এক দিন পরই ঈদ। রাজধানীসহ সারা দেশের কর্মজীবী মানুষের অফিস হয়েছে ছুটি। বন্ধ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। তাই আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ। গত শুক্রবারের পর গতকাল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ছিল বাস-লঞ্চ-ট্রেনে বাড়ি ফেরা মানুষের মিছিল। আগে থেকে টিকিট করে রেখেছেন যারা তারা গতকাল নিরাপদে পছন্দের যানবাহনে উঠেছেন। কিন্তু, যারা আগে টিকিট কাটেননি বা নিকটবর্তী জেলাগুলোতে থাকেন বলে আগে থেকে টিকিট কাটার প্রয়োজন বোধ করেন না, গতকাল মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। রীতিমতো সারি বেঁধে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে যানবাহনে উঠতে হয়েছে তাদের। লোকাল হিসেবে পরিচিত এই যানবাহনগুলোতে গতকাল ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। রীতিমতো লোকে লোকারণ্য হয়েছিল বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও সদরঘাট টার্মিনাল। এর মধ্যে ট্রেনেই গতকাল ঢাকা ছেড়ে গেছেন দেড় লাখ মানুষ। গতকাল সূচি মেনেই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ছিল না অবৈধ যাত্রীদের চাপও। তবে শেষ সময়ে বাসে ও লঞ্চে রয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। এসব ট্রেনে রাজধানী থেকে মোট দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন আমরা পরিচালনা করেছি, সেগুলোর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ও ভোগান্তিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’
কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। যাত্রীরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় অনেকটা আনন্দিত হয়েছেন। আমরা এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার প্রবণতাটা একটু কম দেখেছি। যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র্যাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনী সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভোগান্তিহীন নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব- সবকিছু এড়িয়ে অত্যন্ত নিরাপদে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সকল পর্যায়ের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে উল্লেখ করে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামীকাল আমাদের ঈদযাত্রার শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং সুন্দরভাবে যাত্রীরা নিজ নিজ মন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ও সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি।’
অন্যদিকে, গতকাল অগ্রিম টিকিট না কাটা যাত্রীরা গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করায় লোকাল ও আন্তঃনগর বাসগুলোতে বেশ চাপ পড়ে যায়। এসব বাসে ওঠার জন্য প্রায় সবাইকে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহন কম থাকার সুযোগে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা ট্রাক বা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।
চলতি মাসের শুরুতে অনলাইনে ও কাউন্টারে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ভিড় আরও বেড়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে চাওয়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সারাদিনই এ অবস্থা ছিল। এ পরিস্থিতি থাকবে ঈদের আগের দিনও।
সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে সকাল থেকেই গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারে ছিল ভিড়। পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরগামী এই গাড়ির যাত্রী মারুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এদের গাড়ি ১৫ মিনিট পর পর হলেও কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই। আমি অনেক কষ্টে সুপারভাইজারের সিটের একটি টিকিট পেয়েছি। এই টিকিটের ভাড়াও ৫০০ টাকা।’
সাধারণত বাসের একদম সামনে টুলসদৃশ জায়গা থাকে সুপারভাইজারের জন্য। ঈদের সময় সেটিও আসন হিসেবে বিক্রি হয়।
এদিকে সড়কে যানজটের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না। বরিশালগামী যাত্রী মো. কায়সার জানান, তার গাড়ি ১২টা ৩০ মিনিটে। তবে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে, ৯টা ১৫-এর গাড়ি এখনো ঢাকায় আসেনি। তাই তাঁর গাড়িও আসতে দেরি হতে পারে।
মহাখালীতে ভিড় দেখা গেছে ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের জেলাগুলোতে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর জেলার যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায়। শেষ সময়ে টিকিট না পাওয়ায় অনেককে বাসের সুপারভাইজারের জন্য নির্ধারিত সিটও বাধ্য হয়ে কিনতে দেখা যায়।
এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেও ১০ ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিশেষ করে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল যানজটহীন হতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে কোথাও যানজট, কোথাও গাড়ির ধীর গতি ছিল।
গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুর্ঘটনা, টোল আদায় বন্ধ, চালকদের বেপরোয়া চালনার কারণে মহাসড়কে যানজট ও গাড়ি চলাচলে ধীর গতির সৃষ্টি হয়।
মহাসড়কে যানজট ও ধীর গতির বিষয়ে মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলেন, শুক্রবার রাতে ও গতকাল ভোরে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তাতে হতাহত না হলেও সেতুর ওপর চাপ কমাতে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। চালকদের ওভারটেক প্রতিযোগিতার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।
গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসগুলোর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা, যা ১০০ টাকা বেশি। এ বিষয়ে কাউন্টার থেকে বলা হয়, এটাই ঈদের জন্য তাদের নির্ধারিত ভাড়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকা হলেও এখন দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা।
ভাড়া বেড়েছে পদ্মা সেতু হয়ে পার হওয়া খুলনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, বরিশাল ও মাগুরাগামী বাসের। এই রুটের পরিচিত বাস গোল্ডেন লাইনের ভাড়া ২০০ টাকা করে বাড়িয়েছে ঈদ উপলক্ষে। সায়েদাবাদ গোল্ডেন লাইন কাউন্টার থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে মাগুরার ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও ঈদের জন্য এই রুটের ভাড়া ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর গাবতলী টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে এই টার্মিনালে বাসের পরিমাণ কমেছে অনেক বেশি। তবে চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, যশোর অঞ্চলের যাত্রী বেশি এই টার্মিনালে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া এই অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবহনের। অনলাইন টিকিটে এসি গাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে, জবি প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। এদিন সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষেরা নৌপথে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের আনন্দ সঙ্গে নিয়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়েছে।
