সড়কে মৃত্যুহার কমানো সরকারের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) এর দশম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা ইলিয়াস ভাই যেমন বুঝেন, আমরাও তেমন বুঝি। সড়কে কেউ হারিয়ে যাক, সেটা আমরা চাই না। কারও অঙ্গহানি হোক, সেটাও আমরা চাই না। আমরা সতর্কতামূলকভাবে ব্যবস্থা নিতে চাই। আমরা একটা আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। সেজন্য আমরা সহযোগিতা চাই। আপনাদের সম্মেলন সফল হোক। এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হচ্ছে, নিহত হচ্ছে। সড়কে খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। এ বিষয়ে সরকার ২২ অক্টোবর নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই দুর্ঘটনা কম হোক, দুর্ঘটনায় আর যেন কেউ মৃত্যুবরণ না করে। পৃথিবীর সব দেশে দুর্ঘটনা ঘটে, মানুষের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে যাতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে সেজন্যই কাজ করে যাচ্ছি। আইনে গাড়িচালক, হেলপার, মালিক এবং বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সবার দায়িত্ব যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যে যেই দায়িত্বে থাকবে তার গাফিলতি হলে কী ধরণের শাস্তি হবে তার সবকিছুই আইনে পরিষ্কার করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি আধুনিক শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয়। আমাদের দেশের কোনো শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক নেই। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকাকে যানজটমুক্ত করার। সেজন্য তিনি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার চালুর ঘোষণা দেন। এগুলো দৃশ্যমান হয়েছে এবং যানজট অনেকখানি হালকা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের জুন মাসে ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে।’
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী জানান, সড়ককে নিরাপদ করতে মানুষকে সচেতন করা জরুরি। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এতে সভাপতিত্ব করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার এক আনুষ্ঠানিক শোক বার্তায় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং তিনি নিয়মিতভাবে এর আপডেট গ্রহণ করছেন। তিনি পর্যায়ক্রমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দ্রুততম সময়ে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে এবং তাঁদের পরিবারকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় এই বিধ্বংসী আগুনের ঘটনা ঘটে, যেখানে কর্মরত ১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারান। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং শিল্পপতি এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দায়ের করেন।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামক একটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তীতে এই বিশাল অংকের অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত মো. সাহাবুদ্দিন এবং ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক—মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অবৈধ ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাঁরা অনৈতিকভাবে ঋণ অনুমোদন দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ব্যবসায়ী এস আলম মূল প্রভাব বিস্তারকারী ভূমিকা পালন করেছেন। চারটি স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তে এই ঋণ অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সরকার বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্র ধ্বংস করে গিয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকার। এবার তা পুনর্গঠনের পালা। সেই লক্ষ্যেই কাজ অব্যাহত আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে অবশ্যই এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় তিনটি এসডিজি গ্রামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। গ্রামগুলো হলো— রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনা দাকোপ উপজেলার পানখালী ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও এক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ এই মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। সব শ্রেণি-পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিতকরার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হলো, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্টগোল-এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, একইভাবে সাস্টেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অভিপ্রায়ে দেশের তিনটি গ্রামকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্প হিসেবে উদ্বোধন করেছেন। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই বিশেষ প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামকে এই মডেল প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
