মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক-বাস্তবমুখী করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাবিতে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক মানের করার লক্ষ্যে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh : Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বলেন, “সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।” উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা গবেষণা ও জ্ঞানে উৎকর্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, “র‍্যাংকিং ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকে মনে হয় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদদের আরও চিন্তাভাবনা করতে হবে।”

শুধুমাত্র গতানুগতিক পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে মনে হয় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কিছুটা হলেও কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে, এটিই স্বাভাবিক।” উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, “তবে, আমি যতটুকু জানি- ব্রিটেনসহ অনেক দেশই যারা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সাধারণত পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

সফল ও প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অর্থবিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেই সব এলামনাইদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।” এদিন সকাল ১০টায় কর্মশালাটির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী । ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। কর্মশালায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্যগণ উপস্থিত থাকবেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করলেন ইউজিসির কর্মশালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালা উদ্বোধন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার সূচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি ক্যাম্পাসে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছিলেন।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় পাঁচটি কারিগরি বা টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উচ্চ শিক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ সমাপনী আয়োজনে আরও অংশ নেবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান।


ভেজালে সয়লাব প্রসাধনীর বাজার, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

⬤    নিম্নমানের সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সব পণ্য। ⬤    বিলাসবহুল পারফিউম হুগো বা ফেরারিও হচ্ছে হুবহু নকল ⬤    নকল কসমেটিকস তৈরির সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্র ⬤    দেশি-বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ঢাকা এই বিষ কেড়ে নিচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক সজীবতা, বাড়াচ্ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

‘বেশি বয়সেও ত্বক হবে টানটান, দূর হবে কালচে ভাব, বাড়বে উজ্জ্বলতা’—অনলাইনে এমন চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ মরণঘাতী বিষ। নারীদের চিরন্তন সৌন্দর্য সচেতনতাকে পুঁজি করে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে নকল প্রসাধনীর বিশাল মায়াজাল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের যত্ন নিতে গিয়ে অবলীলায় শরীরে মাখা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রলেপ। দেশি-বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ঢাকা এই বিষ কেবল পকেটই কাটছে না; বরং কেড়ে নিচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক সজীবতা, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য।

প্রতারণার শিকার ও তিক্ত অভিজ্ঞতা: রাজধানীর রামপুরার গৃহিণী আরজু বেগম ৫৫০ টাকায় একটি ‘কোরিয়ান মিল্ক সুথিং জেল’ কিনেছিলেন ত্বকের যত্নে। সপ্তাহখানেক ব্যবহারের পর সুফলের বদলে তার পুরো মুখ ঘামাচির মতো দানায় ভরে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনবার চিকিৎসক দেখিয়ে এবং পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ কিনেও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি তিনি। আরজু বেগমের আক্ষেপ, ‘আসল আমদানিকারকের স্টিকার ও মেয়াদের তারিখ দেখেই কিনেছিলাম, তবুও প্রতারিত হলাম। তবে কেবল প্রসাধনীই নয়, টুথপেস্ট থেকে শুরু করে শ্যাম্পু—সবকিছুতেই এখন ভেজালের থাবা।

