প্রবল শক্তি সৃষ্টি করে উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আরও উত্তর দিকে সরে রাতেই উপকূল অতিক্রম করে আজ স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আঘাত হানার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠার কথা জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. শামীম আহসান গতকাল রাতে এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গতকাল ঢাকার আবহাওয়ায় তেমন প্রভাব পড়েনি।
গতকাল রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি আরও প্রবল হওয়ায় আগের দিনের ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের বদলে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশনা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড় রেমাল নিয়ে দেওয়া ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে হবে। এর ফলে সারা দেশেই দিনভর বৃষ্টিপাত হয়েছে, আকাশ মেঘলা ছিল। রাজধানী ঢাকায় গতকাল বিকালে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে।
রেমাল আঘাত হানার আগেই গতকাল দুপুর থেকে দেশের উপকূল অঞ্চলসহ সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রচণ্ড বাতাসসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে সেসব অঞ্চলগুলো। শুধু তাই নয়- দেশের এসব অঞ্চলের মানুষজন নিরাপদ আশ্রয় শেল্টারে অবস্থান নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।’
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। রোববার সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর প্রতিমন্ত্রী ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৮ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন। বাকিদের আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে আপাতত স্কুল খোলা থাকবে, তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আগেই আমরা বলেছিলাম আজকে (গতকাল) ভোর থেকে এটা শুরু হতে পারে। ঝড়ের গতি কম ছিল বলে গতকাল ভোরে আসেনি। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে। যদি জোয়ার থাকে এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেমালের প্রভাবে সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য আমরা সবাইকে নিয়ে আজ সভা করেছি। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল টিমগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত রয়েছে। পেছনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই ঘূর্ণিঝড়কে আরও শক্তভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমরা সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্ট্যান্ডিং অর্ডার অনুসারে, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি যে সমস্ত অবকাঠামো আছে সেগুলো ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেবেন। সেভাবে তারা সে সমস্ত ব্যবস্থা নেবেন।
তিনি আরও বলেন, অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় সে সময় অর্থাৎ দুর্যোগ চলাকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনায় হবে। অর্থাৎ সে সময় স্থগিত থাকবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত।’
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলার প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত। আমাদের প্রতিটি নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। কোস্টগার্ড গত তিন দিন ধরে উপকূলের ৫৭টি স্থানে মাইকিং করছে। একই সঙ্গে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বোটের সঙ্গে কিছু রিলিফও তারা জোগাড় করে রেখেছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও অদূরবর্তী দ্বীপ-চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে।
রেমালের কারণে দেশের সব সমুদ্র বন্দরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পাশাপাশি সব ধরনের নৌযান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের সব রুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ আছে। নৌপথ উত্তাল হওয়ায় রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি খেয়া নৌকাগুলোকেও নদী পারাপারে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা ছিল। ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া রেমালের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে রোববার সকাল পৌনে ১০টা থেকে সকল ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদী উত্তাল থাকায় যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর আগেই লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করে।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে রোববার কক্সবাজারের সারা দিনের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, রেমালের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৬ মে কক্সবাজারগামী সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া, আগামী ২৬ মে কলকাতাগামী বিজি-৩৯৫ ও ২৭ মে কলকাতাগামী বিজি-৩৯১ ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়াও বরিশাল বিমানবন্দরেও সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে গতকাল ঘূর্ণিঝড় রেমাল দেখতে কক্সবাজারে পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। বেলাভূমির লাবণী, সি-গাল, সুগন্ধা, ওশান বিচ ও কলাতলী পয়েন্টে শত-শত পর্যটক আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে উপচেপড়া ঢেউয়ের সাথে মিতালি গড়ে গোসলে নামছে। সমানে তাদের উপরে নিরাপদ স্থানে উঠে আসতে তাগাদা দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের বিচকর্মী ও সৈকতে কাজ করা লাইফগার্ড কর্মীরা।
এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের পানির ঝুঁকি থেকে বোন ও ফুফুকে বাঁচাতে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ মে) দুপুরে ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। সমুদ্রের পানিতে কাউয়ারচর এলাকা ৫ থেকে ৭ ফুট পানিতে প্লাবিত ছিল। সাঁতার কেটে ফুফুর ঘরে যাওয়ার সময় ঢেউয়ের তোড়ে শরীফ হারিয়ে যান। পরে একঘণ্টা পর ওই স্থান থেকে শরীফের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
অন্যদিকে রেমালের কারণে সুন্দরবন জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্রের মো. আজাদ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। মোংলা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ ১৮ মাস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের পর আবারও তাঁর পুরোনো কর্মস্থলে ফিরেছেন। আজ রোববার সকালে তিনি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত টেলিকম ভবনের ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে এক আবেগঘন ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং উপদেষ্টারা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেন। রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করে নিজের প্রিয় কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার এই খবরটি ড. ইউনূস নিজেই তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ছবিসহ দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছেন।
ইউনূস সেন্টারে পৌঁছানোর পর ড. ইউনূস তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তিনি গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। উপস্থিত কর্মীরা তাঁদের প্রিয় ‘স্যার’কে আবারও কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের পর দেশের এক কঠিন সময়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পায় এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি তাঁর রাষ্ট্রীয় মিশনের সফল সমাপ্তি ঘটান।
ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ড. ইউনূস তাঁর আবাসস্থলেও আমূল পরিবর্তন আনছেন। বর্তমানে তিনি সরকারি বাসভবন যমুনায় অবস্থান করলেও চলতি মাসের শেষ নাগাদ তিনি স্থায়ীভাবে তাঁর গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর আগে তিনি তাঁর ব্যবহৃত বিশেষ ‘লাল পাসপোর্ট’ বা কূটনৈতিক পাসপোর্টটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন, যা তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে আসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাঁকে সম্মুখ সারিতে উপস্থিত থেকে নতুন প্রশাসনকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে।
২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদের পুরোনো ঠিকানায় ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের এই প্রত্যাবর্তনে গ্রামীণ পরিবারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা কাটিয়ে এখন তিনি আবারও তাঁর বিশ্বজনীন ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব এবং সামাজিক ব্যবসার আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসারে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অসামান্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও আপন ভূুবনে ফিরলেন এই প্রবীণ পথপ্রদর্শক।
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ এপ্রিলের আগেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন তারেক রহমান। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্বের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কমিশনে ঘোষণাপত্র জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন থেকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিডনি রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটের শরিকদের তিনটি আসন যুক্ত হলে বিএনপি জোটের মোট আসন দাঁড়ায় ২১২। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে রয়েছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকবেন। সেই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত হবে। এর পাশাপাশি অন্তর্বতী সরকারের শাসনামলের অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না— সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার পরে চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে শনিবার রাতে রাজধানীর আদাবরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মেগা প্রকল্পটি জনস্বার্থে দ্রুত উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের আর্থিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। বৈঠকে থার্ড টার্মিনালের বর্তমান কারিগরি অবস্থা এবং এটি চালুর পথে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রকল্পটির ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও কেন এটি এতদিনেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়।
থার্ড টার্মিনাল চালুর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রী কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিলেও এখনই কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, টার্মিনালটি সচল করার জন্য বর্তমানে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা ও কারিগরি তদন্ত চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্পের কিছু অংশ সংস্কার বা পরিবর্তন এবং নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত যে সমস্ত কারিগরি জটিলতা ও সুপারিশ ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে, সেগুলো নিরসনে বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করেই এই টার্মিনালটি উন্মুক্ত করা হবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রকল্পের স্থবিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, সে সময়ে কেন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি সেই জবাবদিহিতা তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে চাওয়া সমীচীন। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের সরাসরি তদারকি করছেন এবং জনভোগান্তি কমাতে তিনি দ্রুত এটি কার্যকর করতে চান। প্রশাসনিকভাবে এখন মূল লক্ষ্য হলো আগের সময়কার সমন্বয়হীনতা দূর করে কারিগরি ত্রুটিগুলো দ্রুত সারিয়ে নেওয়া। থার্ড টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ সক্ষমতা ও সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিগত সরকারের সময় কেবল দুর্নীতির উদ্দেশ্যে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হবে। অন্যদিকে, যে প্রকল্পগুলো প্রকৃতপক্ষেই জনমুখী এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সহায়ক হবে, সেগুলো গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হবে। আজ রবিবার সকালে বরিশালের গৌরনদীতে ‘কাপলাতলী খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা এবং একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতি-নির্ধারকদের একটি অংশ আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের ইউএনও অফিস, এমনকি বিবাহ নিবন্ধন অফিস পর্যন্ত দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য চরম অবমাননাকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশের মতো জনবান্ধব একটি বাহিনীকে জনগণের কাছে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা ছিল বিগত সরকারের সবচেয়ে বড় অপরাধ। পুলিশের ইউনিফর্মকে একটি বিশেষ দলের স্বার্থে ব্যবহার করে এর নিরপেক্ষ মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একটি শক্তিশালী ও পেশাদার আমলাতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, সরকার পরিবর্তনশীল এবং এটি কেবল পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসে। কিন্তু রাষ্ট্র চিরস্থায়ী এবং এটি দেশের সকল মানুষের। তাই রাষ্ট্রের সেবা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক আমলাতন্ত্র থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই বিকৃত ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করে পুনরায় জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, ক্ষমতায় আসা বা না আসা জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, তবে স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া উচিত। নির্বাচনই ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র বৈধ পথ এবং সরকার এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর অনেক মহল থেকে বাঁকা পথে বা ভিন্ন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তবে বিএনপির অবস্থান ছিল স্বচ্ছ—নির্বাচন ছাড়া কোনোভাবেই ক্ষমতায় আরোহণ নয়। তারা জনগণের অধিকার ধ্বংস করে ক্ষমতায় যাওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। ধর্মীয় অপব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তবে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ আর ধর্ম ব্যবসায়ীদের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনো ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে না, কিন্তু ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের হীন স্বার্থে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দ্বিধা করে না।
সবশেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অতীতের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ পরিহার করে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রকল্প উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নতুন সরকার কোনোভাবেই দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেবে না। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে ইতিমধ্যে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত কর্মীদের উন্নত চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার বিষয়েও তিনি এ সময় আশ্বস্ত করেন।
নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে অভিযোগ তুলে ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুল হকের সরাসরি উপস্থিতিতে এবং তাঁর নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই হামলার বিচার আইনি পথেই নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি আহত কর্মীর পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অপরাধ দমনে ৫৫০টি আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া বসিলায় নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনসহ ওই এলাকায় ২০টি পুলিশ বক্স এবং টহল গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে অনেক চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ দল কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি দলীয় পরিচয়ে অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহত কর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন সরকারের এই প্রভাবশালী প্রতিনিধি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তাঁর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার সকালে তিনি সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের পদত্যাগপত্রটি হস্তান্তর করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, উপাচার্যের দেওয়া পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখন নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের এই খবরটি শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এমন এক সময়ে পদত্যাগ করলেন যখন বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি’ এখন অনেকাংশে দূর হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ এখন একটি সুশৃঙ্খল ও ভালো পর্যায়ে রয়েছে। তিনি মনে করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল, তা সফলভাবে মোকাবিলা করার পর এখন সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়। মূলত একটি নতুন রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায়, তারা যেন তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজানোর সুযোগ পায়, সেই গণতান্ত্রিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য পথ সুগম করে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি চান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের এই সময়োচিত ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, উপাচার্য পদত্যাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগের বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়। এখন সকলের দৃষ্টি পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের দিকে, যার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হবে।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। রোববার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে আবেদনের ক্ষেত্রে নিজ সরকারের কাছ থেকে তিনি যে সমর্থন প্রত্যাশা করেছিলেন, তা সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কারণে নস্যাৎ হয়ে গেছে। মুশফিক ফজল আনসারির ভাষ্যমতে, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদটি শূন্য হয় এবং এক বিদেশি সহকর্মীর উৎসাহে তিনি এই পদের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি তিনি তৎকালীন সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তাঁর পরামর্শেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি অভিযোগ করেন যে, তৌহিদ হোসেন শুরুতে মৌখিকভাবে আবেদনের অনুমতি দিলেও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর আকস্মিকভাবে তাঁকে 'অগ্রসর না হতে' (not to proceed) নির্দেশ দেন। এমনকি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা 'নোট ভারবাল' প্রদানেও অস্বীকৃতি জানানো হয়, যার ফলে তাঁর আবেদনটি আর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, এরপর থেকে তৌহিদ হোসেন তাঁর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং বারবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সমর্থন না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার একটি বড় সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি নিজ দেশের আনুষ্ঠানিক সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অসহযোগিতার কারণ জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছিল মুশফিক ফজল আনসারির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি। তবে রাষ্ট্রদূত এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, এ ধরনের পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না, বরং সদস্য রাষ্ট্রের মনোনয়নের পর জাতিসংঘ সচিবালয় সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত করে। এছাড়া রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন যে, দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে পোস্টিং এবং জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণের মতো স্বাভাবিক প্রশাসনিক বিষয়েও তাঁর পথে বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল।
বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলেও ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীকে কোনোভাবে বিব্রত করতে চাননি বলে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেননি। রাষ্ট্রদূত তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও পেশাগত বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক তথ্যই এই মুহূর্তে প্রকাশ করছেন না, তবে ভবিষ্যতে তাঁর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বিস্তারিত বই লেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন আচরণের পেছনে কী রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণ ছিল, তা নিয়ে এখন কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সেলিমা রহমানের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রবীণ এই নেত্রীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
বেগম সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর আশু রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নতুন সরকারের কর্মতৎপরতার মধ্যে দলের এই প্রবীণ নীতি নির্ধারকের অসুস্থতা নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারবেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মিত আপডেট তাঁর পরিবার ও দলকে অবহিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ রবিবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বেলা ১১টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎকে দুদেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একান্ত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানি এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি নিয়ে উভয় পক্ষ অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সৌদি আরবের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীও সৌদি আরবকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অভিহিত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সচিবালয়ে আজ ছিল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত এক কর্মদিবস। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি সচিবালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতের আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ বৈদেশিক নীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই নিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সাথে বিশেষ আলোচনার পর সৌদি রাষ্ট্রদূতের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপ্রতিম সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাদন জানান এবং বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর আরও কিছু দাপ্তরিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে আজ সচিবালয় ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বড় ধরনের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ঘোষিত রায়ে বেবিচককে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি)-এর পাওনা বাবদ প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন বিশেষজ্ঞ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও নথি পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। মূলত নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের দেনা-পাওনা এবং অর্থ ছাড়ে বিলম্বকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়েছিল।
রায়ের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের এপিসিএস-৪৮ এবং ৫২-৫৪ শিরোনামের কাজের বিপরীতে এডিসিকে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি ৯ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি রিটেনশন মানির দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আরও দুটি বিশাল অঙ্কের অর্থ—প্রায় ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ৪০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার কারণে এবং রিটেনশন মানি ছাড় করতে দেরি করায় সৃষ্ট অতিরিক্ত অর্থায়ন চার্জ বাবদ আরও ২২ কোটি ২৯ লাখ ইয়েন এবং ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের দায় এখন বেবিচকের ওপর বর্তেছে, যা প্রকল্প ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সালিশি বোর্ডের পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক উঠে এসেছে। রায়ে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজের পরিধি যেভাবে বাড়ানো হয়েছিল, তা আইনগতভাবে পুরোপুরি বৈধ ছিল না। এছাড়া কাজের ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড বা ডিএনপি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শেষ হলেও পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য এখনো উপযুক্ত সময় হয়নি। একারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি’র পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়ার আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে বোর্ড। সালিশি বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং পারস্পরিক সমঝোতা বা চূড়ান্ত কোনো আইনি পরিবর্তন ছাড়া এটি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। অ্যাডজুডিকেশন পদ্ধতির ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেবিচকের একক কোনো এখতিয়ার নেই বলেও রায়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এই বিশাল নির্মাণ যজ্ঞের সাথে জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিটা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন যুক্ত রয়েছে, যারা যৌথভাবে ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ গঠন করে কাজটি সম্পন্ন করছে। বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের এই রায়ের কপি তারা হাতে পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। টার্মিনালটির নির্মাণ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বা এর দু-এক দিন আগে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সম্বলিত গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে অধিবেশন ডাকার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও সরকার ১২ মার্চের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগ্রহী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে এবং সরকার গঠন করে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ইতিমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী সংসদ সদস্যদের নামের গেজেট প্রকাশিত হয় এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করবেন।
প্রথম অধিবেশনের কার্যসূচি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই অধিবেশনে সংসদের অভিভাবক হিসেবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তবে এবারের অধিবেশনটি আইনি দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে, কারণ এতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন জরুরি অধ্যাদেশসমূহ আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। জাতীয় সংসদে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের মাধ্যমেই সেগুলো স্থায়ী আইনে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদ ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১২ মার্চ অধিবেশন শুরু হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিশেষ করে সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে সংসদ কতটা কার্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিলগুলো পাসের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম দ্রুত গতিশীল হবে বলে সরকার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রথম অধিবেশনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দেশের দুটি বড় জাতীয় উৎসব ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকালে তিনি রাজধানীর একটি নির্ধারিত মিলনায়তনে রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করবেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত গুণীজনদের হাতে তিনি এই পদক তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। শনিবার সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত একুশে ফেব্রুয়ারির ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে পরবর্তী সপ্তাহেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজনগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সংস্কৃতি মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে পদক তুলে দেবেন। এরপর বিকেলের অধিবেশনে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠান দুটি ঘিরে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মেলা প্রাঙ্গণে দর্শকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজক কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। এবারের বইমেলায় প্রকাশকদের জন্য একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে সরকার; প্রকাশনা শিল্পকে উৎসাহিত করতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বইমেলার প্রস্তুতির মধ্যেই প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একটি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশের প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ এবারের অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরাজমান অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া এবং মেলার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকাশকদের একটি বড় অংশের এই বর্জনের ঘোষণার ফলে মেলার আয়োজনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে যে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে এবং বরাবরের মতো একটি সফল ও উৎসবমুখর বইমেলা আয়োজন করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ শুরুর পর এই প্রথম কোনো বড় পাবলিক ইভেন্টে তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জনমনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।