সারা দেশের মানুষ গরমে অতিষ্ঠ বলা যায়। অন্যান্য বছর এপ্রিলে গরম থাকলেও ছিল কালবৈশাখী এবং বৃষ্টিপাত। এ বছর বৈশাখ আসার কয়েকদিন আগে দেশের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড় ও বৃষ্টিপাত হলেও ১৪ এপ্রিল থেকে তীব্র গরমে সারা দেশের মানুষের হাপিত্যেশ অবস্থা। ঘর থেকে বাইরে বের হলেই রোদের তীব্রতা ও বাতাসে আগুনের ফুলকির ছোঁয়া মানুষকে অস্থির করে তুলছে। দেশবাসী যেন অন্যরকম এক এপ্রিল মাস দেখছেন। এই তীব্র গরম থেকে সহজেই মুক্তি মিলছে না বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
আজ ও আগামীকাল মঙ্গলবারও দেশে এক রকম তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও এই না যে, দাবদাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে যেতে পারে দেশের কয়েক জায়গায়। তবে দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহটা চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
অন্যান্য সময় এপ্রিলের এ সময়ে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেছে। গড়ে সারা দেশের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। গতকাল রোববারও চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ জেলায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি থাকছে।
তীব্র এই দাবদাহে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন করে গতকাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)- ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস এবং সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভ্যাপসা এই গরমে সারা দেশের শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ যাদের কাজের জন্য বাইরে বের হতেই হয় তারা গরমে বেশ কষ্ট করছেন। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা এই গরমে জনজীবনে অস্বস্তি বিরাজ করছে। তীব্র গরমে ভোগান্তিতে রয়েছেন ভ্যানচালক থেকে শুরু করে হকার, বাইক রাইডারসহ পথচারীরাও।
এদিকে অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। রোববার সচিবালয়ে সারা দেশের হাসপাতালের পরিচালক এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে অনলাইনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরম চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা এবং একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী ছাড়া ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি বয়স্ক ও শিশুরা যেন প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
নরসিংদী ও সিলেটে হিটস্ট্রোকে মৃত্যু ২
নরসিংদীর মাধবদী হিটস্ট্রোকে এক যুবক ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক রিকশাচালকের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করা যুবকের নাম সাফকাত জামিল ইবান (৩২)। তিনি পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী এবং তিন বছর বয়সি কন্যা সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঈদ-পরবর্তী বেড়ানো শেষ করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন ইবান। এ সময় তীব্র দাবদাহের ফলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে বাড়ি ফিরেও অজ্ঞান এবং অতিরিক্ত ঘামে স্বস্তিবোধ না করায় সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রচণ্ড রোদের মাঝে চলাফেরা এবং প্রচুর ঘামের ফলেই অজ্ঞান হয়ে যায় ইবান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গরমে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া রিকশাচালকের নাম আবু হানিফ মিয়া (৩৪)। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বেলা ১১টার দিকে আবু হানিফ নামের এক রিকশাচালক দক্ষিণ সুরমা পুলিশ বক্সের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা মৃত্যু ঘোষণা করেন।
পুলিশের ক্যাম্পের দায়িত্বরত কনস্টেবল তোফায়েল আহমদ জানান, স্থানীয়রা ওই রিকশাচালককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ‘হিটস্ট্রোকে’ মৃত্যু হয়েছে।
গতকালও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়াল
দৈনিক বাংলার চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির তথ্যমতে, জেলার ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। শনিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এপ্রিল মাসজুড়ে দাবদাহ থাকতে পারে।
এদিকে প্রচণ্ড রোদে কৃষকের ফল-ফসল ও সবজি বাগান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া জেলায় বিভিন্ন সড়কের রাস্তার পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। জেলার সকল স্কুল-কলেজ, কিন্ডারগার্টেনসহ কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।
গরমজনিত কারণে জেলা সদর হাসপাতালে রোগী বাড়ছে। গত কয়েকদিনে শিশুসহ ১৩৭ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা. আতাউর রহমান বলেন, তীব্র দাবদাহে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে গরমজনিত রোগীর চাপ খুব একটা নেই। হয়ত কয়েক দিন পর থেকে বাড়তে পারে।
ঝিনাইদহে গরমে নলকূপে উঠছে না পানি
দৈনিক বাংলার ঝিনাইদহের প্রতিনিধি জানান, তীব্র গরম আর তাপদাহে জেলার ছয় উপজেলার মানুষ ও পশুপাখি হাঁসফাঁস করছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির চমর সংকট। হস্তচালিত নলকূপ এবং শ্যালো বোরিংয়ে উঠছে না পানি। ফলে গৃহস্থালি ও মাঠে কৃষকরা উভয়ই সংকটে পড়েছে।
জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগেও তার সেচ পাম্পে পর্যাপ্ত পানি উঠত। এখন মাটির গভীরে মেশিন বসিয়েও পানি উঠছে না। ভারী বৃষ্টি না হলে ঝিনাইদহের হাজারও কৃষক জমিতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন। ভুক্তভোগীরা বলছে, ইরি ধানের সেচ কাজে এবং পুকুর খনন করে মাছের চাষের জন্যে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর নেমে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার বেশিরভাগ বিল বাঁওড়, জলাশয় ও পুকুর-নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। বিশেষ করে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পানি শুকিয়ে গেছে। এসব নদীর তলদেশে কৃষকেরা এখন ধানচাষ করছেন।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু ঝিনাইদহ জেলাতে না। জেলাজুড়ে কত হাজার বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে নলকূপ রয়েছে, তা আমাদের পরিসংখ্যানে নেই। তবে সরকারিভাবে ঝিনাইদহ জেলায় ১৭ হাজার গভীর ও ১৮ হাজার অগভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপে পানির স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ নিয়ে নলকূপ স্থাপন করলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে।
বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে বিপাকে হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা
প্রচণ্ড গরমে একটানা বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার বেনাপোল প্রতিনিধি। ট্রাকে পণ্য ওঠানামা যেমন ধীরগতি দেখা দিয়েছে, তেমনি কমেছে তাদের দৈনিক আয়।
একটানা কাজ করতে না পারায় আয় কমেছে শ্রমিকদের। স্থলবন্দরের শ্রমিক সেলিম আহম্মেদ বলেন, ‘অন্যান্য সময় সারা দিন কাজ করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করতাম। এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক আবু নিদাল ফয়সল বলেন, ‘গরমের কারণে শ্রমিকরা লাগাতার কাজ করতে না পারায় ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাস করতে অধিক সময় চলে যাচ্ছে। ট্রাকে পণ্য লোড করতেও তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।এতে সময় মতো পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।’
গত বছরের তুলনায় এবার বেশি গরম পড়েছে। যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস বলেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। কিন্তু শনিবার (২০ এপ্রিল) গত কয়েকদিনের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রোববার বেলা ১টায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে এসেছে।
ঢাবি, জবি ও ববিতে ক্লাস-পরীক্ষার নতুন সূচি
দৈনিক বাংলার ঢাবি, জবি ও ববির প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সশরীরে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করাসহ অনলাইনে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রাখা এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অনলাইনে ক্লাসসহ পরীক্ষা সশরীরে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রবাস অথবা বাসার বাইরে যেতে চাইলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এবার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ
চলমান দাবদাহের কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল মনছুর ভূঞাঁ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা এর আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সারা দেশের ওপর দিয়ে প্রবহমান তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে ২৬ এপ্রিল শুক্রবার ও ২৭ এপ্রিল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২৮ এপ্রিল রোববার থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু তথা স্কুল খোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
দাবদাহ থেকে মুক্তি মিলবে কবে
দেশের মানুষ কবে দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার প্রায় একই রকম তাপদাহ অব্যাহত থাকবে।
এপ্রিলের ২৪-২৫ তারিখে একটু কমার সম্ভাবনা আছে, তবে তার মানে এই না যে, তাপপ্রবাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে আসতে পারে বা দুই-এক জায়গা থেকে কমতে পারে তাপপ্রবাহের হারটা; কিন্তু দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহে চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে আবহাওয়াবিদরা উল্লেখ করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টারআবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানায়, পাবনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র দাবদাহ বয়ে যাবে। মে মাসের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল এবং মে মাস সবচেয়ে উষ্ণতম দুটি মাস।
অতীতের যে ক্লাইমেটোলজি বা রিপোর্টগুলো আছে, তাতে দেখা গেছে যে, কখনো কখনো এপ্রিল থেকে মে মাসেই তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ছিল। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, এপ্রিলের পাশাপাশি মে মাসেও হিটওয়েভটা থাকবে।
বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে একটি সমন্বিত ‘অল-ইন-ওয়ান’ প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। নতুন এই ব্যবস্থায় হজযাত্রার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা একটি একক ইলেকট্রনিক চুক্তির আওতায় আনা হবে।
সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য এই সমন্বিত প্যাকেজ চালু করা হবে। ইলেকট্রনিক পাথ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্যাকেজটি দেওয়া হবে। এতে একজন হজযাত্রীর সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে হজ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত প্যাকেজে চারটি প্রধান সেবা রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, যাতায়াত এবং খাবারের ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি হজযাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কিছু ঐচ্ছিক সেবাও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি হজবিষয়ক দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো বিভিন্ন শ্রেণির হজযাত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও নমনীয় চুক্তিভিত্তিক কাঠামো থাকবে।
এক প্ল্যাটফর্মে হজের বিভিন্ন সেবা
