পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘রেমাল’।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, আগামীকাল রোববার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
‘রেমাল’ একটি আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ বালু। নামটি দিয়েছে ওমান। বঙ্গোপসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে সেগুলোর নাম আগে থেকেই ঠিক করা থাকে।
গতকাল শুক্রবার সকালে নিম্নচাপ সৃষ্টির তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেতও দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, রেমাল বাংলাদেশের সুন্দরবন-সংলগ্ন খুলনা ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার উপকূলের দিকেই আঘাত হানতে পারে। এর বিস্তৃতি অপেক্ষাকৃত বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. শামীম আহসান বলেন, এখনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়নি। গাণিতিক মডেলগুলো বলছে, এটি সৃষ্টি হলে বাংলাদেশের উপকূলের দিকেই আসতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার হতে পারে।
নিম্নচাপ সংক্রান্ত প্রথম বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি গতকাল সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে প্রবল ‘ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন সেটিকে ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তা হয় ‘সুপার সাইক্লোন’।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রেমাল আঘাত হানলে, তা প্রবল থেকে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। তবে ‘সুপার সাইক্লোন’ হওয়ার আশঙ্কা নেই।
পরীক্ষাসহ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচনসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে চিন্তা করছে কমিশন। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিলাম। পরে দেখলাম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু। আবার বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো পিছিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও রয়েছে। কাজেই রমজান, ঈদ, পূজা, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব দিক বিবেচনা করে নির্বাচন আয়োজনের কথা চিন্তা করছে ইসি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারের কোনো চাপে নির্বাচন কমিশন তারিখ পেছায়নি। বরং, বাস্তবতা, আইন ও সংবিধান সবকিছু বিবেচনা করেই কমিশন তারিখ ঘোষণা করে।
শুধু শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হলেই হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি।
আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পীকার বলেন, “আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, “দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক।”
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডেপুটি স্পীকার বলেন, “মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।”
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমরা আর কখনো রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধা ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”
অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে আরও ১১টি এয়ারক্রাফট ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতেই বিমান কিনবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’ বোয়িং প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়েছে। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিন কর্মসূচি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সরকার দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।’
তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতেই বিমান কিনবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’ বোয়িং প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে হয়েছে। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিন কর্মসূচি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনসহ এই সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।
একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাানান তিনি।
বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনের এ অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজক ও অন্যান্য অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা চরম বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বড় বড় ঢল এসেছে। ১৯৮০-এর দশকেও দেশটি রোহিঙ্গাদের কয়েকটি বড় দফার আগমন প্রত্যক্ষ করেছে। তৎকালীন বিভিন্ন সরকারের আমলে কিছু রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। উপরন্তু, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর ক্যাম্পগুলোতে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন আরেকটি প্রজন্ম। রোহিঙ্গা মায়েরা তাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন, তরুণরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে উঠছে এবং প্রবীণরা নিজেদের ফেলে আসা ঘরবাড়ি ও গ্রামের স্মৃতি বুকে নিয়ে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছেন।
মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পগুলোতে তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোতে বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী কোনো আদর্শ স্থান নয়।
দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের মাশুল শুধু রোহিঙ্গাদেরই দিতে হচ্ছে না, কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ওপরও এর তীব্র প্রভাব পড়ছে।
দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচার, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধ রয়েছে। এমনকি অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন।
একটি দেশে অমীমাংসিত থেকে যাওয়া এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন যত বাড়ছে, মানবিক সহায়তার জীবনরেখা ততই সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে; যা দিয়ে কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।
‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না’ উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের পাশে অব্যাহতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এবং বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কেবল বাংলাদেশই রোহিঙ্গাদের দায়ভার বহন করে যাবে- এমনটাও প্রত্যাশা করা যায় না।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।
রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম এবং নিরাপত্তাহীনতাসহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং ‘আরাকান আর্মি’- উভয়ের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে সেখানে এখনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন শুধুই সহমর্মিতা না দেখিয়ে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
