বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৮ মাঘ ১৪৩২

গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে শনিবার দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
আপডেটেড
১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪

এক দিন পরই ঈদ। রাজধানীসহ সারা দেশের কর্মজীবী মানুষের অফিস হয়েছে ছুটি। বন্ধ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। তাই আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ। গত শুক্রবারের পর গতকাল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ছিল বাস-লঞ্চ-ট্রেনে বাড়ি ফেরা মানুষের মিছিল। আগে থেকে টিকিট করে রেখেছেন যারা তারা গতকাল নিরাপদে পছন্দের যানবাহনে উঠেছেন। কিন্তু, যারা আগে টিকিট কাটেননি বা নিকটবর্তী জেলাগুলোতে থাকেন বলে আগে থেকে টিকিট কাটার প্রয়োজন বোধ করেন না, গতকাল মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। রীতিমতো সারি বেঁধে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে যানবাহনে উঠতে হয়েছে তাদের। লোকাল হিসেবে পরিচিত এই যানবাহনগুলোতে গতকাল ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। রীতিমতো লোকে লোকারণ্য হয়েছিল বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও সদরঘাট টার্মিনাল। এর মধ্যে ট্রেনেই গতকাল ঢাকা ছেড়ে গেছেন দেড় লাখ মানুষ। গতকাল সূচি মেনেই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ছিল না অবৈধ যাত্রীদের চাপও। তবে শেষ সময়ে বাসে ও লঞ্চে রয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। এসব ট্রেনে রাজধানী থেকে মোট দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন আমরা পরিচালনা করেছি, সেগুলোর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ও ভোগান্তিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’

কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। যাত্রীরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় অনেকটা আনন্দিত হয়েছেন। আমরা এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার প্রবণতাটা একটু কম দেখেছি। যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র‍্যাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনী সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভোগান্তিহীন নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব- সবকিছু এড়িয়ে অত্যন্ত নিরাপদে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সকল পর্যায়ের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে উল্লেখ করে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামীকাল আমাদের ঈদযাত্রার শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং সুন্দরভাবে যাত্রীরা নিজ নিজ মন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ও সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি।’

অন্যদিকে, গতকাল অগ্রিম টিকিট না কাটা যাত্রীরা গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করায় লোকাল ও আন্তঃনগর বাসগুলোতে বেশ চাপ পড়ে যায়। এসব বাসে ওঠার জন্য প্রায় সবাইকে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহন কম থাকার সুযোগে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা ট্রাক বা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।

চলতি মাসের শুরুতে অনলাইনে ও কাউন্টারে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ভিড় আরও বেড়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে চাওয়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সারাদিনই এ অবস্থা ছিল। এ পরিস্থিতি থাকবে ঈদের আগের দিনও।

সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে সকাল থেকেই গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারে ছিল ভিড়। পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরগামী এই গাড়ির যাত্রী মারুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এদের গাড়ি ১৫ মিনিট পর পর হলেও কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই। আমি অনেক কষ্টে সুপারভাইজারের সিটের একটি টিকিট পেয়েছি। এই টিকিটের ভাড়াও ৫০০ টাকা।’

সাধারণত বাসের একদম সামনে টুলসদৃশ জায়গা থাকে সুপারভাইজারের জন্য। ঈদের সময় সেটিও আসন হিসেবে বিক্রি হয়।

এদিকে সড়কে যানজটের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না। বরিশালগামী যাত্রী মো. কায়সার জানান, তার গাড়ি ১২টা ৩০ মিনিটে। তবে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে, ৯টা ১৫-এর গাড়ি এখনো ঢাকায় আসেনি। তাই তাঁর গাড়িও আসতে দেরি হতে পারে।

মহাখালীতে ভিড় দেখা গেছে ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের জেলাগুলোতে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর জেলার যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায়। শেষ সময়ে টিকিট না পাওয়ায় অনেককে বাসের সুপারভাইজারের জন্য নির্ধারিত সিটও বাধ্য হয়ে কিনতে দেখা যায়।

এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেও ১০ ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিশেষ করে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল যানজটহীন হতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে কোথাও যানজট, কোথাও গাড়ির ধীর গতি ছিল।

গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুর্ঘটনা, টোল আদায় বন্ধ, চালকদের বেপরোয়া চালনার কারণে মহাসড়কে যানজট ও গাড়ি চলাচলে ধীর গতির সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কে যানজট ও ধীর গতির বিষয়ে মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলেন, শুক্রবার রাতে ও গতকাল ভোরে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তাতে হতাহত না হলেও সেতুর ওপর চাপ কমাতে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। চালকদের ওভারটেক প্রতিযোগিতার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসগুলোর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা, যা ১০০ টাকা বেশি। এ বিষয়ে কাউন্টার থেকে বলা হয়, এটাই ঈদের জন্য তাদের নির্ধারিত ভাড়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকা হলেও এখন দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা।

ভাড়া বেড়েছে পদ্মা সেতু হয়ে পার হওয়া খুলনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, বরিশাল ও মাগুরাগামী বাসের। এই রুটের পরিচিত বাস গোল্ডেন লাইনের ভাড়া ২০০ টাকা করে বাড়িয়েছে ঈদ উপলক্ষে। সায়েদাবাদ গোল্ডেন লাইন কাউন্টার থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে মাগুরার ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও ঈদের জন্য এই রুটের ভাড়া ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর গাবতলী টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে এই টার্মিনালে বাসের পরিমাণ কমেছে অনেক বেশি। তবে চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, যশোর অঞ্চলের যাত্রী বেশি এই টার্মিনালে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া এই অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবহনের। অনলাইন টিকিটে এসি গাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, জবি প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। এদিন সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষেরা নৌপথে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের আনন্দ সঙ্গে নিয়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়েছে।

গতকাল শনিবার সারা দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সাথে সাথেই টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীদের উপস্থিতি। সকালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীচাপ থাকলেও দুপুরের দিকে যাত্রীর উপস্থিতি কমে যায়। তবে বিকেল হতেই যাত্রীর ঢল নামে টার্মিনাল এলাকায়। লঞ্চগুলোতেও দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোববার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। শুক্রবার অনেকে টিকিট কিংবা কেবিন বুকিং করতে না পারায় এদিন যাচ্ছেন। সেজন্য বিগত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রীম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় এখনও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে কেবিনের তুলনায় ডেকের যাত্রীর চাপই বেশি বলছেন লঞ্চ সংশ্লিরা।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি প্রিন্স আওলাদ এর সুপারভাইজার ইহাদ তালুকদার বলেন, আজকে যাত্রীর চাপ আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। কাল থেকে আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন অনেকেই বাড়ি যাবেন। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় টিকিটেরও ঘাটতি নেই। যাত্রীরা কেবিনের তুলনায় ডেকের টিকিট বেশি নিচ্ছেন।

ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-৪ এর টিকিট বিক্রেতা সুমন শেখ বলেন, আমাদের অগ্রিম টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ডেকের টিকিট দিচ্ছিলাম। ইতোমধ্যেই লঞ্চ ভরে গেছে। যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এই রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আজকে যাত্রী চাপ বিগত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে তা আরও বেড়েছে। এখনও গার্মেন্টসশ্রমিকরা কাজ শেষ করে অনেকেই আসতে পারেননি। আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত আছে। যাত্রী বাড়লে লঞ্চ আরও বাড়ানো হবে। টিকিটের কোনো ঘাটতি নেই। রোববার যাত্রী চাপ সামলাতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে টিকিটের ঘাটতি না থাকায় অনেকটা স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই অগ্রিম টিকিট বুকিং দিয়ে রাখায় পরে আসলেও ঝামেলা পোহাতে হয়নি। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা ঘাটে এসেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। টার্মিনাল এলাকাতেও তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছেনা যাত্রীদের।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে লঞ্চ চলাচল করবে বলা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বয়া-জ্যাকেটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ।


মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি নিয়োগ, ছুটি, আবাসন ও অবসরকালীন সুবিধার বিষয়গুলোও নতুন মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫–এ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। গত সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। খতিবদের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমামকে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেডে, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ গ্রেডে এবং ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিন একাদশ গ্রেড, প্রধান খাদিম পঞ্চদশ গ্রেড এবং খাদিম ষেড়শ গ্রেডে বেতন পাবেন।

জাতীয় বেতন স্কেলে পঞ্চম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হয় ৪৩ হাজার টাকায়, সঙ্গে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা যুক্ত হয়। উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই গ্রেডে বেতন পান।

নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের কল্যাণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা নিতে বলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা দেওয়ার কথাও আছে নীতিমালায়।

মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটির বিষয়টি নীতিমালায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করা যাবে। এ ছাড়া পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালায় সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটির কথা বলা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগের সময় বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরির অন্যান্য শর্ত উল্লেখ করে নিয়োগপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়েও মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সংখ্যা কম বা বেশি করা যাবে।

চাকরিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তা নিরসনের দায়িত্ব পাবে।

বেতন আসবে যেসব খাত থেকে: এই বেতন কাঠামোর প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। গেজেটের তথ্যানুযায়ী এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

সরকারি ও মডেল মসজিদ: সরকার কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত মসজিদ (যেমন: বায়তুল মোকাররম, আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ) এবং নবনির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কেলে বেতন পাবেন।

বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদ: পাড়া-মহল্লা বা গ্রামের স্থানীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই গেজেটটি একটি ‘আদর্শ মানদণ্ড’ হিসেবে কাজ করবে। তবে এসব মসজিদে বেতন প্রদানের মূল দায়িত্ব এখনো স্থানীয় কমিটির হাতেই থাকছে। সরকার এই কাঠামো অনুসরণ করার জন্য কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করছে।

চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তি: চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্মরত যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি। এছাড়া, নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও রয়েছে এ নীতিমালায়। এ নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।


গেল বছরে রাজধানীতে সড়কে মৃত্যু ২১৯

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গেল বছরে রাজধানীতে ৪০৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৫১১ জন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১৭৬ জন (৮০.৩৬ শতাংশ), নারী ২৫ জন (১১.৪১ শতাংশ) এবং শিশু ১৮ জন (৮.২১ শতাংশ)। এদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮ শতাংশ। গতকাল বুধবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ঘটেছে ১১.২৪ শতাংশ, সকালে ১৮.৩৩ শতাংশ, দুপুরে ৯.৫৩ শতাংশ, বিকেলে ১৩.৪৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫.৮৬ শতাংশ এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪১.৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা।

রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭ শতাংশ, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২১.৫৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জীপ ৪.১২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা) ১১.৮২ শতাংশ এবং রিকশা ২.৪৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে রাতে ও সকালে দুর্ঘটনার হার বেশি। বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ভারী মালবাহী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, ফলে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ককে দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া চলাচল, যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত ও ব্যবহার অনুপযোগী ফুটওভার ব্রিজ, সড়কে পর্যাপ্ত সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রতিবেদনে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, বাসের জন্য আলাদা লেন চালু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা, উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বহুতল পার্কিং স্টেশন নির্মাণ, রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ, রাজধানীর চারপাশে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।


গুম শুধু ভুক্তভোগীকে নয়, পুরো সমাজকেই শাস্তি দেয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম শুধু ভুক্তভোগীকে নয়, পুরো সমাজকেই শাস্তি দেয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ গুম হলে তার পরিবার প্রতিদিন বিচারহীনতার কারাগারে বন্দী থাকে। বুধবার আওয়ামী লীগের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর আগে সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চিফ প্রসিকিউটর সূচনা বক্তব্যে বলেন, আমরা গুমের যে মামলার বিচার শুরু করছি, সেগুলো কেবল কিছু ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ছিল না। এগুলো ছিল নির্মম আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় শাসনপদ্ধতির কৌশলের সাক্ষ্য। যে কৌশল স্রেফ গোপনে হত্যা করে লাশ গোপনই করেনি, বরং বিরোধী মতের হাজার হাজার মানুষকে জ্যান্ত লাশ বানিয়ে অক্ষম করে রেখেছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নীরব ও আলো-বাতাসহীন অন্ধকার কুঠরিতে হাত-পা বেঁধে মাসের পর মাস বিনা বিচারে বন্দীদের আটকে রাখার এই কৌশল, সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছিল। এই ক্ষত কেবল রাজনৈতিক জনপরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ বিদ্যমান ছিল, সেই বাহিনীগুলোর কাঠামোর মধ্যেও গভীরভাবে প্রবেশ করেছিল।

তিনি বলেন, বিরোধী চিন্তার মানুষদের গুম করে তিলে তিলে অক্ষম করে দেয়ার মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকল্পের যে উগ্র বাসনা বাস্তবায়িত হয়েছে, তার পথে দেশের প্রধান কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনীর একদল সদস্য মার্সেনারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, এর ফলে খোদ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যেই যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা নজিরবিহীন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ হিসেবে মানুষের যে ন্যূনতম মর্যাদা থাকে, বলপূর্বক গুম সেই মর্যাদাকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করে দেয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক আইনে বলপূর্বক গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, কারণ এটি একযোগে বহু অধিকার ধ্বংস করে।’

