ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনারের হত্যাকারীদের প্রায় চিহ্নিত করে ফেলা হয়েছে এবং শুধু ঘোষণা দেওয়া বাকি রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা একমত হতে পারলে ঘোষণা দেওয়া হবে। মরদেহ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। যে পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধার করা যাবে, সে পর্যন্ত অফিসিয়ালি সাংবাদিকদের কিছু বলা যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নতুন কিছু আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা মিলে দুই দেশ থেকেই আমরা কাজ করছি, যাতে আরও কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে।’
‘আমরা সুনিশ্চিত হয়েছি তাকে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করেছেন, তাদের মুখ থেকে আমরা এসব শুনেছি। তবে মরদেহ এখনো উদ্ধার করতে পারিনি। আমরা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছি’- যোগ করে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত মোটামুটি গুছিয়ে এনে আপনাদের জানাব। আমরা এখনো নতুন কোনো আপডেট এ মুহূর্তে দিতে পারছি না। আর কোনো সংবাদ আমরা পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি, প্রায় আমরা প্রায় চিহ্নিত করেছি। কারা হত্যা করেছেন, তাদের প্রায় চিহ্নিত করে ফেলেছি। আমাদের শুধু ঘোষণাটা বাকি। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা একমত হতে পারলে ঘোষণাটা দেব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মরদেহ এখনো উদ্ধার করতে পারিনি। আমরা কিছু শুনেছি, আপনারা যা শুনেছেন, আমরা সেগুলোই শুনেছি। মরদেহ উদ্ধার না করা পর্যন্ত অফিসিয়ালি আপনাদের কিছু বলতে পারছি না। এ বিষয়ে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আনোয়ারুল আজিম, যিনি আমাদের ঝিনাইদহ-৪ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য। ওই বর্ডার (সীমান্ত) এলাকা সন্ত্রাসকবলিত। সে এলাকারই তিনি সংসদ সদস্য। কী কারণে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে আমাদের কিছুই বলা ঠিক হবে না। আমরা আগে নিশ্চিত হই, তারপর আপনাদের বিস্তারিত জানাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিষয়টি। আশা করছি, খুব অল্প সময়ে আমরা আপনাদের কিছু জানাতে পারব।’
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও নতুন তিন থেকে চারটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর ছাড় ও প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাংলাদেশে বিনিয়োগের চালিকাশক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গ্যাস সংকট নিরসনে তিনটি থেকে চারটি নতুন এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।
নতুন জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাস করার সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে, সেখানে জ্বালানি হাব।
সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগের সরকারের আমল থেকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে’ পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার ‘কাজ করছে’ বলে তার ভাষ্য।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারে সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে রাজস্ব প্রশাসন পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতি প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। তিনি বলেন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম দেশটির দেওয়া বন্দি তালিকায় ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় বা সাজা কার্যকরের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না ওই তালিকায়। গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অঞ্চলে বন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল। জবাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে তালিকা পাঠায়, তাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নামও ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বা সাজার বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না।
তালিকায় একজনের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে শুধু ওই তালিকার তথ্যের ভিত্তিতে তাদের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক কর্মকর্তা জানান, বন্দিদের তালিকা পাওয়ার পর প্রত্যেকের মামলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সবার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা কঠিন। তবে বাংলাদেশ মিশন নিয়মিত সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগার পরিদর্শন করে বন্দিদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করে। এসব উদ্যোগে কিছু ক্ষেত্রে বন্দিদের সাজা কমানোও সম্ভব হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির কেউ কনস্যুলার সহায়তা চেয়ে তাদের কাছে আবেদন করেননি।
পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং সাজা কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এ জন্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠানো কূটনৈতিক চিঠি বা নোট ভারবালের অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রমকল্যাণ উইং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক বার্তায় জানায়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাদের বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং গত ১৪ অক্টোবর সেই সাজা কার্যকর করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষ এর আগে বাংলাদেশকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বন্দির একটি তালিকা দিয়েছিল। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নামও ছিল। তবে এত বিপুলসংখ্যক বন্দির প্রতিটি মামলার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা একটি মিশনের পক্ষে কঠিন। তালিকা পাওয়ার পর ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি ও জরুরি মামলাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে, পুরো ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি ছিল, তা চিহ্নিত করতে সৌদি আরবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশনকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই বাংলাদেশির মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, রায় এবং সাজা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। দেশটির ক্রমবর্ধমান শ্রমিকসংকটের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ ও তাদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন চুক্তি করেছে দুই দেশ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হওয়ার কথা। পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর বিধান থাকায় দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ কর্মী তৈরি, জাপানি ভাষা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (ইএসডিপি-এমওসি) চুক্তিটি গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সই হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায় সোমবার (১৯ অক্টোবর)। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে সই করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের সহযোগিতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। জাপানের স্থানীয় কর্মীদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা এবং নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও চুক্তিতে গুরুত্ব পেয়েছে। গর্ভধারণ বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণ করার সুযোগ থাকবে না।
শ্রমিকসংকটে জাপান, বাড়ছে বিদেশি কর্মীর চাহিদা: বাংলাদেশের জন্য জাপানের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের অন্যতম কারণ দেশটির জনমিতিক পরিবর্তন ও শ্রমিকসংকট। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকুচিত হওয়ায় বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে জাপান।
