বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন তিস্তা নিয়ে আমরা একটা বড় প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চায় ভারত। আমাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা আমাদের চাহিদা পূরণ দেখতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফর প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। ভারতে নির্বাচন চলছে। নতুন সরকার গঠন করা হবে এবং তারপরে সফরের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি নাকি বেইজিং; কোথায় আগে সফর করবেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, দিল্লি আমাদের কাছে, বেইজিং একটু দূরে। প্রধানমন্ত্রীর অনেক আগে থেকেই ভারত সফরের কথা রয়েছে। কিন্তু, সেখানে যেহেতু ইলেকশন, সেই ইলেকশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কখন সফর হবে সেটি নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।’
কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, জুনের শেষ দিকে প্রতিবেশী দেশটির নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সম্ভব না হলেও জুলাইয়ের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার ও রাজনৈতিক পর্যায়ে সদিচ্ছার অভাব নেই। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে। তবে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র যখন কাছাকাছি ব্যবহার করা হয় তখন তা প্রাণঘাতী অস্ত্রের মতো কাজ করে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপাল ও ভুটান থেকে ভারতের মধ্যে দিয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানিতে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশে কিছুটা বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে সেই ঘাটতি কমেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের ভালুকায় আবাসিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিটিআরএস) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে ঋণ নিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। অথচ মুখে মুখে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা বলেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যা বলে, তা করে। প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন, আমরাও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা দেখেছেন, উন্নয়নের কিছুই হয়নি।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বাড়িতে ২০ কিলোওয়াট পিক এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়িতে ৫ কিলোওয়াট পিক সক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ সময় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করা হবে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন বরাদ্দ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন সরকারি চাকুরিজীবী আবাসন সুবিধা বরাদ্দ নিয়ে নিজে বসবাস না করে অন্য কারো কাছে বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন—এমন সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে সরকার।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এর মধ্যে এসব বাসা থেকে ভাড়াটে ও সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বাসা বাতিলের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এ বিষয়ে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনাটি জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু সরকারি চাকরিজীবী তাদের নামে বরাদ্দ করা বাসার এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসার সম্পূর্ণ অংশ বা আংশিক কোনো অংশই অন্যের কাছে ভাড়া কিংবা সাবলেট দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে যারা এ ধরনের ব্যবস্থা করেছেন, তাদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি বরাদ্দ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই সংশ্লিষ্ট বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে।
নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুযায়ী বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিধিমালার ১৪(৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।
আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব বাসা যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকে সেখানে বসবাস না করে অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো রয়েছে। গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি এবং গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি বাসা বরাদ্দ রয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি, গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি এবং শুধু গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৭৭৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে ১২ ও ১৩ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমডোর মো. নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং) এই তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন) এবং ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। এ ছাড়া কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)-কে। গঠিত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে উড়োজাহাজটিতে সংঘটিত কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন উদ্ঘাটন এবং উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ফ্লাইট বিলম্ব, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তাও নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মীর দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা যাচাই করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে কমিটি।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে উড়োজাহাজটির ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ককপিটে উড়োজাহাজের স্পয়লার-সংক্রান্ত ত্রুটির একটি সতর্কবার্তা দেখতে পান পাইলট। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়ন বাতিল করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন করে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
