হজ যাত্রীদের সবাই যাতে পবিত্র হজ পালন করতে পারেন সেজন্য ভিসা অনুমোদনের সময় বাড়াতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আল দুহাইলান গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম তাকে (প্রধানমন্ত্রী) উদ্ধৃত করে বলেন, ‘সৌদি আরবের উচিত হজ যাত্রীদের জন্য ভিসা অনুমোদনের সময় বাড়ানো যাতে, তারা পবিত্র হজ পালন করতে পারেন।’
নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজ যাত্রীদের ভিসা অনুমোদনের সময় বাড়ানোর বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। যে সব হজ যাত্রী এখনো হজ পালনের জন্য ভিসা পাননি তাদের ভিসা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন জটিলতায় সৌদি আরব থেকে এখনও ভিসা পান নি ১০ হাজারের বেশি হজ যাত্রী।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে তার দেশের বিনিয়োগকারী ও কোম্পানির আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সে সব প্রকল্পের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই এবং পরীক্ষা শেষে বাংলাদেশ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এ প্রসঙ্গে তিনি তাকে আশ্বস্ত করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
ফিলিস্তিন ইস্যু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের সহায়তার জন্য আরেকটি চালান প্রস্তুত করছে এবং ইতোমধ্যে তার দেশ দুইবার সহায়তা পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার কয়েকটি মিত্র ছাড়া পুরো বিশ্ব ফিলিস্তিনের সঙ্গে রয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, তার দেশে প্রায় ৩২ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন যারা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বৈধ পন্থায় ঢাকায় রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, অ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গণপরিবহনে যথাযথ ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) যৌথ আয়োজনে ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘টেকসই তামাক ও ধূমপানমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহায়তায় ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালু থাকবে।’
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। পাশাপাশি প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএর সব কার্যালয়কে তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিআরটিএর বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসসহ সব কার্যালয় এবং গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করা; পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।
চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের ফলে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। ফলে ধূমপান না করেও একই ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। বক্তারা বলেন, ‘বিআরটিএর আওতাধীন পাবলিক পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের জন্য যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যাতে যাত্রী, চালক বা হেলপার—কেউই পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে না পারেন।’
পাশাপাশি, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত-২০১৩) যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা লেখার সুপারিশ করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক (প্রোগ্রামস) ড. মাহিন মালিক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের অধীনে রয়েছে। আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুতই এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গত ২ সেপ্টেম্বর পে-স্কেলের রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসে। বর্তমানে প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার মুখে রয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব শিগগিরই আদেশ জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও উচ্চ উভয় গ্রেডেই মূল বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর না হয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। যেমন—২০তম গ্রেডের বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা তিন ধাপে মূল বেতন হবে যথাক্রমে ১৪,১২৫ টাকা, ১৭,০৬২.৫০ টাকা এবং ২০,০০০ টাকা। ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৬,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১,০৯,২০০ টাকা, ১,৩২,৬০০ টাকা এবং ১,৫৬,০০০ টাকা। এ ছাড়া ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে এই গ্রেডের বেসিক হবে যথাক্রমে ৩০,৮০০ টাকা, ৩৭,৪০০ টাকা এবং ৪৪,০০০ টাকা। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করা হবে।
নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বা বেসিক বাড়লেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা একই সময়ে কার্যকর হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় এসব ভাতা প্রদান করা হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সরকারের রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আমলযোগ্য হওয়ায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ বুধবার দুদকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি দুদকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কারণ এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আইন অনুযায়ীই সংস্থাটি অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে দুদকের অবস্থান
ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে। এর আগে তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় দুদকের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বুধবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে বারবার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। জবাবে দুদক সচিব বলেন, মুখপাত্রের আগের বক্তব্যকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো স্লিপ অব টাং হিসেবে বের হয়ে গেছে। আমরা এটাকে অফিশিয়ালি গ্রহণ করছি না। আইন যেভাবে বলেছে, সেভাবেই আমরা প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করছি।’
এরপর সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে দুদক আদৌ কোনো প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কি না। জবাবে সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘এখনো এটা বলার সময় হয়নি। আরও অনুসন্ধান হবে। এ পর্যায়ে এটা বলার কোনো সুযোগ নেই।’
যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান
অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে দুদক সচিব বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই কমিটি পর্যালোচনা করে। এরপর ওই কমিটির মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আসার পর সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর অবশ্যই কোনো মন্তব্য, সুপারিশ বা মতামত থাকে। সেই মতামতের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।’
আসিফ মাহমুদের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘এই অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন এসেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথি ও ফাইল চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’
সাংবাদিকেরা জানতে চান, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল কি না। জবাবে সচিব বলেন, প্রতিবেদনটি এ মুহূর্তে তাঁর কাছে নেই। ফলে এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না।
কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নিয়ে দুদকের অবস্থান
অনুসন্ধান চলাকালে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, কমিশনের তিন সদস্য সব বিষয় পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনজন কমিশনার রয়েছেন। কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে।’
