রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সাগরে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে আজ

সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৫ মে, ২০২৪ ০৪:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৪ ০৪:৫৭

পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘রেমাল’।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, আগামীকাল রোববার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।

‘রেমাল’ একটি আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ বালু। নামটি দিয়েছে ওমান। বঙ্গোপসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে সেগুলোর নাম আগে থেকেই ঠিক করা থাকে।

গতকাল শুক্রবার সকালে নিম্নচাপ সৃষ্টির তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেতও দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, রেমাল বাংলাদেশের সুন্দরবন-সংলগ্ন খুলনা ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার উপকূলের দিকেই আঘাত হানতে পারে। এর বিস্তৃতি অপেক্ষাকৃত বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. শামীম আহসান বলেন, এখনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়নি। গাণিতিক মডেলগুলো বলছে, এটি সৃষ্টি হলে বাংলাদেশের উপকূলের দিকেই আসতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার হতে পারে।

নিম্নচাপ সংক্রান্ত প্রথম বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি গতকাল সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে প্রবল ‘ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন সেটিকে ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তা হয় ‘সুপার সাইক্লোন’।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রেমাল আঘাত হানলে, তা প্রবল থেকে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। তবে ‘সুপার সাইক্লোন’ হওয়ার আশঙ্কা নেই।


নির্বাচিত

দেশের পর্যটন খাত ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা, আসছে নতুন নীতিমালা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশের সম্ভাব্য প্রায় ১৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি জানান, দেশে পর্যটন খাতের সঠিক তথ্যের ঘাটতি দূর করা এবং সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ প্রণয়নের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক বিকাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটনমন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনসাধারণকে সরাসরি যুক্ত করে ‘কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম’ মডেলে পর্যটন স্পটগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষায়িত ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সমন্বিত করার বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, সাংস্কৃতিক পর্যটনের সার্বিক প্রসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারক সই হবে। স্মারক সইয়ের পর দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি প্রণয়ন এবং পুরো কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

এছাড়া বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি নতুন অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণদের আবাসন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি
অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জীবনের শেষ দিনগুলো যেন মর্যাদাপূর্ণ ও আরামদায়ক হয়, তা নিশ্চিতে সরকার নানামুখী কল্যাণকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের মনিপুর এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত খতিব জাহিদ মুকুল বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে বসবাসরত বয়স্ক নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুস্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। কেন্দ্রটির ইবাদতখানা, থাকার জায়গা ও কবরস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি জানান, সরকার প্রতি উপজেলা ভিত্তিক অসহায় প্রবীণদের জন্য খাদ্য, আবাসন ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা হবে।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, প্রবীণদের কেবল আশ্রয় দেওয়াই নয়, বরং তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিকভাবে সক্রিয় রাখার পরিকল্পনাও সরকারের মানবিক কর্মসূচির অংশ। বর্তমানে এই কেন্দ্রে ৭২ জন নারী এবং ৬৮ জন পুরুষ প্রবীণ বসবাস করছেন। পুনর্বাসন কেন্দ্রটি পরিদর্শনকালে সাথে থাকা গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া কেন্দ্রের সামনের চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।


নির্বাচিত

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য অনুসন্ধান শুরু করেছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে যারা সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন কিংবা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের শনাক্ত করতে কঠোর অনুসন্ধান শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে। আজ রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংসদ অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি বা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন এবং কার সন্তান সেই সনদের সুবিধায় চাকরি পেয়েছেন, সেই তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর থেকে জবাব আসতে শুরু করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অতীতে যারা অনিয়মের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের বাদ দিতেও বিশেষ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

আলোচনাকালে মন্ত্রী গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির ঘোষণা দেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সহায়তায় আলাদা একটি অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী বিগত সময়ে গুম বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।

কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের নাগালে সঠিক মূল্যে সার পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে ড্রোন, আইওটি এবং পরমাণু মিউটেশন ব্রিডিংয়ের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ব্রি ও বিনার মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলসভাবে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।


নির্বাচিত

ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি: সংসদীয় কমিটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। আজ রোববার সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে জানানো হয় যে, বিগত ছয় মাসে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় ‘মব’ তৈরির চেষ্টা চললেও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো প্রকার মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় কমিটির সদস্যরা মন্তব্য করেন যে, মিরাজ শেখের অপহরণের মতো বিষয়গুলোর দায় অনর্থক সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ‘ব্লেম গেম’ বা দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর বিলটি চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য সংসদে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুমের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড রোধে এই বিলটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানায় কমিটি।

