শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ মাঘ ১৪৩২

জন্মদিনে জাতীয় কবিকে ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৪ ১১:৫৫

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবিকে ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে।

জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে থাকা কবির কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

কবির কবরে ফুল দিয়ে শুরুতেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, হল এবং ইনিস্টিউট। পরে সেখানে ফাতেহা পাঠ করা হয়।

এরপর বিএনপি পরে আওয়ামী লীগ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, কবির পরিবার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, নজরুল গবেষণা কেন্দ্র, নজরুল একাডেমি, কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘বাঁশরী, বাসদ, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এস মাকসুদ কামাল বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সারা জীবন অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতার চর্চা করেছেন এবং সাম্যবাদের পক্ষে অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে কবিতা লিখে কারাভোগ করেছেন। তিনি মানুষের মুক্তির জন্য কথা বলেছেন, লিখেছেন। সেজন্য নজরুল সর্বকালের জন্য প্রাসঙ্গিক কবি। এই প্রাঙ্গিকতার কারণেই আমরা নজরুলকে ধারণ করি, চর্চা করি।’

উপাচার্য বলেন, ‘আমরা যদি বিশ্ব সমাজকে দেখি, গাজায় আধিপত্যের নামে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। সেই হত্যা করা হচ্ছে একটি গোষ্ঠির ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার নামে, তাদের আধিপত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার নামে। সেজন্যে নজরুলের সাম্যের গান, তার প্রতিবাদ, তার যুদ্ধে যাওয়া আজও প্রাসঙ্গিক। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে যদি আমরা এগুলো ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলেই আমরা নজরুল চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারব।’

বিএনপি
দেশ এখন স্বৈরতন্ত্রের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে আছে উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি ক্ষণ কবি নজরুল উদ্বুদ্ধ করছেন প্রতিবাদের জন্য।

নজরুলের বিপ্লবের গান, বিদ্রোহর গান আমাদের প্রাণিত করেছে, আজও উদ্বুদ্ধ করে। কবির কবিতা, গান এবং তার সমস্ত সাহিত্য সৃষ্টি আমাদের উদ্বুদ্ধ করছে শত নিপীড়ন নির্যাতন ভোগ করে আজকের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করতে, এগিয়ে যেতে।’

গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে বিএনপি কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিবাদের ভাষা রপ্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘সেই প্রতিবাদের ভাষা আমরা রপ্ত করে আমরা গণতন্ত্র ফেরানো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের যে লড়াই আমরা অব্যাহত রাখছি। আমরা যখন কারাগারে যাই, যখন আমাদের বিচার হয় তখন আমরা নজরুলকে স্মরণ করি। কারণ আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি বলেই আমাদের সাজা দিচ্ছে, কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি, বিদ্রোহ বেদনার কবি, যৌবনের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। বাঙালি জাতির স্বাধিকার সংগ্রাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের প্রেরণার উৎস হচ্ছেন কবি নজরুল। যার কবিতা, গান স্বাধীনতা ও স্বাধিকার সংগ্রামে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমরা আজ তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু সেই বিজয়কে সুসংহত করার এখনো অনেক কাজ বাকি। বিজয়কে সুসংহত করার পথে বাধা দিতে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের কিছু সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি তৎপর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বো, সেটিই হবে নজরুলের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।’


কবির নাতনি খিলখিল কাজী
কবির কবরে ফুলের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন পরিবারের পক্ষ থেকে কবির নাতনি খিলখিল কাজী। তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই আমরা কবির জন্মদিনকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন জানিয়ে এসেছি। তবে এখনো সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। কেন করা হচ্ছে সেটি আমি জানি না।’

আপনারা কোনো সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, না। আমরা কোনো লিখিত আবেদন করিনি। শুধু প্রতিবছর আপনাদের সামনে এসেই বলেছি।’

খিলখিল কাজী বলেন, ‘কবির রচনাবলি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই রচনাবলিকে অনুবাদ করে বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এটি সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো ভাবেই করা যেতে পারে।’

