মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সারা দেশে তীব্র গরম অব্যাহত

দাবদাহ থেকে সহজেই মুক্তি মিলছে না

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২২ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৩

সারা দেশের মানুষ গরমে অতিষ্ঠ বলা যায়। অন্যান্য বছর এপ্রিলে গরম থাকলেও ছিল কালবৈশাখী এবং বৃষ্টিপাত। এ বছর বৈশাখ আসার কয়েকদিন আগে দেশের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড় ও বৃষ্টিপাত হলেও ১৪ এপ্রিল থেকে তীব্র গরমে সারা দেশের মানুষের হাপিত্যেশ অবস্থা। ঘর থেকে বাইরে বের হলেই রোদের তীব্রতা ও বাতাসে আগুনের ফুলকির ছোঁয়া মানুষকে অস্থির করে তুলছে। দেশবাসী যেন অন্যরকম এক এপ্রিল মাস দেখছেন। এই তীব্র গরম থেকে সহজেই মুক্তি মিলছে না বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

আজ ও আগামীকাল মঙ্গলবারও দেশে এক রকম তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও এই না যে, দাবদাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে যেতে পারে দেশের কয়েক জায়গায়। তবে দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহটা চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

অন্যান্য সময় এপ্রিলের এ সময়ে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেছে। গড়ে সারা দেশের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। গতকাল রোববারও চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ জেলায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি থাকছে।

তীব্র এই দাবদাহে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন করে গতকাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)- ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস এবং সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভ্যাপসা এই গরমে সারা দেশের শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ যাদের কাজের জন্য বাইরে বের হতেই হয় তারা গরমে বেশ কষ্ট করছেন। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা এই গরমে জনজীবনে অস্বস্তি বিরাজ করছে। তীব্র গরমে ভোগান্তিতে রয়েছেন ভ্যানচালক থেকে শুরু করে হকার, বাইক রাইডারসহ পথচারীরাও।

এদিকে অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। রোববার সচিবালয়ে সারা দেশের হাসপাতালের পরিচালক এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে অনলাইনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরম চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা এবং একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী ছাড়া ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি বয়স্ক ও শিশুরা যেন প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

নরসিংদী ও সিলেটে হিটস্ট্রোকে মৃত্যু ২

নরসিংদীর মাধবদী হিটস্ট্রোকে এক যুবক ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক রিকশাচালকের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করা যুবকের নাম সাফকাত জামিল ইবান (৩২)। তিনি পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী এবং তিন বছর বয়সি কন্যা সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঈদ-পরবর্তী বেড়ানো শেষ করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন ইবান। এ সময় তীব্র দাবদাহের ফলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে বাড়ি ফিরেও অজ্ঞান এবং অতিরিক্ত ঘামে স্বস্তিবোধ না করায় সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রচণ্ড রোদের মাঝে চলাফেরা এবং প্রচুর ঘামের ফলেই অজ্ঞান হয়ে যায় ইবান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গরমে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া রিকশাচালকের নাম আবু হানিফ মিয়া (৩৪)। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বেলা ১১টার দিকে আবু হানিফ নামের এক রিকশাচালক দক্ষিণ সুরমা পুলিশ বক্সের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা মৃত্যু ঘোষণা করেন।

পুলিশের ক‌্যাম্পের দায়িত্বরত কনস্টেবল তোফায়েল আহমদ জানান, স্থানীয়রা ওই রিকশাচালককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ‘হিটস্ট্রোকে’ মৃত্যু হয়েছে।

গতকালও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়াল

দৈনিক বাংলার চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির তথ্যমতে, জেলার ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। শনিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এপ্রিল মাসজুড়ে দাবদাহ থাকতে পারে।

এদিকে প্রচণ্ড রোদে কৃষকের ফল-ফসল ও সবজি বাগান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া জেলায় বিভিন্ন সড়কের রাস্তার পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। জেলার সকল স্কুল-কলেজ, কিন্ডারগার্টেনসহ কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।

গরমজনিত কারণে জেলা সদর হাসপাতালে রোগী বাড়ছে। গত কয়েকদিনে শিশুসহ ১৩৭ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা. আতাউর রহমান বলেন, তীব্র দাবদাহে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে গরমজনিত রোগীর চাপ খুব একটা নেই। হয়ত কয়েক দিন পর থেকে বাড়তে পারে।

ঝিনাইদহে গরমে নলকূপে উঠছে না পানি

দৈনিক বাংলার ঝিনাইদহের প্রতিনিধি জানান, তীব্র গরম আর তাপদাহে জেলার ছয় উপজেলার মানুষ ও পশুপাখি হাঁসফাঁস করছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির চমর সংকট। হস্তচালিত নলকূপ এবং শ্যালো বোরিংয়ে উঠছে না পানি। ফলে গৃহস্থালি ও মাঠে কৃষকরা উভয়ই সংকটে পড়েছে।

জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগেও তার সেচ পাম্পে পর্যাপ্ত পানি উঠত। এখন মাটির গভীরে মেশিন বসিয়েও পানি উঠছে না। ভারী বৃষ্টি না হলে ঝিনাইদহের হাজারও কৃষক জমিতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন। ভুক্তভোগীরা বলছে, ইরি ধানের সেচ কাজে এবং পুকুর খনন করে মাছের চাষের জন্যে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর নেমে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার বেশিরভাগ বিল বাঁওড়, জলাশয় ও পুকুর-নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। বিশেষ করে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পানি শুকিয়ে গেছে। এসব নদীর তলদেশে কৃষকেরা এখন ধানচাষ করছেন।

জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু ঝিনাইদহ জেলাতে না। জেলাজুড়ে কত হাজার বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে নলকূপ রয়েছে, তা আমাদের পরিসংখ্যানে নেই। তবে সরকারিভাবে ঝিনাইদহ জেলায় ১৭ হাজার গভীর ও ১৮ হাজার অগভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপে পানির স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ নিয়ে নলকূপ স্থাপন করলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে।

বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে বিপাকে হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা

প্রচণ্ড গরমে একটানা বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার বেনাপোল প্রতিনিধি। ট্রাকে পণ্য ওঠানামা যেমন ধীরগতি দেখা দিয়েছে, তেমনি কমেছে তাদের দৈনিক আয়।

একটানা কাজ করতে না পারায় আয় কমেছে শ্রমিকদের। স্থলবন্দরের শ্রমিক সেলিম আহম্মেদ বলেন, ‘অন্যান্য সময় সারা দিন কাজ করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করতাম। এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক আবু নিদাল ফয়সল বলেন, ‘গরমের কারণে শ্রমিকরা লাগাতার কাজ করতে না পারায় ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাস করতে অধিক সময় চলে যাচ্ছে। ট্রাকে পণ্য লোড করতেও তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।এতে সময় মতো পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।’

গত বছরের তুলনায় এবার বেশি গরম পড়েছে। যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস বলেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। কিন্তু শনিবার (২০ এপ্রিল) গত কয়েকদিনের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রোববার বেলা ১টায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে এসেছে।

ঢাবি, জবি ও ববিতে ক্লাস-পরীক্ষার নতুন সূচি

দৈনিক বাংলার ঢাবি, জবি ও ববির প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সশরীরে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করাসহ অনলাইনে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রাখা এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অনলাইনে ক্লাসসহ পরীক্ষা সশরীরে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রবাস অথবা বাসার বাইরে যেতে চাইলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এবার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ

চলমান দাবদাহের কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল মনছুর ভূঞাঁ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা এর আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সারা দেশের ওপর দিয়ে প্রবহমান তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে ২৬ এপ্রিল শুক্রবার ও ২৭ এপ্রিল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২৮ এপ্রিল রোববার থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু তথা স্কুল খোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

দাবদাহ থেকে মুক্তি মিলবে কবে

দেশের মানুষ কবে দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার প্রায় একই রকম তাপদাহ অব্যাহত থাকবে।

এপ্রিলের ২৪-২৫ তারিখে একটু কমার সম্ভাবনা আছে, তবে তার মানে এই না যে, তাপপ্রবাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে আসতে পারে বা দুই-এক জায়গা থেকে কমতে পারে তাপপ্রবাহের হারটা; কিন্তু দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহে চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে আবহাওয়াবিদরা উল্লেখ করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টারআবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানায়, পাবনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র দাবদাহ বয়ে যাবে। মে মাসের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল এবং মে মাস সবচেয়ে উষ্ণতম দুটি মাস।

অতীতের যে ক্লাইমেটোলজি বা রিপোর্টগুলো আছে, তাতে দেখা গেছে যে, কখনো কখনো এপ্রিল থেকে মে মাসেই তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ছিল। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, এপ্রিলের পাশাপাশি মে মাসেও হিটওয়েভটা থাকবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও তিনি সাতটি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন।

পাশাপাশি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা বলে অভিহিত করে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা দেশের জন্যও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী প্রথম ভাষণ দেন। এর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

মূসক অধ্যাদেশের খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাঠপর্যায়ে ভ্যাট ও রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনতে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে অর্থ ও রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

সংশোধনীতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট দাখিলপত্র বা রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কর মেয়াদ অর্থাৎ প্রতি এক মাসের জন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে।

