প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে এটি বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করে। এর আগে বিকেল থেকেই রেমালের অগ্রভাগ উপকূল তীরবর্তী অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এদিকে রেমালের প্রভাবে কাল সোমবার দুর্গত এলাকায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।
রোববার রাত সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা হয়েছে। তবে, কর্মচারী যারা আছেন, তাদের সার্বক্ষণিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে আশ্রয়ের জন্য কোনও লোক আসলে তারা যেন সহযোগিতা পায়। তবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস আগামীকাল বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। পুরোপুরি অতিক্রম হতে রাত ১০টার পর হতে পারে। এরপর এর পেছনের অংশ অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে তীব্র বাতাস, জলোচ্ছ্বাস, ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী ও অতিভারী বৃষ্টি এবং বন্যা পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে। বাংলা সন ১৪৩৩ বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ আয়োজন করেছে বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে শাহবাগ থানার সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ৯টা ৩ মিনিটে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং এর ঠিক তিন মিনিট পরেই বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রাটি বের হয়।
শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়াও অংশ নিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শোভাযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো এলাকা এক আনন্দঘন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের উত্তর গেট থেকে বের হয়ে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে।
এরপর বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে ঘুরে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে এটি শেষ হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এবারের উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাস্ক বা মুখোশ পরা নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণকারীরা চারুকলার তৈরি মুখোশগুলো হাতে নিয়ে প্রদর্শন করেন।
এবারের শোভাযাত্রায় বাংলার লোক-ঐতিহ্য ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মেলবন্ধনে পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘মোরগ’ মোটিফটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে স্বাগত জানাতে মোরগকে নতুন ভোর ও জাগরণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে শোভাযাত্রায় রাখা হয়েছে আরও চারটি মোটিফ। বাউল শিল্পীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা ও লোকজ সংগীতের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এবং সাংস্কৃতিক শিকড়কে তুলে ধরতে আনা হয়েছে বিশালাকৃতির ‘দোতারা’।
শান্তি ও সহাবস্থানের বৈশ্বিক ডাক দিতে রাখা হয়েছে ‘পায়রা’। এ ছাড়া লোকশিল্পের আভিজাত্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে নির্মিত হয়েছে ‘কাঠের হাতি’ এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত ‘টেপা ঘোড়া’ শোভাযাত্রাকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।
এবারের পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় মুখোশ পড়া নিষিদ্ধ থাকায় চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করতে দেখা যায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের। শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল পুলিশের সুসজ্জিত ১২টি ঘোড়ার বহর।
এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের বাজানো ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গানের সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।
শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি প্রাঙ্গণে লোকজ সংস্কৃতির গান ও নৃত্যের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটে। চারুকলার এই বর্ণিল আয়োজন কেবল আনন্দ উৎসব নয়, বরং অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে ফেরার এক বলিষ্ঠ সংকল্পে রূপ নেয় এবারের পহেলা বৈশাখে।
হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আবার এলো পহেলা বৈশাখ। ফিরে এলো রৌদ্রকরোজ্জ্বল বৈশাখী দিনে সুরে-বাণীতে, সাজসজ্জায়, আহারে-বিহারে, আনন্দ-উল্লাসে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলার নতুন বছর ১৪৩৩ বরণ করে নেবে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব মানুষ। পুরোনো ব্যর্থতা ঝেরে ফেলে সবার কল্যাণ কামনায় উদ্যাপিত হবে নববর্ষের উৎসব। নববর্ষকে আবাহন জানিয়ে বহুকণ্ঠে ধ্বনিত হবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো...।’ আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের ৭১তম ব্যাচ। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। রাষ্ট্র, সমাজে ঐক্য, সম্প্রতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই নববর্ষের প্রতিপাদ্য।
বাংলা নববর্ষের চেয়ে বড় কোনো সর্বজনীন উৎসব দেশে আর নেই। এ কারণে মানুষে মানুষে মহাপ্রাণের মিলন ঘটানোর বর্ষবরণের এই উৎসব গভীর তাৎপর্যময় হয়ে আছে আমাদের জীবনে। এ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক মহতী লগ্ন। ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামের।
এবারের শোভাযাত্রার মূল কাঠামোর মধ্যে থাকছে চার চাকার কাঠের হাতি, কিশোরগঞ্জের টেপা পুতুল, শান্তির পায়রা, মোরগ ও দোতারা। এর পাশাপাশি মাছ, বাঘ ও হরিণ শাবক, ছাগল ও ছাগশিশু, কাকাতুয়া, ময়ূর ও ঘোড়া। এ ছাড়া বিভিন্ন মুখোশের মধ্যে থাকছে রাজা-রানি মুখোশ, প্যাঁচা, বাঘ, সিংহ, খরগোশ প্রভৃতি।
চারুকলার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি মোটিফের সঙ্গে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিশে আছে। রংতুলির আঁচড়ে তারা সেই ইতিহাসকে তুলে ধরছেন।
মূল কাঠামোর মধ্যে আছে টেপা পুতুল কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেবে, মোরগের পেছনে সূর্যের কাঠামো দিয়ে গ্রামীণ সকালের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শান্তির বার্তা দেবে পায়রা, আর লোকঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি। আর বাংলার লোকসংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে দোতারা।
এছাড়া ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গাইবে ছায়ানট। ছায়ানটের নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, দলবদ্ধ আক্রমণের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে আমরা নির্ভয়ে গান করতে চাই। ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সারওয়ার আলী বলেন, এ বছর ছায়ানটসহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকেরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। নির্ভয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে নিজেদের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। আমরা আশা করব, সেদিন প্রকৃতই আর বেশি দূরে নয়, যখন এমন পরিস্থিতির অবসান হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা জানান, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণ করতে প্রস্তুত হয়েছে। ছায়ানট বলতে চায় ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’, সেখানেই বাঙালির জয়। সব প্রতিকূলতা দূর করে নতুন বছরে আমরা আরও মানবমুখী হতে চাই। তিনি বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতা ধ্বংসলীলায় মত্ত হয়েছে, বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তখন শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও থাকবে ছায়ানটের এ আয়োজনে।
সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হবে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের পরিবেশনা দিয়ে। এবার অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইর গান, লোকগানের পাশাপাশি, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে।
এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন থাকবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ ও প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের গান দিয়ে। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হবে প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি থাকবে সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান থাকবে ১৪টি। পাঠ থাকবে দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। রমনার বটমূল থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও দীপ্ত টেলিভিশন এবং প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের ওয়েব পোর্টাল। এ ছাড়া সরাসরি দেখা যাবে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে।
এদিকে, ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করবে বর্ষবরণ পর্ষদ। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এই শোভাযাত্রা হবে। এ ছাড়া দিনব্যাপী থাকবে গান, আবৃত্তি, নৃত্য, মূকাভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।
গতকাল সোমবার বিকেলে বর্ষবরণ পর্ষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হবে সকাল ৯টায় শিশুদের নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে গানের মধ্য দিয়ে। জাতীয় সংগীত, ধনধান্য পুষ্প ভরা এবং এসো হে বৈশাখ—এই তিনটি গান পরিবেশন করবে তারা। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনাবাজারের সামনে থেকে শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। রাপা প্লাজা ঘুরে ২৭ নম্বর সড়ক, ছায়ানট, স্টার কাবাব হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসবে শোভাযাত্রা। এরপর বেলা ১১টা থেকে মীনাবাজার চত্বরে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা। সেখানে থাকবে ব্রতচারী ও ঢালীনৃত্য, মূকাভিনয়, একক আবৃত্তি, একক গান পরিবেশনা।
বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্নবিরতি শেষে শুরু হবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার বৈকালিক অধিবেশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্বে থাকবে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ ও বিভিন্ন শাখা সংসদ, উঠোন, তপোবন, খেলাঘরসহ বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশনায় সমবেত কণ্ঠে সংগীত। এ ছাড়া বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবে মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, উদীচী, স্রোত, কথা আবৃত্তি চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের বাচিক শিল্পীরা।
একক সংগীত পরিবেশনায় থাকবেন মকবুল আহমেদ, সুকুমার বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র শীল, পীযূষ বড়ুয়া, মনিরা রওনক বুবলি, আখি হালদার, শাওন রায়, অরুনিমা আহমেদ প্রথমা, শিল্পী সাহা।