কাজী নজরুলের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ গানটি জাতীয়ভাবে গাওয়ার দাবি জানিয়ে খিলখিল কাজী বলেন, ভারতে এখনো তাদের জাতীয় কোন প্রোগ্রামে ‘জন গণ মন’ গানটির পাশাপাশি বন্দে মাতারাম গানটিও গাওয়া হয়। আমাদেরও উচিত যেকোনো জাতীয় প্রোগ্রামে কবির এই গানটি গাওয়া। কারণ এই গানটি দেশের মুক্তির চেয়ে মানুষের মুক্তির কথা বেশি বলেছেন।

তিনি বলেন, এই গানটি আমাদের আলোকিত পথে এগিয়ে যাওয়ার দিক নির্দেশনা দেয়। এই গানটি আমাদের মুক্তি এবং এগিয়ে যাওয়ার কথা বলে। যতই সংকট হোক, আমরা যেন কবির এই গান নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি। এই গানটি কবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান বলেন, আজকে সারা বিশ্বে যেভাবে যুদ্ধ ও অশান্তি লেগে আছে নজরুল কিন্তু সবসময় এটার বিপক্ষে ছিলেন৷ অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে ছিলেন তিনি, সবসময় শান্তি চাইতেন৷ নজরুলের গানগুলো যদি আন্তর্জাতিকভাবে চর্চা করি, তাহলে বিশ্বকে শান্তির স্থানে নিয়ে যেতে পারব।

তিনি বলেন, আমরা চাইব, কবির যত গান, নাটক, রচনা রয়েছে তা কেবল ইংরেজি ভাষায় নয়, বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়৷ নজরুলের কবিতা ও গান নিয়ে আরও গবেষণা করা উচিত৷ নজরুলের গানের কপিরাইট সংরক্ষণের দায়িত্ব শুধু পরিবারের না, রাষ্ট্রেরও৷ নজরুলের গান যত তাড়াতাড়ি করে ফেলতে পারব, ততই ভালো৷ তাহলে দেশের সম্পদ দেশেই থাকবে৷


বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দুইজন মার্কিন সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ হওয়া নিশ্চিত করতে মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।

গত মঙ্গলবার লিখিত এ চিঠিতে তারা বলেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন একটি ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের প্রথমবার ভোট হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না-বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নাজুক অবস্থা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সদস্যরা। তাদের মতে, এই প্রেক্ষাপট লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে জনতার হাতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও তারা উল্লেখ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় সুযোগ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম করতে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে তা সহায়ক হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের দপ্তরগুলোকে অবহিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং দেয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।


রেলে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

শনিবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে নাশকতামূলক কার্যক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে রেলের যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নাশকতা, কিংবা রেল যাত্রী, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেলস্টেশনে দায়িত্বরত কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে কল করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া উৎসবভাতা পরিশোধে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শনিবার স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া উৎসবভাতা ও বেতন সংক্রান্ত এক জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে। অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর তথ্যের ত্রুটিজনিত কারণে যেসব শিক্ষকের ঈদ বা নববর্ষের উৎসবভাতা বকেয়া রয়ে গিয়েছিল, তাদের বিল সাবমিটের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ইএফটি বিল সাবমিট অপশন ব্যবহার করে বকেয়া ভাতার আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইএফটি প্রক্রিয়ায় জটিলতার ফলে যদি কোনো শিক্ষকের এক বা একাধিক মাসের নিয়মিত বেতনও বকেয়া থেকে থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রেও মাসভিত্তিক বকেয়া বিল দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তথ্যের সঠিকতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুত এই পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা যাকাত দেয় না তাদের ঈমান নেই: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) আয়োজিত ১৪তম যাকাত ফেয়ারে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন দেশের আর্থ-সামাজিক সংকট উত্তরণে যাকাত ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেশের এক শ্রেণির মানুষের যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, যাকাত ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ থাকলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

সামাজিক এই দুঃখজনক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দেশে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নেওয়া একটি দুঃখজনক বিষয়। যাকাত যদি সঠিকভাবে আদায় করা হতো তাহলে এই পেশা তাঁদের বেছে নিতে হতো না বা এ ধরনের সমস্যাও হতো না।’ উপদেষ্টা আরও জানান যে, ইসলামে এক হাজার বছর ধরে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায়ের বিধান থাকলেও ব্রিটিশ ও মুঘল আমলে তা ব্যক্তি পর্যায়ে চলে আসায় এর কার্যকারিতা ও গুরুত্ব বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর অবদান অনেক। ইসলামে এক হাজার বছর ধরে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করা হতো। ব্রিটিশ এবং মুঘল আমলে এসে সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে পরিণত হয়। এতে যাকাতের গুরুত্ব অনেক কমে যায়।’