সূত্র: বাসস
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কমিটিগুলো থেকে আওয়ামীপন্থিদের সরিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিগুলোতে তিনজন করে গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে রাখতে বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন হবেন নারী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে।
চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। অধিকাংশ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছে। আবার কিছু কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই চিঠির ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি কমিটিতে তাদের মনোভাবের ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর অনেকে আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে গেছেন। কমিটির সভায় তারা থাকতে পারছেন না। আবার কোথাও কোথাও কমিটির বৈঠতে তাদের ডাকা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব কারণে পুরোনো কমিটি বহাল রেখে সরকারি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কাজেই নতুন বাস্তবতায় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এসব কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের মনোভাবের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মেলে না। তাদেরকেও এখন এসব কমিটি থেকে সরানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তাতে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এসব কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটাই হয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন টানা ক্ষমতায় ছিল। তাই বিভিন্ন কমিটি অনেক দিন পুনর্গঠন করা হয়নি। আগের সরকারের প্রতিনিধিরাও রয়ে গেছেন। এখন সেসব কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন করে গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এ তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করার কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
আগের সরকারের আমলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধির বাইরেও পাঁচজন সদস্য রাখা হতো। তাদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং বাকি তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রেখে কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ৯৮টি কমিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরা। এসব কমিটিও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি, আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ–সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন ডিসিরা।
জেলা প্রশাসকেরা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি, ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি। জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও ডিসিরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন এসব কমিটি পুনর্গঠনে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এমন অনেক কমিটি আছে, দীর্ঘদিন সভা অনুষ্ঠিত হয় না। দ্বিতীয়ত, অনেক কমিটি আছে, যেখানে আওয়ামীপন্থিরা রয়ে গেছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।
সহকারী প্রেস সচিব বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঢাকার আশপাশের উপশহর এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ ও শক্তিশালী করতে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য এলাকা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও সহনশীলতা বাড়ানো হবে।
‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ বা বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (বিআরইবি) সহায়তা করবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরাঞ্চলে সেবা দেওয়া ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে।
এডিবির সহায়তায় পরিচালিত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন সমস্যা যেমন- ওভারলোড হওয়া সাবস্টেশন, পুরোনো অবকাঠামো, সিস্টেম লস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করবে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, সহনশীল ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি হয়ে ওঠার ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও বর্ধিত সহনশীলতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রকল্প ঢাকার চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী করে তুলতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষ যেন তাদের প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২টি সাবস্টেশনে ১,১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার যুক্ত করা হবে এবং বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে। এছাড়া ২,৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড বিতরণ লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে এবং নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।
সিস্টেম অপারেশন আধুনিকীকরণে নদী পারাপারের ট্রান্সমিশন স্ট্রাকচার ও সুইচিং স্টেশন তৈরি করা হবে এবং দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ ও পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ‘ফল্ট লোকেটর সেট’ স্থাপন করা হবে।
২০২২ সালে বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, যা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রকল্পটি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সহায়তা করবে।
এই প্রকল্পের জন্য এডিবির বিশেষ ‘রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং’ বা দুর্যোগ-সহনশীলতা বিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪৬.৫২ মিলিয়ন ডলার। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব ‘গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার’ প্রযুক্তির মতো অভিযোজন-সহায়ক ব্যবস্থার জন্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি অপচয় হ্রাসের মাধ্যমে বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রায় ২,০৩,৭৫১ টন (কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমতুল্য) কমাতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পটি ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিআরইবি ও পিবিএস -গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পিবিএস-গুলোর আর্থিক স্থায়িত্ব জোরদার করার মাধ্যমে এটি বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রকল্পটি নারী ও মেয়েদের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল বিভিন্ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের উন্নয়ন।
এডিবির এই সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবি ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলার সহ-অর্থায়ন করবে। এছাড়া এডিবির পরিচালিত ‘রিপাবলিক অব কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে পাওয়া ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থায়িত্ব পরিকল্পনা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিল্প মালিকদের সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সঙ্গে যুক্ত সবাই যেন সমানভাবে উপকৃত হতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে সরকার ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। বিকাশমান অর্থনীতিতে শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিনিয়োগ ও শিল্পের বিকাশে অর্থায়নের সুযোগ সহজ করা জরুরি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি শিল্প মালিকদের সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দেশের অর্থনীতির গতি সচল রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নিটওয়্যার শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের ধন্যবাদ জানান।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সমস্যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিকেএমইএর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের মানুষ নানা সংকটে থাকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল সংসদে একাধিক নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু এসব নোটিশ আলোচনায় আনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গোটা সমাজ একটা সংকটের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর আমরা সংসদ সদস্যরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াব—এটা প্রশ্নই ওঠে না।’ সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে জামায়াতে ইসলামী তার বিরোধিতা করবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রয়োজনেই সংসদে গেছেন, আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, তারা জাতীয় সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। সরকারি ও বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যের মধ্যে ‘সেবকের মানসিকতা’ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, বিরোধী দল সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় না। বরং জনগণের সমস্যা সংসদে তুলে ধরার সুযোগ না থাকলে তারা জনগণের কাছে যাওয়ার পথ বেছে নেবেন।
দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পমালিকেরা সংকটে পড়বেন এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। এর প্রভাব শুধু শ্রমিকের ওপর নয়, পুরো পরিবারের ওপর পড়বে।
তিনি বলেন, একজন মানুষ বিপদে পড়লে তার সন্তানদের লেখাপড়া, খাবার ও চিকিৎসাসহ পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই জনগণের স্বার্থে সমস্যাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জামায়াতের সাম্প্রতিক লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান দাবি করেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। কর্মসূচি বানচাল করতে কেউ আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে থাকলে তার দায় তাদের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজের কর্মসূচি সফল করতে চাওয়া কোনো সংগঠন একই সময়ে কর্মসূচি বানচালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা কারা করেছে, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, এক লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়লে এর প্রভাব শুধু যানবাহনের মালিক বা চালকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত বাজারদরেও এর প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ওপর পড়ে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্যও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি এবং বিরোধী দলের চিন্তাভাবনা জানতে দেশ-বিদেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্যও মানুষের শোনা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমে বক্তব্যের অংশবিশেষ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কোনো অংশ প্রচার করলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সংবাদমাধ্যম কার্যকরভাবে কাজ করলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও জবাবদিহির মধ্যে থাকে। এ কারণে গণমাধ্যমকে দেশের স্বার্থে সত্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মালিক ফারিহা মেহনাজ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ১৮তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি মেধাক্রমে তৃতীয় হয়েছেন।
এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তার স্বামী আল জাদিদ ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় তৃতীয় হয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এবার ফারিহার সাফল্যে পরিবারে যুক্ত হলো নতুন আনন্দ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ফল প্রকাশের পর ফারিহার সাফল্যের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তার স্বামী আল জাদিদ। স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার স্ত্রীকে সিভিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। মেধাক্রম ৩য় (আমার মতোই)।’
অন্যদিকে, মালিক ফারিহা মেহনাজ নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। সিভিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত। মেধাক্রম ৩য়। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা।’
বাস-মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলাগুলোর—নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা—অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসনসংখ্যা কমিয়ে বাস বা মিনিবাসের আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অথবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির কাছ থেকে আনুপাতিক ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
তবে নতুন নির্ধারিত ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস বা মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
জনস্বার্থে নির্ধারিত এ ভাড়ার হার গত মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা ছয় সেশন কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। আগের দিনও ব্রেন্ট ১০০ ডলারের নিচে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশাকে দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক স্বস্তির মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরবরাহের ঝুঁকি কমাতে একদিকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করছে সরকার, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর অপরিশোধিত তেলের উৎসের বাইরে নতুন বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি জ্বালানি কেনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
