শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মৌসুমের রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত জীবন

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি
তীব্র গরমে মাঠে ধান কাটার সময় একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। গতকাল চুয়াডাঙ্গার একটি খেত থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২১ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০২

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। গরমের তীব্রতায় বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গলে গেছে রাস্তার পিচ। ক্লান্ত নাজেহাল অবস্থায় ঘরে-বাইরে বিপর্যস্ত মানুষ। প্রতিটি জেলায় গতকাল রেকর্ড হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রোদের তাপ এত বেশি যে, রাস্তা থেকে উঠছে গরম ভাঁপ। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনিতেই ঘামছে শরীর। এই আবহাওয়ায় সাধারণ কাজকর্ম করতেও কষ্ট, সেখানে শ্রমজীবী মানুষ পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় কষ্ট। রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের চিত্র একই।

এ অবস্থায় গতকাল রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেড়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে যশোর-চুয়াডাঙ্গা-বাগেরহাটে এই তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি। গতকাল যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৩ ডিগ্রি ও বাগেরহাটে ছিল ৪১ ডিগ্রির বেশি। পাবনা, কুষ্টিয়াসহ মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গে প্রায় একই রকম তাপমাত্রা বিরাজ করে গতকাল। তবে কোনো সুখবর দেয়নি আবহাওয়া অফিস। বরং গত শুক্রবার তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এমন তাপমাত্রা আজ ও আগামীকালও বহাল থাকবে।

অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাবনা জেলায় চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এমন তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজন মারা গেছেন।

এদিকে, ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে আজ ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও তীব্র গরমের কারণে আরও পাঁচ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ঘোষণা থাকলেও পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্কুল-কলেজ খুলবে আগামী ২৮ এপ্রিল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে এ ছুটি আরও বাড়তে পারে। এ ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাউশির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীতে ৪০ ডিগ্রির বেশি এবং যশোর-চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠে যাওয়ায় সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকেই স্কুল-কলেজে ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সকালে প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেসময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান দাবদাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয়সমূহ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।

মাউশির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি বা উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ পরিবর্তিত হতে পারে।

তীব্র তাপদাহের কারণে একইদিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহের কারণে পরবর্তী তারিখ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকবে।

তবে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। অবশ্য ঘোষণা না দিলেও একটি গণমাধ্যমকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক জানিয়েছেন, মাউশির অধীন স্কুল ও কলেজগুলোর মতো তাদের অধীন মাদ্রাসাগুলোও ছুটি থাকবে। অর্থাৎ মাদ্রাসাগুলোও খুলবে ২৮ এপ্রিল।

এদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, তারাও মাউশির অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আজ এ ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে দাবদাহের কারণে তিন দিন হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস। গত শুক্রবার এটি জারি করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার থেকে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এ সময় সবাইকে গরম থেকে বাঁচতে সতর্কতার সঙ্গে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজ রোববারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

তীব্র এ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শিশু, বয়স্করা। এই সময়ে পানি বেশি খাওয়াসহ তরল খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কোনো অবস্থাতেই তেল ও মসলা জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। এমনকি গরমে বাইরে থেকে বাসায় গিয়েই ঠাণ্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। একইসঙ্গে রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় বিক্রি করা ঠাণ্ডা শরবত না খাওয়ার কথাও জানান। কেননা এসব শরবত খেলে ডায়রিয়া-টাইফয়েডসহ নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের এলাকা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।

যশোর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। প্রচণ্ড গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা মালামাল লোড-আনলোড করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ শিশু ঠাণ্ডা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে শনিবার বিকাল ৩টায়। জেলায় অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহে গতকাল সকাল থেকেই রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরম। তীব্র রোদের তাপে মানুষ বাইরে যেতে পারছেন না। সকাল ৯টার পর থেকে রোদের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

পাবনায় হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলার ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিট স্ট্রোকে সুকুমার দাস নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিট স্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনা শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।

রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে বাগেরহাট

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া হিটওয়েভের মধ্যে শনিবার বিকাল ৩টায় মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ। হিটওয়েভের কারণে সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে একাকার হয়ে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। সড়ক মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও অনেক কমে গেছে। অতি-প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরবাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, জ্বর-কাশি নিয়ে একমাত্র জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালের ৩২ বেডের শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছেন ১১২ জন। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৭১জন। তীব্র দাবদাহে বাগেরহাটের জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

পিরোজপুর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখা গেছে। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন।

বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৫ জন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯, মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৬, মহিলা ওয়ার্ডে ৫৩, শিশু ওয়ার্ডে ২৯, গাইনি ওয়ার্ডে ৬ ও স্ক্যানু ওয়ার্ডে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে

আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী আরও কয়েক দিন একই রকম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও রাঙামাটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।


নির্বাচিত

সেপ্টেম্বরে ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার: এইচআরএসএস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার, যাঁদের ৪৭ জনই শিশু ও কিশোরী। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরএসএস জানায়, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ১৩ নারী ও কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ২৫ শিশুসহ ৪৯ নারী ও কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর পাঁচ নারী ও কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে তিনজন শিশু ও কিশোরী। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার এক নারী আত্মহত্যা করেছেন।

যৌতুকের কারণে ছয় নারী ও কিশোরীর মৃত্যু এবং চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ৪৩ নারীর মৃত্যু, ২৭ জন আহত এবং ২৬ জন আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহত ও ৫২৭ জনের বেশি নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুজন, বিএনপির একজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী রয়েছেন।

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আগস্টে ৭০টি ঘটনায় সাতজন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন।

সেপ্টেম্বরে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার ৩৫টি ঘটনা ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩৪০ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষে ৪২ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন। জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হন। এ ছাড়া বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৫টি ঘটনায় নয়জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, তর্ক-বিতর্ক, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাসটিতে ২০টি ঘটনায় ৩৫ সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন আহত, ১২ জন হামলার শিকার এবং তিনজন হুমকির মুখে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইনে একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চারটি মামলায় তিন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ছয়টি সভা ও সমাবেশে বাধা দিয়েছে। এতে ৪৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ১২টি ঘটনায় অন্তত ১৪ জনকে আটক এবং ১২টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাসটিতে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২১ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১০ জন বিচারাধীন ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং নির্যাতনের অভিযোগ থাকা ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য দুজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছেন।

এইচআরএসএস জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হামলার তিনটি ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ১০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার তথ্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে সারা দেশে ২৭১ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯৩ জন শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সাত শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সেপ্টেম্বরে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি, কারাগারে মৃত্যু, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় বিয়ের আগে অনলাইনে মিলবে আগের বিয়ের তথ্য: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ ও তালাকের তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বিয়ের আগে একজন ব্যক্তির আগের বৈবাহিক তথ্য অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন ও বিচারমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের (কাজী) জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এ জন্য তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনলাইনে বিয়ে ও তালাকের তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকলে একজন ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কি না, একাধিক বিয়ে থাকলে তার সংখ্যা এবং নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে।

মন্ত্রী বলেন, অনলাইন নিবন্ধন চালু হলে আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে করা, গোপনে বিয়ে এবং পরে বৈবাহিক সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বিয়ে-সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগে এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈবাহিক তথ্য অনলাইনে যাচাইয়ের সুযোগ থাকলে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর আগের বিয়ের তথ্য জানাও সহজ হবে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্যের ভিত্তিতে বৈবাহিক সম্পর্ক যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে উত্তরাধিকার ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ এবং মামলা-মোকদ্দমার প্রবণতা কমতে পারে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন মো. আসাদুজ্জামান। ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সিন্ডিকেট ভাঙতে শিগগিরই লটারির মাধ্যমে পদায়ন প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানান তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও এস এম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শামীমা আফরোজ এবং প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

পাঠ্যবই ছাপায় অনিয়ম করলে পরের বছর কাজ মিলবে না: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাপাখানার যেসব মালিক পাঠ্যবই ছাপার কাজে প্রতারণার আশ্রয় নেবেন, আগামী বছর থেকে তাদের আর পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো ছাপাখানা একবার প্রতারণার আশ্রয় নিলে পরবর্তী সময়ে তাকে আর পাঠ্যবই ছাপার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই ছাপাখানা মালিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, কোনো ছাপাখানা যদি একবার প্রতারণা করে, তাহলে আগামী দিনে তাকে আর বই ছাপাতে দেব না।’ তিনি বলেন, একবার প্রতারণা করলে পরেরবার ওই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হবে।

এর আগে বিভিন্ন বছর ভারত থেকে পাঠ্যবই ছাপিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার দেশের ছাপাখানাগুলো বই ছাপার কাজে সহযোগিতা করছে। এ বছরের ছাপার মানও কিছুটা ভিন্ন। ছাপাখানা মালিকদের সবাই সহযোগিতা করলে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়মতো পাঠ্যবই ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হয়েছিল। এবারও পাঠ্যবইয়ের মান ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবার সহযোগিতা পাওয়া গেলে সময়মতো পাঠ্যবই পাওয়া যাবে এবং তা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

নিজ বাসভবনের সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে ১২শ ইউনিট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১ হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার এবং ১ হাজার ২০০ ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, গত তিন দিনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের এ ব্যবহার ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। সরকারের বিভিন্ন জাতীয় ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম হিসেবেও দেখার কথা বলেন তিনি।

দুর্গাপূজা সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা যাতে না হয়, সে বিষয়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া যাবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইউএনওদের সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

ইউএনওদের জন্য ঐচ্ছিক তহবিলের প্রস্তাব

মীর শাহে আলম বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষ তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য ইউএনওদের কাছে আসেন। তাই প্রত্যেক ইউএনওর জন্য একটি ঐচ্ছিক তহবিল থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অর্থের জোগান দিতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে যাওয়ার কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কাজ তারা সরাসরি তদারকি করছেন।

প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের মতো ইউএনওদেরও বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। এতে উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সমস্যা ও দাবিদাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন।

এ সময় বিএনপি সরকার জনগণের সরকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, অতীতে সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। বর্তমান সরকার কর্মকর্তাদের এমন কোনো নির্দেশ দেবে না, যাতে দিনের ভোট রাতে করা বা ডামি নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মিরপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরের কমিটি বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দায় সরকার নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।


নির্বাচিত

মিড-ডে মিলের জন্য চালু হচ্ছে ‘কুপন’ ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে নতুন পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য কুপন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুকে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন দেওয়া হবে। ওই কুপন দিয়ে স্থানীয়ভাবে তালিকাভুক্ত খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত দোকান বা ব্যবসায়ীর কাছে তার পছন্দ অনুযায়ী খাবার না পেলে সেখান থেকে খাবার কিনবে না। সে ক্ষেত্রে কুপনের অর্থ শিক্ষার্থীর কাছেই থাকবে।

তিনি জানান, কুপন ব্যবস্থার পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বইয়ের মান নিশ্চিত করতে পাঁচ স্তরে যাচাই করা হচ্ছে। কাগজের মানসহ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলে বই বাতিল করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত নিম্নমানের প্রায় ৩০ লাখ বই কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে। এরপরও কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বই সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরও মান নিয়ে কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রিন্টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য: অর্থ উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির গতি টেকসই করতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে প্রশাসনের আয়োজনে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতিকে নতুন ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে শুধু প্রবৃদ্ধির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় সাধন জরুরি। নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের ম্যান্ডেটকে ভিত্তি করে পাঁচ বছর মেয়াদি এই কৌশলগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার ‘রিকভার, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেটর’—এই ৩আর কৌশল অবলম্বন করছে বলেও জানান তিনি।

কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব

একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে কর্মসংস্থানকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক তিতুমীর। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে না রেখে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ ড. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আতিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে দেশের প্রায় ২৭টি বিশিষ্ট শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আনোয়ার গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, গ্রামীণফোন, বিকাশ, বিআরবি কুষ্টিয়া, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ব্র্যাক, রাজবাড়ী জুট মিলস লিমিটেড, বেনকিউ ইন্ডাস্ট্রি, টেকনোডেরা ইন্ডাস্ট্রি, নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ম্যাটাডর ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড ও এনসিঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।


নির্বাচিত

ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা.জুবাইদা রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে এ নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নৈশভোজের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে আজ শনিবার ছবিটি প্রকাশ করা হয়।


নির্বাচিত

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান সড়কপথে সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ বহরটি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়ামের চালানটি প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে।

এর আগে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি শুক্রবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে শনিবার সকালে বিমানবন্দর থেকে তিনটি বিশেষায়িত লরির একটি বহর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে পাবনার রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ এবং সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো পথজুড়ে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পরিবহন সূচি অনুযায়ী ইউরেনিয়ামের এই চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের কূটনৈতিক অনুমতি সময়মতো না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি; ফলে কয়েক দিন বিলম্বে চালানটি দেশে পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল এবং চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি চুল্লিতে সফলভাবে স্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব দ্রুতই প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ২০১৩ সালে এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়, যেখানে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।

সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২শ’ বক্তা, ৩শ’-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন।

সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞগণ অংশ নিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই।'

বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ অগ্রাধিকার পান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং চূড়ান্তভাবে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন।'

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করারও মাধ্যম হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।'

তিনি আরো বলেন, 'শিশুদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।'

শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতিকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’

দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা, উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।'

তিনি বলেন, 'সরকার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।'

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।’

‘একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।’

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ১শ’টি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।’

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।’

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।’

এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।’

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে।'

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হলে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, 'বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। নতুন বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।'

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ তার সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে।কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।’

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন , ‘যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

সিজিএস আয়োজিত এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের পাঁচটি মূল আলোচ্য বিষয়-ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও তথ্যক্ষমতা, বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু, সহনশীলতা ও মানব নিরাপত্তা।


নির্বাচিত

প্লাস্টিকের গ্রাসে নদী, খাদ্যেও বিষাক্ত কণার হানা

* বুড়িগঙ্গার ১৫ ফুট গভীরেও মিলছে প্লাস্টিক * দূষিত হচ্ছে মাছ ও জলজ পরিবেশ * আইন আছে, কার্যকর প্রয়োগ নেই
ছবি: বুড়িগঙ্গার পানিতে ও তলদেশে জমছে বছরের পর বছর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একসময় নদী ছিল জীবিকা, যোগাযোগ ও সভ্যতার প্রাণপ্রবাহ। আজ সেই নদীই পরিণত হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্যের ভাগাড়ে। বুড়িগঙ্গার পানিতে ও তলদেশে জমছে বছরের পর বছর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক। দূষিত হচ্ছে মাছ ও জলজ পরিবেশ, খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। নদীতে ফেলা বোতল ও প্যাকেটের দূষণ শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের খাবারের থালায়। ফলে প্লাস্টিক দূষণ এখন শুধু পরিবেশের সংকট নয়, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় উদ্বেগ।

তলদেশে ১৫ ফুট গভীরেও প্লাস্টিক: ১৬১০ সালে মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতির নৌবহর বুড়িগঙ্গার চাঁদনী ঘাটে নোঙর করেছিল। নদীতে ফেলা প্লাস্টিকের বোতল শত শত বছর পরও পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। প্লাস্টিকের দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে আজকের বর্জ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও দূষণের বোঝা হয়ে থাকছে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, বুড়িগঙ্গার মাটির ১৫ ফুট গভীরেও প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি বর্জ্যের লেবেল পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো ১৫ থেকে ১৭ বছর আগে ফেলা হয়েছিল। অথচ সেগুলো দেখতে প্রায় নতুনের মতো।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া তাদের গবেষণা এখনো চলছে। বোতল ও খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট বা পিইটি প্লাস্টিকের ক্ষয় হতে আনুমানিক ৪৫০ বছর লাগতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসব প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎপাদন বাড়ছে, বাড়ছে বর্জ্য: দেশে প্লাস্টিকশিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ছয় হাজারের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে এবং এ খাতে কর্মরত প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। শিল্পটির প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২০ শতাংশ।

এসডোর ২০২২ সালের গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়।

বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর দেশে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হতো। ঢাকায় দৈনিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৪৬ টন, যা ২০০৫ সালের তুলনায় সাড়ে তিন গুণেরও বেশি।

এসডোর গবেষণা বলছে, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। অথচ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় মাত্র ৩৭ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হয়। পুরান ঢাকার ইসলামবাগের মতো এলাকায় অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা প্লাস্টিক বাছাই করে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করেন। তবে এই ব্যবস্থা সব ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারছে না।

নদী থেকে খাবারের থালায় মাইক্রোপ্লাস্টিক: প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব নদীর পানিতে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জলজ প্রাণী ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের শরীরেও পৌঁছাতে পারে।

২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বঙ্গোপসাগরের মাছের তুলনায় বুড়িগঙ্গা থেকে ধরা মাছে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের আরেক গবেষণায় বুড়িগঙ্গার মাছ, কাঁকড়া ও তলানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। একই গবেষণায় ক্রোমিয়াম, সিসা, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ড. শফি মোহাম্মদ তারেকের ভাষ্য, মাছ, লবণ, তেল ও চিনির মতো খাদ্যপণ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে।

