ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার খুন হয়েছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ ঘটনায় দেশে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
যদিও কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে এ খবর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতায় বাংলাদেশি এমপি নিখোঁজ। পুলিশের সন্দেহ, তিনি খুন হয়েছেন।
বাংলাদেশি মিডিয়ার বরাতে ডেকান হেরাল্ড বলেছে, আট দিন ধরে নিখোঁজ বাংলাদেশি এমপির খণ্ড-বিখণ্ড দেহ মিলল কলকাতায়।
আউটলুক ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, পশ্চিমবঙ্গে নিখোঁজ বাংলাদেশি এমপি। পুলিশের সন্দেহ, উদ্ধার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ তারই।
ফার্স্টপোস্টের খবরের শিরোনাম, কলকাতায় মরদেহ উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি এমপি কি খুন হয়েছেন?
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, ‘নিউটাউনে ‘খুন’ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য! ঘনাচ্ছে রহস্য, তদন্তে পুলিশ।’
এবিপির খবরে শিরোনাম করা হয়েছে, বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার কলকাতায় ‘খুন’, পুলিশ বলছে দেহ পাওয়া যায়নি; ৩ আটক।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে জি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কলকাতায় নিখোঁজ বাংলাদেশি এমপি খুন।
আজতক জানিয়েছে, কলকাতায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য। তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এখনো দেহ উদ্ধার করা হয়নি।
দেশটির আরেক গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ভারতে চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম। অবশেষে নিউটাউন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এর আগে সংসদ সদস্য কন্যা মমতারিন ফেরদৌস ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দপ্তরে গিয়ে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন রোববার। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হলো বাংলাদেশি সংসদ সদস্যের মৃতদেহ।
প্র
তিবেদনে আরও বলা হয়, নিউটাউনের অভিজাত আবাসন থেকে উদ্ধার হয়েছে আনোয়ারুল আজিমের মৃতদেহ।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেছেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, তাদের অবদান রাষ্ট্র কখনও ভুলবে না।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে সবাইকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে। তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়ানো হবে। তবে এ জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।
প্রেস সচিব বলেন, আমরা এমন একটি সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি, যখন আন্দোলনের সময় কেউ নিরাপত্তা পেত, আবার কেউ পেত না। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে সবাই নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সালেহ শিবলী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছেন।
আন্দোলনে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সালেহ শিবলী। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
প্রেস সচিব বলেন, প্রত্যেক ত্যাগের মূল্যায়ন একদিনে সম্ভব নয়। কিন্তু রাষ্ট্র ধীরে ধীরে সবার অবদান মূল্যায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা দেওয়া হবে।
সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া নানা সংকট একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে। এসব কারণে অনেক কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগছে।
তিনি বলেন, আপনারা গত ১৫ বছরে যেসব নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, সেই বাস্তবতা থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে। তাই নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিন। ইতোমধ্যে আপনারা পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেছেন।
শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুনর্গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাংবাদিক, আলোকচিত্রীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, বিপিজেএর সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমন, অর্থ সম্পাদক নাসিম শিকদার, দপ্তর সম্পাদক ফরিদ আহমেদসহ আলোকচিত্রী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নতুন সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হওয়া দুর্নীতিসহ জাতীয় সংসদে উঠে আসা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নতুন কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপের তথ্য উঠে আসে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা খাতে দুর্নীতি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই জরিপের সূত্র ধরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালের দুর্নীতি তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছিলেন।
এসব বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নতুন সচিব জানান, জনপ্রতিনিধিদের মতামত, পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা এবং পুনর্গঠিত কমিশনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ীই দুদকের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
দুদকের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সাইদুর রহমান খান আরও বলেন, পাঁচ মাস ধরে কমিশন পুনর্গঠন না হওয়ায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হচ্ছে। সার্চ কমিটির কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় দ্রুতই নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন, জনবান্ধব ও কার্যকর সংস্থায় রূপান্তর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিসিএস ১৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা, যিনি এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশে সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে দুবাইয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীতে পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জামিন বাতিল করিয়ে বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজশাহীর অনুষ্ঠানে অবস্থানকালেই তিনি প্রথম বেনজীরের জামিনের সংবাদটি শোনেন এবং তৎক্ষণাৎ স্বরাষ্ট্র সচিবের মাধ্যমে দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে যোগাযোগ করেন। ওই নির্দিষ্ট বিষয়ের আইনি মোকাবিলার জন্যই আগে থেকে নিয়োগকৃত ল ফার্মকে জামিন বাতিলের আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ না করার শর্তে বেনজীরকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন জানিয়ে মন্ত্রী ইতোমধ্যে আদালতের সেই নির্দেশনার প্রত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) সংগ্রহের নির্দেশও দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার আশা প্রকাশ করছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই জামিন বাতিল করা সম্ভব হবে এবং সার্বিক আইনি পদক্ষেপ শেষে বেনজীর আহমেদকে দ্রুতই দেশে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন মো. সাইদুর রহমান খান। রবিবার (২ আগস্ট) তিনি দুদক সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সাইদুর রহমান খান বলেন, দ্রুততম সময়েই কমিশন গঠন হবে। নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার আছে। সংস্কারে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে এখানে যোগ দিয়েছি।
