বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আগামীতে জেলাভিত্তিক প্রকল্প নেওয়া হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৪ ১৪:৩৯

আগামীতে উপজেলাভিত্তিক প্রকল্প থেকে সরে এসে জেলাভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়নে সরকার গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম।

আজ বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যায় অনেক উপজেলায় একাধিক প্রকল্প, আবার অনেক উপজেলা অবহেলিত থাকে। এটা বন্ধ করতেই জেলাভিত্তিক প্রকল্প হাতে নেব যাতে উন্নয়ন সমভাবে বণ্টন হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব সরকারি কর্মকর্তা নানান সময়ে বিদেশে প্রশিক্ষণে যান, সেখান থেকে ফেরার পর তাদের প্রশিক্ষণের ধরণ অনুযায়ী প্রকল্পে নিয়োগের অনুশাসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।’

পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার বলেন, চলতি অর্থবছরে ৩০ জুনের মধ্যে ৩৫৬টি প্রকল্প শেষ হবে যা এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। কোনো চিকিৎসক প্রকল্প পরিচালক হলে তাকে আলাদা প্রশিক্ষণ দিতে এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন।

বিষয়:

একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে, সজাগ থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১৭:৫৯
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। রুহিয়াকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করায় স্থানীয় উপজেলা বিএনপি এই সংবর্ধনার আয়োজন করে। এসময় মন্ত্রী দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সরকারের গত তিন মাসের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া ও ভুল্লীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জেলাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চালু এবং বন্ধ থাকা বিমানবন্দর পুনরায় সচল করার বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিগত তিন মাসে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার ৭২ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তথা তরুণ সমাজকে রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুবকদের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে আগামী দিনের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজ উভয়কেই নিতে হবে। মাদক মুক্ত সমাজ গঠনই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও রুহিয়ার উন্নয়নে অবদান রাখা প্রয়াত নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, জাতীয় পার্টির নেতা নুরুল হক বোমবার্ড এবং বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি তৈমুর রহমানের অবদান উল্লেখ করে উদার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এলাকার উন্নয়নে যারা কাজ করেছেন, তাদের সম্মান জানানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়কে অস্থায়ী রুহিয়া উপজেলা পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষে আধুনিক ঠাকুরগাঁওয়ের রূপকার হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়।


গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দর ঘোষণা করে। ঘোষণা অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে নির্ধারিত টাকা ১১ পয়সার পরিবর্তে গ্রাহকদের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য এখন থেকে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা গুণতে হবে। নতুন এই বর্ধিত মূল্য চলতি জুন মাসের বিলিং সময় থেকেই কার্যকর হবে বলে কমিশন থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিইআরসি কেবল গ্রাহক পর্যায়েই নয়, পাইকারি পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে নতুন পাইকারি দর দাঁড়িয়েছে টাকা ৩৯ পয়সা। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন চার্জ ছিল শূন্য দশমিক ৩১৩৫ টাকা, যা এখন শূন্য দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে মোট শূন্য দশমিক ৩৮৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুতের এই মূল্য নির্ধারণের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর আগে গত ২০ ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেই শুনানিতে বিভিন্ন অংশীজন সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের পর প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি বেসরকারি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় সমন্বয় এবং আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখতেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূলত দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বিইআরসির কাছে দাম বাড়ানোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, তারা প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে শুরু করে টাকা পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। এর মধ্যে পিডিবি সর্বনিম্ন ৮৫ পয়সা এবং নেসকো সর্বোচ্চ টাকা পয়সা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছিল। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরইবি টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো টাকা ৯৮ পয়সা এবং ওজোপাডিকো টাকা ৩৯ পয়সা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সকল প্রস্তাব বিবেচনা করে কমিশন শেষ পর্যন্ত গড় হারের এই নতুন মূল্য তালিকা চূড়ান্ত করেছে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জাপানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, মিতসুই বিশ্বজুড়ে অবকাঠামো, লজিস্টিকস, জ্বালানি, ধাতু ও খাদ্য বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
বৈঠককালে বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য, তথ্যপ্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও বিদ্যমান বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে জানানো হয় যে, বর্তমান সরকার অত্যন্ত বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ ও সম্প্রসারণে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় একীভূত করার বিশেষ উদ্যোগের কথা বৈঠকে জানানো হয়। এর ফলে বিনিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত ও কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করেছে।
সাক্ষাৎকারে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। অন্যদিকে মিতসুই-এর প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরলেন ড. খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথম বক্তব্য প্রদান করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ছয়টি স্তম্ভভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তাকে এই পদে সমর্থন প্রদানের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, এই বড় দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত বিনয় ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করছেন।
বক্তব্যের শুরুতে ড. খলিলুর রহমান তাকে এই সম্মানজনক পদের জন্য মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া নির্বাচনের সময় তাকে সহযোগিতাকারী দেশবাসী ও বৈশ্বিক শুভানুধ্যায়ীদেরও স্মরণ করেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের গঠনমূলক প্রচারণার প্রশংসা করে তিনি একে ভবিষ্যৎ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন। ড. রহমান তার ভাষণে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে, জাতিসংঘ যখন তার নবম দশকে প্রবেশের অপেক্ষায়, তখন সংস্থাটির ওপর মানুষের আস্থা এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। যুদ্ধ, মানবিক সংকট এবং উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার যে পশ্চাদপসরণ ঘটছে, তা নিরসনে তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজের অগ্রাধিকারসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সভাপতি দেশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যে অবদান রেখেছেন, তা থেকে তিনি অনুপ্রেরণা গ্রহণ করবেন। তার মেয়াদে সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পক্ষে তিনি কাজ করবেন। পাশাপাশি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান অর্জনের মধ্যে এখনও বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। তিনি ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া এসডিজি অর্থায়নের বড় ঘাটতি পূরণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তার বিশেষ নজর থাকবে বলে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আশ্বস্ত করেন।


