কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।
সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ ও পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সূচনাপর্বে উভয় প্রতিনিধি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনাকালে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, "ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।"
ভবিষ্যতেও উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সুসংহত রাখা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রতিবেশী দুই দেশের সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়।
ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে বৈঠক করে নির্দেশনা দিয়েছেন।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষে অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে সরকার তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। সেই থেকে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে।
উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়াও ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।
একইসাথে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর কারণে প্রতিদিন মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সকল সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার রাখতে এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাড়াতে জুম মিটিং করে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিষয়ে সিভিল সার্জনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে এবং সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়াতে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্যও মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইন, ওষুধ এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কোনো ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সাথে জুম মিটিং করেছি। ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি করা এবং হাসপাতালগুলোতে যেখানে সম্ভব ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শয্যা সংকটের মুখে পড়তে না হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের নিজস্ব বাজেট থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ বাসস’কে বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণের কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি বলেন, বৈঠকে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে।
চলতি বছরের ২৩ জুন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা। বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই কমিটি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন এবং এ সময়ে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস
চলতি মাসের শেষ দিক থেকে আগামী মাসের শুরুর মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, "দেশব্যাপী গতকাল থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।"
রোগের বিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করা হবে। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালাবে।"
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণহানি কমিয়ে আনার কৌশল তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, "ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের দুটি লক্ষ্য— আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতালে জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, "ডেঙ্গুর পিক সময়ে হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমান রোগীর হার অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।"
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও মানবিক দায়িত্বের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এ সময়ে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো যাবে না এবং হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখতে হবে।"
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদভার গ্রহণ করে বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তাকে সমর্থন জানানো অন্য সকল সদস্যদেশের প্রতিনিধিদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সভাপতি বিশ্বসংস্থায় পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনা, সদস্যদেশসমূহের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা ও সংলাপের বিস্তার ঘটানো এবং ভবিষ্যতের বহুবিধ সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলাকে নিজের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি বর্তমানে এমন এক নজিরবিহীন প্রতিকূলতার মুখোমুখি, যা তার দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে এ সংকটের সমান্তরালে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ সংস্থাটির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও নতুন সুযোগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও আলোচনাকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, সব সংকটের তাৎক্ষণিক কিংবা সহজ সমাধান সম্ভব নয়; কিছু জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তবে যেসব ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ জড়িত, সেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ অনুসন্ধান অব্যাহত রাখতে হবে। নিজের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সনদ এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি অবিচল থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো বৈশ্বিক সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।
একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, ব্যবসা ও শিল্প খাতের নেতৃত্ব, প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং শিক্ষাবিদদের কার্যক্রমে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সনদের প্রারম্ভিক বাক্য ‘উই দ্য পিপলস অব দ্য ইউনাইটেড নেশনস’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই প্রতিষ্ঠান কেবল সরকারগুলোর মঞ্চ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষেরও বিশ্বমঞ্চ। কিন্তু সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের কণ্ঠস্বর যুক্ত করার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে।
সভাপতি পদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার ঘোষিত অঙ্গীকার ছিল ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’। দায়িত্ব গ্রহণের পর এর সঙ্গে তিনি জাতিসংঘকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী’ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যও যুক্ত করেছেন। তিনি এমন একটি বিশ্বমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যার প্রতি সদস্যরাষ্ট্রগুলো পূর্ণ আস্থা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন বজায় রাখতে পারে।
নাগরিকত্বহীন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘের ‘পিপলস’ ধারণার পরিধিতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষই অন্তর্ভুক্ত। অতীতে বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বিগত বছর এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গাদের প্রধানতম চাওয়া নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং জাতিসংঘে তাদের এই দাবি তুলে ধরার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
সাধারণ পরিষদের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বনেতৃবৃন্দের জন্য অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়ে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই মূল বিষয়। শীর্ষ নেতাদের প্রতি তিনি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানাবেন। বিশ্বনেতাদের বক্তব্য থেকে অভিন্ন বিষয়গুলো চিহ্নিত করে একটি ‘কমন এজেন্ডা’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি অবহিত করেন।
পরবর্তী জাতিসংঘ মহাসচিব পদে কোনো নারী দায়িত্ব পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহাসচিব নির্বাচনের এখতিয়ার সাধারণ পরিষদ সভাপতির একক কর্তৃত্বাধীন নয়, বরং তা সদস্যরাষ্ট্রগুলোর যৌথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। সনদের বিধানমতে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ পরিষদ এ নিয়োগ চূড়ান্ত করে; ফলে তিনি সনদের বিধিমালার প্রতি সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্ত থাকবেন। পাশাপাশি সদস্যদেশসমূহ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথে তিনি অর্পিত দায়িত্বভার সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, বিচক্ষণতা ও বিবেকের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন। দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সংস্থাটির সনদ ও সভাপতির জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে জাতিসংঘের বাইরে কোনো সরকার বা অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা গ্রহণ করবেন না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ (২.০৪৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে সরকার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বিগত সরকারের নেওয়া বিপুল অঙ্কের বিদেশি ঋণের কারণে বাড়তির চাপের মধ্যেও নিয়মিতভাবে এই দায় পরিশোধ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার (প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা)। ফলে বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।
ইআরডির তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে।
ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ছিল ২৬৭ কোটি ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, আগের দেড় দশকে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের সরকারের নেওয়া অনেক ঋণের নীতিগত ও অর্থনৈতিক যুক্তি সঠিক ছিল না। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পাওয়ার পরও বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিপুল পরিমাণ দায় সামলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশি বা বিদেশি যেকোনো ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছে। এখন থেকে প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করা ছাড়া নতুন কোনো ঋণের দায় নেওয়া হবে না।
ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের অসুবিধা বা হয়রানি না করে করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে রাজস্ব আদায়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে কোনো ধরনের কর আরোপ বা রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে না। করদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভ্যাট রিটার্ন মাসিকের পরিবর্তে এক মাস পরপর দাখিলের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্বসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। করদাতাদের অনিষ্পন্ন রাজস্ব মামলা ও বিভিন্ন ইস্যুর দ্রুত সমাধানের বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘করদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’
জুলাই মাসের রাজস্ব আদায় এবং টানা তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে আমির খসরু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে না। ব্যবসায়ীদের ওপর এমন কোনো কর বা রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হবে না, যাতে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যবসায়ীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশে রাজস্ব আদায় করাই সরকারের উদ্দেশ্য।’
এদিকে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রশ্নটির সরাসরি কোনো উত্তর দেননি অর্থমন্ত্রী।
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম ও চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে রপ্তানিতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। আগে অনুমোদিত রপ্তানি কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১০টি কঠোর শর্ত। সরকারের লক্ষ্য, একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২৭৮টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে নির্ধারিত সুগন্ধি চালের রপ্তানি পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়। সংশোধিত বরাদ্দ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং এর মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছর দুই দফায় মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি ছিল খুবই কম। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে। অর্থাৎ অনুমোদিত মোট পরিমাণের মাত্র প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে।
এতে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান পুরো বরাদ্দ ব্যবহার করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত অংশ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয় সরকার। আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য চেয়েছিল, যাতে বাস্তবে কতটা কোটা ব্যবহৃত হয়েছে তা নির্ধারণ করা যায়।
হঠাৎ কেন রপ্তানিতে লাগাম: মূল কারণ দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম বেড়ে যাওয়া। আগস্টে রাজধানীর বাজারে চিনি গুড়া বা চিনি গুঁড়া হিসেবে পরিচিত চিনি গুড়া/চিনিগুড়া চালের দাম দুই সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকায় ওঠার তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছিল প্রায় ২১ শতাংশ। একই সময়ে ব্রি ধান-৩৪-এর দামও এক মাসে প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ২১০ টাকায় উঠেছিল।
আরও বিস্তৃত সময়ে দেখলে বাজারের চাপটি আরও স্পষ্ট হয়। জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার আশঙ্কা করছে, দেশের বাজারে চাহিদা বেশি থাকা অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে চলে গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আগস্টের বৈঠকেই মিলেছিল সংকেত: সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে দেখা যায়, অনুমোদন পাওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী রপ্তানি করতে পারেনি। কেউ কেউ আবার আংশিক রপ্তানি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির তথ্য হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরপর ১৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে প্রকৃত চালান বা শিপমেন্টের তথ্য চায়। তখনই মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দেয়, অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের অনুমোদিত কোটা কমানো বা সমন্বয় করা হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগও আমলে: আগস্টের বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দেশের বড় কয়েকটি চালকলের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুদের অভিযোগ তোলা হয়। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল ছাড়া এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণেই দাম বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীদের একাংশ দাবি করে।
তবে সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাওয়া চালের পরিমাণ সীমিত রাখার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ১০ শর্ত: কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিতে নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতে ১০টি শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশোধিত অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। কোনো রপ্তানিকারক সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না এবং সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানিও করা যাবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে পিআরসি বা প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।
রপ্তানিকারকদের জন্য বড় পরিবর্তন: নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না। অর্থাৎ নতুন বরাদ্দই এখন সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও আগের বরাদ্দ কতটা বাস্তবে ব্যবহার করা হয়েছে, তার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে শুধু অনুমোদন নেওয়া নয়, অনুমোদিত পরিমাণের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার বিষয়েও রপ্তানিকারকদের জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।
রপ্তানি নীতিতে পুরোনো অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম ও সরবরাহের চাপ তৈরি হলে সরকার অতীতেও রপ্তানি সীমিত করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু করে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার পর রপ্তানি স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ২০২২ সালেও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সুগন্ধি চাল রপ্তানি বন্ধ করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ না করে অনুমোদিত কোটা অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে। এতে একদিকে রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা বনাম বৈদেশিক মুদ্রা: সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ দুটি—একদিকে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, অন্যদিকে দেশের ভোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সহনীয় দাম নিশ্চিত করা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিষয়টিকেই আপাতত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যখন অনুমোদিত ৪৫ হাজার ২৭০ টনের বিপরীতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন, তখন অব্যবহৃত কোটা ধরে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় তাই কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির প্রতিটি ধাপে নজরদারি, পণ্যের মান যাচাই, নথিপত্র সংরক্ষণ, রপ্তানি আয়ের প্রত্যাবাসন এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের কার্যক্রমের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু রপ্তানি কমানোর সিদ্ধান্ত নয়; বরং সুগন্ধি চালের বাজারে সরবরাহ, মূল্য, রপ্তানি পরিমাণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন—চারটি বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে এনে নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ব্যবস্থা। এখন এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে বাজারে মজুদ থাকা চাল কতটা দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে দামের ক্ষেত্রে কতটা প্রতিফলিত হয় তার ওপর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করা এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস নিজের পরিবার থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরকেও সচেতন করবে। তোমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়; এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দিলেই হবে না; সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ মানবিক সমাজের পরিচয়।’
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে আসেন। তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্যও ছিলেন। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হবে। প্রথম দিন এই টার্মিনাল ব্যবহার করে ২০টি উড়োজাহাজ চলাচল করবে। তবে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মঙ্গলবার টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বিমানমন্ত্রী জানান, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে। পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু করা হবে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর দিন ২০টি উড়োজাহাজ চলাচলের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হবে।
২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করা হয়। সে সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সচিবালয়ের প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হন।
বৈঠকে অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলা হয়, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে অতীতে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে।
তবে কমিটির সদস্যরা মনে করেন, কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনী বিলুপ্ত করা যথাযথ সমাধান হতে পারে না। বরং বাহিনীর দক্ষ জনবল, বিদ্যমান অবকাঠামো ও মূল্যবান সরঞ্জাম দেশের স্বার্থে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
একই সঙ্গে নতুন বা পুনর্গঠিত বাহিনীর সদস্যদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত, পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতার প্রশংসা করা হয়। এ জন্য বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আসতে হবে না, তাকে সরকার ধরে আনতে চায়। এসব বিষয় নিয়ে সরকারের মধ্যে কোনো লুকোচুরি নেই। একইসঙ্গে বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ায় সরকারের অসন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা নিজে ফিরুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশল নেই। শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে— এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারকে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায়ই বলছি, শেখ হাসিনা, আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না। টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।
ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি (হাসিনা) যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। আমরা প্রত্যাশা করব, ভারত সরকার এই বিষয়ে তার ওপর একটি বিধিনিষেধ দেবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই। ভারত চাইলে (হাসিনাকে ফেরত দিয়ে) সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
লোডশেডিং সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের গড় লোডশেডিংয়ের চিত্র তুলনা করলে দেখা যায়, জুন ও জুলাইয়ে ২০২৬ সালে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম ছিল।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জুনে প্রতিদিন গড়ে লোডশেডিং ছিল ৯৬৯ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের জুনে তা দাড়ায় ৭৪১ মেগাওয়াটে। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।
তবে আগস্টের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। কিন্তু ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। আগস্টে কী সংকট হয়েছিল সবাই সেটা জানেন।
এদিকে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নাকি অন্য কিছু।
উপদেষ্টা বলেন, ইটস অ্যা মাফিয়া গ্যাং। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও হামলার আশঙ্কা থাকলেও সরকার ও সংশ্লিষ্টরা তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অভিমত ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ নতুন সরকার আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এ পাঁচ আইনে আগে থাকা দলীয় মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও উঠে আসে।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সুশাসন, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নতুন পোর্টফলিওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।