সার্টিফিকেট বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে গত শনিবার রাজধানীর উত্তরা থেকে আলী আকবর খানের স্ত্রী সেহেলা পারভীনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করে ডিবি। সেহেলার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন আমরা কাউকে ছাড় দেব না। এখন পর্যন্ত কাউকে ছাড় দিইনি। সার্টিফিকেট বাণিজ্য চক্রের সঙ্গে যত বড় রাঘববোয়াল জড়িত থাকুক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের তথ্য-উপাত্তে যদি চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় তাবে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব। যেকোনো সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডাকব।’
সম্মেলনে ডিবিপ্রধান বলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জাল সার্টিফিকেট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১ এপ্রিল রাজধানীর পীরেরবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামান ও একই প্রতিষ্ঠানের চাকরিচ্যুত ও বর্তমানে শামসুজ্জামানের ব্যক্তিগত বেতনভুক্ত সহকারী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে।
তাদের দেওয়া তথ্যমতে বিপুল পরিমাণ জাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র এবং শত শত সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তৈরির মতো বিশেষ কাগজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে চুরি করে নেওয়া হাজার হাজার অরিজিনাল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিটের ব্লাঙ্ক কপি, শতাধিক সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট, বায়োডাটা ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি জব্দ করা হয়।
গত ৫ এপ্রিল কুষ্টিয়ার সদর থানা এলাকা থেকে গড়াই সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিচালক সানজিদা আক্তার কলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এ তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চক্রের সঙ্গে জড়িত কামরাঙ্গীরচর হিলফুল ফুযুল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি এম কলেজের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে (৪৮) গত ১৮ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত ঢাকা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুনকে (৪০) গত ১৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া সর্বশেষ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের স্ত্রী সেহেলা পারভীনকে শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেপ্তার এ কে এম শাসমুজ্জামান ও তার ব্যক্তিগত সহযোগী ফয়সাল গত কয়েক বছরে পাঁচ হাজারের বেশি সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বানিয়ে ভুয়া লোকদের কাছে হস্তান্তর করেছে। একই সঙ্গে সরকারি ওয়েবসাইটে সরকারি পাসওয়ার্ড, অথরাইজেশন ব্যবহার করে ভুয়া লোকদের মধ্যে বিক্রি করা সার্টিফিকেটগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে কোনো দেশে বসে এ ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর গুগলে সার্চ করলে তা সঠিক পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত কমিশনার হারুন আরও বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর তথ্য সংযোজন, বিয়োজন ও পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদন-নিবেদনের ফোকাল পারসন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। কোনোক্রমে ই-সিস্টেম অ্যানালিস্ট বা কম্পিউটার অপারেটররা নন। সিস্টেম অ্যানালিস্ট বা কম্পিউটার অপারেটররা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে সংবেদনশীল এ কাজগুলো করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় শহরে অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি কারিগরি স্কুল ও কলেজ, পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউট, সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রিন্সিপালরা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, রোল নম্বর তৈরি, রেজাল্ট পরিবর্তন পরিবর্ধন, নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধনের তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে টাকার বিনিময়ে আদান-প্রদান করেছে কম্পিউটার অপারেটর ও সিস্টেম এনালিস্টদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, এ রকম প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিপরায়ণ ২৫/৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ সিবিএ দালাল কর্মচারী-কর্মকর্তা, কম্পিউটার এবং পরিদর্শন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রেজাল্ট পরিবর্তন, নাম-ঠিকানা পরিবর্তন, প্রার্থীদের বয়স পরিবর্তন ও সময়ে অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রোল নম্বর প্রদান সংক্রান্ত কাজগুলো করার সিন্ডিকেট বানিয়েছে।
খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয়; বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয়, বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম।
আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।’
সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদান এবং সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।'
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে, যেসব খেলা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’
দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি একপর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি দেশের একটি গণমাধ্যমতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়।
এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে হামের টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ (সোমবার) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতেও নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের মাধ্যমে কাজ চলছে। একইসঙ্গে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থাকলেও ২০১৮ সালের পর আর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি।
বিভিন্ন টিকা নেওয়ার জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে।
সচেতন হওয়ার জন্য কোন বার্তা দিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
কবে থেকে টিকা কার্যক্রম চালু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের টিকা আসবে। আসার সাথে সাথে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমাদের জনগণকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই আমাদের সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এই মিজলসের আক্রমণের ভিতরে আমরা যে রেপিডলি ভেন্টিলেটর এবং আইসি ইউনিট এবং ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি অতীতে কোনদিন হয়নি।
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের এই টিকার যে পেমেন্টটা এটা কিন্তু আমরা ইউনিসেফকে পেমেন্ট করে ফেলেছি, টাকাটা ইউনিসেফের কাছে আছে। এখন পারচেস কমিটির অনুমোদন পেয়ে গেলে আমরা তাদের শুধু অর্ডার দেব এবং আমাদের চলে আসবে ইনশাল্লাহ। আশা করছি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা টিকা নিতে থাকব। টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এ সময় জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে স্বাগত জানান।
আলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন।
বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজা নামাজ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা।