‘দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক বৃহৎ প্রকল্পের অধীনে এই উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো এসডিজির মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা তৃণমূল পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত গ্রামগুলোতে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্য বিমোচন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিজমির নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। এছাড়া মানসম্মত শিক্ষার প্রসার, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয় যে, এসডিজি ভিলেজগুলোতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানো হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে সংশ্লিষ্ট তিন গ্রামের বাসিন্দারা গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। গত জুনে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাইকমিশনার জানান যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সেদেশের জনগণ বাংলাদেশের সাথে একটি চমৎকার ও টেকসই সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা করেন। আলোচনায় ইতিবাচক আগামীর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের জনগণ চায় দুদেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও চান সুন্দর সম্পর্ক। ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে আলোচনাকে অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ অভিহিত করে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে অনেক ইস্যু থাকবে, তবে সবই সমাধানযোগ্য।’ বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। জবাবে হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাস দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে নিবিড় আলোচনা সম্পন্ন হয়।
আলোচনাকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি পূর্বের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একটি অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হাইকমিশনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও পৃথক বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি শুরু হয়। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি এখনও চলমান রয়েছে।
বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে যে, বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনার এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার মাধ্যমে সকল অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজকের এই সাক্ষাৎটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক শোক বিবৃতিতে এই সমবেদনা জানানো হয়।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিহত প্রবাসীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এই অপূরণীয় ক্ষতি ও কঠিন সময়ে সরকার শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৯ আগস্ট) রিয়াদের সেই সোফা কারখানায় এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশির সবার বাড়ি দেশের নওগাঁ ও নাটোর জেলায়। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ওই এলাকাগুলোতে বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্য দিয়ে ৩৫ বছর পর আবারও ফিরছে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন।
১৯৯১ সালের পর এটিই প্রথম নির্বাচন যেখানে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একক কোনো প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হচ্ছে না, বরং সংসদ সদস্যদের সরাসরি গোপন ব্যালটে ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় এটি একটি বড় ইতিবাচক দিক।
বিএনপির প্রার্থী: মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি। তিনি বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। গতকাল রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাকে চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১২ আগস্ট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল জানান, দলের প্রার্থী চয়ন ও নির্বাচনের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। গতকাল চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী: ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে ১১টায় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
যেভাবে ভোটগ্রহণ: জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার বা রিটার্নিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একটি নির্ধারিত ‘পোলিং বুথ’ স্থাপন করা হবে। গোপন ব্যালট পেপারে সংসদ সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ফেলবেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই ৬টি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রথম রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করা হয়েছিল সম্পূর্ণ এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার ঐতিহাসিক ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ জারি করে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে। তিনি তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কোনো সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নন, বরং ঘোষণাপত্রের মাধ্যমেই নিযুক্ত হয়েছিলেন। ঘোষণাপত্রটি ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হলেও এর কার্যকারিতা ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ধরা হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে—কখনো সরাসরি জনভোট, কখনো সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট, আবার কখনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিংবা সামরিক ও রাজনৈতিক পালাবদলের মাধ্যমে।
