প্রতিকূলতার মাঝেও সুন্দরবনের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে যাতে আর এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেদিকেও তিনি খেয়াল রাখতে বলেছেন।
আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তার নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব কথা জানান। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সচিব বলেন, সুন্দরবনের আগুন লাগার বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়টি আরও কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বনের আগুন নেভানোর পর সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা যায় না। এ জন্য এখনও কয়েক দিন গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা লাগবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবহিত হওয়ার পর কার্যক্রমের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সুন্দরবনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৫৫জন কর্মী কাজ করেছেন। দেড় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূর থেকে পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি এনে ব্যবহার করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, গভীর জঙ্গলে রাতে কাজ করা যায়নি। দিনে কাজ করতে হয়েছে। ঝুঁকিও ছিল। সব মিলিয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জিং কজি তারা সম্পন্ন করেছেন, এজন্য তারা (ফায়ার সার্ভিস) ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপির মূল শক্তি বন্দুক, ককটেল বা রিভলবার নয়; দেশের সাধারণ জনগণই দলের চালিকাশক্তি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় আব্দুল্লাহপুরসংলগ্ন পলওয়েট মার্কেটের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন ও দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে এবং তিনি দেশ ছেড়েছেন—এমন দাবি করেন তিনি। ফিলিপাইনের মার্কোস ও ইরানের শাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কোনো স্বৈরাচার গণঅভ্যুত্থানের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি।
রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উসকানিমূলক বক্তব্য ও আস্ফালনের মধ্যে তিনি আগের সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিধ্বনি দেখতে পাচ্ছেন। অগণতান্ত্রিক উপায়ে বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো কিছু অর্জনের চেষ্টা সহাবস্থান ও শান্তির বার্তা দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সংকট, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মহেশখালী টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে সরকারকে বিপুল লোকসান গুনতে হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও বিরোধী দল ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে রিজভী রংপুরে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে লংমার্চের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, জ্বালানি সংকটের সময় এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের কাছে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনাও জানতে চান।
রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, উত্তরা ও কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনার প্রতিবাদ জানান রিজভী। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রিজভীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সাম্প্রতিক অভিযানে ৪৭২ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের এ সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।
রিজভী বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উত্তরা ও বিমানবন্দর মহাসড়কের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন এবং পরিকল্পিত নাশকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী বাজারে চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাতভর তল্লাশি চালিয়েও তখন শিশুটির মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
পরে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুর ডিবির অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি বলেন, হত্যার কারণ, মরদেহ কোথায় ও কীভাবে গুম করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে জিন্নাতুন তার মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সম্পর্কে শিশুটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে মরদেহের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানের উপযোগী প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, শিক্ষা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বেকারত্ব সৃষ্টি করে এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী নয়—এমন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশে ও বিদেশে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।
রাষ্ট্রপতি প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, সার্বিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ও উঠে আসে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব ছাড়াও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) উপস্থিত ছিলেন।
সকল সরকারি দপ্তরে শতভাগ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা গেলে দেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
তিনি বলেন, মানুষে মানুষে সরাসরি যোগাযোগই দুর্নীতির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো সরকারি সব ধরনের সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হলে নাগরিকদের সেবা নিতে সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমার পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সহজ হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যান্ড ডিজিটাল কম্পিটেন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (ডিগক্যাফ)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারি কর্মচারীদের ডিজিটাল দক্ষতা মূল্যায়নের ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা এবং অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (জিইএমএস) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। বর্তমান সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সেবা দেওয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
তার ভাষ্য, নাগরিকদের সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন যত কমবে, সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা তত বাড়বে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আব্দুল বারী বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজ করা সম্ভব হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা-মোকদ্দমা অন্তত ৯০ শতাংশ কমে যাবে।
তিনি সরকারি প্রশাসনে সংস্কার ও কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়েও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পোস্টিং, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া উচিত।
সিভিল সার্ভিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে শুরু করে সচিব কিংবা মহাপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল জ্ঞান ও দক্ষতাকে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে সরকার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
তিনি সেবার মানোন্নয়নে ডিজিটাল ডিভাইস দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঞা, জাইকা বাংলাদেশের মুখ্য প্রতিনিধি জুঙ্কু তাকাহাশি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
দিনব্যাপী আয়োজিত সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মচারীদের ডিজিটাল দক্ষতা নিরূপণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
জ্বালানি সংকটের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের রংপুরের লংমার্চে সাড়ে চারশো গাড়ি অংশ নিয়েছে এবং এর মধ্যে কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকটের সময় এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী। তাঁর বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা উঠে আসে।
রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকটের সময় বিরোধী দল সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চ করেছে। যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাবের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।
তিনি প্রশ্ন করেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, যখন জ্বালানির সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না, ডিজেল সরবরাহে সমস্যা রয়েছে এবং জ্বালানির অভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রিজভী বলেন, ওই জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে জনগণের উপকার হতে পারত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, লংমার্চে যাওয়ার পথে কয়েকটি গাড়ি টোলও পরিশোধ করেনি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিশ্বরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে বিরোধী দল এমন কর্মসূচি পালন করছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প পরিকল্পনা কী—সে প্রশ্নও তোলেন রিজভী। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে; তাই বর্তমান সংকটের সমাধানে তাদেরও কার্যকর প্রস্তাব থাকা প্রয়োজন।
জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী হরমুজ প্রণালীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি করা জ্বালানি তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে আসে।
তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নয়, অন্য গোষ্ঠীও জড়িত থাকতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দলটির আমিরের প্রতি বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে এক সমাবেশেও রিজভী বলেছিলেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে; তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা বা জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে। তিনি সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অধিকার স্বীকার করলেও হুমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের সমালোচনা করেন।
