দেশে চলমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়াচ্ছে না সরকার। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে মোট বরাদ্দ থাকছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় মাত্র দুই হাজার কোটি টাকা বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এই উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট বরাদ্দের বৈদেশিক ঋণ বা অনুদান লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ কোটি টাকা। তবে এবারও উন্নয়ন বাজেটে পরিবহন ও বিদ্যুৎখাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ দুই খাতে তুলনামূলকভাবে অর্থ বরাদ্দও থাকছে বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নে গত ১৪ মার্চ নির্দেশনা দেয় পরিকল্পনা কমিশন। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে এডিপির জন্য মোট দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪০২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রাথমিক চাহিদা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক লাখ ৮৫ হাজার ৩৯১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ-অনুদান ৯১ হাজার ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
পরে অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির আকার দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণপূর্বক কার্যক্রম বিভাগকে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বা ৬২ দশমিক ২৬ শতাংশ। উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক ঋণ-অনুদানের টার্গেট এক লাখ কোটি টাকা বা ৩৭ দশমিক ৭৪ শতংশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে এডিপিতে এক অর্থবছরের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়ছে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
সরকার নতুন উন্নয়ন বাজেটে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাত সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির আকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মূল এডিপি অপেক্ষা দুই হাজার কোটি টাকা বা দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি এবং সংশোধিত এডিপি অপেক্ষা ২০ হাজার কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ অবৈধ পথে লিবিয়ায় যাওয়ার পর প্রায় আট মাস ধরে তারা মানব পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা আদায়ে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে জনপ্রতি ২৭ লাখ টাকা দাবি করছে চক্রটি।
জিম্মি হওয়া তরুণরা হলেন খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুনুর রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।
শাহাদাত হোসেন খিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদের ভাগনে এবং মেহেদী হাসান তার শ্যালক। হারুনুর রশিদ জানান, প্রতিদিনই ছয় তরুণের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভিডিও করে তাদের স্বজনদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকের জন্য ২৭ লাখ টাকা দিলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যথায় হত্যা করে মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সপ্তাহখানেক আগে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর তারা পাননি।
পরিবারগুলোর ভাষ্য, কেউ আট মাস আগে, আবার কেউ ৯ মাস আগে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে তাদের ইতালিতে পাঠানোর কথা ছিল। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ২০ দিন আগে তাদের মাফিয়া চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দালালদের যোগসাজশেই এই ঘটনা ঘটেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখার পর সম্প্রতি ছয় তরুণকে আরেকটি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়। মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশে প্রতিদিন নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি পরিবারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। কখনো ভিডিও কল চালু রেখে স্বজনদের সামনে নির্যাতনের ঘটনাও দেখানো হচ্ছে।
হারুনুর রশিদ বলেন, ছয় পরিবারের কারোরই নতুন করে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই। আগেই ঋণ, ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে দালালদের টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন তারা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিক ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাই সামছুল আলমের মাধ্যমে প্রায় ৯ মাস আগে ২০ লাখ টাকা নেন। একই গ্রামের মানুষ হওয়ায় তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ছেলেকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ছেলের নির্যাতনের ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মানিক বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। দেশে তার হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন ভাই সামছুল আলম।
এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সামছুল আলমসহ অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম জানান, ১৮ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সব লেনদেন হয়েছিল সামছুল আলমের মাধ্যমে। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে পাঠানো ছেলেকে এভাবে নির্যাতিত হতে হবে, তা কখনো ভাবেননি।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে এ সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ২১ জুলাই তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে।
বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।
সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ, ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।
তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি জুলাই মাসে তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।
নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও কাতার একই কাতারে এসেছে।
বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।
যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচবক অনুসারে, বর্তমান অবস্থাানের জোরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত সুবিধা পাবেন ১৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এই দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং বিমানবন্দরে নেমেও কোনো ভিসার আবেদন করতে হবে না; সরাসরি পাসপোর্ট ও রিটার্ন টিকিট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে। এই দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো রুয়ান্ডা, বাহামা, বার্বাডোজ, জাম্বিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, কুক আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।
এছাড়া অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাবেন আরও ১৪টি দেশে। এই দেশগুলোতে পৌঁছানোর পর সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সীমান্ত ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে সরাসরি ভিসা সংগ্রহ করতে হয় (কিছু দেশ এর জন্য নির্দিষ্ট ফি নিয়ে থাকে)। দেশগুলো হলো—ভুটান, বুরুন্ডি, মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া, তিমুর-লেস্তে, কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, সিয়েরা লিওন, নিউই, সামোয়া ও টুভ্যালু।
এছাড়া ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধা পাওয়া যাবে শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস— এই চার দেশে। এ দেশগুলোতে যাওয়ার আগে অনলাইনে একটি ফ্রি বা স্বল্প খরচের ‘প্রাক-ভ্রমণ অনুমোদন’ বা ইটিএ ফরম পূরণ করে অনুমতি নিতে হয়। এটি কোনো প্রথাগত কনসুলার ভিসা নয়, তবে বোর্ডিংয়ের আগে এটি বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের পাসপোর্টের ২০ বছরের পশ্চাৎযাত্রা
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০০৬ সূচকে বাংলাদেশে পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৬৮তম। তারপর থেকে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে পেছাচ্ছে পাসপোর্টের মান। ২০১৫ সালে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৯৯তম। তবে এ সূচকের ইতিহাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় পৌঁছেছিল ২০২১ সালের জুলাইয়ে। সেবার পাসপোর্টের মান নেমে গিয়েছিল ১০৮তম অবস্থানে। তারপর থেকে অবশ্য উন্নতি হতে থাকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানের, তা খুব ধীর গতিতে।
২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে নেমে যায় ১০০তম অবস্থানে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাই সূচকে অন্যান্য দেশের অবস্থান
সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।
এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।
ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সূচকে বাংলাদেশের ঠিক পরেই অর্থাৎ ৯৮তম স্থানে রয়েছে নেপাল। নেপালের নাগরিকরা তাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন। অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।
আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নীরব প্রতিযোগিতার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কেবল প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা নয়, বরং ভূকৌশলগত সুবিধা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার দৃঢ় বার্তা দিল। দীর্ঘ এক দশকের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, প্রশাসনিক অচল অবস্থা ও জটিলতার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন—সিইআইজেড)। প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই মেগাপ্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নির্মাণ নয়; এটি চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্র বদলে দেওয়ার মতো এক মেগা ইভেন্ট।
বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান একে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মেরুকরণের এই যুগে আনোয়ারা ইকোনমিক জোনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বহুগুণ শক্ত করবে।
│
আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটিকে চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল (বঙ্গবন্ধু টানেল) এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রিপল-কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস আদান-প্রদান দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মেগাপ্রকল্প বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নিজেকে একটি "গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড লজিস্টিক হাব" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।২. বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) ও আঞ্চলিক প্রভাবপ্রকল্পটি চীন-বাংলাদেশ জি-টু-জি (G2G) কাঠামোর অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সরাসরি শিল্প বিনিয়োগ ঘনীভূত হবে, যা এশীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে (Asian Supply Chain) বাংলাদেশকে এক অপরিহার্য অংশীদার বানাবে।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং ২০১৬ সালের জমি অধিগ্রহণ সত্ত্বেও প্রকল্পটিতে বহু বছর ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছিল। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়ন বিলম্ব এবং উপযুক্ত ডেভেলপার নিয়োগের অভাবে এটি ঝুলে ছিল। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও বলিষ্ঠ কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই মেগাপ্রকল্পটি আজ আলোর মুখ দেখল।
দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই প্রকল্পটি পুনরায় গতি লাভ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর। চীনের বেইজিং এবং ডালিয়ানে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা প্রকল্পটির পথ সুগম করে। ওই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা স্থবির প্রকল্পে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বিশ্বখ্যাত চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেইজিংয়ের ৩০টিরও বেশি শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রাথমিক ধাপে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে।
প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর উপস্থিতিতে আনোয়ারার মাঠ পর্যায়ে কাজের শুভ সূচনা হয়। অর্থনৈতিক সংস্কার ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করায় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু একটি বিশেষ শিল্প প্রকল্প নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন বিশ্বদুয়ার উন্মোচন করবে।
