রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদের জামাতে সর্বস্তরের মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, রাষ্ট্রপতি তার পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার নামাজ জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় আদায় করবেন।
রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে পৌঁছালে প্রধান বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রসহ সংশ্লিষ্টরা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
নামাজ শেষে রাষ্ট্রপ্রধান ঈদগাহে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্য কোনো কারণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রপতি সকাল ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে নারীদের জন্য ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি। পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।
গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার—এমন তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৩০ আগস্ট) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গুমের শিকার হওয়ার ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভয়াবহতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা যারা গুম ছিলাম, প্রতি মুহূর্তে আমাদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময়ে তাদের স্বজনরা কীভাবে সময় কাটিয়েছে, সেটি তারা ছাড়া কেউ বুঝবেন না।’ তিনি আরও বলেন, গুম হওয়া ইলিয়াস আলীর স্ত্রী কিংবা সুমনের মায়ের মানসিক যাতনা অনুধাবন করা কঠিন, ঠিক যেমন তার নিজের নিখোঁজ থাকাকালীন তার পরিবার যে চরম অস্থিরতায় ছিল তা অন্য কেউ বুঝবে না। বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান টেনে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৭০৯ জন গুমের খবর পাওয়া গেলেও ফিরে এসেছেন মাত্র ১৫৫ জন। এছাড়া বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গুম সংক্রান্ত আরও ১৮৫০টি আবেদন জমা পড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ট্র্যাজেডি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনে ১৪০০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য থাকলেও তাদের সংগৃহীত হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। লাশ গায়েব ও পুড়িয়ে ফেলার কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা গুম ও মানবাধিকার নিয়ে শক্তিশালী আইন উপস্থাপন করেছি। নতুন আইনে গুমের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র।’ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারসহ প্রতিটি গুমের সঠিক বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিচার নিশ্চিত করা হবে। গুম ও হত্যার মতো ঘটনায় অনুতপ্ত না হয়ে বিদেশে বসে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা লজ্জার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, আওয়ামী লীগের দাফন এখন দিল্লিতে হয়ে গেছে। পাশাপাশি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াকআউট একটা প্রতিবাদ, সেটারও একটা নিয়ম আছে। ওয়াকআউট করলে জনগণ আপনাদের কথা জানবে না। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান, সবকিছুতে অংশগ্রহণ করুন, নিজেদের মতামত জানান।’
স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালা থাকবে না বলে সুষ্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সাথে বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনায় জড়িত অপরাধীরা যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বিগত সময়গুলোতে গুম ও ‘আয়নাঘর’-এর ভয়াবহতা স্মরণ করে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই মানুষকে তুলে নিয়ে গুম করা হতো। অথচ তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসনের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধগুলোকে নিয়মিতভাবে অস্বীকার করে এসেছে। ভাষণে তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ ব্যারিস্টার আরমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমীর অবদান স্মরণ করেন। একই সাথে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে অন্য দেশে ফেলে আসার লোমহর্ষক ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ বা মৃত। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে গুম ও খুন করা হয়েছে। গুম প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গুমকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদেও স্বাক্ষর করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে বলেও রাষ্ট্রপতি আশ্বস্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে বর্তমান সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠককালে দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি বিশেষ করে অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং বাংলাদেশের দক্ষ প্রকৌশলীদের মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বাণিজ্যের প্রসারে ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ শিল্প এবং হালাল ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের সফলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে মোট দুই লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে। এর বাইরে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা ‘জিরো কস্টে’ আরও ১০ হাজার শ্রমিক নেবে দেশটি। বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াটিও সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকেই শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান (ইভি), সৌরবিদ্যুৎ ও হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বৈঠকে রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার প্রধান সড়কে কোনো ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলবে না। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। বর্তমানে রিকশাগুলোর নিবন্ধন ফি ও বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। বুয়েট বা সরকারি পলিটেকনিকের অনুমোদিত নকশা এবং ট্রাফিক ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ই-রিকশা লাইসেন্স পাবে না। এছাড়া ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার পয়েন্টগুলোর লাইসেন্স প্রদান করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’-কে বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট ও ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (৩০ আগস্ট) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা খতিয়ে দেখে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাণীতে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং এই অমানবিক প্রথাকে মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে গত ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিগত সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের হাতিয়ার হিসেবে গুম ও অপহরণকে বেছে নিয়েছিল। তিনি ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালার কথা উল্লেখ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের এসব স্থানে মানুষকে মাসের পর মাস অবরুদ্ধ করে রাখা হতো। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে তিনি জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অপব্যবহার করে কমপক্ষে ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছিল। গুম শুধু একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পুরো পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ রোধে সরকারের আইনি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ রুদ্ধ হবে। আইসিসির রোম সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বীর ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী বা চৌধুরী আলমের মতো অনেকের খোঁজ এখনো মেলেনি বলে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই নিষ্ঠুর অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই বাণীর বিস্তারিত দেশবাসীকে অবহিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ এসে লাগছে বাংলাদেশের মানুষের ঘরে। জ্বালানির দাম বাড়ছে, গ্যাসের সংকটে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সার উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন থেকে কৃষি, খাবারের দাম থেকে মানুষের আয়-রোজগারে। সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি বছর দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূল্যায়নটি করা হয়।
বাংলাদেশ এমন এক সময়ে এ সংকটে পড়েছে, যখন অর্থনীতি আগে থেকেই চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থানও প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।
বিশ্বব্যাংকের মতে, এ বছর দেশে দারিদ্র্য বাড়ার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা থাকবে প্রায় ১০ শতাংশ। জ্বালানির বাড়তি দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত বলেও তিনি মনে করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।
বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। এরই মধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।
জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়।
দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বাড়লে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।
তার মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি সংকট নয়; কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্ন-আয়ের মানুষকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
