পোশাকশ্রমিক কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে এখন থেকে এ ধরনের দুর্ঘটনা ‘শিল্প দুর্ঘটনা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশে এর আগে এই নিয়ম শুধু কর্মক্ষেত্রের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান নিয়মের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার পোশাকশ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।
অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) পাইলটের গভর্নেন্স বোর্ড সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৮ম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ‘যাতায়াত দুর্ঘটনা’-কে ‘শিল্প দুর্ঘটনা’ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্তের পাইলটিং কার্যকর হবে।
অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) পাইলটের গভর্নেন্স বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্তটি নিয়োগকর্তাদের সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, বাংলাদেশের শিল্প ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিল্প দুর্ঘটনার মধ্যে যাতায়াতকালের দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
সভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর কারিগরি বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সম্প্রসারণের কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলোর মূল পয়েন্টগুলো তুলে ধরেন। যাতায়াতকালীন দুর্ঘটনাকে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত উল্লেখ করা আছে- ঘটনা কারখানার বাইরে ঘটতে হবে, কারখানার সঙ্গে তাদের যুক্ততার রেকর্ড থাকতে হবে।
নিয়োগকর্তাদের সংগঠনগুলো পাইলট স্কিমের আওতায় আগামী ১ জুলাই থেকে যাতায়াত দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সামাজিক সুরক্ষার জন্য শ্রমিকদের মৌলিক অধিকারকে সমর্থন করি এবং নতুন সুবিধাগুলো বিবেচনা করতে পেরে খুশি হবো যদি সেটি শিল্পের প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত না করে।
এরইমধ্যে শ্রমিক প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগে সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তৈরি পোশাক খাত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ খাত, তবে সড়ক পথে যাতায়াত এই কাজের সবচেয়ে ভয়াবহ অংশ, তাই যাতায়াত দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণের অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
আইএলও অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি বেনিফিট কনভেনশন নং ১২১ (সি-১২১)-এর ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে সদস্য দেশগুলোকে শিল্প দুর্ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং যার মধ্যে একটি যাতায়াত দুর্ঘটনাকে শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এমন শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২২ সাল থেকে ইআইএস পাইলট তৈরি পোশাক খাতের আহত শ্রমিক ও মৃত শ্রমিকদের কর্মস্থলজনিত দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে আসছে। আইএলওর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিয়াইনেন বলেন, যাতায়াত দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগটি শ্রমিকদের সুরক্ষা বৃদ্ধি করবে এবং শিল্প সম্পর্কের উন্নতি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইএলও এবং জিআইজেড যৌথভাবে অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম পাইলট বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। আইএলও উদ্যোগটি নেদারল্যান্ডস এবং কানাডা সরকার দ্বারা অর্থায়ন করা হয়, অন্যদিকে জিআইজেড উদ্যোগটি জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) দ্বারা অর্থায়ন করা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার বাংলাদেশের শ্রম আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে তিন দিনের বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে আইএলও কিছু পরামর্শ দিতে চায়, যাতে আইনটি আরও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়। সংস্থার কমিটি অব এক্সপার্ট আইনটা দেখেছে, পড়েছে, সেখানে তারা আন্তর্জাতিক মান নিয়ে কিছু সুপারিশ দিয়েছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল বা থার্ড টার্মিনাল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। উপদেষ্টা জানান যে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই টার্মিনালটি সচল করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে জাপানের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দর কষাকষি করেছেন। তবে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও এই মেয়াদে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সরকার টার্মিনালটি সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও পদ্ধতিগত কাজগুলো গুছিয়ে রাখছে এবং এটি চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার গ্রহণ করবে।
২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই বিশাল মেগা প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার প্রদান করেছে এবং বাকি অর্থ জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা (JICA) থেকে ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর এই টার্মিনালের আংশিক বা প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং তৎকালীন সরকার ২০২৪ সালের শেষের দিকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে বারবার নেতৃত্বের পরিবর্তন, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতে বিলম্ব এবং ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে এই প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা বারবার পিছিয়ে গেছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে এই থার্ড টার্মিনাল একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালে যাত্রীসেবার জন্য ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন এবং তিনটি বিশেষ ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে এবং যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে তিনগুণ বেড়ে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়াবে। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পদ্ধতিগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে আপাতত এই বিশাল সুযোগের জন্য দেশবাসীকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের আগমনের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
