কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
আসন্ন ২০২৬ সালের পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। হিজরি ১৪৪৭ সালের হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষে ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ এজেন্সি এবং হজযাত্রী পরিবহনকারী বিমান সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) জারিকৃত এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সকল পক্ষকে সৌদি সরকারের নির্ধারিত নিয়মাবলী এবং বাংলাদেশের ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন, ২০২৬’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এই তদারকির মূল উদ্দেশ্য হলো হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সৌদি আরবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে, সৌদি সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী একই সার্ভিস কোম্পানির আওতাভুক্ত সকল হজযাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। এর পাশাপাশি ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি বিশেষ গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হজ এজেন্সির মোট হজযাত্রীর অন্তত ২০ শতাংশকে প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে পাঠাতে হবে। এছাড়া প্রথম ও শেষ পর্যায়ে অবশিষ্ট হজযাত্রীদের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোভাবেই প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম কিংবা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না বলে মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ হজযাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত অন্য তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে এই নির্দেশনার অনুলিপি পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, নির্ধারিত কোটা ও সময়সূচি অনুযায়ী টিকিট ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। হজযাত্রীদের যাত্রা যাতে কোনো ধরণের বিড়ম্বনা বা বিশৃঙ্খলার মুখে না পড়ে, সেজন্যই এই সময়োপযোগী নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এই নতুন অনুপাতগুলো নিবিড়ভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো ধরণের সংকটের সৃষ্টি না হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণীদের যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টার মতে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাণীর ওপর সৃষ্ট প্রভাব ও তাঁদের অভিযোজন প্রক্রিয়া নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভিন্ন জলবায়ুর পশু-পাখি পার্বত্য অঞ্চলে কেমন আচরণ করবে এবং তাঁদের উৎপাদন ক্ষমতা কেমন হবে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। শুধুমাত্র বিদেশি ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে আমাদের নিজস্ব দেশীয় হাঁস-মুরগি ও পশুর জাত সংরক্ষণ এবং এসবের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও সময়মতো টিকা বা ভ্যাকসিন প্রদানের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন না দিলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং খামারিদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পশুসম্পদের এই সুরক্ষা শুধু প্রাণীর জন্য নয়, বরং মানুষের জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি অপরিহার্য ধাপ।
দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের আধুনিকায়নে শিক্ষিত তরুণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন। বর্তমান বাজার ব্যবস্থার অসংগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ খামারিরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মুরগির বাচ্চা এবং ফিডের আকাশচুম্বী দাম, যা সাধারণ খামারিদের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিড বা খাবারের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমাতে তিনি দেশে ভুট্টা ও সয়াবিন চাষ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। এতে করে উৎপাদন খরচ কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টির নিশ্চয়তা পাবেন।
বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলহাস আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার আগে উপদেষ্টা বিএলআরআই-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সেখানে কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন। পরে তিনি ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার ও সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাণীর শেডগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় খামারিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং পার্বত্য অঞ্চলে প্রাণিসম্পদের প্রসারে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার ও পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিবির একটি বিশেষ টিম গত কয়েকদিনের নিবিড় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে আজ বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে পুরো ঘটনার নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরবেন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার হিসেবে চিহ্নিত ‘জিনাত’ এবং পুরো হত্যার নকশা বা পরিকল্পনা যার হাত দিয়ে হয়েছে সেই সন্দেহভাজন মাস্টারমাইন্ড ‘বিল্লাল’ রয়েছেন। এছাড়া তাঁদের সাথে থাকা আরও দুই সহযোগীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁওয়ের মধ্যবর্তী এলাকা হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওত পেতে থেকে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। মুছাব্বিরের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নৃশংস হামলায় কেবল মোছাব্বির নন, বরং তাঁর সাথে থাকা তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত আবু সুফিয়ান মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারা জড়িত এবং অস্ত্রের যোগান কোথা থেকে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবির এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তেজগাঁও ও নয়াপল্টন এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সমসাময়িক ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত বা বিশেষ কোনো সুবিধা প্রদান করছে না। শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে এবং সরকার সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি দল যাতে নির্বিঘ্নে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে প্রেস সচিব জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইইউ থেকে একটি বড় আকারের পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। উল্লেখ্য যে, বিগত তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ইইউ কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি, তবে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছে। বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আসন্ন গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন ও সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সরকার এই গণভোটে জনসাধারণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাশা করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
নির্বাচনি পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরণের মিসইনফরমেশন বা ভুল তথ্য ছড়াতে পারে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রায় প্রতিটি ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি নরসিংদীর মনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বলেন, এটি মূলত একটি পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত হলেও একটি মহল একে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি যাচাই-বাছাই না করেই এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি সকলকে যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে বিবৃতি প্রদানের আগে সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সামগ্রিকভাবে, একটি স্বচ্ছ ও সফল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার গুজব প্রতিরোধ এবং সত্য তথ্য প্রবাহ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
