শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

ঈদুল আজহায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে ৫ জামাত

ফাইল ছবিটি সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৪ ১৭:২৯

সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ১৭ জুন (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে। মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় এ উৎসবে ঈদগাহ ও মসজিদে মুসল্লিরা দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

আজ মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঈদুল আজহার দিন সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের অবসরপ্রাপ্ত মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী মো. আতাউর রহমান।

দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহীউদ্দিন কাসেম এতে ইমামতি করবেন। মুকাব্বির হবেন মসজিদের খাদেম আব্দুল হাদী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা আবু সালেহ পাটোয়ারী সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাতে ইমামতি করবেন। মুকাব্বির হবেন মসজিদের খাদেম মো. জসিম উদ্দিন।

চতুর্থ জামাত হবে সকাল ১০টায়। এ জামাতে ইমাম হবেন জামেয়া আরাবিয়া মিরপুরের মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম রুহুল আমিন এ জামাতে মুকাব্বির থাকবেন।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এ জামাতে ইমামতি করবেন। তার সঙ্গে মুকাব্বির থাকবেন খাদেম মো. আক্তার মিয়া।

এ পাঁচটি জামাতে কোনো ইমাম উপস্থিত না থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাইকোর্ট মাজার মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আশরাফুল ইসলাম।


হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু, আজ ফিরবেন ৪,০৩৭ হাজি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ০৮:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেশে ফিরছেন হাজিরা। হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এ দিন বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে রাত ৮টা ১০ মিনিটে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার ১০টি ফিরতি হজ ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন ৪,০৩৭ জন হাজি। এর মধ্যে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে ৪টি ফ্লাইটে ১৫৭৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। আর সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে ফিরবেন বাকি ২,৪৫৮ জন হাজি।

প্রসঙ্গত এ বছর মোট ৮৫,২২৫ জন হজযাত্রী ও ব্যবস্থাপনা সদস্য হজে যান। তারা ২১৮টি ফ্লাইটে ধারাবাহিকভাবে দেশে ফিরে আসবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০৬টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৭৫টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৩৭টি এয়ার ফ্লাইট পরিচালনা করে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনবে। এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হয় ১৫ জুন।

গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটটি (বিজি৩৩২) রাত ৮টা ১০ মিনিটে

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালে দেওয়া তথ্যানুযায়ী এই ফ্লাইটে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

গত শনিবার (১৫ জুন) চলতি বছরের হজ অনুষ্ঠিত হয়। ১২ জিলহজ জামারায় পাথর নিক্ষেপ করার শেষ দিন, হাজিরা পর্যায়ক্রমে ছোট, মধ্যম এবং বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করার মধ্য দিয়ে শেষ করেন হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এবার ৯ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে ২১৮টি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১০৬টি, সৌদি এয়ারলাইনস পরিচালিত ফ্লাইট ৭৫টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিচালিত ফ্লাইট ৩৭টি। এসব ফ্লাইটে সর্বমোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন।

সরকারি হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সরকারি মাধ্যমে ৪,৩২৩ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৭৮,৮৯৫ জন হজে গেছেন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে ৩২,৫৮০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১৬,৩৯২ জন, রাজশাহী বিভাগ থেকে ১১,৮৮৫ জন, রংপুর বিভাগ থেকে ৬,৭১৪ জন, খুলনা বিভাগ থেকে ৬,২২৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ৫,৬২৯ জন, সিলেট বিভাগ থেকে ২,৯১৩ জন এবং বরিশাল বিভাগ থেকে ২,৯১১ জন হজযাত্রী হজে অংশ নেন। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পন্ন করেন।


প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে আজ ভারত যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ০০:০৩
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ নয়াদিল্লি যাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি জোটের টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এটি হবে ভারতে কোনো সরকারপ্রধানের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। অন্যদিকে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরে দুই দেশের চমৎকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও এগিয়ে নেওয়ার বার্তা থাকবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সফরের সময় উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষপর্যায়ে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং তারপর প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা হবে। সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।