নকলের হটস্পট ও উৎপাদনের নেপথ্য কাহিনী: অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর চকবাজার, লালবাগ, জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকা এখন নকল প্রসাধনী তৈরির ‘হটস্পট’। পরিত্যক্ত মোড়ক ও কৌটা সংগ্রহ করে সেগুলোতে সাবান-পানি, ক্ষতিকর কেমিক্যাল আর নিম্নমানের সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সব পণ্য। লরেল, রেভলন, গার্নিয়ার, নিভিয়া, ডাভ কিংবা ভ্যাসলিন—বাদ যাচ্ছে না কিছুই। এমনকি বিলাসবহুল পারফিউম যেমন হুগো বা ফেরারিও হুবহু নকল হচ্ছে এই ঘরোয়া কারখানাগুলোতে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নকল কসমেটিকস তৈরির সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কেবল নামমাত্র কয়েক হাজার টাকা জরিমানা করেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব নকল প্রসাধনী মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তাদের দাবি, শুধু সামান্য জরিমানা করায় এসব চক্রের সদস্যরা আবারও একই ব্যবসায় ফিরে আসে। তাই আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি তাদের সম্পদ জব্দসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট, শপিং মল ও ফুটপাতের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নামিদামি বিদেশি ব্র্যান্ডের লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, ফেসক্রিম, পারফিউম ও স্কিন কেয়ার পণ্য হুবহু নকল করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেট, লোগো ও ডিজাইন এতটাই মিল রয়েছে যে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দোকানগুলোতে বিশ্বমানের ব্র্যান্ড গার্নিয়ার, লরেল, রেভলন, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়া মেরিন লোশন, পেনটিন, নিভিয়া লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবান, সুগন্ধির মধ্যে হুগো, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক ও কোবরা, অলিভ অয়েল, কিওকারপিন, আমলা, আফটার সেভ লোশন, জনসন, ভ্যাসলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম, প্যানটিন প্রো-ভি ও হারবাল এসেনশিয়াল লোশনের নামে ভেজাল প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে বেশি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, রাজধানীর চকবাজার, পুরান ঢাকা, কেরানীগঞ্জ ও সাভার নকল প্রসাধনীর হটস্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় ভাড়া করা বাসা-বাড়িতে নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে অসাধু চক্র। তৈরি পণ্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অভিযানে যা মিলছে: ১০ মার্চ বিকেলে রাজধানীর মহাখালী এসকেএস টাওয়ারে জেএস ট্রেডিংসহ দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর।

আমদানি করা প্রসাধনী পণ্যের গায়ে কোনো ধরনের লেবেল না থাকায় তাদের জরিমানা করা হয়। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের পণ্যের গায়ে বিস্তারিত তথ্যসহ লেভেল লাগানোর জন্য সময় বেঁধে দেন।

এর আগে ৩ মার্চ দুপুরে আলোচিত ব্রান্ড প্রোমোটর ফারজানা ইসলামের শোরুম থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করা বিপুল নকল কসমেটিকস উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-২)। নকল কসমেটিক্স বিক্রির অভিযোগে ‘মেক ইট আপ বাই ফারজানা ইসলামের মোহাম্মদপুরে শোরুমে অভিযান চালিয়ে এসব নকল কসমেটিক্স জব্দ করে শোরুমটি সিলগালা করা হয়।

অভিযান শেষে র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক খালেদুল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা শোরুমটিতে অভিযান চালাই। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখেছি, জনপ্রিয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শো-রুম সিলগালা করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ১৫ এপ্রিল ঝিনাইদহ শহরের মহিলা কলেজ পাড়ায় একটি নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করেছে র‍্যাব-৬।

তখন র‍্যাব-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে মহিলা কলেজ পাড়ার বকুল হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে নকল প্রসাধনী তৈরি করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব সদস্যরা নকল ‘চায়না’ ব্র্যান্ডের পারফিউম, ফেস ক্রিম, তেলসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য জব্দ করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেবেল ও বোতল, প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল, রাসায়নিক পদার্থ এবং যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করা হয়।

‎এছাড়া গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বংশালের পেয়ালাওয়ালা মসজিদ সংলগ্ন ৫৮ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় নামবিহীন নকল কসমেটিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল নকল প্রসাধনী জব্দ করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জনসন, ইমামি, সানসিল্ক, ডাভ, হেড অ্যান্ড সোল্ডারস, প্যানটিনসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নকল প্রসাধনী। এ সময় নামিদামি ব্রান্ডের পণ্যের খালি বোতল, লেবেল, প্রস্তুতকৃত মালামাল এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যালসহ নিম্নমানের কাঁচামাল জব্দ করা হয়।

বাজার পরিসংখ্যান ও আইনি সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, দেশে প্রসাধনী পণ্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার। এর একটি বিশাল অংশ (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) চোরাচালান ও নকল পণ্যের দখলে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: ক্যান্সারের ঝুঁকি ও স্থায়ী ক্ষতি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চর্মরোগ চিকিৎসকরা এই বিষয়টিকে ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে দেখছেন।

চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএন হুদা বলেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি চলছে রং ফর্সাকারী ক্রিম। মনে রাখবেন, বিশ্বে স্থায়ীভাবে রং ফর্সাকারী কোনো ক্রিম আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এসব নকল পণ্যে থাকা রাসায়নিক ত্বক পুড়িয়ে দেয়, ক্যান্সার তৈরি করে এবং স্নায়ুবিক দুর্বলতা ডেকে আনে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ভারী মেটাল ও সিসা মেশানো এই প্রসাধনীগুলো রক্তের সাথে মিশে কিডনি বিকল করতে পারে এবং সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, আমাদের দেশে সব সময়ই নকল প্রসাধনীর ব্যবহার হয়। এসব পণ্য বেশিরভাগই কেনেন প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। তারা সরল বিশ্বাসে দেশের পণ্য কিনে বিপদে পড়েন, তাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে এসব নকল পণ্য কেনেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পেছনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু লোকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিএসটিআই অভিযান করে, কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় তেমন উদ্যোগ নেয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সবাই জানে কোথায় নকল প্রসাধনী তৈরি হচ্ছে। তবুও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? নিশ্চয়ই এখানে কারও না কারও স্বার্থ জড়িত আছে।


ধুঁকে চলা কারখানায় প্রণোদনা দেবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এখনো বন্ধ হয়নি, কিন্তু ধুঁকে চলছে- এমন কারখানাগুলোর জন্য প্রণোদনা দেবে সরকার। বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে তহবিল গঠন করছে, সেই তহবিল থেকে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলো এই সুবিধা পাবে।

সোমবার (১১ মে) তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা দেখা করতে এলে এ আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম।

সভায় ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নীতির সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা-বিনিয়োগ সহজ করতে কোন কোন ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে লিখিতভাবে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা লিখিতভাবে প্রস্তাব জমা দিলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আগামী ঈদুল আজহার পরে আবারও বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এক্সপোর্ট ডাইভারসিফেকশনের ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। এজন্য রাজশাহীতে থাকা সরকারের রেশম শিল্প-কারখানা বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, পূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।


হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪১৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১১ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উল্লেখিত একই সময়ে সারাদেশে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৪১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের সংক্রমণে অন্তত ৬৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৫০ জন শিশুর। সব মিলিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৫-তে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৯৩৭ জন রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের সর্বশেষ হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশব্যাপী এখন পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ৫০০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩১ হাজার ৯৯২ জন রোগী।


স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করায় পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সতর্ক করার পরও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেননি কথিত পরকীয়া প্রেমিক। সেই ক্ষোভ থেকেই রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৩ বছর পর সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হলো আদালতে।

গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯ এর বিচারক মাহমুদুল ইসলাম পরকীয়া প্রেমিক আনিস হত্যার দায়ে মো. শাহাদাৎ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় শাহাদাৎ হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে নিহত আনিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে একাধিকবার আনিসকে সতর্ক করেছিলেন শাহাদাৎ। স্ত্রী থেকে দূরে থাকতে এবং আর যোগাযোগ না করতে বলা হয়েছিল তাকে। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আনিস আবারও শাহাদাতের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এতে ক্ষোভ আরও গভীর হয় আসামির মধ্যে। ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল। তেজগাঁও থানাধীন আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পাশে মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীতে ফুটপাতে আনিসের ওপর হামলা চালানো হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান হামলাকারী। পরে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

একই বছরের ২৭ মে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।


দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: সেতুমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‌‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটা—তিনটি প্রস্তাবনা আছে। তার এক নম্বর প্রস্তাবনা আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলব আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।’

মন্ত্রী বলেন, ঈদ যাত্রায় নৌপথেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেকে ত্রুটির বিষয় উঠে এসেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে।

এ ছাড়া সদরঘাটে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচলে নতুন শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। এখন থেকে স্পিডবোটের যাত্রীরা সরাসরি লঞ্চে উঠতে পারবেন না। তাদের নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য নতুন সংযোগ ব্রিজও নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেড় কোটির বেশি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


লাইফ সাপোর্টে বরেণ্য অভিনেতা আতাউর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার আতাউর রহমান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।