রংপুরের লংমার্চ নিয়ে তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন ছিল—জ্বালানি সংকটের সময়ে এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন কতটা যুক্তিসংগত। অন্যদিকে, লংমার্চে অংশ নেওয়া ১১ দলীয় জোটের নেতারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সাথে তিনি এই বৈশ্বিক মঞ্চে অংশ নেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ।
নিউইয়র্কের মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতা ও তাদের সঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব এই প্রাতরাশের আয়োজন করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তা দেখে তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকা না-থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তারা বিষয়টি স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। তবে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ এখনো আছে।
এরই মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যু নতুন করে গাজী নজরুল ইসলামকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। গত রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবার করা মামলায় গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে আছেন গাজী নজরুল। এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং এ পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে। সেগুলোর একটি হলো, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়া এবং পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী চিঠি দিয়েছে। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে কারও সংসদ সদস্য পদ যায় না। কোনো সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইঙ্গিত করে স্পিকার আরও বলেন, এখন পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, তাঁরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছেন। পুলিশ কী ব্যবস্থা নিল, তা দেখে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, আরেকটি হতে পারে, আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে কিংবা দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর আসন শূন্য হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যদি দল তাঁকে বহিষ্কার করে, সে ক্ষেত্রে কী হবে—তা সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা নেই।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং এই পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে। সেগুলোর একটি হলো নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়া এবং পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
একই সঙ্গে এই অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো সংসদ সদস্য ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হয়েছেন কি না বা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের পর তাঁকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্যও সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তির কারণে তাঁর নাম বাদ দিয়ে ওই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আগত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে (ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট) অংশ নিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই প্রাতরাশ সভার আয়োজন করেন।
এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ও ব্যস্ত সফর সূচি শুরু হলো।
প্রাতরাশের শুরুতে বিশ্বনেতারা একে একে তাদের সহধর্মিনীদের নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে ওঠেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রী সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে সেই মঞ্চে ওঠে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও ফটোসেশনে অংশ নেন।
প্রাতরাশ শেষে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। এ অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত রয়েছেন।
সফর সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে ভারতকে দেশীয় পণ্য আমদানি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় গভর্নর বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং এ ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করলে গভর্নর জানান যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ ও মুনাফা সহজে নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলে ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে ও সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব কুমার আগারওয়াল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল ও জরিমানা করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমে সরকার বাস ভাড়া যৌক্তিকের চেয়ে কম নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নতুন বাস ভাড়ার গেজেট আজই প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘গেজেট হয়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে কার্যকর হয়ে যাবে।’
বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী এবং একটা অবধারিত পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম ১ টাকা বাড়লে বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। এবার লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহন মালিকেরা নিয়ম অনুযায়ী কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর অনড় দাবি জানিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি ছিল তাদের। তবে সরকার সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে ২০ পয়সার পরিবর্তে ১৭ পয়সা ভাড়া নির্ধারণে সক্ষম হয়েছে।
এর আগের বার যখন জ্বালানির দাম ১৫ টাকা বেড়েছিল, তখন সরকার মালিকদের ১৫ পয়সার যৌক্তিক দাবির বিপরীতে ভাড়া ১১ পয়সা নির্ধারণ করতে পেরেছিল এবং তা কার্যকরও হয়েছিল। এবারও ১৭ পয়সার বাইরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের রুট পারমিট ও লাইসেন্স নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে। সাধারণ মানুষের ওপর এই আর্থিক চাপের কথা স্মরণ করে আক্ষেপের সুরে মন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো,’।
অবশ্য রেলের ক্ষেত্রে সরকার সাধারণ যাত্রীদের বাড়তি কোনো ভাড়ার মুখে ফেলছে না বলে নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি জানান, আগেরবারের মতো এবারও রেলের ভাড়া বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া নৌপথের লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী পরশু লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই বৈঠকেই লঞ্চ ভাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি এবং কৌশলগত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার চীনের ইউনান প্রদেশে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের উষ্ণ আতিথেয়তা ও আন্তরিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সার্বিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাত, আধুনিক প্রযুক্তি, জীবনমান উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে বেইজিংয়ের জোরালো অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করেন।
দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় চীন সফরের মধ্য দিয়েই দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের মজবুত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে। এছাড়া দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরিতে ‘বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি অভিমত দেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ সংসদীয় পর্যায়ে যৌথ প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান এবং জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া আন্তরিক সহযোগিতা ও আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। এ সময় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূতসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহানগর ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর আগে তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় সমন্বয়ের লক্ষ্যে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগর এলাকার সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত দূরপাল্লা ও নগর পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন এই মূল্যের ফলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সরাসরি কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঋণদাতা সংস্থাটির কোনো বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, আইএমএফের ঢালাও নীতি হলো কোনো সরকার যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেয়। তবে তাদের সব নির্দেশনা বাংলাদেশ সরকার হুবহু মেনে চলে এমন নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে সংস্থাটির সব সময় পূর্ণ স্বস্তি না থাকলেও জনগণের স্বার্থেই সরকার তা বজায় রাখছে। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্তের সাথে তেলের মূল্য সমন্বয়ের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।
জ্বালানি খাতের অর্থনৈতিক চাপ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তরল জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক ভর্তুকি যোগ করলে রাষ্ট্রের ওপর এক বিপুল আর্থিক বোঝা তৈরি হয়। অর্থনীতির সাধারণ নিয়মেই এই ভর্তুকির চাপ কমিয়ে আনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। সরকার এখন কোন খাতে কতটা ভর্তুকি সাশ্রয় করবে, সেই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তই গ্রহণ করছে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পদক্ষেপটি কোনো বিদেশি সংস্থার শর্তের বাস্তবায়ন নয়, বরং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার অভ্যন্তরীণ নীতিগত উদ্যোগেরই অংশ।