পাতালপথে দেশের প্রথম মেট্রোরেল ‘এমআরটি লাইন-১’ এর নির্মাণ কাজ চলমান। প্রকল্পের কাজ আরও এগিয়ে নিতে ৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দ ছিল এক হাজার ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আরএডিপিতে প্রস্তাবিত পুনর্নির্ধারিত বরাদ্দের আওতায় আরও ৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। ফলে এই অর্থবছরে প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করা যাবে। এর ফলে প্রকল্পের কাজ আরও দৃশ্যমান হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ডিএমটিসিএল জানায়, ২০২৬ সালের মধ্যে আনুমানিক ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং পূর্বাচল থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে ও এলিভেটেড উভয় সুবিধাসংবলিত এমআরটি লাইন-১ নির্মাণ করা হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ রাজধানী ঢাকায় মোট ছয়টি মেট্রোরেল রুট উদ্বোধন করা হবে।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১ এর দুটি অংশ থাকবে। একটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত (বিমানবন্দর রুট) ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার অংশ। এটি হবে ভূগর্ভস্থ এবং এতে ১২টি স্টেশন থাকবে। অপর অংশটি নতুনবাজার থেকে প্রায় ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার এলিভেটেড লাইনসহ পূর্বাচল পর্যন্ত (পূর্বাচল রুট)। এতে সাতটি স্টেশন থাকবে।
এর আগে ২০১৯ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প অনুমোদন দেয়।
তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বুধবার দুপুরে তিন দিনের সরকারি সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলা-১ আসনে এসে সদর উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পার্থ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে গেছে। সেই অবস্থান থেকে আমাদের উঠে আসতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দেশকে সংকটমুক্ত করার জন্য কাজ করছেন।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই সেতু নির্মাণ। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’ তিনি জানান, সেতু প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ সময় ভোলার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে ৭০০ কোটি টাকা এবং সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমরা সবাই ভোলার উন্নয়ন চাই। সরকারও ভোলার যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
নিজের রাজনৈতিক ও সংসদীয় কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে জনগণ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখেছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি।’ এলাকায় মিথ্যা মামলা, হয়রানি কিংবা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
পার্থ আরও বলেন, ‘আমার দলে কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজের স্থান নেই। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের আস্থা ও সমর্থনেই আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করেই কাজ করতে চাই।’
সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। পদোন্নতির পর তাদেরকে দুই মন্ত্রণালেয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর মধ্যে জনপ্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম বজলুর রশীদকে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
অপর দিকে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।’
তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের যে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানি নির্ভরতার কারণে এই যে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট, এর থেকে বের করে আনার জন্য বর্তমান সরকার কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান ৭টি কূপ খনন শেষ হলে আরো ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানী লি. (বাপেক্স)-কে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরো ২টি নতুন রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া, অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ : কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৮ সালে উক্ত টার্মিনাল হতে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি (গ্যাস) সরবরাহ করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করছি।'
তিনি বলেন, 'আগামী ২ বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরো ৬০০ এমএমসিএফডি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ২-১টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন হলে সামগ্রিকভাবে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।'
এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।
সূত্রঃ বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের শীর্ষ নেতার পারস্পরিক সুবিধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। বুধবার জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সফরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া বা শর্ত আরোপ করা স্বাধীন দেশের পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন। চিফ হুইপ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তাদের সময় মিলে যে সময়টা সুবিধাজনক হবে এবং এটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যখন ভালো হবে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন।”
ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি জানান যে, বাংলাদেশ কাউকেই উপেক্ষা করে না। তবে সরকারের মূল নীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা এবং সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখেই বিদেশের সাথে সম্পর্ক গড়া হবে। চিফ হুইপ আরও বলেন, “ইফ এনি কন্ডিশন হ্যাজ বিন ইমপোজড বাই আওয়ার ফ্রেন্ডস, সেটা আমাদের ভালোভাবে নেওয়াটা একটু কষ্টের ব্যাপার হয়ে যায়।” বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোনোভাবেই অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না এবং বিনিময়ে প্রতিবেশী দেশ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