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, কেউ সংক্ষুব্ধ মনে করলে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন। দুদকও আইন অনুযায়ীই বিষয়টি মোকাবিলা করবে।
ব্রিফিংয়ের শেষে দুদক সচিব বলেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে তাঁর সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আগের চেয়ে কিছুটা ভালো এবং উন্নতির দিকে রয়েছে।
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর পরিচিত লোকজন তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তাঁর পাকস্থলী ওয়াশ করেন এবং চিকিৎসা দিয়ে একটি সাধারণ ওয়ার্ডে রাখেন।
তবে পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ জানান, মেঘমল্লার বসুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কিছুটা দুর্বল ছিল। ফুসফুসে কফ জমে যাওয়া এবং অজ্ঞান থাকার কারণে নিজে থেকে কাশতে না পারায় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাড়তি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে ফুসফুসের কফ পরিষ্কার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের স্বার্থেই চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।
বুধবার রাতে মাঈন আহমেদ আরও নিশ্চিত করেন যে মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে রয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল এবং ২৭টি বিয়ারিং প্যাড গুরুতর (ক্রিটিক্যাল) ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ত্রুটি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলেও সবগুলো গুরুতর নয়। এর মধ্যে ৪৯৭টি ত্রুটি ‘মাইনর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনের সময়কার ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত।
মন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
’ একইসঙ্গে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ডিএমটিসিএল গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ‘সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। এরই মধ্যে ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট ও ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে।
চিহ্নিত ২৭টি ক্রিটিক্যাল বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৬টি পিলারের ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে।
ফাটল পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র অবলোকনকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।" এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও তার সঙ্গে ছিলেন।
বুধবার বেলা এগারোটার দিকে জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপ্রধান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান। এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানান।
সাধারণ দর্শনার্থীদের মতো টিকিট কেটে জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক পর্যায় প্রত্যক্ষ করেন। বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং আয়নাঘরের রেপ্লিকা ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বলপ্রয়োগে গুম ও নির্যাতনের নানা সামগ্রী প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন। মুক্তিকামী শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন, স্মারক ও ব্যক্তিগত চিঠি দেখে তিনি গভীরভাবে আবেগতাড়িত হন। একইসঙ্গে ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে প্রামাণ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে অশ্রুসিক্ত হন তিনি। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি ব্যক্ত করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
রাষ্ট্রপ্রধান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।" তিনি বীর শহীদদের অবদান ও আহতদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানানোর পাশাপাশি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এ অনুষ্ঠানে জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিদর্শনকালে জাদুঘরের গবেষণাদলের প্রতিনিধি জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথিপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
বিবাহ ও বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও তথ্য জালিয়াতি প্রতিহত করতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এদিন আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, নতুন এই কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থাটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে এক ক্লিকেই যে কারও বৈবাহিক সংক্রান্ত সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, পাশাপাশি জালিয়াতিও রোধ হবে।’ এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিসা আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক তথ্যাদি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাইয়েও এই প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম হিসেবে এই ডিজিটাল নিবন্ধন চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে এ প্রকল্পে ব্র্যাককে অংশীদার করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার জন্য নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতেই এ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্র্যাক তাদের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাজ করছে। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বৈবাহিক অবস্থান নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের একটি অভিজ্ঞতা আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের কাজিদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় নয়। আমরা শুধু তাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়।
মঙ্গলবার জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বাড়ার অন্তর্নিহিত কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং এসব সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কালক্ষেপণ ও অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো বিষয় দায়ী নয়। মূলত সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দুর্বলতা, ত্রুটিপূর্ণ ব্যয় প্রাক্কলন, জমি অধিগ্রহণ ও সেবা সংযোগ (ইউটিলিটি) স্থানান্তরে বিলম্ব, জটিল ক্রয় প্রক্রিয়া, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ না দেওয়া, মাঠপর্যায়ে দুর্বল তদারকি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবের কারণে এসব জটিলতার সৃষ্টি হয়।
এসব সমস্যা দূর করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অনুমোদনের পরপরই বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান প্রকল্প নির্দেশিকা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত পর্যালোচনা সভা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্বের কারণ ও অনিয়ম চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রায়োগিক উপযোগিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস বা নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ই-জিপি (e-GP) ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সমন্বিত গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে জোর দিয়ে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।
আইএসপিআর জানায়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক জন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।
সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ ও পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সূচনাপর্বে উভয় প্রতিনিধি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনাকালে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, "ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।"
ভবিষ্যতেও উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সুসংহত রাখা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রতিবেশী দুই দেশের সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়।