মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপিতে মোট বরাদ্দ দুই লাখ ৬৫ হাজার

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় বৃহস্পতিবার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৪ ১৬:১৯

দেশে চলমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়াচ্ছে না সরকার। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে মোট বরাদ্দ থাকছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় মাত্র দুই হাজার কোটি টাকা বেশি।

আজ বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এই উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট বরাদ্দের বৈদেশিক ঋণ বা অনুদান লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ কোটি টাকা। তবে এবারও উন্নয়ন বাজেটে পরিবহন ও বিদ্যুৎখাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ দুই খাতে তুলনামূলকভাবে অর্থ বরাদ্দও থাকছে বেশি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নে গত ১৪ মার্চ নির্দেশনা দেয় পরিকল্পনা কমিশন। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে এডিপির জন্য মোট দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪০২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রাথমিক চাহিদা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক লাখ ৮৫ হাজার ৩৯১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ-অনুদান ৯১ হাজার ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

পরে অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির আকার দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণপূর্বক কার্যক্রম বিভাগকে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বা ৬২ দশমিক ২৬ শতাংশ। উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক ঋণ-অনুদানের টার্গেট এক লাখ কোটি টাকা বা ৩৭ দশমিক ৭৪ শতংশ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে এডিপিতে এক অর্থবছরের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়ছে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সরকার নতুন উন্নয়ন বাজেটে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাত সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির আকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মূল এডিপি অপেক্ষা দুই হাজার কোটি টাকা বা দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি এবং সংশোধিত এডিপি অপেক্ষা ২০ হাজার কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি।

বিষয়:

নির্বাচিত

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। তাদের সেই প্রতিভা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীত ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারে।’

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে পরিবারের পাশাপাশি দেশের ভিত্তিও শক্তিশালী হবে। আমাদের সকল শিশুকে সঠিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারলে আমাদের দেশের ভিত্তিটা অনেক মজবুত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিশুদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তারা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।'

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু লেখাপড়ায় ভালো হলেই হবে না। খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভালো করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের আজ পড়ালেখার কথা বলব না। আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো শিশু ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, আবার কেউ নাচ কিংবা কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী। প্রত্যেক শিশুকে তার পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সরকার সুযোগ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে প্রায় ২২ লাখ শিশু (১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে) ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।’

এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা গেলে তাদের মধ্য থেকেই একদিন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগের পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার বিকাশেও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চায় প্রতিটি শিশু শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাক।’

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন এসব সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকেই আর্ট, কালচার, স্পোর্টস ও মিউজিকের সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি অনেকটা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুকে তার পছন্দ অনুযায়ী গান শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের কথা বিবেচনায় শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ শিশুদের জন্য সৃষ্টি করা হবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য যারা বিদেশে যাবে, তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা জানা অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।’

শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা একাধিক ভাষা জানলেই একজন মানুষ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে মানবিক হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে। এই দেশের প্রকৃতি, পশুপাখির প্রতিও তোমাদের মানবিক হতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সরকার এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানুষ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, প্রকৃতি ও প্রকৃতির সৃষ্টির প্রতিও সদয় হবে।’

তিনি শিশুদের গাছপালা ও পশুপাখির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি গাছকে শিশুর মতো যত্ন করে বড় করে তুলতে হবে। একইভাবে আশপাশের পশুপাখির প্রতিও সহানুভূতিশীল হতে হবে। আমরা যদি প্রকৃতির প্রতি সদয় হই, অবশ্যই প্রকৃতিও আমাদের প্রতি সদয় হবে।'

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শিশুদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো বড় মানুষকে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে দেখলে বিনয়ের সঙ্গে তাকে সঠিক স্থানে ময়লা ফেলার কথা বলতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তুমি ছোট হিসেবে তাকে বলতে পারো-ময়লাটি সঠিক জায়গায় ফেলুন।আপনি যদি পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে বাংলাদেশের লাখো-কোটি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।’

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের মধ্যে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালালে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, মানবিক ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরিবেশনায় অংশ নেওয়া শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এ সময় শিশুদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যান এবং ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাঁকে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।


