শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাসহ শিশুশ্রম নিরসনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগামীকাল ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে একযোগে কাজ করার এখনই সময়। এসডিজি ৮.৭ অর্জনে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বাস করতেন আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, শিশুরাই তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। এই ভাবনা থেকেই জাতিসংঘ শিশু সনদের ১৫ বছর আগে ১৯৭৪ সালে তিনি জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের শিশু, নারী ও অনগ্রসর অংশসহ প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মের স্থিতিশীলতা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাতে (আইএলও) যোগ দেয়। শিশু শিক্ষার বিকাশ নিশ্চিত করতে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুসহ সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে নারী, শিশু ও সমাজের অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে শিশু শ্রম প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, শ্রমজীবী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে প্রত্যাহারের লক্ষ্যে আমরা ‘জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০’ প্রণয়ন করেছি। এ নীতি বাস্তবায়নে জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ, উপজেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি, জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি এবং বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ গঠন করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিশুদের জন্য ৪৩টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শিশুশ্রম নিরসন ও পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে যা এবছর শেষ হবে। গৃহকর্মে শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫’।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা দেশকে সকল ধরনের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ প্রণয়ন করেছি এবং এটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সরকার ‘জাতীয় শিশুনীতি-২০১১’, ‘শিশু আইন-২০১৩’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭’ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিকাশে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে বিনামূল্যে নতুন বই প্রদান করা হচ্ছে। প্রায় শতভাগ শিশু আজ স্কুলে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিশু ও তাদের পরিবারের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, শিশু সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করা। এ ছাড়া শিশুশ্রম নিরসনে আমরা বেসরকারি খাতগুলোকে সম্পৃক্ত করেছি। সহিংসতা ও শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষা সম্পর্কে নিয়োগদাতাদের প্রশিক্ষিত করার বিষয়টিতে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি।
আগামীকাল বুধবার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হল ‘শিশুশ্রম বন্ধ করি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি।’
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিদ্যমান করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ করেছে সরকার।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ অর্থ ব্যয় করা হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী শাসনামলের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কর-জিডিপি অনুপাতের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল দেশের অন্যতম।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারের লক্ষ্য বর্তমান মেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে পৌঁছানো। সরকার কথার বদলে পরিসংখ্যান দিয়ে সাফল্য প্রমাণ করতে চায় বলেও জানান তিনি।
চলতি চতুর্থ প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এ অর্জনের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত দেশীয় বা বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম—এ নিয়ে জনমনে যে সংশয় রয়েছে, তা দূর হবে।’
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে কর ফাঁকি প্রতিরোধ, এসআরও সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা, ডিজিটালাইজেশন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং টাস্কফোর্স গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাড়তি রাজস্ব ব্যবহার করে সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
এ ছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিচালন ব্যয়ের পরিবর্তে মূলধনী ব্যয়ে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি—এডিপি) অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আওতায় জ্বালানি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিম্ন ও নিন্ম মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার দুটি প্রধান পথে এগোচ্ছে—কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিগত সংস্কার।
জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর মতো খাতে করের অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করা হবে, যাতে নাগরিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে উৎসাহিত হন—বলেন তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ১৮০ দিন, এক বছর ও পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্তর্বর্তীকাল থেকে নির্বাচিত সরকারের দিকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। নিয়োগ দেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় গত শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নিয়োগ আদেশ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত রোববার বিষয়টি জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৪ মার্চের প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার নিয়োগের আদেশটি বাতিল করা হলো। এলজিইডির সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়ার অবসরোত্তর ছুটি স্থগিতের শর্তে এক বছরের চুক্তিতে তাকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আব্দুর রশীদএলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আব্দুর রশীদ
কেন আব্দুর রশীদের নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি। তবে এই কর্মকর্তাকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে এ নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও সুবিধাভোগী ছিলেন বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন।
রাজধানীর শ্যামপুরে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা সংঘর্ষে শেখ ফরিদ (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা দেড়টার দিকে শ্যামপুর বাজার ইকোপার্কের পাশের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ থানার বালাশপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত ওবায়দুল্লাহ। বর্তমানে থাকতেন রাজধানীর কদমতলী পলাশপুর এলাকায়। ভ্যানে করে ট্রাউজার বিক্রি করতেন তিনি।
হাসপাতালে মৃত শেখ ফরিদের মামা সোয়াইব মোর্শেদ জানান, মালামাল কিনতে কদমতলী থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে কেরানীগঞ্জ যাচ্ছিলেন তিনি। পথে শ্যামপুর বাজারে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ফরিদ। তখন পথচারীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুসাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে শ্যামপুর বাজার ইকোপার্কের পাশে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার এক যাত্রী ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন। আহত সিএনজিচালক একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিনকে ডিএমপি গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের মুখপাত্র করা হয়েছে। গত শনিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এক আদেশে নাসিরুদ্দিনকে ডিএমপির পরিবহন বিভাগ থেকে বদলি করে মুখপাত্র করেন।