তিনি বলেন, ‘আব্বার অবস্থা আসলে খুব একটা ভালো না। তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে—চিকিৎসক তেমনটাই জানিয়েছেন। সবার কাছে আমার আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’

গত শুক্রবার বাসায় পড়ে গিয়েছিলেন আতাউর রহমান। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না পেলে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

জানা গেছে, ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিন শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবারও অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।


আগামী ৫ বছরে ১ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান হবে: ত্রাণমন্ত্রী

আপডেটেড ১১ মে, ২০২৬ ২২:২৭
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

সোমবার লালমনিরহাট স্টেডিয়ামে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আয়োজনে এক বিশাল চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় অভিশাপ এবং এটি দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির মতো প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

চাকরি মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন।


নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেটেড ১১ মে, ২০২৬ ২২:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার। নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে। তাহলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।

ডা. জুবাইদা রহমান সোমবার ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশলাইনসে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)’ এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দ মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সদস্যরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছেন উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আপনারা কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন।’

সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখে তাহলে নিশ্চয়ই সেই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।

ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে নারীরা স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। তাহলে কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যত নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরির্বতে তা এগিয়ে নেবে।

পুনাকের সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিনী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিনী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পুনাক সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদ। পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানে সভাপতির একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের অধিকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।

‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার স্টলের মধ্যে প্রথম হয়েছে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় রাজশাহী এবং তৃতীয় লালমনিরহাট জেলা।

প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী এবং পুনাক স্টল বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


জাল নোট প্রতিরোধে পশুর হাটে বসবে নোট শনাক্তকরণ বুথ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোটের বিস্তার রোধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পশুর কেনাবেচায় যাতে কেউ প্রতারিত না হয়, সেজন্য প্রতিটি হাটে নোট শনাক্তকরণ সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ১৭ মের মধ্যে একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই নোট যাচাইয়ের এই বিশেষ সেবা প্রদান করতে হবে। সুষ্ঠুভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস এবং যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক দায়িত্ব বণ্টন ও তদারকি করবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হাটগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যাংকের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাটগুলোতে ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের বুথ পরিচালনা করবে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং বেসিক ব্যাংক।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে মোট ১৯টি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটে নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন ও পরিচালনা করবে।


বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশে মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না।যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।’

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘হাসিনা সরকারের আমলে যেভাবে সীমান্তে অনেক মানুষকে গুলি করে হত্যা বা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো আমরা দেখেছি, সীমান্ত কোনো দিন ওই নমুনায় আসবে না, ইনশাআল্লাহ। আর ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায়, এই বাংলাদেশ সেই গোলামির বাংলাদেশ না যে, বসে দেখবে। কী করতে হবে সে বিষয়ে এই বাংলাদেশের পরিকল্পনা আছে।’

প্রতিবেশী দেশগুলোকে অবশ্যই আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চাই। যেখানে আমরা সবাই ‘ভারসাম্যমূলক’ একটি জায়গায় থাকতে চাই। তবে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে, আছে এবং থাকবেই। যেমন দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা এখন ভারতে আশ্রয়ে আছে।

তবে শেখ হাসিনা ভারতে বসে যেন বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস না করতে পারে সে বিষয়টি আমরা ভারত সরকারকে বলেছি এবং তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত সরকার।”

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রাইমারিলি (প্রাথমিকভাবে) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক থাকবে। আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।’

সম্প্রতি চীন সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা নিয়ে আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে, ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’

এ সময় চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।


উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে ‘জাতীয় কর্মশালা’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১১ মে, ২০২৬ ১৬:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসইভাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার (১২ মে) শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে জাতীয় কর্মশালা।’ কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে

কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে। কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালার উদ্বোধন উপলক্ষে ইউজিসি আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় সংবাদ সম্মেলন করবে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ইউজিসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে— ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা।’

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সরকারের নীতিনির্ধারক, ইউজিসির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেবেন।

এদিকে কর্মশালা উপলক্ষে সোমবার বিকেল ৩টায় ইউজিসি ভবনে (আগারগাঁও) জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদসহ কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।


banner close