শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১ ফাল্গুন ১৪৩২

গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে শনিবার দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
আপডেটেড
১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪

এক দিন পরই ঈদ। রাজধানীসহ সারা দেশের কর্মজীবী মানুষের অফিস হয়েছে ছুটি। বন্ধ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। তাই আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ। গত শুক্রবারের পর গতকাল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ছিল বাস-লঞ্চ-ট্রেনে বাড়ি ফেরা মানুষের মিছিল। আগে থেকে টিকিট করে রেখেছেন যারা তারা গতকাল নিরাপদে পছন্দের যানবাহনে উঠেছেন। কিন্তু, যারা আগে টিকিট কাটেননি বা নিকটবর্তী জেলাগুলোতে থাকেন বলে আগে থেকে টিকিট কাটার প্রয়োজন বোধ করেন না, গতকাল মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। রীতিমতো সারি বেঁধে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে যানবাহনে উঠতে হয়েছে তাদের। লোকাল হিসেবে পরিচিত এই যানবাহনগুলোতে গতকাল ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। রীতিমতো লোকে লোকারণ্য হয়েছিল বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও সদরঘাট টার্মিনাল। এর মধ্যে ট্রেনেই গতকাল ঢাকা ছেড়ে গেছেন দেড় লাখ মানুষ। গতকাল সূচি মেনেই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ছিল না অবৈধ যাত্রীদের চাপও। তবে শেষ সময়ে বাসে ও লঞ্চে রয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। এসব ট্রেনে রাজধানী থেকে মোট দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন আমরা পরিচালনা করেছি, সেগুলোর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ও ভোগান্তিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’

কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। যাত্রীরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় অনেকটা আনন্দিত হয়েছেন। আমরা এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার প্রবণতাটা একটু কম দেখেছি। যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র‍্যাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনী সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভোগান্তিহীন নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব- সবকিছু এড়িয়ে অত্যন্ত নিরাপদে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সকল পর্যায়ের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে উল্লেখ করে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামীকাল আমাদের ঈদযাত্রার শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং সুন্দরভাবে যাত্রীরা নিজ নিজ মন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ও সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি।’

অন্যদিকে, গতকাল অগ্রিম টিকিট না কাটা যাত্রীরা গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করায় লোকাল ও আন্তঃনগর বাসগুলোতে বেশ চাপ পড়ে যায়। এসব বাসে ওঠার জন্য প্রায় সবাইকে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহন কম থাকার সুযোগে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা ট্রাক বা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।

চলতি মাসের শুরুতে অনলাইনে ও কাউন্টারে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ভিড় আরও বেড়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে চাওয়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সারাদিনই এ অবস্থা ছিল। এ পরিস্থিতি থাকবে ঈদের আগের দিনও।

সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে সকাল থেকেই গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারে ছিল ভিড়। পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরগামী এই গাড়ির যাত্রী মারুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এদের গাড়ি ১৫ মিনিট পর পর হলেও কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই। আমি অনেক কষ্টে সুপারভাইজারের সিটের একটি টিকিট পেয়েছি। এই টিকিটের ভাড়াও ৫০০ টাকা।’

সাধারণত বাসের একদম সামনে টুলসদৃশ জায়গা থাকে সুপারভাইজারের জন্য। ঈদের সময় সেটিও আসন হিসেবে বিক্রি হয়।

এদিকে সড়কে যানজটের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না। বরিশালগামী যাত্রী মো. কায়সার জানান, তার গাড়ি ১২টা ৩০ মিনিটে। তবে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে, ৯টা ১৫-এর গাড়ি এখনো ঢাকায় আসেনি। তাই তাঁর গাড়িও আসতে দেরি হতে পারে।

মহাখালীতে ভিড় দেখা গেছে ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের জেলাগুলোতে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর জেলার যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায়। শেষ সময়ে টিকিট না পাওয়ায় অনেককে বাসের সুপারভাইজারের জন্য নির্ধারিত সিটও বাধ্য হয়ে কিনতে দেখা যায়।

এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেও ১০ ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিশেষ করে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল যানজটহীন হতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে কোথাও যানজট, কোথাও গাড়ির ধীর গতি ছিল।

গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুর্ঘটনা, টোল আদায় বন্ধ, চালকদের বেপরোয়া চালনার কারণে মহাসড়কে যানজট ও গাড়ি চলাচলে ধীর গতির সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কে যানজট ও ধীর গতির বিষয়ে মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলেন, শুক্রবার রাতে ও গতকাল ভোরে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তাতে হতাহত না হলেও সেতুর ওপর চাপ কমাতে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। চালকদের ওভারটেক প্রতিযোগিতার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসগুলোর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা, যা ১০০ টাকা বেশি। এ বিষয়ে কাউন্টার থেকে বলা হয়, এটাই ঈদের জন্য তাদের নির্ধারিত ভাড়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকা হলেও এখন দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা।

ভাড়া বেড়েছে পদ্মা সেতু হয়ে পার হওয়া খুলনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, বরিশাল ও মাগুরাগামী বাসের। এই রুটের পরিচিত বাস গোল্ডেন লাইনের ভাড়া ২০০ টাকা করে বাড়িয়েছে ঈদ উপলক্ষে। সায়েদাবাদ গোল্ডেন লাইন কাউন্টার থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে মাগুরার ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও ঈদের জন্য এই রুটের ভাড়া ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর গাবতলী টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে এই টার্মিনালে বাসের পরিমাণ কমেছে অনেক বেশি। তবে চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, যশোর অঞ্চলের যাত্রী বেশি এই টার্মিনালে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া এই অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবহনের। অনলাইন টিকিটে এসি গাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, জবি প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। এদিন সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষেরা নৌপথে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের আনন্দ সঙ্গে নিয়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়েছে।

গতকাল শনিবার সারা দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সাথে সাথেই টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীদের উপস্থিতি। সকালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীচাপ থাকলেও দুপুরের দিকে যাত্রীর উপস্থিতি কমে যায়। তবে বিকেল হতেই যাত্রীর ঢল নামে টার্মিনাল এলাকায়। লঞ্চগুলোতেও দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোববার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। শুক্রবার অনেকে টিকিট কিংবা কেবিন বুকিং করতে না পারায় এদিন যাচ্ছেন। সেজন্য বিগত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রীম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় এখনও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে কেবিনের তুলনায় ডেকের যাত্রীর চাপই বেশি বলছেন লঞ্চ সংশ্লিরা।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি প্রিন্স আওলাদ এর সুপারভাইজার ইহাদ তালুকদার বলেন, আজকে যাত্রীর চাপ আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। কাল থেকে আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন অনেকেই বাড়ি যাবেন। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় টিকিটেরও ঘাটতি নেই। যাত্রীরা কেবিনের তুলনায় ডেকের টিকিট বেশি নিচ্ছেন।

ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-৪ এর টিকিট বিক্রেতা সুমন শেখ বলেন, আমাদের অগ্রিম টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ডেকের টিকিট দিচ্ছিলাম। ইতোমধ্যেই লঞ্চ ভরে গেছে। যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এই রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আজকে যাত্রী চাপ বিগত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে তা আরও বেড়েছে। এখনও গার্মেন্টসশ্রমিকরা কাজ শেষ করে অনেকেই আসতে পারেননি। আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত আছে। যাত্রী বাড়লে লঞ্চ আরও বাড়ানো হবে। টিকিটের কোনো ঘাটতি নেই। রোববার যাত্রী চাপ সামলাতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে টিকিটের ঘাটতি না থাকায় অনেকটা স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই অগ্রিম টিকিট বুকিং দিয়ে রাখায় পরে আসলেও ঝামেলা পোহাতে হয়নি। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা ঘাটে এসেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। টার্মিনাল এলাকাতেও তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছেনা যাত্রীদের।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে লঞ্চ চলাচল করবে বলা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বয়া-জ্যাকেটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ।


তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়লাভ করায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় তিনি এই শুভকামনা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় এই বিজয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অভিনন্দন বার্তায় প্রফেসর ইউনূস উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই বিপুল বিজয় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে জনগণের এক সুস্পষ্ট রায়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারেক রহমান তাঁর প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমুখী চেতনার প্রতিফলন ঘটাবেন। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে যাবে, যেখানে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাবা-মায়ের এই মহান আদর্শ তারেক রহমানের আগামী দিনের পথচলাকে আরও আলোকিত ও সুদৃঢ় করবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত করতে সুসমন্বিত মেধা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য হবে।

এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে তারেক রহমানের গঠনমূলক ভূমিকা ও মূল্যবান সহযোগিতার জন্য প্রফেসর ইউনূস আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের এই পরিবর্তনের সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারেক রহমান যে সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন, তা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন সরকারের সব উদ্যোগের সফলতা কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য কামনা করেন। তারেক রহমানের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি বার্তার শেষে উল্লেখ করেন।


আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত এসে গেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে...’—কবির এই পঙক্তিমালাকে সত্য প্রমাণ করে প্রকৃতিতে আজ নতুনের আবাহন। আজ পয়লা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বাংলা সনের একাদশ মাসের এই আগমনী বার্তায় শীতের রুক্ষতা বিদায় নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের হাত ধরে যে বসন্ত উৎসবের সূচনা হয়েছিল, আজ তা ছড়িয়ে পড়েছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। কাকতালীয়ভাবে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় বসন্তের বাসন্তী রঙের সাথে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার আবেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

বসন্ত মানেই প্রকৃতির এক অনন্য রূপান্তর। কচি পাতায় ভরে ওঠা গাছ, আম্রমুকুলের ম ম গন্ধ আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারিদিক। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা যেন প্রকৃতির কপালে এক নতুন টিপ পরিয়ে দিয়েছে। বসন্তের এই মোহনীয় দিনে তরুণ-তরুণীরা বাসন্তী ও হলুদ রঙের পোশাকে সেজে উৎসবে মেতে উঠেছে। নারীদের মাথায় ফুলের টায়রা আর খোঁপায় গোঁজা গাঁদা ও গোলাপ ফুল বসন্তের রঙকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে বসন্ত বরণ উৎসবের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংগীত ও নৃত্যের ছন্দে ঋতুরাজকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে ফাল্গুন মাসের নামকরণ হয়েছে ‘ফাল্গুনী’ নক্ষত্র থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকেও এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তবে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন উদযাপনের শেকড় রয়েছে গত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। তৎকালীন পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাঙালির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে রবীন্দ্রসংগীতের সুর আর দেশীয় ঢঙে বসন্ত পালন ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ। বাংলা সাহিত্যে বসন্ত নিয়ে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর কালজয়ী কবিতায় বলেছিলেন, ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। একইভাবে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে’ গানটি আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে বসন্তের আবহ তৈরি করে।

তবে বাঙালির কাছে ফাল্গুন মাস কেবল আনন্দ বা প্রেমের ঋতু নয়, এটি দ্রোহ এবং ত্যাগের রক্তিম ইতিহাস বহন করে। বায়ান্নর এই ফাগুনেই রফিক, সালাম, বরকত আর জব্বাররা রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে রক্ষা করেছিলেন মায়ের ভাষার মর্যাদা। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ আজও আমাদের বায়ান্নর সেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভাষা আন্দোলনের সেই লড়াই থেকেই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তাই ফাগুন আমাদের কাছে যেমন মিলনের মাস, তেমনি এটি বাঙালির দ্রোহ ও অধিকার আদায়ের মাসও বটে। ঋতুরাজের এই নতুন যাত্রায় প্রতিটি মানুষের মনে জরাজীর্ণতা মুছে গিয়ে নতুন সম্ভাবনা জাগুক—এমনই প্রত্যাশা আজ সবার।


শান্তিপূর্ণ দেশ গড়তে পূর্ণ সমর্থন দেবে জাতিসংঘ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন বাংলাদেশের পথচলায় পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বসংস্থাটি। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিক্রিয়া জানান তাঁর মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করায় তিনি বাংলাদেশের জনগণের সাহসিকতা ও অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ যে রায় দিয়েছে, তাকে জাতিসংঘ স্বাগত জানায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে উদ্ধৃত করে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক জাতীয় সংহতি জোরদার করা এবং বিভেদ ভুলে দেশ গঠনে একাত্ম হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের কাছে মানবাধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। স্টিফান ডুজারিক বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে যেসব টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা যেন স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে বিশ্বসংস্থাটি। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করেন মহাসচিব।

অন্যদিকে, প্রেস ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা প্রদান করেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বর্তমান বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সুদানের মতো দেশগুলোতে মানুষ চরম ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রমজানের ত্যাগের মহিমা ও শান্তির তাৎপর্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আর্তমানবতার সেবা এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্বনেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতিসংঘের এই ইতিবাচক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