যাকাত প্রদানকে নিছক করুণা নয় বরং ধর্মীয় অলঙ্ঘনীয় বিধান হিসেবে উল্লেখ করে খালিদ হোসেন বিত্তবানদের দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা যাকাত দেয় না তাদের ঈমান নেই। আমাদের দেশে অনেক ধনী সঠিকভাবে যাকাত দেন না। যাকাত কোনো ধরনের দান-দক্ষিণা নয় বরং এটা গরিবের হক। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের সমাজে উপেক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’ উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বর্তমান বিশ্বের সামগ্রিক দার্শনিক সংকট ও যাকাতের বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।

বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের পৃথিবীতে আমরা গভীর এক দার্শনিক সংকটে পড়েছি। এই সংকট বিশ্বব্যাপী। এর তিনটি দিক আছে। প্রথমত- আমরা কোথায় যেতে চাই। এটা নিয়ে চিন্তার আরও প্রয়োজন রয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত- গন্তব্যে যাওয়ার পথ নিয়েও সংকট রয়ে গেছে। এই বিষয়টাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পথটা সঠিক না হলে সবকিছুই বৃথা যায়। তৃতীয় দার্শনিক সংকটের আরেকটা বিষয় হচ্ছে ইনস্ট্রুমেন্ট। জাতিসংঘও এই গন্তব্য নিয়ে গভীর সংকটে আছে।’

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান যাকাতকে কেবল আর্থিক লেনদেন হিসেবে না দেখে একে একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, যাকাত প্রদানের পরবর্তী তদারকিও দাতার দায়িত্বের অংশ। সিজেডএম-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সিজেডএম (সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট) যে উদ্যোগ নিয়েছে এটার একটা বৈশ্বিক গুরুত্ব আছে। যাকাতের যে বিষয়টো আজ সামনে এসেছে এটার একটি আর্থিক দিক আছে। অবশ্যই এটা আরও সঠিকভাবে দেওয়া দরকার। আমার কাছে যাকাত একই সঙ্গে আর্থিক দায়িত্বের সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে- যাকাত দিয়েই আমার দায়িত্ব শেষ নয়। কারণ এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে সেটা তদারকি করাও প্রয়োজন।’

সর্বশেষে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ‘সুতরাং যাকাত দেওয়ার শুরু থেকে অর্থ ব্যবহারের সবকিছুই দায়িত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’


দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ, জীবিকা সংকটে ব্যবসায়ীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি মৌসুমের শেষ দিন হিসেবে পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী টানা নয় মাসের জন্য দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। প্রতিবছর সাধারণত ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম চললেও বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এবার সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, শনিবারই শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং রোববার থেকে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। তিনি আরও জানান, সরকার পরবর্তী সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার ফলে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান অনেক ব্যবসায়ীর বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে আনতে না পারা এবং লোকসানের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জনদুর্ভোগের আশঙ্কা ব্যক্ত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই পর্যটননির্ভর। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ।’


আমরা সবার সাধ্যমতো চেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শনিবার সকালে ভোলা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের জটলা সহ্য করা হবে না।’ তিনি নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, ‘ভোট হবে উৎসবমুখর। কোনটা ভোটের উৎসব আর কোনটা ভোট ঠেকানোর জটলা—তা আপনাদের বুঝতে হবে। তা বুঝেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইসি বলেন, ‘নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য ভোটকেন্দ্রে শতভাগ সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে। এতে করে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকবে। কেন্দ্রে কেউ অসৎ কাজ করার সুযোগ পাবে না।’ জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা সবার সাধ্যমতো চেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই।’ এছাড়া তিনি নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালনকারী সকল সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।


