বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশে ৫০ লাখ স্কাউট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৪ ১৯:০৮

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৫০ লাখ স্কাউট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরলস প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

আজ শনিবার ‘বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কাউন্সিলের ৫২তম বার্ষিক (ত্রৈবার্ষিক) সাধারণ সভা’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ২৫ লাখের অধিক। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৫০ লাখ স্কাউট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে স্কাউট আন্দোলনের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরলস প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কাউন্সিলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ স্কাউটস ও কাউন্সিলের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ‘স্কাউটিং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তি জীবনে এর প্রতিফলন ঘটিয়ে যুব সম্প্রদায়কে আত্মনির্ভর, সচ্চরিত্রবান ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু, কিশোর ও যুবদের বিভিন্ন অরাজনৈতিক, সেবামূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত ও অভ্যস্ত করতে স্কাউট আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐকান্তিক আগ্রহে ১৯৭২ সালে দেশে স্কাউটিং যাত্রা শুরু করে।’

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প ২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের যুব সম্প্রদায়কে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্কাউট আন্দোলন এক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কাউন্সিল সভায় নির্বাচিত নতুন নেতৃত্ব দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে স্কাউটিং আন্দোলনকে এগিয়ে নিবে।
রাষ্ট্রপতি স্কাউটিং এ কৃতিত্বপূর্ণ কাজ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এবছর পদকপ্রাপ্ত স্কাউট সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কাউন্সিলের ৫২তম বার্ষিক (ত্রৈবার্ষিক) সাধারণ সভার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


নির্বাচিত

টুথপেস্টের পর সয়াবিনেও প্লাস্টিক আতঙ্ক

* তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট বাজার থেকে ৬০ নমুনা সংগ্রহ, বোতলের চেয়ে খোলা তেলে দূষণ ১.২৪ গুণ বেশি * দূষণের জন্য দায়ী প্লাস্টিক কারখানার ড্রাম বা পাত্রের বারবার ব্যবহার: গবেষণা * প্লেট থেকে পেস্ট, অদৃশ্য বিষে উদ্বেগ, জনস্বাস্থ্য হুমকিতে
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

হাতে এক বোতল স্বচ্ছ, ঝলমলে সয়াবিন তেল। চুলার কড়াইয়ে তা ঢেলে মাছ কিংবা সবজি ভাজার সুবাস যখন পুরো রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন কারোরই মনে সংশয় জাগে না—এটি কোনো খাবার নাকি মরণফাঁদ? বিজ্ঞান বলছে— রান্নাঘরের সোনালী রঙা সয়াবিন তেল থেকে শুরু করে সকালে দাঁত মাজার টুথপেস্ট—সবই দৈনন্দিন জীবনের অতি-আবশ্যকীয় পণ্যগুলোতে নীরবে থাবা বসিয়েছে এক অদৃশ্য ঘাতক মাইক্রোপ্লাস্টিক। প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসে বাসা বাঁধা এই সূক্ষ্ম বিষ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম এক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থার দুই অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চমকে ওঠার মতো ভয়াবহ চিত্র।

প্রতি লিটারে অর্ধলক্ষাধিক কণা: ভোজ্যতেল প্রতিটি বাঙালি পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে রাজধানী ঢাকার বাজার থেকে সংগৃহীত সয়াবিন তেল বিশ্লেষণ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা আক্ষরিক অর্থেই শিউরে ওঠার মতো। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বাজার থেকে সংগৃহীত বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারে গড়ে ৫৩,৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক বা সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা এই আতঙ্কজনক সত্য উন্মোচন করেন।

গবেষণার তথ্যমতে, বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা সয়াবিন তেলে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা ভয়াবহ রকমের বেশি। বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে দূষণের পরিমাণ ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯,৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার নৈকট্য এবং ড্রাম বা পাত্রের বারবার ব্যবহারকে এই উচ্চ দূষণের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে সয়াবিন তেলের নমুনায় মোট ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার ধরা পড়েছে। এগুলো হচ্ছে লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (LDPE), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (HDPE), পলিপ্রোপিলিন (PP), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (PETE), পলিইউরেথেন (PU) এবং নাইলন (Nylon)।