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর শেষে দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৭। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বিদেশি কর্মী নিয়োগের হিসাব সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, জাপানের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় বাজার হলেও প্রতিযোগিতাও তীব্র। কারণ, জাপানের নিয়োগদাতারা শুধু কর্মীসংখ্যা নয়, কাজের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, শৃঙ্খলা ও পেশাগত যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেন।
বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জাপান সেলের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। জাপানে কর্মসংস্থানের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি), স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডব্লিউ) এবং প্রকৌশলী ও বিশেষায়িত পেশাজীবীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা। তবে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নতুন চুক্তির আওতায় নিশ্চিত নিয়োগসংখ্যা নয়। কতজন কর্মী নেওয়া হবে, কোন কোন পেশায় নিয়োগ হবে এবং নিয়োগের শর্ত কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও বাস্তবায়ন কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থাও এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে জাপানে গিয়েছিলেন ৩ হাজার ৫৭৪ কর্মী। একই সময়ে নেপাল থেকে গিয়েছিলেন ৫৬ হাজার ৭০৭ জন। অর্থাৎ, জাপানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় নেপালের অবস্থান অনেক এগিয়ে ছিল। দক্ষ কর্মীর ঘাটতিকে এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ভাষা ও দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি: জাপানে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু শারীরিক শ্রম দেওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। কাজের ধরন অনুযায়ী কারিগরি দক্ষতা, জাপানি ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতা, কর্মক্ষেত্রের নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
এ কারণে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণব্যবস্থাকে জাপানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি। প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যবহারিক কাজের অভিজ্ঞতা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং জাপানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
জাপানে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সরকার ইতিমধ্যে আলাদা ‘জাপান সেল’ গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সেলের কাজের মধ্যে রয়েছে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা নিয়ে সমন্বয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য প্রচার। এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সম্ভাব্য কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।
নিয়োগব্যয় ও প্রতারণা ঠেকানো জরুরি: বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে নিয়োগের আগে চাকরির ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা, বিমা এবং অন্যান্য শর্ত স্পষ্ট করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা ভুয়া চাকরির প্রলোভন ঠেকাতে কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।
জাপানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, নিয়োগদাতার চাহিদা যাচাই এবং কর্মীদের চুক্তিপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংও নিয়োগের চাহিদা যাচাই, কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে।
নতুন চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন, তার ওপর নয়; বরং তারা কতটা নিরাপদে কাজ করতে পারলেন, ন্যায্য পারিশ্রমিক পেলেন কি না এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পেশাগত উন্নতির সুযোগ পেলেন কি না, তার ওপরও।
নারী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা: চুক্তিতে নারী কর্মীদের সমান সুযোগ এবং গর্ভধারণ বা সন্তান জন্মদানের কারণে বৈষম্য না করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিদেশে কর্মরত নারীদের নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকার এবং মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। তবে এসব অধিকার বাস্তবে কার্যকর করতে কর্মীদের চুক্তির শর্ত সম্পর্কে সচেতন করা, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা সহজ করা এবং প্রয়োজনের সময় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগদাতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জবাবদিহিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পরীক্ষা: বাংলাদেশের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ নতুন নয়; বরং নতুন চুক্তি বিদ্যমান সুযোগকে আরও সুসংগঠিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন জাপানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি, প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা, নিয়োগব্যয় স্বচ্ছ রাখা এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সরকারের বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাপানের নিয়োগদাতাদের প্রকৃত চাহিদা, পেশাভিত্তিক যোগ্যতা এবং নিয়োগের বাস্তব সক্ষমতার সঙ্গে পরিকল্পনার সমন্বয় করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে কর্মী নিয়োগ শুরুর উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা গেলে এই সুযোগ কর্মীদের আয় বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকায় নয় দিনে ঢাকা থেকে ১২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ১৯ হাজার ৩৭৭ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত ৫৯টি সরাসরি ফ্লাইট ও ৬৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই রুটে বিমান বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আগামী ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের।
অপরদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের; ভারতীয় এই এয়ারলাইন্সের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে দফায়-দফায় হামলা চালিয়েছে। এরপর থেকেই এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর দুপুরে রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে হামলা চালানো হয়েছে, তা সৌদিতে নিকট অতীতে চালানো সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা। এতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এবং আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে আরও হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তারা বলছে, জায়গাগুলো তাদের জন্য সঠিক লক্ষ্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার বদলা নিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা বলছে গোষ্ঠীটি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে তথ্যের ঘাটতি কমানো, শিশুদের জন্য যানবাহনে নিরাপদ আসন নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস পালনের অংশ হিসেবে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক ডা. আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির রোড সেফটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন। প্রবন্ধে তিনি বিশ্বজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতি, বাংলাদেশে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান, দুর্ঘটনার কারণ এবং সড়ক পরিবহন আইন ও নীতিমালার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।
