আসন্ন কোরবানির সময় এক কোটি ৩০ লাখ গবাদিপশু জোগান নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান। আজ রোববার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর আমাদের এক কোটি ২৫ লাখ গবাদি পশুর আমদানি ছিল। এর মধ্যে অবিক্রিত ছিল ১৯ লাখ। এবার কোরবানির সময় এক কোটি ৩০ লাখের বেশি গবাদিপশুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘উৎসবের দিন সামনে আসছে। এ সময়ে সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ও মতলববাজরা পুরো ব্যাপারটা ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আগামী কোরবানি ঈদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। গবাদিপশুর ঘাটতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘মধ্যস্বস্তভোগীদের যে বাড়াবাড়ি থাকে সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। গবাদিপশুর বাজার যেন স্থিতিশীল থাকে, দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তুতিমূলকভাবে খামারি ভাইদের সঙ্গে কথা বলেছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খামারিদের আশ্বস্ত করেছি গবাদিপশু আমদানি করার কোনো কারণ নেই। গরু আমদানির কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নেই। দেশে খামারি ভাইয়েরা গবাদিপশু উৎপাদিত করেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগেও হয়, সেটিই যথেষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘কোনো অপ্রতুলতা নেই। সবমিলিয়ে আমাদের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সবই ঠিক আছে। বাজার যেন অস্থিতিশীল না হয়, সেই বিষয়ে আমাদের আয়োজন ও প্রস্তুতি আছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির সময় সময় মধ্যস্বস্তভোগী ও বিশেষ শ্রেণির মানুষ সুযোগ নেয়। যে কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোরবানির আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে ঠিক করব, যেন এ জায়গাটি সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করা যায় এবং পথে পথে ঘাটে ঘাটে যেনো চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।’
দেশের ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ১১টায়। অধিবেশনের ১১তম দিন সকালের সেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এ দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেশের ১০টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আশা করছি সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষে শিগগিরই তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’’
সারাদেশে দুই হাজার ৮৪৭টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে সকালের সেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সারাদেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা- ঢাকা বিভাগে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুর বিভাগে ৩৭টি, খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি, বরিশাল বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি। সর্বমোট ২৮৪৭টি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে এসব গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব এলে প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত শর্তাদি বিবেচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এ বৈঠক শুরুর কথা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ থাকবেন।
বৈঠকে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে আলোচনার টেবিলে থাকবে ব্যাবসা-বাণিজ্য, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু, জ্বালানি নিরাপত্তা, গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা চালু করা, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকারীদের দেশে প্রত্যর্পণ, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশটিতে পলাতক মানবতাবিরোধী অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফেরানো, শীর্ষ নেতাদের সফর বিনিময়সহ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন।
এ ছাড়া, আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এদিন, বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
মূলত, ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ সরকার তার এই সফরকে শুভেচ্ছা সফর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী দিল্লি সফরে গেলেন।
দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিল্লি থেকে মরিশাসগামী একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে একই সঙ্গে যাত্রা করার কথা। ওইদিন সকাল ৮টার এয়ার মরিশাসের সেই ফ্লাইটে সাত থেকে আট ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রাকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দুই দেশের মন্ত্রী একান্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এ কারণে দিল্লির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে মরিশাসেও দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাদের মধ্যে এটি ছিল সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ।
কয়লার অভাবে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশের আরেক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ি কয়লা সংকটে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ারপ্ল্যান্ট পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।
প্রসঙ্গত, সরকার জ্বালানি সংকট কাটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর জোর দিচ্ছে। এ অবস্থায় রামপাল, পায়রাসহ অন্য কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি ভালো হলেও এই দুই বড় কেন্দ্র উৎপাদন করতে না পারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজারের এই সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও আজকে দেখা গেছে তারা ৩১৫ মেগাওয়াটে উৎপাদন সীমিত রেখেছে। গত কয়েক দিন ধরে তারা উৎপাদন সীমিত করেছে।
অপরদিকে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক কে. এম. নঈম খান বলেন, “কয়লার সংকটের কারণেই তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। তবে কত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি।”
আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, কয়লার দরপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত নভেম্বর থেকে তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যায়। তবে জটিলতা কেটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কেন্দ্রটি ফের চালু হতে পারে।”
প্রসঙ্গত, নভেম্বরে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও গ্রীষ্ম আসায় তা বেড়েছে। তখন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোনও জটিলতা সৃষ্টি না হলেও এখন কেন্দ্রটি চালু হলে গ্রাহক স্বস্তি পেতো।
