রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩

সাবমেরিন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন: স্বাভাবিক হতে লাগবে ১ মাস

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৪ ২১:১২

সারা দেশে গত পাঁচ দিন ধরে ইন্টারনেটে ধীরগতি পাচ্ছেন গ্রাহকরা। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগে এ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসিও (বিএসসিপিএলসি)। তবে সহসাই ইন্টারনেটের স্বাভাবিক গতি ফিরছে না। ধীরগতির এ পরিস্থিতি চলতে পারে আরও এক মাস।

বিএসসিপিএলসি বলছে, ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় সমুদ্রের তলদেশে ফাইবার ক্যাবল কাটা পড়েছে। সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত শেষ হতে অন্তত ৫ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মে মাসের শেষ নাগাদ সংযোগ স্বাভাবিক হতে পারে।

জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে সারা দেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি দেখা দেয়। বিএসসিপিএলসি জানতে পারে সিঙ্গাপুরে জলসীমায় কোথাও ফাইবার ক্যাবল কাটা পড়েছে।

পরে আরও অনুসন্ধানে জানা যায় সিঙ্গাপুর নয়, ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় সমুদ্রের তলদেশে ক্যাবল ‘ব্রেক’ করেছে। এতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের (সিমিউই-৫) সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিএসসিপিএলসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহমেদ জানান, সিমিউই-৫ (দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল) দিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ হয়। সেটা এখন পুরোপুরি বন্ধ।

বিএসসিপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণ) সাইদুর রহমান জানান, মূলত ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র এলাকায় সিমিউই-৫ ক্যাবলটি ব্রেক করেছে। তারা এটা মেরামতে কাজ করছেন। আগামী মাস অর্থাৎ, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষ অথবা চতুর্থ সপ্তাহ নাগাদ কাজ শেষ হতে পারে।

ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) মহাসচিব নাজমুল করিম ভুঁইয়া দ্রুত ব্যান্ডউইথ সরবরাহে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নাজমুল করিম ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি, এখনো কাজই শুরু হয়নি। কনসোর্টিয়ামের কোনো জাহাজ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। জাহাজ পাওয়ার পর হয়তো কাজ শুরু হবে। তার মানে আমরা একটা বড় সমস্যায় পড়তে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘গত ৪-৫ দিন ধরে গ্রাহকরা আমাদের অনবরত ফোন করছেন, খোঁজ নিচ্ছেন। ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে সফটওয়্যার নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা বিপাকে পড়েছেন। ফ্রিল্যান্সাররাও এ নিয়ে আতঙ্কিত। সরকার এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা আমাদের।’

১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ এখন পুরোপুরি বন্ধ। শুধুমাত্র প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহে রয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের ইন্টারনেট সেবা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের।

বিএসসিপিএলসি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে মোট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৫ হাজার জিবিপিএসের বেশি। এর অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ২ হাজার ৭০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) লাইসেন্সের মাধ্যমে আসে, যা ভারত থেকে স্থলপথে ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে ব্যবহৃত হয়।

বাকি ২ হাজার ৪০০ জিবিপিএসের মতো ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে বিএসসিপিএলসি। দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এ ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ-৪ (সিমিউই-৪) কনসোর্টিয়ামের সদস্য। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়েছিল। এর ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারে। এটি প্রায় ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সিমিউই-৫ ঢুকেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা হয়ে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যান্ডউইথ প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে শিফটিং করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসসিপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণ) সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিকল্প অনেকগুলো উপায় রয়েছে। সেগুলো কার্যকর করা হচ্ছে। যদিও সব বিকল্প উপায়গুলো পুরোপুরি এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল যেটি সিমিউই-৪ নামে পরিচিত, সেটির পুরো ব্যান্ডউইথ বহনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এজন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বাড়তি খরচ দিতে হবে। এটা ছাড়াও আরও কিছু বিকল্প রয়েছে। সেগুলো নিয়েও কাজ চলছে।’


নির্বাচিত

দাম্মাম-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

# যাত্রীদের জন্য জেদ্দায় প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট # মদিনা রুটে নিয়মিত চলছে উড়োজাহাজ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে বিমানবন্দরগুলোতে চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানায়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সংশোধিত সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমও আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে নিয়মিতভাবে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

টিকিট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

বন্যার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশে ফের ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছে নেপাল। ভারতের সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গত শুক্রবার থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট কুশী নদীতে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যায় ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি স্থগিত ছিল। এই দুটি কেন্দ্রই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত ছিল।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের অনুমতি দেওয়ার পর এই রপ্তানি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় সোলা খোলা ও কাভেলি বি-১ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে এবং লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ হরিয়ানায় সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের ত্রিশূলী, চিলিমে ও দেবীঘাট কেন্দ্রের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বন্যা ও সঞ্চালন কাঠামোর ক্ষতি সত্ত্বেও অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু করা নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ঋতুভিত্তিক বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী নেপাল প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত ২৬ আগস্ট নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের।