চিফ হুইপ গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লুণ্ঠিত হলেও ভারত নীরব ছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের মনে কষ্টের সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, গত দেড় দশকে লুটপাট, গুম ও খুনে জড়িত অনেক ব্যক্তি বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কাউকে যেন আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দেওয়া হয়। ভারতের সাথে বিদ্যমান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে পানিবণ্টন সমস্যাকে অন্যতম ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দ্রুত এর সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, “আমরা বলি ভারত আমাদের বন্ধু, ভারতও বলে আমরা তাদের বন্ধু। কিন্তু তারা বেড়া দিয়েছে আমাদের ওপরে।” সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের একটি প্রস্তাব নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে আলোচনার বিষয়টিও তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর চালানো অমানসিক নির্যাতনের স্মৃতি এখনো অমলিন বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজও সেই দুঃসহ নির্যাতনের চিহ্ন বহন করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।’ তবে নেতার উদারতার কথা স্মরণ করে তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে চান না প্রতিশোধের রাজনীতি করতে। রুমনের ভাষায়, ‘আমাদের প্রিয় নেতা নিজেই বলেছেন তিনি সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশোধের বদলে দেশের উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য।
বিগত দিনগুলোতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে রুমন বলেন, ‘বিগত সময় বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে ঠিক ওই সময় আমাদের প্রিয় নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের প্রিয় নেতার ভালো কাজগুলো ভুলন্ঠিত না হয়।’ তিনি ছাত্রদল, যুবদলসহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনকল্যাণমূলক কাজগুলো সফল করার আহ্বান জানান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণই সকল শক্তির উৎস এবং সেই জনগণই একাত্তর, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ওয়ান-ইলেভেন এবং সর্বশেষ জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরচারকে হটিয়েছে।
দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রুমন বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কীভাবে গোপনে কারামুক্তি দিবস পালন করা হতো, তা আজ ইতিহাসের অংশ। সে সময় রুহুল কবির রিজভী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালের মতো নেতাদের সাহসিকতার কথা তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে যেসব সাংবাদিক সাহস নিয়ে তথ্য প্রচারে সহায়তা করেছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের বিষয়ে বর্তমানে আগ্রহী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই টার্মিনালটি চালু হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও আবাসিক খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। মূলত ভৌগোলিক গুরুত্ব ও জ্বালানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই অঞ্চলগুলোতে টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো সফলভাবে স্থাপিত হলে দেশের গ্যাস সংকট অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। এর ফলে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পায়নের গতিকে আরও বেগবান করবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তাঁরা দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর, রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের সসম্মানে প্রত্যাবাসন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীন সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাবে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই মৈত্রী সবসময় বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তিত হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক মূলত সরকারকেন্দ্রিক ছিল।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ভারত সরকার দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিশেষভাবে আগ্রহী। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান ভারত সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে হাইকমিশনার ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সমস্যা হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও ইরানি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে কোনো সমস্যা নেই। মক্কা প্যাক্টের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার করতে পারবে।’ তাঁর এই মন্তব্য বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা বহন করছে।
মক্কা প্যাক্ট বা মক্কা জোটে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা মক্কা প্যাক্টকে আমাদের বিপক্ষে দেখছি না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আমরা শুধু আমেরিকার ক্যাম্পে আক্রমণ করেছি, ইসলামিক কোনো রাষ্ট্রকে নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, মক্কা প্যাক্টে যোগদানের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলে ইরান তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং গ্রহণ করবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আবাস্থল পরিবর্তনের কারণে যারা নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক, তারা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন জমা দিতে পারবেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু করার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দাখিলকৃত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এবং ভোটারদের সঠিক আবাস্থল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন এই সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত দুটি সার্ভিস সেতু সাধারণ যানবাহনের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দুই লেনের এই পৃথক দুটি সেতুর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। উদ্বোধনের পরপরই সড়কটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়ালসড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকল্পটির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একাংশ খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’ অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
আশুলিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির কথা স্মরণ করে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘আশুলিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের প্রকল্প এটি। অনেক ঘটনা ঘটেছে দীর্ঘ দিন ধরে। এখানে প্রচুর কারখানা, এগুলো সামার দিতে বেগ পোহাতে হয়েছে। আজকে চালুর মধ্য দিয়ে সেই ভোগান্তি কমবে। সবাই এর উপকার ভোগ করবে।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বারে দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখার স্বার্থে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বর্তমানে ব্যবহৃত সড়কটি আর রাখা হবে না। এর পরিবর্তে নতুন নির্মিত এই সার্ভিস লেন ব্যবহার করেই যানবাহনগুলো যাতায়াত করবে এবং তুরাগ নদ পারাপারের ক্ষেত্রে চালকদের কোনো টোল দিতে হবে না। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে নতুন এই পথ খুলে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা। সাইফুল ইসলাম নামে একজন পিক-আপ চালক বলেন, ‘আগে রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। এখন কমে যাবে। অনেক ভালো লাগছে। এখন দ্রুত যেতে পারবো।’ একই সুরে আশুলিয়ার বাসিন্দা দীপংকর দাস বলেন, ‘আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবশেষে চালু হয়েছে। এত দিন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আশা করছি, এখন যানজট থেকে অনেকটা রক্ষা পাবো।’ যাতায়াত সুবিধা নিয়ে পথচারী বাবুল হোসেন মন্তব্য করেন, ‘যানজট নিরসনে এক্সপ্রেসওয়ে অনেক ভূমিকা রাখবে। উত্তরা থেকে আশুলিয়া আসতে প্রচুর ভোগান্তি হতো। এখন আর ভুগতে হবে না আশা করছি।’
ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি গত জুলাই মাস পর্যন্ত ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন ছাড়াও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ এবং বাইপাইলে দৃষ্টিনন্দন ‘ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তুরাগ নদের পরিবেশ রক্ষা করে প্রকল্পের ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু আজ যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
দেশে মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, স্কাউটিং এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মেধাবীদের আগামীর বাংলাদেশের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “মেধাবীদের হাত ধরেই আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে আমার সামনে প্রথম সারিতে যারা বসে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন। মেধাবীদের সমর্থন দিতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং জনসম্পৃক্ততার শিক্ষা দেয়, যা তাদের মাদক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি জানান যে, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং নৈতিকতাকে পাঠ্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি স্কাউট ও বিএনসিসির জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সরকার পোশাক ও মিডডে মিলের ব্যবস্থা করছে এবং ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলায় বিজয়ীদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই পুরস্কৃত করছেন বলে তিনি জানান।
নারী শিক্ষার অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপবৃত্তি কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, এটি দেশে এক সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের বাজেট বাড়াচ্ছেন এবং স্কাউটের জন্যও আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মেধাবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে যে কাজ করেনি, তাকে সেই কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়া যায় না। এটা আমার কথা নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। তোমরা যারা ভালো ফল করেছ, তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সম্মানিত করা হবে।” পরিশেষে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ জনসংখ্যা ও মেধা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা কাজে লাগিয়ে দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, নিয়োগ-বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান তালিকায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, মানিলন্ডারিং বা বিদেশে টাকা পাচার এবং নিষিদ্ধ বিটকয়েন লেনদেনের মতো গুরুতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
আরও জানা যায়, ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গঠনে সরাসরি অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে যে, আসিফ মাহমুদ তাঁর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ভুক্তভোগীদের দেওয়া এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দুদক এই ব্যাপক তল্লাশি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অবশেষে অনুমোদিত হয়েছে। এখন কেবল গেজেট বা আনুষ্ঠানিক আদেশ জারির অপেক্ষা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জারি হতে পারে।
প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে সচিব বলেন, “অর্থ বিভাগ আজ অথবা আগামীকাল নতুন বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। তখন এ বিষয়ে সবকিছু স্পষ্টভাবে জানা যাবে।” গত সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত এই নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে অনুমোদন লাভ করে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদিত পে-স্কেল ও সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারও এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা এই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নতুন বেতন স্কেলের কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি কর্মচারীদের পূর্বের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে, তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।