মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
১ বৈশাখ ১৪৩৩

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


গালিবাফের পেশাদারিত্বে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে মুগ্ধ হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ডেভিড ইগনাটিয়াস তার এক মতামতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার শুরুতে দুই পক্ষই বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের কাছে গালিবাফ নিজেকে অত্যন্ত মার্জিত এবং বিচক্ষণ সমঝোতাকারী হিসেবে তুলে ধরেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামে বলা হয়েছে, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এখন গালিবাফকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে কল্পনা করছেন। তাদের ধারণা, গালিবাফ এমন একজন ব্যক্তি যিনি ইরানকে কট্টরপন্থি অবস্থান থেকে বের করে একটি স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারেন। এমনকি ইরানের ভেতরেও অনেক প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখন গালিবাফের মাধ্যমে পশ্চিমের সঙ্গে একটি ‘গোল্ডেন ব্রিজ’ বা সোনালি সম্পর্কের দিকে ঝুঁকতে আগ্রহী।

ডেভিড ইগনাটিয়াস লিখেছেন, গালিবাফ দুই দশক ধরে নিজেকে একজন বাস্তববাদী এবং ‘দাভোস’ ঘরানার নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। ২০০৬ সালে তেহরানের মেয়র থাকাকালীন তিনি রাস্তার গর্ত মেরামত এবং আবর্জনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো পশ্চিমের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে চেয়েছিলেন। এখন ২০ বছর পর, পরিবর্তনকামী হিসেবে গালিবাফের জন্য সময় এসেছে কিছু করে দেখানোর অথবা চুপ হয়ে যাওয়ার।


আওয়ামী লীগ ও হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নেই বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তেমন বেশি আলোচনা হয়নি। তার আর এখন গুরুত্ব নেই। আওয়ামী লীগ ও হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নেই।’

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত নিয়ে আসার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ফেরত আনার ব্যাপারে আমরা বলেছি। আমরা বলেছি, জুডিশিয়াল প্রসেসে আমরা এগোচ্ছি। আমরা চাইবো, সো ইটস বিন ডিসকাসড। জুডিশিয়াল প্রসেসের মাধ্যমেই এই এঙ্গেজমেন্টটা আমরা এঙ্গেজ করব।’

ভারতীয় ভিসা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা যেটা গুরুত্ব দিয়েছি, সেটা হলো শিগগিরই মেডিকেল ভিসাগুলা ওপেন আপ করে দিতে। উনারা এটা পজিটিভ রিসিভ করছেন। মেডিকেল ভিসা, ব্যবসায়িক ভিসা, যাতে ওপেন আপ হয়, তো আশা করি এইটা ইন দি কামিং উইক একটা পজিটিভ দিক থেকে আমরা দেখতে পাবো।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিক্রি করে বিএনপি সরকার কিছুই করবে না। বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নিয়ে কাজ করবে। দ্যাট ইজ দি সোল সেন্টার পিস অব আওয়ার ফরেন রিলেশনস, ফরেন ইকোনমিক পলিসিস- মানে আমরা যেখানেই করব বাইল্যাটারাল হোক মাল্টিল্যাটারাল হোক আমরা বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইন্টারেস্টকে সবসময় প্রাধান্য দেবো।’


ঢাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) পদে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। আগামী চার বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব এ এস এম কাসেমের সই করা প্রজ্ঞাপনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অধ্যাপক আব্দুস সালামের নিয়োগ উপ-উপাচার্য পদে যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। উপ-উপাচার্য পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

অধ্যাপক আব্দুস সালাম বর্তমানে ঢাবির বিজ্ঞান অনুষদের (ভারপ্রাপ্ত) ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।


সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অবকাশ নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিসিএসসহ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের আর কোনো অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেছেন, বিসিএসসহ চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি এখন আর কোনোভাবে আসে না। মূল্যায়ন পদ্ধতিটি কীভাবে সংস্কার বা কীভাবে এটিকে মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৌখিক পরীক্ষা সম্পর্কে মানুষের অনেক প্রশ্ন থাকে; দেখা যায় মেধাবী ছাত্র বা ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীও কোনোভাবে আসতে পারছে না।

সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) সংস্কার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।

মৌখিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিপিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষার বিষয়টি মানুষের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য করতে কষ্ট হয়। দেখা যায় বারবার ভাইভা দিলেও হয়তো নম্বর কম হচ্ছে। মৌখিক পরীক্ষা কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করা যায়, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা একটু খেয়াল রাখবেন।

মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী আরও বলেন, মৌখিক পরীক্ষা আগে ২০০ নম্বর ছিল। আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলাম, তখন এটি ১০০ করার প্রস্তাব করেছিলাম। তখন পিএসসিকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে ১০০ নম্বর করা হয়। পরবর্তীতে সেটি আবার ২০০ হলেও বর্তমানে আবার ১০০ নম্বর করা হয়েছে।

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো (অর্গানাইজেশন) নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের আস্থা কমে গেছে। এখন এগুলোকে ঠিক করে নিয়ে আসা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন যেসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং মেধা, সততা ও দক্ষতার ওপরেই কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। বিদ্যমান নিয়োগ পদ্ধতিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।


আইজিপির সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশনের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আনজা কার্স্টেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাক্ষাতকালে ডেপুটি হেড অব মিশন নবনিযুক্ত আইজিপিকে অভিনন্দন জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

ডেপুটি হেড অব মিশন ক্রাউড কন্ট্রোল, সাইবার সিকিউরিটি, ফরেনসিক, বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া দলিলাদি যাচাই এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আইজিপিকে জার্মান দূতাবাসের শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।

আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানে জার্মান সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তিনি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদায় ১৪৩২। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ - বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

তিনি আরও বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

তিনি জানান, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আশা করি, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি - এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।


হজ ক্যাম্প ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেবিচক চেয়ারম্যান

আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে হজ ক্যাম্প ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান হজযাত্রীদের সার্বিক প্রস্তুতি, সেবার মান এবং কাউন্টারে কর্মরত স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসমূহের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি হজযাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে যাত্রীসেবা মান উন্নয়ন এবং প্রক্রিয়াসমূহ আরও দ্রুত ও সহজতর করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

অতঃপর বেবিচক চেয়ারম্যান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হজ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং যাত্রী হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিদ্যমান সেবার মান, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং তাৎক্ষণিক সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সেবার মানোন্নয়ন, সময় ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে হজযাত্রীদের যাত্রা আরও সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ হয়।

পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান আশা ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বছরের হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে।

এসময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক এর সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান; বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি, সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান; সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি,এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি); সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এটিসি; সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড এন্ড রেগুলেশন্স) এয়ার কমডোর মোঃ মুকিত-উল-আলম মিঞা, বিইউপি, পিএসসি, জিডি(পি); প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া হোসেনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ।


কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে কাল পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সফরসূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় সড়ক পথে রওনা হবেন তিনি। সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমে সন্তোষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টায় পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেনের সই করা সিডিউল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে টাঙ্গাইলে গেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ।


বাংলাদেশিদের জন্য আগামী সপ্তাহে ভিসা চালু করছে ভারত: হুমায়ুন কবির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ভিসার সঙ্গে ব্যবসায়িক ভিসাও চালু করতে ভারত সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে এই ভিসা চালু হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ তথ্য জানান। ভারতের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভালো মাইন্ডসেট থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’

এ সময় পাইপলাইনের ডিজেল দেওয়ার কারণে ভারতকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত মঙ্গলবারপররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তিন দিনের সফরে দিল্লি যান।

এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা।


বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দিন দিন স্বাভাবিক হচ্ছে: ভারতীয় হাইকমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দিন দিন স্বাভাবিক হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুদেশের মধ্যে আবেগ এবং সংস্কৃতির যে সম্পর্ক, সেটা ধরে রাখতে কাজ করছি। দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী। দুই দেশের মধ্যে এনার্জি, যোগাযোগ, সংস্কৃতিসহ নানা বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

একই সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য জনগণ ধারণ করে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, যেসব এলাকায় কাজ করলে দুই দেশের জনগণই লাভবান হবে সেসব এলাকায় পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কাজ করবে বাংলাদেশ-ভারত। এছাড়া দুই দেশের সংসদীয় কার্যক্রম নিয়মিত আদান প্রদান অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলাপ হয়েছে বলেও জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।


কাল টাঙ্গাইলসহ সারাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন: কৃষিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’। তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এর আওতায় কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।

আগামীকাল ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থল পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি দেখতে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য ও অধিকার পান, এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় দিনটি দ্বিগুণ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, অন্যদিকে দেশের প্রথম কৃষক কার্ড কর্মসূচির যাত্রা, যা টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পাইলটিং ও পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামীকালের কর্মসূচিকে ঘিরে টাঙ্গাইলের জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই জেলাতেই প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

টাঙ্গাইলবাসী অনেক ভাগ্যবান জানিয়ে তিনি বলেন, মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষকদের দাবি আদায়ের জন্য জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। তার স্মৃতিবিজড়িত টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন হওয়া গর্বের বিষয়। আগামীকালের কর্মসূচিতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করবেন। আশা করি এটি একটি স্মরণীয় অনুষ্ঠান হবে এবং সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


জিডিপির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য সঠিক ও নির্ভুল তথ্যের কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি সেক্টরে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা গেলে তথ্যের ওভারল্যাপিং (দ্বৈততা) বন্ধ হবে এবং অপতথ্য কমে আসবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদ (কিউজিডিপি) এবং জেলাভিত্তিক মোট দেশজ উৎপাদ (ডিজিডিপি) উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী তথ্য-উপাত্তের স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো তথ্য ও উপাত্তকে নির্ভরযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনায় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এখানে কোনো প্রকার ম্যানুপুলেশন বা কারচুপি সহ্য করা হবে না।

বিগত সরকারের সময় জিডিপির তথ্য যে বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল, সে প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা অতীতে জিডিপি নিয়ে তথ্য বিভ্রাটের সমালোচনা করেছি। তাই আমাদের দায়িত্ব এখন সঠিক তথ্যটা জনগণের সামনে তুলে ধরা। তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিবিএসর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, আলেয়া আক্তার, সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিবিএসর পরিচালক মুহাম্মদ আতিকুল কবীর। সেমিনারে বক্তারা জেলাভিত্তিক জিডিপি (ডিজিডিপি) এবং ত্রৈমাসিক জিডিপি (কিউজিডিপি) নির্ণয়ের পদ্ধতিগত উন্নয়ন ও এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


দুই সচিবের দপ্তর বদল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) হিসেবে বদলি করে রোববার (১২ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) জাকারিয়াকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ২ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীকে পদোন্নতি দিয়ে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। অন্যদিকে গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) থাকার সময় জাকারিয়াকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদায়ন করা হয়। পরে তাকে পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে।


banner close