বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

ঈদ যাত্রায় সড়কে ভোগান্তি, সময় মতো যাচ্ছে ট্রেন

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ পালন করতে ঘরমুখো মানুষ। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
আপডেটেড
১৫ জুন, ২০২৪ ০০:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৪ ০০:০২

আর মাত্র এক দিন পরেই পালিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে রাজধানী ছেড়ে বাড়ি ফিরছে লাখ লাখ মানুষ।

শেষ মুহূর্তের ভিড় আর দুর্ভোগ এড়াতে বৃহস্পতিবার থেকেই অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করলেও গতকাল শুক্রবার থেকে ছুটি শুরু হওয়ায় এদিন সকাল থেকেই সড়ক ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। আর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় গতকাল ভোর থেকেই বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে, পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ঘরমুখো মানুষের কর্ম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তবে আগের দুই দিনের তুলনায় গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। তবে নেই ট্রেনের বিলম্ব যাত্রা, নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন। গত কয়েক দিনের তুলনায় আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকায় সব মিলিয়ে ট্রেনে আজকের ঈদযাত্রা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। তবে শুধু তিতাস কমিউটার ট্রেনটি দেড় ঘণ্টা বিলম্বে স্টেশন ছেড়েছে।

এর আগে ঈদযাত্রার প্রথম দিন বুধবার একাধিক ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার ঘটনায় বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল যাত্রীদের৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছেড়ে গেলেও বিকেলে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়ে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে মোট ১১টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। সবকটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ছেড়েছে। সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানান, আজকে সব ট্রেনই সময়মতো স্টেশন ছেড়ে গেছে। কোনো ট্রেনই বিলম্বে যাত্রা করেনি। নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাত্রীরা বাড়ি ফিরতে পারছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ও চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ভোরে কালিহাতী উপজেলার পৌলীতে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক রাস্তার ওপর উল্টে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। এ ছাড়া গাড়িগুলো সার্ভিস লেন ব্যবহারের কারণে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

স্বাভাবিক সময়ে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরের ১৬টিসহ মোট ২১টি জেলার প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে; কিন্তু ঈদের সময় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে বিপুল সংখ্যক গাড়ি এক সঙ্গে সেতু পার হতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।

এদিকে এক দিনে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ এবং এর বিপরীত ৪০ হাজার ৯০৬ টি যানবাহন পারাপার হয়। তার মধ্যে কোরবানি পশু ও পণ্যবাহী পরিবহন বেশি পারাপার হয়েছে।

গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু এবং এর বিপরীত ৪০ হাজার ৯০৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পদ্মা সেতুর মাওয়া দিয়েও ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। ফলে মাওয়া টোল প্লাজা থেকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

পদ্মা সেতুতে যানবাহনের লাইন মাওয়া টোল প্লাজা থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগর ছাড়িয়ে গেছে। সেতুর টোল প্লাজার মোটরসাইকেল বুথ ছাড়াও ৭টি বুথে টোল নিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না দায়িত্ববানরা।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল ইসলাম জানান, সেতুর মাওয়া প্রান্তের ওজন স্টেশনের লোকজনের অবহেলার কারণে অনেক ট্রাক জমে মূল রাস্তা বন্ধ হয়ে যানজটে কারণ হয়।

সেতুর টোল প্লাজার মোটরসাইকেল বুথ ছাড়াও ৭টি বুথে টোল নিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সকালে বেশি চাপের কারণে মোটরসাইকেল বুথ বাড়িয়ে দুটি করা হয়। তবে বেলা বাড়ার পর অন্য যান সামাল দিতে বাইকের বুথ আবার একটিতেই নামিয়ে আনা হয়।

তবে চলন্ত গাড়িতে টোল আদায়ে ১১ মাস আগে পরীক্ষামূলক শুরু হওয়া ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসি) এখনো পুরোপুরি চালু করা যায়নি। তাই মিলছে না এর সুফল।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতের সব চেষ্টা চলছে। তবে ঈদের আগে ছুটির দিন হওয়ায় একযোগে বেশি যানবাহনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী (টোল) রাজন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঈদের ৫ দিনের ছুটির প্রথম দিনে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেশি। চাপ সামাল দেওয়ার নিরলস চেষ্টা চলছে।

গত বছরের ২০ এপ্রিল থেকে পদ্মা সেতুতে দ্বিতীয় দফায় বাইক চলাচল শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালের ২৬ জুন খুলে দেওয়া হলে বাইক দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়। এতে কর্তৃপক্ষ সেতু দিয়ে বাইক চলাচল নিষিদ্ধ করে। পরে অবশ্য আবার বাইক চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়।

একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও। গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় চলছে ধীরগতিতে। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে থেমে থেমে চলছে গাড়িগুলো। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

গতকাল সকালের দিকে গাড়ির চাপ কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়ছে। জুমার নামাজের পর গাড়ির চাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। মহাসড়কের উভয় লেনে একই দৃশ্য দেখা গেছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে শুরু করে পদুয়ার বাজার পর্যন্ত বেশ থেমে থেমে চলছে গাড়িগুলো। বেলা ১১টার দিকে চান্দিনা অংশে বেতন-বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন গার্মেন্টশ্রমিকরা। ফলে ১০-১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঘণ্টা দুয়েক পর অবরোধ তুলে নিলে যানজট কমতে থাকে। তবে হঠাৎ গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ধীরগতিতে চলতে হয়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল আলম, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম এবং ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার দৈনিক বাংলাকে বলেন, জুমার নামাজের পর মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়েছে। চান্দিনায় শ্রমিকদের অবরোধের ফলে সৃষ্ট জটলা না থাকলেও গাড়ি যাচ্ছে ধীরগতিতে।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশের সমন্বিত ইউনিট কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ঈদযাত্রায় নেই ভোগান্তি

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ছাড়া ফেরি-লঞ্চ পার হতে পাড়ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা। ঢাকাগামী পশুবাহী ট্রাক পারাপারও হচ্ছে নির্বিঘ্নে। ঘাটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়াতে মোতায়েন আছে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। ঈদ উপলক্ষে ছোট-বড় ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপার বেশ কমে গেছে। কমেছে যাত্রী ভোগান্তিও। তবে ঈদ উপলক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী, যানবাহন ও পশুবাহী ট্রাক নির্বিঘ্নে পারাপার করতে আগে থেকেই নানান প্রস্তুতি নিয়েছিল ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া ঘাটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে চাপ বাড়লেও কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই ফেরি-লঞ্চ পারাপার হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসগুলো অনায়াসেই ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। এতে স্বস্তিতে যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ডিজিএম খালেদ নেওয়াছ বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পারাপারের জন্য ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি করা হয়েছে। এ জন্য দুর্ভোগ ছাড়াই যাত্রী ও যানবাহনগুলো পারাপার হচ্ছে।’

পুলিশ সুপার মো. গোলাম আজাদ খান বলেন, ঘাটের শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স কাজ করছে। পাশাপাশি পশুবাহী ট্রাকগুলো যেন ঘাটে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া নির্বিঘ্নে ঢাকার কোরবানির হাটে যেতে পারে সে ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: দীপু মনি-রুপা-মোজাম্মেল বাবুকে আনা হলো ট্রাইব্যুনালে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে কারাগার থেকে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ৭ মে দীপু মনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চায় প্রসিকিউশন। পরে তাদের হাজিরের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

ওই দিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা ও মোজাম্মেল বাবু।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয় আসামি। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লা একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।


জীবন-জীবিকার সুরক্ষায় হচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ

* ব্যয় ৩৩,৪৭৪ কোটি টাকা * লক্ষ্য কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা *  ব্যারেজে থাকছে ৭৮ স্পিলওয়ের গেট, রেলওয়ে সেতু * আরও থাকছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের সুযোগ  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এটি সরকারের একটি বিশাল পদক্ষেপ। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এদিন মোট ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ৩টি ও সংশোধিত ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি একটি।

অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় অনুমোদিত ৯টি প্রকল্প হলো- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন (২য় সংশোধন) প্রকল্প এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ (২য় সংশোধন) প্রকল্প। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে উন্নীতকরণ পুনর্নির্মাণ (প্রথম ফেইজ) প্রকল্প। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাই-টেক সিটি-২-এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ (৩য় সংশোধন) প্রকল্প।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাস নির্মাণ পুনর্নির্মাণ (২য় সংশোধন) প্রকল্প। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে এসএম ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা) (৫ম সংশোধিত) প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়) প্রকল্প। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত দুটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করেন। সেগুলো হলো- ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, ময়মনসিংহের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়) প্রকল্প: ১৯৭৫ সালে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফারাক্কা ব্যারেজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের পদ্মা নদী ও এর শাখা নদীগুলো (হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল) শুকিয়ে গেছে। ফলে লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে সুন্দরবনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীতে একটি বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের প্রধান কারিগরি ও অবকাঠামোগত দিকগুলো হলো:

ব্যারেজ অবকাঠামো: ২.১ কি.মি. দীর্ঘ ব্যারেজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ের গেট (প্রতিটি ১৮ মিটার প্রশস্ত) এবং ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট।

পরিবহন ও সংযোগ: ব্যারেজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া বাঁধের ডেককে সড়ক সংযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন: প্রথম পর্যায়ে মূল ব্যারেজ ও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচারে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

নদী পুনরুজ্জীবন: হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী—এই পাঁচটি নদী সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

ড্রেজিং: গড়াই-মধুমতী নদী সিস্টেমে ১৩৫.৬০ কি.মি. এবং হিসনা নদী সিস্টেমে ২৪৬.৪৬ কি.মি. নিষ্কাশন পুনঃখনন করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কি.মি. এফ্ল্যাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

সরকার বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এটি দেশের ৪ বিভাগের ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলায় প্রভাব ফেলবে। তবে প্রথম পর্যায়ে ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা সরাসরি সুফল পাবে।

উপকারভোগী জেলাগুলো হলো: খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা; ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ; রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর।

প্রত্যাশিত সুফল ও লক্ষ্য: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে:

১. লবণাক্ততা হ্রাস: শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ দশমিক ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

২. কৃষি ও মৎস্য উন্নয়ন: প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর নিট চাষযোগ্য এলাকায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে বার্ষিক ধান উৎপাদন ২৩ দশমিক ৯০ লাখ টন এবং মাছ উৎপাদন ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে।

৩. সুন্দরবন রক্ষা: স্বাদুপানির সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

৪. অর্থনৈতিক রিটার্ন: প্রকল্পটির অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (ইআইআরআর) ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যাবে।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: সম্পূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও অর্থায়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে এটিকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ব্যারেজ ও গুরুত্বপূর্ণ নদী সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন হবে।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ব্যারেজের উজানে ক্ষয় এবং ভাটিতে পলি জমার মতো পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত নকশা ও নিয়মিত হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল সমীক্ষার প্রয়োজন হবে। তবু এটি বাস্তবায়িত হলে মৃতপ্রায় নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত হবে।’


হামে শিশু হত্যার দায়ে ইউনূসের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামের টিকা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে শিশু হত্যার দায়ে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। সহজে প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে নিষ্পাপ সম্ভাবণাময় শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউনূস-নূরজাহান-সাইদুর গংদের বিচার ও মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুধবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান।

ডাক্তার, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষিবিদ ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে বলেন, ‘ইউনিসেফের সহায়তায় প্রতি বছর টিকা দেওয়ায় হাম বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। অবৈধ ইউনূস সরকার হামের টাকা আত্মসাৎ করতে ইউনিসেফের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তীতে আর টিকা ক্রয় না করে বাংলাদেশের কোটি শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে। ইতোমধ্যে সরকারি হিসাবে প্রায় ৫০০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ১ হাজারের অধিক। আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ শিশু।’ শিশুদের এই মৃত্যুকে হত্যা আখ্যায়িত করে ইউনূসের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন বক্তারা।

নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের সদস্য সচিব শেখ জামালে সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. অহিদুজ্জামান, কৃষিবিদ সাইদুর রহমান সেলিম, কৃষিবিদ মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামীম আল সাইফুল সোহাগ, ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল পাশা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের কো-কনভেনার অধ্যাপক তৌহিদ রশীদ ও অ্যাডভোকেট খায়ের উদ্দীন শিকদার প্রমুখ।


৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক   

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা বহন করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের ভঙ্গুর অর্থনীতির ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরায় মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একসময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, যখন বিগত সরকারের লুট করে যাওয়া অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। প্রতি বছর আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে। আমাদের রপ্তানি আয় বছরে মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো। রেমিট্যান্স থেকে আমাদের আয় ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর, আমাদের ৬০-৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে আমাদের ঘাটতি অর্থনীতি ও ঘাটতি বাজেট নিয়ে চলতে হয়।’

অতীতের সরকারের লুটের দায়দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ভাঙা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি থেকে দেশকে আবার স্বাবলম্বী করতে এই সরকারের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই কারণে আমাদের সব ভোটারকে সজাগ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের এই জটিল সময়ে কেউ আমাদের রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করতে না পারে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘হাজার বছর ধরে এই দেশে নানা ধর্ম ও নানা বর্ণের মানুষ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাস করি। এর মধ্যে কোনো সংঘাত ও বিরোধ তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু যারা ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল এবং দখল করে থাকতে চেয়েছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত। এর মধ্যে একটা বড় বিরোধ হচ্ছে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক তর্কবিতর্ক করছি এবং তর্কবিতর্ক আমরা আরও করব। কারণ, গঠনমূলক তর্কবিতর্কের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের সংসদের গঠনমূলক সমালোচনা যেন কেউ রাজপথে নিয়ে আসতে না পারে এবং সেই অজুহাতে যাতে আবার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামাদেরও এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছর আমরা যদি একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে না পারি, তাহলে ভাঙা অর্থনীতিকে আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারব না। আমাদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক-ধর্মীয় জীবন অব্যাহত রাখতে পারব না।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই ক্ষেত্রে আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন, তারা হতে পারেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।’