উদ্বেগের বিষয় হলো, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি গোটা বিশ্বে এই গবেষণাতেই প্রথম চিহ্নিত হয়েছে। তেলের কণাগুলোতে সবচেয়ে বেশি (৮২.৫শতাংশ) পাওয়া গেছে আঁশ বা ফাইবার জাতীয় মাইক্রোপ্লাস্টিক, যার অর্ধেকেরও বেশি (৫৬.২৯শতাংশ) পুরোপুরি স্বচ্ছ এবং চোখে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

গবেষকেরা দৈনিক সয়াবিন তেল গ্রহণের পরিমাণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের গড় ওজন ৭০ কেজি ও শিশুদের ১৬ কেজি ধরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য মানব-সংস্পর্শের মাত্রাও (হিউম্যান এক্সপোজার) নির্ণয় করেছেন। সে হিসাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে খাবারের সঙ্গে গড়ে প্রতিদিন ১৭.৬৫টি প্লাস্টিক কণা (বছরে প্রায় ৬,৪৪১টি) প্রবেশ করছে। অন্যদিকে, শরীরের কম ওজনের কারণে শিশুরা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি কণা এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি কণা গ্রহণ করছে।

গবেষণায় একটি শিশুর জীবনভর প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা তেল গ্রহণের অনুমিত পরিমাণ, শরীরের ওজন ও গড় আয়ুর ভিত্তিতে তৈরি মডেলনির্ভর হিসাব। এগুলো মানুষের শরীরের ভেতরে শনাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের সরাসরি পরিমাপ নয়।

গবেষকরা জানান, অনবরত এসব প্লাস্টিক কণা পেটে গেলে তা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষয়সাধন করতে পারে। ১৩০ মাইক্রোমিটারের ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে রক্তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

টুথপেস্টেও একইভাবে ছড়াচ্ছে বিষ: সয়াবিন তেলের এই আতঙ্কজনক চিত্রের ঠিক আগেই উন্মোচিত হয়েছিল দৈনন্দিন মুখের পরিচর্যায় ব্যবহৃত টুথপেস্টের বিষাক্ত রূপ। পরিবেশ বিষয়ক গবেষণাধর্মী সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় উঠে আসে যে, আমাদের ওরাল হাইজিনের অভ্যাসও মাইক্রোপ্লাস্টিক মুক্ত নয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিশেষভাব তৈরি ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (যেমন: মেরিল বেবি ও পেপসোডেন্ট কিড) বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

এই নীরব মহামারির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় আর নেই। পরিবেশবিদ, খাদ্যবিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, বিএসটিআই এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রসাধন ও খাদ্যপণ্যে ‘মাইক্রোবিডস’ বা প্লাস্টিক কণার ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। খোলা সয়াবিন তেল ড্রামে রেখে বিক্রির দীর্ঘদিনের অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। তেলের পরিশোধন, ফিল্টারিং ও প্যাকেজিং প্রক্রিয়ায় আধুনিক ও নিরাপদ ফিল্টার নিশ্চিত করতে হবে। টুথপেস্ট ও প্রসাধন সামগ্রীতে কৃত্রিম পলিমার বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন—চারকোল, প্রাকৃতিক সিলিকা, বেকিং সোডা বা নিম-তুলসী ব্যবহারে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করতে হবে।

তারা আরো বলেছেন, কেনাকাটার সময় সচেতন থাকা এবং শিশুদের ব্রাশ করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে তারা পেস্ট গিলে না ফেলে। সয়াবিন তেলে আমরা প্রতিদিনের খাবার রান্না করি কিংবা যে টুথপেস্টে সকালের পরিচ্ছন্নতা শুরু করি—সেখানেই যদি বিষের উপাদান লুকিয়ে থাকে, তবে জনস্বাস্থ্য এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়ায়। জাবি, বিইউপি এবং এসডো-এর গবেষণা চোখের সামনের রঙিন আবরণ সরিয়ে বাস্তব রূপটি দেখিয়ে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সরকারের কঠোর তদারকি, শিল্পমালিকদের বাণিজ্যিক সততা এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রাত্যহিক সচেতনতা। বিষমুক্ত জীবন নিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখনই সময়ের দাবি।

