সারা দেশের মানুষ গরমে অতিষ্ঠ বলা যায়। অন্যান্য বছর এপ্রিলে গরম থাকলেও ছিল কালবৈশাখী এবং বৃষ্টিপাত। এ বছর বৈশাখ আসার কয়েকদিন আগে দেশের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড় ও বৃষ্টিপাত হলেও ১৪ এপ্রিল থেকে তীব্র গরমে সারা দেশের মানুষের হাপিত্যেশ অবস্থা। ঘর থেকে বাইরে বের হলেই রোদের তীব্রতা ও বাতাসে আগুনের ফুলকির ছোঁয়া মানুষকে অস্থির করে তুলছে। দেশবাসী যেন অন্যরকম এক এপ্রিল মাস দেখছেন। এই তীব্র গরম থেকে সহজেই মুক্তি মিলছে না বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
আজ ও আগামীকাল মঙ্গলবারও দেশে এক রকম তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও এই না যে, দাবদাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে যেতে পারে দেশের কয়েক জায়গায়। তবে দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহটা চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
অন্যান্য সময় এপ্রিলের এ সময়ে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেছে। গড়ে সারা দেশের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। গতকাল রোববারও চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ জেলায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি থাকছে।
তীব্র এই দাবদাহে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন করে গতকাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)- ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস এবং সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভ্যাপসা এই গরমে সারা দেশের শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ যাদের কাজের জন্য বাইরে বের হতেই হয় তারা গরমে বেশ কষ্ট করছেন। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা এই গরমে জনজীবনে অস্বস্তি বিরাজ করছে। তীব্র গরমে ভোগান্তিতে রয়েছেন ভ্যানচালক থেকে শুরু করে হকার, বাইক রাইডারসহ পথচারীরাও।
এদিকে অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। রোববার সচিবালয়ে সারা দেশের হাসপাতালের পরিচালক এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে অনলাইনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরম চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা এবং একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী ছাড়া ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি বয়স্ক ও শিশুরা যেন প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
নরসিংদী ও সিলেটে হিটস্ট্রোকে মৃত্যু ২
নরসিংদীর মাধবদী হিটস্ট্রোকে এক যুবক ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক রিকশাচালকের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করা যুবকের নাম সাফকাত জামিল ইবান (৩২)। তিনি পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী এবং তিন বছর বয়সি কন্যা সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঈদ-পরবর্তী বেড়ানো শেষ করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন ইবান। এ সময় তীব্র দাবদাহের ফলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে বাড়ি ফিরেও অজ্ঞান এবং অতিরিক্ত ঘামে স্বস্তিবোধ না করায় সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রচণ্ড রোদের মাঝে চলাফেরা এবং প্রচুর ঘামের ফলেই অজ্ঞান হয়ে যায় ইবান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গরমে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া রিকশাচালকের নাম আবু হানিফ মিয়া (৩৪)। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বেলা ১১টার দিকে আবু হানিফ নামের এক রিকশাচালক দক্ষিণ সুরমা পুলিশ বক্সের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা মৃত্যু ঘোষণা করেন।
পুলিশের ক্যাম্পের দায়িত্বরত কনস্টেবল তোফায়েল আহমদ জানান, স্থানীয়রা ওই রিকশাচালককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ‘হিটস্ট্রোকে’ মৃত্যু হয়েছে।
গতকালও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়াল
দৈনিক বাংলার চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির তথ্যমতে, জেলার ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। শনিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এপ্রিল মাসজুড়ে দাবদাহ থাকতে পারে।
এদিকে প্রচণ্ড রোদে কৃষকের ফল-ফসল ও সবজি বাগান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া জেলায় বিভিন্ন সড়কের রাস্তার পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। জেলার সকল স্কুল-কলেজ, কিন্ডারগার্টেনসহ কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।
গরমজনিত কারণে জেলা সদর হাসপাতালে রোগী বাড়ছে। গত কয়েকদিনে শিশুসহ ১৩৭ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা. আতাউর রহমান বলেন, তীব্র দাবদাহে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে গরমজনিত রোগীর চাপ খুব একটা নেই। হয়ত কয়েক দিন পর থেকে বাড়তে পারে।
ঝিনাইদহে গরমে নলকূপে উঠছে না পানি
দৈনিক বাংলার ঝিনাইদহের প্রতিনিধি জানান, তীব্র গরম আর তাপদাহে জেলার ছয় উপজেলার মানুষ ও পশুপাখি হাঁসফাঁস করছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির চমর সংকট। হস্তচালিত নলকূপ এবং শ্যালো বোরিংয়ে উঠছে না পানি। ফলে গৃহস্থালি ও মাঠে কৃষকরা উভয়ই সংকটে পড়েছে।
জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগেও তার সেচ পাম্পে পর্যাপ্ত পানি উঠত। এখন মাটির গভীরে মেশিন বসিয়েও পানি উঠছে না। ভারী বৃষ্টি না হলে ঝিনাইদহের হাজারও কৃষক জমিতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন। ভুক্তভোগীরা বলছে, ইরি ধানের সেচ কাজে এবং পুকুর খনন করে মাছের চাষের জন্যে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর নেমে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার বেশিরভাগ বিল বাঁওড়, জলাশয় ও পুকুর-নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। বিশেষ করে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পানি শুকিয়ে গেছে। এসব নদীর তলদেশে কৃষকেরা এখন ধানচাষ করছেন।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু ঝিনাইদহ জেলাতে না। জেলাজুড়ে কত হাজার বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে নলকূপ রয়েছে, তা আমাদের পরিসংখ্যানে নেই। তবে সরকারিভাবে ঝিনাইদহ জেলায় ১৭ হাজার গভীর ও ১৮ হাজার অগভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপে পানির স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ নিয়ে নলকূপ স্থাপন করলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে।
বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে বিপাকে হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা
প্রচণ্ড গরমে একটানা বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার বেনাপোল প্রতিনিধি। ট্রাকে পণ্য ওঠানামা যেমন ধীরগতি দেখা দিয়েছে, তেমনি কমেছে তাদের দৈনিক আয়।
একটানা কাজ করতে না পারায় আয় কমেছে শ্রমিকদের। স্থলবন্দরের শ্রমিক সেলিম আহম্মেদ বলেন, ‘অন্যান্য সময় সারা দিন কাজ করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করতাম। এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক আবু নিদাল ফয়সল বলেন, ‘গরমের কারণে শ্রমিকরা লাগাতার কাজ করতে না পারায় ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাস করতে অধিক সময় চলে যাচ্ছে। ট্রাকে পণ্য লোড করতেও তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।এতে সময় মতো পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।’
গত বছরের তুলনায় এবার বেশি গরম পড়েছে। যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস বলেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। কিন্তু শনিবার (২০ এপ্রিল) গত কয়েকদিনের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রোববার বেলা ১টায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে এসেছে।
ঢাবি, জবি ও ববিতে ক্লাস-পরীক্ষার নতুন সূচি
দৈনিক বাংলার ঢাবি, জবি ও ববির প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সশরীরে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করাসহ অনলাইনে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রাখা এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অনলাইনে ক্লাসসহ পরীক্ষা সশরীরে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রবাস অথবা বাসার বাইরে যেতে চাইলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এবার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ
চলমান দাবদাহের কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল মনছুর ভূঞাঁ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা এর আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সারা দেশের ওপর দিয়ে প্রবহমান তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে ২৬ এপ্রিল শুক্রবার ও ২৭ এপ্রিল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২৮ এপ্রিল রোববার থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু তথা স্কুল খোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
দাবদাহ থেকে মুক্তি মিলবে কবে
দেশের মানুষ কবে দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার প্রায় একই রকম তাপদাহ অব্যাহত থাকবে।
এপ্রিলের ২৪-২৫ তারিখে একটু কমার সম্ভাবনা আছে, তবে তার মানে এই না যে, তাপপ্রবাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে আসতে পারে বা দুই-এক জায়গা থেকে কমতে পারে তাপপ্রবাহের হারটা; কিন্তু দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহে চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে আবহাওয়াবিদরা উল্লেখ করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টারআবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানায়, পাবনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র দাবদাহ বয়ে যাবে। মে মাসের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল এবং মে মাস সবচেয়ে উষ্ণতম দুটি মাস।
অতীতের যে ক্লাইমেটোলজি বা রিপোর্টগুলো আছে, তাতে দেখা গেছে যে, কখনো কখনো এপ্রিল থেকে মে মাসেই তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ছিল। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, এপ্রিলের পাশাপাশি মে মাসেও হিটওয়েভটা থাকবে।
দেশীয় প্রযুক্তি ও জনগণের বাস্তব চাহিদাকে কেন্দ্র করেই পদ্মা ব্যারাজের মতো বহুমাত্রিক জাতীয় পরিকল্পনার নকশা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজকে নিছক একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে পরিবেশ, মানুষ ও নদীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। নীতিসংক্রান্ত এই সংলাপের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ)।
দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, ১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে নদী ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রথম বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এ খাতে স্থবিরতা ছিল। ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আবার নতুন এক যাত্রার সূচনা করেছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের দাবি ও পরিবেশগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রকল্পের নকশায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, উজানের নদীগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৯৪২টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো রয়েছে। এ অবস্থায় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও আন্তর্জাতিক অধিকার আদায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এগোতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করেই সরকারের নীতি-কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার সব সময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।
আলোচনায় জানানো হয়, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সাতটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের কথা উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে আশঙ্কাজনকভাবে লবণাক্ততা বেড়েছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, মিঠা পানির প্রবাহ বাড়িয়ে সুন্দরবনের ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি গড়াই, মাথাভাঙা, মধুমতি, চন্দনা ও ইছামতী নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি ও অর্থনীতিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রকল্পটির অবদান প্রায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৯ সালের মধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশগত ও টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জননিরাপত্তা এবং দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ৫ আগস্টকে সামনে রেখে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টকে সামনে রেখে দেশজুড়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
আজ (সোমবার) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দিনটির গুরুত্ব এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্কতা জোরদার করতে এবং যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার অংশ হিসেবে, পুলিশের যানবাহনগুলোকে চালকবিহীন অবস্থায় না রাখা এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক সতর্কতা বজায় রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং ৫ আগস্টের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের সমন্বয় সভা হবে।
তিনি মতিঝিল ও আশুলিয়ায় সম্প্রতি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনাগুলো আতঙ্ক সৃষ্টি ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপপ্রচেষ্টা।
তিনি আরো বলেন, দায়ীদের শনাক্ত করতে এবং ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি সমন্বিত তদন্ত চলছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর কার্যকলাপের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সম্পত্তি দান করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি অধিকার বজায় রাখতে পারবেন- এমন বিধান রেখে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।।
বর্তমানে প্রচলিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ কেউ সম্পত্তি দান করলে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছে চলে যায়। তবে নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতা জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।
একই বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ আইনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ আইন গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে বলে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। তবে ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
আগামী বুধবার ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনকল্পে দেশের সকল সংবাদপত্র অফিস ছুটি পালনের ঘোষণা দিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
আজ সোমবার সংগঠনের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোয়াবভুক্ত সব সদস্যের অবগতির জন্য ছুটি-সংক্রান্ত এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশেষ ছুটির মধ্যেও প্রকাশনা অব্যাহত রাখার সুযোগ রেখে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “এই ছুটির সময়ও নোয়াব সদস্যরা বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশ করতে পারবেন।”
রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস, সরকারি সভা এবং প্রটোকল সংক্রান্ত অন্যান্য আয়োজনে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের যথাযথ পদমর্যাদা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ লক্ষ্যে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ১৯৮৬ (জুলাই ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও সরকারি সভাসহ বিভিন্ন প্রটোকলিক আয়োজনে আসন বিন্যাস, দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও আমন্ত্রণপত্রে নামের ক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকা বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স গুরুত্বের সাথে অনুসরণ করতে হবে। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় সরকারি কার্যক্রম ও প্রটোকল পালনে স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনার অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ আশা করছে যে, এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানরা তাদের নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও সম্মাননা সুশৃঙ্খলভাবে লাভ করবেন। মূলত সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকার ব্যত্যয় রোধ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এই মানবিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই বহুবর্ষী অর্থায়ন করা হবে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয়দের জন্য অপরিহার্য সেবা নিশ্চিত করবে।
অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা এমন এক সময়ে এলো যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার প্রবাহে এক ধরনের অনিশ্চয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারবে। অনুষ্ঠানে জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।”
ইউএনএইচসিআর-এর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি সংকটটি বিশ্ববাসীর নজরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলও শরণার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, “বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ভয়াবহ সহিংসতার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অধিকাংশ বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অর্থায়নের ঘাটতি এই শরণার্থীদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, যার ফলে অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রার ঝুঁকি নিচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এমন চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করায় আবাসন ও জ্বালানির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার এই ধারাবাহিক সহায়তা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও টেকসই জীবনমান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে। যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পরিবেশের বর্তমান অবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’ তিনি মনে করেন, পরিবেশ দূষণের এই ক্রমবর্ধমান হার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের চিত্র ফুটিয়ে তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’
গৃহস্থালি পরিবেশের উদাহরণ টেনে তিনি জনগণের বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন তৃষ্ণ ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’ কেবল পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’ জাতীয় উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি পরিশেষে বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিয়মিত ও বৈধ উপায়ে অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ মন্ত্রণালয়ে আইওএমের অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে অভিবাসীদের সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ব শ্রমবাজারের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের জনশক্তিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে আইওএম-এর সক্রিয় সহযোগিতার প্রশংসা করেন। নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের বৈশ্বিক চুক্তি বা জিসিএম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এই চুক্তির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত ও কর্মমুখী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নৈতিকতা বজায় রাখা এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বাজারের নিরিখে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি।
