সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে শনিবার দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
আপডেটেড
১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৪ ০০:০৪

এক দিন পরই ঈদ। রাজধানীসহ সারা দেশের কর্মজীবী মানুষের অফিস হয়েছে ছুটি। বন্ধ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। তাই আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ। গত শুক্রবারের পর গতকাল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ছিল বাস-লঞ্চ-ট্রেনে বাড়ি ফেরা মানুষের মিছিল। আগে থেকে টিকিট করে রেখেছেন যারা তারা গতকাল নিরাপদে পছন্দের যানবাহনে উঠেছেন। কিন্তু, যারা আগে টিকিট কাটেননি বা নিকটবর্তী জেলাগুলোতে থাকেন বলে আগে থেকে টিকিট কাটার প্রয়োজন বোধ করেন না, গতকাল মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে তাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। রীতিমতো সারি বেঁধে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে যানবাহনে উঠতে হয়েছে তাদের। লোকাল হিসেবে পরিচিত এই যানবাহনগুলোতে গতকাল ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। রীতিমতো লোকে লোকারণ্য হয়েছিল বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও সদরঘাট টার্মিনাল। এর মধ্যে ট্রেনেই গতকাল ঢাকা ছেড়ে গেছেন দেড় লাখ মানুষ। গতকাল সূচি মেনেই ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। ছিল না অবৈধ যাত্রীদের চাপও। তবে শেষ সময়ে বাসে ও লঞ্চে রয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। এসব ট্রেনে রাজধানী থেকে মোট দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন আমরা পরিচালনা করেছি, সেগুলোর যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ও ভোগান্তিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’

কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। যাত্রীরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় অনেকটা আনন্দিত হয়েছেন। আমরা এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার প্রবণতাটা একটু কম দেখেছি। যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র‍্যাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনী সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভোগান্তিহীন নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব- সবকিছু এড়িয়ে অত্যন্ত নিরাপদে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সকল পর্যায়ের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে উল্লেখ করে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামীকাল আমাদের ঈদযাত্রার শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং সুন্দরভাবে যাত্রীরা নিজ নিজ মন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ও সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি।’

অন্যদিকে, গতকাল অগ্রিম টিকিট না কাটা যাত্রীরা গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করায় লোকাল ও আন্তঃনগর বাসগুলোতে বেশ চাপ পড়ে যায়। এসব বাসে ওঠার জন্য প্রায় সবাইকে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহন কম থাকার সুযোগে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা ট্রাক বা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।

চলতি মাসের শুরুতে অনলাইনে ও কাউন্টারে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ভিড় আরও বেড়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে চাওয়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সারাদিনই এ অবস্থা ছিল। এ পরিস্থিতি থাকবে ঈদের আগের দিনও।

সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে সকাল থেকেই গোল্ডেন লাইনের কাউন্টারে ছিল ভিড়। পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরগামী এই গাড়ির যাত্রী মারুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এদের গাড়ি ১৫ মিনিট পর পর হলেও কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই। আমি অনেক কষ্টে সুপারভাইজারের সিটের একটি টিকিট পেয়েছি। এই টিকিটের ভাড়াও ৫০০ টাকা।’

সাধারণত বাসের একদম সামনে টুলসদৃশ জায়গা থাকে সুপারভাইজারের জন্য। ঈদের সময় সেটিও আসন হিসেবে বিক্রি হয়।

এদিকে সড়কে যানজটের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না। বরিশালগামী যাত্রী মো. কায়সার জানান, তার গাড়ি ১২টা ৩০ মিনিটে। তবে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে, ৯টা ১৫-এর গাড়ি এখনো ঢাকায় আসেনি। তাই তাঁর গাড়িও আসতে দেরি হতে পারে।

মহাখালীতে ভিড় দেখা গেছে ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বের জেলাগুলোতে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর জেলার যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায়। শেষ সময়ে টিকিট না পাওয়ায় অনেককে বাসের সুপারভাইজারের জন্য নির্ধারিত সিটও বাধ্য হয়ে কিনতে দেখা যায়।

এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেও ১০ ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিশেষ করে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল যানজটহীন হতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে কোথাও যানজট, কোথাও গাড়ির ধীর গতি ছিল।

গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুর্ঘটনা, টোল আদায় বন্ধ, চালকদের বেপরোয়া চালনার কারণে মহাসড়কে যানজট ও গাড়ি চলাচলে ধীর গতির সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কে যানজট ও ধীর গতির বিষয়ে মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলেন, শুক্রবার রাতে ও গতকাল ভোরে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তাতে হতাহত না হলেও সেতুর ওপর চাপ কমাতে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। চালকদের ওভারটেক প্রতিযোগিতার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসগুলোর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা, যা ১০০ টাকা বেশি। এ বিষয়ে কাউন্টার থেকে বলা হয়, এটাই ঈদের জন্য তাদের নির্ধারিত ভাড়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকা হলেও এখন দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা।

ভাড়া বেড়েছে পদ্মা সেতু হয়ে পার হওয়া খুলনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, বরিশাল ও মাগুরাগামী বাসের। এই রুটের পরিচিত বাস গোল্ডেন লাইনের ভাড়া ২০০ টাকা করে বাড়িয়েছে ঈদ উপলক্ষে। সায়েদাবাদ গোল্ডেন লাইন কাউন্টার থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে মাগুরার ভাড়া ৫৫০ টাকা হলেও ঈদের জন্য এই রুটের ভাড়া ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর গাবতলী টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে এই টার্মিনালে বাসের পরিমাণ কমেছে অনেক বেশি। তবে চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, যশোর অঞ্চলের যাত্রী বেশি এই টার্মিনালে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া এই অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবহনের। অনলাইন টিকিটে এসি গাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, জবি প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। এদিন সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষেরা নৌপথে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের আনন্দ সঙ্গে নিয়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়েছে।

গতকাল শনিবার সারা দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সাথে সাথেই টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীদের উপস্থিতি। সকালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীচাপ থাকলেও দুপুরের দিকে যাত্রীর উপস্থিতি কমে যায়। তবে বিকেল হতেই যাত্রীর ঢল নামে টার্মিনাল এলাকায়। লঞ্চগুলোতেও দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোববার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলেও এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। শুক্রবার অনেকে টিকিট কিংবা কেবিন বুকিং করতে না পারায় এদিন যাচ্ছেন। সেজন্য বিগত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রীম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হলেও বিভিন্ন রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় এখনও কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে কেবিনের তুলনায় ডেকের যাত্রীর চাপই বেশি বলছেন লঞ্চ সংশ্লিরা।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি প্রিন্স আওলাদ এর সুপারভাইজার ইহাদ তালুকদার বলেন, আজকে যাত্রীর চাপ আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। কাল থেকে আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন অনেকেই বাড়ি যাবেন। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় টিকিটেরও ঘাটতি নেই। যাত্রীরা কেবিনের তুলনায় ডেকের টিকিট বেশি নিচ্ছেন।

ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-৪ এর টিকিট বিক্রেতা সুমন শেখ বলেন, আমাদের অগ্রিম টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ডেকের টিকিট দিচ্ছিলাম। ইতোমধ্যেই লঞ্চ ভরে গেছে। যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এই রুটে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আজকে যাত্রী চাপ বিগত কয়েকদিনের তুলনায় বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে তা আরও বেড়েছে। এখনও গার্মেন্টসশ্রমিকরা কাজ শেষ করে অনেকেই আসতে পারেননি। আমাদের পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত আছে। যাত্রী বাড়লে লঞ্চ আরও বাড়ানো হবে। টিকিটের কোনো ঘাটতি নেই। রোববার যাত্রী চাপ সামলাতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে টিকিটের ঘাটতি না থাকায় অনেকটা স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই অগ্রিম টিকিট বুকিং দিয়ে রাখায় পরে আসলেও ঝামেলা পোহাতে হয়নি। লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোয় যাত্রীরা ঘাটে এসেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। টার্মিনাল এলাকাতেও তেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছেনা যাত্রীদের।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে লঞ্চ চলাচল করবে বলা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বয়া-জ্যাকেটের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন শুরু  

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এখন থেকে নিবন্ধন নিয়ে রাজধানীর বুকে চষে বেড়াতে পারবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার। সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথমে যানবাহনগুলোকে আইনি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান (ই-রিকশা) চলাচল-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের ১২০ ধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।’

ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানান তিনি। নতুন নীতিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়ন করতে ফি দিতে হবে চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

এখন থেকে ই-রিকশা উৎপাদন তদারকি এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের সুপারিশ করতে সরকার সাত সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শুধু চালালেই হবে না, মানতে হবে বিস্তর আইন। আর আইন ভঙ্গ করলেই হবে শাস্তি ও জরিমানা। এ ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল বহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য আটটি জোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, যার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। ফলে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। নিবন্ধনের পর চালকদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।


