বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
৫ চৈত্র ১৪৩২

মৌসুমের রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত জীবন

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি
তীব্র গরমে মাঠে ধান কাটার সময় একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। গতকাল চুয়াডাঙ্গার একটি খেত থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২১ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০২

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। গরমের তীব্রতায় বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গলে গেছে রাস্তার পিচ। ক্লান্ত নাজেহাল অবস্থায় ঘরে-বাইরে বিপর্যস্ত মানুষ। প্রতিটি জেলায় গতকাল রেকর্ড হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রোদের তাপ এত বেশি যে, রাস্তা থেকে উঠছে গরম ভাঁপ। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনিতেই ঘামছে শরীর। এই আবহাওয়ায় সাধারণ কাজকর্ম করতেও কষ্ট, সেখানে শ্রমজীবী মানুষ পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় কষ্ট। রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের চিত্র একই।

এ অবস্থায় গতকাল রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেড়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে যশোর-চুয়াডাঙ্গা-বাগেরহাটে এই তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি। গতকাল যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৩ ডিগ্রি ও বাগেরহাটে ছিল ৪১ ডিগ্রির বেশি। পাবনা, কুষ্টিয়াসহ মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গে প্রায় একই রকম তাপমাত্রা বিরাজ করে গতকাল। তবে কোনো সুখবর দেয়নি আবহাওয়া অফিস। বরং গত শুক্রবার তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এমন তাপমাত্রা আজ ও আগামীকালও বহাল থাকবে।

অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাবনা জেলায় চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এমন তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজন মারা গেছেন।

এদিকে, ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে আজ ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও তীব্র গরমের কারণে আরও পাঁচ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ঘোষণা থাকলেও পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্কুল-কলেজ খুলবে আগামী ২৮ এপ্রিল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে এ ছুটি আরও বাড়তে পারে। এ ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাউশির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীতে ৪০ ডিগ্রির বেশি এবং যশোর-চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠে যাওয়ায় সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকেই স্কুল-কলেজে ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সকালে প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেসময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান দাবদাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয়সমূহ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।

মাউশির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি বা উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ পরিবর্তিত হতে পারে।

তীব্র তাপদাহের কারণে একইদিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহের কারণে পরবর্তী তারিখ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকবে।

তবে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। অবশ্য ঘোষণা না দিলেও একটি গণমাধ্যমকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক জানিয়েছেন, মাউশির অধীন স্কুল ও কলেজগুলোর মতো তাদের অধীন মাদ্রাসাগুলোও ছুটি থাকবে। অর্থাৎ মাদ্রাসাগুলোও খুলবে ২৮ এপ্রিল।

এদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, তারাও মাউশির অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আজ এ ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে দাবদাহের কারণে তিন দিন হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস। গত শুক্রবার এটি জারি করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার থেকে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এ সময় সবাইকে গরম থেকে বাঁচতে সতর্কতার সঙ্গে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজ রোববারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

তীব্র এ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শিশু, বয়স্করা। এই সময়ে পানি বেশি খাওয়াসহ তরল খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কোনো অবস্থাতেই তেল ও মসলা জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। এমনকি গরমে বাইরে থেকে বাসায় গিয়েই ঠাণ্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। একইসঙ্গে রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় বিক্রি করা ঠাণ্ডা শরবত না খাওয়ার কথাও জানান। কেননা এসব শরবত খেলে ডায়রিয়া-টাইফয়েডসহ নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের এলাকা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।

যশোর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। প্রচণ্ড গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা মালামাল লোড-আনলোড করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ শিশু ঠাণ্ডা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে শনিবার বিকাল ৩টায়। জেলায় অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহে গতকাল সকাল থেকেই রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরম। তীব্র রোদের তাপে মানুষ বাইরে যেতে পারছেন না। সকাল ৯টার পর থেকে রোদের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

পাবনায় হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলার ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিট স্ট্রোকে সুকুমার দাস নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিট স্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনা শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।

রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে বাগেরহাট

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া হিটওয়েভের মধ্যে শনিবার বিকাল ৩টায় মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ। হিটওয়েভের কারণে সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে একাকার হয়ে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। সড়ক মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও অনেক কমে গেছে। অতি-প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরবাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, জ্বর-কাশি নিয়ে একমাত্র জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালের ৩২ বেডের শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছেন ১১২ জন। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৭১জন। তীব্র দাবদাহে বাগেরহাটের জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

পিরোজপুর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখা গেছে। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন।

বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৫ জন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯, মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৬, মহিলা ওয়ার্ডে ৫৩, শিশু ওয়ার্ডে ২৯, গাইনি ওয়ার্ডে ৬ ও স্ক্যানু ওয়ার্ডে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে

আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী আরও কয়েক দিন একই রকম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও রাঙামাটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।


রাজধানীতে ঈদ জামাতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় প্রস্তুত ডিএমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

মো. সরওয়ার বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল সাতটায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার অন্যান্য সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ঈদে নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কা নেই, তারপরেও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। যদি কিছু হয় আমাদেরকে জানাবে। সেই অনুযায়ী আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য।

জাতীয় ঈদগাহে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।

তিনি বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারী বা মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে। আমাদের ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরা এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।


মুন্সিগঞ্জের ১৫ ‘জুলাইযোদ্ধা―র গেজেট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুন্সিগঞ্জের ১৫ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছে সরকার। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’–এর সিডিউল-১ অনুযায়ী এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’―এর ১১ (৪) ধারা অনুসারে দেওয়া ক্ষমতাবলে এসব গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহত ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’―র মর্যাদা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

বাতিল হওয়া তালিকায় শ্রেণি ‘ক’ (অতি গুরুতর) থেকে ১ জন, শ্রেণি ‘খ’ (গুরুতর আহত) থেকে ১ জন এবং শ্রেণি ‘গ’ (আহত) থেকে ১৩ জন রয়েছেন।

শ্রেণি ‘ক’–তে সাদ্দাম হোসেন মৃধা এবং শ্রেণি ‘খ’–তে মো. রাব্বি হোসেনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া 'গ'-শ্রেণির বাতিল করা ‘জুলাইযোদ্ধা’দের মধ্যে রয়েছেন মো. মহসীন, মো. সোহেল, মো. আসিফ, মোসা. মানছুরা, মো. শাকিল বেপারী, রোমেল, মো. বাদল বেপারী, রমজান হোসেন, এহসানুল হক সোহাগ, রুনা আক্তার ছোঁয়া, আল আমিন, মো. মামুন হোসেন এবং রনক বেপারী।


ঈদ উপলক্ষে তারেক রহমানকে মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা

আপডেটেড ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে এই আনন্দময় উৎসবের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

শুভেচ্ছা বার্তায় মোদী উল্লেখ করেন, বিগত এক মাস ধরে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাস পালন করেছেন এবং রোজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে পুণ্যময় সময় অতিবাহিত করেছেন।

নরেন্দ্র মোদী তার বার্তায় আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের এই উদযাপন আমাদের সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব ও একতার মতো চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বিশ্বজুড়ে মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য এবং সুখের জন্য প্রার্থনা করেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার সর্বোচ্চ সম্মানের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।


যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন সঠিক নয়: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, সেই কারণে আমাদের কিছু ট্রেনের সময় বিপর্যয় ঘটেছে। সবগুলো না, দুটি ট্রেন। একতা এবং নীলসাগর। এতে পরিবেশ কিছুটা নষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে তিনি এ কথা বলেন। হাবিবুর রশীদ হাবিব বলেন, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের দুই লোকোমাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আপাতত আমাদের ট্রেন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। রেলের মাঠ পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। সবাই মাঠের সক্রিয় আছেন।

তিনি বলেন, দুইটা ট্রেনের সময় বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীসেবা কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আমি সেটা পরিদর্শন করতে এখানে এসেছি। আমি আসার এক ঘণ্টা আগেও আপনার নিশ্চয় জানতেন না আমি এখানে আসব।

এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেওয়া হবে।

তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভাড়া-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দুটি ট্রেন ছাড়া বাকি ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঈদের পর পুরো ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং সিটি সার্ভিসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসেই সরকারি চার্ট অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।


জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিও বরাবরের মতো এখানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ফলে এবার একসঙ্গে দুই ভিভিআইপিকে নামাজ আদায় করতে দেখা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় ঈদগাহে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, জাতীয় এই ময়দানে নারীসহ প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জামাত শেষে সাধারণ মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি ঈদগাহ ময়দান নামাজ আদায়ের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমসহ প্রধান জামাতগুলোতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষা ভবন এলাকাকে এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ঈদগাহের আশপাশের রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ ও পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সিটিটিসি, ডগ স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ওয়াচ টাওয়ার, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নারীদের জন্য ঈদগাহে প্রবেশের পৃথক গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও জামাতগুলোতেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন।

নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জামাতে আসার সময় মুসল্লিরা কেবল জায়নামাজ, মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছাতা বহন করতে পারবেন। তবে দেশলাই, লাইটার বা যেকোনো ধরনের দাহ্য বস্তু সঙ্গে রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার সার্বিক সুরক্ষায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ লাইনের বিশেষ পাহারা থাকবে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবারের ঈদ উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।


নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: ২২ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার সান্তাহার বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনা গামী যাত্রীবাহী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসো চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম জানান, গতকাল দুর্ঘটনা হওয়ার পর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সারারাত ব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বগি গুলোকে লাইন থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং রেললাইন মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এই অবস্থাতে ট্রেন চালাতে পারবো। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে যাত্রীসহ প্রথমে যাবে। লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক। এই স্থানটিতে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করবে। সেই সাথে আমাদের নির্মাণ কাজ চলমান থাকবে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার দুপুর ২টায় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাগবাড়ী নামক এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘটনার পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।


ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট, ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপে গভীর রাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে ঈদে বাড়ি ফেরা হাজার হাজার মানুষের। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ধীরগতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীরা জানান, ভোররাত থেকেই মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গোড়াই, মির্জাপুর বাইপাস, পাকুল্যা, করটিয়া, টাঙ্গাইল বাইপাস ও এলেঙ্গা এলাকায় গাড়ি প্রায় থেমে আছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

বগুড়াগামী যাত্রীরা গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাসে উঠলেও সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মির্জাপুর বাইপাসেই আটকে আছেন। সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রা পার হতেই তাদের ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার রাস্তায় চলমান উন্নয়ন কাজ ও খানাখন্দের কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় বাসে বসে থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও মেডিকেল টিম কাজ করছে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যানজট নিরসনে সেতুর উভয় প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেনসহ ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে।

এদিকে মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত যান দ্রুত সরাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকার।


নীলসাগরের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, উদ্ধারে আরও সময় লাগবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা থেকে ছেড়ে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে সান্তাহার জংশন স্টেশনের মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন পৌঁছানোর পর থেকে উদ্ধারকাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দুপুরের পরপরই লাইন সচল করা সম্ভব হবে।

রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবুজার গাফফার জানান, নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১০০ জনের বেশি আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে জানিয়েছে, ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ব্যবহার করে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হবে। খুলনা-নীলফামারী রুটে সীমান্ত ও রূপসা এক্সপ্রেস দিয়ে একই ব্যবস্থা চালু থাকবে। এছাড়া পার্বতীপুর, রাজশাহী ও চিলাহাটি রুটেও কয়েকটি ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বগুড়া হয়ে চলবে এবং বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের কয়েকটি ট্রিপ আংশিক পরিবর্তন ও কিছু যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।


বগুড়ায় দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ার শেরপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে দেড় বছরের এক শিশু কন্যা, যাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাস বগুড়ার শেরপুর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটির বাবা-মাসহ আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করে শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভারও প্রধানমন্ত্রী নিজে বহন করবেন।

গুরুতর আহত দেড় বছরের শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বগুড়ার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ রংপুরের কাউনিয়ায় নেওয়া হয়েছে। সেখানেই তাদের দাফন সম্পন্ন হবে। নিহতরা পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একই গাড়িতে করে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে শেরপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।


সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষ: দুই নৌযানের রুট পারমিট বাতিল, তদন্তে দুই কমিটি

আপডেটেড ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১১:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নৌযান দুটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে দায় নির্ধারণের ভিত্তিতে ‘এমভি আশা-যাওয়া-৫’ ও ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের রুট পারমিট ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথে এমন অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

হতাহতদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান রাতে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা পুনরায় জোরদার করা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে সদরঘাটে যাত্রী ওঠানোর সময় দুটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে মো. সোহেল নামে এক যুবক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ঈদ ও পোশাক কারখানার ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।


ঈদ ঘিরে বাংলাদেশ ভ্রমণে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে এবং সেবামূলক কার্যক্রম সীমিত হতে পারে। এই সময়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত জনসমাগম এবং তীব্র যানজটের কারণে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি সাশ্রয় ও মজুত সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি ক্রয়ের ওপর সীমা নির্ধারণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও সাধারণ পরিষেবা গ্রহণে ভ্রমণকারীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাগরিকদের দ্রুত পাসপোর্ট নবায়নের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


পাটুরিয়া নৌপথ পরিদর্শনে নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে এবারের ঈদযাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি এবং যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক গতিতে চলছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এই নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের আন্তরিকতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ ছেড়ে না যায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। নৌপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য আরামদায়ক হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সদরঘাটে লঞ্চের চাপায় দুইজন নিহত, নিখোঁজ ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সদরঘাটে ট্রলার দিয়ে লঞ্চে ওঠার সময় দুই লঞ্চের মাঝখানে চাপা পড়ে দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানায়, একটি লঞ্চে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী তোলার সময় এমভি জাকের-৩ নামক একটি লঞ্চ পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে। বর্তমানে সদরঘাট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


banner close