নতুন ব্যবস্থায় হজযাত্রার বিভিন্ন ধাপকে আরও সমন্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতদিন হজযাত্রার আবাসন, পরিবহন, খাবার ও পবিত্র স্থানসংক্রান্ত সেবার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হতো। নতুন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় এসব সেবা একটি সমন্বিত চুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য সেবা ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করা এবং হজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
১৪৪৮ হিজরি হজের আগাম প্রস্তুতি
২০২৭ সালের হজ মৌসুমের জন্য সৌদি আরবের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই প্যাকেজ চালু করা হচ্ছে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২০২৭ সালের হজ মৌসুম হবে ১৪৪৮ হিজরি।
সৌদি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৪৪৮ হিজরি হজ মৌসুমের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ৭৫টির বেশি দেশের হজবিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম, বিভিন্ন বিধিবিধান এবং প্রয়োজনীয় শর্ত নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আরও ডিজিটাল হচ্ছে হজ ব্যবস্থাপনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন, সেবা পরিচালনা এবং ভিসা-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
নতুন ‘অল-ইন-ওয়ান’ প্যাকেজও সেই ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ। এর ফলে বিদেশি হজযাত্রীদের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, হজবিষয়ক দপ্তর এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ- সব পক্ষের কার্যক্রম একই ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের আশা, একক ইলেকট্রনিক চুক্তির মাধ্যমে হজের বিভিন্ন সেবা আরও স্বচ্ছ ও নমনীয়ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের প্রয়োজন ও গ্রুপভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী সেবা পরিকল্পনা তৈরির সুযোগও বাড়বে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের পুরো যাত্রাপথকে একটি সমন্বিত সেবা কাঠামোর আওতায় আনার দিকে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে সৌদি আরব।
নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাত দখলমুক্ত করার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাঁর লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি চলবে। অরাজকতা ও উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করার যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তা কোনো বাধার মুখে বন্ধ হবে না। জনগণের চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অরাজকতা সৃষ্টিকারী, দুষ্কৃতকারী ও অবৈধ দখলদারদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিদের ও তাদের সহযোগীদের ইন্ধনে মিরপুর-১০-এর অভিযানে এই হামলা হয়।
তিনি বলেন, পরে মিরপুরের সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসিসি প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি অবৈধ দখল ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর থাকবে বলেও জানান।
বিকল্প ব্যবস্থা না করে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত পথচারীদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত রাখা জরুরি। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও হকারদের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মিরপুর-১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শফিকুর রহমান বলেন, সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ রাজধানীতে এসে ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি এ সমস্যার টেকসই ও সমন্বিত সমাধানের কথা বলেছিলেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিলে সেখানে তারা ব্যবসা করতে পারবেন এবং সিটি করপোরেশন যৌক্তিক হারে কর পেতে পারে। তবে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া উচিত নয়।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাতের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন।
উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তৃতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দিবসের প্রতিপাদ্যও একই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তাঁর সরকারের লক্ষ্য, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ—প্রতিটি মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, চট্টগ্রাম বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে দুজন এবং রংপুর বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে—৩৪৩ জন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২০ জন, খুলনা বিভাগে ২৪৮ জন, বরিশাল বিভাগে ২১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৯৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১১৪ জন।
এ ছাড়া চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ৪৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ছয়জন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব রয়েছে।
পেশাদারত্বের পাশাপাশি মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে জনগণকে পুলিশি সেবা দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। তিনি বলেছেন, জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থাকে কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে দুই দিনব্যাপী ‘কমিউনিটি পুলিশিং নীতিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিম, বিপিএম-সেবা।
কর্মশালার উদ্যোগকে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং মাদকবিরোধী অভিযান যথাযথভাবে পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে পুলিশ ও জনগণের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক আস্থা অর্জনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় খুঁজে বের করে সেরা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে জাতীয় কাবাডি দল গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘১ম কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি টুর্নামেন্ট-২০২৬’ সারা দেশে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে বলে জানান আইজিপি।