প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ল পশুর চামড়ার দাম

ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ৬২-৬৭ টাকা, অন্য জেলায় ৫৭-৬২
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

বুধবার সচিবালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে ব্রিফিংকালে এ বিষয়ে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কোনোভাবেই যাতে মৌসুমি ব্যবসায়ী বা অসাধু সিন্ডিকেট কৃষক ও এতিমখানা-মাদ্রাসাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখবে সরকার।

এ সময় খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বৈঠকে ট্যানারি মালিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসানো হবে সোলার প্ল্যান্ট: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সোলার প্ল্যান্ট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।’

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ওমেরার সঙ্গে সোলার প্ল্যান্টসংক্রান্ত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী করে গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ৬০০ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ‘অন-গ্রিড ওপেক্স মডেল সোলার সিস্টেম’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও এই চুক্তি সই হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো শিক্ষা। সে জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে দক্ষ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার প্রাধান্যের তালিকায় প্রথম বিষয় শিক্ষা, দ্বিতীয় বিষয় শিক্ষা এবং তৃতীয় বিষয়ও শিক্ষা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছে। রাষ্ট্র শিক্ষার্থীদের জন্য যা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। প্রতিদানে শিক্ষার্থীদেরও দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন, মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জির সিইও মাসুদুর রহিম।


টিকা নয়, এই মুহূর্তে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘টিকা ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল বা অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংকট কাটার পর কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে দোষী ব্যক্তি নির্ধারণের চেয়ে এই মুহূর্তে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার সরকারি টিকার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তদন্ত করব না, সেটা বলিনি। এখন আমরা সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিসটা (সংকট) শেষ হলেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে ৪০০–এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশুর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন জটিলতায় টিকা কেনা হয়নি। শিশুরা সময়মতো টিকা না পাওয়ায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে অভিযোগ করে এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবিতে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ‘ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ’–এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন একদল আইনজীবী। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন এর মধ্যে এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে ও বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘টিকা নিয়ে কী ভুল করেছে, সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান। আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আইসোলেশন, আইসিইউ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন হামের পরই অনেকের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ চিকিৎসা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আমাদের হাতে আজ এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর দান করেছে একজন বেসরকারি ফার্মাসিউটিউক্যালস উদ্যোক্তা। সেগুলো বণ্টন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ আছে, চিকিৎসকরাও সচেষ্ট আছেন, আমরাও চেষ্টা করছি। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু কম আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও পেয়ে যাব। পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেব। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে এবং নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’


প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন। প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে করণীয় ঠিক করতে এ সভা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এমন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা এবং অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ সরকারি ও বেসরকারি সব স্থাপনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াতের উপযোগী অবকাঠামো ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কক্ষের দরজা এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রবেশ করতে পারেন।

নারীদের জন্য চালুর পরিকল্পনায় থাকা ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি।

এছাড়া সারা দেশে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলগুলো সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১০ উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করা হবে। দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানানো হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও সভায় অংশ নেন।


পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন, সম্পাদক শামীমা পারভীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।

বুধবার (১৩ মে) বিকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে বার্ষিক সাধারণ সভায় কণ্ঠভোটে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে বলেও জানা গেছে।

এর আগে গতবছরের মে মাসে গঠিত সর্বশেষ কমিটিতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) সভাপতি নির্বাচন হন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) তৎকালীন কমিশনার (প্রত্যাহার হয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত) ড. নাজমুল করিম খান এবং সাধারণ সম্পাদক হন ঢাকা জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার (বর্তমানে কুমিল্লার পুলিশ সুপার) মো. আনিসুজ্জামান। তবে একাধিক বিতর্কিত ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পদস্থগিত ছিল নাজমুল করিমের।

এদিকে গত ১৬ মার্চ পুলিশ সদরদফতরে কর্মরত মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে বদলি করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান করা হয়। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন UNAMID-এও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর ডিআইজি (হেডকোয়ার্টার) পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