তিনি বলেন, আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল-এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলবো, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।
তিনি বলেন, অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব- আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।
শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন। যাতে আমরা শহীদসহ সকল আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস-সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৯৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল আটটা পর্যন্ত) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩৯১ জন, বরিশাল বিভাগের ১৩৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০৩ জন, খুলনা বিভাগের ২৬৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগের ৩৬ জন, সিলেট বিভাগের ৩ জন এবং রংপুর বিভাগের ২১ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৫৮৬ জনে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে সুরক্ষায় ইউপিআর-৪ সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে নীতিনির্ধারক, মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা (ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ—ইউপিআর) পর্বে সরকার সমর্থিত জলবায়ুসম্পর্কিত সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি চিহ্নিত করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মানুষের অধিকার রক্ষায় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউপিআরের ১২ সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা:
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের তৃতীয় ইউপিআর চক্রে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা ও প্রশমনের বিষয়ে দুটি সুপারিশ সমর্থন করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে চতুর্থ ইউপিআর চক্রে সিপিআরডির নেতৃত্বে ১৫টি নাগরিক সংগঠনের একটি জোট যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার পাশাপাশি ৭টি বিষয়ে কৌশলগত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়। পরে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১২টি সুপারিশ গ্রহণ করে।
শামসুদ্দোহা বলেন, ‘এই অঙ্গীকারগুলো কতটা নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিয়েছে, তা অনুসরণ করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। পাশাপাশি কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, সে পথও চিহ্নিত করতে হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার:
সেমিনারের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠী এর সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবেলার জন্য এখনো যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের।
সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার—রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি শেখ নূর আতায়া রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তৃতীয় ইউপিআর চক্রের পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চতুর্থ ইউপিআর চক্রে নাগরিক সমাজের দেওয়া সুপারিশ এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ:
সেমিনারের বিশেষ অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পিকেএসএফের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অ্যাডভোকেসি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এমবিই, সিপিআরডি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনিয়তার কথাও বলেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। তবে মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের কাছ থেকে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন নীতিগত ও বাস্তবায়ন ঘাটতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নীতিনির্ধারক, মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং নীতিগত ও জনমত গঠনের জন্য নাগরিক সমাজের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথাও জানানো হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে। দেশে আর গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন নামে কোনো শব্দ থাকবে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন থাকবে না।
শনিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৮ বছর গুম, খুন ও নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও গুম ও খুনের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিজে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
কিন্তু গণতন্ত্র ও দেশের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।
মন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সারা দেশে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক সরকার, যা গুম, খুন বা কোনো ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনে বিশ্বাস করে না।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদেরকে এ দিবস পালন করতে দেওয়া হয়নি। এখন সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশপ্রেমিক সরকারের উদ্যোগে আমরা দিবসটি সফলভাবে পালন করব বলে আশা করছি।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা দেশের মানুষকে বার্তা দিতে চাইÑ দেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। ভয়াবহ সেই কালো অধ্যায় অতিক্রম করে আমরা একটি ন্যায়বিচারের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
তিনি বলেন, এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো দেশে সংঘটিত হতে দেওয়া যাবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। অতীতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোরও বিচার হবে এবং সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা এ দিবস পালন করব। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য অনেক ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। দেশে আর কখনো যাতে গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয় সে জন্য সরকার কাজ করছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশে যে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে যারা হত্যা করেছে তারা জেলে থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তাদের বিচার হবে।
সূত্র: বাসস
বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নিজেদের ছবি ও প্রচারণা যতটা সম্ভব কম প্রদর্শন করার অনুরোধ জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। একই সঙ্গে বিটিভি ও সংসদ টিভিসহ সব সরকারি গণমাধ্যমে সংসদে ও সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর সংবাদ আনুপাতিক হারে প্রচার নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কিত অগ্রগতির তথ্য জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলোতে এখন থেকে কেবল সরকারি দল ও মন্ত্রীদের খবর প্রচারের একচেটিয়া ধারা বন্ধ হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী দল এবং সংসদের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডও আনুপাতিক হারে প্রচার করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করতে মঙ্গলবার থেকেই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উনাদের কথা, যেগুলো বলছেন সরকারের বিরুদ্ধে হোক, পক্ষে হোক, জনগণের পক্ষে যে কথাগুলো, সেগুলো তুলে ধরতে হবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মন্ত্রীদের অতিরঞ্জিত প্রচার বন্ধ করার উদ্যোগের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বিটিভি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি ও প্রতিমন্ত্রী তাদের নিজেদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন যথাসম্ভব কমিয়ে আনার অনুরোধ করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাঠামোগত অভ্যাসের কারণে এই সংস্কৃতিতে রাতারাতি পরিবর্তন আনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই নেতিবাচক সংস্কৃতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী দেশের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আমরা একটা প্রসেসের মধ্যে আছি। আমার বিশ্বাস, আপনারা সঙ্গে থাকলে, দেশের মানুষ সঙ্গে থাকলে আমরা ঠিকমতো এগিয়ে যেতে পারব।’
গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই নিয়োগপত্রগুলো হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, মোট ৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও ১০ জনের হাতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।
চাকরিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর পিতা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মাতা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা এই নিয়োগপত্র প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রায় আশার আলো দেখার কথা উল্লেখ করেন এবং একই সাথে স্বজনদের গুম ও খুনের সাথে জড়িতদের যথাযথ বিচার দাবি করেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বড় অংকের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান বা উদ্ধারের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীদের তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে।
রাজারবাগে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন কারিগরি ও অবকাঠামোগত চাহিদার কথা মন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এসব চাহিদা পূরণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এছাড়াও সভায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে আরও গতিশীল করতেই মূলত এই বিশেষ ইউনিট এবং পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে মন্ত্রণালয়।