মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে শনিবার দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
আপডেটেড
১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪

এক দিন পরই ঈদ। রাজধানীসহ সারা দেশের কর্মজীবী মানুষের অফিস হয়েছে ছুটি। বন্ধ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। তাই আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ। গত শুক্রবারের পর গতকাল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ছিল বাস-লঞ্চ-ট্রেনে বাড়ি ফেরা মানুষের মিছিল। আগে থেকে টিকিট করে রেখেছেন যারা তারা গতকাল নিরাপদে পছন্দের যানবাহনে উঠেছেন। কিন্তু, যারা আগে টিকিট কাটেননি বা নিকটবর্তী জেলাগুলোতে থাকেন বলে আগে থেকে টিকিট কাটার প্রয়োজন বোধ করেন না, গতকাল মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। রীতিমতো সারি বেঁধে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে যানবাহনে উঠতে হয়েছে তাদের। লোকাল হিসেবে পরিচিত এই যানবাহনগুলোতে গতকাল ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। রীতিমতো লোকে লোকারণ্য হয়েছিল বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও সদরঘাট টার্মিনাল। এর মধ্যে ট্রেনেই গতকাল ঢাকা ছেড়ে গেছেন দেড় লাখ মানুষ। গতকাল সূচি মেনেই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ছিল না অবৈধ যাত্রীদের চাপও। তবে শেষ সময়ে বাসে ও লঞ্চে রয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। এসব ট্রেনে রাজধানী থেকে মোট দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন আমরা পরিচালনা করেছি, সেগুলোর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ও ভোগান্তিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’

কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। যাত্রীরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় অনেকটা আনন্দিত হয়েছেন। আমরা এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার প্রবণতাটা একটু কম দেখেছি। যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র‍্যাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনী সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভোগান্তিহীন নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব- সবকিছু এড়িয়ে অত্যন্ত নিরাপদে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সকল পর্যায়ের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে উল্লেখ করে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামীকাল আমাদের ঈদযাত্রার শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং সুন্দরভাবে যাত্রীরা নিজ নিজ মন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ও সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি।’

অন্যদিকে, গতকাল অগ্রিম টিকিট না কাটা যাত্রীরা গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করায় লোকাল ও আন্তঃনগর বাসগুলোতে বেশ চাপ পড়ে যায়। এসব বাসে ওঠার জন্য প্রায় সবাইকে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহন কম থাকার সুযোগে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা ট্রাক বা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।

চলতি মাসের শুরুতে অনলাইনে ও কাউন্টারে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ভিড় আরও বেড়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে চাওয়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সারাদিনই এ অবস্থা ছিল। এ পরিস্থিতি থাকবে ঈদের আগের দিনও।

সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে সকাল থেকেই গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারে ছিল ভিড়। পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরগামী এই গাড়ির যাত্রী মারুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এদের গাড়ি ১৫ মিনিট পর পর হলেও কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই। আমি অনেক কষ্টে সুপারভাইজারের সিটের একটি টিকিট পেয়েছি। এই টিকিটের ভাড়াও ৫০০ টাকা।’

সাধারণত বাসের একদম সামনে টুলসদৃশ জায়গা থাকে সুপারভাইজারের জন্য। ঈদের সময় সেটিও আসন হিসেবে বিক্রি হয়।

এদিকে সড়কে যানজটের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না। বরিশালগামী যাত্রী মো. কায়সার জানান, তার গাড়ি ১২টা ৩০ মিনিটে। তবে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে, ৯টা ১৫-এর গাড়ি এখনো ঢাকায় আসেনি। তাই তাঁর গাড়িও আসতে দেরি হতে পারে।

মহাখালীতে ভিড় দেখা গেছে ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের জেলাগুলোতে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর জেলার যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায়। শেষ সময়ে টিকিট না পাওয়ায় অনেককে বাসের সুপারভাইজারের জন্য নির্ধারিত সিটও বাধ্য হয়ে কিনতে দেখা যায়।

এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেও ১০ ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিশেষ করে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল যানজটহীন হতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে কোথাও যানজট, কোথাও গাড়ির ধীর গতি ছিল।

গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুর্ঘটনা, টোল আদায় বন্ধ, চালকদের বেপরোয়া চালনার কারণে মহাসড়কে যানজট ও গাড়ি চলাচলে ধীর গতির সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কে যানজট ও ধীর গতির বিষয়ে মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলেন, শুক্রবার রাতে ও গতকাল ভোরে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তাতে হতাহত না হলেও সেতুর ওপর চাপ কমাতে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। চালকদের ওভারটেক প্রতিযোগিতার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসগুলোর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা, যা ১০০ টাকা বেশি। এ বিষয়ে কাউন্টার থেকে বলা হয়, এটাই ঈদের জন্য তাদের নির্ধারিত ভাড়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকা হলেও এখন দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা।

ভাড়া বেড়েছে পদ্মা সেতু হয়ে পার হওয়া খুলনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, বরিশাল ও মাগুরাগামী বাসের। এই রুটের পরিচিত বাস গোল্ডেন লাইনের ভাড়া ২০০ টাকা করে বাড়িয়েছে ঈদ উপলক্ষে। সায়েদাবাদ গোল্ডেন লাইন কাউন্টার থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে মাগুরার ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও ঈদের জন্য এই রুটের ভাড়া ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর গাবতলী টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে এই টার্মিনালে বাসের পরিমাণ কমেছে অনেক বেশি। তবে চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, যশোর অঞ্চলের যাত্রী বেশি এই টার্মিনালে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া এই অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবহনের। অনলাইন টিকিটে এসি গাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, জবি প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। এদিন সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষেরা নৌপথে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের আনন্দ সঙ্গে নিয়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়েছে।

গতকাল শনিবার সারা দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সাথে সাথেই টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীদের উপস্থিতি। সকালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীচাপ থাকলেও দুপুরের দিকে যাত্রীর উপস্থিতি কমে যায়। তবে বিকেল হতেই যাত্রীর ঢল নামে টার্মিনাল এলাকায়। লঞ্চগুলোতেও দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোববার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। শুক্রবার অনেকে টিকিট কিংবা কেবিন বুকিং করতে না পারায় এদিন যাচ্ছেন। সেজন্য বিগত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রীম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় এখনও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে কেবিনের তুলনায় ডেকের যাত্রীর চাপই বেশি বলছেন লঞ্চ সংশ্লিরা।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি প্রিন্স আওলাদ এর সুপারভাইজার ইহাদ তালুকদার বলেন, আজকে যাত্রীর চাপ আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। কাল থেকে আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন অনেকেই বাড়ি যাবেন। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় টিকিটেরও ঘাটতি নেই। যাত্রীরা কেবিনের তুলনায় ডেকের টিকিট বেশি নিচ্ছেন।

ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-৪ এর টিকিট বিক্রেতা সুমন শেখ বলেন, আমাদের অগ্রিম টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ডেকের টিকিট দিচ্ছিলাম। ইতোমধ্যেই লঞ্চ ভরে গেছে। যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এই রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আজকে যাত্রী চাপ বিগত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে তা আরও বেড়েছে। এখনও গার্মেন্টসশ্রমিকরা কাজ শেষ করে অনেকেই আসতে পারেননি। আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত আছে। যাত্রী বাড়লে লঞ্চ আরও বাড়ানো হবে। টিকিটের কোনো ঘাটতি নেই। রোববার যাত্রী চাপ সামলাতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে টিকিটের ঘাটতি না থাকায় অনেকটা স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই অগ্রিম টিকিট বুকিং দিয়ে রাখায় পরে আসলেও ঝামেলা পোহাতে হয়নি। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা ঘাটে এসেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। টার্মিনাল এলাকাতেও তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছেনা যাত্রীদের।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে লঞ্চ চলাচল করবে বলা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বয়া-জ্যাকেটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

বাধ্য হয়েই সরকারকে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে: ডা. জাহেদ

ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাধ্য হয়েই সরকারকে এলপিজি গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যে যেন সাধারণ মানুষ এলপিজি পেতে পারেন, সেজন্য জেলা প্রশাসকদের মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়ম এবং অবৈধ মজুতদারি রুখতে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির সুবিধা দ্বিগুণ করেছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো এখন থেকে প্রতি দফায় ১০ কেজির স্থলে ২০ কেজি করে খাদ্যসহায়তার চাল পাবেন। এ ছাড়া গত ২ অক্টোবর বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছেছে বলেও তিনি অবহিত করেন।


নির্বাচিত

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশুদের অন্তর্নিহিত মেধা ও গুণাবলির পূর্ণ বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক ভিত আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, একটি পরিবারের সার্বিক অগ্রগতি যেমন সন্তানদের সুষ্ঠু বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি পুরো জাতির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধিও শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর নির্ভরশীল।

মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশুদের প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি মূলত শিশুদের জন্যই নির্ধারিত, তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। এ সময় একাডেমি প্রাঙ্গণে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছো, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শিশু হিসেবেই এসেছিলাম। একজন শিশু অতিথি হিসেবে আমি এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।” অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে নিজের ও ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশের ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রদর্শনী বোর্ডে সেই পুরোনো গল্প দেখে শৈশবের বহু স্মৃতি তাঁর মনে পড়েছে।

শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। তোমাদের আজকে আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।” তিনি বলেন, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোসহ প্রতিটি শিশুর ভেতরেই বিশেষ কোনো না কোনো সুপ্ত গুণ থাকে এবং তা বিকশিত করতে দরকার উপযুক্ত পরিবেশ। সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারাদেশে ১১ লাখ ছাত্র ও ১১ লাখ ছাত্রীসহ মোট ২২ লাখ শিশুর অংশগ্রহণে ফুটবল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে, যেখান থেকে ভবিষ্যতে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেশব্যাপী পুনরায় সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগত খরচে এসব সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এই সুযোগগুলো সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।” প্রস্তুতি শেষে আগামী ২০২৭ কিংবা ২০২৮ সাল নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র পছন্দের সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিশ্বমঞ্চে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুল পর্যায় থেকেই বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান কিংবা জাপানিজের মতো অতিরিক্ত একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে শিশুদের সংবেদনশীল নাগরিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “তোমাদেরকে কিন্তু মানবিক হতে হবে। তোমাদেরকে এই দেশের প্রকৃতি, এই দেশের পশুপাখির প্রতিও কিন্তু তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে।”


নির্বাচিত

শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একটি উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি বিনির্মাণে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সুস্থ বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ওপরই নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনের ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”

তিনি জানান, শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষাবলয় সুদৃঢ় করতে এবং সার্বিক বিকাশের পথ সুগম করতে সরকার বহুবিধ কল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষাঙ্গন থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের যুগোপযোগী প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিশুবান্ধব বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার আবশ্যকতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ক্রীড়া ভাতা প্রবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার যৌথ সম্মিলনে শিশুরা দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ হয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবে।

শিশু অধিকার দিবসের সঙ্গে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির সংযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ দশক ধরে সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চাসহ সৃজনশীল নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের মেধা বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিশেষে দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দঘন ও সম্ভাবনাময় করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


নির্বাচিত

টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা, পাবেন না যারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে এক দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ছুটির বিষয়ে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। সরকারি ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশের ছুটি এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। মধ্যবর্তী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) কর্মদিবস থাকলেও সরকার ওই দিন ছুটি ঘোষণা করায় পরবর্তী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন ছুটি তৈরি হয়েছে।

তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে জড়িতরা এই টানা ছুটির আওতাভুক্ত থাকবেন না। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং জননিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কর্মস্থলে নিয়োজিত থাকবেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো ইউটিলিটি সেবা, বন্দর, বিমানবন্দর, রেলপথ, গণপরিবহন এবং কারাগার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।


