রোববার, ২৩ জুন ২০২৪

জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৪ ১৪:৩৮

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন সে দিকে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজকেও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অষ্টম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘নাগরিকদের প্রতি যে কোনো ধরনের বৈষম্য আইনের শাসনের পরিপন্থী। কাজেই কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং সর্বস্তরে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ঘাতক-দালালদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে বেড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘এই লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির ইস্পাত কঠিন ঐক্যের বিকল্প নেই। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থকে উপেক্ষা করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে কাজ করতে হবে।’

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করুন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ুন, বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও আদর্শ সম্পর্কে জানুন। মননে, বোধে, জীবনাচরণে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বুকে লালন করে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরুন। মুক্তিযুদ্ধের ২১ বছর পর ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে শুরু হয়ে এই আন্দোলনের প্রাজ্ঞ নেতৃবৃন্দ প্রায় ৩৩ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই, ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে এই সংগঠনকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছেন। কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই নয়, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই মহাসংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দীক্ষিত করার ক্ষেত্রেও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সহনশীল ও মানবিক সমাজ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আগামী দিনগুলোতেও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও ঘাতক-দালাল চক্র মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাসহ আমাদের সাফল্যকে ম্লান করে দিতে অবিরাম অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন হলেও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কাজ কখনও শেষ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভূমিকা অতীতের মতো ভবিষ্যতে উজ্জ্বলভাবে কার্যকর থাকবে।’

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও প্রশংসা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আর্থ-সামাজিক ও তথ্য-প্রযুক্তির নানা সূচকে বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করেছি আমরা। এই অগ্রযাত্রার পথে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল মৌলবাদ ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্ব এবং জঙ্গীবাদের প্রতি তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণেই জঙ্গীবাদ দমনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল।’

তিনি ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অষ্টম জাতীয় সম্মেলন-২০২৪ এর সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলিম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি মানবাধিকার নেতা নির্মল রোজারিও, আদিবাসী মুক্তি মোর্চার সভাপতি অধ্যাপক যোগেন্দ্রনাথ সরেন, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান সমাজকর্মী আনোয়ারা ইসলাম রাণী এবং অষ্টম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী মুকুল বক্তব্য রাখেন।


‘১৫ বছরে ১১ লাখ ১৪ হাজার নারীকর্মী বিদেশে গেছেন’  

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১ লাখ ১৪ হাজার ৩১২ জন নারীকর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্য সৌদি আরবে গেছেন সবচেয়ে বেশি নারীকর্মী।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। সরকারি দলের সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদেশে কর্মী প্রেরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার অধিকহারে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। বেসরকারি খাতকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণের অংশ হিসেবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির অনুকূলে লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। এজেন্সিগুলো জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটির) বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে কর্মী প্রেরণ করছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লি. (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিজি, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়মিতভাবে স্বল্প খরচ-বিনা খরচে কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছে।

শ্রমিক পরিবারের নিরাপত্তায় ১২ বছরে ১৪২ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান:

শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে কেউ কর্ম অক্ষম হলে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে শ্রমিক পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা গত ১২ বছরে ১৪১ কোটি ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৫ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম। সরকারি দলের সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডলের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অন্যতম কাজ হচ্ছে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সব সেক্টরের শ্রমিকের কল্যাণ ও সুরক্ষা প্রদান করা। এ লক্ষ্য অর্জনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকার পরিযায়ী শ্রমিকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক মৃত্যুবরণ করলে বা কোনো শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে কেউ কর্ম অক্ষম হলে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে শ্রমিক পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

রেমালে ৭৪৮২ কোটি টাকার ক্ষতি:

সরকারি দলের এস এম আতাউল হকের প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সারা দেশে টাকার অঙ্কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ হাজার ৪৮১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

একই দলের মাহবুব উর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালে মৃতের সংখ্যা ২০ জন। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ জন। দুর্যোগ মোকাবিলায় নগদ ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ১১ হাজার ৫০০ ব্যাগ শুকনো খাবার, ২ কোটি ৪৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য, ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য, ৩০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহমঞ্জুরি বাবদ ৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।


