাইরে নতুন করে আরও ২ থেকে ৩ হাজার লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে, যা যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে মোট ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যার সংখ্যা ৪১৫টি। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহে ২৫২টি, চট্টগ্রামে ২৪০টি, খুলনায় ১৫৬টি, রংপুরে ১১১টি, রাজশাহীতে ৫৫টি, বরিশালে ৪৮টি এবং সিলেটে সবচেয়ে কম ৮টি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছিল।
গত কয়েক মাসের অভিযানে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দলের সরাসরি পরিদর্শনে গুরুতর অনিয়ম পাওয়ায় প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুরে পাঁচটি, টাঙ্গাইলে ছয়টি, শরীয়তপুর, নরসিংদী, পাবনা ও মানিকগঞ্জে দুটি করে এবং ঝিনাইদহ ও রাজশাহীতে একটি করে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ দেশজুড়ে সর্বমোট দুই শতাধিক অবৈধ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।