রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
২৯ চৈত্র ১৪৩২

পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ গণপূর্তমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:০৫

কার্বন নিঃসরণহীন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। আজ রোববার পর্ষদের চেয়ারম্যান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) সম্মেলনকক্ষে পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য যেসব আইন, তা বঙ্গবন্ধু স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রণয়ন করেছিলেন। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টারও তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরিবেশ সুরক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কার্বন নিঃসরণহীন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী উদ্ভাবনে গবেষণার জন্য এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।

২০১৮ সালে এইচবিআরআই আইন পাস হওয়ার পর ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল বর্তমান পর্ষদ গঠন করা হয়। এটা বর্তমান পর্ষদের প্রথম সভা এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর ক্রমপুঞ্জিত ৭৩তম সভা। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হাইজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স সেন্টার ২০১৮ সালে হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউট নামে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে। হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সভা সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

রোববারের সভায় বিগত সভার কার্যপত্র অনুমোদন করা হয়। সভায় ২০১৮ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ডিপিসির সিদ্ধান্তে ইনস্টিটিউটের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন ভূতপূর্ব অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ইনস্টিটিউটের ২১ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান ১৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্মচারিদের পেনশন প্রবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবনা নির্ধারণের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাকিলা জেরিনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় সিনিয়র রিসার্স অফিসারের পদ পঞ্চম গ্রেডে, রিসার্স অ্যাসিস্ট্যান্ট/রিসার্স অ্যাসোসিয়েটের পদ ১১ থেকে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সভায় পরিচালনা পর্ষদের ভাইস-চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নবীরুল ইসলাম, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আখতার হোসেনসহ অন্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। ওই সময় তিনি সব সরকারি ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেন।


ঢাকার ৭ ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাশ’ বাধ্যতামূলক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ‘ফুয়েল পাশ’ ব্যবহার করে তেল নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে এসব নির্ধারিত পাম্পে অ্যাপের মাধ্যমেই শুধুমাত্র পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করতে পারবেন গ্রাহকরা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ যানজট এবং যানবাহনের অস্বাভাবিক সারির সৃষ্টি হচ্ছিল। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বারবার তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠছিল। এসব সমস্যা নিরসনে ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপটি সরাসরি বিআরটিএ-র কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি যানবাহনের তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। শুরুতে মাত্র দুটি স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হলেও গতকাল শনিবার আরও পাঁচটি স্টেশন যুক্ত করার মাধ্যমে পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীর যেসব ফিলিং স্টেশনে এই বিশেষ ডিজিটাল সেবা কার্যকর রয়েছে সেগুলো হলো—তেজগাঁও এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ এলাকার নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন। এসব স্টেশনের মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা ডিজিটাল মাধ্যমে এন্ট্রি সম্পন্ন করার পরই গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সরবরাহ করবেন।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে কিউআর কোডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। পাম্পে দায়িত্বরত কর্মীরা সেই কিউআর কোড স্ক্যান করেই জ্বালানি সরবরাহ করবেন। স্ক্যান করার সাথে সাথেই গ্রাহক তাঁর জন্য পূর্বনির্ধারিত জ্বালানির বরাদ্দের পরিমাণ এবং উত্তোলনের তথ্য দেখতে পারবেন।

জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের সামগ্রিক চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই আধুনিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমানের মতো বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সংকটকালীন সময়ে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই ডিজিটাল পদক্ষেপ ধাপে ধাপে রাজধানীর অন্যান্য পাম্প এবং পরবর্তীতে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দরবারে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

তারেক রহমান আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতের সংস্কার এবং মানুষের উন্নয়নকে সামনে রেখে একটি নতুন রূপান্তরের পরিকল্পনা তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারে রয়েছে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।


হাম মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের ১৮টি জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, পর্যায়ক্রমে আমরা বাংলাদেশের বড় সিটি কর্পোরেশনগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করলাম। এর পাশাপাশি আগামী ২০ তারিখ থেকে সারা দেশে এই হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে আমাদের এক মিনিটও অপেক্ষার সময় নেই। আমরা অতি গুরুত্বসহকারে দ্রুততমভাবে এই কাজগুলো করছি। জনগণের কাছে আপনাদের সেই কথাগুলো তুলে ধরতে হবে। তাহলে জনগণ যে আশা নিয়ে যে স্বপ্ন নিয়ে স্বৈরাচারের বাংলাদেশ থেকে নতুন গণতন্ত্রে বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের ভোট দিয়েছেন, সমর্থন দিয়েছেন, আমরা তাদের সেই স্বপ্নকে পূরণ করতে পারব। তাদের সেই সমর্থনকে ধরে রাখতে পারব।