তবে কোনো মাসের ১৫তম দিন সরকারি ছুটির দিন হলে পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও রিটার্নদাতার জন্য সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন বা জিরো রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।

এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বলা হয়, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে সফরটি ভূমিকা রেখেছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

এ জন্য মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত তথ্যেও জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে।


নির্বাচিত

শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরির সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক তালিকা এবং প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে গত ছয় মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে কমিটি।

কমিটির এ উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য আরও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এর আগে সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছিলেন, তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে আহত জুলাইযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধারা যাতে যথাযথ সম্মান পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৈঠকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটি মনে করে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি যাতে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। গত ছয় মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যেসব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে এবং সেগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, বৈঠকে তার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মো. আব্দুল হান্নান ও রোকেয়া বেগম অংশ নেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, কল্যাণ সুবিধা ও ইতিহাস সংরক্ষণে আরও সুস্পষ্টতা আসবে—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে কমিটির বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্বাচিত

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের আলোচনা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক   

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই সাক্ষাৎ করেন তারা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকমিশনার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক চূড়ান্তকরণ, ওষুধ এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও ওষুধ পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানে ভ্যাকসিন ও ক্যান্সারের ওষুধ রপ্তানি আরও বাড়াতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান।

আলোচনাকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ে সহযোগিতার বিভিন্ন প্রস্তাব সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের গাম্বাট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (জিআইএমএস)।

পাশাপাশি বাংলাদেশে পরবর্তী সময়ে লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারে সহায়তা এবং টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসাসেবা প্রদানের প্রস্তাবও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


নির্বাচিত

গুণী শিক্ষক সম্মাননা ১০০ জনে উন্নীত করা হচ্ছে: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আজ সচিবালয়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার শুরুতে ব্রিফ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের জাতীয় সম্মাননার পরিধি ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

আজ দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার শুরুতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পেতেন মাত্র ১২ জন শিক্ষক। তবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সর্বমোট ১০০ জন কৃতি শিক্ষককে এই সম্মাননার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।’

তিনি জানান, আগামী ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ঘোষিত ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মাননা নির্বাচনের পরিধি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এবারের তালিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিকের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা- এই তিন ধারার শিক্ষকগণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি কলেজ, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত ক্ষেত্র যেমন- চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে গুণী শিক্ষকদের নিরপেক্ষভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, শিক্ষকমণ্ডলী কেবল পাঠদান করেন না, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আধুনিক ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নে শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও টেকসই শিক্ষা পলিসি গ্রহণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল ও মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালে ফ্লাইট চলাচল শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালে আনুষ্ঠানিকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের অত্যাধুনিক এই টার্মিনাল ভবন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রমের সূচনা হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই টার্মিনাল চালু হওয়ায় পর্যটন নগরীতে আগত দেশি-বিদেশি ভ্রমণকারীদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা গেছে।

টার্মিনাল ব্যবহারকারী যাত্রীরা পরিবেশের আধুনিকায়ন ও সেবামূলক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে জানান, অতীতের তুলনায় ভোগান্তি ও হয়রানি অনেকাংশে কমেছে এবং দ্রুত লাগেজ খালাস ছাড়াও সুপরিসর লাউঞ্জে অপেক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা নিশ্চিত করতেই টার্মিনালটি সাজানো হয়েছে। ইউএস-বাংলার স্টেশন ম্যানেজার মোসা আহমেদ উল্লেখ করেন, সুপরিসর প্রস্থান ও আগমন হলের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন বোর্ডিং লাউঞ্জে বিশ্বমানের প্রায় সব ধরনের সেবাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে নভোএয়ারের স্টেশন ম্যানেজার সারওয়ার উল কাদের জানান, আধুনিক ব্যাগেজ বেল্ট ও খোলামেলা কাঠামোর কারণে আগের মতো অতিরিক্ত ভিড় ও গাদাগাদির অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে যাত্রীরা মুক্তি পেয়েছেন।

যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখা এবং কোনো ধরনের হয়রানি রোধে দেশের চতুর্থ এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কঠোর ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ জানান, আনসার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন এবং বেবিচকের নিজস্ব নিরাপত্তা উইংসহ প্রায় ১৬টি বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার সদস্যরা এখানে যৌথভাবে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবর মাসে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও আজ থেকেই সব ধরনের অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট এই নতুন ভবন থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী মাস থেকেই সমুদ্রতীরবর্তী এই রানওয়ে ব্যবহার করে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা শুরু করার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

