কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের সেবক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দেশের মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটরিয়ামে অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহি নিশ্চিত করে কাজ করার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। সরকার গঠনমূলক সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত। সরকারি কাজে কোনো ভুল হলে তা তুলে ধরলে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে মিথ্যা তথ্য বা প্রচারণার মাধ্যমে সমালোচনা না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত ও সম্মানজনক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। সীমিত সম্পদের মধ্যেও কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুধু উন্নয়ন প্রকল্পনির্ভর না করে মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।
বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার, বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক তহবিল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা দরকার। একই সঙ্গে বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ছোট পৌরসভা ও উপজেলায় কম খরচে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর (৫৯) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর শোকবার্তায় বলেন, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল এবং সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জানান যে, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মাহত করার মতো একটি ঘটনা।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর, টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফসল। এই অর্জন কোনো একক দলের নয়, বরং সরকার, বিরোধী দল ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন করার অধিকার থাকলেও এমন কর্মসূচি এড়িয়ে চলা উচিত যা জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সরকারের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। তবে সরকারের অতিরিক্ত দমনমূলক আচরণও নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কোনো পক্ষই যেন মুখোমুখি অবস্থানে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য নিয়ে হুইপ নিজান বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। তবে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ও জুলাই চার্টার নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী প্রসঙ্গে হুইপ নিজান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনীতিতে সততা, ত্যাগ এবং পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি।
একইসঙ্গে ক্ষমতা বা প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া থেকে রাজনৈতিক কর্মীদের দূরে থাকতে হবে। সংসদকে কার্যকর ও ভালোবাসার মাধ্যমেই দেশে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটায়। সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে মোহাম্মদপুর তায়কোয়ানডো ক্লাব ও বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন আয়োজিত ‘ক্লাব কাপ ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা খেলাধুলায় অত্যন্ত প্রতিভাবান। ক্রীড়াক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে তরুণদের আরও উৎসাহিত ও সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসার জরুরি। এ ধরনের আয়োজন তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চীফ হুইপ অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সাফল্য কামনা করেন এবং এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
শায়রুল কবির খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আনিসুর রহমান এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিক নির্যাতন ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এজাহারে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রীদের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় হঠাৎ ট্রলি সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা দীর্ঘ সময় লাগেজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে যাত্রীদের আশ্বস্ত করতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নির্বাহী পরিচালকের দিকে এগিয়ে যান, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাঁকে মারধর করাসহ ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেন; একই সময়ে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের অতিসংবেদনশীল সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সে সময় দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালিগালাজের একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য আনা পবিত্র জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, একটি আন্তর্জাতিক সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপর এমন আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারি শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত আলামত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে।
বড় ধরনের ভূমিকম্পে কোনো ফায়ার স্টেশন কিংবা হেডকোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে উদ্ধার তৎপরতা থেমে না যায়, সে লক্ষ্যে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
এর আওতায় ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া, পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম মোতায়েন, বিভাগীয় শহরগুলোতে পৃথক রেসকিউ টিম গঠন এবং ঢাকার আশপাশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে একটি জায়গায় নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর পরপর একটি বড় ভূমিকম্প হয়, যাকে মেজর ভূমিকম্প বা মেগা ডিজাস্টার বলা হয়। দেশে বড় স্কেলের একটি ভূমিকম্প হওয়ার শতবছর পার হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ভূমিকম্প হতে পারে—এমন একটি ভীতি রয়েছে। তবে ঝড়ের ক্ষেত্রে যেমন দুই-তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এখনো সেভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি।
ফলে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। ভূমিকম্প হলে কী করণীয়, তা আগে থেকেই শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিকেন্দ্রীকরণে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে উদ্ধার ও অন্যান্য কার্যক্রম কমান্ডের ওপর নির্ভর করে।
ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার পুরোনো সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখা যায়, সে লক্ষ্যে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর ভবন
পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন নিয়ে ঝুঁকি থাকায় ঢাকার মিরপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল বিশিষ্ট সদর দপ্তর ভবন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি-জাইকার সহযোগিতায় মিরপুর ১০-এ নির্মাণাধীন এই ভবনে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ভেঙে পড়বে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২৮ সালে এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা। তখন ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম বিকেন্দ্রীকরণ
ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য স্টেশনে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও সরঞ্জাম থাকলেও হেডকোয়ার্টারে বেশির ভাগ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা হতো। ভূমিকম্পে হেডকোয়ার্টার ভবন ধসে এসব সরঞ্জাম আটকে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঢাকা ও এর আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে এসব সরঞ্জাম বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো ফায়ার স্টেশন ভূমিকম্পে আটকে গেলে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বিশেষ রেসকিউ টিম গঠন
ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ফায়ার স্টেশনের জনবল পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। এ কারণে এসআরটি বা স্পেশাল রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম রাখা হয়েছে, যা দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন স্টেশন থেকে জনবল এনে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ২০ সদস্যের একটি করে এসআরটি টিম রাখা হয়েছে। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ ধরনের দুর্যোগে কলাপসড স্ট্রাকচার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে।
ঢাকার সহায়তায় ১০০ ফায়ার স্টেশন প্রস্তুত
ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে, যাতে মহানগরীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হলে এসব স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তা করা যায়। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ চেষ্টা চলছে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ
ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ অধিদপ্তরের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্প-সম্পর্কিত দুর্যোগ ও মেগা ডিজাস্টারে কাজ করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে ইকুইপমেন্ট ও সরঞ্জাম সরবরাহ করার কথা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ
বড় অগ্নিকাণ্ড বা মেগা ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস কভারেজ ও মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করা হয়েছে। এতে বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ড টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মহড়া দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছোট-বড় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সেগুলোর মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলা উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন। বাংলাদেশেও এ ধরনের দুর্যোগে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিদ্যমান সক্ষমতা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলা করা। বিশেষ করে ভবনধস, মানুষের আটকে পড়া, গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকাজে প্রবেশ করাও উদ্ধারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রাধিকার হবে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়া মানুষকে শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মোমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশের সামগ্রিক আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদ-নদীর অবস্থা পর্যালোচনা করে এক মাসের এই আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে বিদায় নিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা। চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতার কারণে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন থেকে চার দিন বজ্রঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে।
তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে দিন ও রাতের সার্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে অক্টোবর মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে শুরু করবে এবং এ সময়ে দিন ও রাত উভয়ের তাপমাত্রাই ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে, যা মূলত শীতের আগাম বার্তা দেবে।
নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিরাজমান থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে কোনো কারণে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত সংঘটিত হলে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু নদীর পানি সাময়িকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট কিছু নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবন বা পানি জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত বিদেশি মদ মজুত রাখার অভিযোগে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে অবস্থিত ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ তদন্তকারী দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির দুটি গুদামের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকলেও অভিযানে আরও দুটি অননুমোদিত গুদামে পণ্য মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে পাচার রোধ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ‘টস বন্ড’ মূলত বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের নামে নিবন্ধিত না হলেও কার্যত তাঁরই ছত্রচ্ছায়ায় এটি পরিচালিত হতো। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় শুল্ক গোয়েন্দারা কয়েক মাস ধরেই অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান জানিয়েছেন, অনুমোদনের বাইরে দুটি অবৈধ গুদামে পণ্য রাখার প্রমাণ পাওয়ায় সেগুলো সিলগালা করা হয়েছে এবং বন্ড কমিশনারেট থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের পাশাপাশি শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে গোপন সম্পদ ও অর্থপাচারের তথ্য পেয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট। কানাডা থেকে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলাম সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের পাশাপাশি অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন। ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এক বছরেই প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে আনার তথ্য মিলেছে, যার কোনোটিই দেশীয় কর নথিতে উল্লেখ ছিল না। সংশ্লিষ্ট কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকির এই অভিযোগগুলো নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে আসছিল।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো স্পষ্ট করেছে যে, এই অভিযান সম্পূর্ণ নিয়মিত রাজস্ব ও শুল্ক নজরদারির অংশ এবং এর সঙ্গে সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে রাজনৈতিক চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে পরে তা প্রত্যাহার করেন তিনি। ওই ঘটনায় আবাসন কোম্পানির পরিচালকের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মুক্তাদিরের সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
