বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
২৫ চৈত্র ১৪৩২

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


বরিশাল-ভোলা সড়কে হচ্ছে দীর্ঘতম সেতু, দক্ষিণাঞ্চলে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

* দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার * সম্ভাব্য ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টরা বরছেন, এই সেতু বাস্তবায়ন হলে শুধু যোগাযোগই নয়, খুলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। নির্মাণের পর এটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সেতু। বুধবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে এই কমিটির সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালসহ ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১০.৮৬৭ কি.মি. দীর্ঘ সেতু (৪-লেন) এবং ১৮.০৭৫ কি.মি. দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে।

সম্ভাব্য সমীক্ষায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩৩ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪,৯৯৬টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬২ সালে ৪১ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন চলাচল করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটিজ স্থানান্তর বাবদ সকল ব্যয় সরকারের খাত হতে নির্বাহ করা হবে।

ভোলা বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা যা সম্পূর্ণভাবে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে এর যোগাযোগ নির্ভর করে নৌপথের ওপর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের মূল নগরী হলেও ভোলা থেকে সরাসরি কোনো সড়ক বা রেল সংযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে ভোলা-বরিশাল সেতু একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে ভোলা থেকে বরিশাল যেতে নৌপথে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয়। ভোলা থেকে বরিশাল যেতে বর্তমানে ফেরি বা লঞ্চ ব্যবহার করতে হয়, যেখানে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। সেতু নির্মাণ হলে এই সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ১০-২০ মিনিটে। ফলে সহজতর হবে রোগী পরিবহন, জরুরি সেবা ও পণ্য পরিবহন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বরিশাল বা ঢাকায় পৌঁছাতে পারবে, উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহী হবে।

তারা আরো বলেন, সেতু হলে এসব এলাকাতে সহজে ও স্বল্প খরচে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যেখানে পর্যটক, সেখানে অর্থনীতি। সেতু হলে স্থানীয় পর্যায়ে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, গাইড সার্ভিস, নৌভ্রমণ, লোকাল হ্যান্ডিক্র্যাফট বিক্রি—এইসব খাতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। স্থানীয় মানুষের জীবিকা উৎস ও আয় বাড়বে। বিশেষ করে নারীদের জন্য হস্তশিল্প বা হোম-কিচেন ভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়বে। নতুন ব্যবসা, দোকানপাট, পরিবহন সার্ভিস তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সেতু সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠতে পারে নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক জোন। এতে ভোলা-বরিশালকে ঘিরে একটি নতুন আর্থিক অঞ্চল তৈরি হবে।


ভূ-রাজনীতি ও পরিবেশ সংকটের যোগসূত্র তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পরিবেশের সমস্যা কেবল একটি অর্থবছরের বা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিষয় নয়, এটি মানব সভ্যতার অস্তিত্বের সংকট। তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিছক একাডেমিক জ্ঞানার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি, জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশের মধ্যকার গভীর যোগসূত্র অনুধাবন করার আহ্বান জানান।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) আয়োজিত ‘সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না বলে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আগে এর ভয়াবহতা বুঝতে পারে না। এমনকি বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়কও বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে জলবায়ু পরিবর্তনের সত্যকে অস্বীকার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা এবং সেই সচেতনতাকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে বিশ্ব আজ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছে। আমাদের আমদানি-নির্ভর জ্বালানি নীতি ও বাণিজ্যিক ঘাটতি অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারক হিসেবে আজকের তরুণদের বুঝতে হবে যে, জ্বালানি উৎপাদনের উৎসের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার রক্তাক্ত চেহারা আসলে কেমন।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শিল্প’ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ কীভাবে বিশ্ব রাজনীতিকে প্রভাবিত করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে, তা তরুণদের জানতে হবে। পরিবেশ বিজ্ঞানের জ্ঞানকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তা প্রয়োগযোগ্য জ্ঞানে রূপান্তরিত হবে।

অনুষ্ঠানে সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াডের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশ রক্ষা নিয়ে তরুণদের এই আগ্রহ একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় শক্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, দুদিনের এই অলিম্পিয়াডে লিখিত পরীক্ষা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং উপস্থিত বক্তৃতার মাধ্যমে সেরা বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে।


আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন 

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক  

আট মাসে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুর্নীত দমন কমিশনে (দুদক) এ আবেদন করা হয়। বিষয়টি ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রারদের পছন্দের কর্মস্থলে বদলি দিতে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়, যার মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির নজির নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, বদলির নীতিমালা অনুযায়ী এ, বি ও সি গ্রেডের অফিসে একই গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে সি ও বি গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের এ গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। এমনকি যোগদানের আগের দিনও বদলির আদেশ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় নিজেই একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি-পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। তবে আবেদনকারীর দাবি, ওই বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই শত শত বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়ে যায়।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আসিফ নজরুল একাধিক জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ১৭ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়। সেই আদেশেই নীতিমালা ভঙ্গ করে কয়েকজনকে গ্রেডের বাইরে পদায়ন করা হয় বলে অভিযোগ।

আবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নীলফামারীর জলঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার মনীষাকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বদলি করা হয়। পরে চার মাসের মধ্যে তাকে আবার দিনাজপুরের হাকিমপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু যোগদানের আগের দিনই আবার তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ধরনের অনেক উদাহরণ রয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন তার আবেদনে অভিযোগ করেন, আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমে এসব ঘুষ লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বদলি-বাণিজ্যের বাইরে ‘অনুরোধ’ ও ‘নির্দেশ’-বাণিজ্যের মাধ্যমেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে যদি ইতোমধ্যে দুদক কোনো অনুসন্ধান শুরু করে থাকে, তাহলে সে তথ্য আবেদনকারীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।


অতীত সরকার যা করে গেছে, আইন অনুযায়ীই তার ফয়সালা হবে: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস ও ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছেন, আইন অনুযায়ী দেশের সব মানুষের বিচার হবে। যিনি দোষ করেছেন তার বিচার হবে, নির্দোষ হলে হবে না। আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। অতীত সরকার যা করে গেছে, আইন অনুযায়ীই তার ফয়সালা হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতি পরিহারের দর্শন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন- ‘আমরা ভালোবেসে মানুষের হৃদয় জয় করব’। তারেক রহমান মনে করেন- তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের প্রধানমন্ত্রী। যারা তাকে ভোট দিয়েছে এবং ভোট দেয় নাই, উনি সবারই প্রধানমন্ত্রী। আইনের শাসনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচার হবে, দল বিবেচনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

সংসদে বিল পাসের গতি নিয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাসের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ৪৪টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করেছি।

জনগণের দেওয়া আমানতের মর্যাদা রক্ষায় সংসদ সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ বর্তমানে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাশ করার চাপে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৪টি অধ্যাদেশ পাশ করা হয়েছে। দ্রুত অগ্রগতির জন্য একাধিক অধ্যাদেশকে একীভূত করে বিল আকারে উত্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার ভিতর অধ্যাদেশগুলো পাশ করার জন্য সংসদে বসবে অতিরিক্ত অধিবেশন; প্রয়োজনে শুক্রবারও দুই বেলা অধিবেশন বসতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদীয় দলের বৈঠকের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় দলের বৈঠক নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া। সেখানে সংসদে সদস্যদের করণীয় এবং আগামী দিনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ত্যাগী নেত্রীরাই অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, যারা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবেন, এমন নেত্রীদেরই সংসদ নেতা খুঁজে বের করবেন।

চিফ হুইপ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, নারীরা সংসদে আসুক। যত দ্রুত আসে ততই লাভ। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্যই আমরা ফ্যামিলি কার্ড করেছি।

রাজনীতিতে যারা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন, তাদেরই আমরা অগ্রাধিকার দেব। আমি মনে করি সংসদ নেতার সিদ্ধান্ত নির্ভুল হবে এবং তিনি সব সেকশনের রিপ্রেজেন্টেশন নিশ্চিত করবেন।


হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত দেবে ভারত, হাসিনা-কামালকে হস্তান্তরের অনুরোধ  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান শরিফ হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ আসামিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে ভারত। একই সঙ্গে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ কথা জানান।

এ বিষয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দিতে পেরে আনন্দিত। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।

এদিকে, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী গ্রেপ্তার দুজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে উভয়পক্ষ সম্মত হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দিল্লি সফরে গেছেন।

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর সম্পর্কের সেই বরফ গলার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে গেলেন খলিলুর রহমান। এই ‘শুভেচ্ছা’ সফরে গত মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছান তিনি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে হায়দরাবাদ হাউসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন নিজেদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে। তার আগে সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠক হয়।

পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে খলিলুর রহমানও বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ড. খলিলুর রহমানের সফরে জ্বালানি সহায়তা, ভারতের পর্যটন ভিসা চালু, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জয়শঙ্কর এবং খলিলুর রহমান সকালে মরিশাসের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বেন। ১১ ও ১২ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে এই সম্মেলন হবে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও এসব বৈঠকে যোগ দেবেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কনফারেন্সে যোগ দিতে একই ফ্লাইটে রওনা হবেন জয়শঙ্কর এবং খলিলুর রহমান। প্রায় ১০ ঘন্টার ফ্লাইটে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন।


রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন পরীক্ষামূলক ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, যানজট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ প্রকাশ করছে। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনায় এ আগ্রহের কথা জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও চাপ তৈরি হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে এ কথা বলেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অনলাইন ক্লা চালু করা হলে- তা নগর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে যানবাহনের চাপ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। তবে তারা একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সব শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

অভিভাবকরা বলছেন, পুরোপুরি অনলাইন না হলেও হাইব্রিড পদ্ধতি—অর্থাৎ কিছু ক্লা অনলাইনে ও কিছু সরাসরি—চালু করা গেলে তা কার্যকর সমাধান হতে পারে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাশের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব স্কুলে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যাতে জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকটই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষাব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতে বিশ্বযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা সামাজিক রূপান্তরের মতো ঘটনাগুলো নতুন নতুন শিল্প ও সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকট, যানজট ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ-সব জায়গায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীদেরও সেই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন-এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহণের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো পৃথিবী এসটি সংকেটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন মানুষ। তিনি শিক্ষার জন্য বহুদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করছি। আমরা আপনাদের সরকার, আপনারা যা বলবেন আমরা তা শুনব। সেই জন্য আজকের এই আয়োজন। আমরা যেন সবার সহযোগিতায় বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি সেই উদ্দেশে কাজ করছি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।


হরমুজ প্রণালি পার হতে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ ২৮ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় জাহাজটি তার গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে রওনা করেছে। সেখান থেকে হরমুজ প্রণালির মুখে আসতেই ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের নির্দেশনা, এটি হরমুজ প্রণালির পার হওয়ার আগে নিরাপদে অবস্থান করবে। ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ থেকে নির্দেশনা দিলে হরমুজ প্রণালি পার হবে।’

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টার দিকে জাহাজটি ৯ দশমিক ৫০ নটিক্যাল মাইল গতিতে পারস্য উপসাগর দিয়ে এগোচ্ছিল।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় সংঘাত।

গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকি এড়াতে বিএসসি সিদ্ধান্ত নেয় জাহাজটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার। তবে নিরাপত্তার অভাবে সে সময় জাহাজটি মাঝপথ থেকেই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ ২৮ দিনের উৎকণ্ঠা শেষে আজ আবার নিজ গন্তব্যের পথে রওনা হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

ছাড়পত্রের অপেক্ষায় নর্ডিক পলক্স

এদিকে গত ৩ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাস তানুয়ারা বন্দরে আটকে আছে ‘নর্ডিক পলক্স’ নামক একটি তেলের ট্যাঙ্কার। জাহাজটি বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) বহন করছে। তবে এখন পর্যন্ত জাহাজটি ছেড়ে আসার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, ‘আমরা এখনো কোনো জাহাজ পার হওয়ার ক্লিয়ারেন্স পাইনি। তবে হরমুজ প্রণালির মুখে যেতে ৩৮-৪০ ঘণ্টা সময় লাগবে। এই জন্য ‘বাংলার জয়যাত্রা’ যাত্রা শুরু করেছে। এ সময়ের মধ্যেই ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নর্ডিক পলক্স-এর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা ইউএসএ-র কোম্পানির জাহাজ। ক্লিয়ারেন্স পেলেই এটি যাত্রা শুরু করবে। হরমুজ প্রণালির মুখে যেতে এই জাহাজেরও ৪০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।’

দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল আটকে থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইতোমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছে, তবে ‘নর্ডিক পলক্স’-এর ক্ষেত্রে মার্কিন মালিকানা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দ্রুত জাহাজটি দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।


পয়লা বৈশাখে এবার বেশি হবে জনসমাগম, বাড়ছে নিরাপত্তা

ডিএমপি সদর দপ্তরে সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার সরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার সরওয়ার বলেছেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা সংগঠনের উদ্যোগে বৈশাখী অনুষ্ঠান হবে। এ বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাড়তি জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

‎আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ ও পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে এ সংক্রান্ত সমন্বয় সভা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে একটি সুপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন চলাচল বজায় রাখাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।

‎‎সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা, অগ্নিনির্বাপণ ও নগর সেবাসংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে মতামত দেন।

এ ছাড়া সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী যুক্তরাজ্য

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন  মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত বারোনেস রোসি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত বারোনেস রোসির সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি ওঠে আসে।

সাক্ষাতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে, সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আলোচনা হয়।

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ‘ভবিষ্যতেও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।’


বিজিবি’র অভিযানে মার্চ মাসে ১৬৫ কোটি ৭৬ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান জব্দ

আপডেটেড ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত মার্চ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ১৬৫ কোটি ৭৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৪৬৫ গ্রাম স্বর্ণ, ১৬,৬৭৮টি শাড়ী, ৬,০৫৬টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৬,৯৯৪টি তৈরী পোশাক, ৭৭২ মিটার থান কাপড়, ৪,৬৯,৮৬৪টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৯,২৩৯ পিস ইমিটেশন গহনা, ৬৫,০২,৪৫৭টি আতশবাজি, ৩,৮২৯ ঘনফুট কাঠ, ৬,২৫৯ কেজি চা পাতা, ২,৯৮২ কেজি সুপারি, ৮,৫৯০ কেজি কয়লা, ৭,০৯০ ঘনফুট পাথর, ২৩০ ঘনফুট বালু, ৩৮২টি মোবাইল, ১১,৯০০পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৭০,০৮১টি চশমা, ৫৩,৯৮৮ কেজি জিরা, ২০,৭২৩ কেজি চিনি, ৯,৯৬১ প্যাকেট বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্রী, ২,৩০৯ কেজি পিয়াজ, ১,৮৭৯ কেজি রসুন, ১,৯৪০ কেজি সার, ১,৬১৪ প্যাকেট কীটনাশক, ২,০৯,০২১ পিস চকোলেট, ১১টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ১টি বেলে পাথরের মূর্তি, ৮টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৪২টি ট্রাক্টর/চাঁদের গাড়ি, ১৭টি পিকআপ, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ২টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ২০টি সিএনজি/ইজিবাইক, ৪১টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ০১টি এসএমজি, ০১টি বিদেশি/দেশিয় পিস্তল, ১৩টি ম্যাগাজিন, ৩৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ০২টি মাইন এবং ০৩টি অন্যান্য অস্ত্র।

এছাড়াও গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ১১,২৫,৯৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮৪৫ গ্রাম হেরোইন, ১২ বোতল এলএসডি, ২,০৪৫ বোতল ফেনসিডিল, ১ কেজি ৭৯০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৮,১২৯ বোতল বিদেশি মদ, ১৭০.৫ লিটার বাংলা মদ, ২,৩৬৮ বোতল ক্যান বিয়ার, ১,১৩৩ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা, ১,২৪,৮৪০ প্যাকেট বিড়িও সিগারেট, ১,৮৩,৬৬১টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ৪,৬৬৫ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ২,৯৬৮টি এ্যানেগ্রা/সেনেগ্রা ট্যাবলেট এবং ৩৬,৮৬০ পিস মদ তৈরীর বড়ি ও ২১,৪৪,১৫২ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ/ট্যাবলেট

সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১২ জন চোরাচালানী এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৮২ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ০৯ জন ভারতীয় নাগরিক ও ৩১৭ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’ নিয়ে উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

* ভেতরে থাকে ছোট আকারের ফায়ারিং মেকানিজম * স্বল্প দূরত্বে গুলি ছুড়তে ব্যবহার করা হয় * গ্রেপ্তার দুজন, উৎসের খোঁজে ডিবি   
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম দেখায় যে কারওরই মনে হতে পারে এটি একটি কলম। কিন্তু না, হাতে নিয়ে দেখলে জানা যাবে সাধারণ এই কলমটি কাগজে লেখা জন্য নয়, বরং এটি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র। কলমের ইংরেজি প্রতিশব্দের সঙ্গে মিলিয়ে হয়েছে এর নামকরণ— ‘পেনগান’। সম্প্রতি পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এই নতুন ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে জানা গেছে, দেখতে সাধারণ কলমের মতো হলেও ‘পেনগান’ আসলে একটি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, যা সহজে বহন ও গোপন রাখা যায়। এর ভেতরে গুলি করার মতো ইস্প্রিন্টার রয়েছে। এমনকি ব্যবহারের পর অস্ত্রটি একটি সিগারেটের প্যাকেটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- সায়মন এবং সোহেল ওরফে কাল্লু। তাদের কাছ থেকেই কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৮০ হাজার টাকায় এই অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ত্রটির কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম বা চিহ্ন না থাকায় এর সঠিক উৎস নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে দেশে এসেছে। অতীতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থিদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের তথ্যও রয়েছে। এমন কি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক সংসদ সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির কাছেও এমন অস্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে পাওয়া যায়। যদিও সেই সময়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয় নি।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, ৩ এপ্রিল বিকেলে মোবাইল ফোনে ডেকে রাসেলকে সায়মনের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে গুলির পর মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় গুলির ঘটনায় জড়িত সায়মন ও রিপন দাস তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরার আশঙ্কায় রোগী নিয়ে সটকে পড়েন তারা৷ পরে সায়েন্সল্যাব এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেও আসামিরা রাসেলে পাশে হাসপাতালে উপস্থিত ছিল। পরে স্বজনরা আসায় তারা সটকে পড়েন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অস্ত্র অতীতে রাজধানীতে ব্যবহারের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। পেনগানটি কীভাবে দেশে এলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অস্ত্র সরবরাহকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি এ ধরনের অস্ত্র দেশের অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আহত রাসেল কোতয়ালী থানা যুবদলের সদস্য। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের বিরোধ ও উদ্দেশ্য উদঘাটনেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে।

