বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকারি সংসদীয় দল।

বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

এর আগে জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের জন্য আমরা সংসদ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন, আগামীকালকে আমরা জানতে পারব। সংসদ উপনেতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সংসদে আমরা (এমপি) কেমন আচরণ করব এবং কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে যেহেতু স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, প্রথমে খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। সংসদ নেতা সভার সভাপতিত্ব করার জন্য জ্যেষ্ঠ কোনো নেতার প্রস্তাব করবেন। এরপর কোনো একজন সমর্থন করবেন এবং তিনিই সভার সভাপতিত্ব করবেন। সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করব।

এর আগে জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল বিএনপি। দলটি সরকারি দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদারতা দেখিয়ে এ প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে আমরা এখনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। সাড়া পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামীকাল সংসদে আইনমন্ত্রী উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। এগুলো যাচাই বাছাইয়ের জন্য সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হবে। এ কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে, আর কোনগুলো ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো আমরা পাস করার চেষ্টা করব।

প্রথম দিনের বৈঠকে কার্য উপদেষ্টা, প্রিভিলেজ কমিটি এবং হাউস কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান চিফ হুইপ। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হলেই কালকের অধিবেশন মুলতবি করা হবে। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর পাঁচ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত করা হবে। এরপর শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের সম্পর্কে আলোচনা হবে। এরপর দেশবরেণ্য মানুষ ও বিদেশি বরেণ্য মানুষের বিষয়ে শোকপ্রস্তাব থাকবে।

জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হয়েছিল, সেটার ভবিষ্যৎ কী— এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা সেই শপথ নেননি। ভবিষ্যতে এটি সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লিখিত বক্তব্যে চিফ হুইপ বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারই ধারাবাহিক প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই জাতীয় সংসদ। জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামীকাল থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।

তিনি বলেন, আগামীকাল যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, সেটি হবে জনগণের সংসদ-দেশের মানুষের অধিকার, আশা এবং স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে— একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা। আমরা চাই, সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ তর্ক ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক।

নূরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো— মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই প্রেক্ষাপটে আমরা দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন কামনা করছি। একই সঙ্গে আমরা বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতাও প্রত্যাশা করি। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব।

তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে— সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা, দারিদ্র্য দূর করা এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তোলা। একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিশেষে দেশবাসীর কাছে আবারও দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারি।


সংসদের আচরণ নিয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদের আচরণ কী হবে তাঁর দিক নিদর্শনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। আজ বুধবার প্রধানমনাত্রীর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সংসদের সভাপতিত্ব করার জন্য একজন সিনিয়র নেতাকে আহবান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জরুরি কয়েকটি সংসদীয় কমিটি হবে।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদ উপনেতা কে হবেন তার সিদ্ধান্ত হয়নি এখনো। তবে সংসদ নেতা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।’ অর্ডিনেন্স পাসে কমিটি হবে বলেও জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর প্রাণবন্ত সংসদ গড়তে চাই। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে চাই। বিরোধী দলের গঠনমুলক সহযোগিতা কামনা করি।

এ ছাড়া বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকারের বিষযে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলেও জানান চিফ হুইপ।


সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের শরিক দলগুলোর সংসদীয় বৈঠক চলছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদে সরকারের কৌশল নির্ধারণসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে এই সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্ধারণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের সব সংসদ সদস্য এতে অংশ নিয়েছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সেই সময় সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন তারেক রহমান। একই দিন বিকেলে তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন।


অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিল সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি কমাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের (অকটেন ও পেট্রোল) গড় বিক্রি ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, চলমান বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল সরবরাহ/গ্রহণ সম্পর্কিত বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে।

সে পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেলের (অকটেন ও পেট্রোল) গড় বিক্রয় হতে ২৫ শতাংশ হ্রাসের পরিবর্তে বর্তমানে ১৫ শতাংশ হ্রাস করে ফিলিং স্টেশন প্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, হ্রাসকৃত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিপিসির অধীনস্থ বিপণন কম্পানি সমূহের ডিপো সুপার, বিক্রয় কর্মকর্তা এবং ডিলার/এজেন্টগণকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।


জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় জামিন পেলেন। সেক্ষেত্রে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি।

গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। পরে গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি এই মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা।

এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর জুলাই রেভুলেশনারী এলায়েন্সের সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর গত ১৫ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ এই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।


১৬ মার্চ থেকে শুরু বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে আগামী ১৬ মার্চ থেকে ‘ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে বিআরটিসির এই ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

বিআরটিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুর ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

জনসাধারণকে বিআরটিসির এই বাস সেবা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় বৈঠক আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। নিজেদের কৌশল নির্ধারণসহ সার্বিক বিষয়ে আজ বুধবার (১১ মার্চ) সংসদীয় দলের বৈঠকে বসছে ক্ষমতাসীন দল। এ বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্ধারসহ চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বুধবার (১১ মার্চ) সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ৯ মার্চ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সভায় ক্ষমতাসীন দলের সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

এ বৈঠক থেকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়াও সংসদীয় কমিটি গঠনে এবং সংসদের অন্যান্য কার্যপ্রণালি নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা।

এর আগে গত ৯ মার্চ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্য গঠনে সরকার ও বিরোধী দলীয় হুইপদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ ভবনের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনির অফিস কক্ষে বৈঠকটি হয়। এতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, মো. রফিকুল ইসলাম খান, মো. আবুল হাসনাত ও মো. নূরুল ইসলাম।


দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হব না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই দেশ আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে জন্য সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীর কড়াইলে বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান। তবে, মঞ্চে ওঠার আগেই তিনি সোজা চলে যান মাঠে অপেক্ষমাণ নারীদের কাছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নারীরা। নানা স্লোগান দেন তারা। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এতো কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুরুতে পবিত্র কোরআন, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠের পর বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশ করা হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উদ্বোধনী বোতাম চেপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জনের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পৌঁছে দেন। প্রতিজনের অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় ১৭ জন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরা হলেন বেগম পারভিন, বেগম সমলা, বকুলা বেগম, বেগম জ্যোৎস্না, তসলিমা আখতার, বেগম রাশেদা আখতার, বেগম হোসনা আখতার, রিনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোখসানা আখতার, মোসাম্মাৎ মাহফুজা, বেগম লিনা আখতার, মোসাম্মাৎ সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম, মিনারা বেগম। এ সময় করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে এদিন সারা দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো। নির্বাচনে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দিয়েছিলাম। এক মাস পূরণের আগেই আমরা তা পূরণ করতে পেরেছি। সেই জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় আজ আমার জন্য যেমন একটি আবেগের দিন, তেমনি সরকার ও বিএনপির জন্যও একটি ঐতিহাসিক ও আবেগের দিন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষাকে বিনা মূল্যে করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারীসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেই এখন ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কড়াইল, সাত তলা ও ভাষানটেক এলাকার ১৫ হাজার নারীকে কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চার কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, এই কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলাম তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। এখন ১৪ জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে এই কার্ড নিয়ে যেতে পারব বলে আশাবাদী।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করা হলো।

বক্তব্যের শেষে তিনি তার নির্বাচনী স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায় একটি কথা আমার বক্তব্যের শেষে আমি তুলে ধরতাম। সেই কথাটি ছোট্ট একটি স্লোগানের মাধ্যমে আপনাদের সকলের কমবেশি জানা আছে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্লোগানটি পৌঁছে গেছে। আজকে সেই স্লোগানটি দিয়েই আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই, সেই স্লোগানটি ছিল: করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ! সবার আগে বাংলাদেশ!

