ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগরের নিউটাউন এলাকায় খুন হওয়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকাণ্ড দুই রাষ্ট্রের (বাংলাদেশ-ভারত) বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা বলেন।
এমপি হত্যার ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে কোনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুতরাং এটি দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক, মর্মান্তিক এবং অনভিপ্রেত। যেই ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছিল, কলকাতা পুলিশ সেখানে ঢুকেছে কিন্তু তারা কোনো মরদেহ পাননি। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এটি নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে সেটি নিয়ে বিস্তারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মিশনের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজ রাখছি। মিশন কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যোগাযোগ রাখছে। বিষয়টা তো তদন্তাধীন। তাই এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।’
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে র্যাবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জার্মানভিত্তিক সংবাদসংস্থা ডয়েচেভেলের প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পুরোটা না দেখে আমি এটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাই না। প্রথম আমাকে পুরোটা দেখতে হবে। এরপর মন্তব্য করা যাবে।’
সরকার সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে বলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনার (জেনারেল আজিজ) উপর যে আইনের মাধ্যমে বা যে কারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেটি তো দুর্নীতির কারণে। এটি পার্সোনাল দায়, ইনস্টিটিউশনাল কোনো বিষয় নয়।’
রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার সড়কে কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই দুই কর্মকর্তা হলেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চালকের আসনে বসে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বের হন। গুলশানের বাসভবন থেকে শুরু করে তিনি রামপুরা, মালিবাগ ও বাসাবো হয়ে কমলাপুর এলাকার দিকে এগিয়ে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাই খাল ও নারিন্দা হয়ে বংশাল, গুলিস্তান, শাহবাগ ও নিউ মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সেখান থেকে তিনি জিগাতলা, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে বেরিয়েছিলেন। পরিদর্শনকালে বেশ কিছু স্থানে বর্জ্য পরিষ্কার না হওয়ায় তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় রাস্তায় ময়লার স্তূপ দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতির দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের বিষয়ে তথ্য দিয়ে জানান যে, ঢাকা পরিভ্রমণের সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ অ্যাডভোকেট মেহেদুল ইসলাম।
পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকার পশুবর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে রাজপথে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে মহানগরের বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ও ভালোভাবে হচ্ছে কি না, তা দেখতেই মূলত প্রধানমন্ত্রী আজ রাস্তায় বেরিয়েছেন। তিনি নিজেই নিজের গাড়ি ড্রাইভ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছেন।’
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ নাগরিকের মতো প্রচলিত ট্রাফিক আইন ও সংকেত মেনে গাড়ি চালিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরের পথপরিক্রমা ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর গাড়িটি গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগের আবুল হোটেল এবং তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবো ও কমলাপুর এলাকা অতিক্রম করে। এরপর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, শহীদ ফারুক সড়ক ও দয়াগঞ্জ হয়ে তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দা ও রায়সাহেব বাজার এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
সেখান থেকে আদালত সড়ক, নয়াবাজার ও বংশাল হয়ে তাঁর গাড়িটি গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে নিউ মার্কেট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে অগ্রসর হয়। যাত্রাপথে তিনি কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার ও জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড ও ২৭ নম্বর সড়কের বর্জ্য অপসারণের কাজও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি দিয়ে মহাখালী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের তদারকি করতেই তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এম. মুনির-উজ-জামান, ১৯৫৮ ব্যাচের প্রাক্তন সিএসপি এবং বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত, গতকাল ১০ই জিলহজ, ২৮শে মে, দুপুর ২:০০ ঘটিকায় বার্ধক্যজনিত জটিলতায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
তাঁর দুঃখজনক মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, কৃতি গুণী শীর্ষ আমলা, কূটনীতিক এবং মাটির এক যোগ্য সন্তানকে হারালো। দেশের আমলাতন্ত্র তাঁর জীবনব্যাপী অবদানকে সর্বদা স্মরণ করবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আপসহীন অবদানের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ ব্যাচের একজন গর্বিত বাঙালি হিসেবে পাকিস্তানের তৎকালীন অভিজাত সিভিল সার্ভিসে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেন। স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশে তিনি কিশোরগঞ্জের এসডিও, কুমিল্লার এডিসি, বগুড়ার ডিসি, পাকিস্তান সরকারের বৈদেশিক অর্থ বিভাগের উপ-সচিব, ইপিএসসিআইসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশে তিনি শীর্ষ পর্যায়ে উন্নীত হয়ে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক সম্পদ বিভাগ (বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সহ অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, তিনি সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হোয়াইট পেপার সেলের প্রধান পরামর্শক এবং সবশেষে পূর্ণ অবসরে যাওয়ার আগে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মরহুম এম. তোফাজ্জল হোসেন এবং যশোরের চৌগাছার কলকাতায় শিক্ষিত এক প্রখ্যাত জমিদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র, পাঁচ নাতি-নাতনি এবং পাঁচ প্রপৌত্র -প্রপৌত্রী রেখে গেছেন।
তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার, ২৯শে মে, বাদ জুম্মা গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা কেবল প্রথম দিনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পশু কোরবানি। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর, বাংলামোটর ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পরিবার আজ ত্যাগের এই মহান ইবাদতে শরিক হচ্ছেন। ভোর থেকেই পাড়া-মহল্লার নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং মাংস প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। যদিও প্রথম দিনের তুলনায় আজ পশু কোরবানির সংখ্যা অনেক কম, তবুও উৎসবের আমেজ এখনো বজায় রয়েছে।
ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ ঈদের দিন ছাড়াও ১১ এবং ১২ তারিখেও পশু কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। এই বিধানকে কেন্দ্র করেই মূলত অনেকে দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিয়ে থাকেন। আজ যারা পশু জবাই করছেন, তাদের একটি বড় অংশই কসাই সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঈদের প্রথম দিন কসাইদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং অতিরিক্ত মজুরি দাবির কারণে অনেক সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনা এড়াতে এক দিন পিছিয়ে আজ কোরবানি সম্পন্ন করছেন।
মিরপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ঈদের দিন কসাই পাওয়া যেমন দুষ্কর ছিল, তেমনি যারা আসতে চেয়েছিলেন তারা সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পারিশ্রমিক দাবি করেছিলেন। তাই ঝক্কি এড়াতে তিনি আজ দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া অনেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি যারা একাধিক পশু কোরবানি করেন, তারা প্রথম দিনে বড় পশুর কাজ শেষ করে আজ বাকি কোরবানি সম্পন্ন করছেন। আবার অনেক পরিবারে বংশপরম্পরায় দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার একটি পারিবারিক ঐতিহ্যও লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে মাংস কাটার সরঞ্জাম নিয়ে কসাই ও মৌসুমি শ্রমিকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। প্রথম দিনের চেয়ে আজ চাপ কম থাকায় তারা বেশ শান্তিতে কাজ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। তবে মাংস প্রস্তুতের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন, যাতে কোরবানির পরবর্তী পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ত্যাগের এই মহিমা ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। কেবল শহর নয়, গ্রামগঞ্জেও আজ উৎসবমুখর পরিবেশে পশু কোরবানি হচ্ছে। যারা আজ কোরবানি দিচ্ছেন, তারা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ধর্মীয় বিধানের এই নমনীয়তা সাধারণ মানুষকে একদিকে যেমন ইবাদত পালনে সহজতর সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি মাংস সংরক্ষণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রেও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। আগামীকাল শনিবারও কিছু স্থানে পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শেষে উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মূলত পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যারা বিশেষ কারণে ঈদের আগে ঢাকা ছাড়তে পারেননি, তারা এখন শেষ মুহূর্তে নিজ গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীর মতো প্রধান টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের এই আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত কর্মব্যস্ততা এবং ছুটির সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ ঈদের আগে ঢাকা ছাড়তে পারেননি। বিশেষ করে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ঈদের প্রথম দিনটি কর্মস্থলে কাটিয়ে এখন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। তাদের মতে, ঈদের আগে অতিরিক্ত ভিড় ও যাতায়াতের ঝক্কি এড়াতেই অনেকে পরিকল্পিতভাবে উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজকের এই বিলম্বিত ঈদযাত্রায় যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের বিশেষ স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে এবং মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকায় কোনো দীর্ঘ যানজটের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে না। যাত্রীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় জটলায় আটকে থাকার ভয় না থাকায় তারা বেশ আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারছেন। এছাড়া অনেক পরিবার ঈদের প্রথম দিনটি রাজধানীতে নিজেদের মধ্যে সময় কাটিয়ে এখন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।
পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত বাস টার্মিনালগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মোড় থেকেও অনেক যাত্রী বাসে উঠছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য আগের মতো দীর্ঘ লাইন না থাকলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল সন্তোষজনক। বাসগুলোও মোটামুটি সময়মতো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। যানজটমুক্ত মহাসড়ক এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবারের দ্বিতীয় দিনের যাত্রা বেশ নির্বিঘ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন যাত্রী ও চালক উভয় পক্ষই।
সামগ্রিকভাবে, কোনো বড় ধরনের জটলা বা বিড়ম্বনা ছাড়াই ঘরমুখো মানুষ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যারা আজ ঢাকা ছাড়ছেন, তারা আশা করছেন অন্তত ঈদের ছুটির বাকি সময়টুকু স্বজনদের সঙ্গে আনন্দময় পরিবেশে কাটাতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখনো বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা এই শেষ মুহূর্তের যাত্রীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার খুশির দিনে দেশের আটটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া নাটোরে চারজন, চট্টগ্রামে তিনজন, দিনাজপুর ও পটুয়াখালীতে দুজন করে এবং টাঙ্গাইল, চাঁদপুর ও ময়মনসিংহে একজন করে নিহতের সংবাদ পাওয়া গেছে।
গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বাসের ভাঙা কাঁচ চারদিকে ছড়িয়ে আছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ঢাকা থেকে পিরোজপুর অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু এবং একই পরিবারের দুজন মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ চালায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। বেপরোয়া গতি ও চালকের অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
দিনাজপুরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত চারজনের মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া পটুয়াখালীতে দুজন এবং ময়মনসিংহে আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
ইরাকে যুদ্ধকালীন সময়ে নিক্ষিপ্ত একটি মিসাইলের আঘাতে নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ইসলাম ওবায়েদ। ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিহতের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছালে প্রতিমন্ত্রী তাঁর প্রতি গভীর শোক ও সম্মান জ্ঞাপন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি, দাফন-কাফনের আনুমানিক ব্যয় নির্বাহের জন্য নিহতের স্বজনদের হাতে ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও তুলে দেওয়া হয়।
নিহত মোহাম্মদ শ্রাবন মুন্সিগঞ্জ জেলার মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের মোহাম্মদ নলি মিয়ার সন্তান। প্রায় ১০ বছর পূর্বে জীবিকার সন্ধানে তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত মিসাইল হামলায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই অকাল মৃত্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহতের মরদেহ দেশে আনা হয়। গত ২৭ মে বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট TK0843-এর মাধ্যমে মরদেহটি পাঠানো হয়েছিল। তুরস্কে দীর্ঘ ট্রানজিট শেষে শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছায় এটি। গত ২৫ মে বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পারভেজ আলম চৌধুরী দাপ্তরিকভাবে মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া দপ্তরের এক বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আজ দুপুরের মধ্যে আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
২৯ মে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ের জন্য দেওয়া এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারা দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। তাপমাত্রার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে সারা দেশে দিনের বেলা তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের দিকে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন রাজধানীর মিরপুরস্থ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডে মহিষটিকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরপরই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাট জনসমক্ষে এসেছে। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থাপিত তথ্য বোর্ডে মহিষটির ইংরেজি নামের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে একটি অদ্ভুত ও হাস্যকর বানান ভুল ধরা পড়েছে। পরিচিতি ফলকে ‘ট্রাম্প’ বানানে ‘ট্র’ যুক্তবর্ণের পরিবর্তে টাইপিং ত্রুটির কারণে ‘ট্ট’ ব্যবহার করায় নামটি ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা পুরো নামের অর্থ ও উচ্চারণগত বিকৃতি ঘটিয়েছে।
বিষয়টি চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর মুহূর্তেই তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে হাস্যরসের খোরাক জোগায়। তথ্য বোর্ডের এই ভুল নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা রসাত্মক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে যেমন উপহাস করে বলছেন, ‘কোরবানি থেকে বাঁচলেও ট্রাম্পের নামের সম্মান বাঁচল না!’, তেমনি অনেকে বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল গোলাপি-সাদা বর্ণের অ্যালবিনো মহিষটির মাথায় সোনালি রঙের চুল এবং চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা শখ করে এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামানুসারে। এমনকি এই মহিষটির শারীরিক গঠন ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জনৈক মার্কিন নির্মাতা একে ‘হ্যান্ডসাম বিস্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
প্রাথমিকভাবে মহিষটি কোরবানির উদ্দেশ্যে বিক্রয় হলেও সেটিকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক মানুষের অত্যধিক ভিড় এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় সরকারের উচ্চপর্যায় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাণীটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ক্রেতাকে তাঁর প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মহিষটি সুস্থ থাকলেও এর পরিচিতি ফলকের ভুল বানানটিই এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোয় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উক্ত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানানোয় আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সদ্ভাবের ভিত্তির ওপর বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো একটি বিশেষ পত্রে নরেন্দ্র মোদি দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে জনকল্যাণমুখী ও বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, উভয় দেশের আত্মত্যাগ, গভীর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান অংশীদারত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, দুই দেশের সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা এবং যৌথ দূরদৃষ্টি আগামী দিনেও উভয় দেশের জনগণের প্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনমুখী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করতে তাঁর সরকার বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন। এছাড়া নরেন্দ্র মোদি ঈদ উৎসবের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে, এই পবিত্র উৎসব ভারতের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ভারতের কোটি কোটি মুসলিম নাগরিক অত্যন্ত উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করছেন।