জানাজা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিরোধীদলী নেতা। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাক্ষাৎটি ছিল সংক্ষিপ্ত। দুই নেতা প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত আলাচারিতা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথাযথ সম্মান ও সৌজন্যতা দেখান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যতা দেখে সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হয়েছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তাঁর কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে তার স্বাভাবিক সৌজন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিভিন্ন পেশার খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে। সেই প্রতিশ্রতি রক্ষায় ও বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলায় সাফল্য পাওয়া অ্যাথলেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া কার্ড তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু বিনোদন নয় ক্রীড়া একটি পেশাও। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবেনা।’
‘নির্বাচনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পূরণে কাজ শুরু করেছি, আজকের এই অনুষ্ঠান তার প্রমাণ। একজন খেলোয়াড় যেন অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তা পায়, সে জন্যই আমাদের এ উদ্যোগ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম ক্রীড়াবিদদের সন্মানী ভাতা দেয়া শুরু হলো।’
খেলোয়াড়দের খেলার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি করতে হবে। কথা কম খেলতে হবে বেশি। দেশ প্রেম, টিম স্পিরিট থাকলে সাফল্য আসবেই। পেশাদারি জীবনে কোন রাজনেতিক দলের হবেন না বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
আজ (সোমবার) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।
তারেক রহমান বলেন, যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত এবং পাচার রোধে পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সহায়তাকারীকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যারা অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অথবা তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পুরস্কারের অর্থ দেওয়া হবে।
আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এ সময় মরহুমার বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা, বিএনপি মহাসচিব ও ডেপুটি স্পিকার। পরে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তার প্রতিনিধি, সংসদের স্পিকার, হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতা।
বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
অধ্যাপক দিলারা হাফিজের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন। শনিবার সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লক্ষ টাকা পৌঁছে যায়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন।
এর আগে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একে একে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুউল আলম।
এরপর ক্রীড়া বিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। এতে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকোর অবদান তুলে ধরা হয়।
এমনকি খেলোয়াড়দের জীবন মান উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি, তৃণমূল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় তুলে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন পরিকল্পনার চিত্রও তুলে ধরা হয়। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে গান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ... জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।’
সাফ ফুটসালজয়ী নারী দল, কাবাডি, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলার খেলোয়াড়রা ২০ ডিসিপ্লিনের ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই কর্মসূচির আওতায় সম্মাননা পেয়েছেন। এ কর্মসূচির ফলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা হলো। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগান বাস্তবে রূপ নিলো। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদরা এখন থেকে বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। তবে ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই তালিকার বাইরে থাকবেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, যেসব ক্রীড়াবিদ বেতনের আওতায় আসবেন, প্রতি চার মাস পরপর তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। আর পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।
তিনি আরও জানান, এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।
রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি)
রোববার (৩০ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। রোববার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের কারণ ও বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি ডিবির এই কর্মকর্তা।
এর আগে এক-এগারো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তারা বর্তমানে ডিবির কাছে রিমান্ডে রয়েছেন।
জানা গেছে, আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। কর্নেল আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বরখাস্ত হন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩০ মার্চ) মোট ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৮।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র গনমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৪টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ২৮টি, ১৭ মার্চ ২৬টি, ১৮ মার্চ ২৬টি, ১৯ মার্চ ২৬টি ২০ মার্চ ২৮টি, ২১ মার্চ ২৫টি, ২২ মার্চ ২০টি, ২৩ মার্চ ২০টি, ২৪ মার্চ ২০টি, ২৫ মার্চ ২০টি, ২৬ মার্চ ২২টি, ২৭ মার্চ ২২টি, ২৮ মার্চ ২১টি এবং ২৯ মার্চ ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত) ৪টি ফ্লাইট।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অফিস কক্ষে অবস্থান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তার অধীন দপ্তর-সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষে নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এর আগে পাঠানো দুটি চিঠি অনুসরণ করে ১১টি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১১ নির্দেশনা হলো-
১. প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ সময়সীমা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
২. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
৩. অফিস চলাকালীন শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।
৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে।
৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে।
৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৮. সরকারি নির্দেশনা ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
৯. জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
১০. অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি, সিঁড়ির হাতল ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