কাবাডি দেশের জাতীয় খেলা ও গৌরবের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতেও এ ধরনের কার্যক্রম ভূমিকা রাখছে।
কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং পুনর্গঠন: একটি জনমুখী, প্রতিরোধমূলক ও গোয়েন্দা-তথ্যনির্ভর পুলিশিং কাঠামোর পথে’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিম।
মূল প্রবন্ধে বিদ্যমান অভিজ্ঞতা ও অর্জনের ভিত্তিতে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও প্রতিরোধমূলক, জবাবদিহিমূলক, তথ্যনির্ভর ও জনসম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান ও ভাইস রেক্টর ড. মো. আব্দুস সোবহান। তাঁরা কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বাস্তব দিক তুলে ধরে মতামত দেন।
কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ সমন্বয় করে বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকরভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সার সরবরাহের সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বিসিআইসি ও বিএডিসির রাসায়নিক সারের উৎপাদন, মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দুই বছরে গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় মাত্র তিন দিন সার উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গত ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সার সংকট মোকাবিলা ও ব্যয় কমাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে সার উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি।
এ ছাড়া বন্ধ ও পে-অফ করা সার কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু এবং পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
সারের কৃত্রিম সংকট রোধে ডিলারদের কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনার পাশাপাশি সার সরবরাহ ব্যবস্থায় ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালুর পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা, বিসিআইসি, বিএডিসি ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা আরও বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
এ সময় রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।
তিনি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।
এ সময় তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরো এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সকল সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।
তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।
এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন। সূত্র: বাসস
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে বড় ধরনের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে পূর্ব যোগাযোগ করেননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সার্বিক ঘটনাটির কারণ ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটপাত দখলমুক্ত করার সময় ডিশ লাইনের কেবল অপসারণকালে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই আগুন দ্রুত পাশের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকট শব্দে ট্রান্সফরমারটি বিস্ফোরিত হলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হকাররা চড়াও হয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ধাওয়া করে এবং তাদের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের জানান, সংঘাতের পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর ১৪ নম্বরমুখী সড়কে সাময়িকভাবে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এদিকে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও এর সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা মাস এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং যথাযথ প্রস্তুতির পরই এই শীর্ষ বৈঠক হওয়া উচিত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘তারিখ নিয়ে কোনো কথা হয়নি। মাস, তারিখ কোনো কিছুর কথা হয়নি। একটা আছে, ডেফিনেটলি ১২০ শতাংশ যে ভিজিট উইল টেক প্লেস। আর তাড়াহুড়ো করলে কারও কোনো লাভ নেই। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে যথাযথ প্রস্তুতি হোক।’ শীর্ষ বৈঠকের প্রাক-প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ধরনের শীর্ষ বৈঠকের আগে কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে এবং বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়ও থাকা দরকার।’
সফরটি দ্রুত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি চাই এটা আগামীকালই হোক। নভেম্বর পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করব? এটা আগামীকালও হতে পারে। কিন্তু সত্যি বলছি, কোনো তারিখ ঠিক করার কথা হয়নি, মাসও হয়নি। হবে, এটাই।,’ এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই যে মন্তব্যটা এসেছে পত্রিকায়, এটা সঠিক নয়। যা হবে আপনারা সেটা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।’
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি একদম আশাবাদী, ১০০ শতাংশ।’ তিনি জানান, উভয় দেশের সাধারণ মানুষ চায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের একটি ‘গোল্ডেন চ্যাপ্টার’ শুরু হোক। জনগণের মৌলিক আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা মূলত ভালো শিক্ষা, ভালো চিকিৎসা, ভালো চাকরি ও উন্নত জীবন। সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে দুই দেশকে কাজ করতে হবে।’ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো একটা প্রশ্ন নেই যা সলিউশন পাওয়া যাবে না, ১০০ শতাংশ।’
