মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবমেরিন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন: স্বাভাবিক হতে লাগবে ১ মাস

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৪ ২১:১২

সারা দেশে গত পাঁচ দিন ধরে ইন্টারনেটে ধীরগতি পাচ্ছেন গ্রাহকরা। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগে এ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসিও (বিএসসিপিএলসি)। তবে সহসাই ইন্টারনেটের স্বাভাবিক গতি ফিরছে না। ধীরগতির এ পরিস্থিতি চলতে পারে আরও এক মাস।

বিএসসিপিএলসি বলছে, ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় সমুদ্রের তলদেশে ফাইবার ক্যাবল কাটা পড়েছে। সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত শেষ হতে অন্তত ৫ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মে মাসের শেষ নাগাদ সংযোগ স্বাভাবিক হতে পারে।

জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে সারা দেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি দেখা দেয়। বিএসসিপিএলসি জানতে পারে সিঙ্গাপুরে জলসীমায় কোথাও ফাইবার ক্যাবল কাটা পড়েছে।

পরে আরও অনুসন্ধানে জানা যায় সিঙ্গাপুর নয়, ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় সমুদ্রের তলদেশে ক্যাবল ‘ব্রেক’ করেছে। এতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের (সিমিউই-৫) সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিএসসিপিএলসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহমেদ জানান, সিমিউই-৫ (দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল) দিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ হয়। সেটা এখন পুরোপুরি বন্ধ।

বিএসসিপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণ) সাইদুর রহমান জানান, মূলত ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র এলাকায় সিমিউই-৫ ক্যাবলটি ব্রেক করেছে। তারা এটা মেরামতে কাজ করছেন। আগামী মাস অর্থাৎ, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষ অথবা চতুর্থ সপ্তাহ নাগাদ কাজ শেষ হতে পারে।

ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) মহাসচিব নাজমুল করিম ভুঁইয়া দ্রুত ব্যান্ডউইথ সরবরাহে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নাজমুল করিম ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি, এখনো কাজই শুরু হয়নি। কনসোর্টিয়ামের কোনো জাহাজ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। জাহাজ পাওয়ার পর হয়তো কাজ শুরু হবে। তার মানে আমরা একটা বড় সমস্যায় পড়তে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘গত ৪-৫ দিন ধরে গ্রাহকরা আমাদের অনবরত ফোন করছেন, খোঁজ নিচ্ছেন। ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে সফটওয়্যার নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা বিপাকে পড়েছেন। ফ্রিল্যান্সাররাও এ নিয়ে আতঙ্কিত। সরকার এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা আমাদের।’

১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ এখন পুরোপুরি বন্ধ। শুধুমাত্র প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহে রয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের ইন্টারনেট সেবা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের।

বিএসসিপিএলসি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে মোট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৫ হাজার জিবিপিএসের বেশি। এর অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ২ হাজার ৭০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) লাইসেন্সের মাধ্যমে আসে, যা ভারত থেকে স্থলপথে ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে ব্যবহৃত হয়।

বাকি ২ হাজার ৪০০ জিবিপিএসের মতো ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে বিএসসিপিএলসি। দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এ ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ-৪ (সিমিউই-৪) কনসোর্টিয়ামের সদস্য। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়েছিল। এর ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারে। এটি প্রায় ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সিমিউই-৫ ঢুকেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা হয়ে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যান্ডউইথ প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে শিফটিং করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসসিপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণ) সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিকল্প অনেকগুলো উপায় রয়েছে। সেগুলো কার্যকর করা হচ্ছে। যদিও সব বিকল্প উপায়গুলো পুরোপুরি এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল যেটি সিমিউই-৪ নামে পরিচিত, সেটির পুরো ব্যান্ডউইথ বহনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এজন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বাড়তি খরচ দিতে হবে। এটা ছাড়াও আরও কিছু বিকল্প রয়েছে। সেগুলো নিয়েও কাজ চলছে।’


নির্বাচিত

জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আগত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে (ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট) অংশ নিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই প্রাতরাশ সভার আয়োজন করেন।

এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ও ব্যস্ত সফর সূচি শুরু হলো।

প্রাতরাশের শুরুতে বিশ্বনেতারা একে একে তাদের সহধর্মিনীদের নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রী সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে সেই মঞ্চে ওঠে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও ফটোসেশনে অংশ নেন।

প্রাতরাশ শেষে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। এ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত রয়েছেন।