কাজী বোরহান উদ্দিন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন। এ পদ্ধতিতে সড়কব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদানকে সমন্বিতভাবে নিরাপদ করার মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সিআইপিআরবির নির্বাহী উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ ও নিরাপদে চলাচলের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।’
পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানতে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিবেদন তৈরির ঘাটতি কমাতে হবে।
সভায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সিআইপিআরবির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির উপনির্বাহী পরিচালক ও আরটিআই প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।
মুক্ত আলোচনায় দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্সচালকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা তৈরির প্রস্তাব আসে। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।
আলোচনায় সড়ক নিরাপত্তার সব উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং দেশে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শিশুদের সুরক্ষায় যানবাহনে নিরাপদ শিশু আসন স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
ডা. আমিনুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সিআইপিআরবি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আজ (সোমবার) দয়াগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব উপহার তুলে দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার এবং একই সাথে দুটি সম্প্রদায়ের পূজা উদযাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ওসমানী উদ্যানে 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' উদ্বোধন অনুষ্ঠানকালে দুর্গাপূজার বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই আমরা তড়িৎ দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে উপস্থিত হয়েছি।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তাঁরা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাঁদের অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিকভাবে বা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না। বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনো জাতিগত বা সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করেন না; শহীদ প্রেসিডেন্টের 'সকল নাগরিকের সমান অধিকার' আদর্শেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। অতীতে কোনো মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসে সরাসরি কথা বলেননি, যা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।”
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্যতা সম্পন্ন ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োগের ঘোষণা দেন। এছাড়া, ডিএসসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। সরকার ও সিটি কর্পোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক সুবিধা ও উৎসবের সুযোগ সুনিশ্চিত করে তাঁদের সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি স্থানে ২টি এবং অপর স্থানে ১৭টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান আবাসনটির জরাজীর্ণ অবস্থা দূর করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, স্বাস্থ্য বিমা এবং কর্মকালীন সময়ে দুর্ঘটনাবশত কোনো কর্মী নিহত হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং একটি মন্দির নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, সাবেক কাউন্সিলর হাজী মকবুল ইসলাম খান টিপু সহ তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং এর পর থেকে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজ বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষ্যে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে (বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে) যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, চলমান দুর্গাপূজায় মণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সকলকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা হয়; যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস উড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর নিকট সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারসমূহের তালিকা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান। মন্ত্রী বলেন, তালিকা পেলে সেটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষু-সহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
আজ, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘প্রজননক্ষমতা ও কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও উপবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যেন শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কিশোরীদের সুস্থ বিকাশ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করে তুলতে হবে।
এ সময় তিনি পাথরঘাটায় মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ‘Strengthening Parliament’s Capacity in Integration of Population and Development Issues (SPCPD)’ প্রকল্প, ইউএনএফপিএ (UNFPA) এবং পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিএন্ডআইটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক আ ন ম খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলছে। এটা সম্ভব হয়েছে পূজা কমিটির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে, তারা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে।
আজ ১৭ অক্টোবর ২০২৬, রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন।
তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে গুজব থেকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, দেবী দুর্গার মতোই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াই করে যেতে হবে।
পুলিশ প্রধান বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারো নিরাপত্তা ছিল না, সবাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি বহু রকমের অঘটন ঘটেছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ সকল পূজামণ্ডপ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফলে নিরাপদে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন মো. আতাউর রহমান খান। এর আগে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত ২৫ মে সরকারের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৮ তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান খান ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, শিল্প ও জ্বালানি বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার সেবার উন্নয়নে কৌশলগত নেতৃত্ব প্রদান করেন।
কর্মজীবনে তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তিনি সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আলোচনা ও সমঝোতার কৌশল, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড (আইএফআরএস), বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়ন, ডিজিটাল যুগে নীতিনির্ধারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এসব প্রশিক্ষণ তার পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
শিক্ষাজীবনে মো. আতাউর রহমান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ (জিআরআইপিএস) থেকে যৌথ জাপান-এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মাস্টার অব পাবলিক পলিসি (এমপিপি) ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের লিভারপুল হোপ ইউনিভার্সিটি থেকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