নির্বাচিত

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কমনওয়েলথ সম্মেলনের নেতৃত্ব দেবেন হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আগামী ১ থেকে ৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম-২০২৬) বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এ সফরে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন হুমায়ুন কবির। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমনওয়েলথের ৫৬টি সদস্য দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে। দুই বছর পরপর আয়োজিত এ বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘সমৃদ্ধ কমনওয়েলথের জন্য অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা’। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সমতা ও টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।

বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে গুরুত্ব: হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। সম্মেলনের আলোচনায় অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে।

বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও কমনওয়েলথের বৃহত্তর উন্নয়ন আলোচনার অংশ।

কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্মেলন নয়; সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এবারের আয়োজনেও এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব পালন এবং প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ক্যাপশনে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

সূচি অনুসারে, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান।

বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেক্সটাইল খাতের চাহিদা পূরণে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইলকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন দেশে ও বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে একদিকে দেশের দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

পাশাপাশি পাট, আনারসের পাতা, কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ ও সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর’-কে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট বা পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি, পলাতক অপরাধী বা গণহত্যাকারীকে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানের বিষয়ে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার গুঞ্জন আছে— এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী দেশকে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। আমাদের অবস্থান পরিস্কার।

দুর্গাপূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।

মন্ত্রী বলেন, এবারে দুর্গাপূজায় ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। অতীতে বিগত ১৫-১৭ বছরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনাশের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই সমস্ত অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে পেরেছে এবং সকলের সহযোগিতায় সামনের দিনেও এ রকম পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এবারে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজামণ্ডপ হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার পূর্বে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতো। এবার যা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া এবার পূজায় ৫ দিন ছুটি ছিল। পূজামণ্ডপেও চালের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

বিগত ১৭ বছরে পাড়ায়-পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছে: আইজিপি

দেশের শান্তি-সম্মৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত ১৭ বছর সরকারিভাবে প্যাট্রোনাইজ করে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখরা তৈরি করা হয়েছে। এটা কে নির্মূল করবে। দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। আমরা এই বছরে ২০ হাজার লোক নিয়োগ দেব।

কিন্তু আমাদের একসঙ্গে ২০ হাজার লোক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো জায়গা নেই।

এখন নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।

একটা দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট ভূমিকা নেই। আপনারা সবাই মিলে যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে দেশ আগাবে না।

দেশের শান্তি-সম্মৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

রোববার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে নানা নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত থাকবে। আপনারা জানেন কার ছেলে কি করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরত্ম্য কমবে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যারা গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানান আইজিপি।

দেশে যুবকদের অপরাধে জড়ানোর কারণ হিসেবে বেকারত্বকে দায়ী করে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতি বছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যোগ হচ্ছে। এদের ভেতরে হতাশা এবং যে জীবনী শক্তি আছে তা আমরা ব্যবহার করতে পারছি। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছে না। তারা টাকা ব্যংকে রেখে দিচ্ছে। বিনিয়োগ না করলে কর্মসংস্থান তেরি হবে না।

মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে। আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিস্কার হবেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইজিপি বলেন, গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিসেস পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি

দৈনিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের শর্তে খুলছে সেন্টমার্টিন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশগত সংকটাপন্ন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। তবে দ্বীপের নাজুক প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেখানে যাতায়াত করতে পারবেন। রবিবার এ সংক্রান্ত নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব শর্ত চূড়ান্ত করা হয়। অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন হাজার অতিক্রম করতে পারবে না।

একই সঙ্গে দ্বীপে ভ্রমণকারী প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী এই ফি সংগ্রহের যাবতীয় প্রক্রিয়া তদারকি করবে। এ ছাড়া নৌপরিবহন ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে; পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট পূর্বানুমতি ছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তর কিংবা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সেন্টমার্টিন রুটে কোনো নৌযানের অনুমোদন দিতে পারবে না। পর্যটক পরিবহনে কেবল নির্ধারিত দুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই অনুমোদিত জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

পর্যটক নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত এসব শর্তাবলি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং জেলা ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

বিষয়:

নির্বাচিত

চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সকালে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ মন্ত্রীর চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মন্ত্রীর চলমান চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ভূমিমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ২১ অক্টোবর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিবিড় চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার স্বার্থে তাঁকে ঢাকায় এনে ভর্তি করা হয়।