চীন-ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬.৯৫ লাখ টন: সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর—এই চার মাসে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল রয়েছে। মূল বরাদ্দের তুলনায় অতিরিক্ত এই আমদানি বছরের শেষ চার মাসে সরবরাহের নিরাপত্তা ও মজুত বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেয়। জ্বালানি আসবে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বিএসপি থেকে।
তবে প্রকাশিত সরকারি সিদ্ধান্তে ৬ লাখ ৯৫ হাজার টনের পুরো পরিমাণকে দেশভিত্তিক বা কোম্পানিভিত্তিক আলাদা করে দেখানো হয়নি। ফলে চীন থেকে ঠিক কত টন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কত টন আসছে—এ তথ্য নিশ্চিতভাবে আলাদা করে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
৫০:৫০ কাঠামোতে পরিবর্তন: বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ক্রয়পদ্ধতিতে। সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি ক্রয় (G2G) এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের ৫০:৫০ অনুপাত শিথিল করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি থেকে সরাসরি বেশি জ্বালানি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক দরপত্রে কয়েকটি কোম্পানির প্রস্তাবও তুলনামূলক বেশি দামের কারণে আটকে যায়। সেপ্টেম্বরে ট্রাফিগুরা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট এ-১ সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। ভিটল এশিয়া ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট এ-১ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। দুটি প্রস্তাবের মূল্য ছিল যথাক্রমে প্রায় ৪ হাজার ৮০৩ কোটি ও ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
এর আগে আরও কয়েকটি প্যাকেজের প্রস্তাবও অনুমোদন না দিয়ে কম প্রিমিয়াম ও ভালো দামে পুনরায় দরকষাকষির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্যাকেজে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার থেকে ৭ লাখ ৫ হাজার টন ডিজেল, ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ছিল।
আমদানির সময়ও কমেছে: সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু উৎস বা ক্রয়পদ্ধতি নয়, আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রস্তুতি ও জমা দেওয়ার সময় ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করার নীতিগত অনুমোদন দেয়। দ্রুত দরপত্র শেষ করে সরবরাহ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
অর্থাৎ, আগের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির কৌশলে তিনটি পরিবর্তন স্পষ্ট—বিকল্প সরবরাহকারী, সরাসরি G2G ক্রয় এবং দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়া।
অপরিশোধিত তেলে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজছে বিপিসি: সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের জায়গা অপরিশোধিত তেল। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুরবান ক্রুড প্রক্রিয়াজাত করে। ফলে অপরিশোধিত তেলের উৎস পরিশোধিত জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার পর বিপিসি বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরীক্ষার পর নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার অপরিশোধিত তেল বিদ্যমান পরিশোধন ব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য বলে শনাক্ত হয়েছে। বিপিসি এসব দেশের সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
এখানে অবশ্য একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—এখন পর্যন্ত এসব দেশ থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং এগুলোকে সম্ভাব্য বিকল্প উৎস হিসেবে যাচাই ও আলোচনার পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়: বিকল্প উৎস খোঁজার পেছনে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারদর নয়, সরবরাহপথের নিরাপত্তাও বড় কারণ। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ‘এমটি নিনেমিয়া’ প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাব-এল-মান্দেব এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চট্টগ্রামে আসে। এতে সময় লাগে প্রায় ৫০ দিন এবং অতিরিক্ত ব্যয় হয় ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। স্বাভাবিক পথে সময় লাগত প্রায় ১৩-১৫ দিন।
এই অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের বার্ষিক পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা প্রায় ৭২ লাখ টন, আর ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে।
পরিশোধিত জ্বালানিতে উৎস আগে থেকেই বৈচিত্র্যময়: বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে পরিবর্তনটি পুরোপুরি নতুন নয়। পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশটি ইতিমধ্যে চীন, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও ওমানসহ বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করছে। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য ছয়টি রাষ্ট্রীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রায় ১৬ হাজার ৮৯ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। সরবরাহকারীদের মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের এনক, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল, থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি।
অর্থাৎ পরিবর্তনটি মূলত পরিশোধিত জ্বালানিতে নতুন দেশ যুক্ত করার চেয়ে G2G ক্রয়ের পরিমাণ, সরবরাহের গতি ও বিকল্প উৎস ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে।
দাম কমলেও দেশের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব নেই: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ২৩ সেপ্টেম্বর ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে গেলেও বাংলাদেশের খুচরা বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং ২১ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ১৩৫, অকটেন ১৬৫, পেট্রোল ১৬০ এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
এর কারণ, বাংলাদেশের জ্বালানি মূল্যে শুধু আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম নয়—আমদানি ব্যয়, পরিবহন ও জাহাজভাড়া, পরিশোধিত পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য এবং আগের উচ্চমূল্যে করা ক্রয়ের প্রভাবও রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমার পরও স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়তে সময় লাগতে পারে।
সামনে বাংলাদেশের কৌশল: সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বর্তমান কৌশলকে তিনটি স্তরে দেখা যায়—মজুত বাড়ানো, সরবরাহের উৎস ও পথ বৈচিত্র্য করা এবং সরাসরি সরকারি পর্যায়ে দ্রুত জ্বালানি কেনা। এর সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার মতো উৎস যাচাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও বাজারের গতিপথ এখনো ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু দাম কমানোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সরবরাহ ঝুঁকি ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখা যায়।