সরকারে আসার পর থেকে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করছি। কিন্তু যদি আমরা বারবার মানুষের কাছে যেতে পারি, মানুষ জানবে আমাদের কাজের ফল এই সুযোগে আমরা তাদের কাছে যাব। তাদের জন্যই আমরা কাজ নিয়ে এসেছি। আর এটি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিশুদের সুরক্ষা।

তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় বলেন আমরা রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের সময় আসি তারপরে ভুলে যাই। এই ক্যাম্পেইনটি একটি সুযোগ।

অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, আপনারা যখন জনগণের কাছে সঠিক তথ্য নিয়ে যাবেন, তখন মানুষ প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারবে। আমাদের সরকার ও দলের বিরুদ্ধে অতীতেও অপপ্রচার হয়েছে, এখনও হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা করবে, কিন্তু জনগণ এখন অনেক সচেতন।

তিনি আরও বলেন, মায়েদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই। যাদের বয়স ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের কম তাদের অবশ্যই এই টিকার আওতায় আনবেন। এই টিকা সফল হবে কি হবে না, আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকবে কিনা শুধু আপনার একজন বাচ্চা টিকা নিল কিনা তার ওপর নির্ভরশীল নয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ। এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির নিজস্ব কোনো জেনারেল হাসপাতাল নেই। তবে মহাখালীতে আমাদের একটি স্থাপনা রয়েছে, যা বর্তমানে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত। আমি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি চাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ভবনে আমাদের ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে। সেই লক্ষ্যে আমরা সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি সম্প্রতি ওই হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম এবং সেখানে কিছু অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করেছি। সেখানে একটি জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি দলের সদস্যরাসহ আরও অনেকেই।


রাজধানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বনানীর এরশাদ মাঠে হাম প্রকোপ প্রতিরোধে এ বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ডিএসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।


১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে।

উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।


আলোচনায় হাসিনার প্রত্যর্পণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ভারতের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়েও আভাস দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ৮ এপ্রিল দিল্লি সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি। এই সফরে আমরা সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছি।’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব তথ্য এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের প্রত্যর্পণের জন্য এই আবেদন জানানো হয়েছিল।

সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে আমরা এখনো তারিখ চূড়ান্ত করিনি। এই সফরের প্রস্তুতির জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহে অনেকগুলো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত আগ্রহী।

দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে ‘যথেষ্ট আশাবাদী’ বলে জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সম্পর্কের এই অগ্রযাত্রা দেখতে পাব বলে আশা করছি।’

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত কর্তৃক গত এক বছরে সীমিত রাখা ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার বিষয়টিও উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটিও উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এটি মোকাবিলা করতে হবে, অন্যথায় আমরা আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

খলিলুর রহমান বলেন, এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা সবাই মিলে কাজ করি এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ কেন অংশ নিতে চাইছে না; সেই কারণগুলো দূর করতে পারি, তবে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। এটি মূলত অন্যদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়।’


চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে: র‍্যাব মিডিয়া উইং

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তালিকা প্রস্তুত শেষে সব অপরাধীর বিরুদ্ধে যেকোনো সময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

র‌্যাব পরিচালক জানান, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ককেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। সে ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে।


ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি বাচ্চাদের হামের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে: স্বাস্থ্য সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বা ৫ বছর বয়সি সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৪ বছর টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।’

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই।’

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে গেছে, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,১৭৭ শিশু এবং শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৪৪ শিশু, নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। মোট আক্রান্ত ২,৪০৯ জন, আর সন্দেহজনকভাবে ভর্তি হয়েছে ৮,৯১০ শিশু—যাদের মধ্যে ৬,৬০৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম চলছে, ১২ এপ্রিল কয়েকটি সিটিতে এবং ২০ এপ্রিল সারাদেশে টিকাদান শুরু হবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশুকে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তবে অসুস্থ থাকলে টিকা নেওয়া যাবে না।


