রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


নির্বাচিত

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশ ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়। এ বিষয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

তিনি জানান, সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছেন, অনেক টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। এ বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’

সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা’আলা আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন তা আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।’

দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই যিনি যখন যে দায়িত্বে আছেন, তাকে সেই সুযোগ দেশ ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’

সভায় তিনি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি হচ্ছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারকে সামনে রেখে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না। বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অগ্রগতির সাথে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজন পূরণে সরকার এখন জাতীয় বন্দর কৌশল চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগে জাইকা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা জাপান সরকারের সহযোগী সংস্থা জাইকা এবার বন্দর কৌশল প্রণয়নেও পাশে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব কর্তৃত্ব, দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যেন সমন্বিত উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এর অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব বা কার্যক্রমের পরিধি উপেক্ষা করা নয়। বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সব পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের দায়িত্ব, প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের কাজ হবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যকর সুপারিশ তুলে ধরা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্দর কেন্দ্রিক পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, এটি কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য এ কৌশলের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক বা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি এ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাইকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। একইসাথে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্টদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এ কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, প্রযুক্তি ও সার খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ও বহুজাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। অতীতে পাটজাত পণ্যের বাণিজ্যে মারুবেনির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বিদ্যমান এই অংশীদারত্বকে সমকালীন প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় স্থানীয় তরুণ প্রকৌশলীদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় বৈশ্বিক মানে গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে একটি এআইভিত্তিক আধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং এতে মারুবেনির বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।

কৃষি উৎপাদনে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) মারুবেনির বর্তমান বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে দ্বিতীয় আরেকটি কাফকো কারখানা স্থাপনে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হলে জাপানি প্রতিনিধিরা এ খাতে পুঁজি বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সাথে বৈঠকে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় যে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর রূপ পেলে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান। মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের সিইও সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারা।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ সম্পর্কে আইপিইউর ভুল ধারণা দূর হয়েছে: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মঞ্চে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা ছিল তা সম্পূর্ণরূপে কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তানজানিয়ার আরুশায় আয়োজিত ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে রবিবার দেশে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের এই মূল্যায়নের কথা জানান।

এবারের আইপিইউ সম্মেলন আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে গত ৫ অক্টোবর ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যানের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই দিনে ১৫৩তম সাধারণ সভায় এই অঞ্চলের পক্ষ থেকে আইপিইউর নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি।

স্পিকারের নেতৃত্বে তানজানিয়া সফরকারী সংসদীয় প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু এবং সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন ও রোকেয়া বেগম। প্রতিনিধিদলটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুইয়াসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানান।

৩৭টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত প্রভাবশালী এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও স্বার্থ তুলে ধরার পথ আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাল ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের বর্বরোচিত হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রাণঘাতী হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় হতাহতের মধ্যে দুই বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরপরই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে হতাহতদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছে এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় জরুরি ও কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করা হয়, বেসামরিক নাগরিকের জীবন বিপন্ন করে অসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এ ধরনের সহিংস আক্রমণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া আবশ্যক। এই কঠিন সময়ে সৌদি সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।


নির্বাচিত

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জেরে বাংলাদেশ থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে পরিচালিত পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং রিয়াদ এয়ারের নিয়মিত ফ্লাইট। রিয়াদে অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন আরও ৩০৯ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলার পরপরই চরম ঝুঁকি এড়াতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান চলাচল ও পরিচালন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় হুথি গোষ্ঠী সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এবং রিয়াদ বিমানবন্দরকে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে এই প্রাণঘাতী আঘাত হানে।


নির্বাচিত

ধূলি জমে দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন কমছে ১৫ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বায়ুদূষণ এখন কেবল জনস্বাস্থ্য নয়, বরং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের বিকাশেও এক মারাত্মক বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সম্প্রতি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসে ভাসমান ভারী ধূলিকণা বা সয়েলিং ইফেক্টের কারণে সোলার প্যানেলের ওপর ধূলির আস্তরণ জমে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচা ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৬টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল পরিষ্কার রাখলে বিদ্যুতের উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। যেখানে নোংরা প্যানেল থেকে গড়ে ৩৮-৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেখানে তা পরিষ্কার করলে ৪৯-৫৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

গবেষণার তথ্যানুসারে, একটি মাঝারি প্যানেল ব্যবস্থার জন্য মাসে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে অতিরিক্ত ৬ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, যার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫৬ হাজার ২৪ টাকার আয় সম্ভব। খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে নিট ১৬ হাজার ২৪ টাকা এবং বছরে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার টাকা বাড়তি লাভ করা সম্ভব।

জরিপ অনুযায়ী, শতভাগ ব্যবহারকারীই মানেন যে ধুলোবালির কারণে প্যানেলের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। তবে প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ ব্যবহারকারীই কোনো আধুনিক ব্যবস্থার বদলে সনাতন ম্যানুয়াল উপায়ে প্যানেল পরিষ্কার করছেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, দেশে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৫২২ মেগাওয়াট হলেও তীব্র গ্যাসসংকট ও জ্বালানি আমদানির ঘাটতির কারণে দৈনিক উৎপাদন মাত্র ১৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। ফলে পিক-টাইমে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, যা বৈশ্বিক গড় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় অত্যন্ত কম। নবায়নযোগ্য এই ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদানই প্রায় ৭৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। কিন্তু কয়লা ও ফার্নেস ওয়েলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধোঁয়া বাতাসে বিপুল পরিমাণ সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সৌর প্যানেলে জমে বিদ্যুতের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছেন। এগুলো হলো— শিল্প খাতে ৩ হাজার মেগাওয়াটের জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সোলার যন্ত্রাংশের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, শিল্পকারখানায় ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে ডেটাভিত্তিক ও রোবোটিক বা স্বয়ংক্রিয় ক্লিনিং প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পাঞ্চল ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধূলিকণা নির্গমন কঠোরভাবে মনিটর করা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শরীফ নাফে এস-সাবের। আরও বক্তব্য রাখেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন, ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. মাহমুদা পারভীন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মো. জিয়াউল হক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।


নির্বাচিত

দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের: ড. তিতুমীর

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাক শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন। ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক সম্মেলনে এশিয়ায় বৈষম্য কমানো এবং সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে। ‘অর্থনৈতিক সমতা অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে ড. তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘করোনা মহামারি ও আগের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতায় মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বেড়েছিল। এ সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতার কারণে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অনেকে বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পান। এতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যাদের, তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।’

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, সামাজিক সুরক্ষাকে শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাক শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, ‘দেশের বিপুল শ্রমশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’

নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর্মসংস্থানের এ দুই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ও মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো দারিদ্র্য বিমোচনকে আরও টেকসই করতে পারে।

সম্মেলনে অক্সফামের বৈষম্যবিষয়ক একটি নীতিপত্রের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। এতে এশিয়ায় আয় ও সম্পদ বৈষম্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের অধ্যাপক কেট পিকেট।

‘সমতার অর্থায়ন ও সরকারি সেবার জন্য সম্পদ আহরণ’ বিষয়ক তৃতীয় অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ডেভিড ম্যাকয় ও ফিলিপাইনের প্রতিনিধি জুড অ্যাসিডরে। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক নোপফল উইটভোরাপং, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জন স্যামুয়েল এবং অক্সফাম এশিয়ার অ্যাডভোকেসি ও প্রচারাভিযান বিভাগের প্রধান মুস্তাফা তালপুর।


নির্বাচিত

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়নে উন্নীত: মীর শাহে আলম

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সাত মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৭ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে এবং মোট ঋণের চাপ ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ৩২ শতাংশে নেমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেছেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার পতনের সময় রিজার্ভ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দুই বছরে রিজার্ভ রেখেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলার। গত ৭ মাসে অর্থনৈতিক অনেক সংকটের মধ্যেও রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার। এখন রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন বিরোধী দলীয় নেতা রেমিট্যান্স শাট ডাউনের ডাক দিয়েছে কিন্তু দেশে রেমিট্যান্স বন্ধের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি ঘটেনি যে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন। বিরোধী দলের শাটডাউনের আহ্বানের পরও গত পাঁচ দিনে ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীরা দেশের পরিস্থিতি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বোঝেন।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়, ৯০-এ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের সময় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স বন্ধ রেখেছিল।’

জাতীয় সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল নেই।’ সংসদে বিরোধী দলের নেতারা বলেন, ‘বিএনপি উত্তরাধিকার হিসেবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট পেয়েছে। আর রাজপথে এসে বলেন, বিদ্যুৎ দে, গ্যাস দে। এই আচরণ দ্বিচারিতা।’

জাতিসংঘের অধিবেশনে সরকারের সফলতা ঢেকে দিতে কৌশলে একটি গোষ্ঠী রাড্ডা ও নিউগিনি প্রজেক্টে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাঙচুর চালিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সৌরশক্তি থেকে মাত্র ১ হাজার ৮৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মতো দেশ ৩২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। বাসাবাড়িতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে জানিয়ে তিনি সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমবায় ভবনের এই আলোচনা সভায় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ভারতে সিজেপির আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সংহতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা প্রদান, যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখাকে মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব বলপ্রয়োগ বা সেন্সরশিপ দিয়ে নয়, বরং খোলামেলা জবাবদিহির মাধ্যমেই দেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের তরুণদের মুক্তির লড়াই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সংঘটিত অভ্যুত্থানে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সেই ক্রান্তিকালে ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন মতপ্রকাশকারীরাও সংহতি জানিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক শাহিনবাগের আন্দোলন এবং জেএনইউ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি রাজপথে ভারতীয় তরুণীদের সাহসী ভূমিকা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের আত্মত্যাগের সমান্তরাল গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা কোনো ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রচিত হতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশেই কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রতিহত করে ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আতঙ্কের মধ্যে থাকলে এবং ভিন্নমত প্রকাশকে অপরাধ বিবেচনা করে পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার নির্ধারণ করা হলে কোনো সমাজকেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক বলা চলে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতীয় প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের সরঞ্জাম জব্দ ও ভয়ভীতি বন্ধ করা এবং আটকদের আইনি ভিত্তি প্রকাশ করে অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিচার ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী থাকা মানবাধিকারকর্মী শরজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁদের সহযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এসব বিবেকের বন্দীদের সাহস দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মকে নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।

বিবৃতির শেষাংশে সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন সংকট, পরিবেশ সুরক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে দুই দেশের জনসাধারণের মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন নাহিদ ইসলাম। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিভাজন ও ফ্যাসিবাদের হাতে ছেড়ে না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঐক্যবদ্ধভাবে তরুণ প্রজন্মকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে তিনি তাঁর বিবৃতি শেষ করেন।


নির্বাচিত

ভাষাদক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়েই এগোবে দেশের অর্থনীতি: ববি হাজ্জাজ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ লিগ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভাষাদক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি দক্ষতা অর্জন, জ্ঞান বিনিময় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ লিগ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভাষা আপনাকে শুধু নিজের ভাব প্রকাশের দক্ষতাই দেয় না, সমাজে আপনার অবস্থান ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রও প্রসারিত করে। আপনি কতটা স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারেন, নিজের চিন্তা অন্যের কাছে কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারেন, তা শিক্ষা, কর্মজীবন ও পেশাগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভাষাশিক্ষাকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বাস্তব জীবনে যোগাযোগ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

চীনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিজস্ব ভাষায় বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক পরিভাষা সমৃদ্ধ করা এবং সেই ভাষায় জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করা একটি দেশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশেরও মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে জ্ঞান বিনিময়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে উন্নীত করার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ জন্য কারিগরি জ্ঞান, যোগাযোগদক্ষতা এবং ইংরেজি ও চীনা ভাষাসহ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে।’ তরুণদের ভাষাশিক্ষার সাফল্যকে বৃহত্তর দক্ষতা উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অর্জিত গণতন্ত্রকে কার্যকর সংসদে রূপ দিতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন

জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্জিত গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও টেকসই করতে সকল গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে একটি কার্যকরী সংসদের মাধ্যমেই পূর্ণতা দিতে হবে।’

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও শিরীন সুলতানা এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব ও খন্দকার লুৎফর রহমান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন সভার সঞ্চালনা করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক কর্মীদের মূল পেশা আন্দোলন বা সংগ্রাম নয়, বরং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করা।

শহীদ জেহাদ, আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশকে ত্বরান্বিত করতে হবে। শুধু আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাসচর্চায় বন্দি না থেকে শহীদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে একটি কার্যকরী সংসদ গঠন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এখন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা ইশতেহারেই ফ্যাসিবাদের বিলোপ ঘটিয়ে আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা অর্জিত গণতন্ত্রকে টেকসই রূপ দেবে।


নির্বাচিত

২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারি জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারি : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারিকে প্রাধান্য দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারি চায়।

জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েকটি মেগা প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিসংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবেলায় জাপানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাপানি সরকারের আস্থা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

তিনি জানান, আসন্ন সফরে খাতভিত্তিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সে দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে।

পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান ও মসজিদ রক্ষার যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী সেমিনারে বক্তব্য দেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close