অনেক মসজিদে জুমার খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের পারস্পরিক কথোপকথন, অনর্থক গল্প কিংবা উচ্চস্বরে দরুদ পাঠ করতে দেখা যায়। আবার ঈদের জামাতেও ইমামের সঙ্গে সমস্বরে উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরে তাশরিক বলার প্রচলন দেখা যায় অনেকের মাঝে। তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জুমআ ও ঈদের খুতবা পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নীরবে শ্রবণ করা প্রত্যেক মুসল্লির জন্য ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন যেকোনো ধরনের কথাবার্তা বলা, পার্থিব কাজে লিপ্ত হওয়া এবং এমনকি তাসবিহ-তাহলিল বা ব্যক্তিগত জিকির-আজকারে মশগুল থাকাও শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
হাদিস গ্রন্থ সহিহ ইবনে খুযাইমায় বর্ণিত একটি ঘটনায় খুতবার গুরুত্ব ও কথা বলার পরিণতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। হজরত আবু যার (রা.) বর্ণনা করেন, একবার খুতবা দেওয়ার সময় মহানবী (সা.) সুরা তাওবা (বারাআত) পাঠ করছিলেন। সে সময় আবু যার (রা.) পাশে থাকা সাহাবি হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করেন যে এই সুরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে। প্রশ্ন শুনে উবাই (রা.) কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন এবং পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও নিরবতা বজায় রাখেন। নামাজ শেষে কারণ জানতে চাইলে উবাই (রা.) বলেন, খুতবার সময় কথা বলার কারণে আবু যার (রা.) মূলত জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নবীজি (সা.)-এর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, উবাই একদম সঠিক কথাই বলেছেন।
খুতবার সময় চুপ থাকার গুরুত্ব এতটাই কঠোর যে, অন্য কাউকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কথা বলাও শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) উল্লেখ করেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন—ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন যদি তুমি তোমার পাশের ব্যক্তিকে কেবল ‘চুপ থাকো’ বলেও নির্দেশ দাও, তবে তুমি নিজেও একটি অনর্থক বা ভুল কাজ করলে। এ ছাড়া তাবেয়ি হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও ইমাম যুহরি (রহ.)-এর মতো প্রখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিতদের মতে, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নফল নামাজ পড়া যায় না এবং তিনি খুতবা শুরু করার পর কোনো কথা বলার অনুমতি থাকে না।
এসব নির্ভরযোগ্য হাদিস ও সাহাবিদের আমলের আলোকে ফকিহ ও ইসলামিক স্কলাররা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, খুতবা চলাকালে মুক্তাদিদের পুরোপুরি নীরবতা বজায় রাখা আবশ্যক। তাই খুতবার ভেতরে মুখে কোনো তাসবিহ পড়া, উচ্চৈঃস্বরে দরুদ পাঠ করা কিংবা ইমাম সাহেবের সঙ্গে সঙ্গে জোরে তাকবিরে তাশরিক বলা থেকেও মুসল্লিদের সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি। ইমামের বক্তব্য নিবিষ্টচিত্তে শোনাই খুতবার একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিধান।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। একই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রতিবেশী দেশ নেপালকেও সমপরিমাণ বর্ধিত সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের উত্তরণের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। মূলত অর্থনৈতিক খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন এবং প্রক্রিয়াটি টেকসই করতে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বৃদ্ধি করা হলো।
জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অভিঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এলডিসি উত্তরণ কাঠামোয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির নিয়মিত কারণ হিসেবে গণ্য না করা হলেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জটিল পরিস্থিতি ও বিশেষ বাস্তবতা আলাদা বিবেচনার দাবি রাখে। বর্ধিত এই সময়ে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ইউএনসিডিপিকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের দুই দিনের মাথায় সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের মূল্যায়নের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) হয়ে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য আসে। এ প্রক্রিয়ায় জি-৭৭ ভুক্ত দেশসমূহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানায়। এই তিন বছর সময় বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী পণ্যগুলোতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হলো। ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে পাওয়া বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, যা দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭৩ শতাংশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
উল্লেখ্য, মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই)—এই তিনটি মানদণ্ডই সফলভাবে পূরণ করে ২০১৮ ও ২০২১ সালের ধারাবাহিক পর্যালোচনায় উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর্যালোচনায়ও বাংলাদেশ নির্ধারিত সব মানদণ্ডের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল; যেখানে মাথাপিছু আয়ের নির্ধারিত সীমা ১ হাজার ৩০৭ ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের আয় ছিল ২ হাজার ৬৮৪ ডলার। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলডিসি হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতিকে সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলা করে একটি টেকসই ভিত্তি নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আজ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য প্রযোজ্য আবহাওয়ার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্বাভাসের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় ঢাকা ও আশপাশের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এছাড়া অঞ্চলটিতে উত্তর-পূর্ব অথবা উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকা ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে দিনের তাপমাত্রায় কিছুটা শীতল ভাব বজায় থাকতে পারে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ। আজ ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে আগের দিন বৃহস্পতিবার নগরীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন অংশে সামান্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির (Sanae Takaichi) আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কমিশন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপের চার্জ বাড়াতে একযোগে দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ব্যবসায়ীদের দাবির তুলনায় কম হারে কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি। সুপারিশ কার্যকর হলে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা হতে পারে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, সরবরাহসংকট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তা প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণবিষয়ক গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব ও আপত্তি উঠে আসে। শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লিখিত মতামত জমা দেওয়ার জন্য ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামী সপ্তাহে নতুন দাম ঘোষণা করা হতে পারে। এদিকে নভেম্বর মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