নির্বাচিত

শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে দেড় শতাধিক শিশুর এক বর্ণাঢ্য দল তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত রয়েছেন। এতে সভাপতিত্ব করছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের জন্য স্মারক উপহার বিতরণ এবং বিশেষ স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন এবং তাদের আঁকা চিত্রকর্ম ও ছবির প্রদর্শনী ঘুরে দেখবেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবন পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে স্থাপিত নতুন সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।


নির্বাচিত

শিক্ষকতা হবে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা: প্রধানমন্ত্রী

* দেশে কোনো শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবেনা * নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত কবরে সরকার
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক   

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকরা এ সম্মাননা পান।

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।

পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই ‘আদর্শ রোল মডেল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে সরকার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এ সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাই ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বইবিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মুখস্থ করার বদলে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল তৈরি হলে একজন শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আনন্দময় শিক্ষা’ এখন সারা বিশ্বে, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন একটি বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়া হবে। দেশে কোনো শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবেনা।

তিনি বলেন, আমরা দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায় থেকে কেউ কোনো কারণে ড্রপ আউট হলেও যেন কাউকে বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত থাকা জরুরি। আপনারা দেখেছেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারেই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাজেট আরো বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে আমরা শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এ লক্ষ্যেই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির আওতায় একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে।

স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘুরতে হবে না। যথানিয়মে যথাসময়ে তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে। দেশের শিক্ষকরাই জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’

১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১০০ গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারই প্রথম প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষককে একসঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিকে ২০, কলেজে ২৫, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০, মেডিকেল কলেজে ১০, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জনকে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যা ১০০।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃথক সার্চ কমিটির প্রস্তুত করা প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি চূড়ান্তভাবে শিক্ষকদের নির্বাচন করে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে গুণী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।

নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করবে সরকার: একইদিন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সংবলিত ‘সর্বজনীন আবাসন’ নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন। আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, উন্নত সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো সরাসরি সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য এমন টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের মতো সহজ নয়। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্য শহরের ওপর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপের কথা স্বীকার করে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমানে ঢাকা ওভারপপুলেটেড। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।

শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সকল পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা একটি কার্যকর বিকল্প।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন তারেক রহমান। এর আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিনা খরচে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা ইতোমধ্যে কর্মীর চাহিদাপত্র দেওয়া শুরু করেছেন। কর্মীদের কী ধরনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করতে পারে।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। শুরুতে কর্মীদের কোনো অভিবাসনগামী কর্মীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আলো ব্যয় ছাড়াই পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর বাছাই করে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

দীর্ঘদিন সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আলোচনায় সরকার এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কিছু শর্ত আরোপ করেছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের তথ্যমতে, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র দেওয়া এবং লেভি পরিশোধের মাধ্যমে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) কর্মীদের নিবন্ধন শুরু করেছেন।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনও মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদাপত্র সত্যায়ন শুরু করেছে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে হাইকমিশন।

কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম ১০ হাজার কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা থাকা কর্মীদের মধ্য থেকে ১০ হাজার কর্মী বাছাই করা হবে। নিয়োগদাতারাই কী ধরনের কর্মী চান, তাদের কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং কোন ধরনের দক্ষতা দরকার—বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, কর্মী নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করবে। প্রতিনিধি দলের সফর এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদা স্পষ্ট হওয়ার পর কর্মী পাঠানোর সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

তবে নতুন কর্মী পাঠানোর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার সময় যেসব কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি, তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করবে বোয়েসেল। এ প্রক্রিয়া ১৬ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন আটকে থাকা কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে বোয়েসেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, চাহিদাপত্র পাওয়ার পর কর্মী বাছাই, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম কখন এবং কীভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তারা এখনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি।

মন্ত্রী আরিফুল হক জানিয়েছেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। ব্যবস্থা চূড়ান্ত হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে ১৭টি।