আমাকে অনেকেই জামায়াত-শিবির ম্যাডাম বলে : শেহরীন আমিন মোনামী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এক দীর্ঘ ও স্পষ্ট পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। শুক্রবার এক ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে দাবি করেন। একই সাথে তাকে নিয়ে প্রচলিত নানা রাজনৈতিক তকমা বা বিশেষণের বিষয়েও নিজের খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সক্রিয় সমর্থক হিসেবে কাজ করেছেন বলে ওই পোস্টে উল্লেখ করেন।

শেহরীন আমিন মোনামী তার পোস্টে জানান, সমাজের একটি বড় অংশ তাকে ‘জামায়াত-শিবির ম্যাডাম’ হিসেবে সম্বোধন করে থাকে। তবে এই বিশেষণে তিনি মোটেও বিচলিত বা ক্ষুব্ধ নন; বরং তিনি এই পরিচয়ে বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি বলেন, কখনো কখনো তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথেই এই নামগুলো নিজের করে নেন। তার মতে, কে তাকে কী নামে ডাকল তার চেয়ে তার আদর্শিক বিশ্বাসটি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই শিক্ষিকা উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে একজন মধ্যপন্থী মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাকে প্রায়ই ডানপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তাকে ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করলে সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়, তবে তারা সেটিই বিশ্বাস করতে পারেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকার কথা জানান এবং স্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি কোনোভাবেই ইসলামবিদ্বেষী নন। প্রচলিত একটি ধারণা যে ‘ইসলাম নারী-বিরোধী’, এই বিশ্বাসের সাথেও তিনি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন।

পোস্টের শেষ অংশে তিনি তার ফ্রেন্ড লিস্ট এবং অনুসারীদের উদ্দেশ্যে একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা তার রাজনৈতিক অবস্থান বা আদর্শ নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন, তারা যেন তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো থেকে বিরত থাকেন। নিজেকে একজন উদারপন্থী দাবি করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় পছন্দ-অপছন্দ নির্বিশেষে তিনি সবার অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। তিনি তার অপছন্দের মানুষদের নিজের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, সবার কাছে প্রিয় হওয়া তার লক্ষ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকার এমন সাহসী ও স্পষ্টবাদী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির ফোন, ঐতিহাসিক বিজয়ে ভারতের সংহতি ও সমর্থন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নিরঙ্কুশ ও অভাবনীয় জয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানকে ফোন করার বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি এই ফোনালাপের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানি‌য়ে‌ছি। বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে তার প্রচেষ্টায় আমি আমার শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাই।"

দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও নিবিড় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "গভীর শিকড়ে আবদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কযুক্ত দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে আমি আমাদের উভয় দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।" মূলত বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের এই শুভেচ্ছা ও সমর্থন নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি নরেন্দ্র মোদির এই বিশেষ অভিনন্দন বার্তাটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার হিসেবেই প্রকাশ পেয়েছে।


গণভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ, ‘হ্যাঁ’ বিপুল ব্যবধানে জয়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণভোটে সংস্কারপন্থী ‘হ্যাঁ’ পক্ষ বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই গণভোটের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, এই গণভোটে মোট ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যেখানে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। জনগণের এই বলিষ্ঠ রায়ের মাধ্যমে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখাটি চূড়ান্তভাবে জনসমর্থিত হিসেবে গৃহীত হলো বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসন লাভ করে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। মূলত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

দলগত ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণে ইসি সচিব জানান যে, জামায়াতে ইসলামী একক দল হিসেবে ৬৮টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া জোটভুক্ত অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ প্রত্যেকে ১টি করে আসন লাভ করেছে। তবে আইনি ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। ইসি সচিব আখতার আহমেদ তার সমাপনী বক্তব্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ফলাফলগুলোর সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।


তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানা‌লেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।

আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তিনি এই অভিনন্দন জানান। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ব‌লেন, "আমি আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাই এবং মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও অগ্রসর ও গভীর করতে একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের অংশীদারিত্ব সামনের বছরগুলোতে আরও সু‌যোগ বাড়া‌নোর পাশাপা‌শি শ‌ক্তিশালী কর‌বে।"

মূলত নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং সামনের বছরগুলোতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধান। এছাড়া এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭ আসনের গেজেট আজই

আপডেটেড ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ শুক্রবার দেশের ২৯৭টি সংসদীয় আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান যে, গতকাল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

কমিশনের দাবি অনুযায়ী, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিরেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ ছিল সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ। ব্রিফিংকালে আখতার আহমেদ বলেন, "সারা দেশে মোট ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক গণনা শেষে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।"

