এক দিন পরই ঈদ। রাজধানীসহ সারা দেশের কর্মজীবী মানুষের অফিস হয়েছে ছুটি। বন্ধ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। তাই আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ। গত শুক্রবারের পর গতকাল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ছিল বাস-লঞ্চ-ট্রেনে বাড়ি ফেরা মানুষের মিছিল। আগে থেকে টিকিট করে রেখেছেন যারা তারা গতকাল নিরাপদে পছন্দের যানবাহনে উঠেছেন। কিন্তু, যারা আগে টিকিট কাটেননি বা নিকটবর্তী জেলাগুলোতে থাকেন বলে আগে থেকে টিকিট কাটার প্রয়োজন বোধ করেন না, গতকাল মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। রীতিমতো সারি বেঁধে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে যানবাহনে উঠতে হয়েছে তাদের। লোকাল হিসেবে পরিচিত এই যানবাহনগুলোতে গতকাল ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। রীতিমতো লোকে লোকারণ্য হয়েছিল বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও সদরঘাট টার্মিনাল। এর মধ্যে ট্রেনেই গতকাল ঢাকা ছেড়ে গেছেন দেড় লাখ মানুষ। গতকাল সূচি মেনেই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ছিল না অবৈধ যাত্রীদের চাপও। তবে শেষ সময়ে বাসে ও লঞ্চে রয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। এসব ট্রেনে রাজধানী থেকে মোট দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন আমরা পরিচালনা করেছি, সেগুলোর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ও ভোগান্তিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’
কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। যাত্রীরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় অনেকটা আনন্দিত হয়েছেন। আমরা এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার প্রবণতাটা একটু কম দেখেছি। যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র্যাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনী সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভোগান্তিহীন নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব- সবকিছু এড়িয়ে অত্যন্ত নিরাপদে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সকল পর্যায়ের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে উল্লেখ করে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামীকাল আমাদের ঈদযাত্রার শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং সুন্দরভাবে যাত্রীরা নিজ নিজ মন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ও সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি।’
অন্যদিকে, গতকাল অগ্রিম টিকিট না কাটা যাত্রীরা গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করায় লোকাল ও আন্তঃনগর বাসগুলোতে বেশ চাপ পড়ে যায়। এসব বাসে ওঠার জন্য প্রায় সবাইকে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহন কম থাকার সুযোগে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা ট্রাক বা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।
চলতি মাসের শুরুতে অনলাইনে ও কাউন্টারে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ভিড় আরও বেড়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে চাওয়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সারাদিনই এ অবস্থা ছিল। এ পরিস্থিতি থাকবে ঈদের আগের দিনও।
সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে সকাল থেকেই গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারে ছিল ভিড়। পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরগামী এই গাড়ির যাত্রী মারুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এদের গাড়ি ১৫ মিনিট পর পর হলেও কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই। আমি অনেক কষ্টে সুপারভাইজারের সিটের একটি টিকিট পেয়েছি। এই টিকিটের ভাড়াও ৫০০ টাকা।’
সাধারণত বাসের একদম সামনে টুলসদৃশ জায়গা থাকে সুপারভাইজারের জন্য। ঈদের সময় সেটিও আসন হিসেবে বিক্রি হয়।
এদিকে সড়কে যানজটের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না। বরিশালগামী যাত্রী মো. কায়সার জানান, তার গাড়ি ১২টা ৩০ মিনিটে। তবে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে, ৯টা ১৫-এর গাড়ি এখনো ঢাকায় আসেনি। তাই তাঁর গাড়িও আসতে দেরি হতে পারে।
মহাখালীতে ভিড় দেখা গেছে ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের জেলাগুলোতে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর জেলার যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায়। শেষ সময়ে টিকিট না পাওয়ায় অনেককে বাসের সুপারভাইজারের জন্য নির্ধারিত সিটও বাধ্য হয়ে কিনতে দেখা যায়।
এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেও ১০ ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিশেষ করে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল যানজটহীন হতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে কোথাও যানজট, কোথাও গাড়ির ধীর গতি ছিল।
গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুর্ঘটনা, টোল আদায় বন্ধ, চালকদের বেপরোয়া চালনার কারণে মহাসড়কে যানজট ও গাড়ি চলাচলে ধীর গতির সৃষ্টি হয়।
মহাসড়কে যানজট ও ধীর গতির বিষয়ে মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলেন, শুক্রবার রাতে ও গতকাল ভোরে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তাতে হতাহত না হলেও সেতুর ওপর চাপ কমাতে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। চালকদের ওভারটেক প্রতিযোগিতার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।
গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসগুলোর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা, যা ১০০ টাকা বেশি। এ বিষয়ে কাউন্টার থেকে বলা হয়, এটাই ঈদের জন্য তাদের নির্ধারিত ভাড়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকা হলেও এখন দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা।
ভাড়া বেড়েছে পদ্মা সেতু হয়ে পার হওয়া খুলনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, বরিশাল ও মাগুরাগামী বাসের। এই রুটের পরিচিত বাস গোল্ডেন লাইনের ভাড়া ২০০ টাকা করে বাড়িয়েছে ঈদ উপলক্ষে। সায়েদাবাদ গোল্ডেন লাইন কাউন্টার থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে মাগুরার ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও ঈদের জন্য এই রুটের ভাড়া ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর গাবতলী টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে এই টার্মিনালে বাসের পরিমাণ কমেছে অনেক বেশি। তবে চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, যশোর অঞ্চলের যাত্রী বেশি এই টার্মিনালে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া এই অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবহনের। অনলাইন টিকিটে এসি গাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে, জবি প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। এদিন সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষেরা নৌপথে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের আনন্দ সঙ্গে নিয়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়েছে।
গতকাল শনিবার সারা দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সাথে সাথেই টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীদের উপস্থিতি। সকালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীচাপ থাকলেও দুপুরের দিকে যাত্রীর উপস্থিতি কমে যায়। তবে বিকেল হতেই যাত্রীর ঢল নামে টার্মিনাল এলাকায়। লঞ্চগুলোতেও দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোববার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। শুক্রবার অনেকে টিকিট কিংবা কেবিন বুকিং করতে না পারায় এদিন যাচ্ছেন। সেজন্য বিগত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রীম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় এখনও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে কেবিনের তুলনায় ডেকের যাত্রীর চাপই বেশি বলছেন লঞ্চ সংশ্লিরা।
ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি প্রিন্স আওলাদ এর সুপারভাইজার ইহাদ তালুকদার বলেন, আজকে যাত্রীর চাপ আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। কাল থেকে আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন অনেকেই বাড়ি যাবেন। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় টিকিটেরও ঘাটতি নেই। যাত্রীরা কেবিনের তুলনায় ডেকের টিকিট বেশি নিচ্ছেন।
ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-৪ এর টিকিট বিক্রেতা সুমন শেখ বলেন, আমাদের অগ্রিম টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ডেকের টিকিট দিচ্ছিলাম। ইতোমধ্যেই লঞ্চ ভরে গেছে। যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এই রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আজকে যাত্রী চাপ বিগত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে তা আরও বেড়েছে। এখনও গার্মেন্টসশ্রমিকরা কাজ শেষ করে অনেকেই আসতে পারেননি। আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত আছে। যাত্রী বাড়লে লঞ্চ আরও বাড়ানো হবে। টিকিটের কোনো ঘাটতি নেই। রোববার যাত্রী চাপ সামলাতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে টিকিটের ঘাটতি না থাকায় অনেকটা স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই অগ্রিম টিকিট বুকিং দিয়ে রাখায় পরে আসলেও ঝামেলা পোহাতে হয়নি। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা ঘাটে এসেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। টার্মিনাল এলাকাতেও তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছেনা যাত্রীদের।
এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে লঞ্চ চলাচল করবে বলা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বয়া-জ্যাকেটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ।
টোকিওর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ়করণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বৃহৎ পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আয়োজিত এ সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টোকিওর উদ্দেশে যাত্রা করবেন সরকারপ্রধান।
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠকে বিদ্যমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হবেন।
এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। পাশাপাশি একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল, বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বহুজাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় এবং গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরকালে কৃষি, মৎস্য খাত, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে একাধিক সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ছাড়াও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার মতো আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা, সরকারপ্রধানের এ সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সংহত হবে এবং বাংলাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও জাপানি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা, আর সেই খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু আমদানি করা চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং পরীক্ষায় ক্ষতিকর ছত্রাকজাত বিষ আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে এই উপাদান শনাক্ত হওয়ার খবরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণায় বাংলাদেশ ও ভারতের বাজারের চালেও আফলাটক্সিনের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা কোনো একটি দেশ বা নির্দিষ্ট চালের চালানে সীমাবদ্ধ নয়। উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা হলে চালসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যে ছত্রাক জন্মাতে পারে। এর ফলে তৈরি হতে পারে আফলাটক্সিন, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি ও ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও খাদ্যশস্যে ছত্রাকজাত বিষের উপস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, পরে ধরা পড়ল বিষ: ভারত থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় আমদানি করা চালের চালানটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে মান যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ জুলাই ২০২৬ চালবোঝাই এমভি এইচটি পাইওনিয়ার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে চালকে খাবার উপযোগী বলা হলে ২৪ ও ২৫ জুলাই তা খালাস করা হয়। পরে বিভিন্ন খাদ্যগুদামে চাল পৌঁছানোর পর রং পরিবর্তন, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের অভিযোগ ওঠে।
