তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সারা দেশ। গরমের তীব্রতায় বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গলে গেছে রাস্তার পিচ। ক্লান্ত নাজেহাল অবস্থায় ঘরে-বাইরে বিপর্যস্ত মানুষ। প্রতিটি জেলায় গতকাল রেকর্ড হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রোদের তাপ এত বেশি যে, রাস্তা থেকে উঠছে গরম ভাঁপ। কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনিতেই ঘামছে শরীর। এই আবহাওয়ায় সাধারণ কাজকর্ম করতেও কষ্ট, সেখানে শ্রমজীবী মানুষ পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় কষ্ট। রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের চিত্র একই।
এ অবস্থায় গতকাল রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেড়ে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে যশোর-চুয়াডাঙ্গা-বাগেরহাটে এই তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি। গতকাল যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৩ ডিগ্রি ও বাগেরহাটে ছিল ৪১ ডিগ্রির বেশি। পাবনা, কুষ্টিয়াসহ মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গে প্রায় একই রকম তাপমাত্রা বিরাজ করে গতকাল। তবে কোনো সুখবর দেয়নি আবহাওয়া অফিস। বরং গত শুক্রবার তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এমন তাপমাত্রা আজ ও আগামীকালও বহাল থাকবে।
অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাবনা জেলায় চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এমন তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিটস্ট্রোকে একজন মারা গেছেন।
এদিকে, ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে আজ ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও তীব্র গরমের কারণে আরও পাঁচ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ঘোষণা থাকলেও পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্কুল-কলেজ খুলবে আগামী ২৮ এপ্রিল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে এ ছুটি আরও বাড়তে পারে। এ ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাউশির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাজধানীতে ৪০ ডিগ্রির বেশি এবং যশোর-চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠে যাওয়ায় সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকেই স্কুল-কলেজে ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সকালে প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেসময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান দাবদাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয়সমূহ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।
মাউশির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি বা উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ পরিবর্তিত হতে পারে।
তীব্র তাপদাহের কারণে একইদিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহের কারণে পরবর্তী তারিখ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকবে।
তবে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। অবশ্য ঘোষণা না দিলেও একটি গণমাধ্যমকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক জানিয়েছেন, মাউশির অধীন স্কুল ও কলেজগুলোর মতো তাদের অধীন মাদ্রাসাগুলোও ছুটি থাকবে। অর্থাৎ মাদ্রাসাগুলোও খুলবে ২৮ এপ্রিল।
এদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, তারাও মাউশির অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আজ এ ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে দাবদাহের কারণে তিন দিন হিট অ্যালার্ট জারি করে আবহাওয়া অফিস। গত শুক্রবার এটি জারি করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার থেকে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এ সময় সবাইকে গরম থেকে বাঁচতে সতর্কতার সঙ্গে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজ রোববারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
তীব্র এ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শিশু, বয়স্করা। এই সময়ে পানি বেশি খাওয়াসহ তরল খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কোনো অবস্থাতেই তেল ও মসলা জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। এমনকি গরমে বাইরে থেকে বাসায় গিয়েই ঠাণ্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। একইসঙ্গে রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় বিক্রি করা ঠাণ্ডা শরবত না খাওয়ার কথাও জানান। কেননা এসব শরবত খেলে ডায়রিয়া-টাইফয়েডসহ নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের এলাকা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।
যশোর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। প্রচণ্ড গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা মালামাল লোড-আনলোড করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ শিশু ঠাণ্ডা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে শনিবার বিকাল ৩টায়। জেলায় অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহে গতকাল সকাল থেকেই রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরম। তীব্র রোদের তাপে মানুষ বাইরে যেতে পারছেন না। সকাল ৯টার পর থেকে রোদের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
পাবনায় হিটস্ট্রোকে একজনের মৃত্যু
পাবনা প্রতিনিধি জানান, জেলার ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই তীব্র দাবদাহে পাবনা শহরে হিট স্ট্রোকে সুকুমার দাস নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে পাবনা শহরের রূপকথা রোডে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হিট স্ট্রোক করেন তিনি। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সুকুমার দাস (৬০) পাবনা শহরের শালগাড়িয়া জাকিরের মোড়ের বাসিন্দা।
রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে বাগেরহাট
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া হিটওয়েভের মধ্যে শনিবার বিকাল ৩টায় মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ। হিটওয়েভের কারণে সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে একাকার হয়ে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। সড়ক মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও অনেক কমে গেছে। অতি-প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরবাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, জ্বর-কাশি নিয়ে একমাত্র জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালের ৩২ বেডের শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছেন ১১২ জন। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৭১জন। তীব্র দাবদাহে বাগেরহাটের জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
পিরোজপুর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখা গেছে। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন।
বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৫ জন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯, মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৬, মহিলা ওয়ার্ডে ৫৩, শিশু ওয়ার্ডে ২৯, গাইনি ওয়ার্ডে ৬ ও স্ক্যানু ওয়ার্ডে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে
আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী আরও কয়েক দিন একই রকম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও রাঙামাটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।
ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) ইশরাত জাহানের দপ্তরে বিকেল ৫টার দিকে ভারতীয় দূতকে উপস্থিত হতে বলা হয়। সেখানে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি-র লাইভ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও কথিত অনুপ্রবেশকারী নিয়ে বিতর্কিত দাবি করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বিশেষ করে ‘পুশব্যাক’ বা অনানুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে দেওয়া সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যকে ঢাকা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অনিবন্ধিত সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা করা কঠিন। তাই তারা রাত নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং যখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনো সদস্য উপস্থিত থাকেন না, তখন অন্ধকারের আড়ালে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে ঠেলে দেন।”
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় দূতকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কোনো প্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ ধরনের স্পর্শকাতর দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে দায়িত্বহীন মন্তব্য করা দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য মোটেই সহায়ক নয়। যেকোনো অমীমাংসিত সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয় বলে ঢাকা জোর দেয়। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে—এমন বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকতে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পরম পবিত্র ও সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। প্রায় আড়াই সহস্রাব্দ আগে এই পুণ্য তিথিতেই জগতের আলোর দিশারি মহামতি গৌতম বুদ্ধ ধরাধামে এসেছিলেন। তাঁর জন্মলগ্নে আবির্ভাব, বোধিজ্ঞান লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ—এই তিন স্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমাই বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা হিসেবে চিরস্মরণীয়।
সাম্য, মৈত্রী ও অহিংসার পথে চলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মহামতি বুদ্ধের দর্শনের মূল ভিত্তি। অহিংসবাদের এই মহান প্রচারকের অমর দর্শন অনুযায়ী— “বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা কিংবা হিংসা দিয়ে হিংসা কখনো প্রশমিত হয় না; বরং অহিংসা দিয়ে হিংসাকে এবং অবৈরিতা দিয়ে বৈরিতাকে প্রশমিত করতে হয়।” এই শাশ্বত দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করে আজ সারা দেশে বৌদ্ধ উপাসকগণ বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান ও ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন।
এই পবিত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, “দল-মত ও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।”
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অভিনন্দন জানিয়ে সরকারপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, “প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো– প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংসা এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।”
উৎসবকে ঘিরে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন। আজ সকালে বিহারে বুদ্ধপূজা ও শীল গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এছাড়া সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা ছয়টায় বুদ্ধপূর্ণিমার মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, দিনটি উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আজ পহেলা মে, বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশে মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উদযাপিত হচ্ছে ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত; আসবে এবার নব প্রভাত’ এই বিশেষ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে।
দিবসটি পালন করতে সরকারিভাবে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনও সমাবেশ, শোভাযাত্রা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এরই অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এক সমাবেশের ডাক দিয়েছে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঐতিহাসিক এই দিবসের প্রেক্ষাপট মূলত ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ঘটনা। সে সময় ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। সেই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের মাধ্যমেই শ্রমিকের অধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী জোরালো দাবি ওঠে এবং পরবর্তীতে শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। শিকাগোর শ্রমিকদের সেই সংগ্রামকে স্মরণ করেই আন্তর্জাতিকভাবে এ দিনটিকে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।
মে দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকল শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, “শ্রমিকের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় এ বছরের মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন।”
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই পথ অনুসরণ করে শ্রম আইন সংস্কার, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর মাধ্যমে শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে নানাবিধ কর্মসূচি ও নীতি বাস্তবায়ন করছে।
মে দিবসের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার।”
তিনি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, “শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।”
মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে দেশ-বিদেশে কর্মরত সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের শ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতির ভিত।’ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি ১৮৮৬ সালের হে মার্কেট আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।’ শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে তার নেওয়া উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।’ বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টিতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে।’ পোশাক খাতের শ্রমিকদের কল্যাণেও নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, নারী-পুরুষ সমান মজুরি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মে দিবসের সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।’
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাতেই মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী—এটি কারও জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার-আমার, আমাদের সকলের।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার-আপনার-আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে ‘আমরা বাংলাদেশি’।’
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিক প্রত্যেকেই যে যার ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়—স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে—এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটে সৌরবিদ্যুৎ হতে পারত সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী বিকল্প। কিন্তু অনেক সম্ভাবনার এই খাতটি নজিরবিহীন দুর্নীতি, জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কারণে গতি হারিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৌরবিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করা হয়েছিল ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০’-এর মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো টেন্ডার বা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই ‘ক্লিন এনার্জি’র দোহাই দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ দেওয়া হয়।
