সারা দেশের মানুষ গরমে অতিষ্ঠ বলা যায়। অন্যান্য বছর এপ্রিলে গরম থাকলেও ছিল কালবৈশাখী এবং বৃষ্টিপাত। এ বছর বৈশাখ আসার কয়েকদিন আগে দেশের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড় ও বৃষ্টিপাত হলেও ১৪ এপ্রিল থেকে তীব্র গরমে সারা দেশের মানুষের হাপিত্যেশ অবস্থা। ঘর থেকে বাইরে বের হলেই রোদের তীব্রতা ও বাতাসে আগুনের ফুলকির ছোঁয়া মানুষকে অস্থির করে তুলছে। দেশবাসী যেন অন্যরকম এক এপ্রিল মাস দেখছেন। এই তীব্র গরম থেকে সহজেই মুক্তি মিলছে না বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
আজ ও আগামীকাল মঙ্গলবারও দেশে এক রকম তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও এই না যে, দাবদাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে যেতে পারে দেশের কয়েক জায়গায়। তবে দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহটা চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।
অন্যান্য সময় এপ্রিলের এ সময়ে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেছে। গড়ে সারা দেশের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। গতকাল রোববারও চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ জেলায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি থাকছে।
তীব্র এই দাবদাহে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন করে গতকাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)- ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস এবং সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভ্যাপসা এই গরমে সারা দেশের শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ যাদের কাজের জন্য বাইরে বের হতেই হয় তারা গরমে বেশ কষ্ট করছেন। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা এই গরমে জনজীবনে অস্বস্তি বিরাজ করছে। তীব্র গরমে ভোগান্তিতে রয়েছেন ভ্যানচালক থেকে শুরু করে হকার, বাইক রাইডারসহ পথচারীরাও।
এদিকে অব্যাহত থাকা তীব্র দাবদাহের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। রোববার সচিবালয়ে সারা দেশের হাসপাতালের পরিচালক এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে অনলাইনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরম চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা এবং একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী ছাড়া ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি বয়স্ক ও শিশুরা যেন প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
নরসিংদী ও সিলেটে হিটস্ট্রোকে মৃত্যু ২
নরসিংদীর মাধবদী হিটস্ট্রোকে এক যুবক ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক রিকশাচালকের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করা যুবকের নাম সাফকাত জামিল ইবান (৩২)। তিনি পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী এবং তিন বছর বয়সি কন্যা সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঈদ-পরবর্তী বেড়ানো শেষ করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন ইবান। এ সময় তীব্র দাবদাহের ফলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে বাড়ি ফিরেও অজ্ঞান এবং অতিরিক্ত ঘামে স্বস্তিবোধ না করায় সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রচণ্ড রোদের মাঝে চলাফেরা এবং প্রচুর ঘামের ফলেই অজ্ঞান হয়ে যায় ইবান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গরমে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া রিকশাচালকের নাম আবু হানিফ মিয়া (৩৪)। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বেলা ১১টার দিকে আবু হানিফ নামের এক রিকশাচালক দক্ষিণ সুরমা পুলিশ বক্সের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা মৃত্যু ঘোষণা করেন।
পুলিশের ক্যাম্পের দায়িত্বরত কনস্টেবল তোফায়েল আহমদ জানান, স্থানীয়রা ওই রিকশাচালককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ‘হিটস্ট্রোকে’ মৃত্যু হয়েছে।
গতকালও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়াল
দৈনিক বাংলার চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির তথ্যমতে, জেলার ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। শনিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এপ্রিল মাসজুড়ে দাবদাহ থাকতে পারে।
এদিকে প্রচণ্ড রোদে কৃষকের ফল-ফসল ও সবজি বাগান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া জেলায় বিভিন্ন সড়কের রাস্তার পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। জেলার সকল স্কুল-কলেজ, কিন্ডারগার্টেনসহ কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।
গরমজনিত কারণে জেলা সদর হাসপাতালে রোগী বাড়ছে। গত কয়েকদিনে শিশুসহ ১৩৭ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা. আতাউর রহমান বলেন, তীব্র দাবদাহে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে গরমজনিত রোগীর চাপ খুব একটা নেই। হয়ত কয়েক দিন পর থেকে বাড়তে পারে।
ঝিনাইদহে গরমে নলকূপে উঠছে না পানি
দৈনিক বাংলার ঝিনাইদহের প্রতিনিধি জানান, তীব্র গরম আর তাপদাহে জেলার ছয় উপজেলার মানুষ ও পশুপাখি হাঁসফাঁস করছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির চমর সংকট। হস্তচালিত নলকূপ এবং শ্যালো বোরিংয়ে উঠছে না পানি। ফলে গৃহস্থালি ও মাঠে কৃষকরা উভয়ই সংকটে পড়েছে।
জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগেও তার সেচ পাম্পে পর্যাপ্ত পানি উঠত। এখন মাটির গভীরে মেশিন বসিয়েও পানি উঠছে না। ভারী বৃষ্টি না হলে ঝিনাইদহের হাজারও কৃষক জমিতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন। ভুক্তভোগীরা বলছে, ইরি ধানের সেচ কাজে এবং পুকুর খনন করে মাছের চাষের জন্যে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর নেমে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার বেশিরভাগ বিল বাঁওড়, জলাশয় ও পুকুর-নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। বিশেষ করে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পানি শুকিয়ে গেছে। এসব নদীর তলদেশে কৃষকেরা এখন ধানচাষ করছেন।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু ঝিনাইদহ জেলাতে না। জেলাজুড়ে কত হাজার বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে নলকূপ রয়েছে, তা আমাদের পরিসংখ্যানে নেই। তবে সরকারিভাবে ঝিনাইদহ জেলায় ১৭ হাজার গভীর ও ১৮ হাজার অগভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপে পানির স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ নিয়ে নলকূপ স্থাপন করলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে।