‘ঘূর্ণিঝড় রেমালে ৭ হাজার ৪৮২ কোটি টাকার ক্ষতি’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ১৯:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে সারা দেশের টাকার অঙ্কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ হাজার ৪৮১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

আজ রোববার সংসদে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এস এম আতাউল হকের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান জানান, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রিমাল বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে এর ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকায় মৃতের সংখ্যা ২০ জন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকা। মোট ক্ষতি ৭ হাজার ৪৮১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ কাজে নগদে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ত্রাণ কার্য (চাল) ৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, শুকনা ও অন্যান্য খাবার ১১ হাজার ৫০০ বস্তা-ব্যাগ, শিশু খাদ্য ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, গো-খাদ্য ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ঢেউটিন ৩০০ বান্ডিল, গৃহ মঞ্জুরি বাবদ নয় লাখ টাকা।

গত ২৬ মে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানে। এর প্রভাবে উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। যার ফলে এসব এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয় ও ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। এতে বেশকিছু রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


জনগণের আস্থা নিয়ে ৭৫ বছর আ. লীগ দেশসেবা করে যাচ্ছে: ফারুক খান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, ‘বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দল খুব কম আছে, যাদের জনগণের আস্থা নিয়ে ৭৫ বছর ধরে দেশ সেবা করার সৌভাগ্য হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আজ রোববার সাংবাদিকদের কাছে তিনি একথা বলেন।

ফারুক খান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত দল আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যকে পরিবর্তন করার লক্ষ্যে আমরা যে ৭৫ বছর অতিক্রম করেছি সেই বছরগুলো যেমন ছিল চ্যালেঞ্জিং, ঠিক তেমনি ভাবে ছিল আনন্দের। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের ভাষণে বলেছিলেন বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের উজ্জ্বল তারকা হবে, আশা করি, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সে অবস্থানে আছে। আর বাংলাদেশে যেন কোন দরিদ্র মানুষ না থাকে এটা আমরা দেখছি। আর সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সামনের দিনগুলোতে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। পরে তারা ফাতেহা পাঠ করেন এবং বঙ্গবন্ধুসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন ।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম শামসুন নাহার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু এমপি, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান, সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহাবুদ্দিন আজম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

‘র‍্যাবের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করতে চাই’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাবের প্রতি মানুষের যে আস্থা ও বিশ্বাস সেটা আরও বৃদ্ধি করতে চান বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) দশম মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ।

আজ রোববার র‍্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি পাঁচটি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব নিয়েই শুদ্ধাচার নীতির ব্যাপারে কঠোরতার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের প্রতিটি সদস্যকে সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চেইন অব কমান্ড অনুসরণ এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ হতে বিরত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো র‌্যাব সদস্য যদি আইন বহির্ভূত কাজ করেন বা অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব জঙ্গি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধী ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। র‌্যাব মাদকের বিরুদ্ধে জোরাল অবস্থান গ্রহণ করে আসছে। প্রতিষ্ঠা হতে র‌্যাব অদ্যাবধি প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজারের অধিক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার, প্রায় ৬ হাজার ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার অধিক মূল্যমানের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।’

‘এই বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে অসংখ্য তালিকাভুক্ত অপরাধী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী যারা দীর্ঘকাল আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল তারা ধরা পড়েছে। সুন্দরবন আজ দস্যুমুক্ত হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনে র‌্যাবের সাফল্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। চরমপন্থি ও জলদস্যু আত্মসমর্পণে এ বাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বিগত দিনগুলোতে উন্নত পেশাদারত্বের মাধ্যমে র‌্যাব ফোর্সেস তার সব কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছে। ৫ দফা কাজকে গুরুত্ব দিয়ে র‌্যাবের সব অধিনায়ককে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে’- বললেন র‌্যাব ডিজি।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, আজকে সিও (অধিনায়ক) পর্যায়ে কনফারেন্স ছিল। আমি তাদের পাঁচটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এলিট ফোর্স হিসেবে র‍্যাবকে উদ্ভাবনী হতে হবে। মানুষকে সেবা দেওয়া, অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জঙ্গি সন্ত্রাস দমন, মাদক উদ্ধারসহ অভিযানিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দিয়েছি। এ সময় তিনি কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্নীতির বিরুদ্ধে র‌্যাবের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বিষয়:

আ. লীগ ছেড়ে যাওয়া নেতারা আর জ্বলে উঠতে পারেননি: শেখ হাসিনা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আজ রোববার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাওয়ায় অনেক নেতা হারিয়ে গেছেন, তারা আর জ্বলে উঠতে পারেননি। সেই তারা নিভু নিভু হয়ে গেছেন। আজ রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যে দেওয়াকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাঙালির প্রতিটি অর্জনে এ দল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেই তো বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। যা আমরা প্রমাণ করেছি। ৭৫ আগস্টের পর বার বার ক্ষমতা বদল হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা বদল হয়েছে হয় অস্ত্রের মাধ্যমে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল না। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তনই তারা করতে পারিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেমন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তেমনি আমাদের দলের প্রতিটি পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির যতটুকু অর্জন সেটি আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই হয়েছে। বার বার এ দলের ওপরই আঘাত এসেছে। খণ্ড বিখণ্ড করার চেষ্টা হয়েছিলো। কিন্তু গণমানুষের দল বলেই বার বার জেগে উঠেছে এ দল। ঠিক ফিনিক্স পাখির মত। কারণ আওয়ামী লীগের শক্তি তৃণমূল। তারা কখনও পরাভোগ মানে না।

দল ছেড়ে যারা চলে গেছেন, তারা আর জ্বলে উঠতে পারেননি। সেই তারা নিভু নিভু হয়ে গেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বারবার আঘাত করেও আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেওয়া যায়নি। ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। কারণ আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের সাধারণ জনগণ। তৃণমূলের কর্মীরা, সৈনিকরা। তারা কখনও মাথানত করে না। বিভিন্ন সময় নেতারা অনেকে ভুল করেছেন। আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গেছেন। যেসব নেতা ভুল করেছেন, তারা বোঝেননি। চলে যাওয়ায় হারিয়ে গেছেন। হ্যাঁ, অনেকে ফিরে এসেছেন, আমরা গ্রহণ করেছি। আবার অনেকে এখনও সরকার পতনের আন্দোলন করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে। আজ বাংলাদেশের যত অর্জন, সেগুলো আওয়ামী লীগের দ্বারাই। কিন্তু বারবার এ আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগই গণমানুষের সংগঠন। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন। রাজনৈতিক দলের কাজ হলো দেশের মানুষের সেবা করা, মানুষের ভাগ্যন্নোয়ন করা। মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে কাজ করে যাওয়া। যা আমরা করে যাচ্ছি৷ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি ঘাতকের দল। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে৷

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হব। শক্তিশালী সংগঠন থাকলে, গণমানুষের সমর্থন থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছি বলেই বারবার সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে দেশের জনগণ। দেশের মানুষের আস্থা পূরণ করতে পেরেছি বলেই জনগণ ভোট দিয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারা আছে বলেই, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রতিজ্ঞায় আওয়ামী লীগের পাশেই থাকুন সবাই।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভায় যোগ দিতে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে যান তিনি। মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। সভাস্থ‌লের নেতাকর্মীরাও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছার জবাব দেন।

আলোচনা সভার আগে শেখ হাসিনা প্রথমে পায়রা উড়িয়ে দেন। এরপর বেলুন ওড়ানোর পর পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর আসেন আলোচনা সভাস্থলে।


ঢামেকে ২ কারাবন্দির মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মারা যাওয়া কয়েদিরা হলেন শাহ আলম হাওলাদার (৬০) ও হাজতি মো. হান্নান (৪০)। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় আজ রোববার পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

কারা সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়, বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার বিবি চিনি মৃত এছহাক হাওলাদারের ছেলে শাহ আলম। তার বন্দি নম্বর (কয়েদি -৪৯৯৩/এ)। তিনি চেক জালিয়াতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। বন্দি অবস্থায় তিনি প্রথমে বরগুনা কারাগারে ছিলেন। পরে সেখান থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে অসুস্থতার কারণে গত ১০ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) হয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেডিসিন বিভাগে আজ সকাল ৭টায় তিনি মারা যান।