সিন্ডিকেটে জিম্মি চামড়ার বাজার, শিল্প ভাসে পানিতে 

* সিইটিপি সংকটে কমেছে রপ্তানি * চরম লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা   * কেউ ফেলেছেন নদীতে, কেউ ময়লার ভাগাড়ে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারও কোরবানির ঈদ ঘিরে চামড়াশিল্প নিয়ে পুরনো সংকটের পুনরাবৃত্তি দেখল দেশবাসী। লবণযুক্ত চামড়ার দাম এ বছর প্রতি বর্গফুট দুই টাকা বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে সেই দাম পাননি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ কারণে চরম লোকসানের মুখে দেশের কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা চামড়া সড়কে ফেলে দিয়েছেন। কেউ ফেলেছেন নদীতে। কেউ আবার রাগে-ক্ষোভে ময়লার ভাগাড়ে ফেলেছেন। অথচ একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে, ট্যানারিগুলো লাখ লাখ চামড়া সংগ্রহ করছে। এরপরও কাঁচা চামড়ার বাজারে ধস। ফলে পুরো চামড়া শিল্প সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

এদিকে, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থাপিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্মিত না হওয়ায় ট্যানারিগুলো আন্তর্জাতিক সনদ পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে একের পর এক হারাচ্ছে বৈশ্বিক বাজার। বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চামড়ার দামও নেমে এসেছে তলানিতে।

পবিত্র ঈদুল আজহা বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় মৌসুম। সারা বছরের কাঁচামালের প্রায় অর্ধেক আসে এই ঈদে। অথচ প্রতি বছরই দেখা যায় একই চিত্র। সরকারি দাম ঘোষণা, মাঠপর্যায়ে দাম না পাওয়া, সিন্ডিকেট, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হতাশা এবং কোথাও কোথাও চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনা। এবারের কোরবানির ঈদেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। এবার দেশে প্রায় ৯০ লাখ গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। সরকারি হিসাবে গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। তবে বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ কম হবে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা শুরু থেকেই ৭৫ থেকে ৮০ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কোরবানির সংখ্যা কমতে পারে।

এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়. যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। এই হিসাবে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোরবানির দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেই চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। ছোট আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। জামিয়া কারীমিয়া আরাবিয়া (রামপুরা) মাদ্রাসার চামড়া সংগ্রহকারী ও সুলতান ভূঁইয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর কোরবানি কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত হারে চামড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও পোস্তার আড়ত ব্যবসায়ীরাও কারসাজি করে পানির দরে চামড়া কিনেছেন। ঢাকার কোথাও সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি। ফলে মুষ্টিমেয় কিছু ট্যানারি ও আড়ত ব্যবসায়ী মুনাফা পেলেও বাকি সবাইকে লোকসান গুনতে হবে। তিনি জানান, চামড়ার দাম না পাওয়ায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হতাশা বিরাজ করছে। কারণ চামড়া বিক্রিত অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্য, বস্ত্র ও বেতনভাতা হয়ে থাকে।

খিলগাঁও গোড়ান বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, গত বছর যে মানের চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন, এবার সেখানে ৬৫০ টাকার বেশি দাম পাননি। পুরান ঢাকা ওয়ারীর ব্যবসায়ী সালাম মিয়ার ক্ষোভ আরও তীব্র। তিনি ২৫০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু পোস্তার ক্রেতারা এমন দাম প্রস্তাব করেন, যা থেকে পরিবহন খরচও ওঠে না। শেষ পর্যন্ত লোকসানে চামড়া বিক্রি করে এক বুক হতাশা নিয়ে বাসায় ফেরেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