দেশের নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, সমুদ্র ও নৌবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌপথের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে নবনিযুক্ত সচিব দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় ‘নগর ভবন’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি সংস্থাটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
এর আগে সোমবার বেলা ১১টায় ওসমানী উদ্যানের আধুনিকীকরণ কার্যক্রম ও নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন শেষে তিনি নগর ভবনে উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছালে ভবনের উদ্বোধনী ফলকের সম্মুখভাগে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতায় স্বাগত জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই নগর ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের দুর্যোগকালীন জরুরি পরিচালন কেন্দ্র ‘শীতলক্ষ্যা হল’-এ ডিএসসিসির চলমান বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের ওপর প্রস্তুতকৃত তথ্যচিত্র ও উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নগর ভবন মিলনায়তনে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবর্তনের ইচ্ছা এবং চেষ্টাই আসল। ইতিবাচক চিন্তা ও মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে ঢাকা শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক পরিবেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব। নিজেদের সন্তান ও অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সিটি করপোরেশনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে শহর বদলাতে হয়তো কিছু সময় লাগবে, কিন্তু ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শহরকে সুন্দর রাখার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। নিজেদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে, কারণ নিজের পরিবর্তন দিয়েই সমাজ ও দেশ পরিবর্তনের সূচনা হয়।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহিদুল হাসান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ।
তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক হলে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে কাজ করলে তা জনগণের সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে।
আজ দুপুরে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনের ভূমিকা পালন করতে হবে। সব কর্মী ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে সোচ্চার হতে হবে।
এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার বিচার নিশ্চিতসহ মূল সমস্যাগুলো সমাধানে পেশাদার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ।
সাক্ষাৎকালে ডিআরইউ প্রতিনিধিদল সংগঠনের পরিচিতি ও সদস্যদের জন্য ডিআরইউ পরিচালিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তারা সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি এসময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলনকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন এবং সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি ডিআরইউর উন্নয়নে সহায়তার বিষয়ে সদস্যদের আশ্বস্ত করেন এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি।
তিনি বলেন, 'বিরোধী দল অবশ্যই বিরোধিতা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।'
আজ রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলের দায়িত্ব পেয়েছে। সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব হচ্ছে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত করা।
তিনি বলেন, 'সরকার চেষ্টা করছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে। জনগণের ভোট নিয়ে আপনারা যেমন বিরোধী দলের আসনে বসেছেন, আমরাও জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। সরকারি দল মানেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, আর বিরোধী দলই শুধু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে-এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।'
বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানাতে সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব থাকলেও জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল তাঁদের।'
তিনি বলেন, 'জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যাঁরা রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়েছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে সবারই এগিয়ে আসা উচিত।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার অর্থ হচ্ছে, সেই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের পাশে থাকা এবং তাঁদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সবাই সব বিষয়ে একমত না হতে পারাটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তবে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, চিকিৎসাসেবা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে আমাদের একমত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, 'সংবিধান সংশোধন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান ও বক্তব্য থাকতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে।'
তিনি বলেন, 'সংসদে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি ও মতামত তুলে ধরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে পারেন।'
ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের প্রয়োজন ও দেশের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। তবে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।'
তিনি বলেন, 'উন্নয়নকাজের পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে স্থাপত্য ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।'
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতার অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ প্রয়োজন।'
তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে, যাতে রোগীরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, 'যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারি নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের নিজেদের আচরণেও পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।'
পরিবেশ দূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা মানুষের রোগব্যাধি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি ওসমানী উদ্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দর্শনার্থীদের উদ্যান ও স্মৃতিস্তম্ভের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও ওসমানী উদ্যান জনগণের ও রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তা যথাযথভাবে পালনে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিল রয়েছে। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।'
তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি দেশের মানুষ যেন মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পায়, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং সবাই নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে-এ প্রত্যাশাও ছিল শহীদদের। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।'
বিএনপি সরকার জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।
পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
পরে তিনি আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন এবং উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এর সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
এসব ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান
রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটিতে সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল আলম বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তিও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস