প্রবল শক্তি সৃষ্টি করে উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আরও উত্তর দিকে সরে রাতেই উপকূল অতিক্রম করে আজ স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আঘাত হানার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠার কথা জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. শামীম আহসান গতকাল রাতে এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গতকাল ঢাকার আবহাওয়ায় তেমন প্রভাব পড়েনি।
গতকাল রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি আরও প্রবল হওয়ায় আগের দিনের ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের বদলে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশনা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড় রেমাল নিয়ে দেওয়া ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে হবে। এর ফলে সারা দেশেই দিনভর বৃষ্টিপাত হয়েছে, আকাশ মেঘলা ছিল। রাজধানী ঢাকায় গতকাল বিকালে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে।
রেমাল আঘাত হানার আগেই গতকাল দুপুর থেকে দেশের উপকূল অঞ্চলসহ সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রচণ্ড বাতাসসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে সেসব অঞ্চলগুলো। শুধু তাই নয়- দেশের এসব অঞ্চলের মানুষজন নিরাপদ আশ্রয় শেল্টারে অবস্থান নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।’
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। রোববার সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর প্রতিমন্ত্রী ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৮ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন। বাকিদের আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে আপাতত স্কুল খোলা থাকবে, তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আগেই আমরা বলেছিলাম আজকে (গতকাল) ভোর থেকে এটা শুরু হতে পারে। ঝড়ের গতি কম ছিল বলে গতকাল ভোরে আসেনি। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে। যদি জোয়ার থাকে এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেমালের প্রভাবে সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য আমরা সবাইকে নিয়ে আজ সভা করেছি। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল টিমগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত রয়েছে। পেছনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই ঘূর্ণিঝড়কে আরও শক্তভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমরা সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্ট্যান্ডিং অর্ডার অনুসারে, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি যে সমস্ত অবকাঠামো আছে সেগুলো ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেবেন। সেভাবে তারা সে সমস্ত ব্যবস্থা নেবেন।
তিনি আরও বলেন, অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় সে সময় অর্থাৎ দুর্যোগ চলাকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনায় হবে। অর্থাৎ সে সময় স্থগিত থাকবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত।’
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলার প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত। আমাদের প্রতিটি নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। কোস্টগার্ড গত তিন দিন ধরে উপকূলের ৫৭টি স্থানে মাইকিং করছে। একই সঙ্গে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বোটের সঙ্গে কিছু রিলিফও তারা জোগাড় করে রেখেছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও অদূরবর্তী দ্বীপ-চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে।
রেমালের কারণে দেশের সব সমুদ্র বন্দরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পাশাপাশি সব ধরনের নৌযান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের সব রুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ আছে। নৌপথ উত্তাল হওয়ায় রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি খেয়া নৌকাগুলোকেও নদী পারাপারে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা ছিল। ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া রেমালের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে রোববার সকাল পৌনে ১০টা থেকে সকল ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদী উত্তাল থাকায় যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর আগেই লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করে।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে রোববার কক্সবাজারের সারা দিনের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, রেমালের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৬ মে কক্সবাজারগামী সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া, আগামী ২৬ মে কলকাতাগামী বিজি-৩৯৫ ও ২৭ মে কলকাতাগামী বিজি-৩৯১ ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়াও বরিশাল বিমানবন্দরেও সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে গতকাল ঘূর্ণিঝড় রেমাল দেখতে কক্সবাজারে পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। বেলাভূমির লাবণী, সি-গাল, সুগন্ধা, ওশান বিচ ও কলাতলী পয়েন্টে শত-শত পর্যটক আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে উপচেপড়া ঢেউয়ের সাথে মিতালি গড়ে গোসলে নামছে। সমানে তাদের উপরে নিরাপদ স্থানে উঠে আসতে তাগাদা দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের বিচকর্মী ও সৈকতে কাজ করা লাইফগার্ড কর্মীরা।
এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের পানির ঝুঁকি থেকে বোন ও ফুফুকে বাঁচাতে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ মে) দুপুরে ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। সমুদ্রের পানিতে কাউয়ারচর এলাকা ৫ থেকে ৭ ফুট পানিতে প্লাবিত ছিল। সাঁতার কেটে ফুফুর ঘরে যাওয়ার সময় ঢেউয়ের তোড়ে শরীফ হারিয়ে যান। পরে একঘণ্টা পর ওই স্থান থেকে শরীফের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
অন্যদিকে রেমালের কারণে সুন্দরবন জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্রের মো. আজাদ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। মোংলা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই নিয়োগপত্রগুলো হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, মোট ৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও ১০ জনের হাতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।
চাকরিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর পিতা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মাতা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা এই নিয়োগপত্র প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রায় আশার আলো দেখার কথা উল্লেখ করেন এবং একই সাথে স্বজনদের গুম ও খুনের সাথে জড়িতদের যথাযথ বিচার দাবি করেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বড় অংকের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান বা উদ্ধারের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীদের তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে।
রাজারবাগে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন কারিগরি ও অবকাঠামোগত চাহিদার কথা মন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এসব চাহিদা পূরণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এছাড়াও সভায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে আরও গতিশীল করতেই মূলত এই বিশেষ ইউনিট এবং পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে মন্ত্রণালয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার পুরোনো ব্যবস্থায় নয়—স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
নতুন করে শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের বিমানভাড়া ও অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যয়ও বহন করতে হবে না। প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু বিদেশযাত্রা নয়, দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্য: সরকারের নতুন উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শুধু কর্মী পাঠানো নয়, দক্ষ ও ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মী তৈরি করে বিদেশের শ্রমবাজারে পাঠানো।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে কর্মীদের কাজের দক্ষতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কেও প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া, কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নিতে না পারা কিংবা ভাষাগত সমস্যার মতো ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীতে মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি কর্মীদের বড় একটি অংশকে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল এবার প্রথম বহর পাঠানোর দায়িত্বে থাকবে। বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারি তদারকি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে আবেদন, কর্মী বাছাই, নিয়োগের খাত, কোম্পানি নির্বাচন ও যাত্রার তারিখসহ বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়ার নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।
এই ব্যবস্থার বড় উদ্দেশ্য হলো আগের মতো সীমিতসংখ্যক এজেন্সির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সেখানে গেছেন। বর্তমানে দেশটিতে ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আগের দফায় নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য, সিন্ডিকেট এবং কর্মীদের হয়রানির অভিযোগের কারণে ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে এবার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার পাশাপাশি কীভাবে কর্মীরা কম খরচে, নিরাপদে এবং প্রকৃত চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন, সেটিই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
অতীতে মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রকৃত অভিবাসন ব্যয় সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অনেক কর্মীর প্রকৃত ব্যয় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যদিও সরকার নির্ধারিত ব্যয় ছিল অনেক কম।
এবার ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বিমানভাড়াসহ অভিবাসন ব্যয় না থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত তাই কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
শূন্য খরচের এই মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য শ্রমবাজারেও নিয়োগকর্তার বহন করা অভিবাসন ব্যয়ভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে মালয়েশিয়া অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে এসব কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। এরপর নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শূন্য-খরচের পাশাপাশি ডিজিটাল অভিবাসনব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার মতো ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর দাবিও উঠেছে।
এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে কর্মী, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং দালালনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে কর্মপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্রের ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।
বোয়েসেলের নিজস্ব নিয়োগ প্ল্যাটফর্মে বিদেশে চাকরির জন্য নিবন্ধন ও আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দেয়।
দীর্ঘ বন্ধের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার উদ্যোগ বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রথম ধাপের ১০ হাজার কর্মীর শূন্য খরচের সুযোগ এই উদ্যোগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে শুধু শ্রমবাজার খোলাই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত চাকরি, ন্যায্য বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন, চিকিৎসা এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করাই হবে এই উদ্যোগের সফলতার মূল মাপকাঠি।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি এবার স্বচ্ছ নিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি তদারকি এবং দালালমুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়, তাহলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের জন্য শুধু বিদেশযাত্রার সুযোগ নয়—টেকসই কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনে নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেছেন।
ঢাকার রুশ দূতাবাস জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।
পুতিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের মঙ্গলকামনা, সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের কল্যাণে তার ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টায় সাফল্য কামনা করেন।
রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।
সূত্র : বাসস
আরও একটি নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন।
নতুন দায়িত্ব হিসেবে তাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জহির উদ্দিন স্বপনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
জানা গেছে, পূর্বে এ দায়িত্বে ছিলেন আবদুল মঈন খান। তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ায় সভাপতির পদটি শূন্য হয়।
এদিকে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তার নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে তাকে নতুন দুটি দায়িত্ব প্রদান করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাকে (স্বপন) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শুধু অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।
রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের শর্টকাট অবলম্বন করে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন, তারা কারো দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।
তিনি বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় কোনো ধরনের নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি আস্থা রেখে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই পেশাগত জীবনের শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে যোগ্য আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
আইনমন্ত্রী আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে।
তিনি ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট। ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব। তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।
নিজের আইনজীবী জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি পড়াশোনা করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য আইনজীবীদের নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আইন পেশাকে আরো মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে এমন একটি আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার কারণে আইনজীবী পেশা মানুষের কাছে আরো মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আইনজীবীরা যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন, সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদে সদস্যদের হট্টগোল, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং কার্যপ্রণালি বিধি অমান্যের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদের ভেতরে একে অপরকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া এবং স্পিকারের রুলিং বা নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংসদের ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শোরগোলের পর এসব কথা বলেন স্পিকার। বিকেল তিনটায় তার সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কিসের বাকস্বাধীনতা। এর পর সংসদে হট্টগোল তুঙ্গে উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি তোলে বিরোধী দল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্পিকার বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখার তাগিদ দেন। নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং জনগণের এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখতে হলে রুলস অব প্রসিডিউর কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রুলস অব প্রসিডিউর পড়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার আরও বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি আদর্শ সংসদীয় পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য তিনি সর্বদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে (প্যাক্ট) যোগ দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে (প্যাক্টে) নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আজ বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে মক্কা প্যাক্ট সই করেছে। তিনি জানতে চান ওই প্যাক্টে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সুবিধাটা কী হবে?
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ প্যাক্ট তিনটি দেশের মধ্যে হয়েছে। এ প্যাক্টটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এতে যোগদান বা যোগদান না করার বিষয়টি এখনো আসেনি, কারণ এটা নির্ভর করছে প্যাক্টের সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি বাংলাদেশকে এ প্যাক্টে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার আগে এর (প্যাক্ট) ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করাটা, সম্ভবত সে সময় আসেনি। আমরা নিশ্চয়ই এসব বিষয় বিবেচনা করব। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে একটা কথা, এ প্যাক্ট যদি বিস্তৃত হয়, এটা হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে কারও, অন্যান্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই।’
দেশের ৬৪ জেলার প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন একটি তদারকি ও সমন্বয় কাঠামো তৈরি করলো সরকার। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিলিয়ে ৩০ জনকে এক থেকে তিনটি করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সব জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহি এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তারা তদারকি করবেন। এমনকি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও তাদের নজরদারির আওতায় থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে।
লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থের অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজারের দায়িত্ব। মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ; সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন ঢাকা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন। মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন তারা। প্রয়োজন হলে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।
মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে এমন ৩১টি মোবাইল অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করে এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।
পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অনুমোদনবিহীন অর্থ লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএফআইইউ।
বিএফআইইউর প্রকাশিত তালিকায় থাকা অ্যাপগুলো হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা বৈধ নয়। মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিএফআইইউ আরো জানিয়েছে, অনুমোদনবিহীন এসব ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ২(শ)(৫) ধারা অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। একই আইনের ৪ ধারায় এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ ধরনের অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ঋণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা, ছবি বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ। একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার নামে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এবং একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের পাশে দাঁড়াতেও প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি।’
এর আগে সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করছেন। তিনি বলেছেন, আজ সন্ধ্যা বা আগামীকালের মধ্যে তারা আমাদের জানাবেন, কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নেপাল তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের কথা জানানোর পর বাংলাদেশ সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ফোনালাপে খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুর্যোগকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাবনা ও প্রার্থনা সেই পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সমবেদনা বার্তাও পৌঁছে দেন এবং নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি ঢাকার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বাংলাদেশির নাম পাইনি।
তিনি আরো জানান, দুর্যোগ যখন আঘাত হানে, তখন বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মানস সরোবর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই ঢাকাকে অবিলম্বে তা জানানোর জন্য নেপালি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। ‘জীবিত বা মৃত, যেকোনো অবস্থায় কোনো বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া গেলে, আমরা আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রসারিত করব এবং তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তিনি বলেন, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ফ্লাইট বা বিমান চলাচলের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তার সরকার এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংহতি প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ড. খলিলুর রহমানকে অবহিত করেছেন যে, সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষ করার পর নেপাল তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনের কথা বাংলাদেশকে জানাবে।
ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।