প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক শ্যামলকে শপথবাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিমের পরিচালনায় এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী জনগণের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাদের প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধিদের কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় পরিপূর্ণ দায়িত্ব পালনে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আবু বকর সিদ্দিক শ্যামল বিজয়ী হন।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র (বাসস) উদ্যোগে সোমবার এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হয়েছে।
সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলে দেশবাসীর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি যুগান্তকারী ধারা সৃষ্টি করে গেছেন, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির যে দর্শন জিয়াউর রহমান প্রবর্তন করেছিলেন, তা বর্তমান সময়েও জাতীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় শহীদ জিয়ার চিন্তা-চেতনা ও আদর্শের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
দোয়া মাহফিলে বাসস-এর সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম ও জাতীয় উন্নয়নে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ঈদযাত্রা ও ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ অভিযানে ১০ দিনে সংস্থার ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭৫৮টি অভিযান পরিচালনা করেছেন।
এসব অভিযানে ৮১৩টি মামলার পাশাপাশি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ২৩০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়ম অমান্য করায় ছয়টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রার শুরুতেই গত ২২ মে থেকে বড় পরিসরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়, যা ৩১ মে পর্যন্ত একনাগাড়ে চলে। এ ছাড়া ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঢাকার সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ভিজিলেন্স টিমের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
যানবাহন ছাড়ার আগে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, বেপরোয়া ওভারটেকিং পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীদেরও সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অবহিত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের চেয়ে বিআরটিএর অভিযান জোরদার হওয়ায় চালকদের একটি বড় অংশের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে সড়ক নিরাপদ রাখতে এই কর্মসূচি শুধু ঈদ মৌসুমে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছরই অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, শুধু ঈদ মৌসুমে নয়, সারা বছর তদারকি ও সমন্বিত কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ এক বা দুই সপ্তাহে একজন গাড়িচালক হুট করে তার আচরণ পরিবর্তন করবেন—এমনটা আশা করা ঠিক নয়। অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের চর্চার ওপর নির্ভর করে।
বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞা বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে গত ২০ মে থেকে বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে, যা আগামী ৬ জুন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত গতি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি সার্কেল অফিস থেকে বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা যৌথভাবে টার্মিনালগুলোতে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে আজ সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
বিকালে স্কয়ার হাসপাতালে তোফায়েল আহমেদের স্বজনরা জানান, মরদেহ কিছুক্ষণের মধ্যে ধানমন্ডির ১২/এ-তে তাকওয়া মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই মরদেহের গোসল করানো হবে এবং বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল মঙ্গলবার তার নিজ জেলা ভোলায় আবার জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
গত বছরের ২০ নভেম্বর স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ মারা গেছেন।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
সে দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য পরবর্তীতে চিকিৎসকরা বিষয়টি নাকচ করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
বর্ণাঢ্য জীবন
তোফায়েল আহমেদ ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীকে রেখে গেছেন।
অ্যাকাডেমিক জীবনে ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের হাতেখড়ি হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।
১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাস-সহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন এই নেতা।
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকটা বাধ্য হয়েই অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও তা দ্রুত কমিয়ে আনা হবে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার কেবল তখনই এমন কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেয় যখন এছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কথা কিন্তু বারবার বলার চেষ্টা করেছি যে, একান্ত যখন উপায়হীন হবে সরকার তখনই এ ধরনের অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত হয়তোবা নিতে বাধ্য হবে। তো মিডল ইস্ট ক্রাইসিসের কারণে এ ধরনের বাস্তবতা এসেছে।’
প্রতিমন্ত্রী অমিত জানান, দেশের জ্বালানি ব্যবহারের ৬৬ শতাংশই ডিজেল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও পণ্য পরিবহনের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, ডিজেলের পেছনেই সরকারকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ভর্তুকি দিতে হয়, তবুও ‘সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড না হন’ সেই লক্ষ্যেই এর দাম বাড়ানো হয়নি। তবে সামগ্রিক ব্যয় সামাল দিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘না, না, আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি যে আমরা তো আশাবাদী যে মিডল ইস্ট ক্রাইসিস অচিরেই রিজলভ (মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান) হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি যদি গ্লোবাল প্রাইস মানে শার্পলি ডিক্লাইন করে আমরাও খুব শার্পলি এটা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করবো।’ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল দেশের মানুষ যেন পায়, সেটি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অতীতের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘মানে বাড়ে যেভাবে হয়তো বা সেভাবে কমে না। কিন্তু আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যদি এই ক্রাইসিস রিজলভ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, যেহেতু এটা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেবো ইনশাআল্লাহ।’ উল্লেখ্য যে, ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সোমবার (১ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রকার শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড ও অর্পিত দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
দীপেন দেওয়ান তাঁর পদত্যাগপত্রে আরও জানান, বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেই মহতী উদ্দেশ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অসুস্থ অবস্থায় পদে বহাল থাকা মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে তিনি পদত্যাগপত্রটি সদয় গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগপত্রটি ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন। দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগের ফলে মন্ত্রিসভায় একটি পদ শূন্য হলো এবং ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার কার হাতে ন্যস্ত হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে প্রথম কর্মদিবসে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করে সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে সোমবার সকালে সচিবালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া দুপুর দেড়টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা এবং দুপুর ২টায় ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ছুটির পর সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমও পূর্ণমাত্রায় শুরু হলো।
