কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা চলছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজন মাহমুদ। তিনি জানান, বৈঠকে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা সহজ করতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন যাত্রীরা এবং দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি। টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে এবারও সমস্ত আসনের টিকিট শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে ২৩ মে’র টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। রেলওয়ের ঈদ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী দিনগুলোর টিকিট বিক্রির সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, ২৪ মে’র টিকিট পাওয়া যাবে ১৪ মে, ২৫ মে’র টিকিট ১৫ মে, ২৬ মে’র টিকিট ১৬ মে এবং ২৭ মে’র টিকিট পাওয়া যাবে ১৭ মে। তবে ২৮ থেকে ৩০ মে’র টিকিট বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।
টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী আরোপ করা হয়েছে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবারের প্রচেষ্টায় চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম যাত্রার এসব টিকিট কোনোভাবেই ফেরত বা রিফান্ডযোগ্য হবে না। এদিকে যারা অনলাইন টিকিট পাবেন না, তাঁদের সুবিধার্থে যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবহাওয়ায় আজ মেঘলা ভাব বিরাজ করতে পারে। সেই সাথে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে পুরোপুরি মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোরে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৬টায় তা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৬ শতাংশ। উল্লেখ্য যে, গতকাল রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে।
সারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের কিছু স্থানে মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিহীন এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকবে।
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।
সাক্ষাৎকালে ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়।
সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, টেক্সটাইল ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে তাদের সমর্থনের জন্য সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের গড়ে ওঠা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতে তা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সমর্থনও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এ সময় সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, ওমান, পাকিস্তান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং ইরান, ইরাক ও লিবিয়ার মিশনপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্রসচিব মু. ফরহাদুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান সেখানে রুমন উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যার পর হাসিনার কান্নার নাটক ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে লিখিত থাকবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১২টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কাজ পরিদর্শনকালে স্পিকার এ মন্তব্য করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দীন আহমদ বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ইতিহাস জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে এ জাদুঘর খুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্পিকার।
স্পিকার জানান, গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তারা হাসিমুখে গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেয়া বীরদের উদাহরণ।
স্পিকার আরও জানান, জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে গণভবন দখলের চিত্র, শহিদদের পকেটে রাখা চিঠি এবং হাসিনার খুনের নির্দেশের কল রেকর্ডসহ গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলনের নানা চিত্র।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে হেঁটেই অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোনো প্রধানমন্ত্রীর ক্যাম্পাসে নির্বিঘ্নে এভাবে হেঁটে আসার নজিরও এই প্রথম। এ বিষয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও এভাবেই ঢাবি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টার কিছু আগে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে বের হয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের উদ্দেশে হাঁটতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমিও ছিলাম। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে তো বটেই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্বিঘ্নে হেঁটে অনুষ্ঠানে এসেছেন। এটা বিরল ঘটনা।
অতীতে আমরা দেখেছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো সরকার প্রধান এলে, কোনো প্রধানমন্ত্রী এলে—প্রতিবাদ হয়েছে, পক্ষে-বিপক্ষে স্লোগান হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনারও দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু আজ সেরকম কোনো দৃশ্য নেই। হাজারো শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীকে দেখে হুমড়ি খেয়ে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে। স্লোগান হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছে। কেউ কেউ দূর থেকে হাত নেড়ে স্বাগত জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা এভাবে প্রধানমন্ত্রীকে হেঁটে যেতে দেখে করতালি দেয়, অনেকে স্লোগানও দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনের দেড়শ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অডিটোরিয়ামে স্থান না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মোবাইলে লাইভে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় অবলোকন করেছে।
দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবমুখী, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে না পারলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে’ ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে গবেষণা প্রকাশনা, জ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন ও গবেষণার উদ্ধৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। সে কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা দিয়ে চলবে না। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাবেক শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী করতে সরকার শিক্ষানবিশ কার্যক্রম, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগীয় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন ব্যবসায়িক ধারণাকে উৎসাহিত করতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রাথমিক অর্থায়ন ও উদ্ভাবনী অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা তৈরি করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি আরো জানান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং বিজ্ঞান পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিজ্ঞান মেলা, উদ্ভাবনী মেলা ও পণ্য প্রদর্শনীর মতো আয়োজন উৎসাহিত করা হবে।
