সারা দেশে গত পাঁচ দিন ধরে ইন্টারনেটে ধীরগতি পাচ্ছেন গ্রাহকরা। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগে এ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসিও (বিএসসিপিএলসি)। তবে সহসাই ইন্টারনেটের স্বাভাবিক গতি ফিরছে না। ধীরগতির এ পরিস্থিতি চলতে পারে আরও এক মাস।
বিএসসিপিএলসি বলছে, ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় সমুদ্রের তলদেশে ফাইবার ক্যাবল কাটা পড়েছে। সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত শেষ হতে অন্তত ৫ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মে মাসের শেষ নাগাদ সংযোগ স্বাভাবিক হতে পারে।
জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে সারা দেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি দেখা দেয়। বিএসসিপিএলসি জানতে পারে সিঙ্গাপুরে জলসীমায় কোথাও ফাইবার ক্যাবল কাটা পড়েছে।
পরে আরও অনুসন্ধানে জানা যায় সিঙ্গাপুর নয়, ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় সমুদ্রের তলদেশে ক্যাবল ‘ব্রেক’ করেছে। এতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের (সিমিউই-৫) সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বিএসসিপিএলসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহমেদ জানান, সিমিউই-৫ (দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল) দিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ হয়। সেটা এখন পুরোপুরি বন্ধ।
বিএসসিপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণ) সাইদুর রহমান জানান, মূলত ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র এলাকায় সিমিউই-৫ ক্যাবলটি ব্রেক করেছে। তারা এটা মেরামতে কাজ করছেন। আগামী মাস অর্থাৎ, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষ অথবা চতুর্থ সপ্তাহ নাগাদ কাজ শেষ হতে পারে।
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) মহাসচিব নাজমুল করিম ভুঁইয়া দ্রুত ব্যান্ডউইথ সরবরাহে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নাজমুল করিম ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি, এখনো কাজই শুরু হয়নি। কনসোর্টিয়ামের কোনো জাহাজ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। জাহাজ পাওয়ার পর হয়তো কাজ শুরু হবে। তার মানে আমরা একটা বড় সমস্যায় পড়তে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘গত ৪-৫ দিন ধরে গ্রাহকরা আমাদের অনবরত ফোন করছেন, খোঁজ নিচ্ছেন। ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে সফটওয়্যার নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা বিপাকে পড়েছেন। ফ্রিল্যান্সাররাও এ নিয়ে আতঙ্কিত। সরকার এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা আমাদের।’
১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ এখন পুরোপুরি বন্ধ। শুধুমাত্র প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহে রয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের ইন্টারনেট সেবা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের।
বিএসসিপিএলসি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে মোট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৫ হাজার জিবিপিএসের বেশি। এর অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ২ হাজার ৭০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) লাইসেন্সের মাধ্যমে আসে, যা ভারত থেকে স্থলপথে ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে ব্যবহৃত হয়।
বাকি ২ হাজার ৪০০ জিবিপিএসের মতো ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে বিএসসিপিএলসি। দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এ ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ-৪ (সিমিউই-৪) কনসোর্টিয়ামের সদস্য। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়েছিল। এর ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারে। এটি প্রায় ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে থাকে।
অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সিমিউই-৫ ঢুকেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা হয়ে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যান্ডউইথ প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলে শিফটিং করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিএসসিপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণ) সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিকল্প অনেকগুলো উপায় রয়েছে। সেগুলো কার্যকর করা হচ্ছে। যদিও সব বিকল্প উপায়গুলো পুরোপুরি এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল যেটি সিমিউই-৪ নামে পরিচিত, সেটির পুরো ব্যান্ডউইথ বহনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এজন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বাড়তি খরচ দিতে হবে। এটা ছাড়াও আরও কিছু বিকল্প রয়েছে। সেগুলো নিয়েও কাজ চলছে।’
জ্বালানি সাশ্রয় ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ অফিসের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে বিকেল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হবে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হবে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এটি কঠোরভাবে মনিটর করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা দেবে, যা আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হতে পারে। এ ছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং যানজট নিরসনে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ‘ইলেকট্রিক বাস’ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব স্কুল এই উদ্যোগে অংশ নেবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কোনো পুরনো বাস আনা যাবে না। সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ মাস পর্যন্ত সরকারি কোনো নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সব বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোনো ধরনের বেসরকারি বিয়ে বা উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা ইনসিকিউর হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গাড়ি কিনতে সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ আপাতত বন্ধ:
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
উল্লেখ্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা (উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তা) সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি ক্রয় করতে পারেন। ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এ ছাড়া, গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পুরোনো কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানালেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি অপতথ্য রোধে কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পাবনা জেলা স্কুল চত্বরে ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও দায়িত্বশীলতার সীমারেখা।’
‘সাইবার জগৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিকাশের ফলে তথ্যের ধারণা ও বিস্তারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন-কানুন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি।’ - যোগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও এই ডিজিটাল পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন এবং খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী ও পাবনা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ আহমেদ পরাগ, পাবনা জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান, জেলা ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি তারেক খান এবং সাধারণ সম্পাদক রনি ইমরান অন্যান্যরা।
পরে মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মিলনায়তনে পাবনা বইমেলা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন করেন।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংস্থাটির ফুড প্রাইস ইনডেক্স বা খাদ্যমূল্য সূচকে এ তথ্য জানিয়েছে। এফএও’র এ তথ্যে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মূল কারণ জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য।
