আসন্ন কোরবানির সময় এক কোটি ৩০ লাখ গবাদিপশু জোগান নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান। আজ রোববার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর আমাদের এক কোটি ২৫ লাখ গবাদি পশুর আমদানি ছিল। এর মধ্যে অবিক্রিত ছিল ১৯ লাখ। এবার কোরবানির সময় এক কোটি ৩০ লাখের বেশি গবাদিপশুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘উৎসবের দিন সামনে আসছে। এ সময়ে সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ও মতলববাজরা পুরো ব্যাপারটা ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আগামী কোরবানি ঈদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। গবাদিপশুর ঘাটতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘মধ্যস্বস্তভোগীদের যে বাড়াবাড়ি থাকে সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। গবাদিপশুর বাজার যেন স্থিতিশীল থাকে, দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তুতিমূলকভাবে খামারি ভাইদের সঙ্গে কথা বলেছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খামারিদের আশ্বস্ত করেছি গবাদিপশু আমদানি করার কোনো কারণ নেই। গরু আমদানির কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নেই। দেশে খামারি ভাইয়েরা গবাদিপশু উৎপাদিত করেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগেও হয়, সেটিই যথেষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘কোনো অপ্রতুলতা নেই। সবমিলিয়ে আমাদের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সবই ঠিক আছে। বাজার যেন অস্থিতিশীল না হয়, সেই বিষয়ে আমাদের আয়োজন ও প্রস্তুতি আছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির সময় সময় মধ্যস্বস্তভোগী ও বিশেষ শ্রেণির মানুষ সুযোগ নেয়। যে কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোরবানির আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে ঠিক করব, যেন এ জায়গাটি সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করা যায় এবং পথে পথে ঘাটে ঘাটে যেনো চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।’
দীর্ঘ এক দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রস্তাবিত ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে এই অঞ্চলের জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। একই সাথে সরকারি অর্থ ব্যয়ে মিতব্যয়িতা বজায় রাখতে প্রকল্প থেকে বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়ের প্রস্তাব বাতিল করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ মোট ৭ হাজার ৩ কোটি টাকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন গতি: ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের সরকারের (জিটুজি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছরই ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ঠিকাদার নিয়োগ, মালিকানা ও সরকারি ক্রয়নীতি সংক্রান্ত নানা জটিলতায় দীর্ঘ বছর ধরে প্রকল্পটি আটকে থাকে।
শুরুতে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে ডেভেলপার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে চীন সরকার ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি)-কে নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডেভেলপার—দুই ভূমিকায় থাকতে না পারার আইনি জটিলতায় কাজটি আবারও থমকে যায়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই জটিলতা নিরসন করে প্রকল্পটিতে নতুন গতি এনেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, সিআরবিসির সাথে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।
কী থাকছে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে: বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং শিল্পাঞ্চলটিকে কার্যকর করতে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজগুলো শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান যেসব অবকাঠামো নির্মিত হবে: যোগাযোগ ব্যবস্থা: ১,২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড, ৩৩০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু এবং ১,১৮১ মিটার ফোর-লেন বিশিষ্ট সড়ক।
পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (CETP)।
বন্দর ও জ্বালানি সুবিধা: ২০ হাজার ডেডওয়েট টন হ্যান্ডলিং ক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী জেটি, প্রায় দুই কিলোমিটার গ্যাস সরবরাহ লাইন, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ও সঞ্চালন লাইন। এবং পানি সংরক্ষণাগার, জলাধার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর।
কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার আশা করছে, এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং এখানে বস্ত্র, ওষুধ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। একই সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সৃষ্টি হবে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান।
অর্থায়ন ও ঋণের শর্ত: এই প্রকল্পের মোট ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে জোগান দেবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীন সরকার থেকে বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। একনেক সভায় ঋণের শর্ত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই ঋণের সুদের হার ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সহজ শর্তের আওতাভুক্ত।
গাড়ি কেনায় প্রধানমন্ত্রীর বাধা, মিতব্যয়িতার দৃষ্টান্ত: এদিনের একনেক সভায় সরকারের মিতব্যয়িতা নীতি ও অর্থ সাশ্রয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১,৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পটিতে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় গাড়ি কেনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় তা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্তত একটি গাড়ি রাখার অনুরোধ করলেও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এর বিরোধিতা করে বলেন, একটি গাড়ির অনুমতি দেওয়াও অনুচিত, কারণ এটি একটি খারাপ উদাহরণ তৈরি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনায় গাড়ি ক্রয়ের প্রস্তাবটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ: চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও সভায় পানি সম্পদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরও চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৩টি নতুন এবং ২টি সংশোধিত। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪,৫৩৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ২,৪৬৭ কোটি টাকা।
অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো: ১. মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প (১ম পর্যায়): ফেনী জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও কৃষি সেচ ব্যবস্থার পুনর্বাসন। ২. করতোয়া নদীব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প: নদী ব্যবস্থাপনা ও নাব্যতা বৃদ্ধি। ৩. পদ্মা নদীর ভাঙন রক্ষা প্রকল্প (১ম সংশোধিত): কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা। ৪. কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত): দেশের ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন, যা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
