তিস্তাসহ দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগিসহ দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার জন্য চলতি মাসেই আবারও দিল্লি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগামী ২১ ও ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ভারতে লোকসভা নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি আগেই মোটামুটি ঠিক করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ২১ জুন দিল্লি পৌঁছাবেন এবং পরেরদিন তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসবেন। সফরের খুঁটিনাটি ঠিক করতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা ইতোমধ্যে দুবার ঢাকা ঘুরে গেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার সফরে তিস্তাসহ দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি, রেল, সড়ক ও নৌপথে আঞ্চলিক সংযুক্তির কার্যকর প্রসার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের নানা দিক নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে। নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৯ জুন শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এর আগে ৮ থেকে ১০ জুন ভারত সফর করেন শেখ হাসিনা।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা নির্ধারণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং গণনায় ৩৪৯টির মধ্যে ৩৪৩টি ভোট সংগৃহীত হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ লাভ করেন ৮৮ ভোট।
ভোটাভুটির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পর নিজ ভোট প্রয়োগ করেন মির্জা ফখরুল, যা সংসদ সদস্যদের বিপুল করতালিতে অভ্যর্থিত হয়। এসময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ী হওয়ার ফলে আজই মির্জা ফখরুলের বিএনপির মহাসচিব, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বের শেষ দিন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত আসনে বসবেন।
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে কাজ করা ছাড়াও ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ক্রমান্বয়ে দলের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি, কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত ও ২০১৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে কঠিন সময়ে বিএনপির কাণ্ডারী হয়ে নেতৃত্ব দেওয়া এই প্রবীণ রাজনীতিক অবশেষে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
সংসদ ভবন, ২০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজের আসন থেকে উঠে পাশে বসা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ভোট বাক্সের কাছে যান। ঘড়ির কাঁটা যখন ২টা ১১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট বাক্সের কাছে যান এবং নিজের ব্যালট পেপার বাক্সে ফেলেন।
এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর ভোট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে মির্জা ফখরুল উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সাথে করমর্দন করেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের কাছে গিয়েও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর আগে দুপুর ২টা থেকে ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শুরুতে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেন। এরপর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট দেন। তাঁরা ভোট দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ও প্রার্থীর সাথেও করমর্দন করেন। প্রায় ৮ মিনিট সংসদ কক্ষে অবস্থানের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
দুপুর ২ টা ১২ মিনিটে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩৪৯ জন।
সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। ওই সময় বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (৯২ ভোট) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শুরুতে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেন। এরপর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা একের পর এক ভোট দিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩৪৯ জন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণ শেষে কোন প্রার্থী কতটি ভোট পেলেন, কতটি ভোট বাতিল বা নষ্ট হলো, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। যিনি বিজয়ী হবেন বা যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর গেজেট প্রকাশ করা হবে।
রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বংস, মাদক চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান।
জেনারেল ওয়াকার বলেন, রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি দেশের ওপর বহুমুখী চাপ তৈরি করছে। তারা পরিবেশ ধ্বংস, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
অনুষ্ঠানে তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন সেনাপ্রধান।
এবারের ক্যাপস্টোন কোর্সে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সিনিয়র চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং করপোরেট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশার মোট ৩৭ জন ফেলো অংশ নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে কোর্সের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে এই কোর্স।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হচ্ছে।
১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংসদে একক প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রায় তিন যুগ পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা সীমিত থাকলেও সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে আজই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণা করা হবে।
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ আপিল বিভাগ বাতিল করায় এই আসনে কোনো সংসদ সদস্য নেই।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদীয় দলের বৈঠকও আজ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করা হবে। সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। নৈতিকস্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁকে বৈঠকে ডাকা হয়নি। এ ছাড়া তিনজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও গণনার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্যও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তবে ফলাফল ঘোষণার সময় কোনো সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হবে না।
নির্বাচন পরিচালনায় ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের মধ্যে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের নামও রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে জয়ী নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ছয়টি কমিটি গঠন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিকসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১২০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। শপথ নেওয়ার পরই নতুন রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম দায় নেই। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, তাই প্রধানমন্ত্রী জনগণের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আর আগের সরকার বলতো ‘সব বন্ধ করে দেখাই আগে কি ছিল’। এসব কথা বিগত দিনে বলা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এই সরকারকে জনগণ একটি বড় বিজয় এনে দিয়েছে। সরকার যে কোনো মূল্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিগত দিনে সরকারী কর্মকর্তারা কাজ করেছেন এমন এক সরকারের সঙ্গে যাদের নির্বাচিত হওয়ার কোনো দায় ছিল না। সেই সরকারের ইচ্ছা ছিল অনন্তকাল ধরে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকা। সুতরাং সেই সরকার দেশের জনগণের কথা ভাবেনি। যদি ভোটের ব্যবস্থা ঠিক থাকে, তাহলে সরকার সারাক্ষণ জনগণের কথা হিসেব করবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পার হয়েছে। উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সময় মূল্যায়ন করছেন। আগামী ছয় মাস পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ মূল্যায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারের সব অংশকে যুক্ত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে যেতে হবে। কোন ক্ষেত্রে কি করেছি সেটি জনগণকে বলতে হবে। সেই বলার জন্য আপনাদের (সরকারি কর্মকর্তা) সহযোগিতা লাগবে। সরকার কোন ধরনের পলিসি ও কর্মসূচি জনগণের কাছে নিয়ে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে সবাইকে অবগত থাকতে হবে। আমরা চাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি ভালো নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে। সরকারের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ থাকবে এবং জনগণের ইচ্ছাকে সরকার মূল্যায়ন করবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ব্যালট পেপার হিসেবেও মূল্যায়ন করেনি। আমাদের চেহারায় যদি শেখ হাসিনা ব্যালট পেপার দেখতো, তাহলে দেশটাকে এই জায়গায় নিয়ে যেত না।
তিনি বলেন, আমাদের শিশু-কিশোররা নানা ধরনের আসক্তিতে ডুবে যাচ্ছে। তাদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সহপাঠ্য কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্যুসহ নানা সহপাঠ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে যে জীবিকা নির্বাহী করা যায়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় সেটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের শিশুরা সর্বক্ষেত্রে ভালো করবে। আমরা প্রচলিত সার্কাস, যাত্রাপালা থেকে খারাপ বিষয়গুলো সরিয়ে পুনরায় সেগুলো আয়োজনের চেষ্টা করব।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকারসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলা জেলা প্রশাসক, কালচারাল অফিসাররা অংশ নেন।
চলতি বছরের মাঝামাঝিতে এসে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক বহুমাত্রিক ও জটিল সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও পরিষেবা—সব খাতেই খরচ বৃদ্ধির ধাক্কায় নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখন প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির হার কমার কিছুটা ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে বাজারে গিয়ে সেই স্বস্তির দেখা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বরং আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে মধ্যবিত্তের দীর্ঘদিনের চেনা জীবনযাত্রার ছক ও সঞ্চয় আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।
পরিসংখ্যানে স্বস্তি, বাজারে অস্বস্তি: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএসবি) তথ্য ও অন্য হিসাব অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির গ্রাফ ওঠানামা করলেও পণ্যের দাম আগের জায়গায় ফিরে যায়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় রমজান, ঈদ ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৩ শতাংশ। জুনে সেটি বেড়ে ৯.১৬ থেকে ৯.২১ শতাংশের ঘরে পৌঁছায় এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৮.৭ শতাংশে (যা ডিসেম্বরে ছিল ৭.৭১ শতাংশ)।
জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৩২ শতাংশে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.১৬ শতাংশে নেমেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯.২৮ শতাংশের চড়া ঘরে।
মূল্যস্ফীতির গতি কমলেও জুলাই মাসেই আগের মাসের তুলনায় সামগ্রিক মূল্যস্তর উল্টো ১.৪৪ শতাংশ বেড়েছে।
জুনে মানুষের আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২ শতাংশ, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত কমছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত ছয় মাসে চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ভোজ্যতেল, আটা, ডাল, লবণ, আলু, রসুন, ডিম, গুঁড়া দুধ ও মৌসুমী সবজির দাম বেশ চড়া।
অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে ডলারের ক্রমাগত দরবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন। কয়েক বছর আগে প্রতি ডলারের দর ৮৬ টাকার আশপাশে থাকলেও আগস্টের শুরুতে তা বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকা ৮০ পয়সায় ঠেকেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। ফলে আমদানিনির্ভর খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আনার খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকে।
এদিকে, গত ২১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যা দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী এলএনজি খাতের ওপর বড় ধাক্কা।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এক্সিলারেট ও সামিট) মোট সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২১ জুলাই আগুন লাগার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল ৬ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এরপর জাহাজ না পাওয়ায় সামিটও এক দিন বন্ধ থাকে। সবশেষ গত বুধবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে এক্সিলারেট এনার্জি ফের বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালেও দুটি টার্মিনাল থেকে ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছিল, যা বুধবার (১৯ আগস্ট) এক্সিলারেট বন্ধ হওয়ায় শুধু সামিটের মাধ্যমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
ওমান ও কাতারের সঙ্গে জিটুজি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং সরবরাহকারী দেশে হামলার কারণে আমদানি স্থবির। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে কিনলেও শিডিউল অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত এলএনজি পৌঁছাচ্ছে না।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোনে পাওয়া না গেলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, ২৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি কবে পৌঁছাবে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। দ্রুত এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
দেশের সবচেয়ে বড় উৎস বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক উৎপাদন ১,৩৫১ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে প্রায় ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে।
সরকারি গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) তথ্যমতে, সোমবার মোট সরবরাহ ছিল ২২৬২ মিলিয়ন ঘনফুট, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তা ২০৭৫ এবং বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের পর তা আরও কমে ১৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, সাভার ও চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলে রড, স্টিল, ডাইং, সিমেন্ট, জাহাজভাঙা এবং তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
বিএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেন গুপ্ত বলেন, ক্রেতার কাছে নির্ধারিত পণ্য পৌঁছাতে চার গুণ বেশি দাম দিয়ে লাইট ডিজেল এনে উৎপাদন চালু রেখেছিলাম। এত চড়া দামি জ্বালানি পুড়িয়ে রড উৎপাদন করলে দাম অনেক বেড়ে যাবে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
এদিকে, রাজধানীর আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় চুলা জ্বলছে না। গৃহিণীদের গভীর রাতে রান্না করতে হচ্ছে অথবা বাড়তি খরচে ইলেকট্রিক চুলা ও সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই সংকটের সবচেয়ে নীরব শিকার শহুরে মধ্যবিত্ত। টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে না পারা এই শ্রেণি বিদ্যুৎ-গ্যাসের বাড়তি বিল ও বাজারের চাপ সামলাতে গিয়ে জমানো সঞ্চয় হারাচ্ছে। এমনকি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খরচ কাটছাঁট করতে বাধ্য হওয়ায় বহু পরিবার স্থায়ীভাবে সামাজিক মর্যাদার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বর্তমান সরকারের গৃহীত নীতিগুলোকে ‘পারস্পারিক সাংঘর্ষিক’ বলছেন। একদিকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, অন্যদিকে ঋণের সুদহার কমানো, কারখানা চালুর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন এবং সম্প্রসারণমূলক বাজেট ঘোষণা—এসব পদক্ষেপ বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলছেন, শুধু বাজার তদারকি করেই দাম কমানো সম্ভব নয়। জ্বালানি-বিদ্যুতের মূল্য, ঋণের সুদ, পরিবহন ও অবকাঠামোগত ব্যয় এর সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক ক্ষত এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল সুদের হার নিয়ন্ত্রণ বা পূর্বসূরিদের ঘাড়ে দোষ চাপানোর কৌশল যথেষ্ট নয়। মাস শেষে একই আয় দিয়ে খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার খরচ মেটানো যাচ্ছে কি না, সেটিই আসল। তাই মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে অবিলম্বে সমন্বিত সরবরাহমুখী নীতিমালা গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের গভীরতা বাহ্যিক কারণ নয়, বরং সরকারের নীতিগত সমন্বয়হীনতার ফলেও প্রকট হচ্ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), বিআইডিএস এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মতো শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতিগুলো পরস্পর সাংঘর্ষিক। একদিকে বাজার থেকে টাকা তুলতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণের সুদের হার কমানো, বন্ধ কারখানা চালুর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন এবং সম্প্রসারণমূলক বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। এই মিশ্র পদক্ষেপ বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং (সানেম)-এর অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমার কথা বলা হলেও পণ্যের দাম কিন্তু আগের জায়গায় ফিরেনি। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি (৯.২৮শতাংশ) উঁচুতে থাকায় বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, যাতায়াত ও চিকিৎসা খরচ সামলাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ‘উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ক্ষত’ কিংবা বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে সুদের হার নিয়ন্ত্রণের কৌশলেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এলএনজি আমদানির শিডিউল বিপর্যয় এবং লজিস্টিক খাতের ১৬ শতাংশ ব্যয় কমানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংকট কাটাতে কেবল মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়; বরং শিল্পকারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন সচল রাখা, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা এবং মধ্যবিত্তের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট সরবরাহমুখী নীতি গ্রহণ করাই এখন একমাত্র পথ।
‘ক্রেজি পিল’ নামে পরিচিত মেথামফেটামিনের মাদক ইয়াবা বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। দেশজুড়ে আসক্তির সংকট বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কিছু সাফল্য এলেও মাদকের ব্যাপক ব্যবহার বন্ধ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
ইয়াবা মূলত মেথামফেটামিনযুক্ত এক ধরনের ট্যাবলেটের প্রচলিত নাম। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুত আসক্তি তৈরি করা একটি উত্তেজক মাদক। সাধারণত ব্যবহারকারীরা ট্যাবলেট গুঁড়ো করে ধূমপানের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। কেউ কেউ সরাসরি গিলে ফেলেন।
ইয়াবা গ্রহণ করলে সাময়িকভাবে সতর্কতা ও কর্মশক্তি বাড়ে। একই সঙ্গে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত ব্যবহারে দেখা দিতে পারে নানা ভয়াবহ সমস্যা। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা, মানসিক বিকার, খিঁচুনি, হৃদযন্ত্রের জটিলতা- এমনকি মৃত্যুও।
থাই ভাষায় ইয়াবা শব্দের অর্থ ‘পাগলের বড়ি’ বা ‘ক্রেজি পিল’। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের বরাতে দ্য উইক বলছে, বাংলাদেশে এই মাদক ‘হাজার হাজার মানুষকে আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে’।
মেথামফেটামিনের সঙ্গে ক্যাফেইন ও অন্যান্য ভেজাল উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা এসব ট্যাবলেট দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশেষভাবে বিস্তৃত।
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে ইয়াবা
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ইয়াবার অন্যতম বড় বাজার ও গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ প্রতিবেশী মিয়ানমার, যেখানে ইয়াবা উৎপাদন ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত।
ঢাকাভিত্তিক এক ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাচার করা বাংলাদেশি পণ্যের ‘আংশিক মূল্য হিসেবে’ ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ ব্যবহার করছে ক্রমবর্ধমানভাবে।
মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বাংলাদেশে পশ্চিম দিকে পাচার করা হয়। সীমান্তের দুর্গম ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এলাকাগুলো ব্যবহার করে মাদক পাচারকারীরা এই কাজ করে থাকে।
মাছ ধরার নৌকায় বাংলাদেশি পণ্য মিয়ানমারে পাঠানো হয়। পরে সেসব নৌকাই ‘মাদক নিয়ে ফিরে আসে’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঢোকার পর বেশির ভাগ ইয়াবা দেশেই বিক্রি ও সেবন করা হলেও কিছু চালান আবার ওমান, সৌদি আরব ও দুবাইয়ের দিকে পাঠানো হয়।
২০০৬ সাল থেকেই বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের মতে, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও নানা ধরনের দুর্ভোগ ইয়াবার প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সরকারের সমাজকর্মী আদনান জোবায়ের সংবাদপত্রটিকে বলেন, বাংলাদেশে ইয়াবা এত ব্যাপক হওয়ার কারণ হলো এটি পরিবহন করা খুব সহজ এবং অন্যান্য মাদকের তুলনায় কিনতে অনেক সস্তা। তার ভাষায়, মানুষ সহজেই এর নেশাজাতীয় অনুভূতি পায় এবং খুব দ্রুত এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
ইয়াবার বাণিজ্য বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকার বহু বছর ধরে অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০১৮ সালে সরকার এমন একটি আইন প্রণয়ন করে, যার আওতায় ইয়াবা রাখার মতো অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সাফল্যও এসেছে। গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইয়াবাসহ ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি অ্যামফেটামিনজাতীয় উত্তেজক মাদকের ট্যাবলেট জব্দ করেছে।