১১. এসব নির্দেশনা প্রতিপালন বা মনিটরিংয়ের জন্য সব দপ্তর/সংস্থা/কার্যালয়কে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে হবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য চালু হয়ে গেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চললেও ধীরে ধীরে কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হবে। সব ঠিকঠাক চললে আগামী চার বছরের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড রূপান্তরিত হবে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ডে’। অর্থাৎ, সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে এই কার্ড।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম (Jean Pesme) এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ড হবে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে, যা হবে নাগরিক হিসেবে একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যারা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন।
এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। সেইসঙ্গে বর্তমান সরকার কর্তৃক পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুর উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অতিরিক্ত সচিব নার্গিস খানম এবং যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আহসান প্রমুখ।
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটে ব্যাহত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানি নিয়ে বাংলাদেশ অনেকটা অস্বস্তিতে রয়েছে। এরই মধ্যে বিকল্প উৎসের সন্ধান খোঁজ করা শুরু করেছে। বিকল্প উৎসের সন্ধান না বের করতে পারলে কৃষি খাত ও ওষুধশিল্পে নেচিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এ যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) একলাখ টন করে মোট দুই লাখ টনের দুটি দরপত্র আহ্বান করেও তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
বিসিআইসি সূত্র জানায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে প্রথমে সব সার কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি চালু করা হয়েছে। বাকি চারটি ইউরিয়া কারখানা এবং একটি করে ডিএপি ও টিএসপি উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে ইউরিয়া সারের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩০০ ডলার বেড়ে এখন ৭০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ডিএপি ও টিএসপির দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি ৭০০ ডলার থেকে বেড়ে ডিএপির দাম ৮৫০ ডলার এবং ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে টিএসপির দাম ৬৫০ ডলারে উঠেছে। চীন রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে ইউরিয়া ও ডিএপির দাম বাড়ছে।
জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৬ লাখ টন ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বিসিআইসির নিজস্ব কারখানাগুলো থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। বাকি অংশ আমদানি করতে হয়। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া মিলিয়ে দেশে প্রতিবছর ৬০ লাখ টনের বেশি সারের চাহিদা রয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয় বোরো ও আমন মৌসুমে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প উৎসগুলোতেও সংকট রয়েছে। চীন আপাতত সার রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজেদের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেবে, এরপর সুযোগ থাকলে রপ্তানি করবে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে সার আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশ সরাসরি সেখান থেকেও আমদানি করতে পারছে না।
বিসিআইসি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ইউরিয়া আমদানির জন্য নিবন্ধিত ১৭ জন সরবরাহকারীকে সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এসব সরবরাহকারী নির্ধারিত সময়ে সার সরবরাহ করতে পারবে কিনা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগের দরপত্র বাতিল করে এখন উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের যেকোনো দেশের সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারে।
বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানি করে। কাতার ও আমিরাত থেকে ইউরিয়া এবং সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া ও ডিএপি আমদানি করা হয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে বেশি পরিমাণ সার আমদানির কথা ভাবছে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে চীন, মিসর ও রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ বিবেচনায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে রাশিয়া বৈশ্বিক বড় সরবরাহকারীদের অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের নির্ধারিত সরবরাহকারীদের সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাই আগের টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যাতে বিকল্প উৎসের সরবরাহকারীরা অংশ নিতে পারে।
তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সারের সংকট হবে না। তবে জুনে শুরু হওয়া আমন মৌসুমের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে ইউরিয়া আমদানি নিশ্চিত না হলে কৃষিতে প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব সার কারখানাগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার চালু রয়েছে। অন্যগুলো উৎপাদনে নেই। তাই এখনই সারের মজুত বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য সব বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা যায় কিনা—তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি যোগ করেন, আমরা একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছি, যাতে যেকোনো সরবরাহকারী অংশ নিতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে—তাদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সারের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া কারখানার জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা আবেদন করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে কারখানাটি চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সরকারের জিটুজি চুক্তি রয়েছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে তিন লাখ টন সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য জাহাজ চলাচলের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাংলাদেশকেই সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশ :
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান যুদ্ধাবস্থা ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে দেশে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাঁচামাল আমদানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প সমিতিকে আমদানির ক্ষেত্রে একক কোনো অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের ওষুধ উৎপাদন যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধ তৈরির প্রধান উপাদান ‘অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট’ (এপিআই) আমদানিতে চীন ও ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য সম্ভাব্য দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে ওষুধ শিল্প সমিতিকে অনুরোধ করেছে সরকার।
গত ২৪ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার ফলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির আগাম প্রস্তুতি’ বিষয়ক এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সভায় গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশের ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দ্রুত এপিআই আমদানির বিকল্প উৎস বা দেশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।