কৌশলগত গুরুত্ব: চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বাংলাদেশে চিনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। এই সফরের ঠিক আগে বহু প্রতীক্ষিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো প্রকল্প পাস হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে। সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’
প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।
গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারব না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারাদেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।
তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারাদেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’
কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।
তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং কঠিন সময়ে তারা সবসময় পাশে ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, দেশের সংকটময় সময়ে তাদের অবদান কখনো ভোলার নয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘১৬ জুন-সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমরা সবসময় সাংবাদিক বন্ধুদের পাশে পেয়েছি। অত্যন্ত কঠিন সময়গুলোতেও তারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমি কখনো ভুলতে পারি না, যেদিন রাতে প্রেসক্লাবে আমাকে আটক করে রাখা হয়েছিল, সেদিন সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে নিরাপত্তা দিয়ে আমার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাংবাদিকদের অবদান জাতি স্মরণ রাখবে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতের নানা প্রতিকূল সময়ের তুলনায় বর্তমানে সাংবাদিকরা অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনও অনেক সাংবাদিক কর্মহীন রয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্রগুলো পুনরায় চালু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ চলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি কার্যকর নীতিনির্ধারণী ফোরাম গঠন জরুরি। পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে, কেননা গণমাধ্যমের দায়িত্ব দেশের সমগ্র জনগণের স্বার্থ ও উন্নয়নের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি কঠিন রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং দেশটিকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।’
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জার্মান দূতাবাসের আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হার্টম্যান ও এফএফও’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে এই প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষভাবে স্থান পায়। হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থনের জন্য জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এই ধরনের সফর জার্মানি এবং বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথ উন্মুক্ত করবে।
প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথেও সাক্ষাৎ করে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
জার্মান কর্মকর্তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়নমূলক উদ্যোগসমূহ পরিদর্শনের জন্য কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা ঘুরে দেখেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতের মতো রাষ্ট্র এখন আর গণমাধ্যমকে চোখ রাঙায় না বরং যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহযোগী হতে চায়। এটাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে পার্থক্য। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫১ বছর পর সংবাদপত্রের কালো দিবসের সালতামামি করলে দেখা যায়, অতীত ও বর্তমানের সংকট এক নয়। বর্তমানে সংবাদপত্রের কালো দিবস, গণমাধ্যমের সংকট ও সাংবাদিকতা পেশার কালো পরিবেশ একসূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও সাংবাদিকতা পেশায় প্রত্যাশিত সম্মান, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত তৃপ্তি অনুপস্থিত।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা– এই তিন বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই তিন বিষয়কে সমন্বিতভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ উদ্দেশে ১৮ জুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) খসড়া প্রণয়নের জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের পাশাপাশি সিটিজেন জার্নালিজমের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যাবে না, আবার নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতকে একটি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব গণমাধ্যম নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করবে, তাদের অবশ্যই প্রচলিত আইন মেনে কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে কেবল মুনাফাভিত্তিক শিল্প নয়, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
সভায় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক মেধা বিকাশে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, মেধা বিকাশের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নেতিবাচক প্রচারণা গ্রহণ করা হবে না। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, যে শিক্ষার্থী সংগীতে ভালো, সে যেন বিদ্যালয় থেকেই উন্নত প্রশিক্ষণ পায়। যে বিতর্কে দক্ষ, সে যেন বিশ্বমানের বিতার্কিক হওয়ার সুযোগ পায়। আবার যে ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন কিংবা হাডুডু খেলতে চায়, সে যেন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হওয়ার পথ খুঁজে পায়। এ লক্ষ্যেই সরকার স্কুলভিত্তিক প্রতিভা বিকাশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গান, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক, বিজ্ঞান, গণিত, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
বাজার পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে পণ্যের সরবরাহ ও বিপণন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে বাজারে উপস্থিত ক্রেতাদের কাছ থেকেও মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার কারওয়ান বাজার এবং মঙ্গলবার মহাখালী ও মোহাম্মদপুরের বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে সন্তুষ্টির চিত্র দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শরীফুল আলম বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের লাভ করার সুযোগ থাকতে হবে, তবে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।’
তিনি জানান, বর্তমানে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।
বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিরোধী দলসহ গণমানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করাই বর্তমান বিএনপি সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) বাংলাদেশের আবাসিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান স্পিকার। জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে সরকার ও বিরোধী দল আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ঐকমত্যে পৌঁছাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্পিকার। আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টরকে তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটসহ জাতীয় ইস্যুগুলোতে বিরোধী দল আন্তরিকভাবে সংকট উত্তরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে সকল বিষয়ে আলোচনা করে সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্পিকার।