১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চালের মান নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগে ৯৮৪ টন নিম্নমানের চাল ফেরত পাঠানোর তথ্যও প্রকাশিত হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসে।
এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রথম পরীক্ষায় চালকে খাবার উপযোগী ঘোষণা করার পরও পরবর্তী পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান ধরা পড়ল কেন? নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা, চালের সংরক্ষণব্যবস্থা এবং সরবরাহকারীর মান নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই এখন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশেও চালের নমুনায় আফলাটক্সিন: চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একক কোনো সমস্যা নয়। বিভিন্ন দেশের গবেষণায় খাদ্যশস্যে এই ছত্রাকজাত বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার ফলাফল নির্দিষ্ট নমুনা, অঞ্চল ও পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত; এগুলো দিয়ে কোনো দেশের সব চালকে অনিরাপদ বলা যায় না।
২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ভারতের হায়দরাবাদের স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত চালের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় ৫৪ শতাংশ নমুনায় আফলাটক্সিন বি১ এবং ৩৪ শতাংশ নমুনায় বি২ শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। তিনটি নমুনায় মোট আফলাটক্সিনের মাত্রা ভারতের নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমা ছাড়িয়েছিল। গবেষণাটি হায়দরাবাদের নির্দিষ্ট নমুনার ওপর পরিচালিত; এটি ভারতের সব চালের প্রতিনিধিত্ব করে না।
স্থানীয় বাজারের চালেও ঝুঁকির প্রমাণ: বাংলাদেশি গবেষক নুরশাদ আলীর ২০১৯ সালের পর্যালোচনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বাংলাদেশের বাজারের চালসহ এশিয়ার একাধিক দেশের চাল ও চালজাত পণ্যে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। অর্থাৎ, আমদানি করা চালের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব উৎপাদন, গুদামজাতকরণ ও খুচরা বাজারের চালও নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় রাখা প্রয়োজন।
চীন, ইরান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: বিভিন্ন সময়ের গবেষণায় চীন, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশের চালের নমুনায় আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট নমুনার মাত্রা প্রযোজ্য সীমার চেয়েও বেশি ছিল। এসব তথ্য দেখায়, এটি আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তার একটি স্বীকৃত সমস্যা; তবে বিভিন্ন দেশের পরীক্ষার পদ্ধতি, নমুনার ধরন ও আইনি সীমা এক নয়।
আফলাটক্সিন কী, কেন বিপজ্জনক: আফলাটক্সিন এক ধরনের মাইকোটক্সিন—অর্থাৎ নির্দিষ্ট ছত্রাকের তৈরি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। Aspergillus flavus ও Aspergillus parasiticus গোত্রের ছত্রাক থেকে এটি তৈরি হতে পারে। ধান, চাল, ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যে অনুকূল আর্দ্রতা ও তাপমাত্রায় এসব ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফলাটক্সিনের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে তীব্র বিষক্রিয়াও হতে পারে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, খাদ্যে ছত্রাকের উপস্থিতি সব সময় খালি চোখে বোঝা যায় না এবং প্রচলিত রান্নার তাপে এই বিষ নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না। তাই চালের রং, গন্ধ বা বাহ্যিক চেহারা দেখে একে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা যায় না। আবার চালের রং পরিবর্তন বা দুর্গন্ধ থাকলেই নিশ্চিতভাবে আফলাটক্সিন রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না। বিষের উপস্থিতি ও মাত্রা নির্ধারণে প্রয়োজন উপযুক্ত পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থা নিয়ে ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় চাল ও গমে আফলাটক্সিন, আর্সেনিক, ছত্রাক ও আর্দ্রতার মতো বিষয় পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে গুরুতর দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্দ্রতাকে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরশাদ আলীর বলেছেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ও ঝুঁকি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চাল আলাদা ও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে স্বীকৃত স্বাধীন পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়ে আফলাটক্সিনের মাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বন্দরে প্রাথমিক নমুনা পরীক্ষা নয়, ঝুঁকিভিত্তিকভাবে চাল খালাস ও গুদামজাত করার পরও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমদানি করা চালের পাশাপাশি স্থানীয় মিল, পাইকারি বাজার, খুচরা দোকান এবং সরকারি খাদ্যগুদামের চালও নিয়মিত নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ভারত থেকে আমদানি করা চালের একটি অংশে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি চালানের মান নিয়ে প্রশ্ন নয়; এটি খাদ্য পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নজরদারির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও সুযোগ। আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিভিন্ন দেশের চালের নমুনায় একই ধরনের বিষের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য সমস্যাটির বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে।