বেনাপোলে প্রচণ্ড গরমে বিপাকে হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা
প্রচণ্ড গরমে একটানা বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার বেনাপোল প্রতিনিধি। ট্রাকে পণ্য ওঠানামা যেমন ধীরগতি দেখা দিয়েছে, তেমনি কমেছে তাদের দৈনিক আয়।
একটানা কাজ করতে না পারায় আয় কমেছে শ্রমিকদের। স্থলবন্দরের শ্রমিক সেলিম আহম্মেদ বলেন, ‘অন্যান্য সময় সারা দিন কাজ করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করতাম। এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক আবু নিদাল ফয়সল বলেন, ‘গরমের কারণে শ্রমিকরা লাগাতার কাজ করতে না পারায় ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাস করতে অধিক সময় চলে যাচ্ছে। ট্রাকে পণ্য লোড করতেও তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।এতে সময় মতো পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।’
গত বছরের তুলনায় এবার বেশি গরম পড়েছে। যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস বলেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। কিন্তু শনিবার (২০ এপ্রিল) গত কয়েকদিনের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রোববার বেলা ১টায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে এসেছে।
ঢাবি, জবি ও ববিতে ক্লাস-পরীক্ষার নতুন সূচি
দৈনিক বাংলার ঢাবি, জবি ও ববির প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সশরীরে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করাসহ অনলাইনে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রাখা এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অনলাইনে ক্লাসসহ পরীক্ষা সশরীরে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রবাস অথবা বাসার বাইরে যেতে চাইলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এবার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ
চলমান দাবদাহের কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল মনছুর ভূঞাঁ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা এর আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সারা দেশের ওপর দিয়ে প্রবহমান তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে ২৬ এপ্রিল শুক্রবার ও ২৭ এপ্রিল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২৮ এপ্রিল রোববার থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু তথা স্কুল খোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
দাবদাহ থেকে মুক্তি মিলবে কবে
দেশের মানুষ কবে দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার প্রায় একই রকম তাপদাহ অব্যাহত থাকবে।
এপ্রিলের ২৪-২৫ তারিখে একটু কমার সম্ভাবনা আছে, তবে তার মানে এই না যে, তাপপ্রবাহ শেষ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো মাঝারি থেকে মৃদুতে আসতে পারে বা দুই-এক জায়গা থেকে কমতে পারে তাপপ্রবাহের হারটা; কিন্তু দেশের বেশির ভাগ জায়গায় দাবদাহে চলতি মাসজুড়েই বিরাজমান থাকবে বলে আবহাওয়াবিদরা উল্লেখ করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টারআবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানায়, পাবনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র দাবদাহ বয়ে যাবে। মে মাসের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল এবং মে মাস সবচেয়ে উষ্ণতম দুটি মাস।
অতীতের যে ক্লাইমেটোলজি বা রিপোর্টগুলো আছে, তাতে দেখা গেছে যে, কখনো কখনো এপ্রিল থেকে মে মাসেই তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ছিল। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, এপ্রিলের পাশাপাশি মে মাসেও হিটওয়েভটা থাকবে।
আজ শনিবার, ছুটির দিনেও অফিস করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টানা তৃতীয় শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে অফিস করলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন কার্যালয়ে অফিস করেছেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ১২টায় কার্যালয়ে আসেন। এরপরই পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার।
এরপর দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, দেশের ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতারের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয় থেকে সেখানে যাবেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আসন্ন দিনগুলোতে তেলের তীব্র সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্ক থেকে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরেও রাজধানীর বিজয় সরণি, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত কয়েক লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আশিকুজ্জামান চয়ন নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে রাব্বি নামের আরেক চালক বলেন, তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন গুজবে তিনি বাধ্য হয়েই এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কারণ গাড়িতে তেল না থাকলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
এই অস্বাভাবিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিবার বা প্রতি ট্রিপে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২৫ লিটার, পিকআপের জন্য ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বড় ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২২০ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত তেলের মজুদ ঠিক রাখতে এবং সবার মাঝে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা একটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে এখনই দেশের বাজারে দাম না বাড়াতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধেই দ্বিগুণেরও বেশি দামে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীল করবেন না। বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং গুজব ছড়ানো রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার রেশ ধরে বাংলাদেশে যে জ্বালানি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
খামখেয়ালি নয়, স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই এগিয়ে যাবেন ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরা— এমনটাই জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় ও শেষ দিনের কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে কার্যকরী সংসদ উপহার দিতেই এ কর্মশালা। সংসদে যোগ দেওয়া নবীন সদস্যরা যেন মানসিক চাপ না নেন, সে লক্ষ্যেই এটির আয়োজন।
