বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাকাবাসীকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: বাসস
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৪ ১৭:১৯

ঢাকাবাসী যাতে সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে সেজন্য তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে- বঙ্গবাজারে ‘বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপনী বিতান’, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি সরণি,’ ধানমন্ডি লেকে ‘নজরুল সরোবর’ এবং শাহবাগে ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যান’ আধুনিকীকরণ শীর্ষক ৪টি উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই এলাকার বিশেষ করে পুরান ঢাকার মানুষ উপকৃত হবে এবং তারা সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবে। এই প্রকল্পগুলো নতুনভাবে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্ধিত ঢাকার জনগণ যেন যথাযথ সেবা পেতে পারে সেজন্য নগরীকে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এই দুটি অংশে ভাগ করেন। যেগুলো ইউনিয়ন ছিল সেগুলোকেও সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নিয়ে এসে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঠিকানাবিহীন পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণে তাঁর সরকার আবাসিক ফ্ল্যাট ও সম্মানজনক পদবীর ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিমে রাস্তাই ছিল না। তাঁর সরকার সে সব রাস্তা, ওভারপাস, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, বাঁধের ওপর রাস্তা, বুড়িগঙ্গা বেড়িবাঁধ করে দিয়েছে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। যেগুলো বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্তঃজেলা যোগাযোগ সহজ করতে আমরা ঢাকায় একটি রিং রোড নির্মাণ করতে চাই।’

‘ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগার এখান থেকে সরিয়ে কেরানীগঞ্জ নেওয়া হয়েছে। পুরাতন কেন্দ্রিয় কারগারে যেখানে জাতির পিতা দীর্ঘদিন বিভিন্ন সময় বন্দি ছিছেন, যেখানে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ফাঁসির মঞ্চ যেখানে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার সৈনিক, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দিয়েছিল। আর ব্রিটিশ আমল থেকেই অনেক দেশপ্রেমিককে সেখানে ফাাঁসি দেওয়া হয়- সেই জায়াগাটিসহ সকল স্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে স্কুল এবং পার্ক করে সৌন্দর্যবর্ধন এবং বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’- যোগ করে বললেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ঠিক একইভাবেই এই এলাকার মানুষ যাতে ভালভাবে থাকতে পারে সেই ব্যবস্থাও করেছি।’

শেখ হাসিনা বঙ্গবাজার পুনর্নিমাণের পর ব্যবসা চালু রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘এরআগে তিনি মোবাইল লেনদেনের মাধ্যমে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বঙ্গবাজার বাজারের ব্যবসায়ীদের অনুদান দিয়েছিলেন।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের পর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরান ঢাকার সঙ্গে তাঁর একটা আলাদা নাড়ির টান রয়েছে। কাজেই এই অঞ্চলের মানুষরা ভাল থাকুক সেটাই তাঁর লক্ষ্য।

অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হন। তাঁর পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ঢাকায় এসে প্রথমেই তাঁরা ৮/৩ রজনীবোস লেনের একটি বাড়িতে ওঠেন। এরপর বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী হলে মিন্টু রোডে চলে আসেন। ৯২ এর ক ধারায় জরুরী আইন জারি করা হলে ১৪ দিনের নোটিশে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। ৭৯ নম্বর নাজিরা বাজারে অবিভক্ত ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ফুপুর বাড়িতে তারা দীর্ঘদিন ছিলেন। মাঝে বন্যা হলে আরমানিটোলার বাঘওয়ালা বাড়িতেও (স্থানীয়রা বলতো) ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানার জন্ম ঢাকার মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর ছোট ভাই শেখ রাসেলের জন্ম ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে।

সরকার প্রধান বলেন, ‘মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের শুরুটা যেন চানখারপুল থেকে হতে পারে সরকারে আসার পর তিনিই তার ব্যবস্থা করেছেন। তাছাড়া আজ যে প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো সেগুলো বাস্তবায়ন হলেও এলাকার মানুষই লাভবান হবে। তারা সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারবে, চলতে পারবে।’

তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বলেন, ‘এটি একটি প্রাইমারী স্কুল ছিল। পরে উচ্চমাধ্যমিক স্কুল এবং সেখান থেকে কলেজ হয়। আর এখন বিশ্ববিদ্যালয়। এতটুকু জায়গা, বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো ছিটানো হোস্টেল। এগুলো সব একত্রিত করে একটি ভালো ক্যাম্পাস এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত করে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আবাসস্থল নির্মাণ করে শিক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর সরকার। ইতোমধ্যে জায়গা ও নকশা করা হয়ে গেছে। সে কাজও শিগগির শুরু হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেভাবে নতুন ক্যাম্পাস আমরা করে দেব যাতে একটা সুস্থ পরিবেশে ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যে তাঁর সরকার ঢাকার মানুষের যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে। এক সময় বিদ্যুত থাকতো না, পানিও থাকতো না। আপনাদের মনে আছে সেই বিদ্যুত ও পানির দাবিতে মানুষের আন্দোলনে বিএনপি’র এক নেতা (স্থানীয় এমপি) জনগণের ধাওয়াও খেয়েছিল। কিন্তু তাঁর সরকার ঢাকাবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছে। সারাদেশে বিদ্যুত সরবরাহের উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং মানুষের বিদুতের ব্যবহারও বেড়েছে। তিনি এই সময় নিজ নিজ পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিস্কার রাখাসহ বাড়ির চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে মশার উপদ্রব থেকে বাাঁচার জন্য পানি জমে থাকা জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানির ও বিদ্যুত ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি এই সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও সকলের সহযোগিতা চান। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলে নিদিষ্টি জায়গায় ফেলার এবং সিটি কর্পোরেশনকেও তিনি দ্রুত এইগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এই সময় তিনি আসন্ন কোরবানীর ঈদে যেখানে সেখানে পশু কোরবানী না দেওয়ার জন্যও নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে শুধু সিটি কর্পোরেশনে নয়, সমগ্র বাংলাদেশেই তাঁর নির্দেশ রয়েছে প্রত্যেক জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার।’

তাঁর সরকার ঢাকা শহরের জলাধারগুলো উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে যত্র তত্র পুকুর-খাল, জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা তৈরি না করার জন্য নগর পরিকল্পনাবিদদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন। অতীতের সরকারগুলো পুকুর, খাল-বিল ভরাট করে স্থাপনা বা বক্স কালভার্ট নির্মাণ করায় খাল-বিল-পুকুরে ভরা ঢাকা শহরের বাতাসও এখন ভারী হয়ে উঠেছে, পানি সরার কোন জায়গা থাকছে না।

তিনি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে সকলকে দূরে থাকার এবং সিটি কর্পোরেশনের পার্কগুলো যেন মাদক সেবনে ব্যবহার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় এসেছিল লুটপাট, দুর্নীতি ও অস্ত্র চোরাকারবারি করতে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিতে পাঁচ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সে কাজেই ব্যস্ত ছিল তারা, আর মানুষ খুন করতে।

তিনি বলেন, এই দেশকে তারা কোথায় নিয়ে গিয়েছিল। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। অস্ত্র চোরাকারবারি; ওই তারেক রহমানতো অস্ত্র চোরাকারবাররি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ওখানে বসে (লন্ডন) এখন নানাভাবে ওই অগ্নি সন্ত্রাস করে মানুষ মারা, মানুষ খুন করা, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা-এসব কাজ করে বেড়ায়।

টানা গত তিন মেয়াদে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যেতে হবে, সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাব।


অপতথ্য মোকাবিলায় ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউনেস্কোর কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ও ভুল তথ্যের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী এ আগ্রহের কথা জানান। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাসসের।

এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।

ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠা ভুল তথ্য ও অপতথ্য রোধে ইউনেস্কোর ভূমিকা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বর্তমানে অপপ্রচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের ওপর ইউনেস্কো বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ইউনেস্কোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইউনেস্কোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