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নিহতদের মরদেহ ফেরাতে সরকার সচেষ্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ফরিদপুরের দিপালীসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছেন তাদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাসহ অন্যান্য সমস্যা বাংলাদেশ সরকার দেখছে। ওইসব দেশে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা যেন আবার ফেরত যেতে পারেন, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আমরা দেখছি।

শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায় নিজ বাসভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ম্যানুফেস্টোতেই রয়েছে, আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। যারা কর্ম হারিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা ফেরত যেতে চায়, তাদের বিষয়েও কিন্তু আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।

ফরিদপুর পূজা উদযাপন ফন্টের আহ্বায়ক অজয় কুমার করের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার ফজলুল হক টুলু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, এবং নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুকুল। এছাড়া নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’ শিক্ষাবৃত্তি পেল সাংবাদিক কন্যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং আর্থিক অসচ্ছল সাংবাদিক কন্যাদের হাতে ২০২৬ সালের শিক্ষাবৃত্তি তুলে দিয়েছে ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’। শনিবার রামপুরার বনশ্রীতে মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা বৃত্তির নগদ অর্থ দেওয়া হয়। গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়া ফ্রন্টলাইন’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের চেয়ারম্যান ও দৈনিক খবর সংযোগের সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে নারীর শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘একজন মা একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে পারেন। তাই সুশিক্ষিত জাতি গঠনের মাধ্যমে সুন্দর আগামী বিনির্মাণে নারীর শিক্ষালাভের গুরুত্ব অপরিসীম।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা সুশিক্ষিত হলে সেই প্রভাব শুধু একটি পরিবারের ওপর নয়, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। সুতরাং উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কন্যা সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের ঝরে পড়া রোধ করা আমাদের সামষ্টিক দায়িত্ব। মূলত সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্টের এই উদ্যোগটি সমাজের সেসব পিছিয়ে পড়া বা অসুস্থ সাংবাদিক কন্যাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াস।’

মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের চিফ কো-অর্ডিনেটর ও মানবাধিকারকর্মী জাকির মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ফ্রন্ট লাইনের এডিশনাল চিফ কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল হক পাঠান, খবর সংযোগ অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ার প্রধান আবু কাউছার খোকন, মিডিয়া ফ্রন্ট লাইনের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর শামশুল আবরার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত,, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে সাংবাদিক কন্যাদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে আসছে ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ও আর্থিক অসচ্ছল সাংবাদিক কন্যাদের এই বৃত্তি দেওয়া হয়। এই শিক্ষাবৃত্তি পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধান করছে মিডিয়া ফ্রন্টলাইন ফাউন্ডেশন। বিশিষ্ট ব্যাংকার ও ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে দুজন মহীয়সী নারীর স্মরণে সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল।


জিয়া সরণি খাল আধুনিকায়নে ডিএসসিসির ব্যাপক উদ্যোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালামের বিশেষ উদ্যোগে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘জিয়া সরণি খাল’ পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। শনিবার খালের বর্তমান অবস্থা ও পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনভোগান্তি দূর করতে আমরা এই খালটিকে চলাচলের উপযোগী ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়।

এই প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নিষ্কাশন পথ কমে আসবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে।’

তিনি জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থে বর্তমানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রাথমিক পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।

এ সময় ডিএসসিসির প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিয়া সরণি খালকে পুনরুদ্ধারে ডিএসসিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর খাল উন্নয়ন প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়েছে। এখানে আধুনিক নেটিং ব্যবস্থা ও হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, বিগত সরকার কেবল ‘জিয়া’ নামের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই খালটি অবহেলা করেছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

খাল পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ময়লা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ড্রামে ফেলুন। আমরা প্রতিটি ব্লকে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করব, যারা ডিএসসিসি প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে খালের রক্ষণাবেক্ষণ মনিটর করবেন।’

এদিকে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, সিএস পর্চা ও ম্যাপ অনুযায়ী খালের জায়গা দখলমুক্ত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে।