অন্যদিকে মাদক মামলায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন মো. হান্নান। অসুস্থতার কারণে ওই দিনই তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার (২২ জুন) রাত ৮টা ২৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ১০ মিনিটে মেডিসিন বিভাগে মারা যান। তার বন্দি নম্বর (হাজতি নম্বর- ২৪৪৯৮/২৪)। কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি উপজেলার মৃত সামসু মিয়ার ছেলে হান্নান। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া।


বাঙালির প্রতিটি অর্জনে আওয়ামী লীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত: শেখ হাসিনা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আজ রোববার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাঙালির প্রতিটি অর্জনে এ দল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেই তো বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। যা আমরা প্রমাণ করেছি।’

আজ রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাঙালির প্রতিটি অর্জনের এ দল ওতপ্রোতভাবে জড়িত-এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেই তো বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। যা আমরা প্রমাণ করেছি। ৭৫ আগস্টের পর বার বার ক্ষমতা বদল হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা বদল হয়েছে হয় অস্ত্রের মাধ্যমে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল না। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তনই তারা করতে পারিনি।’

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগ দিতে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে যান তিনি। মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। সভাস্থ‌লের নেতাকর্মীরাও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছার জবাব দেন। আলোচনা সভার আগে শেখ হাসিনা প্রথমে পায়রা উড়িয়ে দেন। এরপর বেলুন ওড়ানোর পর পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর আসেন আলোচনা সভাস্থলে।

এদিকে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন সংগঠনটির হাজার হাজার নেতাকর্মী। এরইমধ্যে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

দুপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে দেখা যায়, ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা বাসে চড়ে ঢাকঢোল, ব্যান্ড বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাস করতে করতে মিছিল নিয়ে জড়ো হন।

এর আগে সূর্যোদয়ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। এ ছাড়াও সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধা নিবেদন করে।


‘শাহীনকে ফেরাতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বন্দিবিনিময় চুক্তির সুযোগ নেওয়া হবে’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আখতারুজ্জামান শাহীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বন্দিবিনিময় চুক্তির সুযোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টুরোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। ডিএমপি ডিবিপ্রধান আরও জানান, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে গ্রেপ্তারে কোনো চাপে নেই।

শাহীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি কী জানতে চাইলে ডিএমপি ডিবিপ্রধান বলেন, ‘মামলার তদন্ত কাজ অনেকটা কনক্লুসিভ পর্যায়ে, আমরা অনেককে গ্রেপ্তার করেছি। কিছু কিছু নাম আমরা পেয়েছি তাদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছি। এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড শাহিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের একটা বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে সেহেতু আমরা ভারতীয় পুলিশকে বলেছি যেন তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আমরা টিম নিয়ে গিয়ে কথা বলেছি।

এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখার মাধ্যমে আমরা ইন্টারপোলকে চিঠি দিয়েছি। শাহীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সকলেই কাজ করছি। আরও এক দুজন আসামি বাকি রয়েছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করছি। যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করা যায়।’

আদালতে স্বীকারোক্তিতে গ্যাস বাবু বলেছিলেন ‘ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু তার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে কোথাও ছুড়ে ফেলেছে’ এই মোবাইলগুলো উদ্ধারে ডিবি পুলিশ কোন তৎপরতা চালাচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘আলামত নষ্ট করার তথ্য আমরাও জিজ্ঞাসাবাদে পেয়েছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা আদালতে একটি চিঠি দিয়েছি। যেহেতু গ্যাস বাবুর মোবাইলে ডিজিটাল এভিডেন্স রয়েছে, যদিও দুই পক্ষের কাছে ডিজিটাল এভিডেন্স রয়েছে এর মধ্যে এক পক্ষের ডিজিটাল এভিডেন্স আমরা পেয়েছি। গ্যাস বাবুকে আমরা আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং মোবাইলগুলো কোথায় ফেলে দিয়েছেন সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করব।’

মিন্টুর রিমান্ড শেষ হওয়ার আগে তাকে কারাগারে কেন পাঠালো ডিবি এই বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন বলেন, এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা যখন কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন তার সেটিসফেকশনের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে আপাতত দৃষ্টিতে আর কিছু জানার নেই তিনি সকল কিছু জানতে পেরেছেন তখন তিনি আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জেল হাজতে পাঠাতে পারেন। তবে আবার যদি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন ওই আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন তখন তিনি জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাবেন।

মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে ডিবি কোনো চাপে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের টিপু হত্যা, কামরাঙ্গীচরের শিল্পপতি হত্যাকাণ্ড ও ফারদিন হত্যাকাণ্ডসহ অনেক হত্যাকাণ্ড কিন্তু ঢাকা শহরে ঘটেছে। ডিবির চৌকস টিম কিন্তু প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বের করেছে। এমপি আনার কলকাতায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ডের ক্লু বের করতে ডিবি পুলিশের দল রাত-দিন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের টিম নেপালে গিয়েছে এবং আমাদের তথ্যের ভিত্তিতে নেপালে সিয়াম গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ছাড়া কলকাতায় গিয়েও আমরা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি আলামত উদ্ধারে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল কিলার শিমুল ভুঁইয়াসহ আরও অনেককে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এরমধ্যে চারজন আসামি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা যদি চাপ অনুভব করতাম তাহলে আমাদের এত অ্যাচিভমেন্ট হত না এই মামলায়।’

তিনি যোগ করেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন কোনো চাপ নেই এই মামলার তদন্ত কাজে। তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন নিরপেক্ষভাবে মামলার তদন্ত করা হয় । ডিবি নিরপেক্ষভাবে এ মামলার তদন্ত কাজ করছে। এ মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না এবং কাউকে অযথা ডাকাডাকি করা হবে না। সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’

ডরিনের ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্য কলকাতায় যাওয়ার বিষয়ে হারুন বলেন, ভারতীয় পুলিশ দূতাবাসের মাধ্যমে ডরিনকে জানিয়েছে ভারতে যাওয়ার জন্য। ডরিনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, সে মনে হয় কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। স্বাস্থ্য ভালো হলে তিনি শীঘ্রই ভারতে যাবেন।

বিষয়:

বেনজীরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: দুদক সচিব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ নির্ধারিত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন।

আজ রোববার দুদক কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার জন্য আজ ২৩ জুন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তিনি যথাসময়ে উপস্থিত হবেন কি না, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানাননি বা অবগত করেননি। আজ অফিস সময়ের মধ্যে কমিশনে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য না দিলে অনুসন্ধান টিম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। আগামীকাল তার স্ত্রী ও কন্যাদের উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুসন্ধানকারী টিম নোটিশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারাও যদি উপস্থিত না হন তাহলে তাদের বিষয়েও অনুসন্ধান টিম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে অতিরিক্ত ১৬ দিন সময় দেওয়া হলেও তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি। এতে করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারালেন সাবেক এই আইজিপি।

রোববার (২৩ জুন) সকাল ১০টার মধ্যে দুদকের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার কথা ছিল বেনজীর আহমেদের। তবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তিনি দুদক কার্যালয়ে আসেননি। দুদক সূত্র জানায়, মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো নতুন কোনো আবেদনও করেননি বেনজীর আহমেদ। এতে করে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারিয়েছেন।

গত ৬ জুন বেনজীর আহমেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩ জুন সকালে তাকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

দুদকের এক নোটিশে বলা হয়, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি অনুসন্ধানকারী দল অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেনজীর আহেমেদের ব্যক্তিগত শুনানির জন্য ৬ জুন নির্ধারিত ছিল। তিনি শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অনুসন্ধানকারী দল বেনজীর আহেমেদের ব্যক্তিগত শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ ২৩ জুন ধার্য করে নোটিস ইস্যু করে।

এর আগে ৫ জুন দুদক কমিশনার জহুরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমি সঠিকভাবে জানি না। তবে, শুনতে পেরেছি, তিনি (বেনজীর) সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। যদিও এটা অনুসন্ধান টিমের বিষয়, এটা তাদের বিষয়, তারা ভালো জানবে। কারণ বিষয়টি কমিশন পর্যন্ত আসে না।