সফর সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশী পণ্য আমদানি বাড়াতে ভারতের প্রতি গভর্নরের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে ভারতকে দেশীয় পণ্য আমদানি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় গভর্নর বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং এ ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করলে গভর্নর জানান যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ ও মুনাফা সহজে নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলে ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে ও সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব কুমার আগারওয়াল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ভাড়া বেশি নিলে জরিমানা-রুট পারমিট বাতিল: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল ও জরিমানা করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমে সরকার বাস ভাড়া যৌক্তিকের চেয়ে কম নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নতুন বাস ভাড়ার গেজেট আজই প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘গেজেট হয়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে কার্যকর হয়ে যাবে।’

বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী এবং একটা অবধারিত পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম ১ টাকা বাড়লে বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। এবার লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহন মালিকেরা নিয়ম অনুযায়ী কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর অনড় দাবি জানিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি ছিল তাদের। তবে সরকার সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে ২০ পয়সার পরিবর্তে ১৭ পয়সা ভাড়া নির্ধারণে সক্ষম হয়েছে।

এর আগের বার যখন জ্বালানির দাম ১৫ টাকা বেড়েছিল, তখন সরকার মালিকদের ১৫ পয়সার যৌক্তিক দাবির বিপরীতে ভাড়া ১১ পয়সা নির্ধারণ করতে পেরেছিল এবং তা কার্যকরও হয়েছিল। এবারও ১৭ পয়সার বাইরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের রুট পারমিট ও লাইসেন্স নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে। সাধারণ মানুষের ওপর এই আর্থিক চাপের কথা স্মরণ করে আক্ষেপের সুরে মন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো,’।

অবশ্য রেলের ক্ষেত্রে সরকার সাধারণ যাত্রীদের বাড়তি কোনো ভাড়ার মুখে ফেলছে না বলে নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি জানান, আগেরবারের মতো এবারও রেলের ভাড়া বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া নৌপথের লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী পরশু লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই বৈঠকেই লঞ্চ ভাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি : জাতীয় সংসদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি এবং কৌশলগত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার চীনের ইউনান প্রদেশে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের উষ্ণ আতিথেয়তা ও আন্তরিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সার্বিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাত, আধুনিক প্রযুক্তি, জীবনমান উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে বেইজিংয়ের জোরালো অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করেন।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় চীন সফরের মধ্য দিয়েই দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের মজবুত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে। এছাড়া দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরিতে ‘বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি অভিমত দেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ সংসদীয় পর্যায়ে যৌথ প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান এবং জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া আন্তরিক সহযোগিতা ও আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। এ সময় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূতসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহানগর ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এর আগে তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় সমন্বয়ের লক্ষ্যে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগর এলাকার সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত দূরপাল্লা ও নগর পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন এই মূল্যের ফলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।


নির্বাচিত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সরাসরি কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঋণদাতা সংস্থাটির কোনো বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, আইএমএফের ঢালাও নীতি হলো কোনো সরকার যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেয়। তবে তাদের সব নির্দেশনা বাংলাদেশ সরকার হুবহু মেনে চলে এমন নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে সংস্থাটির সব সময় পূর্ণ স্বস্তি না থাকলেও জনগণের স্বার্থেই সরকার তা বজায় রাখছে। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্তের সাথে তেলের মূল্য সমন্বয়ের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।

জ্বালানি খাতের অর্থনৈতিক চাপ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তরল জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক ভর্তুকি যোগ করলে রাষ্ট্রের ওপর এক বিপুল আর্থিক বোঝা তৈরি হয়। অর্থনীতির সাধারণ নিয়মেই এই ভর্তুকির চাপ কমিয়ে আনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। সরকার এখন কোন খাতে কতটা ভর্তুকি সাশ্রয় করবে, সেই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তই গ্রহণ করছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পদক্ষেপটি কোনো বিদেশি সংস্থার শর্তের বাস্তবায়ন নয়, বরং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার অভ্যন্তরীণ নীতিগত উদ্যোগেরই অংশ।


নির্বাচিত

ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হচ্ছে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “এই সফরে ইউএনের অধিবেশনে যুক্ত হওয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এসেছেন।”