তবে বৈঠকের একপর্যায়ে দ্বিমত পোষণ করে কমিটির দুই সদস্য মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, “কমিটির সদস্য হিসেবে কোনো সংশোধনী বা মতামত থাকলে তা সভায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সভা থেকে ওয়াকআউট করা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী।” বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের স্বচ্ছতা এবং নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও আইজিপিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাসসকে বিশ্বমানের সংবাদ সংস্থায় রূপান্তরের অঙ্গীকার কাদের গনি চৌধুরীর

বাসসের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী। ছবি : বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) একটি বিশ্বমানের সংস্থায় রূপান্তর করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাসস কার্যালয়ে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

সংস্থাটির কর্মীদের উদ্দেশে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, “বাসসে একটি অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ টিম রয়েছে। আমরা যদি সত্য ও পেশাদারিত্বকে ভিত্তি করে সততার সঙ্গে কাজ করি, তবে বাসস শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করবে এবং অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।” তিনি সংবাদের নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, সাংবাদিকতা হলো সত্যের আরাধনা এবং রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই বাসস কাজ করে যাবে। নিজেকে কেবল একজন সহকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি একটি সুবাসিত ও পেশাদার বাসস পরিবার গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বাসসের হারানো ঐতিহ্য ও গুণগত মান ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রপ্রধানদের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার এবং উচ্চমানের প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বাসস একসময় দেশের প্রধান সংবাদপত্রের উৎস ছিল; সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে।” একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক নেতাকে বাসসের নেতৃত্বে পাওয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সুযোগ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সকালে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানার কাছে আনুষ্ঠানিক যোগদানপত্র জমা দেওয়ার পর বাসস কার্যালয়ে পৌঁছালে সাংবাদিক ও কর্মচারীরা তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করেন। ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াসহ বাসসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

আজ রোববার দুপুরে এ সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান ইয়াও ওয়েন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম আজ বিকালে বাসস’কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় দেশটির রাষ্ট্রদূত, রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং সফরের অংশ হিসেবে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান।

রাষ্ট্রপতি এসময় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত আশাপ্রকাশ করে বলেন, অন্তত ৩০ টি চীনা কোম্পানি এদেশে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এতে এদেশের অন্তত ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করা এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এসময় চীনের রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী থাকাকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসময় রাষ্ট্রপতির জন বিভাগের সচিব ও সামরিক সচিব উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বাসস


নির্বাচিত

গুমের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো 'আয়নাঘর' থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের তা সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’

আজ সকাল ১১টায় 'আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬' উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের আরেকটা পবিত্র দায়িত্ব, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা 'আয়নাঘর' এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম-খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বশংবদ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকয়টিকেই একসঙ্গে ভুলুষ্ঠিত করা হয়।

দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল সেটিকে রাষ্ট্রপতি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি, বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের স্মরণ করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন, একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

এসময় তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁদের অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না।

এসময় তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

একইসাথে তিনি ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সানজিদা ইসলাম তুলির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।

তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে সেটি একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ইশরাক হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাসমূহের যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

সুত্রঃ বাসস


নির্বাচিত

গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার—এমন তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৩০ আগস্ট) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গুমের শিকার হওয়ার ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভয়াবহতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা যারা গুম ছিলাম, প্রতি মুহূর্তে আমাদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময়ে তাদের স্বজনরা কীভাবে সময় কাটিয়েছে, সেটি তারা ছাড়া কেউ বুঝবেন না।’ তিনি আরও বলেন, গুম হওয়া ইলিয়াস আলীর স্ত্রী কিংবা সুমনের মায়ের মানসিক যাতনা অনুধাবন করা কঠিন, ঠিক যেমন তার নিজের নিখোঁজ থাকাকালীন তার পরিবার যে চরম অস্থিরতায় ছিল তা অন্য কেউ বুঝবে না। বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান টেনে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৭০৯ জন গুমের খবর পাওয়া গেলেও ফিরে এসেছেন মাত্র ১৫৫ জন। এছাড়া বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গুম সংক্রান্ত আরও ১৮৫০টি আবেদন জমা পড়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ট্র্যাজেডি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনে ১৪০০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য থাকলেও তাদের সংগৃহীত হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। লাশ গায়েব ও পুড়িয়ে ফেলার কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা গুম ও মানবাধিকার নিয়ে শক্তিশালী আইন উপস্থাপন করেছি। নতুন আইনে গুমের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র।’ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারসহ প্রতিটি গুমের সঠিক বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিচার নিশ্চিত করা হবে। গুম ও হত্যার মতো ঘটনায় অনুতপ্ত না হয়ে বিদেশে বসে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা লজ্জার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, আওয়ামী লীগের দাফন এখন দিল্লিতে হয়ে গেছে। পাশাপাশি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াকআউট একটা প্রতিবাদ, সেটারও একটা নিয়ম আছে। ওয়াকআউট করলে জনগণ আপনাদের কথা জানবে না। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান, সবকিছুতে অংশগ্রহণ করুন, নিজেদের মতামত জানান।’