‎ডিবির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নূরে আলম বলেন, অস্ত্রটি কীভাবে দেশে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে। অস্ত্র সরবরাহকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানও চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, ‘পেনগান’ মূলত একটি ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্র। অস্ত্রটির ভেতরে থাকে ছোট আকারের ফায়ারিং মেকানিজম। স্বল্প দূরত্বে গুলি ছুড়তে ব্যবহৃত হয় ‘পেনগান’।


দেশব্যাপী হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৪ দিন এগিয়ে এনে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে হামের টিকার মজুত স্থিতিশীল আছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সেই সংকট কাটিয়ে উঠছে সরকার। হামের টিকা নিয়ে কোনো সংকট নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা গত ৯ মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না, তাদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা শুরু হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলোও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানান, ‘২ কোটি ১৯ লাখ হামের টিকা পাওয়া গেছে। মজুতও আরও রয়েছে। দুর্নীতি ও বিলম্ব এড়াতে এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৪ লাখ ৮৩ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। এক ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা দেওয়া যায়। হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য সরকার সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকা আমাদের আছে এবং কোল্ড চেন রক্ষা করা হচ্ছে।

হাম নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।’


অন্তর্বর্তী সরকারের ৫টি অধ্যাদেশের বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচটি অদ্যাদেশের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিন বুধবার (৮ এপ্রিল) কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়। বিলগুলোর বিশেষ কমিটির কোনও প্রস্তাব না থাকায় সরাসরি পাস হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন।

পাস হওয়া বিলগুলো হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল সংসদে পাস করা হয়। বিলটিতে শেখ হাসিনার নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়।

পাস হওয়া অপর বিলগুলো হচ্ছে— ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপনের বিলটি পরে পাসের প্রক্রিয়ায় গেলে বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান সংসদের দাঁড়িয়ে বিলটি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। শফিকুর রহমান বলেন, বিলটি দুই তিন মিনিট আগে পেলাম। বিলটি দেখতে পারিনি। বিলটি দেখার জন্য সময় পেলে আলোচনা করা যেতো।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে বলেন, বিলের এই স্টেজে আপত্তি করার সুযোগ নেই। আপত্তি করার নিয়ম আছে আপনি সেই সময় করেননি। আপনি যদি আগে প্রস্তাব দিতেন তাহলে আলোচনার সুযোগ পেতেন।

এরপর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করার কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সময় বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার অবশ্যই স্মরণে থাকার কথা, তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে আন্দোলন করেছিলেন। ওই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোটামোটি বাংলাদেশে একটি জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং অ্যাকর্ডিংলি নির্বাচন কমিশন তাদের (আওয়ামী লীগের) রেজিস্ট্রশনটাও সাসপেন্ডেড হয়ে আছে এই আইনের বলে। সংগঠনের বিচারের জন্য আইসিটি অ্যক্টাও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন যদি আপনারা এর ওপর আলোচনা করতে চান, আমার মনে হয়, সংশোধনের সেকেন্ড লিডিংয়ের স্টেজে যদি সংশোধনী দিতেন তাহলে আলোচনা থাকতো অথবা ফার্স্ট লিডিয়ের পর যদি সংশোধনী দিনে তাহলে আলোচনা থাকতো।

এ সময় স্পিকার বলেন, আমি রুলিং দিয়েছি, আপনি পাস করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হলে কণ্ঠভোটে পাস হয়।


banner close