গবেষক দলের প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, ‘গবেষণায় আমরা ঢাকার বাজারের ব্র্যান্ডেড (বোতলজাত) এবং নন-ব্র্যান্ডেড (খোলা) উভয় প্রকার তেল বিশ্লেষণ করেছি। আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় কয়েক হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে, যার মধ্যে ফাইবার এবং ফ্র্যাগমেন্টের আধিক্য সবচেয়ে বেশি। মাইক্রোপ্লাস্টিককে এখন ‘ইমার্জিং কনটামিন্যান্ট’ বা উদীয়মান দূষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, বিপাকীয় ব্যবস্থায় সমস্যা এবং প্রজননতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ সূচকের ভিত্তিতে নমুনার ছয়টি গ্রুপকেই মাঝারি মাত্রায় দূষিত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে সামগ্রিক দূষণ-ভার সূচকে নমুনাগুলোকে কম দূষণঝুঁকির শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এই সূচক শুধু বিভিন্ন নমুনার দূষণের মাত্রা তুলনা করতে ব্যবহৃত হয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তার কোনো সরকারি মানদণ্ড বা নিরাপদ সীমা নয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যের জন্য বহুমাত্রিক হুমকি। বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃৎ, কিডনি, পাকস্থলী, পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীর ডিম্বাশয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এমনকি টুথপেস্টের মতো দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাত্যহিক ব্যবহার্য পণ্যের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক এসব কণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং যকৃৎ, কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। দূষণ কমাতে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে আরও শক্তিশালী মান নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। তবে প্লাস্টিক দূষণ বাড়তে থাকা এবং এ বিষয়ে গবেষণা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের শরীরে এর ক্রমবর্ধমান প্রবেশ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’

গবেষকদের মতে, দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। ফলে খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ কতটা এবং এর প্রভাব কী তা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্যও নেই। তারা সয়াবিন তেল প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেজিংয়ের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো, খাদ্যোপযোগী মানসম্মত ফিল্টার ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন।

অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক আরও বলেন, ‘প্লাস্টিককে পুরোপুরি বাদ দেওয়া এখন বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রিসাইক্লিং ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।’

গবেষকদের মতে, ভোজ্যতেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি কেবল একটি পণ্যের মানের প্রশ্ন নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত। তাই উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিশোধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে প্লাস্টিক দূষণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করে তা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে উন্নত পরীক্ষার যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে সবচেয়ে ছোট বা কম স্পষ্ট কণাগুলো শনাক্ত করা সম্ভব না-ও হয়ে থাকতে পারে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ভারত: দিনেশ ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের সংস্কৃতি ও খেলার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান দিনেশ ত্রিবেদী।

তিস্তা ইস্যুতে তিনি বলেন, এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান নেই। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

বৈঠকটি খুবই ফলপ্রসু হয়েছে দাবি করে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের স্বার্থে ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। আমরা কেবল সীমান্ত নয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও ভাগাভাগি করি।


নির্বাচিত

সেই তাহসিনকে বিশেষ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাহসিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

বড় বোনকে হারিয়ে গভীর শোকাচ্ছন্ন সেই তাহসিনকে ডেকে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্নেহ ও ভালোবাসায় পাশে দাঁড়িয়ে তার হাতে তুলে দিলেন বিশেষ উপহার। বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবারে তার নার্সারিতে পড়ুয়া আরও একটি ছোট বোন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং বড় হয়ে কী হতে চায়, তা জানতে চান। সে জানায়, বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। এ ছাড়া এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং যার প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার শখ ফুটবল খেলা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল ও একটি ড্রোন সেট তাহসিনের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন একটি সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ। সে বলে, স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন। তাই সে মোটেও বিচলিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও সে ঘুরে দেখেছে। সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানায় তাহসিন। বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে সেলফিও তুলেছে।

মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।


নির্বাচিত

এক সম্পর্ক ভেঙে আরেক সম্পর্ক নয়, স্বার্থের ভিত্তিতে এগোবে ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, একজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অংশ নয়। জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য। বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। বাংলাদেশ সংবাদ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতিতে আমরা আন্দাজের ভিত্তিতে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয় না।

তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জিরো-সাম গেম’ নয়। একজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার নীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করে না। এক্ষেত্রে নিজস্ব স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে এবং সেই স্বার্থকে এগিয়ে নিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

খলিলুর রহমান বলেন, কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হওয়ার অর্থ এই নয় যে, অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে সেই সফরও ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটের ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে এবং এসব মতবিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু একটি দেশের নয়, বহু দেশের সম্পর্ক রয়েছে। এসব সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ। যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ থাকবে, সেখানেই দেশ এগিয়ে যাবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।


নির্বাচিত

তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সৌজন্য উপহার হিসেবে ৭৮০ কেজি কিউ জাতের আনারস পাঠিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১০০টি কার্টনে মোট ৬২০ পিস আনারস বাংলাদেশে পৌঁছায়।

চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী কনস্যুলার পঙ্কজ জ্যোতি দাস এই উপহার গ্রহণ করেন।

শূন্যরেখায় আয়োজিত উপহার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, পরিচালক ড. ফনি ভূষণ জমাতিয়া এবং উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কনসালটেন্ট ড. রাজীব ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

ড. রাজীব ঘোষ বলেন, ‘কিউ জাতের আনারস আকারে বড় ও রসালো। এই সৌজন্য উপহারের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।’

অপূর্ব রায় বলেন, ‘পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই উপহার পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে গত ৩০ জুন একই স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য ৬০০ কেজি আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন তারেক রহমান।


নির্বাচিত

বৃহস্পতিবার আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দুই দেশের সম্পর্ক বোঝার জন্য বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

এই সফরে সার্জিও গোর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সফরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন সার্জিও গোর। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাস পর প্রভাবশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার এটিই প্রথম সফর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরসহ নানা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরাশক্তির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে সার্জিও গোরের এ সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সফরে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়াতে বার্তা আসতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ব্যবসা সম্প্রসারণে নীতিমালা সংশোধনের বিষয়ে বার্তা দেওয়া হতে পারে।


নির্বাচিত

বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বুধবার বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি অপরিহার্য অংশ। এই প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় এক শতাব্দী আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ, যা বর্তমানে কমে পাঁচ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই চিত্র স্পষ্টভাবে বাঘের অস্তিত্বের ওপর আসা হুমকির ইঙ্গিত দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয় এবং মানুষকে সচেতন করা সম্ভব না হয়, তবে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এছাড়া জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৫টি এবং দেশের অন্যান্য চিড়িয়াখানায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি বাঘ সংরক্ষিত আছে।

বাঘকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সরকার এই প্রাণী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। বাঘ গণনার বাজেট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বিষয়টি বন বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত, তবে তারা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গেই এই কাজ পরিচালনা করে থাকে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী জাতীয় চিড়িয়াখানায় একটি স্যুভেনির শপের উদ্বোধন করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শিল্পখাতের গ্যাস সংকট সমাধানে বিটিএমএ নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্পক্ষেত্রে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠক শেষে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গণমাধ্যমকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করেছেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।

বিটিএমএ সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে শিল্পখাতে এই ভয়াবহ গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা আশার আলো দেখছেন। শওকত আজিজ রাসেল আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বা আংশিক সচল রয়েছে, সেগুলোর সঠিক অবস্থা এবং কার কতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করার জন্য সরকার উদ্যোক্তাদের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে।

এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকার সংকটে থাকা টেক্সটাইল কারখানাগুলোর জন্য পরবর্তী পুনর্বাসন বা সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মনোভাবে বস্ত্রখাতের ব্যবসায়ীরা নতুন করে উৎসাহিত বোধ করছেন। মূলত দেশের অন্যতম বড় এই রপ্তানি খাতের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।