নির্বাচিত

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালা থাকবে না বলে সুষ্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সাথে বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনায় জড়িত অপরাধীরা যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বিগত সময়গুলোতে গুম ও ‘আয়নাঘর’-এর ভয়াবহতা স্মরণ করে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই মানুষকে তুলে নিয়ে গুম করা হতো। অথচ তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসনের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধগুলোকে নিয়মিতভাবে অস্বীকার করে এসেছে। ভাষণে তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ ব্যারিস্টার আরমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমীর অবদান স্মরণ করেন। একই সাথে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে অন্য দেশে ফেলে আসার লোমহর্ষক ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ বা মৃত। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে গুম ও খুন করা হয়েছে। গুম প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গুমকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদেও স্বাক্ষর করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে বলেও রাষ্ট্রপতি আশ্বস্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে বর্তমান সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৈঠককালে দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি বিশেষ করে অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং বাংলাদেশের দক্ষ প্রকৌশলীদের মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বাণিজ্যের প্রসারে ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ শিল্প এবং হালাল ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের সফলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

৬ মাসে মালয়েশিয়ায় ২ লাখ কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে মোট দুই লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে। এর বাইরে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা ‘জিরো কস্টে’ আরও ১০ হাজার শ্রমিক নেবে দেশটি। বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াটিও সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকেই শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান (ইভি), সৌরবিদ্যুৎ ও হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৈঠকে রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার প্রধান সড়কে কোনো ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলবে না। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। বর্তমানে রিকশাগুলোর নিবন্ধন ফি ও বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। বুয়েট বা সরকারি পলিটেকনিকের অনুমোদিত নকশা এবং ট্রাফিক ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ই-রিকশা লাইসেন্স পাবে না। এছাড়া ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার পয়েন্টগুলোর লাইসেন্স প্রদান করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা।


নির্বাচিত

নিকৃষ্ট ও ভয়ংকর অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে গুম: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’-কে বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট ও ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (৩০ আগস্ট) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা খতিয়ে দেখে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাণীতে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং এই অমানবিক প্রথাকে মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে গত ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিগত সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের হাতিয়ার হিসেবে গুম ও অপহরণকে বেছে নিয়েছিল। তিনি ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালার কথা উল্লেখ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের এসব স্থানে মানুষকে মাসের পর মাস অবরুদ্ধ করে রাখা হতো। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে তিনি জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অপব্যবহার করে কমপক্ষে ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছিল। গুম শুধু একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পুরো পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ রোধে সরকারের আইনি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ রুদ্ধ হবে। আইসিসির রোম সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বীর ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী বা চৌধুরী আলমের মতো অনেকের খোঁজ এখনো মেলেনি বলে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই নিষ্ঠুর অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই বাণীর বিস্তারিত দেশবাসীকে অবহিত করেন।


নির্বাচিত

দেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা, বাড়তে পারে দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ এসে লাগছে বাংলাদেশের মানুষের ঘরে। জ্বালানির দাম বাড়ছে, গ্যাসের সংকটে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সার উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন থেকে কৃষি, খাবারের দাম থেকে মানুষের আয়-রোজগারে। সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি বছর দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূল্যায়নটি করা হয়।

বাংলাদেশ এমন এক সময়ে এ সংকটে পড়েছে, যখন অর্থনীতি আগে থেকেই চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থানও প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এ বছর দেশে দারিদ্র্য বাড়ার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা থাকবে প্রায় ১০ শতাংশ। জ্বালানির বাড়তি দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত বলেও তিনি মনে করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।

বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। এরই মধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।

জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়।

দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বাড়লে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।

তার মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি সংকট নয়; কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্ন-আয়ের মানুষকে।


নির্বাচিত

banner close