এ ছাড়া একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত এক দশকে শক্তিশালী আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বেশ কিছু আন্তসীমান্ত উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।

এটি ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। তিনি গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট দুপুর ২টার দিকে শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।

ফ্লাইটটি বিকেল ৪টায় (স্থানীয় সময়) নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে আগামীকাল শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে লাল গালিচা বিছানো হবে। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড অব অনারও পরিদর্শন করবেন।

এরপর তিনি রাজঘাটে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।

শেখ হাসিনা একই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনার জন্য হায়দরাবাদ হাউসে যাবেন।

উভয়েই সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী তাদের বিবৃতি দেবেন। তারা হায়দ্রাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেবেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

সন্ধ্যা ৬টায় (স্থানীয় সময়) প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর থেকে ভারতের রাজধানী ত্যাগ করবেন এবং রাত ৯টায় ঢাকায় অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসাকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বাঁয়ে) ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট মাতামেলা সিরিল রামাফোসা (ডানে)। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৪ ২২:১৪
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতামেলা সিরিল রামাফোসা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মাতামেলা সিরিল রামাফোসাকে লেখা এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে আপনার বিজয় দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ আপনার নেতৃত্বে যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছে তার প্রমাণ।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতি আপনার অঙ্গীকার আপনার দেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে মহান নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

তিনি চিঠিতে বলেন, ‘আমি নিজেও এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস

আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উন্নয়নে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।’

শেখ হাসিনা আরও লিখেছেন, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস থাকায় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি লেখেন ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের সহযোগিতা শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার উন্নয়ন ঘটাবে না বরং পারস্পরিক স্বার্থের বৈশ্বিক সমস্যাগুলোকেও সমাধান করবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রতি আপনার সরকারের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে একাত্মতার জন্য আপনার দৃঢ় অবস্থানের জন্য আমি গভীরভাবে প্রশংসা করি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাতামেলা সিরিল রামাফোসার সাফল্য, সুস্বাস্থ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আরেকটি মেয়াদ শুরু করার জন্য তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠিটি শেষ করেন।


‘জনগণের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খাদ্য নিয়ে দেশে সংকট নেই। এখন পুষ্টিকর আর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

আজ বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সাইলো প্রাঙ্গণে আশুগঞ্জ সাইলোর বিএমআরআর সফল সমাপ্তিতে সাইলো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি খাদ্য গুদামে ধারণ ক্ষমতা বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিক টন। আগামী জুনের মধ্যে এ ধারণক্ষমতায় আরও সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশে পুরোনো জরাজীর্ণ গুদাম সংস্কারের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ধারণ ক্ষমতা ৩০ লাখ মেট্রিক টন হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যালান্সিং মর্ডানাইজেশন রিহেবিলেশন অ্যান্ড এক্সপানশন (বিএমআরই) সম্পন্ন হওয়ার ফলে আশুগঞ্জ সাইলো তার আগের কর্মক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। যন্ত্রপাতিসমূহ সম্পূর্ণ নতুন হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫শ মেট্রিক টন গম গ্রহণ ও বিতরণ করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া আশুগঞ্জ সাইলো মাত্র ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন ও মেরামত করা হয়েছে। নতুন সাইলো নির্মাণ ব্যয়বহুল। সরকারি অর্থ সাশ্রয় আমাদের লক্ষ্য। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সাফল্য অর্জন করেছে। আশুগঞ্জের মতো কৌশলগত স্থানে সাইলো নির্মাণের ফলে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গম বিতরণ করা সহজ হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন ও খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আশুগঞ্জ সাইলো সুপার খন্দকার সিরাজুস সালেকিন।

বিষয়:

‘বিদেশের শ্রমবাজারের জন্য শ্রমিকদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য অবশ্যই শ্রমিকদের কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিনা খরচে জাপানগামী টেকনিক্যাল ইন্টার্নদের স্মার্ট কার্ড ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে দক্ষতা ছাড়া দেশে-বিদেশে কোথাও মর্যাদা নেই।’ জাপানগামী টেকনিক্যাল ইন্টার্নদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা একেকজন দেশের প্রতিনিধি, বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। আপনাদের কাজ, চলাফেরা, ব্যবহারে দেশের সুনাম হবে। খারাপ কাজ করলে নিজের, পরিবার ও দেশের দুর্নাম।’

‘আপনারা দেশের সুদিন, দুর্দিনে মানুষের পাশে থাকবেন। বিনা খরচে, বৈধভাবে জাপানে যাচ্ছেন, বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাবেন। আপনাদের রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে’- যোগ করে বললেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যারা বিদেশ যেতে চায় তাদের জন্য আপনারা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবেন। আপনারা তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবেন যাতে সবাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হয়ে বিদেশে যায়।’

অনুষ্ঠানে বিএমইটির মহাপরিচালক সালেহ আহমেদ মোজাফফর বলেন, ‘যাদের ভাষাগত যোগ্যতা আছে তারা ইন্টার্ন হিসেবে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ইন্টার্ন করে দক্ষতা অর্জন করে। ৩ বছরের সফল ইন্টার্ন শেষে জাপানি কোম্পানিতে ৫ বছরের জন্য দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবে। এই ৫ বছর শেষ হলে সারাজীবন দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবে সে সুযোগ রয়েছে।’

সভায় জানানো হয়, এ প্রোগ্রামের আওতায় বিএমইটির মাধ্যমে ইতোপূর্বে ৫৮৪ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (কর্মী) সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে জাপানে গমন করেছে। তারা জাপানের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জাপানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ করে দক্ষতা অর্জন করেছে। বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের মাধ্যমে এ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অবদান রাখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিনা খরচে আরও ২৫ জন টেকনিক্যাল ইন্টান (কর্মী) জাপানে গমন করবে।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল আলম, বিএমইটির মহাপরিচালক সালেহ আহমেদ মোজাফফর, বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ফৌজিয়া শাহনাজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


‘স্পিডগান ব্যবহার করায় এবারের ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট স্পিডগান ব্যবহারসহ নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এবারের ঈদযাত্রা ছিল নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক। গত ১৩ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে ৫৫৬টি স্থানে স্পিডগান ব্যবহার করে। একই সময়ে ওভারস্পিডের কারণে এক হাজার ৪৫৮টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম এবং জনসংযোগ বিভাগের পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এতে বলা হয়, সারা দেশে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট স্পিডগান ব্যবহারসহ নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় জনগণের ঈদযাত্রা ছিল নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক। সাধারণত ওভারস্পিড সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত। অননুমোদিত যানবাহনে যাত্রী পরিবহন রোধ এবং স্পিডগান ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও কমেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ১৩ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশ দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও সড়কের ৫৫৬টি স্থানে স্পিডগান ব্যবহার করেছে। একই সময়ে ওভারস্পিডের কারণে ১ হাজার ৪৫৮টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে গণপরিবহন ব্যতীত অন্যান্য পরিবহনে যাত্রী পরিবহন করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৫৮৩টি যানবাহনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া, পুলিশ ২ হাজার ১৪টি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সময়ে মোট ৭ হাজার ১০২টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, জনগণের নিরাপদ এবং স্বস্তিদায়ক চলাচল অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে পুলিশের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিষয়:

বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। আজ বৃহস্পতিবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৯৭টি, বন্ধ থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ ৫টি, বিএসএফআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির ৪টিসহ মোট ৩৯৭ টি। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে চলতি অর্থবছরে ১২৩টি বন্ধ/রুগ্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে।

স্বতন্ত্র সদস্য আব্দুল কাদের আজাদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫টি শিল্পনগরী, ৩টি শিল্পপার্ক ও ২টি অন্যান্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজপাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প পল্ট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটি, নারায়ণগঞ্জ, জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ, চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী/শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯.৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স পয়েন্টে (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।