তিনি বলেন, হাসিনার রাষ্ট্রকল্পে গুমের কৌশল মানুষকে কেবল দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়নি, অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর নির্যাতনের মাধ্যমে দেহকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা চিরতরে অক্ষম করে দিয়েছে। এখানে মৃত্যু ঘটানো হয় না প্রকাশ্যে, বরং মানুষকে ঝুলিয়ে রাখা হয় জীবিত ও মৃতের মাঝখানে। পরিবার জানে না সে বেঁচে আছে কি-না।


রোজার আগেই এলপিজি সংকট সমাধানের আশ্বাস জ্বালানি উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, রোজার আগেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট সমাধান হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, রোজার আগেই এলপিজি সংকট কাটাতে ইরানের বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) আমদানি অব্যাহত রাখবে। আশা করি রোজার আগেই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।

বাজারে এলেই এলপিজি সরবরাহ সংকট রয়েছে দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা এটার সুযোগ নিয়েই এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। বাজারে সরকার মনিটরিং করছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাকে পৌঁছে দিতে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। বাজারে সরবরাহ সংকট হলে এলপিজির দাম বাড়বেই। এটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এলপিজির নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় সংকটের বিষয়টি সরকার আগাম আঁচ করতে পারেনি।


১৮৩ দিন পর বাড়ি ফিরল আবিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৮৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল সর্বশেষ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)। স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সে। বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন।

ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় আবিদের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সেদিনই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। জীবন-মরণের সমস্যা ছিল আবিদের। তবে চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি। হাল ছাড়েনি আবিদ ও তার পরিবার। সর্বমোট ৫ দিন আইসিইউতে ভর্তি ছিল সে। এরপর ৬ দিন হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। এরপর বাকি দিনগুলো কেবিনে থাকার পর আজ সুস্থ হয়েছে। আজ সে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে।’

তিনি বলেন, ‘আবিদের মোট ৩৫ বার ছোট-বড় অপারেশন হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন হয়েছে ১০ বার এবং তার দুই হাতের অকার্যকর টিস্যু ২৩ বার অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত ছিল সে। সেজন্য ক্ষতস্থান শুকাচ্ছিল না। আবিদের মুখমণ্ডল দগ্ধ হয় বেশী। ৪৮ বার অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং ২৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।’

ডা. মারুফুল আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে সে বাসায় যাওয়ার উপযোগী হয়েছে। আবিদের বাবা-মা যথেষ্ট ধৈর্যধারণ করেছেন। তার ফিজিওথেরাপি দরকার। যেটা সে হাসপাতালে এসে দিতে পারবে অথবা বাসায় গিয়েও দেওয়া যেতে পারে।’

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আবিদুর রহিমের শরীরের কম অংশ দগ্ধ হলেও আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। তার সেফটিসেমিয়া হয়েছিল। যে কারণে ৬ মাস লেগেছে। আমরা যে ৩৬ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি, তার মধ্যে সর্বশেষ রোগী হিসেবে আবিদুর রহিম সুস্থ হয়ে বাসায় যাচ্ছে। এটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের ডাকে সারা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসকরা এসেছিলেন। তারা যে পরামর্শ দিয়েছেন, আমরা আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে একসঙ্গে বসে এমন কিছু ওষুধ ও ড্রেসিং মেটেরিয়ালস ব্যবহার করতে পেরেছি, যা এর আগে বার্ন ইনস্টিটিউটে ব্যবহার হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে সব রোগীকে উন্নতমানের চিকিৎসা ও মেটেরিয়ালস দিতে পারি, সেজন্য সবাই বসে সরকারের কাছে আবেদনও করেছি। যেন মাইলস্টোনের রোগীদের মত সাধারণ রোগীদেরও এমন চিকিৎসা দিতে পারি।’

এসময় আবিদুর রহিমের কাছে তার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সে শুধু বলে, ‘আমি যখন হাসপাতালে এসেছি কোনো ভয় পাইনি।’ এরপর কান্না শুরু করে দেয়। আর কথা বলতে পারেনি। তবে ধরা কণ্ঠে বলে, ‘যুদ্ধ জয় করেছি’।

আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ছেলে ও এই ঘটনায় হতাহতদের জন্য দোয়া চান।

বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই পরিমাণটা কম হয়েছে।’ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। মুহূর্তেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় আগুনে পুড়ে ও চাপা পড়ে প্রাণ হারান স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।


ভোটে প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা চাইল সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল সাধারণ জনগণ যাতে স্বেচ্ছায় ও সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে তাদের এ দাবি জানিয়েছে। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের ভোটের প্রচার।