২০২৪ সালে জব্দ করা হয়েছিল ২ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫১টি ট্যাবলেট। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জব্দের পরিমাণ বেড়েছে ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
তবে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ হলেও মাদক ব্যবসার মূল উৎস পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জঙ্গলে থাকা বিভিন্ন মাদক উৎপাদন শিবির থেকে মাদক চক্র এখনো অবিরাম গতিতে লাখ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করছে।
ফলে বাংলাদেশে ইয়াবার প্রবেশ ঠেকাতে অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী উৎপাদন ও পাচার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের নবমতলায় বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংসদ সদস্যদের কাছে ভোট চান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বহু বছর ধরে মির্জা ফখরুল দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন, কখনো হাল ছাড়েননি। তাকে কারাবন্দিও করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়ে তারেক রহমানকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানান। সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। বুধবার (১৯ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, কোস্ট গার্ডের বর্তমান মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হককে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড সদর দফতর থেকে প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর চাকরি এখন থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে বলে সরকারি ওই আদেশে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন দায়িত্ব পাওয়া রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসানকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে প্রেষণে এই পদে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এখন থেকে দেশের উপকূলীয় জলসীমার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এই বিশেষায়িত বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে জারি করা কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক পদে এই রদবদল ও নিয়োগের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিজ নিজ নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের সমুদ্রসীমার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই রদবদল নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ।
দেশে জ্বালানি ও সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১৯ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। জাতীয় স্বার্থে ও জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইউরিয়া সার আমদানি সংক্রান্ত একটি চুক্তিরও অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় ব্যবস্থার আওতায় এই চুক্তি সম্পাদিত হবে। এছাড়া ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা প্রকল্পের জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে, যার আওতায় কারখানার দৈনন্দিন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জাপানের এমএইচআইয়ের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে টেকনিক্যাল সার্ভিস (দ্বিতীয় ধাপ) চুক্তির অধীনে একক উৎস নির্বাচন পদ্ধতিতে পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রস্তাবের আওতায় বিএমইটির বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ৪০টি ড্রাইভিং সিমুলেটর কেনা হবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব সিমুলেটর সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে সাহায্য করবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরকারি ক্রয় আইন ও সরকারি ক্রয়বিধির সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকেই এলএনজি আমদানিসহ অন্যান্য প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করে। মন্ত্রিসভা কমিটির গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত দেশের সার ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। সর্বোপরি, এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রকল্পগুলোর সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে টিআইবি এ শোক প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, ম্যানেজমেন্ট এবং টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সারাদেশের সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) ও টিআইবি সদস্যদের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট তৌফিক নেওয়াজের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় টিআইবি।
গত ১৮ আগস্ট রাতে ঢাকার গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিক নেওয়াজ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভার জটিলতা ও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোহায় তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ গেলে এ আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে খলিলুর রহমান কাতারের নেতাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন এবং এ অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা উন্নয়নে কাতারের গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন, যা বৃহত্তর অঞ্চল ও এর বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য কাতারের সমর্থন এবং সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।
খলিলুর রহমান কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।