কমিশন বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের: বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন ২০০ টাকা। এটি বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি কমিশন ২৮০ টাকা করার সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ, সিলিন্ডারপ্রতি আমদানিকারকদের কমিশন ৮০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।
অন্যদিকে পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। কারিগরি কমিটি খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৭০ টাকা করার সুপারিশ করলেও পরিবেশকদের দাবির বিষয়ে একই ধরনের সুপারিশ করেনি। অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেরাও প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এলপিজি মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ানোর দাবিও এসেছে। বর্তমানে অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে পরিবেশক পর্যন্ত পরিবহনসহ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা। ব্যবসায়ীরা তা ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কারিগরি কমিটি এই চার্জ ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করেছে।
পরিবেশক পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতার আঙিনা পর্যন্ত পরিবহনসহ চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ছিল ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতার চার্জ প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি।
সব খরচ বিবেচনায় কারিগরি কমিটির হিসাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা হতে পারে। এ হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াবে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা। অর্থাৎ, সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়তে পারে ১৩৯ টাকা।
ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি ব্যবসায়ীদের: কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর পক্ষে যুদ্ধের প্রভাব, জাহাজভাড়া, পরিবহন এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ীরা।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগে জাহাজভাড়াসহ প্রিমিয়াম প্রতি টনে ৮০ থেকে ১২০ ডলার থাকলেও এখন তা বেড়ে ২৫০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। সব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ গ্যাস বিক্রি না করেন।
নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ: ব্যবসায়ীদের ব্যয় বৃদ্ধির দাবির বিপরীতে ভোক্তা প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, গ্রাহকেরা কেন বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাচ্ছেন না। অক্টোবরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপরও অনেক গ্রাহককে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির দায়িত্ব। তা না হলে গণশুনানির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তিনি দাম না বাড়ানোর পাশাপাশি কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বারবার দাম বাড়ানো হলে বিইআরসির ওপর গ্রাহকদের আস্থা কমতে পারে। নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা এবং বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমানও মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে কয়েকটি কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সেসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগেই কমিশন বৃদ্ধির শুনানি হচ্ছে। তার দাবি, বাড়তি দামে বিক্রির মাধ্যমে এক মাসে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ১১ লাখ টাকা জরিমানার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, এই জরিমানার মাধ্যমে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে কি না। শুনানিতে এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে শুনানি বর্জনের ঘোষণা দেন।
সরবরাহসংকট নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: শুনানিতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা আমদানিকারক ও অপারেটরদের বিরুদ্ধে সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, সংকট দেখা দিলে কোম্পানিগুলো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হওয়ায় বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আমদানি করতে না পারা কয়েকটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বাজারে পাইকারি দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
জবাবে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলছে।
