মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
৯ চৈত্র ১৪৩২

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


২৫ মার্চ গণহত্যার স্মরণে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করবে দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াল গণহত্যার স্মরণে আগামী বুধবার সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত দেশব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে। তবে কেপিআইভুক্ত এলাকা, জরুরি স্থাপনা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দিবসটির পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে ২৫ মার্চ রাতে দেশের কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কিংবা বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা যাবে না।

এর আগে ৮ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও দেশব্যাপী আলোকসজ্জা করা হবে না।

২৫ মার্চের এই প্রতীকী অন্ধকার একাত্তরের কালরাতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পালন করা হবে।


গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া পৃথক এক বার্তায় ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের পুষ্পকানন বা ফুলের বাগানের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করার জন্যও বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ

ফাইল ফটো
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

একটা সময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হতো বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, তবে দীর্ঘ দেড়যুগ বন্ধ ছিল এই কুচকাওয়াজ। দেশের শাসনক্ষমতার পালাবদলের পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশপথে তুলে ধরা হবে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার চিত্র।

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে কয়েক দফা মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা তুলে ধরা হবে। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হক।

কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণ থাকবে। ঘোড়ায় আরোহন করে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আয়োজন।

এবারের কুচকাওয়াজে সাজোয়া, আর্টিলারি, সিগনালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী এবং আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে।

আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা বহন করে অবতরণ করবেন এবং বিমান বাহিনী প্রদর্শন করবে তাদের কৌশলগত সক্ষমতা। সবশেষে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানিয়ে কুচকাওয়াজের সমাপ্তি ঘোষণা করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা এই কুচকাওয়াজ স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে আরও বর্ণিল ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।


জনগণকে আতিঙ্কত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেয়ার আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিশ্চিত করেন, সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং সবাই পর্যায়ক্রমে তেল পাবেন।

তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে গত দুই দিন সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জনমনে কিছুটা চাপের সৃষ্টি হয়েছে, তবে গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে।

একই দিনে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর যে পাঁয়তারা চলছিল, সরকার তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, ঈদের আগে এক ধরনের শঙ্কা থাকলেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলে ঈদযাত্রায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং চাহিদামাফিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের আগের মতো বর্তমানেও বজায় রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তবে সরকারি ভাষ্যের বিপরীতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

তিনি জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণেই মূলত অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে সংকট সাময়িক হলেও স্থায়ীভাবে কোনো পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।


স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে 'কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন' আয়োজিত এক স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং বিশেষ করে রক্তদানের মতো মহৎ উদ্যোগগুলো মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে অনন্য সাধারণ অবদান রাখছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত হওয়ার জন্য তিনি বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।

সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জহিরুল ইসলাম মামুন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ফরিদ জাম্বিল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল হাসেম, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক তালুকদার এবং উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক আবু কাওসার। বক্তারা তাদের আলোচনায় সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা এবং এর সুদূরপ্রসারী সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।


ফিকে হয়ে গেল ঈদের আনন্দ: বান্দরবান যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রূপগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সড়ক পথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে একের পর এক যোগ হচ্ছে লাশের সারি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এক ব্যবসায়ী। বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বান্দরবান ভ্রমণে যাওয়ার পথে কুমিল্লার কোটবাড়িতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. আক্তার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি। এই অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

নিহত আক্তার হোসেন রূপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মোমেন সরকারের ছেলে। তিনি রূপগঞ্জ এলাকায় আরএফএল কোম্পানির সামনে একটি চায়ের স্টল পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে আরএফএল কোম্পানি বন্ধ থাকায় এবং আশপাশের লোকজন বাড়িতে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যস্ততা কম ছিল আক্তার হোসেনের। তাই অবসর সময় কাটাতে বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবান ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত ১০টার দিকে আক্তার হোসেনসহ চার বন্ধু চারটি পৃথক মোটরসাইকেলে করে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তারা কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক আক্তার হোসেনের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা আরেকটি অজ্ঞাত দ্রুতগামী যানবাহন তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা কোটবাড়ি সড়কে দায়িত্বরত সার্জেন্ট বিষয়টি রূপগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন এবং দুর্ঘটনাস্থলের ছবি প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার এসআই জাহাঙ্গীর তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নিজ বাড়ি সরকারপাড়া এলাকায় গিয়ে স্বজনদের এই দুঃসংবাদ জানান।

এদিকে, ঈদের আনন্দের মধ্যে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আক্তার হোসেনের পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে। নিহতের প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মাঝেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


ঈদ ছুটি শেষে মঙ্গলবার খুলছে অফিস-আদালত

আপডেটেড ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষ হচ্ছে সোমবার (২৩ মার্চ)। সাত দিনের বিরতির পর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে আবারও খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার।

গত শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হয়েছে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনের সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ আবার কর্মস্থলে ফিরতে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানও স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে। তবে ঈদের পরপরই আবার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকায় অনেক কর্মজীবী ২৪ ও ২৫ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। এর সঙ্গে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় অনেকের ছুটি টানা ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে।

এ কারণে অফিস-আদালতের কার্যক্রম পুরোপুরি গতিশীল হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে ধীরগতিতে কার্যক্রম চলবে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে রাজধানী স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়ায় তেমন ব্যস্ততা নাও দেখা যেতে পারে। সহকর্মীদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ই থাকে মূল ব্যস্ততা। একই চিত্র দেখা যায় ব্যাংকপাড়ায়ও, যেখানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লেনদেন তুলনামূলক কম থাকে।

এদিকে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ঈদ উপলক্ষে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিল। ফলে সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটিও আজ শেষ হচ্ছে।


জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশের সব পেট্রোল পাম্প যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার (২২ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। কোম্পানির সরবরাহ করা দৈনিক জ্বালানি দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তেল নিতে এসে মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিরামহীন কাজের চাপে পাম্পে কর্মরতরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে যেকোনো সময় পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এর আগে সংগঠনটি পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ, সরকার ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তেল বিক্রির সময় কার্যকর নিরাপত্তা না থাকায় পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।

সংগঠনটি জানায়, ঈদের আগের দিন একটি পাম্পে সাড়ে ১০ হাজার লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। অন্য একটি পাম্পে প্রায় আট হাজার লিটার জ্বালানি ছিল। স্বাভাবিকভাবে এসব মজুত কয়েকদিন চলার কথা থাকলেও অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে খুব অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিকে তারা লুটতরাজের সঙ্গে তুলনা করেছে।

আরও অভিযোগ করা হয়, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল নিচ্ছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে পাম্পগুলো তেল বিক্রি করলেও কিছু চালক দিনে প্রায় ১০ বার পর্যন্ত তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে জোর করে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে সব তেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা অন্যান্য জায়গাতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, জ্বালানি ঘাটতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও ঝুঁকি বাড়ছে এবং ট্যাংকার লুট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে।


ঈদের ছুটিতে দেশজুড়ে সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৭ জনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটির মধ্যে সারা দেশে সড়ক ও রেলপথে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) ঈদের ছুটির এই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব দুর্ঘটনা ঘটে, যা উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপান্তর করেছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায়, যেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় একই পরিবারের মা ও দুই শিশুসহ ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোরে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেন সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

একই দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বেপরোয়া গতির পিকআপ ভ্যানের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ঈদের ছুটিতে নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে এবং নাটোর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের এই সময়ে ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের অসতর্কতা এবং রেলক্রসিংয়ে সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।

এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।


ঈদ ভ্রমণের চমকপ্রদ গন্তব্য হতে পারে সুন্দরবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত পর্যটকদের বরণে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন বনবিভাগ।

পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়িয়া, আন্দারমানিক, আলিবান্ধা, কটকা, কচিখালী ও আলোরকোলসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের টিম, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক কাজ করছে।"

এদিকে নদীপথে যাতায়াতে লঞ্চ ও ট্রলারগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শরণখোলার ট্যুর অপারেটর মো. রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, “ঈদকে ঘিরে বুকিং বাড়ছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।"

স্থানীয় পর্যটকরাও সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। বনের ভেতরে উচ্চশব্দে মাইক বাজানো এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে—এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের টানে এবারের ঈদেও সুন্দরবন হয়ে উঠতে পারে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্য।


লন্ডন গেলেন ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। রোববার (২২ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১ নম্বর ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ডা. জুবাইদা রহমান সকালে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

লন্ডন যাত্রার আগের দিন শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রধানমন্ত্রী যখন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তখন সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্ত্রী, সন্তান এবং ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারসহ স্বজনদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই ডা. জুবাইদা রহমান ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন।


কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ট্রেন ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কুমিল্লার রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ এবং এর আগে বগুড়ায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই শোক জানান। রোববার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র ঈদের এই আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রতিটি জীবনের অকাল মৃত্যু দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ দ্রুত খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।

রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন খাতের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

ইতোমধ্যেই কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।


রেল ক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: রেল প্রতিমন্ত্রী

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে বিশ্বরোড এলাকায় গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এর একটি হচ্ছে যেখানে যেখানে রেলের লেভেল ক্রসিং রয়েছে সেখানে আন্ডারপাস ও ওভারপাস করা হবে। আরেকটি হচ্ছে অটোমেটিক সিস্টেম, মানে রেলে ক্রসিং এর কাছাকাছি রেল আসার সঙ্গে সঙ্গে অটোমেটিক সিস্টেমে গেট পড়ে যাবে, এসব ক্রসিং এ গার্ডও দায়িত্ব পালন করবে।”

এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

দুর্ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রেল ক্রসিংয়ের দুজন গার্ড ও স্টেশন মাস্টারের অবহেলার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে, ইতিমধ্যে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে একটি বিভাগীয় ও একটি জোনাল আওতায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সুতরাং এই ব্যাপারে কোনো রকম গাফিলতি সহ্য করা হবে না।”

নিহতদের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “যারা নিহত হয়েছে ইতিমধ্যে প্রতিটি পরিবারকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রতি জনের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।”

আহতদের চিকিৎসা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রির সঙ্গে কথা বলেছি, যারা দ্রুত রাখতে হয়েছে তাদের মধ্যে যদি কাউকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন হয় আমরা সেই ব্যবস্থাও করব। এছাড়াও যারা আহত হয়েছেন তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোঁজখবর রাখছেন।”

এদিকে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “এই ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে, এই ঘটনায় আরো যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই রেল ক্রসিং এলাকায় ওভারব্রিজ থাকার পরও কিন্তু বাসচালকরা ওভার দিয়ে না গিয়ে নিচের রেল ক্রসিং ব্যবহার করেছেন, এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। হাইওয়ে সড়কগুলোতে এভাবে রেল ক্রসিং রাখা নিরাপদ নয়, স্থানীয় গাড়িগুলোর জন্য আমরা আন্ডারপাস ব্যবস্থা করব।”

তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ এলাকায় রেলের অনুমোদন ছাড়াই রেল ক্রসিং করা হয়েছে সেটার বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নেবো। যেগুলো হয়ে গেছে সেগুলোতে আমরা গেটম্যান নিয়োগ দেব।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজা হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।


banner close