উপদেষ্টা পরিষদের সভা: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ ১১ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশটি বাস্তবায়িত হলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এক নতুন আইনি কাঠামোর সৃষ্টি হবে। একই সভায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পায়। এ ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণে ‘বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও বৈঠকে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতিসংঘের ‘নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশন’-এর ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ কর্তৃক অতীতে দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের প্রস্তাব। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করবে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার সিদ্ধান্ত এবং নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন-১৯৮০’ কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের দিকে নজর রেখে উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৫-২৮ সময়কালের জন্য ‘আমদানি নীতি আদেশ’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের লক্ষ্যে পৃথক দুটি অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর ২৩ মার্চকে জাতীয়ভাবে ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাবটিও সরকার অনুমোদন করেছে। উপদেষ্টা পরিষদের এসব সিদ্ধান্ত দেশের মানবাধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নারীদের সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত অধ্যাদেশ ও প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


আরও ১২ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’র গেজেট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য অবদান রাখা ছাত্র-জনতার তালিকায় অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা ভুল ও অসত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে ধরা পড়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তা সরকারি গেজেট আকারেও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ১১(৪) ধারা এবং ‘রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬’-এর শিডিউল-১ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে এই ১২ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। তারা সবাই জুলাই যোদ্ধাদের ‘গ’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মূলত গেজেটভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় সরকার এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত ইতিহাস ও যোদ্ধাদের সম্মানের প্রশ্নে কোনো প্রকার জালিয়াতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

বাতিল হওয়া এই ১২ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার পাঁচজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার সাতজন রয়েছেন। দিনাজপুরের যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা হলেন তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর এবং মোছা. সখিনা। অন্যদিকে, চাঁদপুরের বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেকের গেজেট নম্বর, মেডিকেল কেস আইডি এবং স্থায়ী ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এটিই জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম বাতিলের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও গত বছরের ২৯ অক্টোবর একইভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং একই নাম দুইবার অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ১২৮ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শহীদ ও যোদ্ধাদের একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। মূলত প্রকৃত যোদ্ধাদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থেই এই ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত যোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় প্রতিফলিত হয়েছে।


নির্বাচনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কোনো ধরনের মারণাস্ত্র বা ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বিজিবির প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা সেক্টরের অধীনে ৯টি জেলা এবং ৪টি সিটি করপোরেশনের মোট ৫১টি আসনে ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ভোটাররা যেন কোনো প্রকার ভয় বা শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং সকল প্রার্থীর জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই বিজিবি কাজ করছে। এছাড়া বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রমের জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবে।

নির্বাচনী ডিউটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবার বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর এবং আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বিজিবি মূলত মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাবে যাতে কোনো অশুভ শক্তি নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

যেকোনো ধরনের আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির বিশেষ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা বিজিবির রয়েছে। সেক্টর কমান্ডার স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বড় কোনো শঙ্কার কারণ দেখা যায়নি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়টি বিজিবি মহাপরিচালকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বিজিবির নিবিড় সমন্বয় থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। বিজিবির প্রতিটি বেইজ ক্যাম্পের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে যাতে প্রয়োজনে তারা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমেও তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। বিজিবি আশা প্রকাশ করছে যে, সংবিধান ও আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং জনগণের আস্থাকে সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর। মূলত একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থেই বিজিবি তাদের পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ স্তর নিশ্চিত করবে।


হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক যাত্রীদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত এই আবেদন কার্যক্রম চলবে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর প্রস্তুতি হিসেবেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের হজের জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় মাধ্যমে যারা এরই মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাদের জন্য সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি হজযাত্রীকে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ শেষ করে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনলাইন সনদ বা ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে। এই ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রী এবার সৌদি আরবে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিবন্ধিত বাংলাদেশি হজযাত্রী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌদি আরবের ‘নুসুক মাসার’ (Nusuk Masar) ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট এই সময়ের পর আবেদনের আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই সকল নিবন্ধিত হজযাত্রীকে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা গ্রহণ এবং ফিটনেস সনদ নিয়ে ভিসার আবেদন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, এ বছর ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে হজ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সময়মতো ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যারা এখনও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত যাত্রী নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা কঠোরভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার হুমকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর আগে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি কর্মচারীরা। ঢাকায় শুক্রবার সকালে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেন তারা।

পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও সরকারি কর্মচারীদের দাবি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি। দাবি আদায়ে তাই আগামী ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করা হবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে সরকারি কর্মচারীরা তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। গুলো হচ্ছে—সর্বনিম্ন পে-স্কেল ৩৫ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।

২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণ করা তিনটি টাইম ফেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল ও সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্র্যাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।

কর্মরত কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না বিধায় চাকরিরতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহতভাবে রাখতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম ফেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে নং-অম/অবি (বাস্ত-৪) /বিবিধ-২০ (উঃক্ষেঃ/ ০৭ / ৪৭, তারিখ-২৪-০৩-২০০৮ খ্রি. যোগে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত বৈষম্যমূলক জারিকৃত আদেশ বাতিল করতে হবে।

বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ ও সামরিক/আধা সামরিক বাহিনীর মতো (১০-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদবৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের মতো সকল সরকারি, আধা সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।


বাংলাদেশের পক্ষে লড়বে ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কয়লার দাম ও বিদ্যুৎ শুল্ক নিয়ে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) মধ্যস্থতা ও সালিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান থ্রি ভিপি চেম্বার্স নামের লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ থ্রি ভিপি চেম্বার্স বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করবে। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান নেতৃত্বাধীন এই চেম্বার্সটি গত কয়েক মাস ধরে আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনাকারী জাতীয় কমিটিকে পরামর্শ দিয়ে আসছিল।

হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই এই আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর আদানি পাওয়ার সিঙ্গাপুরে সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করায় বাংলাদেশকেও আইনি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

আদানি পাওয়ারের দাবি, বিতর্কিত কয়লা শুল্ক সংক্রান্ত বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ তাদের প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেনি। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সালিশে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হলেও তা চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়ছে। চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিপিডিবি আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ জোরদার করে।

জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বৃহস্পতিবার জানায়, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেয়ার মতো শক্ত প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, আদানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু কর্মকর্তার অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে পর্যালোচনা কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছিলেন, চুক্তি যদি দুর্নীতির মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আদানির সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল করতে পারে।

হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদনও তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক কমিটি সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদানি ও তাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ সামনে আসবে।

তবে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, আইনি ভিত্তি থাকলেও আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি আসতে পারে।

বর্তমানে আদানি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুনে এককালীন ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল পাওনা মিটিয়েছে। এর আগে অর্থ পরিশোধে জটিলতার কারণে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল, তবে বকেয়া পরিশোধের পর পূর্ণ সরবরাহ আবার চালু হয়েছে।


রোজার আগেই বাড়ল গরুর মাংসের দাম

* পোলাও চালসহ কয়েকটি উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দামও বাড়তি * আগের দামেই মিলছে সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন মুদিপণ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো বাকি সপ্তাহতিনেক। এর মধ্যেই গরুর মাংসের বাজার যেন ‘গা গরম’ করতে শুরু করেছে। কোনো কোনো বাজারে এমন অবস্থাই দেখা গেছে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি)। এত দিন যারা ৭০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করতেন এদিন তাদের সাড়ে সাতশ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। যারা ৭৫০ টাকায় বিক্রি করতেন তারা ৭৮০ টাকা পর্যন্ত নেন। কোথাও কোথাও আবার ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিন্তু বিক্রেতাদের দাবি, এই দাম আগে থেকেই ছিল। এদিকে, বাজারে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। সেই সঙ্গে দাম কমেছে আমদানি করা নাজিরশাইল চালের। তবে দাম বেড়েছে ছোট দানার মসুর ডাল, লেবু ও পোলাওয়ের চালের। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আর বিদেশ থেকে নাজিরশাইল চাল আমদানি বেড়েছে। ফলে এ ধরনের চালের দামও কমেছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, মালিবাগ, মানিকনগর ও মুগদাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস ও পোলাওয়ের চালসহ কয়েকটি উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নিত্যদিনের প্রয়োজনের সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন মুদিপণ্য বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামেই।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচা বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা মো. খোকন ৮০০ টাকা দাম চাইছিলেন। তবে দামাদামি করে ৭৮০ টাকায় কিনতে দেখা যায় কয়েকজন ক্রেতাকে। এ ছাড়া পরিচিত ক্রেতাদের কাছ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত রাখেন খোকন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ‘হাটে এখন গরু কিনতে ৩-৪ হাজার টাকা বেশি লাগছে। তাই কেজিপ্রতির দামও কিছুটা বেশি রাখতে হয়।’