গণশুনানি শেষে কমিশন জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব, কারিগরি কমিটির সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নভেম্বরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম: এদিকে নভেম্বর মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বর্তমান নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে। গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এসব দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ কার্যকর হলে রান্নার গ্যাসের জন্য পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যে নতুন দাম কার্যকর হলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর গ্রাহকদের।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়ায় এগোনোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম। এতে দেশের বৃহৎ এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিট চালুর প্রস্তুতি নতুন গতি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদনের বিষয়টি জানা যায়। সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে রসাটমের বাংলাদেশি জনসংযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি: রূপপুরের প্রথম ইউনিটে চালুর প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রিটিক্যালিটির দিকে এগোনো হচ্ছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক পারমাণবিক বিভাজন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা ও প্রযোজ্য নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে প্রকল্পটির বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে। রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক পরীক্ষা ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় স্টেজ বি-১-এর কাজ এগিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে প্রাথমিক পরিচালনার উপযোগী করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে শক্তি বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বিভিন্ন কারিগরি সরঞ্জাম ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। নির্ধারিত শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে এগোনো সম্ভব হবে।
রসাটমের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রাথমিক লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসে ইউনিটটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক।
দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে: প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতিতেও অগ্রগতি হয়েছে। রসাটমের জ্বালানি বিভাগের অধীন সাইবেরিয়ায় অবস্থিত নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেট প্ল্যান্টে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকেই প্রথম চালানটি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
দেশে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব জ্বালানি রূপপুর কেন্দ্রে ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করা হবে। জ্বালানির অখণ্ডতা, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণের বিষয়গুলো পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
রসাটমের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ, প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা ও পরিদর্শন পরিচালনা করবে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই জ্বালানি ব্যবহারের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিং বা জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত জ্বালানি চক্র অনুসারে পরবর্তী সময়ে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।
২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সম্ভাবনা: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জেনারেশন থ্রি-প্লাস প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে।
এই বিদ্যুৎ দেশের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নগর অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনাতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাড়বে। উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তামান অনুসরণের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এগোচ্ছে কার্যক্রম: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে প্রতিটি কারিগরি ধাপ নির্ধারিত নিয়ম ও নিরাপত্তাবিধি অনুসারে সম্পন্ন করা জরুরি। রূপপুরেও জ্বালানি ব্যবহার থেকে শুরু করে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জ্বালানি অ্যাসেম্বলির পরিদর্শনে দৃশ্যমান অবস্থা ও যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানির অখণ্ডতা এবং নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান পূরণের বিষয়টি যাচাই করা হবে। পাশাপাশি রিঅ্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও অন্যান্য কারিগরি ব্যবস্থার কার্যকারিতাও পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।
প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং এবং সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে চালুর প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে এসব অগ্রগতি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সমতুল্য নয়। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে হলে শক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো, বিভিন্ন শক্তিস্তরে পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষা: রূপপুর প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টরের শক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরীক্ষা, বিভিন্ন শক্তিস্তরে কার্যকারিতা যাচাই, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন। এসব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানো রূপপুর প্রকল্পের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি পূর্ণ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাবে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে সই হওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। অথচ চুক্তি নবায়নের আলোচনা এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি। ফলে নতুন সমঝোতা না হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নদী ও সুন্দরবনের পরিবেশে। একই সঙ্গে গঙ্গা অববাহিকার কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
শুকিয়ে যাচ্ছে নদী, বদলে যাচ্ছে জীবন: বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৭২ বছর বয়সি বাসিন্দা বিকাশ সোরেনের স্মৃতিতে এখনো ভাসে গঙ্গার পুরোনো রূপ। একসময় ভারত থেকে আসা এই নদীতে সারা বছর বড় বড় নৌকা চলাচল করত। এখন বছরের একটি বড় সময় নদীর অনেক অংশে পানির প্রবাহ থাকে না বললেই চলে।
বিকাশ সোরেন বলেন, এখন বছরের প্রায় তিন মাস নদীর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি জানান, গত মৌসুমে পানির অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ায় দুজন কৃষক আত্মহত্যা করেন। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
৫৫ বছর বয়সী আবু বকর সিদ্দিক একসময় নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতেন। কিন্তু মাছ কমে যাওয়ায় এখন তাকে পুকুরে মাছ চাষের দিকে ঝুঁকতে হয়েছে। তার আক্ষেপ, ‘এখন আমরা মাছ কোথায় পাব?’