দুদক কমিশনার আরও বলেন, আইনে সুযোগ আছে সময় চাওয়ার। সময় চাইলে দুদক ১৫ দিন সময় দিতে পারবে।

গত ২২ এপ্রিল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিসান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাশিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান টিম অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন—সহকারী পরিচালক নিয়ামুল আহসান গাজী ও জয়নাল আবেদীন।

গত ৩১ মার্চ ‘বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ’ এবং ৩ এপ্রিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে সাবেক আইজিপি বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

তবে মে মাসের শুরুতেই বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়:

পুলিশ বাহিনীতে ৪০ জনের বড় রদবদল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ বাহিনীর ৪০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি), সাতজন উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি), ১৭ জন অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) এবং ১৫ জন পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন।

আজ রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব সিরাজাম মুনিরা স্বাক্ষরিত আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজি কৃষ্ণপদ রায়কে অতিরিক্ত আইজি (সুপারনিউমারারি) পুলিশ অধিদপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. ইলিয়াছ শরীফকে উপপুলিশ মহাপরিদর্শক বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন করা হয়েছে।

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রান্সজিটের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. সাইফুলককে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) মো. নিশারুল আরিফকে পুলিশ অধিদপ্তরের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মহা. আশরাফুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকীকে পুলিশ অধিদপ্তরের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক পদে বদলি করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মাজবুবুর রহমানকে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, মেট্রোরেলের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক এস. এম মোস্তাক আহমেদ খানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. জামিল হাসানকে হাইওয়ে পুলিশের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপপুলিশ পরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলামকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও প্রজ্ঞাপনে এসপি সমমর্যাদার ১৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন নতুন জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অপর একজন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর মধ্যে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার পদ থেকে মো. শাহজাহানকে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার। মুহাম্মদ আলমগীর হোসেনকে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার। মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার। মো. আ. আহাদকে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানকে বদলি করা হয়েছে সিলেট জেলায়। পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারকে মো. সাইদুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে কুমিল্লা জেলায়। বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুস ছালামকে বদলি করা হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলমকে বদলি করা হয়েছে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার পদে। ফেনী জেলা পুলিশ সুপার জাকির হাসানকে বদলি করা হয়েছে বগুড়া জেলায়। নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মো. গোলাম সবুরকে বদলি করা হয়েছে টাঙ্গাইল জেলায়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পুলিশ সুপার মো. মোকবুল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে নীলফামারী জেলায়। মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে বদলি করা হয়েছে যশোর জেলায়। বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমানকে বদলি করা হয়েছে মাদারীপুর জেলায়। আর পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদকে বদলি করা হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়।

সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পদায়ন করে আনা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে।

বিষয়:

আ.লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ মঞ্চে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ১৮:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ‘প্লাটিনাম জুবিলি'র আলোচনা সভায় যোগ দি‌য়ে‌ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা।

আজ রোববার (২৩ জুন) বি‌কেল ৩টা ৪২ মিনিটের দিকে ‘গৌরবময় পথ চলার ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ, সংগ্রাম, সংকল্প, সততা, শপ‌থে জনগ‌ণের সা‌থে’ শীর্ষক আ‌লোচনা সভার মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন তিনি।

মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। সভাস্থ‌লের নেতাকর্মীরাও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছার জবাব দেন।

কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হ‌চ্ছে।

মঞ্চে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সিমিন হোসেন রুমি, এ এইচ এম খায়রুজাজামান লিটন, সৈয়দা জেবু‌ন্নেছা হক র‌য়ে‌ছেন।


সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

আজ রোববার (২৩ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

এর আগে গত (১১ জুন) আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী ২৩ জুন অপরাহ্ণ থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)-কে জেনারেল পদবিতে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক ওই তারিখ অপরাহ্ণ থেকে ৩ বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ১৯৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে ১৩তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। সামরিক জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন কোর্সে ভালো ফলাফলের ক্রমধারায় তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজ, মিরপুর থেকে সাফল্যের সঙ্গে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, যুক্তরাজ্য থেকেও গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স অব ডিফেন্স স্টাডিজ (এমডিএস) সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাজ্যস্থ কিংস কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে মাস্টার্স অব আর্টস ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার সুদীর্ঘ ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষকের অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। তিনি ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালে ৮ জুন পর্যন্ত ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহ দমনে নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন।