রাজধানীর মুগদা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজিতে। এই বাজারের বিক্রেতা আব্দুস সালাম সপ্তাহখানেক আগেও ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বললেন, ‘এখন আর পোষাতে পারছি না। এখন দাম কম রাখলে মাংসের মান ঠিক রাখা যাবে না। মান ঠিক রাখতে দাম কিছুটা বাড়িয়েছি। আমি ছাড়া সবাই আগে থেকেই ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি।’

মাংস বিক্রেতারা বলছেন, রোজার মাসে মাংসের চাহিদা বাড়ে। এ ছাড়া রোজার আড়াই মাস পর কোরবানির জন্য অনেক খামারি গরু সংরক্ষণ করেন। এতে বাজারে গরুর সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যায়।

মানিকনগর বাজারে আসা মাংসের ক্রেতা মো. আলী বলেন, ‘একটা সময় ছিল শবে বরাতের কিছু আগে বাজার গরম হয়ে উঠত। তখন মাংসের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিটি করপোরেশন দাম বেঁধে দিত। তবে শবে বরাতের বাজার নিয়ে আগ্রহ আগের মতো নেই। দামও বেঁধে দেওয়া হয় না। তবে হুজুগ একেবারে শেষ হয়েও যায়নি। তাই চাহিদা বাড়তে থাকায় মাংসের দাম বাড়ছে।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে গড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে। টিসিবির ভাষ্য, গত বছরও এ সময় গরুর মাংসের একই দাম ছিল।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা কেজির মধ্যে। গতকালও এ দামেই বিক্রি হয়। ফার্মের ডিমের দাম প্রতি ডজন বাজারভেদে ছিল ১১০-১২০ টাকা।

শীতের সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। সপ্তাহখানেক ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার পর আলুর দাম আবার কমে ২০-২৫ টাকায় নেমেছে। বাজারে আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০-৩৫, শিম প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। তবে শসা ও খিরার বাজার এখনো চড়া, দাম প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুন মান ও জাতভেদে ৫৫-৮০ টাকার মধ্যে। প্রতিটি লাউ কিনতে ৭০-৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

পেঁয়াজের বাজার স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া মানভেদে ৫০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কিছুটা বেড়েছে প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা দামে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে।

বেড়েছে খোলা সুগন্ধি চালের দামও। প্রতি কেজি খোলা চালের দাম দেখা গেল ১৫০-১৬০ টাকা। এত দিন ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।

সেগুনবাগিচা বাজারের মুদি দোকানি মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, মুদিসামগ্রীর মধ্যে ছোলা, চিনি, ডালসহ অনেক কিছুর দাম আগেই বেড়েছে। নতুন করে আর তেমন বাড়েনি। রোজার আগে হয়তো আর বাড়বে না।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১০ টাকা।

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মুদি পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে সরবরাহকারীদের (ডিলার) কাছ থেকে চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না খুচরা বিক্রেতারা। তবে দাম বাড়েনি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০–১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। অবশ্য মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৮৫–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাজিরশাইলের দাম কমেছে: বাজারে দেশি ও আমদানি করা—দুই ধরনের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়। এর মধ্যে আমদানি করা নাজির চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এ চাল বিক্রি হয়েছে ৭৫–৮০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল ৮০–৮৫ টাকা। তবে দেশি নাজিরশাইলের দাম ৮৫ টাকার আশপাশে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে দেশি নতুন নাজিরশাইল চাল এলে দাম আরও কমবে।

অবশ্য মিনিকেট চালের দাম কমেনি। অর্থাৎ আগের দামেই তা স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চালের মধ্যে প্রতি কেজি রশিদ ৭২–৭৩ টাকা, সাগর ও মঞ্জুর ৮০–৮২ টাকা, ডায়মন্ড ৮৫ টাকা এবং মোজাম্মেল চাল ৮৫–৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা বেড়েছে।


banner close