১৯৭২–১৯৭৪: ১৯৭২ সালের অস্থায়ী সংবিধান আদেশের মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হলে শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১২ জানুয়ারি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। তিনি পদত্যাগ করলে তৎকালীন স্পিকার মোহাম্মদ মুহম্মদুল্লাহ ১৯৭৪ সালের ২৭ জানুয়ারি একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূর্ণ রাষ্ট্রপতি হন।
১৯৭৫ (একদলীয় শাসন ও সামরিক পটপরিবর্তন): ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হন। ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ তিনি পদ ছাড়লে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হন।
১৯৭৮ ও ১৯৮১ (সরাসরি জনভোট): ৩ জুন ১৯৭৮ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার সাধারণ ভোটাররা সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন, যেখানে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী জিয়াউর রহমান জয়ী হন (তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী)। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ১৫ নভেম্বর পুনরায় সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপির আবদুস সাত্তার নির্বাচিত হন।
১৯৮২–১৯৯০ (এরশাদ শাসন আমল): ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে ২৭ মার্চ বিচারপতি এ এফ এম আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদে বসান। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এরশাদ জয়ী হন (এটিই ছিল শেষ সরাসরি জনভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন)। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ পদত্যাগ করলে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
১৯৯১ (সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন ও সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা): ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফিরে যায় (সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন)। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সদস্যদের ভোটে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে বিএনপি মনোনীত আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হন।
১৯৯৬–২০২৩ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগ): ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করে। ২০০২ সালে তার পদত্যাগের পর অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ একমাত্র বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ জিল্লুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে এবং তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর আবদুল হামিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদেও একইভাবে দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মো. সাহাবুদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব নেন।
২০২৬ (সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট): জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকলেও ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ফলে সংবিধানের ৫ ৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগামী ২০ আগস্ট হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন।
যে মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে গতি ফিরে পেয়েছিল তিলোত্তমা ঢাকার যানজটজর্জর ব্যস্ত জীবন, মাত্র আড়াই বছরের মাথায় সেই মেগা অবকাঠামোয় দেখা দিয়েছে মারাত্মক কাঠামোগত ফাটল ও নিরাপত্তার বহুমুখী সংকট। একের পর এক বিয়ারিং প্যাড খসে পথচারীর প্রাণহানি, পিলারে দীর্ঘ ফাটল, ট্রেনের গতি অর্ধেকে নামিয়ে আনা, ওভারহেড তারে অনবরত স্পার্কিং এবং মেকানিক্যাল ত্রুটির কারণে একাধিক ট্রেন সেট সার্ভিস থেকে প্রত্যাহারে উন্মোচিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও আধুনিক গণপরিবহনের এক উদ্বেগজনক রূপ।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফার্মগেটে প্রথম বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর একই এলাকায় পুনরায় বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে এক পথচারী নিহত ও দুজন আহত হন। এ ঘটনার পর উচ্চ আদালত ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আদেশে চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গঠিত হয় ৯ সদস্যের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটির সাম্প্রতিক সেফটি অডিট (Safety Audit) প্রতিবেদন—‘Identification of Operational Risks, Safety Audit and Structural Integrity of the Constructed Corridor of MRT-6’—এ স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, মেট্রোরেলের বর্তমান সংকট আর কোনো বিচ্ছিন্ন ত্রুটিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো ব্যবস্থাটি এখন একটি ‘যৌগিক ঝুঁকি প্রোফাইলে’ (Compound Hazard Profile) পরিচালিত হচ্ছে।
৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি ও পিয়ারে উদ্বেগজনক ফাটল: ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উত্তরা থেকে মতিঝিল এমআরটি লাইন-৬ করিডরে নিরীক্ষা চালিয়ে অডিট কমিটি যে ভয়াবহ চিত্র পেয়েছে, তা অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্ন চিহ্ন একে দেয়।
২৩ শতাংশের বেশি বিয়ারিং প্যাড নষ্ট: পরিদর্শন করা বিয়ারিং প্যাডের মধ্যে ৭৩০টি বা ২৩.২৮শতাংশ অনুমোদিত সীমার বাইরে বিকৃত, ক্ষয়প্রাপ্ত বা ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে। অডিটে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪ ৪৮ নম্বর পিলারের বিয়ারিং প্যাডকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ট্রেন চলাচলের সময় অনবরত তীব্র ধাক্কা বা ‘বাম্পিং’-এর শিকার হচ্ছে। এমনকি ৪২৩ নম্বর পিয়ারের একটি প্যাড ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ স্থানচ্যুত হয়েছে।
পিয়ার ও গার্ডারে ফাটল: অবকাঠামোর ৪৬টি পিয়ার হেড এবং ২০টি বক্স গার্ডারে স্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য ফাটল ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৪১ নম্বর পিয়ারে ফাটলের প্রস্থ ১ মিলিমিটারেরও বেশি, যা প্রকৌশল বিদ্যায় অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ভিত্তি কাঠামোর দুর্বলতা: অডিটে দেখা গেছে, বেশ কিছু স্টেশন কলাম সিঙ্গেল-পাইল ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হলেও তাতে পর্যাপ্ত পার্শ্বীয় ব্রেসিং (Lateral Bracing) দেওয়া হয়নি। অধিকন্তু, স্থানিক পাইলের লোড টেস্টের নথি অপর্যাপ্ত বা সংরক্ষণ করা হয়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভূমিকম্প বা তীব্র পার্শ্বীয় চাপের সময় অবকাঠামোটি কতটুকু লোড সইতে পারবে, তা পুনরায় গভীর পরীক্ষার দাবি রাখে।
কমছে ট্রেনের গতি, বাড়ছে চাকার ক্ষয় ও লাইনচ্যুতির ঝুঁকি: কাঠামোগত নিরাপত্তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে ট্রেনের দৈনন্দিন অপারেশনে। এমআরটি লাইন-৬ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতির উপযোগী করে নকশা করা হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত কম্পন ও ঝাঁকুনি সামলাতে বাধ্য হয়ে অধিকাংশ অংশে গতি কমিয়ে ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার এবং কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মাত্র ৪৪ থেকে ৪৭ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি, স্বয়ংক্রিয় দরজা ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের (PSD) মধ্যে অসামঞ্জস্যতা এবং ঝাঁকুনির কারণে ইতোমধ্যে ৫টি ট্রেনসেট নিয়মিত সার্ভিস থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। রেললাইন ও ফাস্টেনিংয়ে মরচে পড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। অডিট কমিটি সতর্ক করে বলেছে, ঝাঁকুনির কারণে চাকার যে অস্বাভাবিক ক্ষয় ও সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হচ্ছে, তা সময়মতো সমাধান না করলে ভবিষ্যতে ট্রেন লাইনচ্যুতির (Derailment) মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ওভারহেড তারে স্পার্কিং ও অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা: ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে নিয়মিত বৈদ্যুতিক স্পার্কিং বা আর্কিং হচ্ছে, যা ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা ট্রেন হঠাৎ আটকে যাওয়ার স্থায়ী ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি ১২টি লাইটনিং অ্যারিস্টার (বজ্রপাত নিরোধক)-এর মধ্যে ৩টিই পুরোপুরি বিকল।
বৃষ্টিতে সাবস্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালিং রুমগুলোতে পানি চুইয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। এগুলো থেকে যেকোনো সময় শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড এবং পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
অডিট কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বুয়েটের নামকরা পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক উদ্ভূত পরিস্থিতির গম্ভীরতা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, চালু হওয়ার এত অল্প সময়ের মধ্যে বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়া বা নিচে খসে পড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিশ্বের মেট্রোরেলের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। আপাতত নতুন করে যেন কোনো প্যাড নিচে না পড়ে, সেজন্য সাময়িকভাবে সেগুলোর চারপাশে ব্র্যাকেট বসানো হচ্ছে। তবে এটি কোনো মূল সমাধান নয়; এটি কেবল সাময়িক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল মাত্র।
প্রকল্পের আর্থিক টেকসই সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ট্রেনের গতি কমিয়ে এবং বেয়ারিং প্যাডে ব্র্যাকেট বসিয়ে সিস্টেমটি কোনোমতে সচল রাখা হচ্ছে। কিন্তু ট্রেনগুলো নকশাগত গতিতে চলতে পারছে না। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীসেবার মান, চলাচলের সময়সূচির দক্ষতা এবং দৈনিক রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় দ্রুত হারে বাড়ছে। শুরুতেই এভাবে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে পুরো মেগা প্রকল্পের আর্থিক স্থায়িত্ব মারাত্মক সংকটে পড়বে। এছাড়া অনবরত বৈদ্যুতিক স্পার্কিং, দরজার ত্রুটি ও পানি ঢোকার সমস্যাগুলো ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়ের আগাম সংকেত।