গতকাল শনিবার সারা দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সাথে সাথেই টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীদের উপস্থিতি। সকালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীচাপ থাকলেও দুপুরের দিকে যাত্রীর উপস্থিতি কমে যায়। তবে বিকেল হতেই যাত্রীর ঢল নামে টার্মিনাল এলাকায়। লঞ্চগুলোতেও দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোববার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। শুক্রবার অনেকে টিকিট কিংবা কেবিন বুকিং করতে না পারায় এদিন যাচ্ছেন। সেজন্য বিগত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রীম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় এখনও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে কেবিনের তুলনায় ডেকের যাত্রীর চাপই বেশি বলছেন লঞ্চ সংশ্লিরা।
ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি প্রিন্স আওলাদ এর সুপারভাইজার ইহাদ তালুকদার বলেন, আজকে যাত্রীর চাপ আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। কাল থেকে আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন অনেকেই বাড়ি যাবেন। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় টিকিটেরও ঘাটতি নেই। যাত্রীরা কেবিনের তুলনায় ডেকের টিকিট বেশি নিচ্ছেন।
ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-৪ এর টিকিট বিক্রেতা সুমন শেখ বলেন, আমাদের অগ্রিম টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ডেকের টিকিট দিচ্ছিলাম। ইতোমধ্যেই লঞ্চ ভরে গেছে। যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এই রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আজকে যাত্রী চাপ বিগত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে তা আরও বেড়েছে। এখনও গার্মেন্টসশ্রমিকরা কাজ শেষ করে অনেকেই আসতে পারেননি। আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত আছে। যাত্রী বাড়লে লঞ্চ আরও বাড়ানো হবে। টিকিটের কোনো ঘাটতি নেই। রোববার যাত্রী চাপ সামলাতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে টিকিটের ঘাটতি না থাকায় অনেকটা স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই অগ্রিম টিকিট বুকিং দিয়ে রাখায় পরে আসলেও ঝামেলা পোহাতে হয়নি। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা ঘাটে এসেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। টার্মিনাল এলাকাতেও তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছেনা যাত্রীদের।
এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে লঞ্চ চলাচল করবে বলা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বয়া-জ্যাকেটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ।
প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা কনটেইনারে মিলেছে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প। এতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে চালানটি শনাক্ত করা হয়। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৩, ব্লক-এ, শপ নম্বর ৩ঈ০০৪অ ঠিকানায় অবস্থিত চায়না মার্ট নামের প্রতিষ্ঠানটি চালানটি আমদানি করে। গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো চালানটিতে পণ্য হিসেবে ‘প্রিন্টিং মেশিন’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা চালানটি বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। এ সময় ঘোষিত প্রিন্টিং মেশিনের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। তবে কনটেইনারে কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। এসব স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এ ধরনের এক প্যাকেট সিগারেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পায় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা। এনবিআরের হিসাবে, উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতো। এ ছাড়া কনটেইনারে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রী আমদানির বিপরীতে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি ও ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে বৈধ তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি ও অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিগত সরকারের আমলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব পর্যালোচনা করে বেশ কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে এসব অসংগতি চিহ্নিত করেছে এ সংক্রান্ত কমিটি। প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যে এ কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক। এ ছাড়া আলোচনা করেন বিবিএসের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো কাজ করা যায় না। এটি নিজের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো। সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তথ্য। তাই বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ফরেনসিক অডিট করা হয়েছে অতীতের অনিয়মের গভীরে যাওয়ার জন্য, কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য নয়। তথ্য যত বেশি উন্মুক্ত করা হবে, তত বেশি ভুল ও অসংগতি সামনে আসবে। এ থেকে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে তৈরি তথ্য অনেক শক্তিশালী। সঠিক পরিসংখ্যান দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পরিসংখ্যান ব্যবহার করে এক ধরনের বয়ান তৈরির চেষ্টা হয়েছে। অতীতের তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে জিডিপির হিসাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্যেও ব্যাপক গরমিল ছিল। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তা পাননি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নৌযানের সংখ্যা আগে ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকৃত সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের অসংগতি দূর করতে ডিজিটাল রেজিস্টার বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মিথ্যা তথ্যের একধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ চলছে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, তথ্য ছাড়া দেশ কোথায় আছে, কোথায় যেতে চায় কিংবা কোথায় ভুল হচ্ছে, তা বোঝা সম্ভব নয়। তাই পরিসংখ্যানের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ের পরিসংখ্যান নিয়ে ফরেনসিক অডিট করা হয়েছে। জিডিপির হিসাব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, পর্যালোচনায় তাতে যথেষ্ট গরমিল পাওয়া গেছে। এসব অসংগতির প্রমাণও মিলেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভোক্তা মূল্যসূচকসহ (সিপিআই) বিভিন্ন তথ্য এখন বিবিএস নিজেই প্রকাশ করছে, মন্ত্রীর স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়ছে না।
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের উন্নয়ন সহযোগিতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের জন্য আরও বেশি এবং মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অর্থায়নে গুরুত্ব দেবে সংস্থাটি।
২০২৭ থেকে ২০৩৩ অর্থবছর পর্যন্ত সম্ভাব্য মেয়াদে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) প্রণয়নের কাজ চলছে। এ কৌশলগত কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের তিনটি প্রতিষ্ঠান—ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ), ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং মাল্টিল্যাটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি (এমআইজিএ)—তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে সম্প্রতি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগিতার ক্ষেত্র ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে এই কৌশল। বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্য এবং সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে এটি প্রণয়ন করা হবে।
কর্মসংস্থানে বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সবচেয়ে জরুরি উন্নয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে জ্যঁ পেসমে বলেন, এ বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।
তিনি জানান, গত এক দশকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। বিপরীতে এ সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ। নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণেও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ২০২২ সালে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন সিপিএফের মূল লক্ষ্য হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মৌলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগে গুরুত্ব
জ্যঁ পেসমে বলেন, যেসব ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহায়তা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা কেন্দ্রীভূত করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কাঠামোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত প্রত্যাশা করছে বিশ্বব্যাংক।
পরামর্শ ও জরিপ কার্যক্রম
নতুন সিপিএফ প্রণয়নের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ইতোমধ্যে পরামর্শ কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ রয়েছে।
জরিপে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্র এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পর্কে মতামত চাওয়া হয়েছে।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলনের প্রত্যাশা
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, নতুন সিপিএফে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখতে চাইবে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক চূড়ান্ত খসড়া দিলে তা পর্যালোচনা করে সরকারের অবস্থান ও মতামত তুলে ধরবে ইআরডি।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ৩৭টি প্রকল্পে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলারের সহায়তা চলমান রয়েছে। সংস্থাটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে অর্থায়ন করছে।
এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মৌলিক নীতিগত বিষয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। যৌথ কর্মপরিকল্পনার আওতায় আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হবে। গত মাসে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের ২৯তম পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কূটনীতিক সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। রোববার (৮ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ২০ জুন থেকে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা আসাদ আলম সিয়াম দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। রোববার তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নেন। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন বলে জানা গেছে।
বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এর আগে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
১৯৯৮ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া এই কূটনীতিক এর আগে দিল্লি ও ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আগামী ১৮ নভেম্বর শেষ হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। সরকারি ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে অধিবেশন বসবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে চতুর্থ অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনার সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, এ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য একটি সরকারি বিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তৃতীয় অধিবেশনের পর থেকে চতুর্থ অধিবেশনের আগে তিনটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এগুলো হলো পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬। অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তর দেওয়ার জন্য ১৭৪টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৩ হাজার ৫৭৭টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রশ্নের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫১টি। এ ছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ৯২টি এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ২৮১টি নোটিশ পাওয়া গেছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণার প্রস্তাব দেন। উপস্থিত সদস্যরা প্রস্তাবটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেন।
এ সময় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের অগ্রগতি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া জানান, আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সাউন্ড সিস্টেম উদ্বোধন করা হবে।
জাতীয় সংসদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সংসদ চলাকালে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংরক্ষণাগারের সুবিধা রেখে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ই-পার্লামেন্ট কার্যক্রম এবং জাতীয় সংসদের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।
বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ আজ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্সেস-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ ১৯৯৮ সালে বিসিএস ১৭তম ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী থেকে এক বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ চাকুরি জীবনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফারুক আহমেদ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রি লাভ করেন। সূত্র: বাসস
পূর্ববর্তী প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনর্থক চর্চা করাকে সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সরকারের বিগত দিনের আলোচনায় যেতে চাই না, এটি ওয়েস্ট অব টাইম।’ রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রের সার্বিক উত্তরণে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক রূপ দেওয়া সম্ভব না হলে রাজনীতিতে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায্যতা অনুপস্থিত থাকলে রাজনীতিতে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা প্রকারান্তরে দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকেও শ্লথ করে দেয়। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, নির্ভুল তথ্যপ্রবাহ না থাকলে কোনো খাতেই স্বচ্ছতা আনা যায় না। এ কারণেই সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রের বাস্তব তথ্য নিয়ে যেকোনো সরকারের জালিয়াতি মূলত নিজের সঙ্গেই নিজে প্রতারণা করার শামিল।
আলোচনা সভায় পরিসংখ্যানের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার ওপর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো ধরনের তথ্য বিকৃত করতে চায় না। পরিসংখ্যান তৈরিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। মানুষ যেন নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।’
একই অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিগত সময়ের কাঠামোগত দুর্বলতার দিকটি চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন, আর যোগ্য ব্যক্তিরা ছিলেন সুবিধার বাইরে। এতে বাংলাদেশের সীমিত সম্পদের বড় একটি অংশ অপচয় হয়েছে।’ এছাড়া দেশের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বলেও তিনি অবহিত করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার পরিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে স্পষ্ট করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, বরং রাষ্ট্রীয় আইনের কঠোর বাস্তবায়নই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বের সমাপ্তিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের এ দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবাসনে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা বিরোধে জড়ানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান যে, এ সংক্রান্ত যাবতীয় উদ্যোগ বিধিবদ্ধ ও যথাযথ প্রক্রিয়ার (ডিউ প্রসেস) মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ আইনি নীতিমালার আলোকে। সেখানে যেকোনো কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইনকে সমুন্নত ও সঠিকভাবে প্রয়োগ করাই মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি অবহিত করেন।
ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি একান্তই সে দেশের নিজস্ব বিচারিক এখতিয়ার। তবে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তির শর্তাবলি মেনে ইতিমধ্যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে হস্তান্তর করামাত্রই বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে আদালতের মুখোমুখি করা হবে।
ভারত শেখ হাসিনাকে বন্দি বিবেচনা না করে ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হিসেবে গণ্য করছে—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের জবাবে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ভারত কী বলছে, তারা বললেই তো আর বাস্তবতা বদলে যাবে না! আমার রাষ্ট্রে উন্মুক্ত আদালতে তার বিচার হয়েছে। আমাদের কাছে তিনি একজন অপরাধী—দেশের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী, এটাই হলো আমাদের কাছে তার চূড়ান্ত পরিচয়।’
দেশে গত অক্টোবর মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। এক মাসে মাছের দাম গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জ্বালানি তেল, চিনি ও ভোজ্য তেলের দামও বেড়েছে। তবে সাত ধরনের পণ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং দুটি পণ্যের দাম কমেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) কনজুমারস ফোরাম (সিএফ) প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার পরিস্থিতি–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির সরেজমিনে সংগ্রহ করা বাজারদরের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
পণ্যভেদে দামের হিসাবে দেখা যায়, অক্টোবরে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরাসহ বিভিন্ন মসলার দাম গড়ে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনির ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্য তেল ও ডালডার ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, আটার দাম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চালের দাম ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডিমের দাম ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, মাংসের দাম শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং চায়ের দাম শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে অক্টোবরে সাত ধরনের পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ ও টুথপেস্ট, চানাচুর ও বিস্কুট, নিত্যব্যবহৃত ১১টি ব্র্যান্ডের ওষুধ এবং খাতা-কলম। এ সময়ে শাকসবজির দাম গড়ে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতকালীন শাকসবজি বাজারে আসতে শুরু করায় সবজির দাম কমেছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুর এলাকার বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া ও রংপুরে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা এবং লাউ ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে কলার হালি পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৮ টাকায়। তবে একই পণ্য ঢাকার বাজারে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে। রাজধানীতে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ও মূলা ৩০ টাকা এবং লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। সবজির দাম কমলেও এতে উৎপাদকেরা লাভবান হতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাজারে কম দামে সবজি বিক্রি করতে গিয়ে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তাঁরা। ফলে একদিকে ভোক্তারা ঢাকার বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে সবজি কিনছেন, অন্যদিকে উৎপাদকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।
সিএফের হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছিল। অক্টোবরে বেড়েছে আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সংগঠনটি দুই মাসে মোট দাম বৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। পণ্যমূল্য এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, শুধু বেতন-ভাতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো সম্ভব নয়। বাড়িভাড়া, দোকানভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন ব্যয়ও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা জরুরি। বাজারে অতিমুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএফ। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে গ্রামপর্যায়ে কৃষিপণ্যের উৎপাদনমূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে ব্যবধান কমাতে বাজার তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে সিএফ রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপারশপ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি যশোর, বগুড়া ও রংপুরের বাজার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির গ্রাসে দেশের বিপুলসংখ্যক সমবায় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ খাতের সার্বিক কার্যক্রমে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট নিরসন এবং নড়বড়ে অর্থনীতির গতি ফেরাতে সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বিষয়ে বক্তব্য দেন।
গ্রামীণ জনপদের অর্থনৈতিক ভিত মজবুতকরণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমবায়ের তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমবায় শুধু পণ্য উৎপাদন কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমবায়কে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধের অভিঘাতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে বহুমুখী প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
সমবায় ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে অনেক সমিতি তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সমবায় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’ পরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭ নভেম্বর সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বাসস
আর্থিক অনিয়মের চেয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি দেশের বিচার বিভাগকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিচারিক শুদ্ধাচার কর্মশালায় (জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপ) অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মশালায় বক্তব্য প্রদানকালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফসল হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগে অর্থনৈতিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি।’ এ সময় বিচারকদের নৈতিক মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘জজের নামের সঙ্গে সৎ জজ কথাটি অতিরঞ্জন। জজের কাজটাই সততা রক্ষা করা।’ একইসঙ্গে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখা ও স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সরকার বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অবলম্বন করবে।
অতীতের সংকটময় মুহূর্তে বিচারালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হলেন, বিচার বিভাগ তার পাশে দাঁড়ায়নি।’ এছাড়া ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার। এ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার তাকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করা দরকার, তা করা হয়েছে।’ এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতে আগামী ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার হওয়া জরুরি, তেমনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে প্রাণ হারানো শহীদ জাফর, জয়নাল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রউফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডা. মিলনসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ এক হাজার চার শতাধিক মানুষের আত্মত্যাগ এবং প্রায় তিন শতাধিক মানুষের পঙ্গুত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার সংস্কৃতি তৈরির আহ্বান জানান।
বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যকার বিভক্তি ও জুলাইয়ের হতাহতের ঘটনায় একটি অংশের নীরবতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি জানান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যখন বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার পর্যালোচনা করে, তখন কেবল আর্থিক দিকটিই প্রাধান্য পায়। কিন্তু সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতির বড় সংকটটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, যা মূলত দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা সুসংহত রাখা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার বিজিবির জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইলে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। একই সঙ্গে গাজীপুরের প্রধান শিল্প বলয় চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনাসহ বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকির অংশ হিসেবে বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত বিশেষ মনিটরিং সেল থেকে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ও সরাসরি ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীটি।
বিজিবি জানিয়েছে, সর্বসাধারণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুকূল কর্মপরিবেশ রক্ষা এবং মহাসড়কসহ স্থানীয় জনপদে যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তাদের এই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।