সারা দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যখন চরমভাবে বিপর্যস্ত, তখন বিদ্যুৎ সেবার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবোর্ড)। এই মহতী উদ্যোগে বাপবিবোর্ডের সাথে সরাসরি একাত্ম হয়ে কাজ করছে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কল্যাণ পরিষদ’ (ক্রীসকপ)। শীতের প্রকোপ থেকে অসহায় ও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে তারা যৌথভাবে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত ‘কম্বল বিতরণ কর্মসূচি’ গ্রহণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই হাড়কাঁপানো শীতে প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘবে বাপবিবোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর এই নিরলস প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে সর্বস্তরে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
বাপবিবোর্ড প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো কেবল নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করাই নয় বরং যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করা। প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তীব্র শীতের এই কঠিন সময়ে এই ধরণের সরাসরি মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তি ও আশ্রয়ের স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সরকারি সেবার বাইরে গিয়ে এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনসেবার সংজ্ঞাকে আরও মহিমান্বিত করেছে।
পরিশেষে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়েছে। তারা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে যে, বর্তমান সংকটের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরনের জাতীয় দুর্যোগ বা জনকল্যাণমূলক কাজে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। জনগণের সার্বিক কল্যাণে বিদ্যুৎ খাতের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিরও উজ্জ্বল সাক্ষর রেখে চলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অব্যাহত থাকবে। মূলত মানুষের দুয়ারে কেবল আলো নয়, উষ্ণতা পৌঁছে দিতেই বাপবিবোর্ডের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি)-এর ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে তাৎপর্যপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে ‘ভিডিপি দিবস’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে ভিডিপি’র গৌরবময় ইতিহাস, বর্তমান অবদান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। মহাপরিচালক বলেন,
“গ্রাম ও নগরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ সদস্যের এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী পরিবারে। এই ঐতিহাসিক দিনে আমি ভিডিপি’র সকল সদস্য-সদস্যা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”
ভিডিপি’কে গণপ্রতিরক্ষার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন,
“স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে। আইন প্রয়োগে সহায়তা, সামাজিক অপরাধ দমন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজ এবং জরুরি মানবিক সহায়তাসহ নানাবিধ সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তারা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
ভিডিপি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদস্যদের সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন,
“আধুনিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং আনসার–ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় ভিডিপি সদস্যরা কৃষি, মৎস্য ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি তৃণমূল অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিটাক ও সহজ ডটকমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, বহুল প্রতীক্ষিত ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১২টি জেলার ১২টি উপজেলায় চালু হয়েছে। পরিকল্পিত ও টেকসই অর্থনৈতিক সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে এই প্রকল্প দেশব্যাপী ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ সুগম করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিডিপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সকল ভিডিপি সদস্যকে আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ AVMIS-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য সদস্যদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউলের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্ষম, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ভিডিপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।”
ভিডিপি প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক দিনে উপস্থিত সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বাহিনী প্রধান বলেন,
“অদম্য সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ভিডিপিকে আরও সুশৃঙ্খল, প্রশিক্ষিত ও সমৃদ্ধশালী বাহিনীতে পরিণত করা যায়। তাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি গড়ে উঠবে।”
শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো, কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে ভিডিপি’র গৌরবময় যাত্রা শুরু হয়।
উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক, উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক ভিডিপি সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ এবং ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে আলোচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল, মামলা-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মুখ খুলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান যে, সুরভীর পুরো বিষয়টির ওপর তিনি ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন। আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন যে, তিনি ইতিমধ্যে সুরভীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ইনশাআল্লাহ তিনি খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতির প্রতিকার পাবেন। উপদেষ্টার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সুরভীর সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছে।
অন্যদিকে, আজ সোমবারই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরভীকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার মতো গুরুতর সব অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সুরভীকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তাঁর অনুসারীদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন যে, সুরভীকে কোনো একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে তাঁর মতো একজন সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অনেকেই সহজে মেনে নিতে পারছেন না।
আইন উপদেষ্টার এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং রিমান্ড কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে, তবে আসিফ নজরুলের ‘প্রতিকার’ পাওয়ার আশ্বাস একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুরভীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তাকে ফাঁসানোর যে গুঞ্জন রয়েছে, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ও ছাত্র মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সকলে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা গ্রহণ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই শোকবার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে পাঠানো এই বার্তাটি গ্রহণের বিষয়টি বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এবং সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শোকবার্তাটি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সশরীরে গুলশানে আসেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের একান্ত সচিব–২ এস এম খাইরুল ইসলাম (সজীব)। তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে এক সংক্ষিপ্ত ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে তারেক রহমান সেই শোকবার্তাটি নিজ হাতে গ্রহণ করেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক পালন এবং পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করার মাধ্যমে সরকার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেছে। আজ প্রধান উপদেষ্টার এই আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রেরণের বিষয়টি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের একটি ইতিবাচক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমান এই শোকবার্তাটি গ্রহণ করার সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর্তমানে বিএনপি কার্যালয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত শোকবার্তা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি বড় অংশের মানুষের জন্য এবার সেই বন্ধ্যাত্বের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর, তাদের অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এই অবস্থার পরিবর্তনে সরকার আন্তরিক ও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আসন্ন নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক।”
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন—দেশের চাবি আপনার হাতে’ শীর্ষক ভোটের গাড়ি কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে।
কুমিল্লায় ভোটারদের মধ্যে গণভোট ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে এই ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সকালে টাউন হল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সচেতন ভোটার। ভোটের অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়াতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোটের গাড়িটি কুমিল্লার নগরীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিভ্রমণ করে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের গুরুত্ব, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত বা বানচালের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। নির্বাচনের প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। সরকার যথাসময়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ অটল রয়েছে।
নির্বাচনকালীন প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি প্রতিটি দলকে তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় যাতে ‘ফ্যাসিস্টের দোসররা’ ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। মূলত একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখাই বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ের শেষ অংশে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আদালতে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই যেন এই খুনের সুষ্ঠু বিচার ও প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও অপরাধীদের নাম দ্রুতই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। সামগ্রিকভাবে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং একটি টেকসই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার তাঁর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
