কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাসের স্বল্পতাকে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। মঙ্গলবার সরকারের উন্নয়ন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে লোডশেডিংয়ের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে কম ছিল। তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুনে দৈনিক গড় লোডশেডিং ৯৬৯ মেগাওয়াট থাকলেও চলতি বছরের জুনে তা কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমেছিল। একইভাবে জুলাই মাসেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। তবে আগস্ট মাসে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে গড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। আগস্টের এই অস্বাভাবিক সংকটের কারণ সবারই জানা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকার লোডশেডিং নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে ঢাকার মানুষকে লোডশেডিংয়ের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল কারণ এখানকার মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বেশি ছিল। ফলে ঢাকার মানুষ দীর্ঘদিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় বর্তমানের সামান্য সংকটকেও বড় করে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, “ঢাকার মানুষ লোডশেডিং না দেখায় তাদের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে।” তবে তিনি মনে করেন, বৃহত্তর জাতীয় সংকটে রাজধানীর বাসিন্দাদেরও কিছুটা ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন।
পরিশেষে উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ উন্নত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের অভাব দূর হলে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে এবং লোডশেডিংয়ের বর্তমান অসহনীয় পরিস্থিতি দ্রুতই লাঘব হবে। রাজধানীর গুরুত্ব বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বন্টনে ঢাকাকে কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের সংকট মেকাতেই সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
২০৩১ সালের মধ্যে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে জীবনমুখী ও কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল অর্জন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিশ্চিতকরণ এবং ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এ উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। সাধারণ অক্ষরজ্ঞানের সীমা অতিক্রম করে অবশিষ্ট নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার ছায়াতলে আনাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘শিক্ষাকে কর্মসংস্থান ও বাস্তব জীবনদক্ষতার সাথে সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে আমরা কেবল বর্ণমালা শেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক বা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই। এটি নিশ্চিত করা গেলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।’
‘আলফা’ কর্মসূচির অধীনে রূপরেখা
বিএনএফই জানিয়েছে, দেশের বয়স্ক ও কর্মক্ষম মানুষকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনতে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ শীর্ষক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ (প্রত্যেকে একজনকে শিক্ষা দান) মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচির কনসেপ্ট নোট ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কর্মপরিকল্পনা অনুসারে, প্রথম ধাপে ৪০টি জেলার নির্বাচিত ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর মানুষকে নিয়ে এক বছরের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে। পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে মূল প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সরাসরি দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম হবে। অর্থাৎ তখন সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বাসস’কে বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখানো নয়; শিক্ষার সুযোগবঞ্চিতদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝে আমরা কারিগরি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাদের দক্ষ করে তুলতে চাই। যেন তারা প্রশিক্ষণ শেষেই জীবিকায়নে যুক্ত হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্তিসহ অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্প ও রূপরেখা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’
‘আলো’ প্রকল্পে বিকল্প শিক্ষার সুযোগ পাবে শিশু-কিশোররা
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতাই নয়, বরং বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে ‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপারচুনিটি ফর আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আলো)’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মোট ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্তকরণ এবং শিক্ষার্থী-জরিপ কার্যক্রম শুরু প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ জন বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুকে মানসম্মত উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ জন কিশোর-কিশোরীকে (যারা অষ্টম শ্রেণি পাস করার পূর্বে ঝরে পড়েছে) প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি ৫৮টি জেলায় ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ১১টি ট্রেডে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বিএনএফই আরও জানায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত মূল্যায়নে ৪ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর সরাসরি চাকরি, শিক্ষানবিশি বা স্বকর্মসংস্থানের ‘ফিউচার লিংকেজ’ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই সফলতার মডেল অনুসরণ করেই প্রস্তাবিত ৪৫ লাখ মানুষের জন্য প্রস্তুত করা আলফা কর্মসূচিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দক্ষতাভিত্তিক মডেল ‘স্কিলফো’
বিএনএফই জানায়, ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন, ২০১৪’-এর আওতায় বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু ও নিরক্ষরদের জন্য বয়স ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। কক্সবাজারে সফল ‘স্কিলফো’ পাইলট প্রকল্পে ৬ হাজার ৮২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের মডেল তৈরি করা হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের আরও ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় ১ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে স্কিলফো প্রকল্পের ২য় পর্যায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রকল্প দলিল পুনর্বিন্যাস চলমান।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উপপরিচালক (বাস্তবায়ন) হিরামন কুমার বিশ্বাস বাসসকে বলেন, ‘আলো, স্কিলফো এবং আলফার মতো সমন্বিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এগুলো মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।’
আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পলিত হচ্ছে এ দিবস। সাক্ষরতা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’-কে ভিত্তি ধরে সরকারের নেওয়া এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তাঁরা আসন্ন অধিবেশনের কর্মপরিকল্পনা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। ড. খলিলুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বের ১৯৩টি দেশের এই সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর এই অভিষেককে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই উচ্চতর নেতৃত্বকে দেশের জন্য এক অনন্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কোনো বাংলাদেশি এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য নির্বাচিত হলেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ড. খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেবেন।
দীর্ঘ বিরতির পর আগামী অক্টোবরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার জোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল করাই বর্তমান সভার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই তিনটি ট্রেনের চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্মকর্তারা যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নতুন রুট নিয়েও আলোচনা করবেন। এই প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার বলেন, “আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমি আবারও একই কথা বলছি—মানুষে মানুষে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির এই ধারা অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
ভারতীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি নতুন আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর প্রস্তাব পেশ করবে। এছাড়া মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। ইতিপূর্বে ট্রেনটি যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করলেও, এখন থেকে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ঢাকা-কলকাতা রুটে ট্রেনটি পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এতে যাত্রীদের সময় ও খরচ দুই-ই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে পদ্মা সেতু চালু হলেও যান্ত্রিক বা কৌশলগত কারণে ট্রেনটি সেই রুট ব্যবহার করেনি।
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় জুলাই মাসে ১১ শতাংশের মতো কমেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
এদিকে, রপ্তানি আয় আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এটাকে উদ্বেগজনক বলছেন তারা।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাংলাদেশ সেখানকার বাজারে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ৪৯৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা) সাত মাসের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে জুলাইয়ের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।
এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩ কোটি দুই লাখ ডলারের, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। শতকরা হিসাবে কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ।
একই মাসে ভারতের কমেছে ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ; চীনের কমেছে ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের কমেছে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন কার্যালয়— অটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের; ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ভারতের কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। পাকিস্তান, মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের কমেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬০, ১০ দশমিক ৫০ ও ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
রপ্তানি বেড়েছে কম্বোয়িার ও ইন্দোনেশিয়ার। কম্বোয়িার বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা গত জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম সাত মাসে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।
২০২২ সালে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি তার আগের বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে উঠেছিল। কিন্তু পরের বছর তা ২৫ শতাংশ কমে যায়। ওই বছরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৭২৯ কোটি ডলার।
২০২৪ সালে অবশ্য সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলার হয়; শতকরা হিসাবে বেড়েছিল দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে বেড়েছিল ১২ শতাংশের মতো; রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮২০ কোটি ডলার।
নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন— বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান গণমাধ্যমকে জানান, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা তো ছিলই। গ্যাসের তীব্র সংকট শুরু হয়েছে ২১ জুলাই থেকে। গ্যাস সমস্যার কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বন্ধই ছিল বলা যায়। এ সময়ে আমরা মিলগুলো থেকে কোনো কাপড় পাইনি। পোশাক তৈরি করতে পারিনি; রপ্তানিও হয়নি। তার প্রভাব আমাদের প্রধান বাজার আমেরিকাতেও পড়েছে।
দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এসব যানবাহনের বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম কমেছে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাচল করছে। এসব যানবাহনের নাম্বার প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে।
এসব ক্যামেরা যানবাহনের নাম্বার প্লেট শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় এবং পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নাম্বার প্লেটবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না।
নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, অটোরিকশা তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে। ফলে একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব যানবাহনের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা প্রয়োজন, অন্যদিকে প্রধান সড়কে বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