এর আগে গত ৩০ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দুদকের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি গত ৫ জানুয়ারী থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের একজন সদস্য।
শিক্ষা জীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী এবং শিক্ষায় এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের গ্রীনউইচ ইউনিভারসিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর নিজ জেলা রাজশাহী।
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় চারপাশের নৌপথগুলোকে পুনরায় সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি ঢাকার নদীগুলোর নাব্যতা বজায় রাখা এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঢাকার চারপাশের নদীপথগুলোতে যাত্রী পরিবহনের জন্য আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হবে এবং তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র নৌপথ চালু করার ওপরই জোর দেননি, বরং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার নির্দেশনায় উঠে এসেছে যে, নদী তীরের সৌন্দর্য বর্ধন এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করতে হবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো যাতায়াতের জন্য কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সব্বির মোস্তফা খান। রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে আগামী তিন বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৫’-এর ধারা অনুযায়ী তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ড. সব্বির মোস্তফা খান বুয়েটের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং পানিসম্পদ প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ। তিনি তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসহ দেশের অর্ধশতাধিক জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রকৌশলীদের পেশাদার সংগঠন ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সম্মানী সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ঢাকা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে চারপাশের নদীপথকে ব্যবহার করে আবারও আধুনিক ওয়াটার বাস সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নদীদূষণ, নাব্যতা সংকট এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মতো প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই এই সেবা সচল করতে চায় প্রশাসন। রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে এই সেবায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী ওয়াটার বাসগুলো গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ এবং সদরঘাট ঘুরে পুনরায় গাবতলীতে ফিরবে। তবে এই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীদূষণ। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার অন্তত ৪২৪টি পয়েন্ট দিয়ে সরাসরি বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। এসব উৎসমুখ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী মনে করেন, নদীর পরিবেশ মনোরম করা গেলে মানুষ দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে যাতায়াতের পাশাপাশি ভ্রমণের আনন্দও উপভোগ করতে পারবে।
নৌপথের অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে শেখ রবিউল আলম বলেন, টঙ্গীর রেলসেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় বড় আকারের ওয়াটার বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে সেতুর এক পাশে যাত্রী নামিয়ে অন্য পাশে অপেক্ষমাণ বাসে তোলার ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া নাব্যতা সংকট মোকাবিলা এবং নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার বাস নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অতীতে বিআইডব্লিউটিসি এই সেবা পরিচালনা করে বড় অংকের লোকসান দেওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখানোয় তাদের সাথে অংশীদারিত্বের বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের জন্য এখন পর্যন্ত আলাদা কোনো বাজেট বরাদ্দ করা হয়নি; বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব সক্ষমতার আওতায় প্রাথমিক কাজগুলো সম্পাদন করবে। প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং তখন বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা ও কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার চারপাশের নদীপথকে একটি সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয় যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত করা।
পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদার, মানবিক এবং সেবামুখী বাহিনী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। রোববার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে নবীন কর্মকর্তাদের পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, পেশাগত জীবনে কোনো ধরণের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার যেন তাদের স্পর্শ করতে না পারে। বিগত শাসনের সময় পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের জন্য মানবিক আচরণ ও নিরপেক্ষতার বিকল্প নেই বলেও তিনি মনে করেন। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ যেন পুলিশি সেবার জন্য এসে কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি দমনে নবীন কর্মকর্তাদের কারিগরি পারদর্শিতা অর্জনের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারের মাঝে মেধার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করেন মন্ত্রী।