দেশে চলমান এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। আশঙ্কা প্রকাশ করে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপি গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।
সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত সরকারের উৎসাহে সারাদেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টেশনের ওপর নির্ভর করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
সিরাজুল মাওলা আরও জানান, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই তুলনামূলক সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাসশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠন যেন যেকোনোভাবে অটোগ্যাস খাতের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। এলপিজি আমদানিতে কোনো জটিলতা থাকলে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন তা দ্রুত সমাধান করে অপারেটরদের মাধ্যমে অটোগ্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য আগাম ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান প্রমুখ।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। নানা ধরনের বিচ্যুতি ছিল আমাদের মধ্যে। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট মাসে যে দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটেছে, বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এসব ঘটনার ফলে পুলিশের যারা লোভী, দলকানা কিছু নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যের কারণে আমাদের ওপরে যে দায়ভার এসেছে, এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে তাদের আবার তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা—এই গত এক বছরে আমরা এটা চেষ্টা করেছি। আমরা বলব না আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।’
শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জায়গায় করা যায় না জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এটা শতভাগ তো কোনো জায়গায় করে ফেলা যায় না। আমাদের দেশের গত ১০-১৫-২০ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান যদি নেন, প্রতি বছরই সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা থাকবে একজন লোকও যেন মারা না যায়। সেটা আমাদের লক্ষ্য।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নির্বাচনের উপযোগী রাখা এটা আমাদের দায়িত্ব। এখানে শুধু পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ একা না, এখানে পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনের দিন তো বিপুল পরিমাণ, ৬ লাখেরর মতো আনসার সদস্য থাকবেন। এখন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে। বর্ডার গার্ড আছে, ইভেন কোস্ট গার্ড এবং নেভি উপকূলীয় অঞ্চলে এখন আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।’
এর আগে পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড অডিটোরিয়ামে রংপুর রেঞ্জের বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা করেন বাহারুল আলম।
রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার ও পরিকল্পনাকারীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান শুটার হিসেবে চিহ্নিত জিনাত এবং এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লাল রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত তৃতীয় ব্যক্তি এই দুজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মুছাব্বিরকে হত্যার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিল। ডিবি পুলিশের একাধিক টিম প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং একযোগে দুই জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। এই গ্রেপ্তারের ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এবং কার কার ইন্ধন রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁদেরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের তেজতুরী বাজারে অবস্থিত স্টার হোটেলের পেছনের গলিতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবং অস্ত্র সরবরাহের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইতে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির হাইকমিশন এবং আগরতলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশন থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) থেকে এসব জায়গা থেকে পর্যটক ভিসা দেওয়া ‘সীমিত’ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিবিসি বাংলা জানিয়েছে।
বিবিসি বলছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা না হলেও, কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনের সূত্রগুলি খবরটি নিশ্চিত করেছে।
এখন পর্যটক ভিসা সীমিত হলেও বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা দেওয়া চালু থাকছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে থাকা চারটি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে ভাঙচুর করা হয়। তখন ঢাকায় ভিসা সেন্টারের সামনেও বিক্ষোভ হয়। তারপর কয়েকদিন ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে ভারত।
পরে ভিসা সেন্টারগুলো চালু হলেও মেডিকেল ভিসা ও কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য ভিসা ইস্যু বন্ধ রেখেছে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এ শোক প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শোকবার্তায় বলা হয়, অত্যন্ত গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সংবাদ পেয়েছে ইরান সরকার।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, সাহস ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে বেগম খালেদা জিয়া দুইবার বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতির অগ্রগতির সংগ্রামে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল প্রতীক। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শোকবার্তায় ইরান জানায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মহান জাতির দুঃখ–সুখে তারা (ইরান) সর্বদা অংশীদার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।
৭ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় “Energy and Power Sector Master Plan 2026-2050” সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তপক্ষ (বিড)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। উল্লেখ্য, উক্ত সভায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন।
এ মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা।
সভায় আগের তিনটি মহাপরিকল্পনার পলিসি গ্যাপ চিহ্নিত করে তা সংক্ষেপে পর্যালোচনা হয়। নতুন মহাপরিকল্পনা তিন ধাপে (প্রথম ধাপ ২০২৬-২০৩০ সাল, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০-২০৪০ সাল ও তৃতীয় ধাপ ২০৪০-৫০ সাল) বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বিস্তারিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খুঁটিনাটি তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এখানে। এটা সবল হলে অর্থনীতি দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে এই খাত প্রভাবিত করে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পৃথক ইনস্টিটিউশন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। সভায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, ট্রান্সমিশন, সরবরাহ, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সাসটেইনাবিলিটি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রাইমারি এনার্জি সেক্টরকে আরও নিরাপদ, দক্ষ, কম আমদানিনির্ভর ও আর্থিকভাবে টেকসই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অংকের জামানত আরোপের যে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন নিয়েছে, তাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টকর হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভিবাসন সংকট বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাংলাদেশের ওপরই নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই নিয়ম কার্যকর করেছে এবং এই তালিকায় এমন সব দেশ রয়েছে যাদের নাগরিকদের অভিবাসন ও নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার অনেক বেশি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মার্কিন কৌশলের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সোশ্যাল