বাংলাদেশে চাল কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য। তাই আমদানি করা হোক কিংবা দেশীয় উৎপাদন—কোনো চালই যথাযথ পরীক্ষা ও মান যাচাই ছাড়া মানুষের খাদ্য হিসেবে বিতরণ করা উচিত নয়। দ্রুত ও স্বচ্ছ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সন্দেহজনক চালের নিরাপদ নিষ্পত্তি এবং নিয়মিত বাজার নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বাড়বে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ইসলামের ধারক-বাহক ইমাম ও আলেমদের জন্য রক্ত দিতে হলেও পিছপা হব না।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ইমাম-আলেম, কওমি ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, যারা ইসলামের ধারক-বাহক; তাদের জন্য যদি গায়ের রক্ত দিতে হয়, তবে রক্ত দেব, দ্বিধা করব না ইনশাআল্লাহ।
অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে কেউ যাতে উসকানি দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
একই সঙ্গে জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাজে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করে এসব অপরাধ প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির নেতারা ইমামদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।
তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা।
‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। এছাড়া ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আবেদন নিষ্পত্তিতে কমানো হয়েছে সময়সীমা, প্রশাসনিক ধাপ
এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি।
পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।
তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি
এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই
এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ
এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তভদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।
নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা—অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে সুশীল সমাজের প্রণীত কপ ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থানপত্র প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অর্ধশতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। এর অন্যতম শিকার নারী ও শিশুরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের ভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এ কারণে জলবায়ুজনিত অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পে সম্পদের পুনর্ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা, উপকূলে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ। পাশাপাশি কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জলবায়ু অর্থায়নের রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের জন্য তহবিলের অর্থপ্রাপ্তি সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সংগৃহীত নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণার ফলাফল বিশ্বপরিসরে তুলে ধরতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে কপ ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরিতে অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে ধন্যবাদ জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি জানান, আসন্ন কপ ৩১-এ বাংলাদেশের ‘সোনালি সুতো’ পাটকে পরিবেশবান্ধব, জৈব অবক্ষয়যোগ্য ও প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে তুলে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি জুট প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে। পাটের তৈরি শৈল্পিক পণ্যের প্রচার ও বাণিজ্যিক প্রসারে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান বিশেষজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করেছিল। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সে পথে হাটবে না।
তিনি আরো বলেন, আজকের বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-আর্টিকেল ৭০-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে প্রথমবারের মতো যাত্রী পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’। সোমবার থেকে কার্যকর হচ্ছে এর নতুন যাত্রা ও সংশোধিত সময়সূচি। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটির এই নতুন রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শুক্রবার এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে যাত্রা করে রাত ৩টায় চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে এবং ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি শেষে ৩টা ২০ মিনিটে কক্সবাজারের পথে রওনা হবে। পরদিন সকাল ৬টায় ট্রেনটির কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফিরতি পথে ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে এবং পরবর্তীতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছাবে।