তিনি অটোরিকশায় নাম্বার প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে এ খাত এখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। অনুমোদিত বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফর্মার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। তবে কক্সবাজারের মগনামায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে ৪৯.১৫ একর জায়গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনসেশন চুক্তি হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বে-টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল ও একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পিপিপি মডেলে নির্মাণ ও পরিচালনার পরিকল্পনা করা এই টার্মিনাল চালু হলে প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ এবং ৫-৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে। প্রকল্পের ২ডি সিমুলেশন শেষ হয়েছে এবং ৩ডি সিমুলেশন আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারের মগনামায় কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নেই সরকারের। তবে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জাইকার সহযোগিতায় গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।’
মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে ১৬ মিটার ড্রাফটের এবং ৮২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে দেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ টিইইউ বাড়বে। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১৫শতাংশ।
কর্ণফুলীতে সারা বছর ড্রেজিং: চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে কর্ণফুলী নেভিগেশন চ্যানেলে সারা বছর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হয় বলে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাপিটাল ড্রেজিংও করা হয়।
২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত এলাকায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় গড়ে চার মিটার গভীরতা তৈরি হয়েছে এবং বাণিজ্যিক ও লাইটারেজ জাহাজের চলাচল সহজ হয়েছে।
নৌদুর্ঘটনা ঠেকাতে নজরদারি: নৌদুর্ঘটনা কমাতে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, লঞ্চ টার্মিনালে নজরদারি এবং নৌযানের মাস্টার-ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমে উপকূলীয় যাত্রীদের নিরাপত্তায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বে-ক্রসিং সনদ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নৌযান ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে দেশে প্রথমবারের মতো শুমারি করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২,৫২,৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমাতে দেশের আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষার সুবিধা থাকবে। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে হাসপাতালগুলো নির্মাণের কাজ বর্তমানে এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত এই হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসার সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, ডে-কেয়ার বেড এবং আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী বলেন, এসব হাসপাতাল চালু হলে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।
সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সরকারি ক্যান্সার হাসপাতাল। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের পাশাপাশি দেশের প্রায় সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে অনকোলজি বা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য পৃথক ইউনিট রয়েছে।
বেসরকারি খাতের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ২৪টি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতাল ও আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি স্কয়ার, এভারকেয়ার, ল্যাবএইড ও ইউনাইটেডসহ বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার পৃথক ইউনিট রয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মানসম্মত, আধুনিক ও সুলভ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ক্যান্সার চিকিৎসাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন হাসপাতালগুলো নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য।
সময় ও প্রজন্ম বদলালেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি সব সময় আপসহীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার দুপুরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনকে ধারণ করে মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।
ছাত্রদলের মতো এমন দেশপ্রেমিক ছাত্র সংগঠন সাথে থাকলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কোনো অপশক্তি রুখতে পারবে না বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপিই একমাত্র দল, যা দেশের প্রতিটি জাতীয় সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যতবারই বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবার বিএনপিই তা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন বাকশাল-পরবর্তী বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন, তেমনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন। আর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর সবার প্রাণপ্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও আজ আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে সুসংহত করছি।
বাকস্বাধীনতার ইতিহাস এবং আধুনিক রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ভূমিকা অনন্য ও ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাত্র চারটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রের জায়গায় বন্ধ থাকা সব গণমাধ্যম উন্মুক্ত করে দিয়ে এ দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। এরপর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে উন্মুক্ত মিডিয়া ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পেতে শুরু করে দেশ। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে, যেখানে মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে।