রাজধানীর অদূরে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে পুলিশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণের এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কয়েক লাখ বাসিন্দার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বাচলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক নিরাপত্তা বলয়ে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পূর্বাচল এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। সেখানে ৪টি পূর্ণাঙ্গ থানা, ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য পুলিশের ইতিহাসে একক কোনো প্রকল্পে নজিরবিহীনভাবে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ভবিষ্যতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আধুনিক নগরীতে কেবল সরকারি আবাসনই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। উদ্ভূত জনবহুল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা থেকে এলাকাটিকে শুরু থেকেই ডিএমপির অধীনে এনে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, পূর্বাচলে অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে পুলিশের একটি স্বতন্ত্র অপরাধ বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগ এবং একটি সুসজ্জিত পরিবহন বিভাগ গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও আইনি ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে একটি পুলিশ লাইনস, তথ্যপ্রযুক্তি বা এমআইএস ইউনিট, দুটি অপরাধ জোন এবং চারটি ট্রাফিক জোন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই বিশাল কর্মীবাহিনীর জন্য বিপুল সংখ্যক যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রক্রিয়াও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে এই প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পূর্বাচলকে একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। যেহেতু এখানে ভবিষ্যতে বিপুল জনসংখ্যার সমাগম ঘটবে, তাই তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন শুরু থেকেই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ৬ হাজার ৫২৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যায়ে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই ধাপে ধাপে এই বিশাল পুলিশ কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এই মেগা প্রজেক্টটি সম্পন্ন হলে পূর্বাচল হবে দেশের অন্যতম আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ, যা রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল নাগরিক জীবন উপহার দেবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সোমবার সকালে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমিতে ভিডিপির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আনসার বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রশাসনের অন্যান্য সকল বিভাগের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছেন। বিশেষ করে নির্বাচনী ডিউটির জন্য আনসার সদস্যদের উন্নত ও দক্ষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে যাতে তাঁরা যেকোনো পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন।
মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে আনসার বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশ ও জাতির প্রতিটি সংকটে এই বাহিনী সবসময় সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে। মহামারি থেকে শুরু করে ভয়াবহ বন্যা কিংবা অন্যান্য জাতীয় দুর্যোগ—সব ক্ষেত্রেই আনসার সদস্যরা তাঁদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। এমনকি সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল, তখন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও কেপিআই স্থাপনার নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার বাহিনী অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে। দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই বাহিনী সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মেজর জেনারেল সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার এই বাহিনীর সদস্যদের মানোন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের আরও বেশি দক্ষ ও আধুনিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশে এবং বিদেশের মাটিতে উন্নত প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক রণকৌশল আয়ত্ত করার মাধ্যমে আনসার বাহিনীকে একটি যুগোপযোগী পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সরকারি সহায়তায় বাহিনীর সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে একটি সুসজ্জিত র্যালি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায় এবং বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে দেশসেবার শপথ গ্রহণ করেন।