প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এছাড়া আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ এবং এ বি এম মামুন ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষি ও অন্যান্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ সময় ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের কথা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে উবয় দেশের পারস্পারিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির ইতিবাচক সংশোধন করেছে।
সার্জিও গর বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়।
শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গর আশ্বাস প্রদান করেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষাকার্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বিশেষ দূত জানান, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগিরই একটি ইউএস ইনভেস্টর সামিট আয়োজন করতে আগ্রহী। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিজে কাজ করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন৷
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল:
বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে।
তিনি বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপগুলোকে মার্কিন পক্ষ সাধুবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) থেকে যে ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি করা হয়, তার বর্তমান অবস্থান মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এক্সপ্লোর করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে ও দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় বিজনেস কমিউনিটির প্রথম সারির উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন। বৈঠকে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা কাটিয়ে ওঠার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈঠকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর ও শুল্ক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (যেমন: বেজা ও বিইপিজেডএ) বিনিয়োগের জটিলতা দূর করার তাগিদ দেন।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগের সঙ্গে শোনেন এবং একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ পরিবেশ নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
মাহদী আমিন জানান, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবসায়ী সমাজের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকা বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরে কমার্শিয়াল অ্যাক্টিভিটি সচল রাখতে ২৪/৭ সেবা প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত নির্দেশ দেন।
দেশের বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ সমাজকে দক্ষ ও আত্মকর্মসংস্থানে উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই নীতিকে ধারণ করে জনবান্ধব বাজেট ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গভীর আস্থা আছে: সার্জিও গর
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গভীর আস্থা রয়েছে এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। গতকাল সকালে তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
সার্জিও গর বলেন, আস্থার প্রতীক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের আগের ভ্রমণ সতর্কবার্তা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে। এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যাবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন মার্কিন বিশেষ দূত। এ সাক্ষাৎকালে সার্জিও গর রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে পুনরায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়।
মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি জোট গঠন করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশও এই উদ্যোগের একটি অংশীদার হতে পারে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) উদ্যোগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আর দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ৬ মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েকবার বসেছি। প্রথমবার আপনাদের সঙ্গেই বসেছিলাম, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।
আগের বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেসবের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। তার ভাষায়, আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের হয়ে আসে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনার মধ্য দিয়েই কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন। সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যা পর্যালোচনা করে ২১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বাকি ৭টি বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম টোয়েন্টি ফোর সার্ভিস করা যায় কিনা। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের সব দপ্তর মিলে সামনের দিনগুলোতে নিশ্চিত করবে যেন বাংলাদেশের প্রতিটি বন্দর ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারে। এর মাধ্যমে ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট আরো ফাস্ট ও ত্বরান্বিত হবে।’
শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ এ বৈঠকে বেসরকারি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ, বিদ্যমান সমস্যা ও বিনিয়োগের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, ‘দেশে বেশ কিছু ইকোনমিক জোন, বেজা ও বেপজা রয়েছে। সেগুলোতে কিভাবে আরো বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং যেখানে জটিলতা রয়েছে তা কিভাবে সহজতর করা যায়, এসব নিয়ে প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরাও সেখানে নিজেদের মতামত দিয়েছেন।’
বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য সরকার থেকে পলিসি সাপোর্ট থাকবে। তার জন্য একটা প্রো-বিজনেস, প্রো-ইনভেস্টমেন্ট বাজেট আমরা দেখেছি এবং সেই নীতিমালাগুলোকে আমরা বাস্তবায়ন করব। যার মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, অর্থাৎ আমাদের তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য আরো বিকশিত করা।’
প্রধানমন্ত্রীর একটি স্লোগান তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সেই নীতিকে ধারণ করেই বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আজকের এই আলোচনা হয়েছে।’ আমাদের জনবান্ধব সরকার, জনবান্ধব বাজেট এবং জনবান্ধব নীতিমালা কার্যকর করার এই পথযাত্রাকে প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধিরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
পলিসিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আসায় ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যবসাকে আরো সহজীকরণ করা, বিনিয়োগকে আরো প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়ানো এবং বাংলাদেশের জন্য বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’
জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন হোসেন জিল্লুর রহমান, যিনি ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন। তার মতে, এর একটি হলো, তরুণদের ক্ষমতালোভী করে তোলা। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে। ‘ক্ষমতার লোভটাই’ তাদের শিখিয়ে দিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন হোসেন জিল্লুর রহমান। এর আয়োজক ছিল যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম সোয়াস অ্যান্টি–করাপশন এভিডেন্স। সভায় সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান এবং অধ্যাপক পল্লবী রায় এক-এগারো এবং জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বাংলাদেশে এক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তখন ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ছিল, সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন হোসেন জিল্লুর রহমান।
তার প্রায় দুই দশক পরে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দেড় বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে বিদায় নেয় এই সরকার। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।
হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, এই অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো—সরকারে আমলাদের যুক্ত করা, তরুণদের ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিজেদের সংস্কারকে নিজেরাই ছুড়ে ফেলে দেওয়া।
হোসেন জিল্লুর আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি একধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ইউনূস সরকার তরুণদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দেয়নি। এর ফলে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে আওয়াজ তুলেছিল, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরকারের আপস তাতে বাধা হয়ে উঠেছিল বলে তার পর্যবেক্ষণ।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বুঝতে পারেনি কোন মুহূর্তে সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা শুরু থেকেই রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নেয়। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙার বদলে একই ধরনের আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত বহাল থাকে।
অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার কথা মুখে বললেও তাতে আন্তরিকতা ছিল না বলে মনে করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তার মতে, সে কারণেই সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ইউনূস সরকার সংস্কার শব্দটা চালু করেছে। অথচ তাদের নিজেদের তৈরি করা সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে, কিছুই তারা দেখেনি। ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা একটা ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে।
ফ্যাসিবাদের পতন এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর রাজপথে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও চক্রান্তের চেষ্টা না করে সবাইকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুক্ত হয়ে বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর এখন আর কারো রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে থাকার সুযোগ নেই, এখন সবার মূল কাজ দেশ গড়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘একটি পক্ষ দেশ পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ না দিয়ে পার্লামেন্টের বাইরে রাজপথে নাটক তৈরি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। মনে রাখতে হবে, সরকার এই চক্রান্তের গভীরতা বোঝে। জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে বলেই সরকার অত্যন্ত ধৈর্য ও অভিভাবকের মতো আচরণ করছে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না।’
তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলন কারো কারো পেশা হতে পারে, কিন্তু বিএনপির মূল লক্ষ্য ছিল ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। সে লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় এখন আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে মুখ্য উদ্বোধকের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আগামী প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস ও ত্যাগের কথা জানতে পারবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘মাজারে হামলা করা, বাউলদের মারধর করা বা মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচার করা আমাদের সংস্কৃতি বা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। এসব অপসংস্কৃতি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।’ পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই চূড়ান্ত পরিণতি উল্লেখ করে তিনি চব্বিশের আন্দোলনে নিহত সকল শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনের বিজয়ী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের কৃত্রিম বিভেদ ও ষড়যন্ত্র তৈরি না করে পতিত ফ্যাসিবাদের চক্রান্ত রুখে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও আমরা বিএনপি পরিবার- এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে বিএনপি কখনোই একক কৃতিত্ব দাবি করেনি। এটি ছিল দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতির আন্দোলন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ, মা-বোনদের অবদান খাটো করার সুযোগ নেই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে দেশে কোনো ধরনের নৈরাজ্য তৈরি না করে সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে হাত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতির ক্রান্তিকাল সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করায় ফটো সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিপিজেএ গ্যালারিতে সংরক্ষিত বিগত ১৫ বছরের গণসংগ্রাম ও চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুর্লভ আলোকচিত্রসমূহ পরিদর্শন করেন।