বাকস্বাধীনতার আড়ালে অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, একদল কুচক্রী মহল বাকস্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে নানা অপপ্রচার ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে। বাকস্বাধীনতার নামে যারা চরম অশালীনতা ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কিছুটা কমেছে। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। পরিসংখ্যানের হিসাবে এটি স্বস্তির খবর হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে সেই স্বস্তির প্রতিফলন কতটা পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো আগের বছরের তুলনায় পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে যে পণ্যটি এক বছর আগে ১০০ টাকা ছিল, সেটি ১০৮ বা ১১০ টাকা হওয়ার বদলে হয়তো কিছুটা কম হারে বেড়েছে; কিন্তু আগের বাড়তি দামটি বাজারে থেকেই গেছে। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচক ও মূল্যস্ফীতির হিসাব থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বিবিএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে তা সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও এক বছরের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে।
তবে মাসভিত্তিক হিসাবে পরিস্থিতি ভিন্ন। আগস্টে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির বার্ষিক হার কমলেও এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে কমেনি, বরং বেড়েছে।
এ কারণেই সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমার খবর থাকলেও বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
নিত্যপণ্যের দাম কমেনি, বেড়েছে সংসারের ব্যয়; চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচামরিচ, সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম—প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের বাজার এখনো সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল। ঢাকার খুচরা বাজারের সরকারি দরের হিসাবে মোটা চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং সরু চালের বিভিন্ন ধরনের দাম ৬৫ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি। মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৮৯ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজের দাম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা।
সবজির বাজারেও স্বস্তি সীমিত। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১২০ টাকা এবং লাউ ৩০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের খাদ্য বাজেটে বড় চাপ তৈরি করছে। রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতল ৩২০ থেকে ৪৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের দাম প্রতিটি ১১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা।
ফলে কোনো একটি পণ্যের দাম সাময়িকভাবে কমলেও পরিবারের মোট বাজার খরচে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরছে না। বরং এক পণ্যের দাম কমার সঙ্গে অন্য পণ্যের দাম বাড়ায় মাসিক ব্যয়ের চাপ থেকেই যাচ্ছে।
মজুরি বৃদ্ধির গতি কম, প্রকৃত আয় আরও চাপে: মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মানুষের আয় বা মজুরি বৃদ্ধির চিত্রও উদ্বেগ তৈরি করছে। বিবিএসের হিসাবে, আগস্টে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।
গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেও মজুরি বৃদ্ধির গতি কমেছে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে বড় বৈপরীত্য। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি যেখানে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, সেখানে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
সহজ হিসাবে, একজন শ্রমজীবী মানুষের আয় nominal বা নামমাত্র হিসাবে বাড়লেও সেই বাড়তি আয় দিয়ে আগের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বরং পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার হার আয় বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা চাপে পড়ছে।
খাতভিত্তিক হিসাবেও একই চিত্র। আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। তিনটি খাতের কোনোটিতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়াতে পারেনি। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারে। যাদের আয়ের বড় অংশ খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়, তাদের হাতে সঞ্চয়ের সুযোগ কমে যায়। অনেক পরিবারকে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে খাদ্যতালিকা ছোট করা, কম দামের পণ্য বেছে নেওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয় কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
খাদ্য কমলেও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় বাড়ছে: মূল্যস্ফীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যবহির্ভূত খাত। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জুলাইয়ের ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে আগস্টে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের ওপর চাপ শুধু বাজারের খাদ্যপণ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, পরিবহন, পোশাক, জুতা, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়ও বাড়ছে।
আগস্টে রেস্তোরাঁ ও হোটেল খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পোশাক ও জুতায় ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিতে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে।
গ্রাম ও শহরের চিত্রেও একই ধরনের চাপ রয়েছে। আগস্টে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, জুলাইয়ে যা ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০১ শতাংশে নামলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ, জুলাইয়ে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রাম বা শহর—কোথাও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রকৃত আয় ও বাজারের স্থিতিশীলতা: বিবিএসের তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে মানুষের জীবনে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমানো যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে এবং মজুরি বৃদ্ধির হারকে মূল্যস্ফীতির ওপরে নিতে হবে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মানুষের প্রকৃত আয়। নামমাত্র মজুরি বাড়লেও যদি একই সময়ে খাদ্য, বাসস্থান, পরিবহন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় আরও বেশি হারে বাড়ে, তাহলে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসে না।
দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবারের সঞ্চয় কমতে পারে, ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে এবং ভোগক্ষমতা কমে যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন স্থির বা কম আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো, উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীর চাপ কমানো এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
আগস্টের পরিসংখ্যান তাই অর্থনীতিকে একটি দ্বৈত বার্তা দিচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমেছে—যা ইতিবাচক। অন্যদিকে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে এবং তা মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে—যা মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার জন্য সতর্কবার্তা।
শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে অর্থনীতির সাফল্যের মাপকাঠি শুধু মূল্যস্ফীতির সংখ্যা নয়। মাস শেষে আয় দিয়ে কতটা স্বস্তিতে সংসার চালানো যাচ্ছে, সন্তানদের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে এবং সামান্য হলেও সঞ্চয় করা যাচ্ছে কি না—সেই হিসাবই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমেছে। কিন্তু বাজারে স্বস্তি ফেরাতে হলে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো মানুষের আয়কে মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত বাড়ানো এবং নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা। সেই জায়গায় পৌঁছানোই হবে আগামী দিনের বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা।
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে আবেদন নেওয়া শুরু করছে। গত মঙ্গলবার থেকে আবেদন শুরুর পর রোববার পর্যন্ত ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় জমা টাকা তোলার আবেদন জমা পড়েছে ৭৪ হাজার ২২১টি। সেই হিসাবে মাত্র চার কার্যদিবসে জমা পড়া এসব আবেদনের বিপরীতে মোট টাকার চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দুই শ্রেণির আমানতকারীরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন। যাদের চিকিৎসাসহ খুব জরুরি প্রয়োজন আর যারা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে পারছেন না। কেবল তারাই মুনাফা ছাড়া মূল টাকা তোলার আবেদন করেছেন। আর সবচেয়ে বড় অংশের লোকজন ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন না। তারা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে চাচ্ছেন। এটিই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূল আস্থার জায়গা।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে গত মঙ্গলবার আবেদন জমা পড়েছে ১৮ হাজার ৪৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দিনে (বুধবার) আবেদন জমা পড়েছে ১৯ হাজার ৬১৩টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা। তৃতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) আবেদন জমা পড়েছে ২১ হাজার ৮৬টি, এর বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ছিল ৯২৩ কোটি টাকা। আর আজ শেষ দিনে আবেদন জমা পড়ে মাত্র ১৫ হাজার ৪৭৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৬৫৭ কোটি টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চার কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে মোট ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে; যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সামগ্রিক বিষয়ে আজ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৭৪ হাজার ২২১ জন অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন। যারা একবারে পুরো আসল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। এই সংখ্যা মোট আমানতকারীর তুলনায় খুবই কম। তাতে বোঝা যাচ্ছে, এখনো মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে আমাদের ওপর।’
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। মালিকানা নেওয়া হয় সরকারের হাতে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা করা নতুন এ ব্যাংকে সরকার ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে দেড় শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনার একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর দেড় শ টাকার মধ্যাহ্নভোজের প্রশংসা করলে তিনি আমন্ত্রণ জানান।
‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে বলেন, ‘আমরা উৎসাহিত হই, যখন দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আমার ভালো লাগে। এত কম টাকায় আমিও খাইতে পারি না।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়ে ইশারা করেন, ‘আসুন খাওয়াব।’ একই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই মুখে বলেন, ‘আপনাকে খাওয়ানো হবে।’ তিনি এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইশারা করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাদামাটা জীবন যাপন করেন, সুন্দর। একেবারে পশ, স্যুটে-বুটে নয়। প্লেন পথে চলেন। এটা উৎসাহিত হওয়ার মতো বিষয়। কিন্তু তাঁর এই জীবনযাপন নিয়ে যাঁদের প্রশংসা করতে দেখি, তাঁরা আবার উল্টাপাল্টা চলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি এসব মানুষের আইকন হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে তো অনুসরণ করা উচিত। সব ক্ষেত্রেই তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। এটা তো আমরা দেখি না। আমরা ঠিক তার বিপরীতটা দেখি। আমরা আশা করি, এখন থেকে আইকন বলার আগে সাবধান হয়ে বলবেন। আর আইকন বললে তাঁকে ফলো করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীও মানুষ—মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলা যাবে না। হ্যাঁ বলা যাবে কেবল শিশুদের দাবিতে। তারা যা বলবে, তাতে হ্যাঁ বলা যাবে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী নতুন ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এই নতুন বিন্যাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়নুল আবদিন ফারুক।
নৌপরিবহন স্থায়ী কমিটিতে জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পদাধিকারবলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—মোহাম্মদ রাজিব হাসান (বরিশাল-৪), মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান (বগুড়া-২), মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩), আনিসুর রহমান (মাদারীপুর-৩), সাঈদ আহমেদ (শরীয়তপুর-১), সাজিদা ইয়াসমিন (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১), মোহাম্মদ নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২) এবং আব্দুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬)।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংসদীয় ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি মোট ৬ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।