নির্বাচিত

ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা কমাতে চায় টিসিবি, লক্ষ্য আর্থিক স্বনির্ভরতা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

একই সঙ্গে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। তবে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, ‘সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্থাটিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পণ্য কেনার খরচ, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে আমরা ভর্তুকির ব্যয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছি। তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে সংস্থার মোট ভর্তুকির প্রয়োজনও বাড়তে পারে।’

২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিসিবির ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পণ্য কেনা ও বিক্রির দামের পার্থক্য এবং ব্যাংক ঋণের সুদ—ভর্তুকির বড় দুটি উৎস।

টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘টিসিবির মূল সমস্যা হলো, যে দামে পণ্য কেনা হয়, সেই দামের চেয়ে অনেক কম দামে তা বিক্রি করতে হয়। কিছু পণ্য কেনা দামের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ভোজ্যতেলে ভর্তুকির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।’

২০২২ সাল থেকে টিসিবি প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। অথচ বর্তমানে ডিলার কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়সহ প্রতি লিটার তেল কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। ব্যাংক ঋণের সুদ যোগ করলে এ খরচ প্রায় ২০০ টাকায় দাঁড়ায়।

ব্যাংক ঋণের সুদ কমাতে টিসিবি এখন ঋণপত্র (এলসি) ও ঋণপত্রের বিপরীতে ঋণ (এলটিআর) সুবিধার পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কিনছে। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক ঋণের সুদ বাবদ প্রায় ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনায় এলসি চার্জ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমেছে প্রায় ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাটির বার্ষিক ব্যাংক ঋণের সুদ ব্যয় বর্তমানে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। এ ব্যয় থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘আমরা ঋণপত্র (এলসি) এবং ব্যাংক ও সরকারের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা কমাচ্ছি। যেখানে সম্ভব, নগদ অর্থে পণ্য কেনা হচ্ছে।’

এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কম সুদে ঋণসুবিধা পাওয়ায় বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা ও এলটিআর সুবিধা নেওয়া শুরু করেছে টিসিবি।

বিক্রির অর্থ দ্রুত সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চালু করেছে টিসিবি। আগে অর্থ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হিসাবের মাধ্যমে আসত। নতুন ব্যবস্থায় ডিলারদের কাছ থেকে বিক্রির অর্থ দ্রুত টিসিবির হিসাবে জমা হবে। এতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নগদে পণ্য কেনা সহজ হবে।

ভর্তুকির বাইরেও আয় বাড়াতে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বাজারে এনেছে টিসিবি। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি।

আয়ের উৎস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ফয়সল আজাদ বলেন, ‘শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।’

পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানোসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমাতে বিতরণব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনেছে টিসিবি। আগে আঞ্চলিক গুদাম থেকে পণ্য জেলা প্রশাসনের গুদামে পাঠানো হতো। এখন আঞ্চলিক গুদাম থেকেই সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।

এ ছাড়া জরিপের কাজে পুনরাবৃত্তি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, জরিপ ও এ সংক্রান্ত কাজে বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। একই ধরনের জরিপের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা গেলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লে ভর্তুকির মোট পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন টিসিবির চেয়ারম্যান। বর্তমানে অতিরিক্ত পণ্যসহ টিসিবির কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পণ্য কিনছেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘চলতি বছর ৮০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে আগামী অর্থবছরে এক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর আশা করছি।’

বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই জানিয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এসব পণ্য আগের দামেই বিক্রি হবে। নতুন বাণিজ্যিক পণ্যও যুক্ত করা হচ্ছে, তবে সেগুলো কেনা উপকারভোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।’

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘উপকারভোগীরা চাইলে নতুন পণ্য কিনতে পারবেন। এসব পণ্য কেনা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কাউকে তা কিনতে বাধ্য করা হবে না।’

টিসিবি চেয়ারম্যানের আশা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধি, ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ধীরে ধীরে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

ইতিবাচক গঙ্গা চুক্তির আশা করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে চুক্তি করা হবে, নাকি বিদ্যমান চুক্তি নবায়ন করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আশা করছেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

চুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।’ শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘যে চুক্তিটি এ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে, সেটি আবার নবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি এবং আশা রাখি। আশা করছি, ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

চুক্তি নবায়ন নাকি নতুন কোনো কাঠামোয় আলোচনা হবে, এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি এবং দেশের মানুষের পানির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পানিসংকটের সমাধানে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও মানুষের পানির চাহিদা বিবেচনায় রেখেই ভারতের সঙ্গে আলোচনায় এগিয়ে যাবে সরকার।’


নির্বাচিত

যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের, সেটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের জন্য শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহামসড়ক অবরোধ করেনি। আমরা দেখেছি মুখোশধারী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা ওখানে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন গার্মেন্টস মালিক নেতারা। ওই বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রবিবার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সোমবার সেই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে অথবা সম্ভাব্য খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন।

এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যথা-শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে সেটি ঘোষণা হতে পারে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন— যেন শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয় এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। শ্রমিকদের বিষয়গুলো যেন অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়। সুতরাং, বাস্তবতার নিরিখে মজুরি নির্ধারিত হবে। এখানে অসন্তোষের কিছু নেই।

গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সেই সঙ্গে তারা বলেছেন— কিছু শিল্প মালিক আছে এবং শিল্প কারখানা আছে, যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ করেছে। তাদের তালিকা তারা আমাদের প্রদান করবেন। এ ছাড়াও কিছু কিছু শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে, সে সব সংগঠন এবং নামের তালিকাও আমরা তাদের সরবরাহ করতে বলেছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিক এবং কোনো শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারেন না।


নির্বাচিত

চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ ভবনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রম অধিকার এবং সংবিধান সংশোধন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

এসময় চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরে এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাইযোদ্ধা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বিরোধী দলকেও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখনও তাদের জন্য আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদে এসে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। গণতান্ত্রিক কার্যব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো জাতীয় সংসদ। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

আলোচনায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ-ইইউ সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সংসদীয় বাজেট ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। একই সঙ্গে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

এসময় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’

আজ বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি এসময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অসামান্য অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

এসময় তিনি ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন এবং জনগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দেওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও জড়িত।

পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সতর্কতা ও দূরদর্শিতার গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি যুদ্ধ ও নিরাপত্তার ধরন পরিবর্তন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

উদীয়মান এই বাস্তবতা মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তোলার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রপতি ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

কোর্সে অন্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁদের এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজে নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান।

পাশাপাশি সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: ফয়জুর রহমান।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ফ্যাকাল্টির সদস্য, এনডিসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, এএফডব্লিউসি কোর্স সম্পন্নকারী সেনাবাহিনীর অফিসার, এনডিসি কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিদেশি কোর্স সদস্য, আর্মি স্টাফ অফিসারবৃন্দ ও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও)গণ এবং বঙ্গভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস থেকে ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশ থেকে ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন সদস্য অংশ নেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের পথ উন্মুক্ত থাকলেও শিল্প খাতে কোনো ধরনের তাণ্ডব, ভাঙচুর কিংবা নাশকতার সুযোগ দেওয়া হবে না

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও মজুরির দাবিকে হাতিয়ার বানিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো চক্রান্তই সফল হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের পথ উন্মুক্ত থাকলেও শিল্প খাতে কোনো ধরনের তাণ্ডব, ভাঙচুর কিংবা নাশকতার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।

পোশাক খাতের পটভূমি তুলে ধরে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগেই বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ঐতিহাসিক সূচনা ঘটেছিল, যার মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও এ শিল্পের বিস্তার এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, সেই ধারা বজায় রেখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমবান্ধব প্রশাসন মেহনতি মানুষের ন্যায্য মজুরি, আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অতি দ্রুততার সঙ্গে বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের সমুদয় বেতন ও বোনাস যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করেছে।

পোশাক শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ও সামগ্রিক অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিতের পাশাপাশি কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয়, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার দিকগুলোকেও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। এ কারণেই মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পোশাক খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সবার ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মধ্যেও একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী পোশাক শিল্পকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মাহদী আমিন। তিনি লেখেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় আক্রমণ, আগুন দেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলা শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থি।’

শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে পড়লে খোদ শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে কর্মহীনতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ে পড়বে; তাই কোনো ধরনের সহিংসতা কিংবা শিল্প ধ্বংসের অপতৎপরতাকে বরদাশত করা হবে না।

সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি ও গুজবের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘সাধারণ শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের আহ্বান, কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে পা দেবেন না। যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমবান্ধব সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।’


নির্বাচিত

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন শনাক্ত, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

শ্রমিক বিক্ষোভে শিল্পমালিকদের জড়িত থাকার অডিও-ভিডিও প্রমাণ মিলেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    দেশের কোনো কারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয় এবং একজন শ্রমিকও যাতে চাকরি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে

সাধারণ ও নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজপথে নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে দেশে চরম অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে কিছু কারখানা মালিকের সরাসরি জড়িত থাকার অডিও ও ভিডিও প্রমাণ সরকারের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিরসনে গার্মেন্টস মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত কিছুদিন ধরে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তির মদদপুষ্ট কিছু পক্ষ শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে রাজপথ উত্তপ্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অথচ প্রকৃত উৎপাদনমুখী শ্রমিক কিংবা তাঁদের ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা কখনই নিজেদের রুটি-রুজির কর্মসংস্থান ধ্বংস অথবা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি প্রত্যাশা করেন না। অডিও ও ভিডিওর মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এ সংঘাতের পেছনে থাকা মূল ইন্ধনদাতা এবং চিহ্নিত কিছু শিল্পমালিককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

পোশাক খাতের সংকট নিরসনে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। এ ছাড়া বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ পুলিশ এবং বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

শিল্পের নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো কারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয় এবং একজন শ্রমিকও যাতে চাকরি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলেই সকল শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আরেকটি সমন্বিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পক্ষের বাস্তবসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    নতুন বিধানের আওতায় দ্বিচক্রযানের কাঠামোগত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের অংশে নিবন্ধন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)

মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের প্রচলিত নীতিমালায় সংশোধনী এনেছে সরকার। নতুন বিধানের আওতায় দ্বিচক্রযানের কাঠামোগত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের অংশে নিবন্ধন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাপের বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ারও দেওয়া হয়েছে সংস্থাটিকে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জারি করা এ-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি রবিবার বাংলাদেশ গেজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম। আদেশে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধিতে এই সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতির পাশাপাশি বিআরটিএর বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে সামনের নম্বরপ্লেটে এক সারিতেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানের শ্রেণি নির্দেশক অক্ষরের পর নির্দিষ্ট মাপের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সামনের নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নামের মাত্রা, যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশক হরফের অনুপাত, প্লেটের উপরিভাগের ফাঁকা অংশ এবং সংখ্যানুক্রমের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ধারণের প্রশাসনিক কর্তৃত্বও বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক পরিবহন বিধিমালার ৩৬ বিধির উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি প্রত্যাহার করে বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে।


নির্বাচিত

সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন অনেকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপতৎপরতা সরকার অত্যন্ত কঠোর হাতে প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে অনেকেই ভিন্ন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৈরি পোশাক কারখানার মালিক নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজপথে আন্দোলনের নামে আইনবহির্ভূত তৎপরতা ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা শ্রমিক আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে নাশকতায় জড়াবে কিংবা আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিল্পাঞ্চলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত সাধারণ পোশাকশ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না; বরং ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির দোসররাই ভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এসব সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে আলোচিত ‘ডিসেম্বর’ ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বর হলো জাতির মহান বিজয়ের মাস এবং এ মাসে রাষ্ট্রীয় নানাবিধ গৌরবময় কর্মসূচি থাকবে। কোনো পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যদি দেশে ফিরতে চায়, তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তাদের এখনই ফিরে আসা উচিত। দেশে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁদের প্রচলিত আইন অনুসারেই বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক নিয়মে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। মূলত নিজেদের হতাশ ও পলাতক নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতেই একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডিসেম্বরের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।


নির্বাচিত

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আলোকিত করবে সরকারের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

এটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বর্তমান সরকারের মাস্টার প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এতে একদিকে যেমন শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর হবে, আবার অন্যদিকে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও নদী ভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইভাবে পানি ও মাটি থেকে অতিরিক্ত লবণাক্ততা কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখবে।

তাই এটি বাংলাদেশের পানি, কৃষি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য অবশম্ভাবী একটি প্রকল্প।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

আর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দাবি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নে বছরে মাছের উৎপাদন প্রায় আড়াই লাখ টন বৃদ্ধিসহ সব মিলিয়ে বছরে ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

এক সময় প্রাণবন্ত ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরিয়ে নেয়ার কারণে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণ হয় শুষ্ক মৌসুমে। এখন মৃতপ্রায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী।

নদীগুলোতে পলি মাটির স্তর পড়েও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়। আবার বর্ষাকালে পানি বাড়লে সেই পানি ধারণের অবস্থাও থাকে না। তখন বন্যার কবলে পড়ে এসব অঞ্চলের জনপদ।

পরিবেশের এ বিরূপ আচরণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশ অর্থনীতি, সেচ, কৃষি, মাছ উৎপাদন ও নৌ চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো জীববৈচিত্র্য। এর প্রভাবে দেশের কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েন।

পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক এ সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের মানুষ খাওয়ার পানি পর্যন্ত পায় না শুষ্ক মৌসুমে। কৃষি জমিতে কৃষকরা সেচের পানি না পেয়ে মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে দেয়। এতে পানির স্তুর নিচে নেমে যাচ্ছে, বাড়ছে আর্সনিক।

এছাড়া মৃতপ্রায় নদীতে মাছের উৎপাদন কমছে শুষ্ক মৌসুমে। বেকার হয়ে পড়েছেন অনেক জেলে। পানি না থাকায় নদীভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যহত হচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্রের ওপরও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এরই মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার (পদ্মা) পানি বণ্টন চুক্তরে মেয়াদও আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে।

এ পরিস্থিতিতে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বাসসকে বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে। পানি ভবনে পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট একটি অফিস আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেছি আমরা। গত ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি। ব্যারাজের কাজের অগ্রগতি আরও গতিশীল হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের সুবিধার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, পানিতে লবণাক্ততার কারণে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর ওই অঞ্চলে মানুষ আর বসবাস করতে পারবে না। সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। মাছসহ অন্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ স্বর্ণযুগে প্রবেশ করবে। কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমটির সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

তবে দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় আরও বাড়বে। ব্যারাজটি চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে এ ব্যারাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। মূলত বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহের জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭৮টি পানিনিষ্কাশন কপাট (স্পিলওয়ে), ১৮টি তলদেশ নির্গমন পথ (আন্ডারস্লুইস), দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ।

ব্যারাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেইসঙ্গে থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ ও নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বাসসকে বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি লবণাক্ততার কারণে খাওয়ার পানির সংকট রয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ পানির সংকটের পাশাপাশি সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা আরও বাড়বে। এছাড়া বাড়বে পলি জমার কারণে জলাবদ্ধতা। এ জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে ওই অঞ্চলগুলোতে ফ্রেশ পানির সর্বচ্চ সরবরাহ ও প্রবাহ। এ ক্ষেত্রে পদ্মা ব্যারাজ বড় ভূমিকা রাখবে।

মাশফিকুস সালেহীন বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে, পানি ও মাটিতে থাকা লবণাক্ততা হ্রাস পাবে। নিঃসন্দেহে প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে, তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন, উজানে নদী ক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরকার নিশ্চয় সেগুলো বিবেচনা করেই এগোচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ্মা ব্যারেজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বাসসকে বলেন, পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের এক তৃতীয়াংশ ভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষি, অর্থনীতি ও প্রানীজ সম্পদসহ নানাভাবে মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথমে নেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের দিকে পুনরায় উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেটি তখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি আমরা সামনে এনেছি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নে আন্দোলন করেছি।

সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে পদ্মা ব্যারাজ দৃশ্যমান হবে। জাতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সার্বিকভাবে উপকৃত হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।

চলমান গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে।

খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় প্রকল্পটি প্রথমে বাস্তবায়িত হবে।

হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার এছাড়াও প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো।

এছাড়া সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূ-গর্ভস্থ জল পুনঃসঞ্চয়ন ও আর্সেনিক দূষণ কমানোও এই প্রকল্পের লক্ষ্য। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

রেমিট্যান্সে নতুন গতি, অক্টোবরে এলো ২৮৭ কোটি ডলার

# চার মাসে প্রবাসী আয় ১১৪৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি বাড়িয়ে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি (২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৬ কোটি (২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডলার। শতকরা হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ (১১ দশমিক ৪৬৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ১৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।

রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। এর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।

বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের বাজারে চাপ এবং আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। প্রবাসী আয় বাড়লে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহও বাড়ে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও রেমিট্যান্সের প্রভাব ব্যাপক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে লাখ লাখ পরিবার দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটায়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা সৃষ্টিতেও এ অর্থ ভূমিকা রাখে। তবে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করা প্রয়োজন। প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা, লেনদেনের খরচ কমানো এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, অক্টোবর মাসে ২৮৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এবং অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।


নির্বাচিত

banner close