তিনি বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রথম ভাষণ দেবেন। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বিএনপি। নতুন সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। এ লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন, যার মধ্যে ১৪৬ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাবেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া একটি নাশকতা মামলায় সালাউদ্দীন আইয়ূবী (৪৫) নামে এক সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দীন আইয়ূবী হাটহাজারী উত্তর থানা শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সাদেক নগর গ্রামের মো. জানে আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, সালাউদ্দীন দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন।
হাটহাজারী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নাশকতার মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আত্মগোপনে বা প্রবাসে থাকায় পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে যৌথ বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে।
হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্যের পথে’ শীর্ষক এক সংলাপে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং মোট পদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রাইমারি হেলথকেয়ার সিস্টেমকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশব্যাপী ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে এর প্রয়োজনীয় কাঠামো গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসা সেবা প্রদানকে আরও সহজ ও নিখুঁত করবে। প্রতিমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে দেশের সাধারণ মানুষ উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তবে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় অংশ দুর্নীতির কবলে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সঠিক তদারকি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে যেকোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বা প্রকল্প শেষ পর্যন্ত ‘মেগা দুর্নীতির’ খাতে পরিণত হতে পারে। তাই সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ পরিচালনা করতে একটি নির্দিষ্ট পাইপলাইনিং বা টেকসই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতে অনেক ভালো উদ্যোগ কেবল তদারকির অভাবে দুর্নীতির ভিড়ে হারিয়ে গেছে, যার পুনরাবৃত্তি বর্তমান সরকার হতে দেবে না।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন এম এ মুহিত। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও সরকারের নজরে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা হবে। এই বিশাল নিয়োগ এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা জনদুর্ভোগ ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সরাসরি সমাধান করতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নাগরিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি শনিবার ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। এই বিশেষ দিনে সাধারণ নাগরিকরা কোনো রকম মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন।
ডিএসসিসির এক সাম্প্রতিক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগর ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সর্বসাধারণের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের জন্য এই দিনটি বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নগর ভবনের দুয়ার এখন আরও অবারিত হলো। মূলত নাগরিক সেবার মান বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (রমজান মাস উপলক্ষে) এবং বছরের অন্য সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দারা রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশা নিধন বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলাই সংক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক অভিযোগ সরাসরি প্রশাসকের কাছে জানাতে পারবেন। প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান অথবা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের এই ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’-তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণ করলে একদিকে যেমন দুর্নীতির সুযোগ কমবে, তেমনি অন্যদিকে নাগরিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান নিশ্চিত হবে। এই নতুন উদ্যোগটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির অতীত নেতিবাচক ও খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি উন্নত ও আধুনিক সংসদ উপহার দিতে চায়। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখে দেশবাসী আশ্বস্ত হবেন এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংসদের স্বাদ পাবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই বিশেষ কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের সংবিধান (কনস্টিটিউশন), সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর), সংসদীয় রীতিনীতি (কাস্টমস) এবং কনভেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংসদে যে ধরণের উন্নত চর্চা হয়, সেসব বিষয় নিয়েও নবনির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো অতীতের সব নেতিবাচক স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে দেওয়া এবং এমন একটি সংসদীয় পরিবেশ তৈরি করা যা জাতি দীর্ঘকাল প্রত্যাশা করে এসেছে।’
বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর দলের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন এমপিদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা নবীন, তারা সতেজ মনে ভালো শিক্ষাটা পাবেন। একটি শিশু যেমন জন্মের পর নতুন পরিবেশ থেকে শুদ্ধ সংস্কৃতি শেখে, আমাদের নতুন সংসদ সদস্যরাও তেমনিভাবে সংসদীয় শিষ্টাচার ও বিধিবিধানের সঠিক শিক্ষা নিয়ে দেশ সেবায় নামবেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই প্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।
উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও আচার-আচরণ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দলীয়ভাবে এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দলের এমপিদের এমন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিএনপি আশা করছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংসদ সদস্যরা গঠনমূলক আলোচনা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন।
উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আইন সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এ কে এম আফজাল উল মুনীর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচিত কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও একঝাঁক প্রতিভাবান আইনজীবীকে দেখা গেছে। সহ-সভাপতি পদে ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, হাসিনা মমতাজ মিষ্টি এবং সুপ্রিয়া দাসসহ মোট ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মামুনুর রশিদ ও নুসরাত ইয়াসমিন সুমাইয়া। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সালেহ আকরাম সম্রাট ও মো. কামরুল হাসান এবং অর্থ সম্পাদক পদে মো. আরমান হোসাইন দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বেল্লাল হোসাইন ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে আব্দুস সাত্তার রনি নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে হাফিজুল হক ও জাহাঙ্গীর আলমসহ মোট ১১ জন জয়লাভ করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত কমিটি তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের বিচার বিভাগের উন্নয়ন এবং সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতারা বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বাংলাদেশ আইন সমিতি সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে।
ভোট গ্রহণ শেষে ভোটার ও অতিথিদের সম্মানে এক জমকালো ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজ্ঞ আইনজীবীরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সদস্যদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তাঁরা একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল সমিতি উপহার দেবেন। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আন্দোলনে তাঁরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই পতাকাবাহী সংস্থা। এর আগে ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আরও কয়েক দিন বাড়ানো হলো।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বাতিল হওয়া রুটের তালিকায় রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবু ধাবি ও শারজাহ, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত সিটি। এই রুটের যাত্রীদেরকে বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি জানানো হবে বলে বিমানের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। যুদ্ধের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশগামী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিমানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে যারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের বিমানের কল সেন্টার অথবা নিকটস্থ সেলস অফিসে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব এখন বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ওপর বড় ধরণের ছায়া ফেলেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই, এই সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান নেই। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। জামায়াতের উদারভাবে তা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।
দেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় কোনো আপস করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে অত্যন্ত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কেবল কঠোর আইন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব।
বিদেশি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমাজে একটি সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তার সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।
ইফতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বাম পাশে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোরের শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী আরও বলেন, কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের জ্বালানিসম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেলসংকটের আতঙ্কে যশোরে হঠাৎ তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ বাইকারই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল দাবি করছেন। এতে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে অকটেন মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল।
সেখানেও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে তেল। পাম্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পগুলোতে আগামী রোববার পর্যন্ত তেলের মজুত থাকলেও বাইকারদের অতিরিক্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার আগেই শেষ হবে তেল। ফলে বাইকারদের আতঙ্কে যশোরে সৃষ্টি হতে চলছে তেলের তীব্র সংকট।
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমার অনুরোধ হচ্ছে, এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না। আপনারা যদি কোনও নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখবো। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, এ চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়, প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে— যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তির বিষয়ে বর্তমান সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এটি সই করেছে।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি।
মন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সব চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আর কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে— যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে, যেগুলোর ওপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি।
তিনি বলেন, আমি এটিকে হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও এভাবে দেখছি না। একটা চুক্তি হয়েছে এটি একটি বাস্তবতা।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম— সেটি হলো, আমেরিকান উচ্চতর আদালতে টেরিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়রের যে ধারায় টেরিফ ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারা এই টেরিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এটি ছিল আমার কথা।