বিগত আওয়ামী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের প্রসঙ্গ তুলে এ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে মার্কিন সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলের নিপীড়নের উদাহারণ দিতে গিয়ে স্পিকার বললেন, আয়নাঘর, গুম-খুন ও বিরোধী মতের দমন-পীড়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সাক্ষাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইআরআইয়ের সহযোগিতার প্রস্তাব দেন জন ফ্লুহার্টি।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ধীরে ধীরে সংসদের কার্যপ্রণালীসমূহ আয়ত্তে আনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকার বললেন, ইতোমধ্যে ইউএনডিপি সংসদ সদস্যদের জন্য অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে বিশেষজ্ঞগণের মাধ্যমে সংসদ সদস্যগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দিয়েছে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা স্পিকারকে জানান জন ফ্লুহার্টি।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের কনসালট্যান্ট অমিতাভ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় মহিলা সংস্থার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১’ এর ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮(২) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আফরোজা আব্বাসকে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে এই নিয়োগ প্রদান করা হলো।
সরকারি এই প্রজ্ঞাপনে আফরোজা আব্বাসের নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান শর্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্বে যোগদানের তারিখ হতে চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কার্যকাল পরবর্তী দুই বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে এই মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে সরকার চাইলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে এবং একইভাবে তিনি নিজেও সরকারের উদ্দেশে স্বহস্তে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে যেকোনো সময় স্বীয় পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় মহিলা সংস্থার শীর্ষ পদে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা বিনা বেতনে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে আয়োজিত এই সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি একেবারেই নতুন এবং বাকি দুটি সংশোধিত। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফেনীর মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, করতোয়া নদী সিস্টেমের উন্নয়ন এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলা রক্ষার সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও এই সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। নদী রক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে গৃহিত এই প্রকল্পগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিল্লি বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ রাখা এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে ভারত সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দিল্লি বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়া হবে, তবে এটি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
গত রোববার ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন এই উপদেষ্টা। নিয়ম অনুযায়ী তার সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল বাংলাদেশ সরকার। তা সত্ত্বেও দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং শুরুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
অতিসম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিবর্গ এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং এমন কিছু তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছেন, যা অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সঠিক তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবি'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রতিনিধিত্ব করেন।
মহাপরিচালক পর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩১টি এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত এজেন্ডাসমূহের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের প্রামানিক/অথেন্টিক দলিল হলো “জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (JRD)”, যা বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালকদ্বয় কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করে। বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)-এ যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও লিপিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ বাংলাদেশের সকল উদ্বেগ গুলো শুধু আলোচিতই হয়নি, আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনে নথিবদ্ধও হয়েছে। সম্মেলনের এই আনুষ্ঠানিক দলিল পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এতে বিজিবির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সকল উদ্বেগ ও অবস্থান সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে, স্পষ্টভাবে এবং কোনো ধরনের আপস বা নমনীয়তা ব্যতীত যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১২ জুন ২০২৬ তারিখে বিজিবি কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উক্ত জয়েন্ট রেকর্ড অফ ডিসকাশসনের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিছু ব্যক্তি এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে “গোপন বৈঠক” হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনেই আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রচলন ও অনুসৃত প্রথা। এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে ডিজি বিএসএফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবারও মহাপরিচালকের সাথে বিজিবির অন্য শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথে সাক্ষাৎ করেন যা ভারতে গমনের পূর্বেই পূর্বনির্ধারিত এবং অনুমোদিত ছিল যেখানে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মহাপরিচালক বিজিবি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেন। আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি -এটিকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করা বাস্তবতা বিবর্জিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জনগনকে সাথে নিয়ে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা, মায়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি মহাপরিচালকের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বিজিবি যখন জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, তখন বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রচার এবং বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে হেয় করার প্রচেষ্টা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতামত ও বিশ্লেষণের অবকাশ অবশ্যই আছে - তবে তা যাচাইকৃত তথ্য, প্রামাণিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিত্তিতে হতে হবে।