নির্বাচিত

সিআইডির প্রধান হিসেবে ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইনের দায়িত্ব গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। বুধবার (২৯ জুলাই) সিআইডি সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এর আগে গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সিআইডির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। সেখানেই কর্মরত থাকাবস্থায় তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়াও তিনি সিআইডির সদর দপ্তরসহ চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে সফলভাবে কাজ করেছেন।

তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, র‌্যাব এবং পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ; ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেছেন তিনি। এছাড়াও আধুনিক পুলিশিং ও ফরেনসিক ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার এই দক্ষ নেতৃত্ব সিআইডির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

এবার চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে লভ্য চিনিতে আশঙ্কাজনক মাত্রায় অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাজার থেকে সংগৃহীত চিনির নমুনার প্রায় ৯৫ শতাংশেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব বিদ্যমান। গবেষকদের তথ্যমতে, প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০৮টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Journal of Food Composition and Analysis-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগৃহীত ব্র্যান্ডেড ও খোলা—উভয় ধরনের চিনির গুণমান বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৩২২টি কণা থাকলেও খোলা চিনিতে এর পরিমাণ ছিল তুলনামূলক বেশি, গড়ে প্রায় ৪০৩টি। যদিও পরিসংখ্যানগতভাবে এই পার্থক্য খুব বেশি নয়, তবুও খোলা চিনিতে দূষণের হার গবেষকদের নজরে এসেছে। এসব কণার আকার ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩.১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রাপ্ত কণাগুলোর মধ্যে ৬৩ শতাংশ তন্তু (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ড (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং ৫ শতাংশ ছিল গোলাকার কণা।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে এসব কণায় পিভিসি, পিইটি, এইচডিপিই, নাইলন এবং এবিএস-এর মতো বিভিন্ন ক্ষতিকারক পলিমারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, চিনি পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ, ফিল্টার, কনভেয়ার বেল্ট এবং পরবর্তীকালে বিপণন ও সংরক্ষণের সময় নিম্নমানের প্লাস্টিক বস্তা বা প্যাকেজিং থেকে এই দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি পরিবেশের বাতাসে ভেসে থাকা অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা থেকেও খোলা চিনিতে এই মিশ্রণ ঘটা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

গবেষণায় মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, শুধু চিনি গ্রহণের মাধ্যমেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন তার শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে এই মাত্রা সরাসরি ক্ষতিকর মনে না হলেও চিনি মানুষের শরীরে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নীতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক সংক্রান্ত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অধিকতর পরিচ্ছন্ন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও তিনি জাপানের প্রতি আহ্বান জানান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। এ সময় তিনি এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্পপার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন ও চলমান ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।


নির্বাচিত

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

ফোনালাপ ও চিঠির মাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানানো হলে সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব বলেন।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘গ্যাসের সংকট দূর করতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়ে দুপুরে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানিসহ যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এ ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকার দ্রুততম সময়ে সাড়া দেবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

এর আগে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সংকট নিরসনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে কিছুদিন ধরে আমদানি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। মালয়েশিয়ার একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল সংকট নিরসনে কাজ করছে।’

আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহর আশা করেন তিনি। দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ-টি পুরোপুরি সচল হতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।


নির্বাচিত

আইএমএফের সবুজসংকেত পেলেই নবম পে স্কেল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শেষ হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি আইএমএফ-সরকার বৈঠকের ফলাফলের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে নতুন বেতন কাঠামোর ভবিষ্যৎ।

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে- রাজস্ব আহরণের দুর্বল অবস্থা এবং ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বিবেচনায় আইএমএফ সরকারকে অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও বিশদভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্য চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে বলা হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই অনুন্নয়ন ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বেতন ও ভাতা বাজেট নিয়ে আলোচনা করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ, বর্তমান রাজস্ব সক্ষমতা বড় পরিসরে সরকারি বেতন বৃদ্ধি বহনের জন্য যথেষ্ট নয়।

আইএমএফের মতে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে সংশোধিত একটি কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, আর্থিক চাপ কমাতে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি অথবা বিকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। অক্টোবরের আইএমএফ বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশও করা হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি চাকরিজীবী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের সম্ভাব্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ছাড়া নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, এতে বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close