সাধারণত এ ধরনের ভারী পরিবহন অবকাঠামো কোনো বড় ধরনের সংস্কার ছাড়াই ২০ থেকে ২৫ বছর নিশ্চিন্তে সেবা দেওয়ার কথা। সেখানে চালুর মাত্র আড়াই বছরের মাথায় নকশা, নির্মাণ সামগ্রীর মান, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কমিশনিং এবং নিয়মিত তদারকির সমন্বিত গলদ সামনে এসেছে।
জাপানি নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছে অডিট কমিটি ব্যাখ্যা চাইলে তারা দায় ঠিকাদারদের ‘ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ডের’ ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। তবে একই স্থানে বারবার একই ধরণের দুর্ঘটনার কারণে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিশেষজ্ঞ কমিটি।
হাইকোর্টের নির্দেশে অডিট কমিটি মেট্রোরেল বন্ধের নির্দেশ দেয়নি, তবে পরিস্থিতি সামলাতে ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ (৮টি স্বল্পমেয়াদি, ১০টি মধ্যমেয়াদি ও ১০টি দীর্ঘমেয়াদি) পেশ করেছে।
জরুরি টেকনিক্যাল মেরামত (স্বল্পমেয়াদি): আগামী ১ মাসের মধ্যে অতি-ঝুঁকিপূর্ণ পিয়ারগুলোর (বিশেষ করে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮) বিয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন করা, সাময়িক ব্র্যাকেট বসানো এবং পিয়ারের ফাটলগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেমিক্যাল সিলিং করা।
ডায়নামিক ভাইব্রেশন টেস্ট (মধ্যমেয়াদি): আগামী ৬ মাসের মধ্যে পুরো লাইনে ট্রেনের ভাইব্রেশন ও কম্পন পরীক্ষা সম্পন্ন করে ক্রমান্বয়ে আরোপিত গতিসীমা তুলে দেওয়া।
স্মার্ট স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং (দীর্ঘমেয়াদি): প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে ‘Smart Structural Health Monitoring System (SSHM)’ সেন্সর স্থাপন করা, যাতে কাঠামোর সামান্যতম বিকৃতিও রিয়েল-টাইমে জানা যায়।
স্বাধীন আন্তর্জাতিক সেফটি অডিট: মূল নকশা, লোড টেস্টের তথ্য ও নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়া।
ঢাকার গণপরিবহনে ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেট্রোরেল কেবল যাতায়াতের সময় কমায়নি, এটি ছিল আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতীক। কিন্তু আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট কিংবা বিশাল বাজেটের দোহাই দিয়ে নিরাপত্তাকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এখন সাময়িক মলমপট্টি বা ব্র্যাকেট বসিয়ে ট্রেন সচল রাখার চেয়ে বেশি জরুরি—নকশা ও নির্মাণের প্রতিটি ধাপে কোথায় ব্যর্থতা হয়েছিল তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সুপারিশগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে জনগণের মনে মেট্রোরেলের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা।
দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কোণ আজ নিভৃতে দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নীরব ও অদৃশ্য বিপদ, যা রক্তপ্রবাহ থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র পর্যন্ত গ্রাস করছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাম্প্রতিক গবেষণায় মানুষের রক্ত, হৃদপিণ্ডের ধমনী, মস্তিষ্ক এবং প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকার অপরিহার্য উপাদানগুলোতে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। প্লাস্টিক এখন আর সমুদ্রের গভীর বা ফেলে দেওয়া আবর্জনার স্তূপে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা রান্নাঘর থেকে শুরু করে প্রসাধনসামগ্রী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে সরাসরি মানবদেহের কোষে হানা দিচ্ছে।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্লাস্টিক এখন নিত্যদিনের খাবার থেকে শুরু করে প্রসাধনসামগ্রী পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির রোমের সান্ত আন্দ্রেয়া হাসপাতাল ও সাপিয়েনজা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় হার্ট অ্যাটারে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্তদের ধমনীতেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
দুধ: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের পরীক্ষায় সুপারশপের প্রক্রিয়াজাত দুধে প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬ দশমিক ০৬টি এবং কাঁচা দুধে ৯৩ দশমিক ৩৩টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
সয়াবিন তেল: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিইউপি-এর যৌথ গবেষণায় ঢাকার খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার এবং বোতলজাত তেলে ৪৪ হাজার থেকে ৫৪ হাজারটি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
চিনি: ঢাকার বাজারে প্রচলিত খোলা চিনিতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৪০৩টি এবং ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রায় ৩২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
টুথপেস্ট: পরিবেশবাদী সংস্থা ইএসডিও (ESDO)-র গবেষণায় বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে, যার মধ্যে শিশুদের ৪টি টুথপেস্টও রয়েছে।
মাছ: দেশের নদী-নালা ও সমুদ্রের বিভিন্ন মাছের (যেমন—কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা, পুঁটি, বাইম এবং শুঁটকি) মাংসপেশিতেও প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
ইতালির সান্ত আন্দ্রেয়া হাসপাতালের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ধূমপান এবং বায়ুদূষণকে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন, তাদের রক্তে অতিমাত্রায় প্লাস্টিক কণা থাকার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের তুলনায় ছয় গুণ বেশি।
প্রধান গবেষক ড. পাসকুয়ালে পাওলিসো এবং ড. ইমানুয়েলে বারবাতো ব্যাখ্যা করেছেন যে ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে প্লাস্টিক কণা প্রবেশের গতিপথটি ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে আরও মসৃণ বা সহজ হয়ে যায়। ফলে ধূমপায়ী ও দূষিত আবহাওয়ায় বসবাসকারী ১০০ শতাংশ রোগীর রক্তেই উচ্চমাত্রার প্লাস্টিক পাওয়ার নজির মিলেছে।
খাদ্যে প্রক্রিয়াজাত দুধ ও নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বেশি নির্ভরতার কারণে শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। গবেষকদের মতে, একজন শিশু প্রতিদিন গড়ে ৭৭টির বেশি প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করে।
বিজ্ঞানীরা এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিকের নির্দিষ্ট কোনো নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেননি এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, রক্তপ্রবাহে থাকা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা করোনারি সার্কুলেশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মৃত মানুষের মস্তিষ্কে এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। ১৩ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো সরাসরি রক্তে মিশে পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ঘটাতে পারে।
গবেষকরা মনে করেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণেই যে শুধু সরাসরি হার্ট অ্যাটাক হয়—এমন শতভাগ নিশ্চিত প্রমাণ না মিললেও এটি যে হৃদরোগের একটি অন্যতম অদৃশ্য অনুঘটক, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় আট হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার বড় অংশই অগোছালো বা বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে।
মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই জানিয়েছে যে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা একে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন।
বিশ্ব ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ দ্রুত শহরায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেও এর ফলে প্লাস্টিক দূষণ এক মারাত্মক জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।
গত ১৫ বছরে শহরাঞ্চলে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় নদী-নালা, খাল-বিল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ঢাকাসহ পুরো দেশে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে এবং টেকসই সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্লাস্টিক দূষণ রোধ অপরিহার্য।
এই লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব বিকল্পের ব্যবহার বৃদ্ধি, কঠোর নীতি ও আইনি সংস্কার বাস্তবায়ন, এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও জনসচেতনতার মাধ্যমে একটি কার্যকর বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হলেই কেবল এই প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা টেকসই হবে।
জাতিসংঘের বাস্তুতন্ত্র বিভাগের পরিচালক সুসান গার্ডনার প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পণ্যের পুনঃডিজাইন এবং অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক মোড়ক বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন।
খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উদ্যোগে প্লাস্টিক দূষণের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যবর্জ্য থেকে তৈরি কম্পোস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে যেতে পারে, যা পরে কৃষিজমির মাটিতে মিশে দূষণ বাড়াতে পারে।
জার্নাল নেচার ফুড-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতির ওপর জলবায়ু, পুষ্টিদূষণ ও প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব তুলনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের গবেষকেরা জীবনচক্র বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে এই গবেষণা করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যবর্জ্য ভাগাড়ে না পাঠিয়ে পুনর্ব্যবহার বা অন্যভাবে ব্যবস্থাপনা করা হলে এর জলবায়ুগত প্রভাব ৮৯ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে পানিতে অতিরিক্ত পুষ্টি জমে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মতো পরিবেশগত সমস্যাও কমতে পারে। তবে এর বিপরীত একটি ঝুঁকিও রয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, কম্পোস্টে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতে বছরে প্রায় ২০ হাজার টন প্লাস্টিক দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গবেষণাটির প্রধান লেখক কেট পোর্টারফিল্ড বলেন, ‘কোনো পণ্য বা প্রক্রিয়ার কার্বন ফুটপ্রিন্ট হিসাব করার মতো করেই খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে কী পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তা হিসাব করা হয়েছে।’