তবে এই দুই ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একই সময়ে একই দেশের কোনও কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি একই উৎস থেকে কয়লা আমদানি করে চলতে পারে, তাহলে তারা কেন পারছে না—এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।
সাধারণত বাংলাদেশে বেশিরভাগ কয়লা আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কয়লারও বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে ইন্দোনেশিয়া তাদের কয়লা রফতানি না বন্ধ করলেও সীমিত করেছে। দেশটি আগে নিজেদের চাহিদা পূরণের পর বাইরে বিক্রি করছে এবং স্পট মার্কেটে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে যাদের কয়লা আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নেই, তারা বিপাকে পড়েছে। এতে পটুয়াখালীর তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটিও জটিলতায় পড়েছে। যেহেতু স্পট মার্কেট থেকে কয়লা কেনা বন্ধ এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও নেই, তাই তারা প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, এই পরিস্থিতি তৈরি হবে—এটা আগাম ধারণা করা হয়েছিল। যারা পরিস্থিতি অনুধাবন করে অগ্রিম ব্যবস্থা নিয়েছে, তারা সংকটে পড়েনি। আমরা সংকটে পড়েছি মানেই আমাদের কোনও না কোনও ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের আরেকজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, তারা কয়লার সংকটে রয়েছেন। প্রতিদিন কেন্দ্রটি চালাতে কমপক্ষে সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাদের কাছে ফুল লোডে কেন্দ্র পরিচালনার মতো কয়লার সংকট রয়েছে। কেন্দ্রটি গত ৫ এপ্রিলও সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আরেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ব্যতিক্রম নেই দেশের অন্য বড় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রেও—রামপাল ১৩২০ মেগাওয়াট, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট, পটুয়াখালী ৩৪০ মেগাওয়াট।
যদিও ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে আদানি উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। তারা একটি ইউনিটের কারিগরি ত্রুটির কথা জানিয়েছে। অন্য ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকা ছাড়া সব জায়গা থেকে লোডশেডিংয়ের খবর আসছে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে লোডশেডিং আরও বাড়বে। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জটিলতা নিরসন সম্ভব না হলে ভুগতে হবে গ্রাহককে।
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে শুরু হওয়া মন্ত্রী পর্যায়ের এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার দ্রুত চালু করাই এবারের সফরের মূল লক্ষ্য। শ্রমবাজার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালু হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে গুরুত্ব পাবে।
এর আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে।
মাহাদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন রোধ এবং বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই স্থবিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দাতো আমিন নুরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠে, যারা কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করেছিল।
যদিও মালয়েশিয়া সরকার ১৪টি সোর্স দেশ থেকে কোনো সিন্ডিকেট ছাড়াই শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগও সম্পন্ন করেছে।
জনশক্তি রফতানিকারকদের আশঙ্কা, নতুন করে শ্রমবাজার চালু হলে পুরোনো চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি এ ক্ষেত্রে আরও প্রায় ৪০০ নতুন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যে প্রক্রিয়াতেই শ্রমবাজার খোলা হোক না কেন, সরকারের কঠোর মনিটরিং না থাকলে একজন কর্মীর বিদেশযাত্রায় ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে একজন শ্রমিকের আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় গাফিলতির কারণেই শিশুদের মৃত্যু বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনার যে গাফিলতিটি হয়, সেই গাফিলতির কারণেই ওই সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুরা আজ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে। অর্থাৎ এটি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে যিনি নির্বাহী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তার অদূরদর্শিতা, অবহেলা অথবা অক্ষমতা।
ডা. লেলিন চৌধুরী আরো বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের দেশে কমবেশি ৩০ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরে-আগে এদের প্রায় ৯৮ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা হতো। কিন্তু তিনি আরো বলেন, পুরো বিষয়টির একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার এবং কেন এটি ঘটল সেই দায়ী ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।
আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, পবিত্র হজ পালনে খরচ কমাতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না। জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সৌদি সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদার ভিত্তিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতের সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের সিস্টেমে একটা পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগটি ভালো, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই। তাদের এমন অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে টিকা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতে অবধারিতভাবে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশে হামের মহামারি চলছে। মহামারি বললে সরকার ভয় পায়। অন্তর্বর্তী সরকারও একই কাজ করেছে। মহামারির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো রোগের বিস্তার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, এবং দেশের স্বাস্থ্য এটা সামাল দিতে না পারে, তখন এটাকেই মহামারি বলা হয়। সরকার রোগটির বিস্তারের তথ্য আগে জানলেও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি নীতি ও কৌশল এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। কমিশন পুনর্গঠিত হলে এসব কাজ তাদের মাধ্যমেই শুরু হবে। দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কিনা- সেটিও দেখা হবে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং এ যান নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়; সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান সড়কেও চলাচল করছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে; তবে