বন্যার্তদের জন্য ১১০০ টন চাল ও নগদ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

বন্যার্ত মানুষের জন্য এক হাজার একশ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫০ লাখ টাকা এবং ১২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বরাদ্দকৃত চাল সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। সিলেটে সাংবাদিকদের এমনটা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিবুর রহমান এমপি।

জানা গেছে, বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে পাঁচশ মেট্রিক টন করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জন্য সমান হারে এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য একশ মেট্রিক টন। নগদ ৫০ লাখ টাকার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে এবং সিলেট সিটির জন্য ১০ লাখ টাকা।

১২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের মধ্যে ৫ হাজার প্যাকেট করে দুই জেলার জন্য এবং সিটির জন্য দুই হাজার প্যাকেট রয়েছে। এ ছাড়া দুই জেলার জন্য গবাদিপশুর খাবারের জন্য ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা এবং শিশুদের খাদ্যের জন্যে ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে, সিটি করপোরেশনের জন্য শিশু ও গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বুলবুল জানান, সিলেট জেলার জন্য পাঁচশ মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ টাকা, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি।

আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট উপজেলায় বরাদ্দ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বন্যার্ত মানুষের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশু ও গো-খাদ্য পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা জানায়, সিলেট সিটির জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থ ও খাবার নগরের বন্যার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ শুরু হয়েছে।

বিষয়:

‘আগাম বন্যা থেকে রক্ষা পেতে সুরমা নদী ড্রেজিং করা হবে’

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, ‘সিলেট নগরকে আগাম বন্যা থেকে রক্ষায় সুরমা নদী খনন করা হবে।’

তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের টুকেরবাজার এলাকায় শাদীখাল পরিদর্শনকালে একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসা ঢলের পানি বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গপোসাগরে প্রবাহিত হয়। এ কারণে সিলেট অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। পলিমাটিতে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। তাই, পানি উপচে শহরেও প্রবেশ করছে। এ পরিস্থিতির উত্তরণে দেশের ৯টি স্থানে নদীতে ড্রেজিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নদীতে পলিমাটি থাকার ফলে এর আগেও ড্রেজিং কাজ ব্যাহত হয়েছিল। উজান থেকে আসা পানির সঙ্গে পলিমাটিও আসে। সে পলিমাটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ করেছি দ্রুত সুরমা নদী ড্রেজিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জাহিদ ফারুক আরও বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের মিটামইন সড়ক দিয়ে পানি দ্রুত প্রবাহের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আমরা আগাম বন্যা পরিস্থিতি রুখতে সুরমা নদী খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, সিলেট জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


‘মিয়ানমারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরাও পাল্টা গুলি চালাবো’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার থেকে আর কোনো গুলি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এলে, এখান থেকেও পাল্টা গুলি চালানো হবে বলে সেদেশের বিবাদমান দুইপক্ষকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে এক প্রশ্নের জবাবে আজ বৃহস্পতিবার একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আমরা যতদূর শুনেছি আরাকান রাজ্যে আরাকান আর্মি অনেক এলাকা দখল করে নিয়েছে। সেজন্য মিয়ানমারের যে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তারা আত্মরক্ষার্থে আমাদের এলাকায় পালিয়ে আসছে। কাজেই সেখানকার অবস্থা কী, সেটা আমরা বলতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি, তারা মাঝে মাঝে ভুল করে আমাদের বিজিবির দলের ওপর গুলি করেছিল। বিষয়টা তাদের জানিয়েছি। তারা বলছে যে, সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের পতাকা যেন উড়িয়ে যায়, তাহলে আর কেউ গুলি করবে না।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে হলে আমাদের এলাকায় নাফ নদী কিছু নাব্য হারিয়েছে। কাজেই সেখান দিয়ে আমাদের নৌযান চলাচল করতে পারে না। মিয়ানমারের অংশ দিয়ে যেতে হয়। যে কারণে এই বিপত্তিটা ঘটেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কখনও মিয়ানমার আর্মি, কখনও আরাকান আর্মি ফায়ার ওপেন করে। আমরা উভয়কেই বলে দিয়েছি, তারা আর যদি গুলি করে, আমরাও পাল্টা গুলি করবো। ওখান থেকে আর কোনো গোলাগুলি হচ্ছে না। এখানে মিয়ানমারের যে দুটি জাহাজ ছিল সেগুলো ফেরত নিয়ে গেছে। আমরা আশা করছি, সেখানে আর গুলি হবে না। তারপরও আমাদের যারা ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন, তারা সাবধানতা অবলম্বন করবেন।