মন্ত্রীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নাজমুল হক জানান, নিয়মিত সেবন করা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেই মন্ত্রীর শরীরে আকস্মিক রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

পাঁচ দিনের সফরে স্পেন ও যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

উরোপের দুই দেশ স্পেন ও যুক্তরাজ্যে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও যুক্তরাজ্যে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই কূটনৈতিক সফর অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক সংযোগকে কাজে লাগানোর যে মূল লক্ষ্য রয়েছে, তার বাস্তবায়নে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। সফরকালে প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব আলোচনায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটন খাতের প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

সফরের সূচনাতেই আগামী ২৬ অক্টোবর স্পেনের সেভিল শহরে ‘তৃতীয় স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ‘স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ কর্তৃক আয়োজিত এই প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দৃঢ়তর অংশীদারিত্ব, অভিন্ন সমৃদ্ধি’। মূলত স্পেনের স্থানীয় উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সুদৃঢ় সংযোগ স্থাপনই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।

স্পেনের কর্মসূচি সমাপ্ত করে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সফর করবেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তাঁর কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব পাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার ঘটানো, বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মৈত্রীর পরিধি বাড়ানো এবং দেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশের নতুন সুযোগ অন্বেষণ করা। ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, বিনিয়োগ আহরণ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা গভীর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যয়ই এ সফরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে।


নির্বাচিত

চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

টোকিওর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ়করণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বৃহৎ পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আয়োজিত এ সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টোকিওর উদ্দেশে যাত্রা করবেন সরকারপ্রধান।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠকে বিদ্যমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হবেন।

এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। পাশাপাশি একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল, বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বহুজাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় এবং গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরকালে কৃষি, মৎস্য খাত, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে একাধিক সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ছাড়াও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার মতো আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা, সরকারপ্রধানের এ সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সংহত হবে এবং বাংলাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও জাপানি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


নির্বাচিত

চালে বিষাক্ত আফলাটক্সিন, ঝুঁকিতে খাদ্যনিরাপত্তা

* প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চালেই মিলল বিষাক্ত উপাদান * ভারতসহ বিভিন্ন দেশের চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি * আর্দ্রতা ও অপর্যাপ্ত সংরক্ষণে বাড়ে দূষণের ঝুঁকি
আমদানি করা চাল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক  

খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা, আর সেই খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু আমদানি করা চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং পরীক্ষায় ক্ষতিকর ছত্রাকজাত বিষ আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে এই উপাদান শনাক্ত হওয়ার খবরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণায় বাংলাদেশ ও ভারতের বাজারের চালেও আফলাটক্সিনের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা কোনো একটি দেশ বা নির্দিষ্ট চালের চালানে সীমাবদ্ধ নয়। উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা হলে চালসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যে ছত্রাক জন্মাতে পারে। এর ফলে তৈরি হতে পারে আফলাটক্সিন, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি ও ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও খাদ্যশস্যে ছত্রাকজাত বিষের উপস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, পরে ধরা পড়ল বিষ: ভারত থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় আমদানি করা চালের চালানটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে মান যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ জুলাই ২০২৬ চালবোঝাই এমভি এইচটি পাইওনিয়ার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে চালকে খাবার উপযোগী বলা হলে ২৪ ও ২৫ জুলাই তা খালাস করা হয়। পরে বিভিন্ন খাদ্যগুদামে চাল পৌঁছানোর পর রং পরিবর্তন, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের অভিযোগ ওঠে।

১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চালের মান নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগে ৯৮৪ টন নিম্নমানের চাল ফেরত পাঠানোর তথ্যও প্রকাশিত হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসে।

এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রথম পরীক্ষায় চালকে খাবার উপযোগী ঘোষণা করার পরও পরবর্তী পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান ধরা পড়ল কেন? নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা, চালের সংরক্ষণব্যবস্থা এবং সরবরাহকারীর মান নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই এখন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশেও চালের নমুনায় আফলাটক্সিন: চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একক কোনো সমস্যা নয়। বিভিন্ন দেশের গবেষণায় খাদ্যশস্যে এই ছত্রাকজাত বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার ফলাফল নির্দিষ্ট নমুনা, অঞ্চল ও পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত; এগুলো দিয়ে কোনো দেশের সব চালকে অনিরাপদ বলা যায় না।