একক আবৃত্তি নিয়ে মঞ্চে উঠবেন বেলায়েত হোসেন, লায়লা আফরোজ, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মো. মাসুদ উজ জামান, শিখা সেনগুপ্তা, অনিকেত রাজেশ, শাহদাত হোসেন নিপু, ইকবাল খোরশেদ, অলক বসু, শাহীদা ফাল্গুনী, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ ছাড়া ব্রতচারী নৃত্য পরিবেশন করবে তক্ষশীলা বিদ্যালয়, আর মূকাভিনয় পরিবেশন করবে রঙ্গন আহমেদ। পুরো অনুষ্ঠানমালা শেষ হবে সরদার হিরক রাজা ও তার সঙ্গীদের বাউলগান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। এর মধ্য দিয়েই আসে নতুন সকাল, নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা; গড়ে ওঠে মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে অপূর্ব মেলবন্ধন।
যেভাবে এলো পহেলা বৈশাখ: বাংলা সনের প্রবর্তনে দুই মুসলিম শাসকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—সুলতান হোসেন শাহ ও মোগল সম্রাট আকবর। তবে অধিকাংশ গবেষকের মতে, আকবরই বাংলা সনের প্রধান প্রবর্তক।
কৃষির সুবিধার্থে আকবরের নির্দেশনায় পণ্ডিত ফতেহ উল্লাহ সিরাজী সৌর সন ও আরবি হিজরি সালের সমন্বয়ে বাংলা সন প্রণয়ন করেন। প্রথমে এর নাম ছিল ‘ফসলি সন’; পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সন নামে পরিচিতি পায়।
কেউ কেউ মনে করেন, গৌড়েশ্বর রাজা শশাঙ্কের আমলেই বাংলা পঞ্জিকার সূচনা। তখন খাজনা আদায় হতো চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী, অথচ কৃষিকাজ নির্ভর করত সৌরবর্ষের ওপর। ফলে চৈত্রের শেষ দিনে খাজনা পরিশোধের পর পহেলা বৈশাখে জমিদারেরা মিষ্টান্ন দিয়ে প্রজাদের আপ্যায়ন করতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় নববর্ষ উদযাপনের প্রথা, যা ক্রমে সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়। আকবরের চালু করা ফসলি সনের এই রেওয়াজ ‘হালখাতা’ হিসেবেও পরিচিত। ফারসি শব্দযুগল ‘হালখাতা’ বলতে নতুন খাতা বোঝায়। এর মাধ্যমে সাধারণত পুরোনো খাতার পুরোনো হিসাব পরিশোধ করে নতুন খাতায় নতুন হিসাব তোলা হয়।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি হলে এই অঞ্চলে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের শাসনের অধীনে গেলে প্রথম আঘাত আসে ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের কারণে পূর্ব বাংলার বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্যচেতনা প্রবল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষ হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে বাংলা নববর্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের কারণে এই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। তবুও বাঙালির জাতীয় চেতনা দমে যায়নি।
রাষ্ট্রচিন্তক আবুল মনসুর আহমদ বলেন, ‘বহুদর্শনের ফলে শহরবাসীর এই যে মনের বিকাশ ও দৃষ্টির প্রসারতা, এটা তারা লাগাইতে চায় নিজের সমাজের ও দেশের কাজে। অপরের দেখাদেখি নিজের লোককে ভাল করিয়া তুলিবার প্রবল ইচ্ছা জাগে তাদের অন্তরে। তারা হইয়া উঠে রিফর্মিস্ট। তারা নিজেদের চাল-চলনে, আচার-ব্যাবহারে, ঈদে-পার্বণে, এমনকি ধর্ম বিশ্বাসে, এক কথায় নিজেদের কালচারে, সংস্কার প্রবর্তন করিয়া সেটাকে করিতে চায় অধিকতর ভব্য, শালীন সুন্দর।’
বর্তমান সময়ে পহেলা বৈশাখ কেবল রমনার বটমূল বা চারুকলায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশজুড়ে বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশের আমেজ আর নাগরদোলার কিড়িং-কুড়িং শব্দে মুখরিত হয় জনপদ। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগেও বাঙালির এই প্রাণের উৎসব হারায়নি তার জৌলুস। বরং বিদেশে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাঙালির মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ এখন নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
হাম ও অন্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন।
স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্ত করা আবশ্যক। হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং প্রদানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাকে মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায় রয়েছে বলে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মতামত ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পূর্ববর্তী সরকারের সৃষ্ট সমস্যা বলে মন্তব্য করছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে। স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়।
ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় যে, এরই মধ্যে শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজার হাজার শিশু অপ্রতুল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। হাম একটি সংক্রামক ব্যাধি যা দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ক্রয়ে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয় না করার বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা এবং স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করা দুর্নীতি ও অনিয়মের ইঙ্গিত প্রদান করে। বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে সরাসরি অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একসময় তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ, কিন্তু বর্তমানে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তথ্যের অধিকার এখন কেবল তথ্য প্রবাহের স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সঠিক তথ্য পাওয়ার নিশ্চয়তাও এর অংশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