ফলে প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি দরে বিদ্যুৎ কেনার অসম চুক্তি (পাওয়ার পারচেস অ্যাগ্রিমেন্ট-পিপিএ) করতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন বলছে, ‘আওয়ামী আমলে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে গড়ে ৮ কোটি টাকা। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৬ প্রকল্পে গড়ে প্রতি মেগাওয়াটে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ কেবল ৬টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেই প্রায় ২ হাজার ৯২৬ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। অন্যদিকে ৫টি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষিজমিকে অকৃষি দেখিয়ে এবং ভুয়া মৌজা দর ব্যবহার করে প্রকল্পের ব্যয় আকাশচুম্বী করা হয়।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতের এই লুটপাটের নেপথ্যে ছিল উচ্চপদস্থ আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
এ বিষয়ে এক্সিলন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবতাহী ইসলাম শুভ বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিমন্ত্রীর রেফারেন্স না থাকলে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) পাওয়া সম্ভব ছিল না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প শেষ করতে সময় বেঁধে দেওয়া হতো ১৮ মাস, সেখানে এলওআই পেতেই সময় লেগে যেত ২ থেকে ৩ বছর। প্রায় ৩২ ধাপ পার হওয়া এই এলওআই অনুমোদন পাওয়া মানেই; কিন্তু কাজ শুরু করা নয়, বরং এরপর নানা ধাপ পার হয়ে পিপিএ সম্পাদন হলে তবেই কাজ শুরু হয়।’
শুভ আরও বলেন, ‘এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ, পণ্যের দাম, আমদানি খরচ, ব্যাংকের সুদ হার কোনোটিই ৩ বছর আগের মতো থাকে না। এভাবে অনেক দক্ষ প্রতিষ্ঠান প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। কিন্তু মোটা অঙ্কের আন্ডার হ্যান্ড ডিলিংস কিংবা তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর সুদৃষ্টি থাকার কারণে অনেক অদক্ষ প্রতিষ্ঠানও কাজ পেয়েছে নির্বিঘ্নে।’
আওয়ামী আমলের নানা অনিয়মের কথা স্বীকার করেন দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এইচডিএফসি সিন পাওয়ার লিমিটেডের স্থানীয় কর্ণধার গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এসকেএম শফিকুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি সৌরবিদ্যুৎ প্রসারের জন্য মোটেই অনুকূল নয়।’
জ্বালানি বিশ্লেষক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ পাঠান বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সৌরবিদ্যুৎকে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান উৎস বানাচ্ছিল, তখন বিগত আওয়ামী সরকার একে লুটপাটের মাধ্যমে পকেট ভারী করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভারতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম যখন মাত্র ৩ সেন্ট, পাকিস্তানে ০.৩২ সেন্ট ও চীনে ০.৪৫ সেন্ট তখন বাংলাদেশে গড় দাম ছিল ১২ সেন্টের বেশি। অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় চারগুণ বেশি দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কেনে তৎকালীন আওয়ামী সরকার। এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী আমলে কতটা দুর্নীতি হয়েছে। তাদের এই লুটপাট কেবল অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী আমলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালাই ছিল না। অনেকটা বিশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন নীতিমালায় ২০৫০ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। আর সেটাও ছিল অগোছাল। যেমন– নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০২৩-এ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ, ২০৪১ সালে ৩০ শতাংশ, আবার ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যানে (আইইপিএমপি) ২০৩০ সালে ১০ এবং ২০২৫ সালে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার জলবায়ু সমৃদ্ধ পরিকল্পনায় (২০২২) ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ, ২০৪১ সালে ৪০ শতাংশ ও ২০৫০ সালে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য উৎসের গুরুত্ব কতটা। আওয়ামী লীগের আমলে সৌরবিদ্যুৎ খাতকে যদি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হতো, তবে আজ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এতটা ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
এ সংসদ মজলুমদের বলে মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা নিয়েই বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য এখানে এসেছেন। আমরা কেউ মরতে চাই না, সবাই মিলে বাঁচতে চাই— দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই—এই দর্শন নিয়েই বর্তমান সংসদ এগিয়ে যেতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেছেন। এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্য, কার্যকর সংসদ এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সব দলের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘বাংলাদেশ বারবার সংকট, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। দুর্ভিক্ষ, গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরশাসনের সময় অতিক্রম করে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে।’
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে মানুষের স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র, বৈষম্যহীন সমাজ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়া।’
শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেই স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ হলেও স্বাধীনতার পর নানা দমন-পীড়ন, রক্ষী বাহিনীর অত্যাচার, দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক সংকট দেশকে হতাশার দিকে নিয়ে যায়। বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোও সীমিত হয়ে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উৎপাদনমুখী নীতি চালুর মাধ্যমে দেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তার মৃত্যুর পর আবার অস্থিরতা তৈরি হলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন জোরদার হয়।’
চিফ হুইপ বলেন, ‘বাংলাদেশ বারবার সংকট, স্বৈরশাসন ও অন্ধকার সময় পার করে এগিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও নির্যাতন, গুম, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন আবার একটি ‘‘নতুন সূর্যোদয়ের’’ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ সেই প্রেক্ষাপটে তিনি সব পক্ষকে বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের আহ্বান জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘দল-মত ভিন্ন হলেও একটি ‘‘ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও মানবিক বাংলাদেশ’’ গঠনে সবার ঐক্য থাকা উচিত।’
একইসঙ্গে তিনি বিরোধী দলের বক্তব্যেরও প্রশংসা করে বলেন, ‘কার্যকর সংসদ গঠনে অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’
সংসদকে প্রাণবন্ত করার আগে কার্যকর করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংসদ যদি কার্যকর না হয়, তাহলে শুধু প্রাণবন্ত হলেও লাভ নেই।’ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সংসদে এনে যুক্তিসংগত সমাধানের চেষ্টা করার আহ্বান করেন তিনি।