তবে চলমান সম্পর্কে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি ভুল ধারণা হবে। দুই দেশের নেতাদের সুবিধাজনক সময়ে বৈঠক করার সুযোগ দিতে হবে।’ দুই দেশের বহুমাত্রিক বন্ধনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পানি, ক্রিকেট, ফুটবল, বাণিজ্য, কবিতা, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ রয়েছে।’ তাঁর মতে, ‘দুই দেশের মধ্যে ‘ইন্টারডিপেনডেন্সি’, অর্থাৎ পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন।’
ধর্মের মুখোশ পরে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ‘বট’ ও গুপ্ত বাহিনীর সহায়তায় দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না এবং সরকার অত্যন্ত সবল থাকায় একে দুর্বল ভাবার কোনো অবকাশ নেই। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে যা যা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সরকার তার সবকিছুই করবে। যে দেশে হাদির খুনিরা আশ্রয় নিয়েছে, সেই প্রতিবেশী দেশে বসে একটি চিহ্নিত মহল বাংলাদেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যেকোনো উসকানি ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নূরুল ইসলাম মনি জানান, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের লক্ষ্যে বর্তমানে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশীজনের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে ধর্মীয় আবেগে আঘাত হেনে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিকেও অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে, আসন্ন সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধানে আবারও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে খতিব, ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ভাতার ব্যবস্থা করেছে এবং এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ফেনী জেলা সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের এই শুভাগমন উপলক্ষে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং জোরেশোরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রীর নানাবাড়ির পথ ও জিয়া সড়কসহ এলাকার প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ও যাত্রীছাউনিগুলো সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নান্দনিক রঙের ব্যবহারে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফর ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে বিপুল উৎসাহ ও নানা প্রত্যাশা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থান হিসেবে ফেনীতে তাঁর নামে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ বা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বন্যা প্রতিরোধে বরাদ্দকৃত দেড় হাজার কোটি টাকার নদী রক্ষা বাঁধটি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় সরকারি বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টায় পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ পয়েন্টে পৌঁছে তিনি ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর বেলা সোয়া ১টায় ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করে বেলা দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
বেলা ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় উপস্থিত হয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘রুফটপ সোলার’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে সরকারের সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে প্রান্তিক নাগরিকদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান করবেন তিনি। দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। সরকারের তৎপরতার অংশ হিসেবে এ মহাপরিকল্পনার মূল প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তিস্তা-সংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পূরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এই উদ্যোগ অনুমোদন পেলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে, যা মেগা প্রকল্পটির স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করবে।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।
সরকার প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা এবং ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ২২৪ কিলোমিটার শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণ, নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার ও কৃষি-শিল্প কাজে ব্যবহারের পথ উন্মোচন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এই বিষয়ে বলেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা কেবল নদী রক্ষাই করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর তৈরি সড়ক উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে।
বর্ষাকালে নদীবেষ্টিত যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, সেখানে সরকারের এই বহুমুখী বাঁধ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
জানতে চাইলে নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে।
বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে এ সমীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা হবে।
জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও দৃঢ় সঙ্কল্পের কথা তুলে ধরেন। এরপরেই এই প্রকল্পের কাজে গতি পেল।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মতো প্রান্তিক জেলাগুলোর অর্থনীতি যুগ যুগ ধরে তিস্তা নদীর খেয়ালিপনার শিকার। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব এবং বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনে গৃহহীন হতো লাখো মানুষ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার উদ্ধারকৃত জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিএনপি সরকারের উদ্যোগে সূচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মত বিশেজ্ঞদের। সূত্র: বাসস