রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক ১৪৩৩

থাইল্যান্ড সফর শেষে কাল দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৪ ১৪:১৬

থাইল্যান্ডে ছয় দিনের সরকারি সফর শেষ করে আগামীকাল ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামীকাল সকালে (স্থানীয় সময়) ব্যাংকক ত্যাগের কথা রয়েছে।’

থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিনের আমন্ত্রণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উভয় সফরে ২৪ এপ্রিল বিকেলে এখানে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনে ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার ও গান স্যালুট জানানো হয়। তার এই সফরকে ‘প্রতিবেশী’ নীতির ওপর বৃহত্তর ফোকাসের অংশ বলে বর্ণনা করা হয়েছে কারণ এটি দুই দেশের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিকে আরও নবায়নের চমৎকার সুযোগ দেবে।

থাই প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রেরণা যোগাবে। সরকারী এই সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। আমাদের জনগণ ও দেশের পারস্পরিক সুবিধার জন্য আগামীতেও সম্পর্কের নবায়নের এই গতিকে আমাদের ধরে রাখতে হববে।’

২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাই প্রধানমন্ত্রী থাভিসিনের সঙ্গে গভর্নমেন্ট হাউসে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক নথি স্বাক্ষরিত হয়। নথিগুলো হচ্ছে- একটি চুক্তি, তিনটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই), যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিনের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়।

নথির মধ্যে অফিসিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসা ছাড় সংক্রান্ত চুক্তি, জ্বালানি সহযোগিতা, শুল্ক বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা এবং পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং ২০২৪ সালের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা সংক্রান্ত লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) রয়েছে।

শেখ হাসিনা গভর্নমেন্ট হাউসে থাই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজেও যোগ দেন। গভর্নমেন্ট হাউসে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে থাই কুহ ফাহ ভবনের সামনের উন্মুক্ত স্থানে লাল গালিচা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

২৫ এপ্রিল জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনএসক্যাপ) ৮০ তম অধিবেশনে যোগ দেন। এ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি সকল বিশ্বনেতাকে যুদ্ধ, আক্রমণ এবং আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে যুদ্ধকে ‘না’ বলার আহবান জানান, কেননা টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা।

তিনি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক বিরোধ ও উত্তেজনা নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সংলাপ শান্তি আনতে পারে।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং এসক্যাপের নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আলিসজাবানা ও ইউএনএসক্যাপ সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুসিত প্রাসাদের অ্যামফোর্ন সাথার্ন থ্রোন হলে থাইল্যান্ডের রাজা ও রাণী মহা ভাজিরালংকর্ন ফ্রা ভাজিরা-ক্লাওচা-উয়ুয়া এবং রানী সুথিদা বজ্রসুধা-বিমলা-লক্ষণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।


নির্বাচিত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গাছের চারা রোপণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজ হাতে চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তিনি মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আমিনবাজার এলাকায় গিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সড়কের পাশে সবুজায়ন নিশ্চিত করতে এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বে আর কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে যখন হিংসা ও হানাহানির বিস্তার ঘটছে, তখন বাংলাদেশে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন। দেশের এই দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সুধীজনের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার সমালোচনা করে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

পূজার অন্তর্নিহিত দর্শন ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি জানান, এই উৎসবের মূল চেতনার সঙ্গে অশুভ ও অসুরের বিরুদ্ধে বিজয়ের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। অতীতেও এই জনপদে অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল, তবে দেশের আপামর জনতা সম্মিলিতভাবে তাদের রুখে দিয়েছে। তিনি স্মরণ করেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসুরের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের নাগরিকরা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন যে এমন সম্প্রীতির আবহ অন্য কোথাও নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিদ্যমান অস্থিরতার বিপরীতে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্ভয়ে পূজা উদযাপন এ দেশের সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য নিদর্শন।

মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকেও প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র রাখার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্তের নিন্দা জানিয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে দেশের সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার কারণে অনেক সাধারণ ভক্ত মণ্ডপের মূল অনুষ্ঠানে সমবেত হতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হাজারো মানুষের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে মণ্ডপে পৌঁছাতে পারলে তিনি আরও আনন্দিত হতেন। ভবিষ্যতে কোনো প্রকার কঠোর নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই যাতে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে সবাই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করতে পারেন, এমন এক ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