বাংলাদেশে গঙ্গা নদী পদ্মা নামে পরিচিত। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, প্রায় ২ হাজার ৫২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী বিশ্বের অন্যতম জনবহুল অববাহিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির সঙ্গে প্রায় ৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত, যাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ রয়েছেন।
ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ৩০ বছরের চুক্তি: ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে ভারতের ফারাক্কা বাঁধ এলাকায় দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নির্ধারণ করা হয়।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন সমঝোতা নিয়ে অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশে। চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পানিবণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এএফপিকে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিন্ন নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গত মে মাসে। অন্যদিকে সরকারি পর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া সর্বশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালে, দীর্ঘ ১২ বছরের বিরতির পর।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের মধ্যে গঙ্গা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তিও ২০১১ সাল থেকে ঝুলে আছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন: গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কেও টানাপোড়েন রয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন শুধু পরিবেশ বা কারিগরি ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার সঙ্গেও জড়িত। ফলে নতুন চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফারাক্কা বাঁধ থেকে দীর্ঘদিনের বিরোধ: গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বিরোধের সূত্রপাত ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর সময় থেকে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে ১৯৭৭ সালে দুই দেশ পানিবণ্টন চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে সেই ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও সংকট তৈরি হয়।
ঢাকাভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন এএফপিকে বলেন, চুক্তি না থাকায় গঙ্গা নদী একসময় চরম সংকটে পড়েছিল এবং অন্তত তিনটি নদী প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল।
এসব নদীর মধ্যে গড়াই অন্যতম। সুন্দরবনে মিঠাপানি সরবরাহে নদীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার বিস্তার মোকাবিলায় সুন্দরবনের মিঠাপানির প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ। গড়াইয়ের পানিপ্রবাহ কমে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটির বাস্তুতন্ত্রেও।
সেচব্যবস্থায় সংকট, কমছে কৃষিজমির আওতা: গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কৃষি ও সেচব্যবস্থায়। শেখ রোকনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহৎ গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পও পানির অভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটির সেচের আওতা কমে ৫৫০ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে।
পানির সংকট মোকাবিলায় গত মে মাসে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি অভিন্ন নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে শুধু সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে কৃষির দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধান করা কঠিন।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ঝুঁকি: বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য মালিক ফিদা এ খান অভিযোগ করেছেন, ভারত উজানে অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ করেছে। তার মতে, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পুরো নদী অববাহিকাকে বিবেচনায় রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে তার পরিণতি হবে বিপর্যয়কর। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব বাড়ছে, অন্যদিকে বর্ষায় বন্যায় ফসলি জমি ও বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা দেশের খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গত কয়েক বছরে পদ্মা নদীর প্রস্থ কোনো কোনো স্থানে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নদীর গতিপথ ও প্রবাহের পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের বসতি ও জীবিকার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
ফিল্টের হাট গ্রামের ৫০ বছর বয়সি রেহানা খাতুন নদীভাঙন ও বন্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বন্যার তোড়ে তার ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তিনি জানান, তখন নদী থেকে বিকট গর্জন শোনা যাচ্ছিল।
বাঁশের তৈরি ঝুপড়িতে বসবাস করা রেহানা বলেন, নদীটা যেন দানবের মতো হয়ে গিয়েছিল, পাড়ের সবকিছু গিলে খাচ্ছিল। বন্যার পানি নেমে গেলেও সেই আতঙ্ক শিশুদের মন থেকে সহজে দূর হয় না।
নতুন চুক্তি না হলে কী হবে: ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন সমঝোতা না হলে পানিবণ্টনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
শেখ রোকনের আশঙ্কা, দুই দেশ নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আগের চুক্তিহীন সময়ের চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। কারণ, বর্তমানে উভয় দেশেই মিঠাপানির চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ঘাঁটি বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় ৭টি দেশের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৫ দিনব্যাপী ‘Brown Water Operation and Anti Human Trafficking Course-2026’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কেনিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মোট ৮ জন বিদেশি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২ জন এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। মোট ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে এই কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান, এনবিপি, বিএসপি, বিসিজিএম, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি-সহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, "দেশের সমুদ্রসীমা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে বাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।" তিনি সফল আয়োজনের জন্য কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক ও বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রার কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অভিযান পরিচালনা, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহের সাথে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে বিশ্বমানে উন্নীত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
কোর্সের বিষয়বস্তু বা সংবাদের বিন্যাসে অতিরিক্ত কোনো পরিবর্তন বা তথ্য যুক্ত করতে চাইলে জানাবেন!
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে তার ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। ত্রুটি ধরা পড়ার পর তাকে বহনকারী বিমানটি টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে পাইলট জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে। এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠক করেন জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পাশাপাশি কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সফরের শেষ ভাগে টোকিওতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
চার দিনের ফলপ্রসূ সরকারি সফর সমাপ্ত করে জাপানের টোকিও থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১৮ মিনিট) প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
এর আগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছান সরকারপ্রধান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। এ ছাড়া জাপানের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অর্থলগ্নিকারী সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন করে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
জাপান অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।