প্রাথমিকের বঞ্চিতরা ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে তাঁদের নিয়োগপত্র পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকা অবশিষ্ট ৮১৭ জন প্রার্থীর নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির কাজ চলছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিয়োগপত্র হস্তান্তরে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ৩৩ হাজার ৮৫৪ জনের আবেদন গ্রহণ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের (ডিপিও) মাধ্যমে নিয়োগপত্র ইস্যু কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং অনেকের ঠিকানা পরিবর্তনজনিত জটিলতার কারণে কিছু প্রার্থীর তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা বাড়তি সময় লেগেছে।

মন্ত্রী জানান, প্রার্থীদের পরিবর্তিত ঠিকানা ও ভেরিফিকেশনের নথিগুলো পর্যায়ক্রমে মন্ত্রণালয়ে আসছে এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের ফাইল এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলো বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং এরপরও কোনো প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে তা সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


নির্বাচিত

শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সরকারের গৃহীত নানামুখী উদ্যোগ ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করতে সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজনের মূল রূপরেখা তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে থাকে। শিক্ষাদানে অনন্য ভূমিকা পালনকারী শিক্ষকদের অবদানকে মূল্যায়ন ও সম্মানিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এ বছর দেশব্যাপী বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এলো দেশের ৬ শতাংশ ভুট্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে মোট ভুট্টা আমদানির ৬ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশের ভুট্টার বাজারে পুনরায় প্রবেশ করল দেশটি।


পশুখাদ্য শিল্পের চাহিদা মেটাতে ২০২৬ বিপণন বর্ষে বাংলাদেশ ১৭ লাখ ৪০ হাজার টনের বেশি ভুট্টা আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টন এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


‘গ্রেইন অ্যান্ড ফিড আপডেট’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ভুট্টার সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ ব্রাজিল। মোট আমদানির ৬৮ শতাংশই এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি থেকে। এরপর ২৪ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত।
চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
তবে মে মাসে শুরু হওয়া বিপণন বর্ষে ব্রাজিল থেকে ভুট্টা আমদানির হার আগের চেয়ে কমেছে। ইউএসডিএর আগের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বিপণন বর্ষে বাংলাদেশ তার মোট ভুট্টার প্রায় ৯৩ শতাংশই ব্রাজিল থেকে আমদানি করেছিল। এর বাইরে ৪ শতাংশ আর্জেন্টিনা থেকে এবং ২ শতাংশ পাকিস্তান থেকে এসেছিল।


বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পুনরায় ভুট্টা আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল; যদিও পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করেন। সেই শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে এবং দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে সম্মত হয় বাংলাদেশ।


মার্কিন সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, ঐতিহাসিকভাবেই ভারত বাংলাদেশের ভুট্টার অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। কারণ হিসেবে তুলনামূলক কম দাম, পরিবহন ব্যবস্থা এবং পণ্য পৌঁছাতে কম সময় লাগার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।


তবে ভারত জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল উৎপাদন বাড়িয়ে দেওয়ায় ২০২৪ সাল থেকে দেশটি ভুট্টা রপ্তানি কমিয়ে দেয়। এর ফলেই শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসে ব্রাজিল।


সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বিপণন বর্ষে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ১৮ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।


নির্বাচিত

মতিঝিল আইডিয়ালের ২৩ শিক্ষককে দুদকে তলব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুয়া ও জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ জন শিক্ষককে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ কার্যালয়ে এসব শিক্ষককে উপস্থিত থাকতে এক চিঠিতে অনুরোধ করেছে দুদক।

এ সময় তাদের বিএড সনদের মূল সার্টিফিকেট ও ১ সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর দুকদের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান স্বাক্ষতির এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযোগ ছিল এই প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষক ভুয়া সনদে চাকরি করছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু নথি পাওয়া সাপেক্ষে সম্প্রতি দুদক অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভুয়া ও জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা-চাকরি করার অভিযোগ রয়েছে। এটি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ২৩ শিক্ষকের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষকগণের নামের তালিকাসহ ইস্যুকৃত নোটিশ প্রেরণ করা হলো।

‘এই নোটিশে বর্ণিত তারিখ ও সময়ে তাদেরকে অধ্যক্ষ কার্যালয়ে (বিএড সনদের মূলকপি ও ১ সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ) উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হলো। কোন শিক্ষক জরুরি কোন কারণে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে তার বি.এড সনদের মূলকপি ও ১ সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অধ্যক্ষের জিম্মায় রাখার অনুরোধ করা হল।’