তথ্যমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক করে বলেন, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকর ও জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশে ডিজিটাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তথ্যমন্ত্রী।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশ এখনো পুরোপুরি এনালগ থেকে ডিজিটাল প্যারাডাইমে রূপান্তর হতে পারেনি। ফলে বিদ্যমান ডিজিটাল সেবাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ও একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠেনি। এই খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নীতিগত, প্রযুক্তিগত ও কর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করে সময়োপযোগী নীতি গ্রহণ করা হলে ডিজিটাল সেবার বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হবে।
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত সময়োপযোগী সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে একদিকে যেমন উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও পাবে সর্বোচ্চ মানের ডিজিটাল সেবা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আজাদ বক্তব্য দেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে মুগ্ধ হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ডেভিড ইগনাটিয়াস তার এক মতামতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার শুরুতে দুই পক্ষই বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের কাছে গালিবাফ নিজেকে অত্যন্ত মার্জিত এবং বিচক্ষণ সমঝোতাকারী হিসেবে তুলে ধরেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের কলামে বলা হয়েছে, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এখন গালিবাফকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে কল্পনা করছেন। তাদের ধারণা, গালিবাফ এমন একজন ব্যক্তি যিনি ইরানকে কট্টরপন্থি অবস্থান থেকে বের করে একটি স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারেন। এমনকি ইরানের ভেতরেও অনেক প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখন গালিবাফের মাধ্যমে পশ্চিমের সঙ্গে একটি ‘গোল্ডেন ব্রিজ’ বা সোনালি সম্পর্কের দিকে ঝুঁকতে আগ্রহী।
ডেভিড ইগনাটিয়াস লিখেছেন, গালিবাফ দুই দশক ধরে নিজেকে একজন বাস্তববাদী এবং ‘দাভোস’ ঘরানার নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। ২০০৬ সালে তেহরানের মেয়র থাকাকালীন তিনি রাস্তার গর্ত মেরামত এবং আবর্জনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো পশ্চিমের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে চেয়েছিলেন। এখন ২০ বছর পর, পরিবর্তনকামী হিসেবে গালিবাফের জন্য সময় এসেছে কিছু করে দেখানোর অথবা চুপ হয়ে যাওয়ার।
আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নেই বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তেমন বেশি আলোচনা হয়নি। তার আর এখন গুরুত্ব নেই। আওয়ামী লীগ ও হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নেই।’
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত নিয়ে আসার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ফেরত আনার ব্যাপারে আমরা বলেছি। আমরা বলেছি, জুডিশিয়াল প্রসেসে আমরা এগোচ্ছি। আমরা চাইবো, সো ইটস বিন ডিসকাসড। জুডিশিয়াল প্রসেসের মাধ্যমেই এই এঙ্গেজমেন্টটা আমরা এঙ্গেজ করব।’
ভারতীয় ভিসা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা যেটা গুরুত্ব দিয়েছি, সেটা হলো শিগগিরই মেডিকেল ভিসাগুলা ওপেন আপ করে দিতে। উনারা এটা পজিটিভ রিসিভ করছেন। মেডিকেল ভিসা, ব্যবসায়িক ভিসা, যাতে ওপেন আপ হয়, তো আশা করি এইটা ইন দি কামিং উইক একটা পজিটিভ দিক থেকে আমরা দেখতে পাবো।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিক্রি করে বিএনপি সরকার কিছুই করবে না। বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নিয়ে কাজ করবে। দ্যাট ইজ দি সোল সেন্টার পিস অব আওয়ার ফরেন রিলেশনস, ফরেন ইকোনমিক পলিসিস- মানে আমরা যেখানেই করব বাইল্যাটারাল হোক মাল্টিল্যাটারাল হোক আমরা বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইন্টারেস্টকে সবসময় প্রাধান্য দেবো।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) পদে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। আগামী চার বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব এ এস এম কাসেমের সই করা প্রজ্ঞাপনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অধ্যাপক আব্দুস সালামের নিয়োগ উপ-উপাচার্য পদে যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। উপ-উপাচার্য পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।
তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
অধ্যাপক আব্দুস সালাম বর্তমানে ঢাবির বিজ্ঞান অনুষদের (ভারপ্রাপ্ত) ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিসিএসসহ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের আর কোনো অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেছেন, বিসিএসসহ চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি এখন আর কোনোভাবে আসে না। মূল্যায়ন পদ্ধতিটি কীভাবে সংস্কার বা কীভাবে এটিকে মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৌখিক পরীক্ষা সম্পর্কে মানুষের অনেক প্রশ্ন থাকে; দেখা যায় মেধাবী ছাত্র বা ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীও কোনোভাবে আসতে পারছে না।
সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) সংস্কার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
মৌখিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিপিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষার বিষয়টি মানুষের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য করতে কষ্ট হয়। দেখা যায় বারবার ভাইভা দিলেও হয়তো নম্বর কম হচ্ছে। মৌখিক পরীক্ষা কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা একটু খেয়াল রাখবেন।