মানবস্বাস্থ্যে এসব কণার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় প্রজনন, পরিপাক ও শ্বাসতন্ত্রের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুন্দরবনেও দূষণের ছাপ: প্লাস্টিক দূষণ রাজধানীর নদী ও খালে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় সুন্দরবনের পানিতে প্রতি লিটারে গড়ে ২৩.২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষণায় পিইটি প্লাস্টিককে প্রধান দূষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১ হাজার ৪১৫টি নদ-নদী রয়েছে, যেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার। এসব নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে জলজ পরিবেশ ও পানিপ্রবাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

নগরজীবনেও এর প্রভাব স্পষ্ট। পলিথিন ও খাবারের প্যাকেট নালা-নর্দমা আটকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নর্দমার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরও অনেক নর্দমা আবার বর্জ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা আছে, বাস্তবায়ন নেই: বাংলাদেশে ২০০২ সালে পলিথিনের শপিংব্যাগ নিষিদ্ধ করা হলেও বাজারে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ পলিথিন কারখানার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও পর্যটনকেন্দ্রে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে হাইকোর্ট বুড়িগঙ্গার তীরে ইসলামবাগ, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ১৫ দিনের মধ্যে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশ বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, ২০২৬ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশ পর্যায়ক্রমে বন্ধ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

সমাধান চাই সমন্বিত উদ্যোগ; ইন্টারন্যাশনাল রিভারকিপার বাংলাদেশের প্রতিনিধি শরীফ জামিল সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনার অভাবকে দূষণ মোকাবিলার বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এসডোর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেনের প্রস্তাব, ‘দূষণকারীই ব্যয় বহন করবে’ নীতি কার্যকর করা। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য নদী দূষিত করলে সেই দূষণ পরিষ্কারের দায়ও প্রতিষ্ঠানটিকে নিতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করাও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী পরিষ্কারের পাশাপাশি বর্জ্যের উৎসে নিয়ন্ত্রণ, পুনর্ব্যবহারের অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা এবং আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ জরুরি।

বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা প্লাস্টিক অতীতের দূষণের সাক্ষ্য। আজ যে বোতল বা প্যাকেট নদীতে ফেলা হচ্ছে, তার ক্ষুদ্র কণা বহু বছর পরও পরিবেশে থাকতে পারে। তাই নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষার নয়—মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও প্রশ্ন।


নির্বাচিত

সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ছবি: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আপডেটেড ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দেশের মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটরিয়ামে অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহি নিশ্চিত করে কাজ করার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। সরকার গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত। সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরলে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে মিথ্যা তথ্য বা প্রচারণার মাধ্যমে সমালোচনা না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত ও সম্মানজনক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। সীমিত সম্পদের মধ্যেও কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুধু উন্নয়ন প্রকল্পনির্ভর না করে মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।

বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার, বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক তহবিল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা দরকার। একই সঙ্গে বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ছোট পৌরসভা ও উপজেলায় কম খরচে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর (৫৯) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাষ্ট্রপতি তাঁর শোকবার্তায় বলেন, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল এবং সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জানান যে, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মাহত করার মতো একটি ঘটনা।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


নির্বাচিত

গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান হুইপ নিজানের

ছবি: জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর, টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফসল। এই অর্জন কোনো একক দলের নয়, বরং সরকার, বিরোধী দল ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন করার অধিকার থাকলেও এমন কর্মসূচি এড়িয়ে চলা উচিত যা জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সরকারের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। তবে সরকারের অতিরিক্ত দমনমূলক আচরণও নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কোনো পক্ষই যেন মুখোমুখি অবস্থানে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য নিয়ে হুইপ নিজান বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। তবে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ও জুলাই চার্টার নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

রাজনৈতিক নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী প্রসঙ্গে হুইপ নিজান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনীতিতে সততা, ত্যাগ এবং পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি।

একইসঙ্গে ক্ষমতা বা প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া থেকে রাজনৈতিক কর্মীদের দূরে থাকতে হবে। সংসদকে কার্যকর ও ভালোবাসার মাধ্যমেই দেশে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

banner close