তার মতে, বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্লাস্টিকের প্যাকেটসহ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় খাদ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্যবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের একটি পদ্ধতিতে যান্ত্রিক ‘ডিপ্যাকার’ ব্যবহার করে খাবার ও প্যাকেট আলাদা করা হয়। এরপর প্যাকেট ভাগাড়ে পাঠানো হয় এবং খাদ্যবর্জ্য কম্পোস্ট বা অ্যানারোবিক ডাইজেশনের মতো কাজে ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু গবেষকেরা দেখেছেন, প্লাস্টিক আলাদা করার প্রযুক্তি ৯৯ শতাংশ কার্যকর হলেও ভাগাড় থেকে খাদ্যবর্জ্য সরিয়ে নেওয়ার ফলে মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে।
পোর্টারফিল্ড বলেন, ‘যখনই খাদ্যবর্জ্য অন্যভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য ভাগাড় থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তখন মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি থাকে।’ কারণ মানুষ বা যন্ত্র, কোনোটিই শতভাগ নিখুঁতভাবে প্লাস্টিক আলাদা করতে পারে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রায় সব ধরনের খাবারই এখন কোনো না কোনোভাবে প্লাস্টিকের প্যাকেটে বাজারজাত হওয়ার বাস্তবতা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশে বর্তমানে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছে ইসি। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। গত ১৪ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন।
ইসি সচিব বলেন, এই ভোটার তালিকা দিয়েই আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন হলে কমিশন পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান তালিকাটি সম্পূরক তালিকা হিসেবে আসতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি আজ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়টি এখনো পাঠানো হয়নি। এ সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে সেটিও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ পরিচালিত দেশব্যাপী এক জনমত জরিপে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাকে ‘মোটামুটি ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ বলে মত দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। জরিপে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
৯ আগস্ট নিজেদের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে ৫৭ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আইআরআই। তাদের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনর্গঠনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে। তবে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার জন্য ধারাবাহিক সংস্কার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। দেশের সবচেয়ে জরুরি সমস্যা কী- এমন প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি, ২২ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এরপর মাদককে শতকরা ১৫ ভাগ মানুষ প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মত দিয়েছেন। শতকরা ১২ ভাগ মানুষ মনে করেন প্রধান সমস্যা হলো আইনশৃংখলা। মাদক নিয়ে উদ্বেগ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জরিপে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ মাদককে দেশের বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এবার সেই হার বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে- অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ। নতুন সরকারের কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত- এ প্রশ্নেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন উত্তরদাতারা। সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চেয়েছেন। এরপর আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দাবি করেছেন ২২ শতাংশ মানুষ। আর সুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কার দাবি করেছেন ২১ শতাংশ মানুষ।
জোহানা কাও বলেন, নাগরিকরা তাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে সবসময় একমত নাও হতে পারে। তবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং নাগরিকদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেয়- এমন অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আইআরআইয়ের পক্ষে স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জরিপটি পরিচালনা করে।
২০২৬ সালের ১৬ মে থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলা ও আট বিভাগে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি ৫ হাজার বাংলাদেশির ওপর সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। উত্তরদাতাদের বাড়িতে কম্পিউটার-সহায়তায় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে তথ্য নেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করে বিভাগ, বয়স, লিঙ্গ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নমুনা সমন্বয় করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন।
প্রসিকিউশন জানায়, সম্প্রতি নিজ বাসা থেকে এই কর্মকর্তাকে আটক করে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
এর আগে ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।