পরবর্তীতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশাসক কুতুবখালী খাল পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উপস্থিতিতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় বিকেলে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

অন্যদিকে যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ডিএসসিসি। এ সময় ৩০টি অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদপূর্বক সিলগালা করে দেওয়া হয়।


তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৩৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬) সারাদেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৩৬ জন নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৭০ জন এবং মব সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৪৯ জনের।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, নিজস্ব তথ্যসংগ্রহ এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি–মার্চ সময়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংঘর্ষ: প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে মোট ৬১০টি সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ৪০৭৮ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ২৮ জন, জামায়াতের চারজন, আওয়ামী লীগের একজন এবং অন্যান্য দলের তিনজন রয়েছেন।

ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৭৩টি (৯৪ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলের সংঘর্ষে।

বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ১৯৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৫৮৫ জন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ২৬০টি ঘটনায় নিহত সাত ও আহত ১৬৫৪ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৩৬টি ঘটনায় নিহত তিন ও আহত ২১৯ জন। এছাড়া বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ২৩টি ঘটনায় ২০৪ জন এবং অন্যান্য দলগুলোর সংঘর্ষে ১৯৬ জন আহত হন।

দুষ্কৃতকারীদের হামলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর ৩৪টি ঘটনায় আরও ২২ জন নিহত ও অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত তিন মাসে ৩৯৫টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৭৩ জন। নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ৬০০টির বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন ঘিরে অন্তত ১২টি ঘটনায় ১৮ জন নারী হেনস্তার শিকার হন এবং ছয়জন আহত হন।

রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেপ্তার: প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় অন্তত ৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৮৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২১ হাজার ৭৪ জনকে।

রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কমপক্ষে ৮৫৮ জন নেতাকর্মী—এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৩৬ জন, বিএনপির ৩১৪ জন, জামায়াতের ৭৬ জন এবং এনসিপির ১৭ জন।

এছাড়া যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ছয় হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নির্যাতন: গত তিন মাসে ১৭টি সভা-সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় আহত হন ২০৪ জন।

এ সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫ এর অধীনে সাতটি মামলায় ৩৪ জনকে অভিযুক্ত এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮২টি হামলার ঘটনায় ১৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২২ জন, লাঞ্ছিত হয়েছেন ২০ জন এবং হুমকির মুখে পড়েছেন ২১ জন সাংবাদিক। দুই সাংবাদিককে আটক এবং আট সাংবাদিককে আসামি করে মামলা হয়েছে।

মব সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন: দেশজুড়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৮৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৮০ জন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ২৭টি হামলায় আহত হয়েছেন ৩১ জন। চারটি মন্দির, দুটি প্রতিমা এবং ১৯টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১৩টি ঘটনায় বিএসএফের হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হয়েছেন ১৫ জন।

মিয়ানমার সীমান্তে ১১টি সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত, পাঁচজন আহত এবং ৩২ জন আটক হয়েছেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারাগারে মৃত্যু: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তিন মাসে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৩৯ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে—এর মধ্যে ১৬ জন কয়েদি ও ২৩ জন হাজতি।

শ্রমিক, নারী ও শিশু নির্যাতন: শ্রমিক নির্যাতনের ১৩৯টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩০ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৭৩ জন। কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতায় আরও ৭২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৭০ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১৪৭ জন, যাদের ৫২ শতাংশই শিশু ও কিশোরী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে নয়জনকে। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৩৬ নারী। শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩২৮ জন; এর মধ্যে ১৩৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

এইচআরএসএসের উদ্বেগ ও সুপারিশ: সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।


৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তার সোসাইটির (আইডিএস) সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাশেম এ ঘোষণা দেন।

নাবিল বিন কাশেম বলেন, ‘হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ চারটি কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের চার দফা দাবি ছিল। বেশির ভাগ দাবিই বাস্তবায়নের জন্য এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সুপারিশে উল্লেখ করেছে বলে জানতে পেরেছি। এখন সরকারের কাছে দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরবর্তীতে আমরা কঠোর কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

এর আগে হামলার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মিলন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তারা। পরে সংবাদ সম্মেলন করেন ইন্টার্ন ডাক্তার সোসাইটির নেতারা।

প্রসঙ্গত, ৮ এপ্রিল বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।


banner close