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ‘মব’ বা গণপিটুনির আড়ালে আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জোবায়ের হোসেন পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। গতকাল রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র্যাব প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর বর্ষবরণের রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে, যা পরবর্তীতে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া গত ১৭ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। ইংরেজি নববর্ষের আগের রাতে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি তাঁর আত্মীয়ের ব্যবসায়িক অংশীদারের একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু যুবকের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে ওই মোটরসাইকেলের সঙ্গীরা ও অন্যান্য কিছু যুবক একত্রিত হয়ে গাড়ি থেকে নাঈমকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরবর্তীতে রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এদিকে, সহকর্মী নাঈম কিবরিয়ার এমন নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন রাজধানী ঢাকার আইনজীবীরা। গতকাল পুরান ঢাকার ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন আইনজীবী সমাজ’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা বর্তমান সমাজে ‘মব কালচার’ বা বিচারহীনতার এক ভয়ংকর বহিঃপ্রকাশ। আইনজীবীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে সকল আসামির ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানান। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন। মার্কিন সিনেট কর্তৃক তাঁর নিয়োগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে আসছেন। এই পদের জন্য মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এক প্রতিক্রিয়ায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানান এবং তাঁকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
একজন পেশাদার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের জন্য বাংলাদেশ কোনো নতুন কর্মস্থল নয়। ইতিপূর্বে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টাদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন। উল্লেখ্য যে, পিটার হাস ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাঁর দায়িত্বকাল শেষ করে ফিরে যাওয়ার পর থেকে ঢাকার মার্কিন মিশনে দীর্ঘ সময় কোনো পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত ছিলেন না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে তাঁর এই আগমন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে যখন দেশি-বিদেশি নানা মহলের পর্যবেক্ষণ রয়েছে, তখন তাঁর এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটনের সাথে ঢাকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে তাঁর এই অভিজ্ঞ মিশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করবেন।
রাজধানীতে লাইনের গ্যাসের চাপ একেবারে কমে গেছে। চাপ কম থাকায় দুই চুলা একসঙ্গে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। যে এক চুলা জ্বালানো যাচ্ছে, তাতে রান্না তো দূরের কথা, দিনের বেলা পানিও ঠিকমতো গরম করা যাচ্ছে না। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার একমাত্র ভরসা এলপিজি সিলিন্ডার; কিন্তু তাতেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা থাকলেও এলাকার খুচরা দোকানগুলোয় মিলছে না বাসাবাড়িতে বেশি ব্যবহৃত এ গ্যাসের সিলিন্ডার। ফলে দোকানে দোকানে ঘুরছেন গ্রাহকরা। আবার কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেককেই হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন বছরের শুরুতেই সাধারণ গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিইআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন দাম ঘোষণা করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান, সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যে দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছি, ভোক্তা একদম সেই দামেই যে পণ্যটা কিনতে পারবে, সে নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না। যে কোম্পানিগুলো এলপিজি ইমপোর্ট করে থাকে, তাদের যাবতীয় খরচ হিসাব করেই আমরা দামটা নির্ধারণ করে দিই। অ্যাসোসিয়েশন আমাদের বলছে, নির্ধারিত দামেই তারা পণ্যটা সরবরাহ করছে।এছাড়া আমরা ভোক্তা অধিকারেও কথা বলেছি, যাতে তারা উচ্চমূল্য প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে। আর উচ্চমূল্যের বিষয়ে যদি কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
জালাল আহমেদ বলেন, পণ্যবাহী জাহাজের সমস্যাটা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে হচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিদের বলেছি, তারা যেন সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিটা বাড়ায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজের ঘাটতি আছে। এছাড়া এলসি ইস্যু নিয়েও সমস্যাটা হচ্ছে যে, কোম্পানিগুলো এলসি খুলতে পারছে, কিন্তু পণ্য আনতে পারছে না। এরপরেও যদি কেউ এলসি খোলা নিয়ে জটিলতায় পড়ে, সেক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
কমিশন জানিয়েছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসেও এলপিজির দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ২৫৩ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম ১.৭৪ টাকা বাড়িয়ে ৫৭.৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পর পর দুই মাস রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
জানা যায়, গ্যাসের চাপ কম রয়েছে পুরো রাজধানী জুড়েই। কোথাও কম, কোথায় বেশি। রাজধানীর মতিঝিল, গোপীবাগ, টিকাটুলী, হাটখোলা, ওয়ারিসহ পুরান ঢাকার প্রায় সব এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটের তথ্য পাওয়া গেছে, বনশ্রী, মিরপুরের কিছু এলাকা, শেওড়াপাড়া, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাসাবো, মুগধা, মান্ডা, মানিকনগর, বাড্ডা, বিশ্বরোপ, মৌচাক, মগবাজার, ইস্কাটন, আজিমপুর এলাকায়।
আজিমপুরের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা সাঈদা আনোয়ার বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে সারাদিন গ্যাস একেবারেই ছিল না। শনিবার সকাল থেকে নিভু নিভু জ্বলছে চুলা। তবে তা রান্নার মতো না।