নির্বাচিত

শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত : ডা. জুবাইদা রহমান

শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ। তাদের ভবিষ্যৎ হতে হবে সুরক্ষিত। তবেই নতুন উদ্যমে শিশুরা তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সফল হবে।

তিনি বলেন, 'প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই অপার সম্ভাবনা ও প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সেই প্রতিভা বিকাশে শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।'

আজ শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু-কিশোরদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, 'আজ থেকে ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি গত পাঁচ দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'শিশু একাডেমির আঙিনায় ছবি আঁকা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে অগণিত শিশু-কিশোরের প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।'

শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।'

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, 'শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীর এই শুভক্ষণে নতুন উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সব শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আগামী দিনেও শিশু একাডেমি শিশুদের স্বপ্ন ও প্রতিভা বিকাশের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে থাকবে। '

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্নেহের ছোট্ট বন্ধুরা, সকল বাধা-বিপত্তি ছিন্ন করে তোমরা প্রস্ফুটিত হবে। আশা-আকাঙ্ক্ষার সার্থকতার আলোকরশ্মি দু’হাতে বরণ করবে।’

প্রত্যেক শিশুর মাঝেই অপার সম্ভাবনা ঘুমিয়ে আছে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, 'সেই প্রতিভাকে প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। নতুন উদ্যম ও নতুন উদ্যোগে শিশুরা ইনশাআল্লাহ সফল হবে।'

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শৈশব হোক নিরাপদ, প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত-এই আমাদের কামনা।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাদের স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র গ্যালারিও তাঁরা পরিদর্শন করেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

চারদিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চলতি অক্টোবরের শেষভাগে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ অক্টোবর তিনি জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে। সে বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।’ তবে সরকারপ্রধানের ঢাকা ছাড়ার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

এর আগে গত ১২ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় জাপানের জ্যেষ্ঠ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। একই সাথে তিনি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও টোকিও সফরের নিমন্ত্রণ জানান। এর জবাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের পাল্টা আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান ঢাকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একইসাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অবৈধ অভিবাসনকে উসকে দিতে পারে।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ারপার্সন আফসানা বেগম এমপি’র নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক উদ্বেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলের। বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে তারা তাদের সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে এপিপিজি’র ধারাবাহিক আগ্রহের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে এপিপিজি’র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সাথে আরও সম্পৃক্ততা বাড়াতে গ্রুপটির সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময়, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মানবাধিকার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে পারস্পরিক মতামত বিনিময় করেন এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষী ফোরামের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বাধ্য হয়েই সরকারকে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে: ডা. জাহেদ

ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাধ্য হয়েই সরকারকে এলপিজি গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যে যেন সাধারণ মানুষ এলপিজি পেতে পারেন, সেজন্য জেলা প্রশাসকদের মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়ম এবং অবৈধ মজুতদারি রুখতে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির সুবিধা দ্বিগুণ করেছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো এখন থেকে প্রতি দফায় ১০ কেজির স্থলে ২০ কেজি করে খাদ্যসহায়তার চাল পাবেন। এ ছাড়া গত ২ অক্টোবর বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছেছে বলেও তিনি অবহিত করেন।


নির্বাচিত

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশুদের অন্তর্নিহিত মেধা ও গুণাবলির পূর্ণ বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক ভিত আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, একটি পরিবারের সার্বিক অগ্রগতি যেমন সন্তানদের সুষ্ঠু বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি পুরো জাতির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধিও শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর নির্ভরশীল।

মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশুদের প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি মূলত শিশুদের জন্যই নির্ধারিত, তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। এ সময় একাডেমি প্রাঙ্গণে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছো, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শিশু হিসেবেই এসেছিলাম। একজন শিশু অতিথি হিসেবে আমি এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।” অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে নিজের ও ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশের ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রদর্শনী বোর্ডে সেই পুরোনো গল্প দেখে শৈশবের বহু স্মৃতি তাঁর মনে পড়েছে।

শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। তোমাদের আজকে আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।” তিনি বলেন, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোসহ প্রতিটি শিশুর ভেতরেই বিশেষ কোনো না কোনো সুপ্ত গুণ থাকে এবং তা বিকশিত করতে দরকার উপযুক্ত পরিবেশ। সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারাদেশে ১১ লাখ ছাত্র ও ১১ লাখ ছাত্রীসহ মোট ২২ লাখ শিশুর অংশগ্রহণে ফুটবল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে, যেখান থেকে ভবিষ্যতে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেশব্যাপী পুনরায় সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগত খরচে এসব সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এই সুযোগগুলো সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।” প্রস্তুতি শেষে আগামী ২০২৭ কিংবা ২০২৮ সাল নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র পছন্দের সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিশ্বমঞ্চে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুল পর্যায় থেকেই বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান কিংবা জাপানিজের মতো অতিরিক্ত একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে শিশুদের সংবেদনশীল নাগরিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “তোমাদেরকে কিন্তু মানবিক হতে হবে। তোমাদেরকে এই দেশের প্রকৃতি, এই দেশের পশুপাখির প্রতিও কিন্তু তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে।”


নির্বাচিত

শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একটি উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি বিনির্মাণে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সুস্থ বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ওপরই নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনের ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”

তিনি জানান, শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষাবলয় সুদৃঢ় করতে এবং সার্বিক বিকাশের পথ সুগম করতে সরকার বহুবিধ কল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষাঙ্গন থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের যুগোপযোগী প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিশুবান্ধব বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার আবশ্যকতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ক্রীড়া ভাতা প্রবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার যৌথ সম্মিলনে শিশুরা দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ হয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবে।

শিশু অধিকার দিবসের সঙ্গে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির সংযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ দশক ধরে সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চাসহ সৃজনশীল নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের মেধা বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিশেষে দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দঘন ও সম্ভাবনাময় করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


নির্বাচিত

টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা, পাবেন না যারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে এক দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ছুটির বিষয়ে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। সরকারি ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশের ছুটি এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। মধ্যবর্তী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) কর্মদিবস থাকলেও সরকার ওই দিন ছুটি ঘোষণা করায় পরবর্তী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন ছুটি তৈরি হয়েছে।

তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে জড়িতরা এই টানা ছুটির আওতাভুক্ত থাকবেন না। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং জননিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কর্মস্থলে নিয়োজিত থাকবেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো ইউটিলিটি সেবা, বন্দর, বিমানবন্দর, রেলপথ, গণপরিবহন এবং কারাগার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।


নির্বাচিত

শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে দেড় শতাধিক শিশুর এক বর্ণাঢ্য দল তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত রয়েছেন। এতে সভাপতিত্ব করছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের জন্য স্মারক উপহার বিতরণ এবং বিশেষ স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন এবং তাদের আঁকা চিত্রকর্ম ও ছবির প্রদর্শনী ঘুরে দেখবেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবন পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে স্থাপিত নতুন সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।


নির্বাচিত

শিক্ষকতা হবে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা: প্রধানমন্ত্রী

* দেশে কোনো শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবেনা * নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত কবরে সরকার
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক   

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকরা এ সম্মাননা পান।

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।

পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই ‘আদর্শ রোল মডেল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে সরকার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এ সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাই ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বইবিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মুখস্থ করার বদলে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল তৈরি হলে একজন শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আনন্দময় শিক্ষা’ এখন সারা বিশ্বে, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন একটি বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়া হবে। দেশে কোনো শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবেনা।

তিনি বলেন, আমরা দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায় থেকে কেউ কোনো কারণে ড্রপ আউট হলেও যেন কাউকে বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত থাকা জরুরি। আপনারা দেখেছেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারেই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাজেট আরো বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে আমরা শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এ লক্ষ্যেই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির আওতায় একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে।

স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘুরতে হবে না। যথানিয়মে যথাসময়ে তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে। দেশের শিক্ষকরাই জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’