তালিকায় রয়েছেন যারা: রুবিনা সুলতানা, মো. সুলাইমান, তাহমিনা ইয়াছমিন, মোহা. কাবিউল ইসলাম, সেবিকা রানী পাল, মোছা. নাহিদা আখতার, সালেহ আহমেদ, মো. মোজাম্মেল হক, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহফুজা হাসনা, সালমা খাতুন, সুস্মিতা আক্তার, মো. আজিবর রহমান শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আবু বকর, মহিউদ্দিন, আজমল হোসেন, মো. ফরিদুর রহমান শেখ, নুরজাহান, মো. সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ আল আমীন খান, মোহাম্মদ আফছার উদ্দিন এবং এন. এম. মঞ্জুরুল হক।


নির্বাচিত

অর্থনীতির পুনরুত্থানে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাংলাদেশের জন্য অগ্রাধিকার: জহির উদ্দিন স্বপন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার সফররত চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পথচলা শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, চীন থেকে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এর পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বাংলাদেশকে বিনামূল্যে একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং ২ হাজার বর্গকিলোমিটার সুবিধার স্টোরেজ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের দিগন্ত প্রসারের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশ ও চীন—উভয় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সফররত চীনা প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রদেয়িক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য কমরেড ঝাও জুনমিন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্য ও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ছয় দিনের এ কংগ্রেস চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) আয়োজিত কংগ্রেসে ৯৭টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ আইন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আন্তঃদেশীয় অপরাধের মধ্যে সংগঠিত অপরাধ, সাইবার অপরাধ, মানব ও মাদক পাচার, অর্থপাচারসহ দ্রুত পরিবর্তনশীল অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে কংগ্রেসের আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবুধাবি ঘোষণাতেও অপরাধ প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, উদীয়মান অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলাজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং আদালতের ওপর মামলার চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর এ আন্তর্জাতিক কংগ্রেস আয়োজন করে। এবারের কংগ্রেসের মূল প্রতিপাদ্য হলো—ডিজিটাল যুগে অপরাধ প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিচার ও আইনের শাসন ত্বরান্বিত করা; মানুষ ও পৃথিবীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

কংগ্রেসে সংগঠিত ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, মানব ও মাদক পাচার, অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং পরিবেশগত অপরাধের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, ইলেকট্রনিক প্রমাণ, ভার্চুয়াল সম্পদ এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান ফলাফল হিসেবে ‘আবুধাবি ঘোষণা’ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অপরাধ প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিচার ও আইনের শাসন জোরদারে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার ও সহযোগিতার দিকনির্দেশনা হিসেবে এ ঘোষণা কাজ করবে।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিচারিক সংস্কারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে এসব অপরাধ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

আধুনিক বন্দর-দক্ষ নাবিক গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ চাইলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, শুধু আন্তর্জাতিক নৌ-চুক্তিতে যোগদান বা আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; এর সুফল নিশ্চিত করতে নিরাপদ জাহাজ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং টেকসই নৌবাণিজ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’।

মন্ত্রী বলেন, নীতি, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

শেখ রবিউল আলম দেশের বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে এনে বন্দরসেবার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি ২০২৯ সালে চালুর লক্ষ্যে থাকা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়। বন্দরটি প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় মাদার ভেসেল সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে। এটি চালু হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও লজিস্টিক ব্যয় কমার প্রত্যাশা রয়েছে।

মন্ত্রী নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্ল্যাগ স্টেট ও পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথা জানান। নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান কার্যকরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের নাবিকদের বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে নাবিকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তাঁদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৫টি মেরিটাইম একাডেমি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একটি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ নাবিক, মেরিন প্রকৌশলী ও বন্দর ব্যবস্থাপনা পেশাজীবী তৈরিতে কাজ করছে। ২০১৪ সাল থেকে ১৩৮ জনের বেশি নারী ক্যাডেট মেরিটাইম একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৫০ জন নারী ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করছেন।

অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও উপকূলীয় নৌপরিবহনের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান শেখ রবিউল আলম।

দেশের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথকে অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় নৌপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বিত মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও বাংলাদেশের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়। হংকং কনভেনশন অনুযায়ী দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে এবং আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে এ শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) ‘গ্রিনভয়েজ-২০৫০’ কর্মসূচির সহায়তায় জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কম-কার্বন জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, বন্দর কার্যক্রমের বিদ্যুতায়ন এবং পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সবুজ নৌপরিবহনে উত্তরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব নৌ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো—নীতি যেন বাস্তব কার্যক্রমে রূপ নেয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার যেন পরিমাপযোগ্য অর্জনে পরিণত হয় এবং বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনা যেন দৃশ্যমান জাতীয় সুফলে রূপান্তরিত হয়।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনী, জাহাজমালিক, শিপিং কোম্পানি, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং নাবিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close