সিস্টেম থেকে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক। ফলে মার্কিন প্রশাসন যখন নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর এমন কঠোর বিধিনিষেধ বা আর্থিক সুরক্ষা কবচ আরোপ করে, সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকাটা অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় বার্তা এবং জাতীয় ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রভাব। তবে এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী না করে তিনি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাকেই সামনে নিয়ে আসেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, যদি গত এক বছরের মধ্যে অভিবাসনের এই নেতিবাচক হার বৃদ্ধি পেত, তবে বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু এই সংকটটি দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে এবং পূর্ববর্তী সকল সরকারের ধারাবাহিক পলিসি ও জনশক্তি রপ্তানির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার ফলেই আজ বাংলাদেশিদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁর মতে, মানুষের বিদেশ যাওয়ার বা অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার এই প্রবণতা কোনো একক সরকারের পক্ষে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা যা বছরের পর বছর ধরে শেকড় গেড়েছে।
অনিয়মিত অভিবাসনের কুফল নিয়ে সতর্ক করে তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার প্রথম দিন থেকেই অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই এই ধরণের আন্তর্জাতিক অপমান ও কঠোরতা থেকে বাঁচার একমাত্র সমাধান। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর কিংবা সাগর থেকে উদ্ধারের ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও, এটি প্রকারান্তরে আইন ভঙ্গেরই শামিল। ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক সম্মান পুনরুদ্ধারে প্রতিটি নাগরিককে আইনসম্মত ও নিয়মিত পন্থায় বিদেশ গমনের আহ্বান জানান তিনি। মূলত সঠিক অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নই এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এবং ওষুধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন করে আরও ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর বিক্রয়মূল্য সরাসরি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে, ১৯8৫ সালে প্রথম এই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হলেও দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম বড় ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন বা ফর্মুলার মাধ্যমে এই সংস্কার সম্পন্ন হলো।
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় থাকা ওষুধগুলো মূলত দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষের সব ধরণের রোগের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। ফলে এই ওষুধগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রচলিত মার্কআপ (লাভের হার) বা কাঁচামালের ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন করেনি, তবে একটি সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে ওষুধের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধের দাম বর্তমানে নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে, তাঁদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে পর্যায়ক্রমে দাম কমিয়ে আনতে হবে। এটি মূলত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পথে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
ওষুধ শিল্পের ওপর এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁদের দাম সমন্বয় করার জন্য চার বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে ইন্ডাস্ট্রিগুলো কোনো বড় ধরণের ধাক্কা না খেয়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারে। অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা আরও প্রায় ১,১০০ ওষুধের ক্ষেত্রেও সরকার একটি স্বচ্ছ তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ এবং ‘এক্সটারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ সাতটির বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে তাঁদের মূল্য একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে থাকতে হবে এবং প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে সমন্বয় করে চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত সীমায় পৌঁছাতে হবে। আর যদি উৎপাদক সাতটির কম হয়, তবে দেশি ও বিদেশি বাজারের মূল্যের তুলনা করে যেটি কম, সেটিকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ডা. সায়েদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এটি বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই এই পুরো কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করবে। বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বা ‘হেলথ ট্রানজিশন’—যেখানে সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরণের ব্যাধিই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা এই নতুন তালিকায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদী অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ওষুধ এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে অনেক দামী ওষুধ এই তালিকায় এখনই যুক্ত করা হয়নি। সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনেক বেশি নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে কোনো পরিবর্তন বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) রদবদলের প্রয়োজন হলে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা অভিমত সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার কমিশনের প্রতিটি চাওয়াকে যথাযথ সম্মান বা ‘অনার’ করার চেষ্টা করবে। মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যদি কোনো পরিবর্তন অপরিহার্য মনে করে, তবে সরকার সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।
সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের ডিসিদের বিষয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁদের রদবদলের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকা অবস্থায় এই ধরণের রদবদল সম্ভব কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন যে, সরকার নিজ থেকে কোনো রদবদলের কথা বলছে না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে কনভিন্সড হয় এবং মনে করে যে রদবদল করা জরুরি, তবেই কেবল সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো পরিবর্তনের আগে কমিশনকে বিষয়টির যৌক্তিকতা নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।
মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানান যে, তিনি এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি। তাঁর মতে, মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং সেই সিদ্ধান্তে সব পক্ষ সবসময় সন্তুষ্ট না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রতিটি প্রার্থীর পরিস্থিতি যেমন ভিন্ন ছিল, তেমনি প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তে ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তাঁদের জন্য আইনি পথে আপিলের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে এবং বর্তমানে শত শত প্রার্থী সেই সুযোগ ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করছেন।
প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে সচিব তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগে যে কেউ যেকোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অভিযোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রশাসন কোনো একটি বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করছে এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর নজরে আসেনি। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রশাসনে যদি সত্যিই কোনো ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা থাকে, তবে তা মেধা ও যোগ্যতার (মেরিট) ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। মূলত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সকল বিভাগ এখন নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।