আর ৩০ এপ্রিল শামীমা পারভীনকে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদায়ন করা হয়। ঢাকায় প্রথমবারের মতো কোনো নারী কর্মকর্তা এসপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। শামীমা পারভীন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দলের হুইপ রকিবুল ইসলামের স্ত্রী।

বিসিএস ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তা শামীমা সর্বশেষ পুলিশ সদরদফতরের অ্যাডুকেশন স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারের এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে পুলিশের কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন করে রাখা হয়েছিল। শামীমা পারভীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেত্রী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতে ছিলেন।


ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও এক বাংলাদেশি নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শুভ কুমার দাস (২৮) নামে সাতক্ষীরার কলারোয়ার আরও এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে লেবানন সংঘাতের গত দুই দিনে সাতক্ষীরা জেলার মোট তিন জন প্রবাসী প্রাণ হারালেন।

নিহত শুভ কুমার দাস কলারোয়া উপজেলার শ্রীপ্রতিপুর গ্রামের সুরঞ্জন দাসের ছেলে। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে তিন বছর আগে তিনি লেবানন যান। সেখানে তিনি একটি বাড়ি ও ফলের বাগান দেখাশোনার কাজ করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ মে) রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় চলাচলের সময় ড্রোন হামলার শিকার হন শুভ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

শুভর বাবা সুরঞ্জন দাস জানান, তার ছেলের আয়ের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল ছিল।

একই দিনে লেবাননের নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০) ও আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২০)।

বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস শফিকুল ও নাহিদুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে নিজ আবাসস্থলে অবস্থানকালে বিমান হামলায় তারা প্রাণ হারান।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম জানান, শুভর মৃত্যুর বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে পরিবারের খোঁজ নিতে লোক পাঠানো হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, একই দিনে জেলার তিনজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে পরিবারের পাশে থাকার এবং সব ধরনের সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


একনেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের ১১তম এবং সরকারের তৃতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অনুমোদনকে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কমিশন কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী বাজেট ঘোষণার পরই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।


অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেললো দালাল, প্রাণ গেলো ৭ মাস বয়সি শিশুর

অভিযুক্ত এনায়েত করিম
আপডেটেড ১৩ মে, ২০২৬ ১৫:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্সিজেন মাস্ক না খোলার চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার আশায় রংপুর থেকে আসা সাত মাস বয়সি শিশু মিনহাজকে বেসরকারি হাসপাতালে ভাগিয়ে নিতে সেই মাস্ক খুলে ফেলেন এক দালাল। অক্সিজেনের অভাবে বাবার কোলেই প্রাণ হারায় শিশুটি। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত এনায়েত করিমকে আটক করেছে পুলিশ। এনায়েত ঢামেক হাসপাতালেরই সাময়িক বরখাস্ত হওয়া একজন অফিস সহকারী।

স্বজনরা জানান, নিহত মিনহাজ কিডনি জটিলতায় ভুগছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। হাসপাতালে শয্যা খালি হলে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এনায়েত। তবে এর আগপর্যন্ত কাঁটাবন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা খরচে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে রোগীকে বের করে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার উদ্দেশে মিনহাজের মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন এনায়েত। মাস্ক ছাড়াই প্রায় ২০ মিনিট হাসপাতালের ভেতরে ঘোরাঘুরি করেন তিনি। পরে ২ নম্বর ভবনের গেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় স্বজনরা বুঝতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত হয়েও তিনি হাসপাতালের দালালি ও প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ঢামেক হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে হাসপাতালে প্রায় অর্ধশত দালাল সক্রিয় রয়েছে। তারা আইসিইউ প্রয়োজন–এমন মুমূর্ষু রোগীদের লক্ষ্য করে বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেয়। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও এই চক্রের মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।


হাম সংকটে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আপডেটেড ১৩ মে, ২০২৬ ১৩:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের ভয়াবহ সংক্রমণ পরিস্থিতিকে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, হাম পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও সরকার তা নিয়ন্ত্রণে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশির ভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।” মন্ত্রী আরও জানান যে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আগামী জুন মাসের মধ্যেই দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এক সময় যে রোগটি প্রায় নির্মূলের পথে ছিল, সেখানে কেন এত প্রাণহানি ঘটছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন যে দুর্যোগ পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে সংকটের প্রকৃত কারণ ও অবহেলার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। তাঁর মতে, “হামের এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার পর, এমন সংকটময় পরিস্থিতির পেছনে কারা দায়ী, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার” বিষয়ে সরকার আপসহীন থাকবে।

এদিন ইপিআই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন উপহার দেয় চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা প্রদানের ঘাটতিই হামের এই মহামারির মূল কারণ। যদিও বর্তমানে ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবুও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।


banner close