১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১০০ গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারই প্রথম প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষককে একসঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিকে ২০, কলেজে ২৫, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০, মেডিকেল কলেজে ১০, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জনকে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যা ১০০।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃথক সার্চ কমিটির প্রস্তুত করা প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি চূড়ান্তভাবে শিক্ষকদের নির্বাচন করে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে গুণী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।

নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করবে সরকার: একইদিন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সংবলিত ‘সর্বজনীন আবাসন’ নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন। আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, উন্নত সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো সরাসরি সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য এমন টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের মতো সহজ নয়। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্য শহরের ওপর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপের কথা স্বীকার করে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমানে ঢাকা ওভারপপুলেটেড। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।

শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সকল পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা একটি কার্যকর বিকল্প।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন তারেক রহমান। এর আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিনা খরচে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা ইতোমধ্যে কর্মীর চাহিদাপত্র দেওয়া শুরু করেছেন। কর্মীদের কী ধরনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করতে পারে।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। শুরুতে কর্মীদের কোনো অভিবাসনগামী কর্মীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আলো ব্যয় ছাড়াই পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর বাছাই করে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

দীর্ঘদিন সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আলোচনায় সরকার এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কিছু শর্ত আরোপ করেছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের তথ্যমতে, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র দেওয়া এবং লেভি পরিশোধের মাধ্যমে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) কর্মীদের নিবন্ধন শুরু করেছেন।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনও মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদাপত্র সত্যায়ন শুরু করেছে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে হাইকমিশন।

কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম ১০ হাজার কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা থাকা কর্মীদের মধ্য থেকে ১০ হাজার কর্মী বাছাই করা হবে। নিয়োগদাতারাই কী ধরনের কর্মী চান, তাদের কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং কোন ধরনের দক্ষতা দরকার—বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, কর্মী নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করবে। প্রতিনিধি দলের সফর এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদা স্পষ্ট হওয়ার পর কর্মী পাঠানোর সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

তবে নতুন কর্মী পাঠানোর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার সময় যেসব কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি, তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করবে বোয়েসেল। এ প্রক্রিয়া ১৬ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন আটকে থাকা কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে বোয়েসেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, চাহিদাপত্র পাওয়ার পর কর্মী বাছাই, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম কখন এবং কীভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তারা এখনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি।

মন্ত্রী আরিফুল হক জানিয়েছেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। ব্যবস্থা চূড়ান্ত হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে ১৭টি।

এর মধ্যে ১ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার সিলগালা করে কর্তৃপক্ষ। অনুমোদন ছাড়াই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং আগের সরকারের সময় গড়ে ওঠা কাঠামোর কারণে কিছু জটিলতা এখনো রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলে সরকার গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাবে।


নির্বাচিত

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

সোমবার (৫ অক্টোবর) তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টা করছে না এবং এ ধরনের কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই।

সোমবার (৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে নিজ অফিসকক্ষে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে বলেও তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অফিস অফ কমিউনিকেশন বা ‘অফকম’ এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।


নির্বাচিত

ভারতের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বাংলাদেশ সেগুলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ চায় এবং কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে গিয়ে সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে দিল্লিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে সচিব ও কর্মকর্তা পর্যায়ে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা চলছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করে একটি ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি।

শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের ডায়লগ তো হবে যখন ভিজিট হবে। এর আগে অফিশিয়াল লেভেলের ডায়লগের মাধ্যমে কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট করতে হবে। দুই পক্ষেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধান চ্যালেঞ্জ—এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়, দিল্লিতে একজন সন্ত্রাসীকে সংযত করা। একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংযম দেখাচ্ছে এবং ভারত সরকারের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবিরবঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারতকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কখনো ডায়লগ ও ডিপ্লোমেসির দরজা বন্ধ করিনি। আমরা ডায়লগ ও ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে এগিয়ে যাব এবং সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না—জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এটা হবে।’ নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খবর নিতে হলে বাংলাদেশ থেকেই নিতে হবে। নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে জলবায়ু সম্মেলনে যেতে পারেন বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

banner close