একই আদেশে ডিএমপির উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়াকে ডিএমপির পরিবহন বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএমপির পি অ্যান্ড আর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ওয়াহিউল ইসলামকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র।
গতানুগতিক ধারার বাইরে এবারের সংসদকে ‘মজলুমদের সংসদ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার ঘোষণা দেন। আজ রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠকে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং আজ তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে স্বীকৃত।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দ্বার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধসহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আজকের এই সংসদ অসংখ্য পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং নির্যাতিত মানুষের ত্যাগের ফসল।
সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন, আমি ইতোমধ্যে সরকার এবং দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করব।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আমি সঠিক থাকলে আপনারা সাহায্য করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন। কারণ এই সংসদে আমার চেয়ে অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান অনেকে আছেন।
এবারের সংসদের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এই সংসদ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এখানে কেউ এসেছেন ফাঁসির মঞ্চের কন্ডেম সেল থেকে, কেউ এসেছেন আয়নাঘর থেকে, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন থেকে, আর কেউ এসেছেন গুম-নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে। আমরা সবাই এখানে মজলুম হিসেবে সমবেত হয়েছি।
বিখ্যাত আইনবিদ এভি ডাইসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সরকার বা জনগণ—সবাইকে আইনের অধীনে থাকতে হবে। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে আমি ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।
বক্তব্যের শেষে তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ এবং আমাদের লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
রোববার (২৯ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারে চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ ছিল। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুতই এই মিটার চার্জ পদ্ধতি তুলে দিচ্ছি।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিটার ভাড়া হিসেবে দিতে হয়। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে আসছিলেন, মিটারের দাম উঠে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর এই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছিল।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এই চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়।
দেশের ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বর্তমানে দায়িত্বরত ১১ জেলা প্রশাসককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকরা হলেন, রাজশাহীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লুৎফুন নাহার, খুলনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের হুরে জান্নাত, মাদারীপুরে অর্থ বিভাগের উপসচিব মর্জিনা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক আবু সাঈদ, চাঁদপুরে জ্বালানি ও খানিজ সম্পদ বিভাগের আহেমদ জিয়াউর রহমান, হবিগঞ্জে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জি এম সরফরাজ, নরসিংদীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইসরাত জাহান কেয়া, মেহেরপুরে সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের শিল্পী রানী রায়, লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগের রাশেদুল হক প্রধান, বান্দরবানে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সানিউল ফেরদৌস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়ে। বিরোধী দল জামায়াতসহ তাদের জোটের সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া দিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব রয়েছে। জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় প্রাপ্ত নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। এবারের অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১২ মার্চ। প্রথম দিনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ১১ জন বিএনপি, ৩ জন জামায়াতের। ১৩৩টির মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশে ইতোমধ্যে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। বাকি ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে কমিটির তৃতীয় বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, অধ্যাদেশ পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে তা বাতিল হয়ে যাবে। তাই আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস হতে হবে।
সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতে ঝটিকা সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯ টা ৫ মিনিটে নিজ কার্যালয়ের নিচে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তখন সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। যথাসময়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিত নিশ্চিতের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি।
পরে ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন সরকার প্রধান। কৃষক কার্ডের ডেমো প্রদর্শন বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
সরকারি সফরে শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
রোববার আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলের উদ্যোগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সিনেট চেম্বারে বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সেনপ্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফ্লাইটটিকে অবতরণের পর থেকেই নজরদারিতে রাখেন। অবতরণের পর এভসেকের সহায়তায় কার্গো কম্পার্টমেন্ট তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে টয়লেট প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশন মুলতবির পর আজ থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হবে।
এর আগে গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মূলতবি করা হয়। সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অধিবেশন চলবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি পরিচালকের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যও করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বললেও প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। তবে পরবর্তীতে পাওয়া প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই সঠিক প্রমাণিত হয়। সরকারি প্রক্রিয়ায় সময় লাগায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের পরিচালক ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেননি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সহায়তায় ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও দুটি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এসব ভেন্টিলেটর সরকারি অর্থে নয়, বেসরকারি সহায়তায় আনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর গভীর আস্থা রাখেন। তাই, তাদের আচরণ ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও ক্লান্তির কারণে চিকিৎসায় ভুল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান অর্জন এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিজের চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক পরামর্শ ও বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।