দেশের ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বলেছে, ‘আমরা সকলেই চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সরকার গঠিত হোক; যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। শুধু রাজনৈতিক দলের জন্য নয় নারী, আদিবাসী, দরিদ্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এবং ভীতি-সন্ত্রাস-নির্যাতনমুক্ত এবং জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ চাই।’

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারীর মানবাধিকার অর্জন ও রক্ষার লক্ষ্যে বহুমুখী প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা সংগঠনটি বলেছে, ‘আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সমতাভিত্তিক, জনপ্রতিনিধিত্বশীল, জবাবদিহিমূলক স্থায়ী কার্যকরী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।’

নির্বাচন কমিশনে তাদের তরফে যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো হল- দেশের সব প্রান্তের সব নাগরিক যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংস আচরণ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। নির্বাচনী ব্যায় সংকোচ করে ন্যূনতম নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। স্বতন্ত্র নারী প্রর্থীসহ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধাজনক স্থানে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য নিরপেক্ষভাবে সকল ধরণের সহায়তা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় সখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে জিয়াউর রহমানের অবদান ও সাংস্কৃতিক উত্থানের আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন যে সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের প্রাণ এবং একটি জাতি কতটা উন্নত তা সেই দেশের সংস্কৃতি থেকেই বোঝা যায় যেখানে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে সুন্দরের দিকে নিয়ে যায় আর অপসংস্কৃতি মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে জাতীয় মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করে।

গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম বাংলাদেশি শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং তার সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম এ দেশের গণমানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ফোরাম (বিসিএফ) আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন যে, জিয়াউর রহমানের কীর্তি বাস্তবিকই বিপুল ও বিশাল কারণ তিনি ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসে মানবিক আদর্শ দিয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন এবং দেশে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে শিল্প-সংস্কৃতির পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দেওয়া জাতীয় পুরস্কার নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই কারণ তিনি প্রকৃত গুণীজনদেরই যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন।’

কাদের গনি চৌধুরী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জিয়াউর রহমান একটি আগ্রাসনমুক্ত সাংস্কৃতিক উত্থান চেয়েছিলেন; কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার শিল্পী-সাহিত্যিকরা দীর্ঘদিন অবহেলিত হয়েছেন। তিনি তারেক রহমানের হাত ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গন দুর্ভিক্ষমুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং বিসিএফের সভাপতি মো. এরশাদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, এরফানুল হক নাহিদ, কামরুল হাসান দর্পণ ও জাকির হোসেন রোকনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।


নির্বাচনী কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে উপদেষ্টার কঠোর নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, “যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ৭ দিনের মধ্যে সেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বা বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” মূলত পবিত্র রমজান মাস, আসন্ন নির্বাচন এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের প্রায় ৩২৫টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় নির্বাচন কমিশন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৩২৫টি বিদ্যুৎহীন ভোটকেন্দ্রের একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেন জানান, দেশের ৪টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সংযোগ প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, যেসব দুর্গম এলাকায় সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে নির্বাচনের আগেই বিকল্প পন্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


রাজবাড়ীর হস্তশিল্পে আলজেরিয়ার আগ্রহ: গোল্ডেন জুট কারখানা পরিদর্শনে রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলোহাব সাইদানী বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট লিমিটেডের তিনটি পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট লিমিটেড, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফ্টস লিমিটেড এবং গোল্ডেন প্লাস ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলজেরিয়ান অ্যাম্বাসেডর একেএম সাঈদাদ হোসাইন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ উল হাসান এবং গোল্ডেন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হাকিম আলী সরদারসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কারখানা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই ফ্যাক্টরি থেকে পাট, হোগলাপাতা, কচুরিপানা, খড় ও ছন দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প আলজেরিয়াতে রপ্তানি এবং আলজেরিয়া থেকে অলিভ অয়েল, খেজুর ও জুস আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। আলোচনায় দুই দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নানামুখী দিক উঠে আসে, যা ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি আলজেরিয়াতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে এই কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যসমূহ প্রদর্শনের জন্য বিশেষ প্রস্তাবনা পেশ করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে মো. হাকিম আলী সরদারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশ নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষ। এখানকার উৎপাদিত নার্সারি পট, ফ্লোর ম্যাট, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ ও গৃহস্থালি পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ২৬টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির একটি বড় বিশেষত্ব হলো এর মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী এবং এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার করে বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করায় রাজবাড়ীর এই কারখানাটি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে নিয়েছে।