এর মধ্যে ১ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার সিলগালা করে কর্তৃপক্ষ। অনুমোদন ছাড়াই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং আগের সরকারের সময় গড়ে ওঠা কাঠামোর কারণে কিছু জটিলতা এখনো রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলে সরকার গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাবে।


নির্বাচিত

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

সোমবার (৫ অক্টোবর) তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টা করছে না এবং এ ধরনের কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই।

সোমবার (৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে নিজ অফিসকক্ষে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে বলেও তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অফিস অফ কমিউনিকেশন বা ‘অফকম’ এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।


নির্বাচিত

ভারতের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বাংলাদেশ সেগুলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ চায় এবং কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে গিয়ে সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে দিল্লিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে সচিব ও কর্মকর্তা পর্যায়ে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা চলছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করে একটি ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি।

শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের ডায়লগ তো হবে যখন ভিজিট হবে। এর আগে অফিশিয়াল লেভেলের ডায়লগের মাধ্যমে কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট করতে হবে। দুই পক্ষেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধান চ্যালেঞ্জ—এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়, দিল্লিতে একজন সন্ত্রাসীকে সংযত করা। একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংযম দেখাচ্ছে এবং ভারত সরকারের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবিরবঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারতকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কখনো ডায়লগ ও ডিপ্লোমেসির দরজা বন্ধ করিনি। আমরা ডায়লগ ও ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে এগিয়ে যাব এবং সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না—জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এটা হবে।’ নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খবর নিতে হলে বাংলাদেশ থেকেই নিতে হবে। নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে জলবায়ু সম্মেলনে যেতে পারেন বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে বাংলাদেশে আসবে ১৪ ডাচ কোম্পানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে ১৪টি ডাচ কোম্পানি আসবে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। তিনি বলেছেন, ‘আগামী সপ্তাহে ১৪টি ডাচ কোম্পানির একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। তারা বিশেষ করে সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করবে।’

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬ ’-এর তৃতীয় দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও বঙ্গোপসাগরের টেকসই ব্যবহারে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা—টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা, কারিগরি দক্ষতা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।

নেদারল্যান্ডস পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই কৃষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা করতে পারে।

আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই নদী অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। আন্তর্জাতিক পানি আইন ও কূটনীতি বিষয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতেও নেদারল্যান্ডস কাজ করছে বলে জানান তিনি।

বঙ্গোপসাগরকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক যোগাযোগ, মৎস্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ডাচ রাষ্ট্রদূত। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক দূষণ ও পরিবেশের ওপর চাপ বঙ্গোপসাগরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নাগরিক, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বাড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।


নির্বাচিত

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন এবং দিনটিতে সাধারণ ছুটি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৩তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া সরকারি তথ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে সরকারি পর্যায়ে পালন করা হবে। দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এরই মধ্যে দিবসটি পালনের বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানের পর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা নিহত হন। এর কয়েক দিন পর ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর ভেতরে পাল্টা অভ্যুত্থান ও সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বন্দী থাকা তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

বিএনপি ও দলটির সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দিনটির ঘটনাকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে। ফলে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে।

এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়েছে এবং এ উপলক্ষে সরকারি ছুটিও ছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দিবসটির সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটি বাতিল করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি থাকবে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

ছুটির সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস খোলা থাকবে। মন্ত্রিসভা দুর্গাপূজার ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

তবে জরুরি পরিষেবাগুলো নির্ধারিত ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে ছুটির বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন এমদাদুল হক চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরীকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা এমদাদুল হক চৌধুরী এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) এবং উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে এখন থেকে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এ এস এম সালেহ আহমেদ। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এমদাদুল হক চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চলমান দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে এমদাদুল হক চৌধুরী দায়িত্ব পালন করবেন।


নির্বাচিত

৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪০ জনের নিয়োগের গেজেট প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের (শিক্ষা) মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও ৪০ প্রার্থীর নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো।


নির্বাচিত

banner close