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন। বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে সফরকালীন আবাসস্থল ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হোটেলে এসে পৌঁছান। এ সময় প্রিয় নেতার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর ও হোটেলের বাইরে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি স্লোগানের মাধ্যমে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক ডজনেরও বেশি বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে তিনি দেশের পক্ষে জাতীয় ভাষণ দেবেন।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যের এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে দেশের দুই বিমানবন্দরের স্কোরে বড় উন্নতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে বাংলাদেশের দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। অত্যন্ত কড়াকড়ির এই আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে। রবিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী ২০২৫ সালের নিরীক্ষার তুলনায় এবার উভয় বিমানবন্দরের সক্ষমতায় দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। গত বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের অর্জিত স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানী বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৪ শতাংশ। যুক্তরাজ্যগামী বিভিন্ন ফ্লাইটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি যাত্রীসেবা, পণ্য পরিবহন ও আকাশপথে ডাক চলাচলের মান নিবিড়ভাবে তদারকির পর এই ফলাফল নির্ধারণ করেছে ডিএফটি। এছাড়া আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে 'অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট'-এ বাংলাদেশ শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা শতভাগ মান অর্জনে সফল হয়েছে।

বেবিচকের মতে, নিরাপত্তা সূচকের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা, যাত্রী এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী মহলে বাংলাদেশের এভিয়েশন ব্যবস্থার ওপর আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্তৃক আরোপিত 'হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল' সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহারে এই ইতিবাচক ফল সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ইইউমুখী কার্গো ও ডাক পরিবহনে বিদ্যমান অতিরিক্ত বিধিনিষেধ উঠে গেলে দেশের রপ্তানিকারকদের উল্লেখযোগ্য সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এর পাশাপাশি আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) সর্বজনীন নিরাপত্তা অডিট কর্মসূচি ‘ইউএসএপি-সিএমএ’র প্রস্তুতিতেও এই নিরীক্ষা বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইসিএও-এর অডিট দলটি বেবিচক সদর দপ্তরসহ শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মান সরেজমিনে যাচাই করবে। এ প্রসঙ্গে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডোর মো. আসিফ ইকবাল জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক নজরদারি, বেবিচক নেতৃত্বের সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের সমন্বিত কর্মতৎপরতার ফলেই দেশের বিমানবন্দরগুলো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।


নির্বাচিত

দূরপাল্লায় ৮, সিটিতে ১০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ৮ পয়সা এবং নগর পরিবহনে (সিটি সার্ভিস) ১০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইলে সর্বোচ্চ ৫ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পর বাস ও নৌযানের ভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক হলেও তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার চরম অভাব দেখা যাচ্ছে। সাধারণ যাত্রীসাধারণের কোনো প্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত না করে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছে। তেলের দাম বাড়ার ফলে যানবাহনের প্রকৃত পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং তার বিপরীতে কত পয়সা ভাড়া বাড়ানো যৌক্তিক—সে সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ কোনো হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে, অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন মালিকদের একচেটিয়া মুনাফার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দেশের গণপরিবহন খাতের প্রধান অংশীজন হওয়া সত্ত্বেও ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার কারণে সাধারণ মানুষ বারবার অন্যায্য আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।


নির্বাচিত

বিশ্বমঞ্চে গণমানুষের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা একটি ইতিহাসের অংশ।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজকে তাদের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একইভাবে বাবা-মায়ের মতো দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।’

আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ উপস্থাপন করবেন বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, অতীতের ধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য তিনি এই সফরে এসেছেন। যাতায়াতের দুই দিন বাদে মাঝখানে মাত্র চার কর্মদিবস তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

সফরের বহর সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সনাতনী ধারা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত এই সফরে ছোট্ট একটি বহর নিয়ে এসেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে মাত্র ৩৫ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি শুধু অত্যাবশ্যকীয় মিডিয়া, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এসেছেন।’

মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল ৯টায় তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন, যেখানে সব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে একটি ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে’ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। তাই আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।

ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বাসস’কে এ কথা জানিয়েছেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি নেতা-কর্মীরা দুপুর থেকেই তাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন।

এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন-‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।

নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি প্রটোকলভিত্তিক সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক উন্মুক্ত মঞ্চ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি:

২২ সেপ্টেম্বর:

এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।

সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর:

প্রধানমন্ত্রী এদিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর:

প্রধানমন্ত্রী এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করবেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন। তিনি এদিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথেও বৈঠক করবেন।
নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে (সময় পরিবর্তন হতে পারে)। তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।

এরপর রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন।

২৫ সেপ্টেম্বর:

জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদিন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

রাত ১১ টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দাম বাড়লেও থাকছে বড় ভর্তুকি

* পাচার রোধে সহায়ক হবে নতুন মূল্য * বড় প্রকল্পও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ *পরিবহন খাতেও নিয়ন্ত্রিত সমন্বয়ের উদ্যোগ * মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী 
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক    