আফ্রিকার বিতর্কিত আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্ব শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সম্মাননা প্রদান করবেন। জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গৌরবময় তথ্যটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সম্মাননা প্রাপ্ত এই ছয় সাহসী শান্তিরক্ষী হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও সান্ত মণ্ডল। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় তাঁরা নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। বিশ্ব শান্তির রক্ষায় তাঁদের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এবারের আয়োজনে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই পদকে ভূষিত করা হবে। এটি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাহসিকতার একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল প্রেরণের ক্ষেত্রে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশের ৪ হাজারেরও বেশি দক্ষ সামরিক ও পুলিশ সদস্য বর্তমানে আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন ও দক্ষিণ সুদানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষত ২৭৭ জন বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীর সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মহলে ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বর্তমানে ১১টি মিশনে ১১৮টি দেশের প্রায় ৫০ হাজার শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন।
দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও মব সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে মে মাসে সর্বোচ্চ ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মে মাসের ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন’-এ এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে ১০ জন নিহত হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই সংখ্যাটি যথাক্রমে ২১, ১৮, ১৯ ও ২১ জনে ওঠানামা করছিল, যা মে মাসে এসে এক লাফে ৩২ জনে পৌঁছায়।
এমএসএফ উল্লেখ করেছে, সামাজিক বিরোধগুলো সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মবের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের দুর্বলতা এবং বিচারবহির্ভূত প্রবণতাকেই নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনে মব সহিংসতার পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যান্য সূচকেও বড় ধরনের অবনতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মে মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ও নির্যাতনে চারজনসহ সীমান্তসংশ্লিষ্ট ঘটনায় মোট সাতজন এবং মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতায় মে মাসে তিনজন নিহত ও ১৯৩ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনা এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে মোট ৭০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৬টি দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ৬টি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা রয়েছে। একই সাথে মাসটিতে ৫৩টি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার এবং কারা হেফাজতে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে সামগ্রিক মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় রবিবার (৩১ মে) এক বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে যে, জুন মাসের জন্য পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা হারে বাড়ানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার সাথে অভ্যন্তরীণ বাজার সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, "বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা,পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হলো।"
নতুন এই দর আগামীকাল ১ জুন থেকে সারা দেশে কার্যকর হতে যাচ্ছে। মে মাসে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় নির্ধারিত থাকলেও ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত ছিল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকার এই পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রতি মাসেই বিশ্ববাজারের দরের ওপর ভিত্তি করে দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার নিয়মিত চর্চা অনুসরণ করে আসছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এর ফলে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহারকারীদের ওপর ব্যয়ের বাড়তি চাপ তৈরি হলো।
আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালে যৌথ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) বিকালে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিনের ফ্রিজে লেবেলবিহীন ও জমাটবদ্ধ বাসি মিষ্টি রাখা, রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব এবং হাসপাতালের রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনে ২ লাখ টাকা—সর্বমোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দণ্ড আরোপ করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা, রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন, ক্যান্টিনের মানোন্নয়ন এবং বেকারি স্থানান্তরের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এছাড়া বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালেও মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজ, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আসলাম ভূঁইয়া, রমনা থানার পুলিশ সদস্যরা এবং সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
জনস্বার্থে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই যৌথ ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশিত পথে দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সফল সরকার গঠন করাই তার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
আজ রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, "জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধির স্বার্থে আলস্য ত্যাগের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, "আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এই সময় হেসেখেলে কাটিয়ে দিলে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রসারে শিক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বিষয়গুলো কিভাবে শিশুদের মাঝে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।" জিয়ার সততা ও কর্মনিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, "জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে এক রকম মনে করত। কঠোর পরিশ্রম, সততার মাধ্যমে দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।"
এছাড়া দলের নেতা-কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনের আগের মতো পরিশ্রম জারি রাখতে হবে। ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে সফল করতে হবে।" মূলত জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের মাধ্যমেই বর্তমান প্রতিকূলতা মোকাবিলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
চাঞ্চল্যকর রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামীকাল পহেলা জুন থেকে শুরু হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছেন। আজ রোববার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে সরকার বিশ্বাস করে।
মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনমন্ত্রী জানান যে, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে সঠিক সময়ে চার্জশিট দাখিল করার মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করেছে। আদালত খোলার প্রথম দিনেই মামলাটি শুনানির তালিকায় রাখা হয়েছে এবং এর গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সর্বোচ্চ দণ্ড প্রার্থনা করবে।
সংবিধান সংশোধন কমিটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন যে, ১৭ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটির জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সরকার ইতিমধ্যে নিজেদের পক্ষ থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পাঁচজন সদস্যের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি নামের জন্য সরকার বর্তমানে অপেক্ষা করছে। বিরোধী দলের মতামত ও নাম পাওয়া গেলেই জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় সংবিধান সংশোধনের মূল কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী আরও জানান যে, মানবাধিকার আইন এবং গুম কমিশন আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ের পরামর্শ সভা সম্পন্ন করেছে। সেখান থেকে আসা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামত এখন গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আইনগুলোকে জনস্বার্থে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন সুসংহত করতে সরকার একটির পর একটি ধাপ অতিক্রম করছে বলে তিনি দাবি করেন।