এক বিবৃতিতে এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দামের বৃদ্ধি এখন পর্যন্ত পরিমিত পর্যায়ে আছে। কিন্তু এই সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং সারের চড়া দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৩৫তম দিনে গড়িয়েছে। ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, ‘কম সার ব্যবহার করে একই জমিতে চাষ করা, চাষের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া কিংবা সার কম লাগে এমন ফসল চাষ- এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাষিরা বাধ্য হবেন। এতে করে ভবিষ্যতে ফলন কমে যাবে। বড় প্রভাব পড়বে চলতি বছরের বাকি সময় এবং আগামী বছরের খাদ্য সরবরাহ ও পণ্যের দাম নির্ধারণে।’
জাতিসংঘের সংস্থাটির সূচক অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে- ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পাম অয়েলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে। প্রভাব পড়েছে কয়েক লাখ মানুষের ওপর। যুদ্ধের এ পর্যায়ে এসে উভয়পক্ষ অর্থনৈতিক ও শিল্প এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব রণক্ষেত্রের বাইরেও গভীর হচ্ছে।
তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। বরং ইরানে হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পাল্টা জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে বলেছেন, ‘সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে না।’
সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলের একটি চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে এসে পৌঁছেছে ‘ইয়ান জিং হে’ নামের একটি জাহাজ। শিগগিরই আরও দুটি জাহাজ ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ‘ইয়ান জিং হে’ নামের জাহাজটি বন্দরে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘ইয়ান জিং হে’ জাহাজটি ভোরে বহির্নোঙরে পৌঁছেছে এবং একে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের আরও একটি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে আসছে। এ ছাড়া আজ শনিবার এলএনজি নিয়ে আরও একটি জাহাজ আসার কথা আছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে মার্চ মাসে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি নিয়ে মোট ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল, ৮টি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং ৯টি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে এসেছিল।
জাহাজ দুটির শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড’-এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল শুক্রবার আসা জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল নিয়ে এসেছে। জাহাজটি বর্তমানে ডলফিন জেটিতে বার্থিংয়ের অপেক্ষায় আছে। রাতে মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে পৌঁছাবে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান।’
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৪৭ শিশু। এ সময় মারা গেছে ৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৪২ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এসব জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে গত একদিনেই ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৫২৭ জন।
এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
তবে পূর্বে প্রকাশিত তথ্য সংশোধন করে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা থেকে ৫টি মৃত্যু বাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের তথ্য বলছে, জেলা পর্যায় থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে এসব মৃত্যু জাতীয় প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া (৩), লক্ষ্মীপুর (১) ও চাঁদপুর (১)।
এদিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে আরও একজন হামে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা সর্বশেষ প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সে নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে ভিন্ন ধরনের যান চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ ধরনের অপরাধে জেল ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিআরটিএ সদরদপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স বা হালনাগাদ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে মোটরযান চালাতে পারবেন না কিংবা কাউকে চালাতে দিতে পারবেন না।
এছাড়া ধারা ৪(২) অনুযায়ী, লাইসেন্সে উল্লেখিত ক্যাটাগরির বাইরে অন্য কোনো ধরনের যান চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ধারা ৫(১) অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেউ গণপরিবহন চালাতে বা চালাতে দিতে পারবেন না।
আইন ভঙ্গ করলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
বিআরটিএ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এমনকি শারীরিক বা মানসিকভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হলেও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক সময়ে লাইসেন্সবিহীন চালনা, ভুল ক্যাটাগরির যান ব্যবহার, বেপরোয়া গতি ও বিশৃঙ্খল ড্রাইভিংয়ের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, যা প্রাণহানি ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে চালকদের বৈধ লাইসেন্স ব্যবহার এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদেরও চালকদের বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজধানী গুলশানের সোসাইটি জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ওই মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ সময় তিনি তার সহধর্মিণীর সঙ্গে দীর্ঘ ৫৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথা উল্লেখ করেন।
স্পিকার বলেন, তার সহধর্মিণী একজন ধার্মিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ ও রোজা আদায় করতেন। স্পিকার মরহুমা সহধর্মিণী ও তার মৃত মা-বাবার জন্য মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
একইসঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির উন্নতি ও কল্যাণে সকল নাগরিককে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মরহুমা দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সরকারি ইডেন কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দোয়া মাহফিলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, সংসদ সদস্য মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনা কর্মকর্তারা, ভোলা-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মী, আপামর জনসাধারণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিইকো।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩ মার্চ এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, একজন রিকসা চালকের রিকসা চালানোর অধিকার, একজন কৃষকের চাষাবাদের অধিকার এবং তাঁদের ঘাম ও শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন পাওয়াই হলো স্বাধীনতার স্বাদ। প্রকৃত স্বাধীনতা মানে হলো জনগণের রুটি রুজির অধিকার ফিরে পাওয়া।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের পর জনগণ স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মানুষ ভালো থাকায়ই বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মানুষ অনাহারে থেকেছে। দূর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তির বমি আরেক ব্যক্তি খেয়েছে। মা ছেলেকে লাশ বানিয়ে ভিক্ষা করত। ঠিক সেসময়েই আবার কামালের বিয়ে হয়েছে মুকুট পরিয়ে। আইন শৃংখলা বলে কিছু ছিলনা। বাবাকে বাধ্য করা হয়েছে ছেলের মাথায় কুড়াল চালাতে, যুবলীগের ছেলেরা লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র পেত। পথে ঘাটে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যেত। এসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের চাপে দায়িত্ব নেন। তার খাল খনন কর্মসূচির ফলে তিন বছরের মাথায় খাদ্য সংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ প্রথম খাদ্য রপ্তানি করে সেনেগালে।
