বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর দিল আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি মুডিস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী কয়েক মাস দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। এমন খবরে গেল কয়েক মাসে কমতে থাকা রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মুডিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়া চলমান রাখায় রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার বড় কারণ নেই। বিদেশি ঋণগুলো মার্কিন ডলারে দেওয়া হয় বলে রিজার্ভ পরিস্থিতি ইতিবাচক হওয়া সময়ের ব্যাপার।
প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, গত জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পর ব্যবসায় অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কমে আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আমদানির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি থাকায় চলতি অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ইতিবাচক হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অপ্রয়োজনীয় আমদানি বন্ধ করতে পর পর কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকেও দেয়া হয়েছিল বিশেষ নির্দেশনা। এতে বিশ্ববাজারে অনেক পণ্যের দাম বাড়লেও বৈদিশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান গভর্নরের বিচক্ষণ নেতৃত্বে আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তার অব্যাহত প্রচেষ্টা, সার্বক্ষণিক তৎপরতা ও সুদক্ষ নেতৃত্বেই ধীরে ধীরে ডলার সংকট কমে আসতে শুরু করেছে। মুডিসের এই প্রতিবেদন যেনো সেই সাক্ষী দিচ্ছে।
মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের রেটিং নিয়ে পর্যায়ক্রমে গবেষণা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশের জন্য ‘বি ওয়ান’ রেটিং অপরিবর্তিত রেখেছে তারা। আরও বলছে, স্থিতিশীল আর্থিক পরিস্থিতি বজায় থাকায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে মুডিস।
তবে মুডিস বলছে, বাংলাদেশের আর্থিক পরিস্থিতি করোনা মহামারির আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। তবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। ঘুরে দাঁড়াতে তৈরি পোশাক খাতের বড় অঙ্কের রপ্তানি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নানা বাস্তবতা মোকাবিলা করেও পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে আশানুরূপ পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখতে ভূমিকা রাখছে।
মুডিসের গবেষণায় প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নানা বাস্তবতা মোকাবিলা করেও ভালো প্রবৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক ঋণ পেতে দেশটিকে সহায়তা করছে। তবে ঋণের তুলনায় রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়াকে দুশ্চিন্তার কারণ বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা আর্থিক খাতের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করে মুডিস।
প্রতিবেদনে আরও কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছে মুডিস। যার মধ্যে পোশাকের বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, এ খাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে না পারা, কম রাজস্ব আদায়, সুদ মেটাতে বেশি খরচ ও আর্থিক হিসাবের ঘাটতি রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে বলে মনে করে মুডিস। এসব পরিস্থিতিকে দুই-তিন বছর আগের তুলনায় নাজুক বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভোক্তা মূল্যস্ফীতিকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মুডিস। এটি অব্যাহত থাকলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সীমিত হবে বলেও শঙ্কা তাদের। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নয় দশমিক ৭৪ শতাংশ ছিল- যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের চলমান চার দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার ঋণের পরের কিস্তি পেতে মুডিসের এমন প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ছাড়া গেল কয়েক মাস ধরে কমতে থাকা রিজার্ভ নিয়ে মিলবে স্বস্তি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে ১৮ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের জুনে ৪০ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি ছিল।
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঈদে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টানা ১৩ দিন দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে গত ১৩ মে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো।
সরকারের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের দিনসহ ঈদের আগের সাত দিন এবং পরের পাঁচ দিন ফিলিং স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে।
এদিকে, রোজার ঈদের মতো এবারও এ ঈদে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি থাকবে। তবে ঈদের ছুটির আগে ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। আজ সোমবার সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীর সই করা ছুটির নোটিশে বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, সংবাদপত্রে ২৬ থেকে ৩০ মে ঈদুল আজহার ছুটি উদ্যাপন করা হবে। সে হিসাবে ২৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।
এর আগে, দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জানালেন, দেশের আকাশে এরই মধ্যে দেখা গেছে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ। ফলে আগামী ২৮ মে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
এর আগেও, গতকাল সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়। এ ছাড়া তুরস্ক, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইসহ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঘোষণা করেছে ঈদুল আজহার তারিখ। এসব দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে। ইসলামি চন্দ্রবর্ষের শেষ মাস জিলহজের ১০ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা।
এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ছুটি পাবেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী শনিবার দেশের তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা খোলা থাকবে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দিয়েছেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়ি থেকে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ মার্চ পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে, ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মিরপুর থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় রিমান্ডের পর ৪ মে মিরপুর থানার বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
বিভিন্ন মামলায় মোট আট দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১১ মে অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘একটি আধুনিক জনবান্ধব আইশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস। এই আস্থা অর্জন অটুট রাখা আমাদের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক এবং মানবিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ।’
সোমবার দুপুরে র্যাব সদরদপ্তরে বাহিনীটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আমাদের সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাব ফোর্সেস সন্ত্রাসবাদ দমন, বনদস্যু, জলদস্যু প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল, চোরাচালান রোধ এবং কিশোর অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘র্যাব তাদের পেশাদারিত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার সাথে এটি কার্যকর বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
আলী হোসেন বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, র্যাব ভবিষ্যতেও তাদের অর্জিত সুনাম অক্ষুন্ন রেখে আরও উন্নত আধুনিক জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি তাদের পেশাগত সাফল্য, সুস্বাস্থ্য, সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।’
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে পৌঁছান। বঙ্গভবনের প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৯ মে চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে যান রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।
রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এবার তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
রাজধানী ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সচিবালয়ে আজ স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় ঢাকা শহরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে পরিণত করতে হলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে নগরবাসী দ্রুত এর সুফল ভোগ করতে পারে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে পালিত হবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
এর আগে রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায় বলে জানায় দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি। ফলে সৌদিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে (বুধবার)। এছাড়া আরাফাত দিবস হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা যাক না যাক, বহু বছর ধরে সৌদি আরবের একদিন পরই বাংলাদেশে ঈদ পালনের রীতি চলে আসছে। সেটি ঈদুল ফিতর হোক কিংবা ঈদুল আজহা।
ফলে বাংলাদেশে যে ঈদুল আজহা ২৮ মে উদযাপিত হবে, তা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। বাকি ছিল শুধু জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার। অবশেষে সেই ঘোষণাও এলো।
এদিকে এবার ঈদুল আজহায় সাত দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের আনন্দকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতেই টানা এই ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন যে, কোনো ধরণের সমালোচনা বা গালিতে তিনি বিচলিত নন, বরং একে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবেই দেখছেন। সোমবার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেন। সিইসি বলেন, “এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গালিতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এটা আমাদের কাছে নতুন নয়। উনি প্রায়ই আমাদের সঙ্গে দেখা করতেন, অথচ দেখা করে দরজার বাইরে গিয়েই আমাদের গালি দিতেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সবার প্রশংসা করলে প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব নয় এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের বিশ্বাস থেকেই কথাগুলো বলেছেন। সিইসির ভাষায়, “বিশ্বাস করেন আমি সামান্যতম মনঃক্ষুণ্ণ নই। শুধু প্রশংসা করলে তো ইভালুয়েশন বা সঠিক মূল্যায়ন হয় না। উনি নিজের পার্সপেক্টিভ থেকে যেটা অন্তরে বিশ্বাস করেছেন, সেটাই বলেছেন। আর এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য; উনাকে এই বলার সুযোগ দেওয়াটাই সৌন্দর্য। এজন্য আমি একদম আহত নই।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে করা মন্তব্যের জবাবে সিইসি বলেন যে, অতীতের নির্বাচনের বিচারের ভার তিনি সাধারণ জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “যে নির্বাচন হয়েছে তার বিচারের ভার দেশবাসীর ওপরে। আমাদের কাছে না। উনার কথা শুনতে শুনতে আমরা রেজিট্যান্স হয়ে গেছে। তবে এটা রেয়ার কোয়ালিটি।” এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু সম্ভব না। এজন্য আপনারা বসেন। ব্রাহ্মবাড়িয়ায় দুই পক্ষ দাঁড়ালে তো কারবালা হয়ে যাবে। তাই দলগুলোকে বসে ফয়সালা করতে হবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান তৈরির পর সরকারের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মতো ১৩ কোটি ভোটারের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, যা আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর মতে, “১৩ কোটি ভোটার আর ১০ লাখ ভোটার কি এক কথা? কীভাবে করলে এতো সফল নির্বাচন। ইউএন ওমেন থেকে আমাদের এমন বলেছে।” বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন যে, তিনি সবসময় জনগণকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেছেন। সবশেষে নিজের কাজ ও সততা নিয়ে তিনি বলেন, “বিচারের ভার দেশবাসীর কাছে রইল। সর্বোপরি আল্লাহ তো বিচার করবেই।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না, যদিও ভোটগ্রহণের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশন একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনি সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সিইসি নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো পর্দার আড়াল থেকে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হচ্ছে, যা নির্বাচনি উত্তাপ বাড়িয়ে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা নির্বাচনকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। আমরা চাই ভালো নির্বাচনের একটা সংস্কৃতি চালু হোক। শুধু একটি নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতের সব নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়।”
অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রামপর্যায়ে যে ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা রোধ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন সিইসি। তিনি দলগুলোকে একটি সংঘাতমুক্ত নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সিইসি’র ভাষায়, “নির্বাচন কমিশন একা কোনো নির্বাচন সফল করতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক এবং ভোটারসহ সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং নির্বাচনি সহিংসতা রুখতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমকে কমিশন অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরেকজনের রক্ত পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা পাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এল।
গতকাল রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আমি একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রায় এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তিনজন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায়।
তরিকুল ইসলাম বলেন, এ নিয়ে সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়াল। তবে এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। ২০১৭ সালে তিনজনের তথ্য সামনে এলেও এখন আরেকজনের তথ্য এসেছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঈদের দিন ছাড়া ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেশের সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশন সীমিত আকারে খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে এনবিআর। পরে দেশের সব কাস্টমস কমিশনারকে বিষয়টি জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ এবং রপ্তানি কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত জরুরি কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, শিল্পের কাঁচামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও দ্রুত খালাসযোগ্য আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ঈদুল ফিতরেও ঈদের দিন ছাড়া সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশন খোলা রাখা হয়েছিল। তবে ছুটির সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত থাকায় আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল।
প্রতি বছরই ঈদ ও দীর্ঘ সরকারি ছুটির সময় বন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রম আংশিক চালু রাখা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি না হয় এবং রপ্তানি আদেশ সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি সূচি ঠিক রাখতে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার বিশাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই বিশাল বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে, এডিপির মোট আকারের মধ্যে সরকারি তহবিল বা নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা বাবদ ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এবারের এডিপিতে শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র প্রতিফলিত হবে। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারমূলক পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই উন্নয়ন কর্মসূচির রূপরেখা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে তিনি জানান।
অতীতের প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বিগত দিনের প্রকল্পগুলো বর্তমানে পুনরায় পর্যবেক্ষণ বা রিভিউ করা হচ্ছে। এর মধ্যে যে প্রকল্পগুলো দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে বাস্তবসম্মত, সেগুলোই কেবল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া নতুন নেওয়া প্রকল্পগুলো যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক থাকবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মেগা উন্নয়ন বাজেট জাতীয় অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানির লক্ষ্যে নতুন করে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। সোমবার ঢাকা সফররত কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ইতিবাচক উন্নয়ন হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, কাতার এখন থেকে অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে মূলত দক্ষ জনবল নিয়োগে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে “ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং; এ চার সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে” এবং বাংলাদেশও সেই অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বৈঠকে উপস্থিত থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি বলেন যে, কাতার ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পেশায় বাংলাদেশিদের নিয়োগের সংখ্যা বাড়াতে সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রস্তাবিত চারটি কারিগরি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে কাতারের মাত্র একটি ভিসা সেন্টার থাকায় কর্মীদের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা নিরসনে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং কাতার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
ভিসা প্রক্রিয়া ও জনবল নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ভিসা সেন্টার সম্প্রসারণসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।