নির্বাচিত

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭ দিনে ১১ অভিযানে স্বর্ণ-সিগারেটসহ নানা পণ্য জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাত দিনে ১১টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস হাউজ, ঢাকা। এসব অভিযানে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকার সোনা ও সোনার অলংকারসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য থেকে এক কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর আদায় করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে ৫৮৯ লিটার মদ, ২ হাজার ৯২৩ কার্টন সিগারেট, ৩৫০টি ই-সিগারেট, আমদানি নিষিদ্ধ ২৮৬ কেজি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৯২টি মোবাইল ফোন এবং ৩১৫ কেজি ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক বিভিন্ন পণ্যও জব্দ করা হয়।

এনবিআর জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্য আনার ক্ষেত্রেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

সওজের ৪ শতাধিক স্থাপনার ছাদে বসছে সৌর প্যানেল, উৎপাদন হবে ৫,১৪৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চার শতাধিক স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছর থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব স্থাপনা ও অধিদপ্তরের অব্যবহৃত জায়গায় মোট ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে সরকারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখতে চায় সওজ।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সওজের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৮৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হবে।

সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চার অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার যোগফল ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট।

সওজের তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের আওতায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ছাড়াও অব্যবহৃত খালি জায়গাকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব জায়গায় মেগাওয়াট-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজও চলছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে নতুন করে জমি ব্যবহারের প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

তার মতে, দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সওজের যেসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না সওজ; বরং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রসারের একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচনা করছে।

সওজের এ উদ্যোগকে দেশের সামগ্রিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো ২০৫০ সালের নেট-জিরো জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। এ কাজে সওজের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

স্রেডার প্রকাশিত নীতিগত তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে সওজের মতো বড় সরকারি অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভবন ও অব্যবহৃত জায়গাকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।

অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয়, প্রকৌশল স্থাপনা ও অন্যান্য ভবনের ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে বিদ্যুতের একটি অংশ নিজস্ব ব্যবস্থায় উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে দিনের বেলায় কার্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদার কিছু অংশ পূরণ করা যাবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা মিলবে।

তবে এ উদ্যোগের সুফল নির্ভর করবে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের ওপর।

একই সঙ্গে কোন স্থাপনায় কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কতটা নিজস্ব ব্যবহারে যাচ্ছে এবং এতে কত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, এসব তথ্য নিয়মিত মূল্যায়ন করা হলে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিরূপণ সহজ হবে।

সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার অর্থবছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অধিদপ্তরের অবদান আরও বাড়তে পারে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে; সর্বোপরি চেইন অব কমান্ডের ওপর।’

তিনি বলেন, ‘একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’

জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরদিন ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাং ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত


নির্বাচিত

জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাই ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তার জন্য নতুন নয়।

পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে উল্লেখ করে তাদের অভিনন্দন জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক গৌরবজনক অধ্যায়।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে নিহিত। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।

তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।’


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন এবং জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধকালীন অথবা শান্তিকালীন সময়ে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোট সাতটি চৌকস ইউনিটকে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পতাকা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার সকালে সাভার সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ৯ম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এই জাতীয় পতাকা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

চলতি বছর জাতীয় পতাকা অর্জনের গৌরব অর্জনকারী ইউনিটসমূহ হলো—প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, ৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এডি রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

এর আগে নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাকে সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো হয়। অনুষ্ঠানটিতে অন্যান্যের মধ্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

লোকসান ক্ষতিয়ে দেখতে সংসদীয় কমিটির তদন্তের উদ্যোগ

কর্ণফুলী টানেল । ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিপুল আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদগুলোতে শুধু পদ পূরণ নয়, সুপরিকল্পিত কর্মভার (স্ট্র্যাটেজিক লোড) নির্ধারণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা গৃহীত হয়।

বিগত সভার কার্যবিবরণী কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে দৃঢ়ীকরণ করা হয়। এরপর পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এসব প্রকল্পের জন্য গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র তুলে ধরে বর্তমানে প্রকল্পগুলো কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে কমিটিকে বিস্তারিত অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দেশের আলোচিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল। টানেলটির প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং এর বর্তমান বিপুল আর্থিক লোকসানের কারণগুলো নিয়ে বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হয়। এসব বিষয়ের গভীরে গিয়ে তদন্তের লক্ষ্যে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে, কর্ণফুলী টানেল সম্পর্কিত প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়ন এবং লোকসানের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে কাজ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কমিটিকে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

এ ছাড়া, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবদ্বয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রবাসীদের ঘামে সচল অর্থনীতি, সুরক্ষায় অবহেলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশের শ্রমবাজারে লাখো বাংলাদেশির ঘাম ও শ্রমে সচল দেশের অর্থনীতি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার, স্বস্তি পাচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অথচ বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি হলে তার পাশে রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে দাঁড়ায়, সেই প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায়।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের বিস্তারিত, বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং তারা আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না, তা প্রকাশ্যে আসেনি।

বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়।

ঘটনাটি শুধু দুই নাগরিকের মৃত্যুর প্রশ্ন নয়; বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা এবং দূতাবাসের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তি প্রবাসীরা: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৩.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এই বিপুল অর্থের পেছনে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চালক, কারিগরি পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণির প্রবাসী। তাদের পাঠানো অর্থে চলে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ বাংলাদেশি। কিন্তু শ্রমবাজারের এই বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা যাচ্ছে?

বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত আইনজীবী নিয়োগ, দোভাষী, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয়ই কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। এর ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আটক বিদেশি নাগরিককে কনস্যুলার যোগাযোগের অধিকার জানাতে হয় এবং তিনি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩৯৫ জন অভিবাসী শ্রমিক। তাদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ১১ জন।

বিদেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির তুলনায় আইনি সহায়তার পরিধি কতটা পর্যাপ্ত? বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সময়মতো আইনজীবী ও কনস্যুলার সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী?

নারী কর্মীদের ঝুঁকি আরও বেশি: নারী অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্যাতন, বেতন আটকে রাখা, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অনেক নারী শ্রমিকের কাছে সহায়তা চাওয়ার মতো ফোন বা প্রয়োজনীয় নথিও থাকে না। ফলে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়, স্বাধীন তদন্ত, দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা এবং দায়ী নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

রেমিট্যান্সের পাশাপাশি চাই জবাবদিহি: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় এখন প্রয়োজন বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, আইনি প্রতিনিধিত্বের বিবরণ এবং কনস্যুলেটকে অবহিত না করার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা। একই সঙ্গে বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি আইনি সহায়তা, মৃত্যুদণ্ডের মামলার পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন বা কত রেমিট্যান্স এলো, তা দিয়ে মাপা যায় না। সংকটে কতজন নাগরিক সহায়তা পেলেন, কতটি নির্যাতনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হলো এবং কতজনের অধিকার রক্ষা করা গেল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীরা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নন; তারা রাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের শ্রমের অর্থনৈতিক মূল্য যেমন আছে, তেমনি আছে জীবন, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার।


নির্বাচিত

সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে। পূজা কমিটির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। দেবী দুর্গার মতোই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াই করে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের, যে মতের, যে বর্ণেরই হই না কেন, দেশটি আমাদেরই। সকল অপশক্তি নির্মূল করে একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা আমাদের লক্ষ্য।’

পুলিশপ্রধান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারও নিরাপত্তা ছিল না, সবাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি—বহু রকমের অঘটন ঘটেছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকল অপশক্তি, সকল অন্যায়, বৈষম্য দূর করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সবার জীবনমান উন্নয়নে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

এদিকে, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ সকল পূজামণ্ডপ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফলে নিরাপদে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেই প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর তখনই সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’

যুবসমাজের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য তরুণ রয়েছেন, যারা কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের এই উদ্যোগ ও অবদান দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা আজ এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় যারা সাফল্য অর্জন করেন, তাদের অধিকাংশই তরুণ। একইভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও হয়তোবা প্রবীণরা তাদের মেধা, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু সরাসরি মাঠে থেকে তরুণসমাজই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো বড় পরিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণদের শক্তি, সাহস, মেধা ও উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই শক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো এখন শুধু আমাদের নয়, দেশের মানুষেরও। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্টার্টআপ ফান্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিমাণ প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তরুণদের শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভাবলে চলবে না, দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

এ ছাড়া যুব সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। প্রতিটি সংগঠনকে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে তিনজন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা নিজেদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তরুণ ও যুবকদের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।


নির্বাচিত

ওআইসি অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে হুমায়ুন কবির

ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি— দুটি মৌলিক স্তম্ভ’ প্রতিপাদ্যে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী আজ অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য তুলে ধরবেন। এছাড়া, অধিবেশনের পাশাপাশি তিনি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমপর্যায়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামীকাল তিনি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করবেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাগতিক দেশ ইরাক তুরস্কের কাছ থেকে এক বছর মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।


নির্বাচিত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে তারা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকার ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।’

তিনি এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অসুবিধা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একইভাবে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সঠিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে তাদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তারেক রহমান।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনে তাদের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি সাংবিধানিক বিবেচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রগতি হবে।

সরকার সর্বাত্মকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বাবলম্বী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্যাপ উপহার এনেছেন জানালে মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এ সময় বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তার দলকে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বক্তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।


নির্বাচিত

banner close