মহানগর এক্সপ্রেসের রুট বর্ধিত হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বর্তমানে এ রুটে চলাচলকারী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ বিরতিহীন হওয়ায় মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে সৈকত শহরে যাতায়াতের সুযোগ পেতেন না। তবে মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণের সুবিধা পাবেন।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ১৬টি বগিবিশিষ্ট ট্রেনটিতে আসনসংখ্যা হবে ৭০৬ থেকে ৭৩৬টি এবং প্রতি রোববার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর থাকবে। নতুন রুটে ট্রেনটি চালুর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং গত ১৬ অক্টোবর থেকেই এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। মধ্যবর্তী অঞ্চলগুলোর বিপুলসংখ্যক পর্যটক সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি রেলওয়ের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফরকালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী সেখানে উপস্থিত থাকছেন না। শীর্ষ পর্যায়ের এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রাক্কালে তাঁকে ঢাকায় রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ সফরের ঠিক আগে রাষ্ট্রদূতকে কর্মস্থলে না রাখার বিষয়টিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে দেশের ৩৩টি নাগরিক ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর দেশটিতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ জানান, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য সত্ত্বেও বাংলাদেশ নিজস্ব উদ্যোগে জলবায়ু অভিযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আসন্ন বিশ্ব সম্মেলনে জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বহুমুখী বৈশ্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকার। একই সাথে সম্মেলনে তহবিল বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোজন ও প্রশমন—উভয় খাতেই সমগুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বকে তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে না ফেলে এই সহায়তা পুরোপুরি অনুদান হিসেবে ছাড় করার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক দরকষাকষির টেবিলে দেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে একটি সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় মিলে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম গঠন করেছে, যেখানে পরিবেশ সুরক্ষায় সক্রিয় তরুণ সমাজকেও সম্পৃক্ত করার রূপরেখা রয়েছে।
কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদ্যমান মার্কিন ভিসা বাতিল হতে পারে বলে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং পরবর্তীতে দেশটির যেকোনো ভিসার জন্য স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণার শঙ্কার কথাও জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
শনিবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, ‘আপনি গ্রেপ্তার হলে আপনার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে। আপনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।’
এর আগে অপর এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচলিত ‘বি১/বি২’ ভিজিটর ভিসায় বৈধভাবে কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, তা স্পষ্ট করেছিল দূতাবাস। সেখানে বলা হয়েছিল, এই ক্যাটাগরির ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, অবকাশ যাপন, কেনাকাটা, স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং ব্যবসায়িক বৈঠক কিংবা কোনো সম্মেলন ও সভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে দূতাবাস বিশেষভাবে সতর্ক করে জানায়, ‘বি১/বি২’ ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে কোনো ধরনের চাকরি করা কিংবা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার কোনো আইনি বৈধতা নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফর দেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৩৩টি নাগরিক ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত করা জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন করে ঋণের বোঝা না চাপিয়ে উন্নত বিশ্বকে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন অনুদান হিসেবে ছাড় করতে হবে। বৈশ্বিক দরকষাকষির টেবিলে দেশের অধিকার আদায়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দেন তিনি। একই সাথে জলবায়ুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট তহবিল গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে জলবায়ু অভিযোজনে সক্রিয় রয়েছে। কপ-৩১ সম্মেলনে টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। এছাড়া তহবিল বরাদ্দে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভিযোজন ও প্রশমন উভয় খাতে সমান বরাদ্দ নিশ্চিতে বাংলাদেশ জোর দাবি জানাবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ ফোকাল টিম গঠন করা হয়েছে, যেখানে পরিবেশ নিয়ে কর্মরত যুবসমাজকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বৃহৎ পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।
তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা।
‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। এছাড়া ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা, কমানো হয়েছে প্রশাসনিক ধাপ
এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি।
পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাসসকে বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।
তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি
এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই
এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ
এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তভদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।
নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা—অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সূত্র: বাসস
ডিজিটাল অর্থনীতি ও অনলাইন সেবার বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি। ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ, আর্থিক তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কণ্ঠস্বর ও ভিডিও নকল করে জালিয়াতির ঘটনা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লক্ষ্য হলো অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং নাগরিকের তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা সুরক্ষায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলা।
সাইবার অপরাধ তদন্তে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, সার্ভার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এসব তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে অপরাধের ধরন শনাক্ত এবং তদন্তের কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।
এ লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজিটাল ফরেনসিক সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি আটটি বিভাগীয় শহরে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের সুযোগ বাড়বে। ফলে তদন্তে সময় সাশ্রয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা সহজলভ্য করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে। চট্টগ্রামের ল্যাব ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতাও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন। গত ১ অক্টোবর ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মী মিলিয়ে ৪ হাজার ৫৯২ জনের জনবল রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ইউনিটের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ তদন্ত ও প্রতিরোধে বিশেষায়িত কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ফিশিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের মতো বিষয় এ কার্যক্রমে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ে সাইবার অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুধু জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো গঠনই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।
সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় তদন্তকারীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি মিরপুরের পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তবিষয়ক ১০ দিনব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
এ ছাড়া সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন মডিউল যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দক্ষতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত সাইবার ল্যাব পরিদর্শনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কারণ, সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অর্থ লেনদেনের মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রমাণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাই তথ্য বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এসব অপরাধ মোকাবিলা কঠিন।
বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট নির্মাতারা সংশোধনী প্রকাশ করেছেন। ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং নিজেদের ব্যবস্থার নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথু প্রিন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশের পর সেগুলো কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা দ্রুত বেড়েছে। তবে হামলার চেষ্টা শনাক্ত হওয়া আর কোনো ব্যবস্থা সফলভাবে আক্রান্ত হওয়া এক বিষয় নয়।
এ ঘটনা দেখিয়েছে, বহুল ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তির দুর্বলতা একাধিক দেশ ও খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারি ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবায় নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ, দুর্বলতা পরীক্ষা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। অপরাধীরা ভুয়া লিংক, নকল ওয়েবসাইট, পরিচয় জালিয়াতি এবং সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা ভিডিও নকল করে অর্থ চাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধসংক্রান্ত ১৯১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলা ৩২টি এবং সিআর মামলা ১৫৯টি। একই সময়ে এসব ঘটনায় ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরিচিত লিংকে প্রবেশ না করা, পিন ও ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) গোপন রাখা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখা জরুরি। পরিচিত কারও পরিচয়ে জরুরি অর্থ চাওয়া হলে অন্য মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরই নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য।
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাম্মাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এসব হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে; যার মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রিয়াদ-মদিনাসহ সৌদির চার অঞ্চলে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে ১১টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এ তথ্য জানায়। এর একদিন আগে সৌদির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, রিয়াদ, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে ড্রোনগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়। অন্যদিকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরানের দিকে ছুটে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেয়া সর্বশেষ বিবৃতিতে জোটটি জানায়, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি ড্রোন, শুধু রিয়াদের আকাশে একটি এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে চারটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল জোটটি।
তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল কিংবা সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর দেয়ার এক দিন পর এসব ঘোষণা এল। এর আগে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নস্যাৎ করা হলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন। এ ছাড়া দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজন নিহত হন।
আনাদোলু বলছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবারও সাতটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। বাকি ছয়টি মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে প্রতিহত করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সর্বশেষ এসব ঘটনা ঘটল।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির আরও কয়েকটি এলাকা দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।