লালবাগের পোস্তার কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, ভালোমানের চামড়া সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের মধ্যেই বেচাকেনা হয়েছে। তবে ত্রুটিযুক্ত চামড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে দাম কমে যেতে পারে।

কারা লাভবান হলো : বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত ছিল। অনেক ছোট ব্যবসায়ী ও আড়তদার ঋণ না পাওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে ট্যানারিগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে ঈদের তৃতীয় দিন রাত পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার পিছ কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি গরু ও মহিষের চামড়া। ১ হাজার ৭২৫টি ট্রাকে এসব চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে। এ থেকে বোঝা যায়, বাজারে কাঁচামালের ঘাটতি ছিল না। বরং সংগ্রহ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। তবে দাম নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের দিন বিকাল পর্যন্ত এক ধরনের দাম থাকলেও সন্ধ্যার পর যোগসাজশ করে আড়তদাররা একযোগে দাম কমিয়ে দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুরান ঢাকার পোস্তা আড়ত মালিক ও সাভারের ট্যানারি মালিকদের কারসাজির কারণেই চামড়ার বাজারে পতন হয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া এবার চামড়া কেনার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো মাত্র ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অনেক ট্যানারি পুরনো ঋণে খেলাপি হওয়ায় নতুন করে ঋণ পায়নি। ফলে অনেক আড়তদার ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাজারে সক্রিয় হতে পারেননি। এতে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং দামও নেমে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রায় ৯৯ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। কিন্তু কাঁচা চামড়ার দাম বাড়ছে না।

এ বছর এখন পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে প্রায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার পিস এসে পৌঁছেছে। ট্যানারি মালিকদের ভাষ্যমতে, এসব চামড়া তারা সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা পিস দরে কিনেছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন অনেক ক্ষেত্রে। একটি গরুর চামড়া মাত্র ২০০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ২০১৭ সালে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ১৬০টি ট্যানারি সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, সব ট্যানারির কঠিন ও তরল বর্জ্য পাইপলাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারে গিয়ে পরিশোধিত হবে। এর মাধ্যমে ট্যানারিগুলো সহজেই আন্তর্জাতিক মানের ‘লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, সিইটিপি নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে শিল্পনগরীর বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ বেড়েছে এবং পাশের ধলেশ্বরী নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়েছে রপ্তানি বাজারে। বর্তমানে শিল্প নগরীর শতাধিক ট্যানারির মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বড় ক্রেতারা বাংলাদেশি চামড়া কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে প্রধানত চীনই বাংলাদেশের চামড়ার অন্যতম ক্রেতা হিসেবে রয়েছে।

ট্যানারি মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। একটি চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, রাসায়নিক ব্যবহার, শ্রমিকের মজুরি ও প্রক্রিয়া জাতকরণসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট চামড়া সর্বোচ্চ ৭০ সেন্ট দরে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচই উঠে আসছে না, লাভ তো দূরের কথা।

আজমির লেদারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহ বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ট্যানারি পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা না থাকায় চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। সিইটিপির সমস্যার সমাধান না হলে এই সংকট কাটবে না।

চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার নতুন করে আধুনিক সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের নিজস্ব উদ্যোগে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয়টি ট্যানারিকে ইটিপি স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সদর ট্যানারি ও বে ট্যানারি নিজস্ব ইটিপি স্থাপন করেছে। তবে বাকি চারটি ট্যানারি এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তবে ট্যানারি মালিকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সিইটিপির সমস্যা সমাধান ছাড়া পৃথক ইটিপি স্থাপন খুব বেশি সুফল বয়ে আনবে না। কারণ ইটিপিতে শুধু তরল বর্জ্য (ওয়াটার ওয়েস্ট) শোধন হয় কিন্তু কঠিন বর্জ্য (সলিড ওয়েস্ট) শোধনের জন্য সিইটিপিতেই পাঠাতে হবে। এছাড়া একটি ইটিপি স্থাপনে শত কোটি টাকার বেশি ব্যয় প্রয়োজন হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগ নিতে পারছে না।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, চামড়াশিল্পকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সিইটিপি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রপ্তানি বাজার পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা চামড়ার মান কমে যাওয়াও দরপতনের অন্যতম কারণ। ইদানীং পশুর শরীরে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (স্থানীয় ভাষায় করোনা) এর কারণে সংগৃহীত চামড়ার প্রায় ২৫ শতাংশই রপ্তানি অনুপযোগী। এছাড়া পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলা হয়। এতে চামড়ার পুরুত্ব ও মান নষ্ট হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমিয়ে দেয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিইটিপি প্রকল্প। এখন নতুন সিইটিপি নির্মাণ এবং পৃথক ইটিপি স্থাপনের মাধ্যমে চামড়া শিল্পে কতটা সুদিন ফিরে আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।


চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে বিএমইটির সেবাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ডের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। এতগুলো আলাদা কার্ডের প্রয়োজন নেই। আমরা চাই, একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন।’