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানো, জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘ সময় দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ: দেশের জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ কতটা বেড়েছে, তা আমদানি ব্যয়ের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। গত অর্থবছরে বিপিসি রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের মোট পণ্য আমদানি ব্যয়ের ১৪ শতাংশের বেশি জ্বালানি খাতে ব্যয় হচ্ছে। শুধু আগস্ট মাসেই শুল্ক, কর ও পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে বিপিসির জ্বালানি আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ২ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের হিসাবে, মূল্য সমন্বয় না করলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান বা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে সম্ভাব্য চাপ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

দাম বাড়ার পরও বড় ভর্তুকি: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেশি থাকায় মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থাৎ নতুন মূল্য নির্ধারণের পরও আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিপিসির ক্রমবর্ধমান লোকসান সামাল দেওয়ার বিকল্প ছিল না। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ কমিয়ে সেই অর্থ সামাজিক সুরক্ষা, সরকারি সেবা ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

উন্নয়ন তহবিল থেকে নেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা: বাড়তি আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকি ও বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধে বিপিসি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত তহবিলের একটি অংশ ব্যবহার করেছে।

বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাখা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত মোট তহবিল ছিল প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থ ব্যবহারের পর প্রকল্পগুলোর হিসাবে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেল বিক্রির আয় ও সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার পর এসব তহবিল পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। ফলে জরুরি আমদানি সচল রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে।

পাচার রোধেও কাজে আসবে নতুন দাম: জ্বালানি বিভাগের আরেকটি যুক্তি হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে এ দামের ব্যবধান অনেকটাই কমেছে।

সরকারের দেওয়া হিসাবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় কলকাতায় ডিজেলের দাম প্রায় ১৩৪ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৫ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১৭৯ টাকা। বাংলাদেশে নতুন দরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।

ফলে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে দামের বড় ব্যবধান না থাকায় দেশের জ্বালানি দেশের বাজারেই ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং অবৈধ পাচারের ঝুঁকি কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

জ্বালানি আমদানিতে নতুন ঋণ: বিপিসির হাতে বর্তমানে জ্বালানি আমদানির জন্য প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় পরিশোধের পর এ অর্থ আরও কমবে। এ অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ভর্তুকি, নিজস্ব তহবিল ও বৈদেশিক অর্থায়নের সমন্বয়ে অর্থ জোগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরের জ্বালানি আমদানির অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইআইটিএফসি) থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অর্থ পাওয়া গেলে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির অর্থায়নের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বড় প্রকল্পও চালু রাখার উদ্যোগ: জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি বিপিসির উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এলপিজি ট্যাংক স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকা এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৯০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা কার্যকর হলে এসব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়ছে। এ কারণে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস মালিকেরা কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বাড়ানোর দাবি করলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআরটিএর সুপারিশ সরকারের কাছে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

রিজভীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে বিশ্ববাজারের প্রসঙ্গ: জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

তার বক্তব্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহের বাড়তি ব্যয় এবং দেশে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকার একদিকে মূল্য সমন্বয় করেছে, অন্যদিকে ভর্তুকি, নিজস্ব তহবিল ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন তহবিল পুনর্গঠন, পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিপিসির লোকসান ও আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ রোহিঙ্গা ইস্যু: ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংঘাত বা সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; কেবল আলোচনা ও কূটনৈতিক পথেই এর স্থায়ী সমাধান মিলবে জানিয়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

​জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘হাই-লেভেল উইক’ শুরুর প্রাক্কালে ‘জাতিসংঘ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা সমস্যাকে সমাধান করে না, বরং দীর্ঘায়িত ও আরও ভয়াবহ করে তোলে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এত কষ্টের পরও তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং নিজ ভিটায় ফিরে যাওয়ার আকুতি প্রশংসনীয়।

খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদ বিশ্বনেতাদের একত্রিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান খোঁজার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তার এক বছরের মেয়াদে প্রধান লক্ষ্য—জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর ‘আস্থা পুনরুদ্ধার করা’। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার সভাপতির মেয়াদ শেষে উত্তরসূরির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে তিনি তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখতে চান—জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একমত করা। সংস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও দ্রাব্যতা নিশ্চিত রাখা। স্থানীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই প্রযুক্তি মানবজাতির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে পারে, আবার মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ​তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের উদ্ভাবনের গতি থামানো যাবে না, তবে প্রযুক্তির সুরক্ষায় অবশ্যই উপযুক্ত নীতিমালা ও ‘গার্ডরেইল’ তৈরি করতে হবে। সরকারগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সকল অংশীদারকে এই নিরাপত্তামূলক নীতিমালা তৈরির আলোচনায় যুক্ত হতে হবে।

​এদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা আহ্বান করবেন বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

banner close