এ সময় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিবাদন জানান এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।
তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।
এ ছাড়া বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির জন্য কর্মোপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও চলাচল বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।
এ সময় হাইকমিশনার অস্ট্রেলীয় ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।
চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, এই বন্ধুত্ব দুই দেশ ও তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থে কাজ করে। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বন্ধুত্ব দুই দেশ ও তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থে কাজ করে। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বেইজিং বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে, বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আরও বড় ভূমিকা পালনে সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের অভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চীন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতেই এ সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে।
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, এ বছর বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১তম এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার ১০ম বার্ষিকী।
এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। এ সময় দুই দেশের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করেন। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শক্তিশালী গতি এনেছে।
বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের সময়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধ দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। গত তিন বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই জাতির নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংস্কার ও উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জনগণের অসাধারণ দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নানা সময়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশের অংশীদারীত্ব তার প্রাণবন্ততা ধরে রেখেছে এবং সম্পর্ক অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে।
কয়লা সংকটের কারণে ভারতের আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে প্রায় ৫০০–৬০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এর মধ্যে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-১ ট্রিপ করায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউনিটটি আবার চালু করতে চার দিন সময় লাগবে বলে বিপিডিবিকে জানিয়েছে আদানি।
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়লা সংকটের কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। এর মধ্যে ইউনিট-১ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে। বন্ধ হওয়া ইউনিট-১ আবার চালু করতে চার দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে ৫০৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এরপর থেকে সরবরাহ ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৬টায় কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে ৫০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিবি) ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পিক আওয়ারে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৮৩৪ দশমিক ১৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ কমার কারণ হিসেবে কয়লা সংকটের কথা উল্লেখ করেছে পিজিবি।
এর আগের দিন, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৮২২ দশমিক ৫৮ মেগাওয়াট, যদিও ওই দিন কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট।
কয়লা সংকট দেখা দেওয়ার আগে কেন্দ্রটি থেকে পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। রোববার সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৩২৩ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৩০৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট।
এদিকে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। কারণ, একই সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে।
আদানি ও আরও কয়েকটি বড় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় মঙ্গল ও বুধবার—দুই দিনই দেশে লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট অ্যাভেইলেবিলিটি ফ্যাক্টর অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা রয়েছে।
গত কয়েক মাসে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্ন ঘটেছে। কয়লার প্রাপ্যতা ও পরিবহন সমস্যার কারণে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
এর আগেও কয়লা পরিবহনে সমস্যার কারণে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছিল আদানি। কোম্পানিটি বাংলাদেশকে জানিয়েছিল, রেলপথে যানজট এবং কয়লা লোডিংয়ে বিধিনিষেধের কারণে গোড্ডা কেন্দ্রে কয়লাবাহী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অফ-পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত রাখতে হচ্ছে।
সর্বশেষ সংকটের মধ্যে ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট-১ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এই ইউনিটটির সামনের চার দিন বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। ফলে কয়লার সরবরাহ না বাড়লে এবং নির্ধারিত সময়ে ইউনিটটি চালু না হলে ওই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকতে পারে।
এদিকে, গ্রীষ্মের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকলেও আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্নের কারণ হিসেবে আবহাওয়া, রেলপথে যানজট ও কয়লার প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছে ভারতীয় কোম্পানিটি।
কতিপয় রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে এবং দলটি তার সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে—আইন সবার জন্য সমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর খেয়াঘাট তীরে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি উপস্থিত থেকে বাঁধ নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কিছু কিছু দুষ্ট মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিএনপিকে যখন এ দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে, বিএনপি তার সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে, আইন সকলের জন্য সমান। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা দেখছি কিছু রাজনৈতিক দল কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এখানে বহু মুরুব্বি উপস্থিত আছেন, যারা এখন অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। ১৯৭১ সালে তাদের কী ভূমিকা ছিল, আমরা দেখেছি। সেই সময় তারা যেভাবে অন্যায় করেছিলেন, মা-বোনদের হয়রানি-নির্যাতন করেছিলেন, আমরা দেখেছি। ১২ তারিখের নির্বাচনে কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করে তারা কিছু আসনে নির্বাচিত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে ৭১ সালে মা-বোনদের ওপর তারা নির্যাতন করেছিলেন, ঠিক একইভাবে আবারও তাদের নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। এই গুপ্ত বাহিনীর সদস্যরা কীভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করছেন, আমরা তা দেখছি। শুধু নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হননি। তদন্তাধীন বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সময় এসেছে আমাদের সতর্ক হওয়ার। সময় এসেছে ভাববার—কাদের কথা বিশ্বাস করব আর কাদের কথা বিশ্বাস করব না।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতন করছে, কীভাবে কী করছে, সেটি আগে সামাল দেন। তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।’
বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প: পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীকেন্দ্রিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
একনেকে অনুমোদিত এ মেগা প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, সাড়ে ৮৩ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন, সাড়ে ১১ কিলোমিটারের বেশি নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ এবং একটি হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো, কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীতীরবর্তী এলাকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
২০২৪ সালে মুহুরী ও কহুয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলে পুরো ফেনী জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়। এ ছাড়া প্রতিবছর অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের বন্যা থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের দাবি ছিল—সীমান্ত জনপদের নদীগুলোতে রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
মুহুরী-কহুয়া নদী খননের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই-আড়াই বছর আগে বিশাল একটি বন্যা হয়েছিল। এখানকার মানুষসহ নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের লাখ লাখ মানুষের বাড়িঘর ভেসে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, নদী-খাল খনন করব—নির্বাচনের আগে এ কথাটি আমরা বলেছিলাম। কারণ বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের জন্য। খাল খনন করা যে কতটা প্রয়োজন, তা বন্যা হোক বা কৃষিজমিতে পানি দেওয়া কিংবা মানুষের পানি ব্যবহারের সুবিধার জন্য হোক—বিভিন্ন কারণে বোঝা যায়।
স্থানীয় সূত্রমতে, ঐতিহাসিকভাবে ফেনীর ১২২ কিলোমিটার বাঁধের সূচনা হয়েছিল খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে তার হাত ধরে। এবার সেই প্রকল্পের আধুনিকায়ন ও টেকসই বিস্তৃত রূপ নিয়ে নতুন বাঁধের সূচনা হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে।
নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ: নিজের নানাবাড়িতে আসার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর নানাবাড়িতে আসলাম। প্রথম আমি এখানে এসেছিলাম ১৯৮৪ সালে সম্ভবত। তারপর ১৯৯১ সালে আপনাদের মেয়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে যখন নির্বাচিত করেছিলেন, তখন নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন এ রাস্তা ছিল না।
তারেক রহমান বলেন, কাজ করতে হবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। কাজ করতে হবে নানাবাড়ির মানুষের জন্য। সেই কাজের অংশ হিসেবে আজ মুহুরী-কহুয়া নদীর পুনঃখনন কাজ শুরু করেছি।
উপজেলা হাসপাতাল ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা: ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্যের দাবির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৩০ বেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে আপনাদের সন্তান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসেন, তখন ২০ বেড বাড়িয়ে সমগ্র বাংলাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ বেডের করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের রেখে যাওয়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলা হাসপাতালকে দেড়শ শয্যায় উন্নীত করবে। উপজেলার মানুষকে যেন কষ্ট করে বাইরে যেতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। এখানে বসে সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচার গত ১৭ বছর ধরে মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মানুষকে তারা কথা বলতে দেয়নি। মানুষের কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা তারা দূর করেনি।
তিনি আরও বলেন, ২৪-এর ৫ আগস্ট এই দেশের মানুষ সেই স্বৈরাচারকে এ দেশ থেকে বিদায় করেছে। এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দায়িত্ব দিয়েছে।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন (ভিপি), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেপ্টেম্বরে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে এ খাতের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইপিবির হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।
তবে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি আয় বাড়লেও আগের মাসের তুলনায় কমেছে। আগস্টে রপ্তানি আয় বেশি থাকায় মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ পতন হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে পুনরুদ্ধারের ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।