মন্ত্রী জানান, শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই নয়; ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসী কার্ডটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত সুবিধাগুলো নির্ধারণ করিনি। তবে কীভাবে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়, ব্যাংকিং গেটওয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং কারেন্সি-সংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।’

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ভূমিসংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা যেন ভূমি অফিসে বা হাসপাতালে গিয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার পান, সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’

এদিকে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (০১ জুন) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার (০২ জুন) থেকেই এই সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। শিগগিরই অভিযোগ পাঠানোর পদ্ধতি প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে। এতে আইন, কল্যাণ, সেবা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মীর শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দুর্ভোগ, বিমানের টিকিট সংকট এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ তদন্তে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব এজেন্সি কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েও টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণা করেছে, তদন্ত শেষে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও কতজন কর্মী আটকা পড়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে, যাতে বিশেষ বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পুনরায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় অথবা সময়সীমা বাড়ানো যায়। কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্রের কাছে সরকার মাথা নত করবে না। অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএমইটির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।

চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহসভাপতি পদে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলসি) সহসভাপতি হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সম্মেলনের সভাপতি উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো এবং অন্য দুই সহসভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান ও আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজের পাশাপাশি তিনি এ দায়িত্ব সামলাবেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রতি বছর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।

গত ১ জুন এই নির্বাচনে আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মত সমর্থন জানান। এটি বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।

জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আইএলওর গণতন্ত্রায়ণ, শোভন কর্মসংসথান, সামাজিক ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়া এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।

মিশন আরও জানায়, বিশ্বজুড়ে শ্রমশক্তির নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অবদান, এটি তারই এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

সম্মেলনের সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আইএলও’র সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে (আইএলসি) বিশ্বের ‘শ্রম সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যা আইএলওর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম।

কাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে সরকার, শ্রমিক সংগঠন এবং নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।


তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে, গত ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশ খেলাপি থাকলেও মার্চ শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (০২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মার্চ ২০২৬ ভিত্তিক ‘শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন’–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত বা মন্দ ঋণ। ডিসেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে উঠেছে।

এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।

ব্যাংকভেদে খেলাপি ঋণের চিত্রে দেখা যায়, সব ধরনের ব্যাংকেই শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের হার ডিসেম্বরের ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে মার্চে বেড়ে ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ দশমিক ১১ শতাংশে, বিদেশি ব্যাংকে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৮২ শতাংশে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশে উঠেছে।

মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

পরিমাণের দিক থেকেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৭ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি বাড়তে থাকায় ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও নতুন ঋণ বিতরণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে আরও সময় দিতে রাজি ইউএনসিডিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন বছর সময় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সরকারের আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)।

ইউএনসিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে একমত ইউএনসিডিপি। ফলে কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতিবাচক সুপারিশ করার পথ তৈরি হয়েছে।

ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন যৌক্তিক। তবে এই অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের একটি সুযোগ।

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইউএনসিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ করেছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্য মেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণ প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারিত হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে প্রস্তুতি পর্ব ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কমিটি বিশেষভাবে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দিয়েছে।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ২২:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ৯৯টি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই জয়ের ফলে আগামী এক বছর মেয়াদে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। এটি বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাব ও সক্ষমতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সাইপ্রাস। ভোটগণনা শেষে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। ফল ঘোষণার পরপরই সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসার গৌরব। এর আগে দীর্ঘ ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে সংস্থাটির ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর পুনরায় এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এখন থেকে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নানা এজেন্ডা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী চলমান নানা সংকট নিরসনে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় সাধারণ পরিষদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আগামী এক বছরের এই মেয়াদে তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবেন। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


৭ অতিরিক্ত সচিবকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে সাতজন অতিরিক্ত সচিবকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার (০১ জুন) রাতে দেওয়া এসব প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম ও সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষর করেছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব জিন্নাত রেহানাকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান।

এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশিদা ফেরদৌসকে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম হুমায়ুন কবির সরকারকে।


যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকা মহানগরীর বাহিরে নেওয়ার চিন্তা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে মেট্রো এলাকার বাইরে পাঠিয়ে পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (০২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কথা বলেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন করে কেউ বেকার হবে না, আবার একই সাথে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। দেশে রাতারাতি বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা রাস্তায় নেমে আসায় বেকারত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের হুট করে উচ্ছেদ করা কঠিন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও চালকদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখে তাদের মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে।

একই সাথে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের যৌথ সমন্বয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা ও জনসচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, এমনকি রাতের বেলাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাম্প্রতিক নৃশংস শিশু হত্যার বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান থাকায় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে যথাসময়ে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটিকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচারসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হবে।


banner close