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ও গ্যাস ইস্যুতে সংসদে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার ফলে জনমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
তিনি জানান, সরকার ও সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত সুবিধা ত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ‘প্লট নেব না, গাড়ি নেব না— এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, জাতির স্বার্থে।’
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদরদপ্তরে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আনসার ও ভিডিপি’র মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট ভেন্যুগুলোতে সমন্বিত, আধুনিক ও পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হলো। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বড় পরিসরের আয়োজন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ও সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ।
মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বিসিবির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের কার্যকর সহযোগিতা এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করল।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ক্রীড়াঙ্গনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক, দক্ষ ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য এবং সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। ক্রিকেট ভেন্যু, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং দর্শকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।’ তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষিত আনসার সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা হবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ভেন্যুসমূহে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বরিশাল, বগুড়া, রাজশাহী, ফতুল্লা, পূর্বাচল, চট্টগ্রাম ও খুলনা—এই সাতটি স্টেডিয়ামে মোট ২৭২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর আগে ঢাকার মিরপুর, কক্সবাজার এবং সিলেট—এই তিনটি স্টেডিয়ামে ১০৭ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নির্দেশ করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং হেড অব সিকিউরিটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামিম ফরহাদ (অব.)।
এই সমঝোতা স্মারক দেশের ক্রীড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজতর হবে, বিদেশি দল, কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত গন্তব্য হিসেবে আরও সুদৃঢ় অবস্থান অর্জন করবে। পাশাপাশি, বৃহৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই, আধুনিক ও বিশ্বমানের নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে ওঠার পথ সুগম হবে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একযোগে ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশালাকার বাণিজ্যিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিনিয়োগের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের আকাশসেবা খাতের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছে।" তিনি আরও জানান, নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এই আধুনিক উড়োজাহাজগুলো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের বিশ্বমানের ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করবে।
বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক সমঝোতা করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলো। চুক্তির আওতায় বিমান ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স বিমান সংগ্রহ করবে। এই বহরের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ করা হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে ২০৩৫ সালের মধ্যে সব কটি বিমান বিমানের বহরে যুক্ত হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "এটি শুধু বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়বে।" অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থেকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিমানের এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
হৃদরোগের চিকিৎসার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ৯ মে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করবেন। দাপ্তরিক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই সফরের জন্য তিনি ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করেছেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে তাঁর এই সফর ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
৭৬ বছর বয়সি রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ এক সপ্তাহের এই সফর শেষে আগামী ১৭ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। মূলত সেই অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই লন্ডন সফরের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তত্ত্বাবধান করছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভাই এবং বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে বদলি করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বদলির পর তার চাকরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগে থাকার সময়েই চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান আবু নছর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত বছর তাকে কিছুদিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ অধিদফতরে কর্মরত শামীমা পারভীন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) হিসেবে সর্বশেষ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করা শামীমা পারভীন দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৩৯ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ফিমেল ফরমড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন।
এছাড়া তিনি ডিএমপির ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এআইজি পদে থেকে পুলিশ সদস্যর সন্তানদের শিক্ষা ও ক্রীড়া বিষয়ক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ ২০২২’ অর্জন, সিডনির ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব কাউন্টার টেরোরিজম ও মাস্টার অব সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন শামীমা পারভীন।
তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজিতে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি ইতালির COESPU থেকে ‘প্রোটেকশন অব সিভিলিয়ান’ এবং সিডনি ইউনিভার্সিটি থেকে ‘উইমেন লিডারশিপ’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
নড়াইল জেলার সন্তান শামীমা পারভীন বর্তমানে ঢাকার অফিসার্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে আছেন।
এদিকে সম্প্রতি ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে নিয়োগ দিয়ে গত ২২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার ব্যবহার করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ধর্মকে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথাবলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।
এসময় বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে।
প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।
এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।
সরকারপ্রধান বলেন, যে কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।
বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।
রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।