বক্তব্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, জিন প্রকৌশল, জীবপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও বৃহৎ তথ্যভান্ডারভিত্তিক প্রযুক্তি বিশ্বব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা এখন আর শুধু স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়ে নতুন জ্ঞানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী। সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের সাফল্য অর্জন সম্ভব।
বিএনপি–জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্যচুক্তি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে নয়াকৃষি আন্দোলন ও উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) আয়োজনে হাওরে বোরো ধান বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনায় এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, নির্বাচনের ৩ দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্যচুক্তি করা হলেও বিএনপি–জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর মতামত নিয়েই তা করা হয়েছিল। এ কারণে তারা কেউ এখন এ চুক্তির বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। চুক্তি অনুযায়ী চাইলে চুক্তিটি বাতিল ও সংশোধন করা যাবে।
তিনি বলেন, তবে সবার দাবি তোলা উচিত, এ চুক্তি নিয়ে যেন সংসদে আলোচনা করা হয়। দাবি করা উচিত, চুক্তিটি অবশ্যই সংসদে উত্থাপন করতে হবে। সেখানে আলোচনা করে জনগণের সম্মতি নিয়ে যেন এটা করা হয়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের তিনদিন আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড—এআরটি) সই হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। এ নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
নতুন কারিকুলাম ও আউট লার্নি নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, আগে বিদেশ থেকে শিক্ষকরা এসে পড়াতেন, শিক্ষার্থীরা আসতেন। এখন কিন্তু সে পর্যায়ে নেই। এখন দেশে ১১৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। ওপেন ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই শিক্ষাব্যবস্থা আবারও ঢেলে সাজাতে হবে।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
পাবলিক ইউনিভার্সিটি বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোয়ান্টিটিতে অনেক এগিয়ে গেছি। কোয়ালিটিতে কতটুকু পেরেছি, আমরা জানি না। তাই নীড বেসিস এডুকেশন নিয়ে ভাবতে হবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী স্বল্প-আয়ের মানুষের জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৩৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এই তেল কেনা হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিটির সদস্য ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের ১ কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন (২ লিটার পেট বোতলে) ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ২টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। সবগুলো প্রস্তাবই টিইসি কর্তৃক গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
দরপ্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও সীডস ক্রাশিং মিলস লি. ঢাকাকে এই পাম অলিন তেল সরবরাহের কাজটি দেওয়া হয়।
টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি লিটার পাম অলিনের দাম পড়বে ১৮৪ টাকা ৪৫ পয়সা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭৮ লিটার।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এভিয়েশন ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা)-এর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে, পাশাপাশি ইমিগ্রেশন, লাগেজ হ্যান্ডলিং ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী জানান, যাত্রীচাহিদা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের বিষয় বিবেচনায় রেখেই বহর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়বে এবং সেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘আমরা মিক্সড ফ্লিটের কথা ভাবছি। চলতি বছরের মধ্যেই অন্তত পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, দেশের বিমান ও পর্যটন খাতকে আরো আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ খাতের ইতিবাচক দিকগুলো দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর দেশীয় সম্পদকে অবহেলা করে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতার ব্যবস্থা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘জনগণের যে সম্পদ আছে সেই সম্পদ আহরণ করতে চাই এবং দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে আগে দরকার জ্বালানি। আমাদের নিজেদের জ্বালানি থাকতে আমরা বিদেশ থেকে কেন আমদানি করব?
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মিলনায়তনে স্থানীয় সংসদ সদস্য, কয়লা খনি, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মধ্যপাড়া পাথর খনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি, একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সফরসূচির অংশ হিসেবে মন্ত্রী মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টায় বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, বরং তা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশের মাধ্যমে তা বাতিলের সুযোগ থাকলেও সরকার আপাতত সেই পথে যাচ্ছে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ মহলে চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সরকার চুক্তির প্রভাব, স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করবে।
তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সরকার এমন কিছু ধারা শনাক্ত করতে চায়, যেগুলো দেশের স্বার্থের পরিপন্থি বা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রকৃতি এক নয়। কিছু চুক্তি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা কখনো কখনো বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সমঝোতা স্মারক বা অনুরূপ কাঠামোর চুক্তি তুলনামূলক সহজে পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে এমন অতীতের সব চুক্তি বা সমঝোতা মূল্যায়নের আওতায় আনবে সরকার। তবে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।