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব আরও জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের স্বাভাবিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২৯৯টি আসনের মধ্যে প্রস্তুতকৃত ২৯৭টির ফলাফল আজই গেজেটভুক্ত করা হচ্ছে এবং বাকি দুটি আসনের কারিগরি বা আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে জয়ী প্রার্থীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কার্যক্রম শেষ হবে এবং এর পরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই আজ এই গেজেট জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথে থাকা বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রেরিত এক বার্তায় তিনি এই অভাবনীয় সাফল্যকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তাদের এই অভাবনীয় নির্বাচনি বিজয়ে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। এটি প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্রের বিজয়। বাংলাদেশের মানুষ নানা চড়াই-উতরাই ও অসাধারণ সব চ্যালেঞ্জ পার করে ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।’

দেশের ক্রান্তিকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকালীন সময়ে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তার সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে গভীরভাবে আগ্রহী।

তিনি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, এই নবযাত্রার মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে। পরিশেষে মালয়েশিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মূলত এই বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে গভীর সংহতি ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।


নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা সমাপ্ত

আপডেটেড ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর ফলাফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার ইতি টানেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দুটি আসনের ফলাফল তদন্ত সাপেক্ষে স্থগিত রেখে বাকি ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটারসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। কমিশনের পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বিশাল এই কর্মযজ্ঞে কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসনিক ঘাটতি বা সীমাবদ্ধতা হয়তো ছিল। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আবেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচনকে কমিশন কেবল একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং জাতির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে গ্রহণ করে তা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই কার্যত নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের ও ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো।


তারেক রহমানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মহানায়ক ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

অভিনন্দন বার্তায় শাহবাজ শরিফ একই সঙ্গে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতিও গভীর সাধুবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যকার ভবিষ্যৎ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি আমাদের ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং দক্ষিণ এশিয়া এবং তার বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের আমাদের যৌথ লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ।" মূলত দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।


বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ে চীনের উষ্ণ অভিনন্দন: মৈত্রীর নতুন অধ্যায় গড়ার প্রত্যয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই শুভেচ্ছা বার্তা জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণকে একটি সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বিএনপির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বেইজিং।

চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই জনরায়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রীর নতুন ইতিহাস রচনা করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই বিশাল বিজয়ের প্রতি বেইজিংয়ের এই ত্বরিত অভিনন্দন বার্তা মূলত নতুন সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ, যা উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি কাটিয়ে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, দলটি অর্ধেকেরও বেশি আসন নিশ্চিত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও। চীনের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো ইতিমধ্যেই নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

ক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন বাংলাদেশে চীন তাদের বিনিয়োগ ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে আরও গতিশীল করতে চাইবে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক করিডোর সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত ও চীনের পক্ষ থেকে আসা এই অভিনন্দন বার্তাগুলো প্রমাণ করে যে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।


স্পিকারবিহীন সংসদে নবনির্বাচিতদের শপথ পড়াবেন কে: সংবিধানের ব্যাখ্যা ও সরকারের পরিকল্পনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দলটি ১৫০টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে এই বিজয়ের পরই নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের প্রথম ধাপ হলো নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ। সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার এই শপথ বাক্য পাঠ করান। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউই পদে নেই; এমনকি সাবেক ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে রয়েছেন। এমতাবস্থায় স্পিকারবিহীন সংসদে শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও সংবিধানে এর স্পষ্ট সমাধান রয়েছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। গেজেট প্রকাশের পর শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে যেহেতু বর্তমানে স্পিকার নেই, তাই সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদেই বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সংবিধান মতে, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কোনো ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সরকার দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি বা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন। যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন বা না করেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন। সরকার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সিইসির অপেক্ষায় না থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমেই দ্রুত শপথ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

শপথ গ্রহণের সময়সীমা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, সাধারণত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর গেজেট হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সরকার এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই গেজেট ও শপথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির পর এই সময়সীমা গড়াবে না। অর্থাৎ সব ঠিক থাকলে নির্বাচনের পর এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী ধাপে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের অধিকারী দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। ১৫১ বা তার বেশি আসনে বিজয়ী দলের নেতা, যিনি সংসদ সদস্যদের আস্থাভাজন, তাঁকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং শপথ পড়াবেন। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে।


banner close