পুনর্গঠনের কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করলেও সরকার বলছে, ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ বড় পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত ঠিক করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি—যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে না—তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট সংসদে পাস হয়েছে। গুমের অংশটা ট্রাইব্যুনালের আইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আমি শুকরিয়া জানাচ্ছি। গুম অধ্যাদেশ একটা অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল, ট্রাইব্যুনালের আইনেই গুমের বিচার সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশ যদি বাতিল হয়ে থাকে এবং এটাকে যদি আমাদের এই ট্রাইব্যুনালে অ্যাক্টের সঙ্গে যদি ট্যাগ করে দেয়া হয়, তাহলে আমি এটা আইনমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ এই গুম অধ্যাদেশটা একটা অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশের আওতাধীন যে অপরাধটা ছিল, সেটা ইতোমধ্যেই আমাদের আইনে সেটা সংবিধিবদ্ধ ছিল। আমাদের আইনে যে গুমের অভিযোগ বিচারের এখতিয়ার ছিলো, সেখানে আবার আরেকটা আইন করে, আরেকটা ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে আমার কাছে মনেই হয়নি। সেই কারণে অন্ততপক্ষে ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, এই গুম অধ্যাদেশ যেটা করা হয়েছিল এটা অপ্রয়োজনীয়। এখন ট্রাইব্যুনালের অ্যাক্টের সঙ্গে একীভূত হওয়াটাকে একটা ভালো কাজ হয়েছে এবং এটা সঠিক হয়েছে, যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মায়ের ডাকের দাবি হচ্ছে তারা গুমের ১০১টা অভিযোগ প্রসিকিউশনে দাখিল করেছে, কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৭১টা অবেদন পেয়েছি। ১০১টা অ্যাপ্লিকেশন মানে কমপক্ষে ১০১টা ভিকটিম। খুব সঙ্গত কারণেই এত বৃহৎ সংখ্যক ভিকটিমদের ইনভেস্টিগেশন একটা সময় সাপেক্ষ।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন এই প্রসিকিউশনের দায়িত্বে আসিনি তখনও আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, মায়ের ডাকের যে অভিযোগগুলো, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো ইনভেস্টিগেশন হবে। যেকোনো কারণেই করা যায়নি। তো আমি মায়ের ডাকের যারা ভিকটিম পরিবারগুলো সঙ্গে দেখা করেছে। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি এইভাবে যে, অন্তত আগামী এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা অগ্রগতি ইনশাল্লাহ আমরা তাদের দেখাতে পারব।’
আগামী বাজেটে ভ্যাট ও আমদানি শুল্কে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, গতবার থেকে ৫০ শতাংশ আয় বাড়াতে বলা হয়েছে। ৪ থেকে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় দরকার। বিশাল রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। সামনে নানা খাতের কর অব্যাহতি সুবিধা তুলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় রাজস্ব বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে পরিবহন খাতের সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সর্বোচ্চ ছাড় দেবে সরকার। টার্নওভার ট্যাক্স কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর ফাঁকির কারণে নানাক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
দেশে গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি, যা শতাংশের হিসেবে ৪৯.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে বর্তমানে মোট ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন মানুষ কর্মরত রয়েছেন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। অর্থাৎ এক দশকে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫.০৩ শতাংশ। মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে পুরুষের অংশগ্রহণ ৮৩.২৮ শতাংশ, নারীর অংশগ্রহণ ১৬.৭১ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ০.০১ শতাংশ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির একটি সূচক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ ২৭.০৮ শতাংশই ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ১৭.৫১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে, এবং রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ১৪.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে, যার হার ৪.৬৭ শতাংশ। এছাড়া খুলনায় ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুরে ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.৬৩ শতাংশ এবং বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে যে দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের আধিপত্য অত্যন্ত বেশি। মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি। বিপরীতে শিল্প খাতের ইউনিটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, যা মোটের মাত্র ৯.৯৮ শতাংশ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত’ খাত সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে, যার হার ৪১.৮২ শতাংশ।
শিল্পের আকার অনুযায়ী দেখা যায়, দেশের অর্থনীতিতে মাইক্রো ও কুটির শিল্পের প্রাধান্য রয়েছে। মোট ইউনিটের মধ্যে মাইক্রো শিল্পের সংখ্যা ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি, যা ৫৬.৬৭ শতাংশ। কুটির শিল্প রয়েছে ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি বা ৩৮.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ক্ষুদ্র শিল্প ৪.২০ শতাংশ, মাঝারি শিল্প ০.৩১ শতাংশ এবং বৃহৎ শিল্প মাত্র ০.০৮ শতাংশ, যা শিল্প কাঠামোর বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে।
মালিকানার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের হার ৮৭.৩৬ শতাংশ। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির হার ১.৮২ শতাংশ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ১.৪৪ শতাংশ।
এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা শহরের তুলনায় বেশি। বর্তমানে পল্লী এলাকায় ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি ইউনিট রয়েছে, যেখানে শহর এলাকায় রয়েছে ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি ইউনিট। ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় এলাকাতেই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী, মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী, ৪.৯১ শতাংশ অস্থায়ী এবং ৪১.৫২ শতাংশ খানা-ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক শুমারির এই চিত্র দেশের অর্থনীতিতে গত এক দশকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও সেবা খাতনির্ভর কাঠামোর বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।