জুলাই সনদ নিয়ে চীফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে যাতে আইনী প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্ন না উঠে।
বিরোধী দল প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, তারা একের পর এক অবস্থান বদলাচ্ছে, কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর পদ্ধতি চেয়েছিল। আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা আমাদের পাশের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা নেই। তারা বলছিল পিআর না দিলে নাকি নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট বলেছি, কোনো বিশেষ অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না।
শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারই দল আওয়ামী লীগ দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারেক রহমান সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি টাকা চুরি করতে আসেননি। তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্ট্রাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়। তারেক রহমান কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটান জিয়াউর রহমান। পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শাসক যিনি মার্শাল ল জারি করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা দেন। যার ফলে বর্তমান সময়ে এত মিডিয়া চালু রয়েছে। বিনা বাধায় মানুষ এখন তারেক রহমানের ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আকতে পারে। এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ সমালোচকদের প্রশংসাও করেন।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়বার দেশে অন্ধকার নেমে এলে দায়িত্ব নেন বেগম খালেদা জিয়া। মানুষের ভাগ্য বদলাতে থাকে। দেশের উন্নয়ন হয়। ‘বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকল, কেন দেশের উন্নতি হলো? শুধু এসব কারণে আমরা ১৭ বছর অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করেছি। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে এবং এর প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়ে দেখা করার নজিরও তিনি স্থাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া ও অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট নিয়ে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকবেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ হার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আয়োজন করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এ পরিষদে অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন শীর্ষ উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।
কর্মকর্তারা বলছেন, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের একটি কার্যকর মাধ্যম তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সময়োপযোগী অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন সহজ হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিবিএল গ্রুপের এম এ জব্বার, প্যাসিফিক জিন্সের সৈয়দ এম তানভীর, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বে ফুটওয়্যারের জিয়াউর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, ইনসেপ্টা গ্রুপের আব্দুল মুক্তাদির, রানার গ্রুপের হাফিজুর রহমান খান, র্যাংগস গ্রুপের সোহানা রউফ চৌধুরী এবং এসিআই-এর আরিফ দৌলা।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক বিন হারুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, তারা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং কোন ধরণের নীতিগত পদক্ষেপ নতুন বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করতে পারে—সেসব বিষয়ে শুনতে চান।’
তিনি আরও জানান, উৎপাদন খাতের তাৎক্ষণিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সক্ষমতা ধরে রাখার উপায় খোঁজার বিষয়েও আলোচনা গুরুত্ব পাবে।
বৈঠকে জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হবে।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সংসদ ভবনেই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় সাশ্রয় ও যানজট এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, অর্থাৎ অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন করবে, তবে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একই সঙ্গে নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার কারণে ত্রিমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কর ফাঁকি বন্ধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নজর দিচ্ছে। পাশাপাশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে উদ্ধার করা এবং একই সাথে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা। তবে সরকার টাকা সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল করার পক্ষে নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশ তেলশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকট: বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট, যেমন—ডলার সংকট ও টাকার অবমূল্যায়ন, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ছে।
রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ঝুঁকি: মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং রপ্তানিবাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট বলেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির কথা ভাবছে। তবে সরকার নতুন করে টাকা ছাপাতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠাবেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (জেনারেল অ্যাসেমবলি) যাবে। এই বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে মূলত নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আহরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবারের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো- বঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিনিয়োগ ও নীতিমালার স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার নীতিমালার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির সাথে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বড় ধরনের ডিরেগুলেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার বিষয়ে বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এই বঞ্চিত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চলছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি খাতে শুধু তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে খাতটিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকেও গার্মেন্টসের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে জাপান ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে এই সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যেত। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বঞ্চিতদের দিয়ে বাজেট শুরু করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে অনেক সময় শিল্প বা উৎপাদন খাতের ওপর বেশি জোর দিতে গিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা বাজেটের সুফল থেকে বাদ পড়ে যেত। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বঞ্চিত মানুষের পাওনা ও প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন শুরু করা হবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারাদেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকেই সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় জ্বালানি–সংকটের কারণে দেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান এবং শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবারই (২ এপ্রিল) এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে। তবে হয়তো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও এ বিষয়ে অবগত নয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে প্রায় সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।