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হকের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আয়কারী তৈরি পোশাক (RMG) খাতের কাঁচামাল, ফ্যাব্রিক্স ও অ্যাকসেসরিজের সিংহভাগ চীন থেকে আমদানি করতে হয়। আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা প্রযুক্তি ও কাঁচামাল সরাসরি উৎপাদিত হলে:আমদানি ব্যয় এবং ট্রানজিট সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার একটি দৃঢ় সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের এই নতুন অধ্যায় প্রমাণ করে যে—সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুসংগঠিত অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ভেঙে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০৩১ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হলে এটি শুধুই একটি শিল্পাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগ, আধুনিক শিল্প এবং লজিস্টিকসের অপরিহার্য আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বর্তমান প্রজন্ম সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নানা ধরনের সমস্যা থাকলেও থেমে থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম যে পেশায় নিজেদের গড়ে তুলতে চায়, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের শুধু নিজেদের দক্ষতা বাড়ালেই হবে না, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং দেশের সম্পদ সংরক্ষণেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারা দেশের ব্যাংকবহির্ভূত পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর জন্য প্রাথমিকভাবে যে অর্থের প্রয়োজন তা সরকার থেকে সরবরাহ করা হবে।
এরই মধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তার আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। শিগগিরই এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়ন করা হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
তথ্য মতে, এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এরই মধ্যে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রশাসক নিয়োগের পর শুরুতে ব্যক্তি আমানতকারীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। পরে অন্যদের ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক লিকুইডেশন বা অবসায়ন আইন অনুযায়ী যে গ্রাহক আগে টাকা পাওয়ার কথা, সে অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এর জন্য আগে পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
আমরা এরই মধ্যে সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, প্রথমে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিলেও অনুরোধের ভিত্তিতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে কিছুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। তারা উন্নতির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের উন্নতিতে সন্তুষ্ট হয় তাহলে তারা অবসায়ন বা বন্ধ হবে না। যদি তেমন কোনো উন্নতি না হয় তাহলে তারাও অবসায়নের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ছোট ছোট আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে সরকারের সম্মতি পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার পরও প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতভাগ ঋণই খেলাপি।
প্রতিষ্ঠান পাঁচটির মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম)। অন্য চারটির নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেলেঙ্কারির দায়ে বহুল আলোচিত ব্যক্তি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের। তাদের মেয়াদে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। সদ্যোবিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব প্রতিষ্ঠান সচল বা অবসায়ন করে আমানতকারীদের দুর্ভোগ লাঘবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাজটি তারা শেষ করে যেতে পারেনি। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারও অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি দলের একজন নেতা প্রিমিয়ার লিজিং সচল করার উদ্যোগ নেবেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছেন। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আপাতত অবসায়নের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ১২ জুন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ১২ বছর ধরে সমস্যা হচ্ছে। আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, ‘সবার আগে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা উচিত। যদি পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সব আমানতকারী টাকা ফেরত পান তাহলে ভালো। দেশের ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভালো। তবে ভবিষ্যতে এ রকম সিদ্ধান্ত বারবার নেওয়া ঠিক হবে না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ট্যাক্স পেয়াররা টাকা দিয়ে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা করে না। এখানে সুশাসন বাড়াতে হবে।’
শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু শেয়ার কিনলে বছর শেষে আপনি লাভ পান। সুতরাং কম্পানি লোকসান করলে সেটার ভাগও আপনাকে নিতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর লোকসানের দায়ভার সরকার নেয় না। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশাসনের অভাব। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা যে এত খারাপ, সেটা কেউ আগে বুঝতে পারেনি। প্রতিবছর অডিট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে। কম্পানিগুলো লভ্যাংশ দিয়েছে। তার কারণেই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছে। যেহেতু তখন বোঝার কোনো সুযোগ ছিল না, তাই সরকার এগিয়ে আসছে।
দেশের বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের (প্লাস্টিক কণা) উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্যসচিব, শিল্পসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।
গত রোববার পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে এক গবেষণার ফল প্রকাশ করে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট সংগ্রহ করে এ গবেষণা চালানো হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা দুটি নমুনার উভয়টিতে, থাইল্যান্ডের একটি ও ভারতের একটি নমুনায়ও এ কণার উপস্থিতি মিলেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এরপর ক্লোজআপ রেড হট, ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা, সিগন্যাল গ্রিন টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার ও সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কণা পাওয়া যায়। তবে আটটি নমুনায় কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার খাল খননের সাথে সাথে নদী দখল-দূষণ মুক্ত করতে কাজ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে নদী-খাল দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা পেতো।
সোমবার সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিস্তার সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘তিস্তা থেকে জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারে সেজন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার পূর্বে পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার পূর্বে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নেতারা নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষা এবং দখল-দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। মন্ত্রীদ্বয় বাপা নেতাদেরকে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। বাপা নেতাদের মধ্যে সভাপতি নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সহসভাপতি খুশী কবির, ড. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে দেশে অন্তত ৮৬ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে এবং ৩ জন শিশুর পরিচয় জানা যায়নি। শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’ এর অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে এই প্রতিবেদন পাঠায় সংগঠনটি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়সীমায় ৩৩৬ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ জন মেয়ে, ২৪ জন ছেলে এবং ১৮৫ জনের লিঙ্গ পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৫ সালে পুরো বছরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ৩০৮ জন শিশু।
এই প্রতিবেদনে মানুষের হাতে খুন হওয়া ও যেকোনো ধরনের নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশুদের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ সালে শিশু হত্যা বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে ৮৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ২০২৫ সালে পুরো বছরে মোট শিশুহত্যা হয়েছিল ১২৪ জন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৪ জন শিশুহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০২৫ সালে এই গড় ছিল ১১।
গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে মেয়ের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় বেশি। মোট ৮৬ জন নিহতের মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে এবং ৩৬ জন ছেলে, তবে ৩ জনের লিঙ্গ পরিচয় জানা যায়নি।
ভৌগোলিক অবস্থানের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গ্রামে, যেখানে মূলত রাগ/ক্রোধ, ধর্ষণ এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতন প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যায়। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে সংঘটিত শিশুহত্যার ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, স্বর্ণ লুট প্রধান কারণ।
বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিশুহত্যা হয় ঢাকায়, ২২ জন। এ ছাড়া সিলেট ও বরিশালে ৬ জন করে শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় যা বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। বয়সভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ০-৬ বছর বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি (৪৬ জন) হত্যার শিকার হয়।
অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুহত্যা এমন ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে যারা শিশুর পরিচিত ছিল। বাবা-মা, সৎ বাবা-মা, এবং নিকট আত্মীয়সহ পরিবারের বিভিন্ন সদস্য এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। মোট নিহতের ১৭ জন যা, প্রায় ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ হত্যাকাণ্ডে মা-বাবা ও ১১টিতে নিকট আত্মীয় জড়িত। প্রতিবেশী বা পরিচিতরা আরও ২৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত মানুষ জড়িত।
প্রতিবেদনে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ‘শিশুরাই সব’কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত, কার্যকর এবং শিশু-সংবেদনশীল করা, সরকারের দায়িত্ব শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া, শিশু নির্যাতন মামলাগুলো দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। একই সঙ্গে নির্যাতিত শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা, আইনি সেবা এবং পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ব্রিটিশ আমল থেকে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে চা-শিল্প। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি লাভ। বরং জ্বালানি, সার, কীটনাশক, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। ফলে উৎপাদন বাড়লেও দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্প এখন আর্থিক সংকটে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২ লাখ কেজি, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৬ সালে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বিপরীতে বাড়ছে খরচ। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬০ টাকা। বিপরীতে নিলামে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২০৮ টাকা ৮৮ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ১২ পয়সা। গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। একই সময়ে ২০০২ সালের পর চা রপ্তানি কমেছে ৭৯ শতাংশ
চা-বাগান মালিকদের দাবি, চা-শিল্পকে কৃষিখাতের পরিবর্তে শিল্প খাত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। অনেক বাগান আগের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় নতুন ঋণও পাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় তাদের মজুরি এখনো অপর্যাপ্ত।
চাতলাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, চা উৎপাদন বাড়লেও অধিকাংশ বাগানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ভালো মানের চা উৎপাদন করতে পারলে নিলামে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজড়া বলেন, বর্তমানে চা উৎপাদনের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। উৎপাদন বাড়ছে, তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংকট থেকে উত্তরণে সরকারি টাস্কফোর্স আটটি অগ্রাধিকার খাতে ৫৯টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চা-বাগানকে কৃষি খাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা, ৬ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ঋণ পুনর্গঠন, ভ্যাট কমানো, চা পুনরোপণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
চা-শিল্পের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার ‘টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চা পুনঃরোপণ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জাতীয় চা ব্র্যান্ড তৈরি, জিআই স্বীকৃতি অর্জন এবং পাকিস্তান, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা না গেলে চা-শিল্পের সংকট কাটবে না। টাস্কফোর্সের ৫৯টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের চা-শিল্প আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পানি সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চা-শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