তিনি ২০১১ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বছরেরও বেশি সময় ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিওসি হিসেবে ২০১৪ সালের ২ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন বছর নবম পদাতিক ডিভিশন কমান্ড করেন। এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়া ও জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) নবম পদাতিক ডিভিশন হিসেবে তিনি টানা তিন বছর সফলভাবে বিজয় দিবস প্যারেড ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ এর প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। এই বিরল কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সেনাগৌরব পদক’ (এসজিপি) এ ভূষিত হন।

স্টাফ হিসেবে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত একটি ব্রিগেড, স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস (এসআইএন্ডটি) এবং সেনাসদরে বিভিন্ন পদবি ও নিয়োগে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে জেসিও এনসিও অ্যাকাডেমি (জেএনএ), স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস সাপোর্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিপসট) এ সুনামের সঙ্গে সব পদবির দেশি-বিদেশি সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন।

সেনাসদর সামরিক সচিবের শাখায় তিনি সহকারী সামরিক সচিব, উপ-সামরিক সচিব এবং সামরিক সচিব (এমএস) হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দীর্ঘদিন কর্তব্যরত ছিলেন। সেনাসদর, জিএস শাখার চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও-এএফডি) হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে কর্মরত ছিলেন।


‘ভারত সফরে যৌথ নদীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে রোববার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের যৌথ নদীর কীভাবে একটি অভিন্ন ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সফরটি চমৎকার, ফলপ্রসূ ও আন্তরিকতাপূর্ণ ছিল। ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করবেন। যে কারণে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। আমি এতটুকু বলতে চাই, সেখানে তিস্তা কিংবা যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি যৌথ নদী রয়েছে। সেই নদীর যদি একটি অভিন্ন ব্যবস্থাপনা করতে পারি, তাহলে তা দুটি দেশকেই উপকৃত করবে। সে নিয়ে আমরা আলোচনা উপস্থাপন করেছি। তিস্তা নিয়ে চীনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে আমরা ভারত সরকারের সহায়তা চেয়েছি। তখন চীনা প্রসঙ্গ এসেছে। সেখানে জাতিগত যে সংঘাত চলছে, তাতে চীনের ভূমিকা নিয়ে কথা হয়েছে। অন্য কোনো কিছুতে চীনা প্রসঙ্গ আসেনি।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ই-ভিসা চালু করার বিষয়টি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন। বিশেষ করে মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে, অন্যান্য ভিসাও যাতে সহজিকরণ হয়, সে বিষয়ে একটি প্যাকেজ নিয়ে এগোচ্ছেন তারা। তবে কখন সেটা বাস্তবায়ন করা হবে, আমি সেই বিষয়ের কোনো কর্তৃপক্ষ না। সেটা তাদের দূতাবাস বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।’

তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে ভারতের কারিগর দল আসবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। সেটা নিয়ে তাদের কারিগরি দল আসতেই হবে। আর কারিগরি দল আসা খুবই ইতিবাচক।’

আরও এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবে আমি মূলত হজ করতে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমাকে রয়েল প্রটোকল দেয়া হয়েছিল, যাদের এই প্রটোকল দেয়া হয়েছিল, তাদের সবাইকে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। তিনি তাদের সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আমি তাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি বলেছেন ‘ইনশাআল্লাহ’। হজ পালন করতে গিয়েছি বলে অন্য কোনো আলোচনা হয়নি।’

এ সময়ে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হয়। এটা নিশ্চয়ই অপ্রাপ্তির একটি অংশ। এখনো বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাই, মাঝে মাঝে স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ফনা তুলে দাঁড়ায়। এটিও আমাদের জন্য অপ্রাপ্তির একটি অংশ। দেশ আরও এগিয়ে যেতে পারত, যদি সাংঘর্ষিক রাজনীতি না থাকত।’


banner close