ইউনেস্কো প্রতিনিধি এ বিষয়ে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানাও উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তাকে ডিসি নিয়োগ দিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অপর আদেশে ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


নিখোঁজের ২৭ বছর পর মালয়েশিয়ার জঙ্গল থেকে দেশে ফিরলেন প্রবাসী আমির হোসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন তালুকদার। মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাটিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ৬২ বছর বয়সী আমির হোসেনকে বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন তার ছেলে বাবু তালুকদার এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। প্রবাস জীবনের দীর্ঘ তিন দশক পর বাবাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা আমির হোসেন ১৯৯৬ সালে রং মিস্ত্রির কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রবাস জীবনের প্রথম তিন বছর তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং নিয়মিত সংসার খরচ পাঠাতেন। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই তার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবারের কাছে তার কোনো হদিস না থাকায় স্বজনরা একপর্যায়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং এলাকার একটি গভীর জঙ্গলে জরাজীর্ণ এক টিনের ঘরে আমির হোসেনকে খুঁজে পান কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। উদ্ধারের সময় তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস এবং প্রবাসী দীপুসহ অন্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দেশে থাকা তার পরিবার সেই ভিডিও দেখে আমির হোসেনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ট্র্যাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ব্র্যাকের উদ্যোগে তাকে শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে বসবাসের ফলে আমির হোসেন বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তারা পাশে থাকবে। দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়াকে অলৌকিক হিসেবে দেখছেন তার স্বজন ও গ্রামবাসী। বর্তমানে তাকে নিজ বাড়িতে রেখে প্রয়োজনীয় সেবা-শুশ্রূষা দেওয়া হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রীর অফিসে খাবারের বাজেট কমল পাঁচ গুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অফিসে খাবারের বাজেট আগের চেয়ে পাঁচ গুণ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের সময় লাঞ্চের মেন্যুতে ছিল- ভাত, ছোট চিংড়ি দিয়ে লাউ, ঢেঁড়শ ভাজা, ডিম সেদ্ধ রান্না, ডাল, দই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুপুরের খাবার ও বিকালের নাস্তা মিলিয়ে একজনের জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা, যা আগে এর চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি ছিল।


সরকারি উদ্যোগে স্কুল ড্রেস ও পাটের ব্যাগ: জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে নতুন কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস ও পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই নতুন কার্যক্রমের কথা ঘোষণা করেন। মূলত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণে সহায়তা এবং দেশীয় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, এই কার্যক্রমটি প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কেবল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই সামগ্রী বিতরণের জন্য নির্বাচন করা হবে। কোন স্কুলগুলো এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবে, তা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের লক্ষ্য রয়েছে কার্যক্রমের প্রথম মাসেই অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পোশাক ও পাটের ব্যাগ তুলে দেওয়া। তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে। প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পর্যায়ক্রমে মানসম্মত ও দেশীয় উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

একই দিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই কার্যক্রমের পোশাকের ধরন সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন বা একই রকম পোশাক বা ইউনিফর্ম নিশ্চিত করা হবে। তবে ছাত্র এবং ছাত্রীদের ব্যবহারের সুবিধার্থে তাদের পোশাকের নকশা ও ব্যাগের ধরনে প্রয়োজনীয় ভিন্নতা থাকবে।

শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এই অনন্য উদ্যোগ কেবল শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে না, বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পের পুনর্জাগরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ প্রদান সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতিরই একটি প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের সাফল্য বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে।


৩৬ টাকা কেজিতে ধান, ৪৯ টাকায় সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার। এ ছাড়া আতপ চাল ৪৮ টাকা কেজি এবং ৩৬ টাকা কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় সরকারি এই দাম নির্ধারণ করা হয়। সভাশেষে গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ধান ৩ মে থেকে ও চাল ১৫ মে থেকে সংগ্রহ শুরু করবে সরকার। ধান ও চাল সংগ্রহ চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম কেনার আলোচনা চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেখান থেকে কেনা সম্ভব না হলে বাকিটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।