‘বাজেট বিষয়ে সব ধরনের প্রতিক্রিয়া আমলে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি: প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও পুষ্টি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বৃহস্পতিবার বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৪ ১৭:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ হলেও বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনার সুযোগ এখনও আছে এবং বাজেট বিষয়ে সব ধরনের প্রতিক্রিয়া আমলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি: প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও পুষ্টি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পর বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া আসছে। আমরা সব প্রতিক্রিয়া আমলে নিচ্ছি। যেগুলো বাস্তবসম্মত এবং বাজেটে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা হবে। কারণ এখনো বাজেট পাস হয়নি।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি নিয়ে, বাজেট নিয়ে বিশ্বব্যাংক কি বলছে সেদিকেও নজর দিয়েন। বিশ্বব্যাংক বলেছে ভালো হয়েছে। আমার টাকা লাগবে, বিশ্বব্যাংকের কথা শুনতে হবে। না হলে আপনারা (সমালোচকরা) টাকা দেন।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জনবান্ধব সরকার। অনেকেই বলে, সরকার শিগগিরই পড়ে যাবে। কই, সরকার তো পড়ে না। অনেকে বলে, সরকার দেউলিয়া হয়ে গেছে। দেউলিয়া মানে কি? দেউলিয়া তো হলো না। বিশ্বব্যাংক কিছু বোঝে না, আপনি সব কিছু বোঝেন? বাজেট দিলাম, এটা দেখেন ও বোঝার চেষ্টা করেন। এই বাজেট জনবান্ধব বাজেট। কোনো কিছুতে সমস্যা থাকলে পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা আছে।

সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি ড. জিয়াকুন শি, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম প্রমুখ।


আর সময় পাবেন না বেনজীর: দুদক আইনজীবী

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও অপরাধলব্ধ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। আগামী রোববার দুদকে হাজির না হলে, আর সময় পাবেন না তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

খুরশীদ আলম খান বলেন, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরেশোরে চলছে। তার বিরুদ্ধে আরও অপরাধলব্ধ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে।

এর আগে আগামী রোববার (২৩ জুন) তাকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। ৬ জুন বেনজীরকে জিজ্ঞাসাবাদের দিন ছিল। তবে ওই দিন নতুন করে দুদকের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেন বেনজীর। দুদ‌কের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ‌্য জানান সংস্থাটির স‌চিব খোরশেদা ইয়াসমীন।

এদিকে বেনজীরের স্ত্রী ও সন্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী ২৪ জুন দিন রেখেছে দুদক। ৯ জুন হাজিরার জন্য নতুন সময় চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে দুদকে আবেদন করেন তারা। তাদের এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটি।

২৮ মে বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশে বেনজীরকে ৬ জুন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের ৯ জুন দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৫ জুন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে বেনজীরের পক্ষে তার আইনজীবী আরও ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন জানান। দুদকের উপ-পরিচালক বরাবর সময় চেয়ে আবেদনটি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এ তারিখ দেওয়া হয়।

বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় ৬২১ বিঘা জমি, ঢাকার গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসা করার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের সন্ধান পেয়েছে দুদক। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের ওই আদেশ আসার আগেই গত ৪ মে বেনজীর আহমেদ দেশ ছেড়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়:

banner close