ঢাকার আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাসচালক, হেলপার ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), হেলপার মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০) এবং চালকের পরিচিত মো. সুমন প্রামানিক (৩০)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী ও তার পরিচিত মো. রুবেল। পথিমধ্যে বাসের অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে চালক ইমরান হেলপার জনিকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন এবং জনি বাসটি দ্রুতগতিতে গাজীপুরের চন্দ্রার দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে রুবেলকে মারধর করে শ্রীপুর এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং বাসচালক ইমরানও সেখানে নেমে যান। এরপর রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
সংবাদ পাওয়ামাত্রই আশুলিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে নামে এবং রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি বাসের মাধ্যমে ব্যারিকেড দিয়ে সাভার পরিবহনের বাসটি গতিরোধ করে। সেখান থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি জনি ও সুমনকে আটক করা হয়। পরে গতকাল রোববার বিকেলে সাভারের বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত চালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের কয়েকটি দল অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং জনি ও সুমনকে আটক করে।’ তিনি আরও জানান, ‘পরে রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ওই নারী। মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকালই আদালতে পাঠানো হয়। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পরিপালনের অঙ্গীকারে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স ফিরিয়ে দিয়েছে সরকার। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মহসিন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষের করা আপিলের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় তিন শর্তে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হলো।
লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া প্রথম শর্তটি হলো, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস অর্ডিন্যান্স ১৯৮২-এর নির্দেশনা প্রতিপালন অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ডিউটি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুতি সম্পন্ন করতে হবে। এবং তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে একদিন থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে জনৈক হাবিবুর রহমান নামক এক অভিভাবক রমনা থানায় মামলা দায়ের করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে অবশ্য মৃত শিশুদের প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। তবে তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মেলায় সরকার তখন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, যা পুনরায় পরিদর্শনের পর বর্তমানে শর্তসাপেক্ষে শিথিল করা হলো।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়।" মন্ত্রী মনে করেন, পুঁজিপতিরা সবসময় তাদের জানমাল ও বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত আছে এমন স্থানেই লগ্নি করতে আগ্রহী হন।
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তিনি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে ন্যূনতম সংশয় থাকলে দেশি ও বিদেশি কোনো পক্ষই নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে না। এই সংকট নিরসনে সরকার সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও নাশকতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে এবং শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত না করার কঠোর বার্তা প্রদান করেছে।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিইআইজেডসহ দেশের সকল শিল্পাঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর বিশেষ নজরদারি বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সে বিষয়টি প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়াং, চীনা সড়ক ও সেতু করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন। অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
দেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৩০ জুলাইয়ের নির্ধারিত প্রতীকী ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা। তবে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা দাবিগুলো পূরণ করা না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার (২৭ জুলাই) বিজয়নগরে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
সংগঠনের নেতারা জানান, ২০১৫ সাল থেকে সিএনজি বিক্রির ওপর প্রতি ঘনমিটারে কমিশন মাত্র ৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ গত এক দশকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কয়েক দফা বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিক মজুরি, ব্যাংক ঋণের সুদ এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধিতে স্টেশন পরিচালনার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে মালিকপক্ষের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করা। অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ফারহান নূর আক্ষেপ করে বলেন, "সরকারের একাধিক পর্যালোচনায় এই দাবির যৌক্তিকতা উঠে আসলেও অদৃশ্য কারণে এর বাস্তবায়ন নেই। প্রয়োজনে ফিড গ্যাসের দাম কমিয়ে হলেও এই কমিশন সমন্বয়ের প্রস্তাব আমরা সরকারকে দিয়ে আসছি।"
সিএনজি ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রমাগত লোকসান গুনে বর্তমানে তাদের "দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে"। তবে সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সারাদেশে যে গ্যাস বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, সেই সংকটের সময় সরকারকে সহযোগিতা করতে তারা ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। তারা মনে করেন, এই মুহূর্তে স্টেশন বন্ধ রাখলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে। কিন্তু সংকটের এই মানবিক বিবেচনা যেন দুর্বলতা হিসেবে না দেখা হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন নেতারা।
আমিরুজ্জামান চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, “দাবি ও সমস্যাগুলোর যৌক্তিক ও ইতিবাচক সমাধান না হলে ২৩ আগস্ট থেকে সারা দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি বহাল থাকবে।” সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারি উৎসাহে দেশে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে পাঁচ শতাধিক সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ যানবাহনে এই সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে। বায়ুদূষণ রোধে এই খাতের বিশাল অবদান থাকলেও বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।