ঈদুল আজহার অন্তর্নিহিত মহিমা বর্ণনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের শাশ্বত আদর্শকে সমুন্নত রাখাই এই উৎসবের মূল বাণী। একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব বিনির্মাণের জন্য এই মানবিক মূল্যবোধগুলো অত্যন্ত অপরিহার্য। বার্তার শেষাংশে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের নিরবচ্ছিন্ন শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় লবণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়াও মন্ত্রী জানিয়েছেন, কোরবানির মৌসুমে চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাভারের আমিন বাজার এলাকায় চামড়ার আড়তসমূহ পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিকট তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় চামড়ার মূল্য নির্ধারণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চামড়ার যে মূল্যটা আমরা নির্ধারণ করেছি। সেই মূল্যটা নির্ধারণের প্রক্রিয়ার সময় স্টেক ফোল্ডারদের সাথে যুক্ত করেছি। আমরা যেদিন, চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করি সেদিন চামড়ার সংশ্লিষ্ট সমস্ত ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন। চামড়ার যে মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি লবণ মাখানো চামড়ার মূল্য। কোরবানির পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি চামড়াতে লবণ মাখানো না হয় তবে চামড়া আস্তে আস্তে নষ্ট হতে শুরু করে। আজকের তাপমাত্রা ভালো থাকায় এখনো সময় আছে চামড়াতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার।’
সারাদেশের চামড়া সংগ্রহের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিটি জেলার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। নানা প্রকার লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সারাদেশে চামড়া সংরক্ষণের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। পশু কোরবানি থেকে শুরু করে ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় এবার অধিক পরিমাণে চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া চামড়া শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য একটি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
দেশের রপ্তানি খাতে চামড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে কোরবানির পশুর চামড়া আমরা শতভাগ যাতে সংরক্ষণ করতে পারি। আমরা রপ্তানি খাতে ব্যবহার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি। সেজন্য সাভারের সিইটিপি সমস্যাসহ যে সব ট্যানারি হাজারীবাগে স্থানান্তরিত হতে গিয়ে রুগ্ন অবস্থায় পড়েছে অথবা আজও ব্যবসা শুরু করতে পারেনি। এদের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় পৌঁছে চামড়াখাতকে পুরোপুরি একটি বিকশিত খাতে পরিণত করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস আজকে যেটি এক বিলিয়ন রপ্তানি খাত সেটিকে ১০-১২ বিলিয়ন রপ্তানিখাতে রূপান্তরিত করা সম্ভব।’
চামড়া পাচার রোধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, যেসব স্থানে চামড়া সংগ্রহ ও জড়ো করা হয় সেখানে সরকারের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসক ও বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা ও জেলা শহরগুলোতে একাধিক টিম সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি জানান। পাচারের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া পাচার হওয়ার কোনো বিষয় নেই। কিন্তু চামড়া অক্ষত রেখে সময়মতো লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করে সময় মত যাতে রপ্তানি করতে পারি সেই উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করছি।’ উক্ত পরিদর্শনকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭৭ জন, যাদের মধ্যে ৫১ জনের শরীরে এই রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত বিগত দুই মাসে দেশে হাম ও এর আনুষঙ্গিক উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৭৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর মধ্যে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার কারণে। এছাড়া একই সময়কালে পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৮৫ জনের দেহে এবং আরও ৬৭ হাজার ৯০৫ জন অসুস্থতার বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভৌগোলিক বিচারে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত ২৪১টি শিশু মারা গেছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ২৩৭ জনে। গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ২৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার, জেসিও ও সৈনিকদের সঙ্গে ঈদ প্রীতিভোজে অংশ নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনা সদস্যদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় রাষ্ট্রের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
অনুষ্ঠানস্থলে আগমন করলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান এবং ২৫ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনা সদস্যদের উদ্দেশে এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, বহু বছর পর নিজের পুরনো ও স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাস এলাকায় এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগতাড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, সেনানিবাসের এই পরিবেশ, শৃঙ্খলা, সহযোদ্ধাসুলভ বন্ধন এবং সেনাসদস্যদের আন্তরিকতা তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত পেশাদার মান, দায়িত্ববোধ এবং দুর্যোগ মোকাবেলাসহ দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য তাকে গভীরভাবে গর্বিত করে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় রাষ্ট্রের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। জাতীয় সংকট এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সেনাবাহিনীর অবদান জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী ইউনিটের সৈনিক লাইন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ইউনিট প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সৈনিকদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। কর্মসূচির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে জোহরের নামাজ আদায় করেন।