ভাষানটেক এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, গত শুক্রবার সারাদিন গ্যাস ছিল না। সন্ধ্যার পর পাওয়া গেলেও গ্যাসের চাপ কম ছিল। আবার শনিবার সকাল থেকেও ছিল না।
কলাবাগান এলাকার মাসউদুর রহমান বলেন, গ্যাসের চাপ একেবারেই কম গত তিনদিন ধরে। যে গ্যাস চুলায় আসছে, এতে দুই চুলা একসঙ্গে জ্বালিয়ে রান্না করা মুশকিল।
গ্যাস সংকটের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও শেয়ার করেছেন অনেকে।
আনিসুর রহমান লিখেছেন, ‘ঢাকায় মোটামুটি সবার, সব অঞ্চলেই গ্যাস নেই।’
নাসরিন সুলতানা পিংকি লিখেছেন, ‘আমার ঘরে আছে খুব আস্তে আস্তে খিচুরি রান্না হয়েছে দেড় ঘন্টায়।’
মোরসালিন বাবলা লিখেছেন, ‘বনশ্রীতে গ্যাসের সংকট।’
অনু হকের বাসা পূর্ব তেজতুরি বাজার। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাসায় তো একদমই আসে না, আগে রাতে যা-ও একটু আসত, এখন সেটাও আসে না।’
রেজিনা লিনু লিখেছেন, ‘আমি পল্লবি থাকি, সকাল সাতটায় উঠে দেড় ঘন্টা ধরে গ্যাসের চুলায় চা করেছেন।
তাপসী রাবেয়া আঁখি লিখেছেন, তার বাসায় গ্যাস নেই।
অরণ্য অশ্রু নামের একজন লিখেছেন, তিনি শ্যামলী থাকেন, সারাদিন তার বাসায় গ্যাস থাকে না।
বনানী-১ নম্বর থেকে মাহমুদুল হাসান নিবিড় লিখেছেন, ‘গ্যাসের চাপ একেবারেই কম।’
হাজারিবাগ থেকে শামীম আহমেদ লিখেছেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না, রাতে রান্না করতে হচ্ছে।’
রুদ্র নামের একজন ধানমন্ডি ১৯ থেকে লিখেছেন, গত তিন মাস ধরে তার বাসায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ একেবারে কম থাকে।
রাব্বী সিদ্দিকী শেওড়াপাড়া থেকে লিখেছেন, তার বাসায় গ্যাসের চাপ কম।
ওয়ারি থেকে রাজিব লিখেছেন, পুরান ঢাকার প্রায় বাসাতেই নেই।
কিশোর রায় মালিবাগ থেকে লিখেছেন, তার বাসায় গ্যাস নেই বললেই চলে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ‘তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন’ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন বিভাগ-ঢাকা-মেট্রো) মো. মনজুর আজিজ মোহন বলেন, ‘তিতাসের সকল গ্রাহকরাই সাময়িক এই ভোগান্তিতে রয়েছে। শিগগিরই সংকট কেটে যাবে। রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
গ্যাসের এই স্বল্প চাপ শুধু রাজধানীতেই নয়, এ পরিস্থিতি গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জেও। গত দুইদিন ধরে এ সকল এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট। কিছু কিছু এলাকায় চুলা জ্বলছেই না।
এ প্রসঙ্গে তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অপারেশন ডিরেক্টর আঞ্চলিক বিক্রয় ডিভিশন নারায়ণগঞ্জ প্রকৌশলী মো. সেলিম মিঞা বলেন, এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গত দুই দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তার নিজের বাসাতেও গ্যাস সংকট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিন দিনের কথা বলা হয়েছিল। সে হিসাবে ৫ জানুয়ারি আজ থেকে স্বাভাবিক হওয়ার কথা।’
তিতাস সূত্রে জানা যায়, তিতাসের বিতরণ এলাকায় ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রতিদিন সরবরাহ করা হয়। এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কারণে তা ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কম হচ্ছে। সে কারণে কিছু এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। আবার কিছু এলাকায় লাইনে সমস্যা থাকায় আগে থেকেই সেসব এলাকায় গ্যাসের চাপ কম, কোথাও কোথাও সরবরাহও ঠিক মতো করা যাচ্ছে না।
তিতাসের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এমনিতেই গ্যাসের সংকট রয়েছে। শীত মৌসুমে গ্যাসের সংকট বেশি দেখা দেয়। এরমধ্যে এলএনজি টার্মিনালের কাজ চলছে, সে কারণে সরবরাহ বন্ধ। সব মিলিয়ে সরবরাহের জন্য আমাদের যে চাহিদা তার চেয়ে অনেক কম পাচ্ছি। যে কারণে আবাসিকে বেশি চাপ দেখা দিয়েছে।’
কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলএনজি সরবরাহ শুরু করলে হয়তো গ্যাসের চাপ বাড়বে। তার জন্যও আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।’
এদিকে, জানুয়ারি মাসের জন্য অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামও রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
এলপিজির দাম বাড়ায় বাসাবাড়িতে রান্নার খরচ যেমন বাড়বে, তেমনি অটোগ্যাস ব্যবহারকারী যানবাহনের পরিচালন ব্যয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।
রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবন এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ ও চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। রোববার সকালে পৃথক দুটি ঘটনায় তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর রোডে অবস্থিত তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে থেকে মো. রুহুল আমিন নামের ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক রুহুল আমিন নিজেকে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ওই বাসভবন ও সামনে থাকা গাড়িগুলোর বিভিন্ন দিক থেকে সন্দেহজনকভাবে ছবি তুলছিলেন। বিষয়টি সিএসএফ এবং দায়িত্বরত পুলিশের নজরে এলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করা হয়।
প্রথম ব্যক্তিকে আটকের কিছুক্ষণ পরেই বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে একই বাসভবনের সামনে থেকে মো. ওমর ফারুক নামের দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। যদিও তাঁর বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁর দেহ তল্লাশি করে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর থেকে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সিএসএফ কড়া নজরদারি বজায় রাখছে। বাসভবন এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক আচরণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।