বিজিবি বর্তমানের মত ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর।
একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার বেসরকারি খাত, যার পিঠে ভর করে গড়ে ওঠে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির মজবুত ভিত্তি। কিন্তু ড. মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে আইনি সংস্কারের নামে নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নজিরবিহীন স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। তবে বিচারহীনভাবে সম্পদ অবরুদ্ধকরণ এবং উদ্যোক্তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলার সেই ‘অন্ধকার অধ্যায়’ পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে দেশের আর্থিক খাত।
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের পরে ইউনূস আমলের বিতর্কিত আইনি ধারাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ‘থ্রি-আর’ কৌশল দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন বাঁক বদলের সূচনা করতে যাচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, এই দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা। ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এই ৫ বছরেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমৃদ্ধ অর্থনীতির চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন-২০০৪’-এর যে সংশোধনী আনা হয়েছিল, আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আদালতের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বিবেচনা করা আইনের শাসনের পরিপন্থি। অথচ, সংশোধিত আইনে ‘আন্ডার কাভার’ তদন্তের নামে কোনো রকম বিচার বা চার্জশিট ছাড়াই যেকোনো নাগরিক বা ব্যবসায়ীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তাৎক্ষণিক জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে ব্যবসা বন্ধ করার অবাধ সুযোগ তৈরি করা হয়।
সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ (অবাধ চলাফেরা ও দেশত্যাগের মৌলিক অধিকার) এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায় (দুদক বনাম জি বি হোসেন মামলা, ৭৪ ডিএলআর)—যেখানে বলা হয়েছিল শুধু মামলার অজুহাতে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া যাবে না—তা পুরোপুরি অমান্য করা হয়।
অর্থনীতির ওপর নেমে আসা আঘাতের খতিয়ান: ৫৫,০০০ কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ: দেশের প্রায় দেড় হাজার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সাধারণ পেশাজীবীর ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তি আকস্মিকভাবে ফ্রিজ বা ক্রোক করা হয়।
১,০০০ উদ্যোক্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য যেখানে প্রতিনিয়ত বিদেশে যোগাযোগ করতে হয়, সেখানে এক হাজারেরও বেশি শিল্পপতির ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বহু চলমান বৈদেশিক চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।
উৎপাদন বন্ধ ও লাখো মানুষের বেকারত্ব: পুঁজি ও মালিকের অনুপস্থিতিতে শত শত কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন বিনিয়োগ তো দূরস্থ, উল্টো সচল থাকা কয়েক লাখ মানুষ চাকরি হারিয়ে চরম বেকারত্বের মুখে পড়েন।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ: যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তারা চাইলেও ব্যাংকের নিয়মিত কিস্তি ও ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ একযোগে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো ঘটেনি।
কেবল দুর্বল ব্যাংকই নয়; দেশের প্রথম সারির ও সুশাসিত আর্থিক সূচকে থাকা সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক এবং বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে বৈশ্বিক আইনি কাঠামো কঠোর হলেও, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক বা আধুনিক অর্থব্যবস্থায় আদালতের রায় ছাড়া ঢালাওভাবে ব্যবসা বন্ধের নজির নেই।
ঘুরে দাঁড়ানোর মহাপরিকল্পনা—সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল: বিগত দেড় বছরের আইনি ও নীতিগত ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখন নতুন করে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক তথ্য জানাচ্ছে, দেশের অর্থনীতি তার সহজাত স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ দিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৪.১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই ইতিবাচক ধারাকে ত্বরান্বিত করতে এবং দেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছে নতুন সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন ধাপের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক রূপরেখা উন্মোচন করতে যাচ্ছেন, যা সংক্ষেপে ‘থ্রি-আর’ (Three-R) কৌশল নামে অভিহিত।
এই ‘থ্রি-আর’ কৌশলটি মূলত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন স্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
কৌশলের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো ‘রিকভারি’ বা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। বিগত আমলের বিতর্কিত আইনি গ্যাঁড়াকল ও ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দের কারণে বেসরকারি খাতে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, আগামী ১২ মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এই ধাপে। এর আওতায় সরকার অনতিবিলম্বে ব্যবসায়ীদের অবরুদ্ধ অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তি সচল করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে, যাতে বাজারে বন্ধ হয়ে যাওয়া তারল্য প্রবাহ আবার স্বাভাবিক হয়।
একই সাথে, ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা কাটানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি শক্ত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন’ বা স্থিতিশীলতা আনয়নই হবে এই প্রথম বছরের মূল চ্যালেঞ্জ।
প্রথম ধাপে স্থিতিশীলতা আসার পর, দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হবে ‘রিস্টোরেশন’ বা অর্থনীতির স্বাভাবিক কাঠামো ও গতি ফিরিয়ে আনার ওপর। বর্তমান সরকারের প্রথম তিন বছরের মধ্যে এই ধাপের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং বিগত দেড় বছরে আতঙ্কিত হয়ে যেসব দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তাদের পুনরায় বিনিয়োগে ফিরিয়ে আনা।
এই তিন বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে, যার সরাসরি সুফল হিসেবে দেশের বাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সংকুচিত হয়ে পড়া শ্রমবাজার আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
‘থ্রি-আর’ কৌশলের চূড়ান্ত ও সবচেয়ে দূরদর্শী ধাপ হলো ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন’ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে কাঠামোগত পুনর্গঠন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনাটি ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এই ধাপে দেশের সনাতন অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আধুনিক, ডিজিটাল ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলা হবে।