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আজ বাস্তবায়িত হলো। এই কার্ড নিয়ে রাজনীতি, দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলো ভাতা পাবে। ভাতার টাকা যাবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তারা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।

কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।


আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিরা ফের সক্রিয় হচ্ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। আত্মসমর্পণ করা অনেক চরমপন্থি সদস্য পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ ও দুইজনকে গ্রেপ্তার করার বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি পাবনা-কুষ্টিয়া এই অঞ্চলে চরাঞ্চল রয়েছে। এই চরাঞ্চল দখল নিয়ে বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। এসব অস্ত্র এই অঞ্চলের বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

‘সুন্দরবনে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরাও আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে সাধারণ মানুষের অপরাধ জগতের বিচরণ ও প্রত্যাবর্তন। সুন্দরবনের জলদস্যুদের বিষয়টি আমরাও পরিলক্ষিত করেছি। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যে তথ্য পাচ্ছি তাতে এই ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমাদের তৎপরতা আগেও ছিল, এখনো আছে।

তিনি বলেন, আর যারা ইতোমধ্যে অপরাধে জড়িয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন সময়ে র‍্যাব এককভাবে আবার কখনো কখনো র‍্যাব, পুলিশ এবং কোস্ট গার্ড সম্মিলিতভাবে নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবেও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসময় চরমপন্থি গ্রুপগুলোর সক্রিয় হওয়ার বিষয় তুলে ধরে যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সর্বহারা ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা ছিল।

২০২৩ সালে র‍্যাব-১২ এর উদ্যোগে প্রায় ৩১৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল এবং তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু আত্মসমর্পণকারী সদস্য আবারও পুরোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে মনিটর করতে থাকি এবং যার ফলস্বরূপ আজকে আমাদের এই সফলতা এবং আমরা এগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের ধারণা, নিষিদ্ধ যারা চরমপন্থি আছে, তাদের হাতে এগুলো যাওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা আছে— আমি ধারণা করছি।


জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের হাতে সুযোগ রয়েছে: সিপিডি

* সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে * মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে * বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোগ নিতে হবে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনো কিছু নীতিগত সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)। এছাড়া এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন মনে করছেন সংস্থাটির গবেষকরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সিপিডির পরামর্শ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সংস্থাটি মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে নীতি–উপকরণ ব্যবহার করে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সেটি স্থানীয় বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশে জ্বালানির ওপর প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এসব কর কমিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ কমাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্বালানি আমদানিতে আরোপিত ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেশে বর্তমানে ডিজেল, অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানির কয়েক সপ্তাহের মজুত রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা হলো—এখানে কোনো স্থায়ী কৌশলগত জ্বালানি মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই, যা অনেক প্রতিবেশী দেশে রয়েছে। এমন রিজার্ভ থাকলে সংকটের সময় বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হতো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কিনে মজুত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই ‘প্যানিক বায়িং’ বেড়ে গেলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে সামাল দেওয়া কঠিন। তাই বাজারে আস্থা তৈরি করা এবং সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি।

বর্তমানে সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে তেল কিনছে এবং ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির চুক্তি পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রিজার্ভের ওপর খাদ্য নিরাপত্তা ও সার আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) থেকে ঋণ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে একটি কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। এতে ভবিষ্যতে বাজারে স্থিতিশীলতা থাকবে এবং প্যানিক বায়িংয়ের ঝুঁকিও কমবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে চলতি অর্থবছরেই সরকার প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা শুল্ক রাজস্ব হারাতে পারে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করছে, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য অন্যান্য দেশকেও একই ধরনের সুবিধা দিতে হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০ ধরনের পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে।

তার মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি অর্থবছরেই সরকার আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে। তিনি আরও বলেন, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা ডব্লিউটিও-এর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এর ফলে ডব্লিউটিওর আওতাভুক্ত অন্যান্য দেশকেও একই সুবিধা দিতে বাধ্য হতে পারে বাংলাদেশ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার শর্ত থাকায় সরকারের ব্যয়ও বাড়তে পারে। এ কারণে চুক্তির প্রভাব—বিশেষ করে রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়টি—পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনা করা উচিত।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। তাই এটি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব দেখাতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি জোর দেন।


জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে বাংলাদেশ: চীনা রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ খাতে বিনিয়োগে বাংলাদেশ আরও উৎসাহ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একইসঙ্গে কীভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও ভালো পদ্ধতি তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেছেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ কি কোনো প্রস্তাব দিয়েছে– জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেন, তারা এ খাতে আরও বিনিয়োগকে উৎসাহ দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে আরও বিনিয়োগের কথা বলেছে, যেমন– তাপবিদ্যুৎ অথবা জ্বালানি, সৌর উন্নয়ন এবং ছাদভিত্তিক (রুফটপ) প্রকল্প।

আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই নতুন সরকার এসব খাতে উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় আরও আগ্রহী। তাই আমি নিশ্চিত যে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ খাতটি উচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। এটি চীন ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও বেশি উপকার বয়ে আনবে।

চীন কি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে– জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আলোচনা করছি। আমরা বিভিন্ন উপায় খুঁজে দেখছি। কিছু নির্দিষ্ট অনুরোধ রয়েছে, তাই আমরা দেখব কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়। তবে আমি এখন বিস্তারিত বলার অবস্থানে নেই।

তিনি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমাদের আলোচনা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক ছিল। আমরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। কিছু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছি যেগুলো নির্মাণাধীন আছে এবং আমরা আলোচনা করছি কীভাবে আমাদের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা যায়।

ইয়াও ওয়েন বলেন, উভয়পক্ষ থেকেই বর্তমান যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি আমরা হচ্ছি তা বিবেচনায় রেখে কীভাবে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে।

তাই আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায়ও পৌঁছেছি এবং আমরা দেখব কোন উপায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও ভালো পদ্ধতি তৈরি করা যায়।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশ কি কোনো দাবি করেছে– জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরা জ্বালানি খাতে চীনের বিনিয়োগ, বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি, সৌর শক্তি– এই ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। তারা কিছু পাইপলাইন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছে। আর অবশ্যই আমরা মধ্যপ্রাচ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তার কারণে যে সাধারণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি তা নিয়েও আলোচনা করেছি। তাই আমরা আলোচনা করছি কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যায়।


গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণিতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘সকল নারী ও বালিকার জন্য অধিকার, বিচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করে। আইন মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ জানানো হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণ, মানবাধিকার ও নারীর অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় জাতীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু কর্মসূচি চালু করা হয়েছে (১০ মার্চ) মঙ্গলবার।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং এসব কার্ডের মালিকানা পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের নামে দেওয়া হয়েছে। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৭টি জনসভায় নারী জাগরণের জন্য নারীদের উদ্বুদ্ধ করার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, তিনি নীতিগতভাবে নারী কমিশন গঠনের পক্ষে। তবে দেশে একের পর এক কমিশন গঠনের ফলে অনেক সময় তাদের দায়িত্বের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়ক একটি অর্ডিন্যান্স হয়েছে, যেখানে গুম কমিশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুম কমিশন যুক্ত হওয়ার ফলে মানবাধিকার কমিশনকে গুম কমিশনের তদন্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। এতে মানবাধিকারের মূল কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই এই আইন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। যদিও সরকারের নীতি হলো গুমকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।’

নারী কমিশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে মৌলবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে নারীরা। তাই নারীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের সচেতন করছে। নারীরা সচেতন হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।’

নারীর অধিকার প্রসঙ্গে নিজের উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, তার দুই মেয়ে রয়েছে কিন্তু ছেলে সন্তান নেই। শরিয়া আইনের বিধান অনুযায়ী তিনি যে সম্পদ অর্জন করবেন তার সম্পূর্ণ অংশ তার মেয়েরা পাবে না। তাই বিকল্প আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

বআইনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেফতার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে। মিথ্যা মামলার সংস্কৃতিও অনেকটা বন্ধের পথে রয়েছে।’ এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেলে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আরও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীরা যাতে ‘বেগম পাড়া’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজকে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি নীতিগতভাবে মনে করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্যও ম্যারেজ ও ডিভোর্স আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যেমনটি মুসলমানদের জন্য বিদ্যমান রয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া, বাংলাদেশে জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান এবং মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন।


পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে আরেক কর্মকর্তাকে বদলি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুনকে পিআইবিতে পদায়ন করা হয়েছে। ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. তারেক মাহমুদকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছে।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


banner close