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী আরও বলেন, মৌখিক পরীক্ষা আগে ২০০ নম্বর ছিল। আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলাম, তখন এটি ১০০ করার প্রস্তাব করেছিলাম। তখন পিএসসিকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে ১০০ নম্বর করা হয়। পরবর্তীতে সেটি আবার ২০০ হলেও বর্তমানে আবার ১০০ নম্বর করা হয়েছে।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো (অর্গানাইজেশন) নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের আস্থা কমে গেছে। এখন এগুলোকে ঠিক করে নিয়ে আসা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন যেসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং মেধা, সততা ও দক্ষতার ওপরেই কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। বিদ্যমান নিয়োগ পদ্ধতিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আনজা কার্স্টেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাক্ষাতকালে ডেপুটি হেড অব মিশন নবনিযুক্ত আইজিপিকে অভিনন্দন জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
ডেপুটি হেড অব মিশন ক্রাউড কন্ট্রোল, সাইবার সিকিউরিটি, ফরেনসিক, বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া দলিলাদি যাচাই এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আইজিপিকে জার্মান দূতাবাসের শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।
আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানে জার্মান সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তিনি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদায় ১৪৩২। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ - বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি আরও বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।’
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’
তিনি জানান, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আশা করি, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি - এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’
শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে হজ ক্যাম্প ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান হজযাত্রীদের সার্বিক প্রস্তুতি, সেবার মান এবং কাউন্টারে কর্মরত স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসমূহের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি হজযাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে যাত্রীসেবা মান উন্নয়ন এবং প্রক্রিয়াসমূহ আরও দ্রুত ও সহজতর করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
অতঃপর বেবিচক চেয়ারম্যান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হজ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং যাত্রী হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিদ্যমান সেবার মান, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং তাৎক্ষণিক সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সেবার মানোন্নয়ন, সময় ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে হজযাত্রীদের যাত্রা আরও সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ হয়।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান আশা ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বছরের হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে।
এসময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক এর সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান; বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি, সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান; সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি,এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি); সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এটিসি; সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড এন্ড রেগুলেশন্স) এয়ার কমডোর মোঃ মুকিত-উল-আলম মিঞা, বিইউপি, পিএসসি, জিডি(পি); প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া হোসেনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ।
কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে কাল পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় সড়ক পথে রওনা হবেন তিনি। সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমে সন্তোষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টায় পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেনের সই করা সিডিউল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে টাঙ্গাইলে গেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ।
বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ভিসার সঙ্গে ব্যবসায়িক ভিসাও চালু করতে ভারত সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে এই ভিসা চালু হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ তথ্য জানান। ভারতের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভালো মাইন্ডসেট থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’
এ সময় পাইপলাইনের ডিজেল দেওয়ার কারণে ভারতকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত মঙ্গলবারপররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তিন দিনের সফরে দিল্লি যান।
এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা।