শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


নির্বাচিত

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশেষ করে দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে করা সম্ভব। আমাদের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।’

তাই তাদের কাছে আমার আহ্বান, ‘আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারবো না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারবো।’

আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলমান থাকবে। ঢাকা কেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে এ সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের স্কাউটস’র সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসি’র সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। এছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়াও সারাদেশে হাই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, এছাড়া আজ অনলাইনে প্রায় সবগুলো জেলা এখানে কানেক্টেড আছে। গার্লস গাইড, বিএনসিসি স্কাউটস, ভলেন্টিয়ারসহ আপনাদের সবার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। সেটি হলো, এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই আজকে এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছি। সেটি হলো দেশ গড়ার লক্ষ্য।

তারেক রহমান বলেন, আমরা জানি কিভাবে ডেঙ্গু হয়। ভাঙ্গারি, কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পরি পানি জমে এই ডেঙ্গু বহনকারী এসিড মসার তৈরি হয়। কাজেই আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারব।

তিনি বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দেই এখনে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলা আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জন হবে। সেখান থেকে রোগ জীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।

‘তাই আসুন আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না।’

তারেক রহমান বলেন, আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হবো।

তিনি বলেন, আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলছে। তাদের সচেতন করতে হবে। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, আমাদের তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি'র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ অনলাইনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রমে সামঞ্জস্য আনা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমের পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য বিধান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের প্রাথমিক জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ও জাতীয় ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।

শিক্ষা খাতের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু বিশ্বের সেরা চর্চাগুলো অনুসরণ করতে চাই না, একদিন বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্য দেশগুলো শিক্ষা ব্যবস্থার সেরা চর্চা অনুসরণ করে, এটাই আমাদের স্বপ্ন।’ এই দূরদর্শী রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, সময় এবং শ্রম দিতে সরকার প্রস্তুত বলে তিনি জানান। প্রতিষ্ঠানভেদে অবকাঠামোগত কিছু পার্থক্য থাকলেও কারিকুলাম ও শিক্ষার গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের বৈষম্য রাখা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক কাঠামোতে দ্রুত সংস্কার আনার ওপর জোর দিয়ে ববি হাজ্জাজ জানান, শ্রেণিকক্ষের আয়তন অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ, উপযুক্ত অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়ের কার্যকর পাঠদানের সময় এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব না দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির প্রসারে ভবিষ্যৎ পাঠ্যক্রমে বাস্তবমুখী কার্যক্রম ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এলএমএস) অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষাক্রম সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের সময় আমরা চাই না কেউ বলুক, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই আমরা সামনে এগোতে চাই।’

শিক্ষাক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পেশাগত শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ ও সমমানের পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং রাজধানীর বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের অধ্যক্ষবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশপ্রেমিক নাগরিক, ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষকসহ সমাজের সর্বস্তরের জনসাধারণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে এরকম একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করি, যাতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হই।’

অনুষ্ঠানে বক্তাদের দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, ‘পূর্ববর্তী বক্তাগণ এবং বিশেষ করে ডক্টর আনিসুজ্জামান ইনোভেশন নিয়ে তার উপস্থাপন ও বক্তব্যে যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলোর মধ্য দিয়েই আমাদের আগামী দিনের কর্মপন্থা মোটামুটিভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে। আমরা যদি এসব কর্মপন্থা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব।’

দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সরকারের বর্তমান প্রয়োজনে উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার উদ্যোক্তা ও গবেষকদের সর্বাত্মক সহায়তায় সব সময় পাশে থাকবে।’

পরে, প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি উদ্ভাবক ও বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের একটি টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বহু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তা বাস্তবে রূপ পায় না। প্রশাসনিক ও আর্থিক এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করাই এ প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য।

আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

এই মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার’ এ যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নভোথিয়েটারে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উদ্ভাবনী প্রদর্শনী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে শুরু হওয়া এ আয়োজনে উপস্থিত হয়ে তিনি দেশের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত হন।

মূলত দেশীয় উদ্ভাবনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতি সহায়তা, আধুনিক শিল্পখাত, নতুন বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক বাজারের কার্যকর সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনের এই মেলায় দেশের শতাধিক প্রতিভাবান উদ্ভাবক ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা তাঁদের এক সহস্রাধিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত ধারণা প্রদর্শন করছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসব্যাপী অভিযান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলমান থাকবে। ঢাকা কেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতামূলক এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন 'দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি'র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

এছাড়া আরো বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ অনলাইনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে।

চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি দেশের সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। গত ৯ সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এ সময়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন।

শুধু মজুত নয়, আগে দেশে খাদ্য মজুতের ধারণ ক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) ছিল প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। তবে বিএনপির বিশেষ উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ধারণ ক্ষমতা ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

শুধু খাদ্য মজুত বা ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোই নয়, বিএনপি সরকার গঠনের পর নিরাপদ খাদ্য মজুত সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আগে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলেই তা নিরাপদ সীমা বলে গণ্য করা হত। কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার তা বাড়িয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টনকে নিরাপদ সীমা বলে স্থির করেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বলছেন, সরকারের খাদ্য বান্ধব নীতির কারণে দেশে বর্তমানে খাদ্য নিয়ে কোনোরকম দুশ্চিন্তা নেই।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। মোট মজুতের মধ্যে চাল ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন ও ধান ৩৪ হাজার ৭০ মেট্রিক টন।

ফ্লোটিং মজুতসহ সরকারি খাদ্যশস্যের মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ফ্লোটিং মজুত হিসেবে গম রয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তির সময়, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেশে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। সে সময় সরকারি মজুতের মধ্যে চাল ছিল ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টন ও গম ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার টন। সেই তুলনায় বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুদ বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন।

খাদ্যশস্যের মজুতের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একই সময়ের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন।

অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমান সরকারি মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে চলতি বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন।
এছাড়া গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৫২৩ মেট্রিক টন।

খাদ্যশস্যের ঘাটতি মোকাবিলা ও মজুত পরিস্থিতি শক্তিশালী রাখতে আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন ও বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার উৎপাদন, সংগ্রহ, আমদানি ও মজুত— সব ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে নিয়মিতভাবে মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্তমান মজুতের পরিমাণ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ড ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য গ্রহণের পরিমাণকে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ খাদ্য মজুত ১৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সরকারি গুদামগুলোর সামগ্রিক খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু করেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, দেশের বাজারে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত, মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে (বাসস) বলেন, চলতি মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান সফল ও সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুত রয়েছে। এ মজুত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে (বাসস) বলেন, জাতীয় চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে সরকার আশাবাদী। ফলে, বোরো মৌসুমের মত আমন সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি অর্জিত হবে বলে সরকার আশা করছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের মূল্য পর্যায়ক্রমিকভাবে বাড়ছে, ফলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তবে গমের বিপরীতে বিকল্প হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সরকার চাল দেওয়ার মত বিকল্প পরিকল্পনা ভেবে রেখেছে। ফলে সরকারের এখন যে অবস্থা, তাতে কোনোভাবেই সংকট বা সমস্যার সম্ভাবনা নেই।

খাদ্য নিয়ে সরকারের কোনও দুশ্চিন্তা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে (বাসস) বলেন, দেশের বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক।

তিনি বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ সারাদেশে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ও চালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

জামাল হোসেন বলেন, ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

তিনি বলেন, আগে আমাদের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে সরকারি খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ড ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন হিসেবে বিবেচিত হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার নিরাপদ খাদ্য মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমগ্র দেশবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন মাসব্যাপী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যেকোনো ইতিবাচক জাতীয় পরিবর্তনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই এবং সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে দেশ গড়ার পথে কোনো বাধাই স্থায়ী হতে পারবে না। আগামী তিন মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, রাতারাতি শতভাগ নির্মূল সম্ভব না হলেও সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তনের নজির তৈরি হয়েছিল, সেই চেতনাকে ধারণ করে সামগ্রিক রাষ্ট্র ও সমাজকে সুন্দরভাবে রূপান্তরের তাগিদ দেন তিনি।

ব্যক্তি ও সমাজের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নাগরিককে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় নিজ নিজ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত করার অনুরোধ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ব্যক্তিপর্যায়ের এই ছোট অভ্যাস সামগ্রিক পরিবেশে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সেখানে স্থাপিত বিভিন্ন তথ্য ও সচেতনতামূলক স্টল ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সমস্যা বৈশ্বিক, সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজ নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৭ এর বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরেও এই অনুদান দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা বৈশ্বিক, যার প্রভাব বাংলাদেশেও চলছে। সরকার চেষ্টা করছে এই সমস্যা সমাধানের। দেশের ১৩০টি গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে সরকার বলেও জানান তিনি।
দেশবাসীর প্রতি ঐক্যের ডাক দিয়ে তারেক রহমান বলেন, তেল-বিদ্যুতের মতো গ্যাস নিয়ে কিছু অসাধু লোক অবৈধ কাজ করছে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যারা অবৈধ কাজ করবে, অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবৈধভাবে কাউকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিগত সময়ে রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার।
এদিন ঢাকা-১৭ আসন এলাকার ২৮টি মসজিদে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০টি মন্দিরকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।


নির্বাচিত

শাহজালালে সোয়া কোটি টাকার স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৮৬২ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে এপিবিএন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. নাসির মোল্লা (৪০), সোহাগ শেখ (২৪) ও মো. হাছান মিয়া (২৩)।

এপিবিএন জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দরের গোলচত্বরের উত্তর পাশের ফুটপাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন ওই তিনজন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের আটক করেন।

পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে ৮৬১ দশমিক ৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ে যাত্রীদের মাধ্যমে চোরাচালানের উদ্দেশে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি (১)(বি)/২৫-ডি ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএন সক্রিয় রয়েছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানসহ বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


নির্বাচিত

ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

রিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমরা যে স্বপ্নের কথাই বলি না কেন, তা টেকসই হবে না।’

আজ সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা এমন একটা জায়গায় চলে আসছি, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট যদি আনতে হয়, তাহলে ভালো মানুষদের নেতৃত্বে আসতে হবে।’

আন্দালিভ রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে চায় না।

তিনি বলেন, রাজনীতি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপাদান থাকলেও ভালো বাবুর্চি না থাকলে যেমন ভালো খাবার পাওয়া যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বরিশালের ঐতিহ্য অতুলনীয়। ফুটবল থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল এবং বরিশালের মানুষ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, বরিশালের আশপাশের সব নির্বাচনী এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী ও ভালো ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য রাজনীতিতে আসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারি, তাহলে কোনো ধরনের উন্নয়নই টেকসই হবে না। এটা শুধু বরিশালের সমস্যা নয়, সারা বাংলাদেশেই এই সংকট রয়েছে।’

আন্দালিভ রহমান বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন এক ধরনের উন্নয়ন। কিন্তু এখন দেশের প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর সে জন্য ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আসতে হবে।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্ম থেকে যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য রাজনীতির পরিবেশ সহজ করতে হবে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে রাজনীতিতে আসতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই এ বিষয়গুলোতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’

বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণরা ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া কিংবা বিদেশে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ যদি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে, সেটিই হবে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দুর্ঘটনায় আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং মহড়া চলাকালে ট্যাংক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দুপুরে তিনি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন ওই কর্মকর্তার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর নেন।

সিএমএইচে পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহত কর্মকর্তার উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি আহত কর্মকর্তার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতালে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সান্ত্বনা ও সহমর্মিতা জানান।

এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিয়মিত সামরিক ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের অংশ হিসেবে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হন এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হলে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।


নির্বাচিত

ভারতের সঙ্গে করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত শতাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ সংক্রান্ত পর্যালোচনার চূড়ান্ত ফলাফল খুব দ্রুতই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তি-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপ উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগসংক্রান্ত চুক্তি এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নৌযান চলাচলবিষয়ক চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা চুক্তিগুলো, মানে সব—১০১টা এমওইউ নিয়ে আলোচনা করছি এবং সেটার ফল অনতিবিলম্বে আপনারা পাবেন।’ এ ছাড়া ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা অন্তর্ভুক্তির পর তা বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, দেশের আর্থিক কাঠামো মজবুত করার লক্ষ্যেই প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ না থাকায় পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে বিলটি পাস করা হয়।

নয় কার্যদিবসের এই অধিবেশনে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হওয়া ছাড়াও সংসদীয় বিধিতে ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি জানান, সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২৪টিতেই বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের আনুপাতিক হারের চেয়েও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২টি কমিটিতে তিনজন করে এবং বাকিগুলোতে দুজন করে সদস্য রাখা হয়েছে।

অধিবেশনে পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে অত্যন্ত মানবিক ও কার্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন চিফ হুইপ। এই আইনের ফলে বৃদ্ধ পিতা-মাতারা সন্তানদের সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করার পরও আজীবন তা ভোগদখল করার আইনি অধিকার পাবেন, যা প্রবীণদের আশ্রয়হীন হওয়া রোধ করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন অংশীজন, বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং ১৬ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের পরামর্শের ভিত্তিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণ, কোনো ব্যক্তিগত নিমন্ত্রণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সমমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা করবে।

সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক দায়ের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে জনগণের করের ২০৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বিগত আমলের বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনহীন ক্যাপাসিটি চার্জের তীব্র সমালোচনা করেন। সবশেষে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবিচল অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সনদের মৌলিক সংস্কারগুলো কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধনকে একমাত্র আইনি পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে অতীতে যেভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে।


নির্বাচিত

banner close