বৈঠকে বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং এবং কৃষি খাতে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্য দেশের সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব সহজতর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে আইওএম-এর কারিগরি সহায়তা কামনা করা হয়। অভিবাসী কর্মীদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর প্রতিমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সংকটকবলিত দেশগুলো থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইওএম-এর ভূমিকার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান এবং মানব পাচার রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য আইওএম-এর মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী তাদের সসম্মানে ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে, আইওএম প্রতিনিধি উগোচি ড্যানিয়েলস টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়োচিত উদ্যোগ ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং মানবিক অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
একই সঙ্গে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স-২ শাখা থেকে গত ২৮ জুলাই জারি করা এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সব সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে এআই টুলের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের গতি, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়লেও অসতর্ক ব্যবহারে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ বা তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই টুল ব্যবহারের সময় সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং সরকারের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে, যাতে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন থাকে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ জোবায়ের আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলার তিন দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পদার্পণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তার আগমন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, অ্যাডমিরাল কোহলারের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেবে।
সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বাংলাদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন। এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সংযোগের গতিশীলতাকে নির্দেশ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর গুরুত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি আয়োজন করা হয়েছে। অভিজ্ঞ যুদ্ধবিমানচালক এবং সামরিক কৌশলবিদ হিসেবে সুপরিচিত অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলারের এই উপস্থিতি দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক নিরাপত্তা আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় দেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলছিলেন, ‘সার্জিও গরের এই সফর ছিল মূলত একটি অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার প্রথম ঢাকা সফর। দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক আছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, সব বৈঠকই আন্তরিক ও ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত হাব হিসেবে দেখতে চায়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ম্যানিলায় গিয়েছিলাম। সেখানেও সার্জিও গরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। পরে তিনি ঢাকায় এসে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। এরপর শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, প্রথম সফর হওয়ায় সার্জিও গরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সার্জিও গর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। এ থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি বোঝা যায়। আমাদের সম্পর্ক এখন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সরকারের ভিত্তি জনগণ, আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সম্মান অর্জন করছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, সৌদি আরব কিংবা রাশিয়া— সব জায়গাতেই বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা বজায় রাখছে।
তার মতে, এটি একটি নতুন সূচনা এবং অত্যন্ত ইতিবাচক সূচনা। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। বরং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করব।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তানীতি আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, এর পেছনে তার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব, আন্তরিকতা এবং বিনয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং জনগণের সরকার পরিচালনা করতে চান।
অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন, শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। কেউ একজন সন্ত্রাসীকে নিয়ে কথা বলে না। বুঝতে পেরেছেন?
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই.ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বিশেষ আগ্রহী।
এর জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি এলএনজি আকারেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ প্রস্তাবেও ইতিবাচক সাড়া দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
বৈঠকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় আনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতা আরো এগিয়ে নিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন। প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ওই সফরে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা করিডোর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতার বহু সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র রয়েছে। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক আগ্রহের কথাও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।
এ সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।
এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।