আট জেলায় ই-বেইলবন্ড সেবার উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও আটটি জেলায় একযোগে ‘ই-বেইলবন্ড’ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ডিজিটাল সেবার যাত্রা শুরু হয়। নতুন করে এই সুবিধার আওতায় আসা জেলাগুলো হলো— মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর। এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবাটি চালু করে আশাব্যঞ্জক সাফল্য পাওয়ার পর তা দেশব্যাপী সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া কয়েক দিনের পরিবর্তে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আগে জামিন পেতে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হতো, এতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হতো এবং ভোগান্তি বাড়ত। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লাগত। অনলাইনে এ প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় কে, কখন স্বাক্ষর করলেন—তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সুযোগ থাকবে না।” এই ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা এই প্রযুক্তিনির্ভর সেবাটির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলায় সফলভাবে চালুর পর আরও ৮টি জেলায় এ সেবা চালু হওয়ায় এখন এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের হাতে আরও কিছু সময় রয়েছে, এ সময়ের মধ্যেই আমরা আরও কয়েকটি জেলায় এ সেবা চালু করার চেষ্টা করব।” পুরো দেশ এই সেবার আওতায় আসার সময়সীমা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশের সব ৬৪টি জেলায় ই–বেইলবন্ড চালু হবে।” এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এই জনকল্যাণমূলক সেবাটি সচল থাকার বিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি একটি অত্যাবশ্যক সেবা। পরবর্তী যে সরকারই আসুক, তারা এ ব্যবস্থায় বাধা দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।”

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, কারা মহাপরিদর্শকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আট জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, পুলিশ এবং কারা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। ডিজিটাল এই রূপান্তর বিচারপ্রার্থী জনতা, আইনজীবী এবং কারা প্রশাসনের মধ্যকার কাজের গতি বাড়িয়ে সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয় ঘটাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়: গভর্নর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে দেশে টাকার ঘাটতি রয়েছে এবং এই বাস্তবতায় একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক লোক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু খারাপ ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে টাকা ছাপাতে হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীতে প্রথমে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে এবং পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।

গভর্নর ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ঋণ ও লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন বা কাভারেজ নেই, তারা কোনোভাবেই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশে এবং পরবর্তী বছরের মার্চের মধ্যে তা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে ড. মনসুর তার ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী দেশে ১৫টির বেশি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংখ্যা কমিয়ে মাত্র দুটিতে নামিয়ে আনার এবং বাকিগুলোকে একীভূত বা মার্জ করার ইঙ্গিত দেন তিনি। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সংকটের সময় যেন সরকারের কাছে হাত পাততে না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি রেজুলেশন ফার্ম ও স্বতন্ত্র তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে গভর্নর বলেন, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে এই খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ব্যাংকিং খাতে আর কোনোভাবেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে স্বাধীনভাবে কাজ করলেও আইনিভাবে পুরোপুরি স্বাধীন নয়। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি রোধে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার ওপর জোর দেন গভর্নর। তার মতে, নগদ লেনদেন কমানো গেলে বছরে রাজস্ব আদায় দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা সম্ভব।


হারানো ১০৫টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল পল্টন থানা পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হারিয়ে যাওয়া শখের মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার আশা যারা ছেড়ে দিয়েছিলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে রাজধানীর পল্টন মডেল থানা-পুলিশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা ১০৫টি মোবাইল ফোন বুধবার (২১ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দুপুরের দিকে গণমাধ্যমকে এই সফলতার তথ্য নিশ্চিত করেন।

পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন হারানোর পর মালিকদের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ১০৫টি ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও পল্টন মডেল থানার এএসআই ইকবাল হোসেন অত্যন্ত সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।

উদ্ধারকৃত এসব মোবাইল হস্তান্তরের জন্য গত মঙ্গলবার পল্টন মডেল থানার সম্মেলন কক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মালিকদের হাতে ফোনগুলো বুঝিয়ে দেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবীসহ থানার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গত এক বছরে পল্টন মডেল থানা-পুলিশ প্রায় ৬০০টিরও বেশি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জনস্বার্থে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। দ্রুততম সময়ে নিজেদের প্রিয় ফোনটি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত মালিকরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


প্রধান বিচারপতির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বিচার বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ কূটনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সম্মানিত বোধ করছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে তারা বিশদ মতবিনিময় করেন। বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও আইনের শাসন সুসংহত করার বিষয়েও আলোচনায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সাম্প্রতিক সময়েই বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলেন, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও গুরুত্বকে নির্দেশ করে।


banner close