সৌদি পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৬৩ হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে সৌদি পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে মক্কায় নঈমুদ্দিন মন্ডল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
তার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। তিনি মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
হজ বুলেটিন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বুলেটিন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ২ হাজার ৮৭০ জন ও বেসরকারি মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৯৩ জন।
এর মধ্যে মোট ৫১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৯টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ১৮ ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৪টি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন হজযাত্রী। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ১৫ জনও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে পরিপত্র জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে পরিপত্র জারি করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে।
এ সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাকে পরিপত্রে অনুরোধ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রতি বছর ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করার জন্যও পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে আবার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গণি ব্রিফিংয়ে জানান, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিগত ১৬ বছর এ দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এদিন সরকারি ছুটি থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না।


বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৭৮ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৮তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত; উক্ত ঋণ পরিশোধে এই পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করেছে কিনা; করলে, তা কী?

আমির খসরু জানান, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে থাকে। প্রতি অর্থবছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সম্ভাব্য মোট ব্যয় কত হতে পারে তার একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সে পরিমাণ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ বাজেটে সংস্থান রাখা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করেই সারাবছর পরিশোধ সূচি অনুসরণ করে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।


ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্তে বিরোধীদলও একমত : চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার না করার এবং প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিরোধী দলও এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেছেন।

এর আগে সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ উপজেলায় অফিস পেয়ে ধন্যবাদ জানাতে দাঁড়িয়ে সরকারের কাছে গাড়ির আবদার করেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত করতে হয়, যা লোকলজ্জার কারণে কাউকে বলাও যায় না। মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ আরও সহজ করতে সরকারের কাছে একটি গাড়ির সুব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছোটদের আবদারে সবসময় ‘না’ বলতে নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে এটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে আরও খুশি হতাম।

তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে স্পিকার পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ অংশে বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছেন।


সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কারো সাথে বৈরী আচরণ করতে চান না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- নোয়াবের সদস্যদের সাথে আয়োজিত এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কারো সাথে বৈরী আচরণ করতে চান না তিনি। আগের সরকার যে পথে হেটেছে সে পথে যাবে না বর্তমান সরকার।

এসময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা কারণে কেউ জেলে থাকলে তাদের জামিনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। সংবাদপত্রের বকেয়া বিলের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে নোয়াব সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সংবাদপত্র শিল্প অর্থনৈতিক চাপসহ নানা চাপের মধ্যে আছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবিদাওয়াও তুলে ধরেন নোয়াব সদস্যরা। এসময় ওয়েজবোর্ড নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে নোয়াব সদস্যরা জানান, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সাথে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকার উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে এবং বিষয়টিকে ইতিবাচক বলেছেন সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, এখন থেকে তিন মাসে একবার সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সাথে বসবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সম্পাদক ও মালিকদের সাথে সরকারের দূরত্ব কমবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের সময় ১৬-১৭ বছরে একবার এবং বিগত ইউনূস সরকারের সময় ১৮ মাসে একবার মালিক ও সম্পাদকদের সাথে সরকার প্রধানের বৈঠক হয়েছে।


মাদকের বিস্তার রোধে গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক ও তামাকের বিষাক্ত ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার লক্ষ্যে গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মাদকবিরোধী সংগঠন ‘মানস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাদক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। কেবল আইন করে নয় বরং গণমাধ্যমের শক্তিশালী প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা সম্ভব। তাই চলচ্চিত্র নাটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক বা তামাকের ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন নিরুৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় মানসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী মাদক ও তামাকের ভয়াবহতা এবং বর্তমানে এর বিস্তার রোধে তার সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি গণমাধ্যম, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তামাক ও মাদকদ্রব্যের প্রদর্শনের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ সময় মানসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার মাদক ও তামাকমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত। তিনি এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতায় সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। এসময় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।


banner close