২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ভারতের হায়দরাবাদের স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত চালের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় ৫৪ শতাংশ নমুনায় আফলাটক্সিন বি১ এবং ৩৪ শতাংশ নমুনায় বি২ শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। তিনটি নমুনায় মোট আফলাটক্সিনের মাত্রা ভারতের নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমা ছাড়িয়েছিল। গবেষণাটি হায়দরাবাদের নির্দিষ্ট নমুনার ওপর পরিচালিত; এটি ভারতের সব চালের প্রতিনিধিত্ব করে না।

স্থানীয় বাজারের চালেও ঝুঁকির প্রমাণ: বাংলাদেশি গবেষক নুরশাদ আলীর ২০১৯ সালের পর্যালোচনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বাংলাদেশের বাজারের চালসহ এশিয়ার একাধিক দেশের চাল ও চালজাত পণ্যে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। অর্থাৎ, আমদানি করা চালের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব উৎপাদন, গুদামজাতকরণ ও খুচরা বাজারের চালও নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় রাখা প্রয়োজন।

চীন, ইরান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: বিভিন্ন সময়ের গবেষণায় চীন, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশের চালের নমুনায় আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট নমুনার মাত্রা প্রযোজ্য সীমার চেয়েও বেশি ছিল। এসব তথ্য দেখায়, এটি আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তার একটি স্বীকৃত সমস্যা; তবে বিভিন্ন দেশের পরীক্ষার পদ্ধতি, নমুনার ধরন ও আইনি সীমা এক নয়।

আফলাটক্সিন কী, কেন বিপজ্জনক: আফলাটক্সিন এক ধরনের মাইকোটক্সিন—অর্থাৎ নির্দিষ্ট ছত্রাকের তৈরি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। Aspergillus flavus ও Aspergillus parasiticus গোত্রের ছত্রাক থেকে এটি তৈরি হতে পারে। ধান, চাল, ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যে অনুকূল আর্দ্রতা ও তাপমাত্রায় এসব ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফলাটক্সিনের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে তীব্র বিষক্রিয়াও হতে পারে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, খাদ্যে ছত্রাকের উপস্থিতি সব সময় খালি চোখে বোঝা যায় না এবং প্রচলিত রান্নার তাপে এই বিষ নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না। তাই চালের রং, গন্ধ বা বাহ্যিক চেহারা দেখে একে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা যায় না। আবার চালের রং পরিবর্তন বা দুর্গন্ধ থাকলেই নিশ্চিতভাবে আফলাটক্সিন রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না। বিষের উপস্থিতি ও মাত্রা নির্ধারণে প্রয়োজন উপযুক্ত পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ।

বাংলাদেশের সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থা নিয়ে ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় চাল ও গমে আফলাটক্সিন, আর্সেনিক, ছত্রাক ও আর্দ্রতার মতো বিষয় পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে গুরুতর দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্দ্রতাকে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরশাদ আলীর বলেছেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ও ঝুঁকি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চাল আলাদা ও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে স্বীকৃত স্বাধীন পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়ে আফলাটক্সিনের মাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বন্দরে প্রাথমিক নমুনা পরীক্ষা নয়, ঝুঁকিভিত্তিকভাবে চাল খালাস ও গুদামজাত করার পরও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমদানি করা চালের পাশাপাশি স্থানীয় মিল, পাইকারি বাজার, খুচরা দোকান এবং সরকারি খাদ্যগুদামের চালও নিয়মিত নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।

ভারত থেকে আমদানি করা চালের একটি অংশে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি চালানের মান নিয়ে প্রশ্ন নয়; এটি খাদ্য পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নজরদারির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও সুযোগ। আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিভিন্ন দেশের চালের নমুনায় একই ধরনের বিষের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য সমস্যাটির বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

বাংলাদেশে চাল কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য। তাই আমদানি করা হোক কিংবা দেশীয় উৎপাদন—কোনো চালই যথাযথ পরীক্ষা ও মান যাচাই ছাড়া মানুষের খাদ্য হিসেবে বিতরণ করা উচিত নয়। দ্রুত ও স্বচ্ছ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সন্দেহজনক চালের নিরাপদ নিষ্পত্তি এবং নিয়মিত বাজার নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বাড়বে।


নির্বাচিত

আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী

ছবি: ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ইসলামের ধারক-বাহক ইমাম ও আলেমদের জন্য রক্ত দিতে হলেও পিছপা হব না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ইমাম-আলেম, কওমি ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, যারা ইসলামের ধারক-বাহক; তাদের জন্য যদি গায়ের রক্ত দিতে হয়, তবে রক্ত দেব, দ্বিধা করব না ইনশাআল্লাহ।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে কেউ যাতে উসকানি দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

একই সঙ্গে জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাজে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করে এসব অপরাধ প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির নেতারা ইমামদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।


নির্বাচিত

banner close