কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
দেশের কয়েকটি অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আবহাওয়া অফিসের বিকেল ৪টা থেকে পরবর্তী দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এছাড়া এসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মোট ৪৯ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির ৩৬ জন, তাদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র জোটের একজন এবং জামায়াত জোটের ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
বিএনপির বৈধ প্রার্থীরা হলেন- সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার।
এ ছাড়াও রয়েছেন, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। একইসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক (শ্রাবণ-জুয়েল কমিটির) সহ সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই-এর মনোনয়ন বৈধতা পায়।
জামায়াত জোটের বৈধ প্রার্থীরা হলেন- নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানের কাছে ইমেইলে চিঠি পাঠিয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সিপিজে তাদের ওয়েবসাইটে এ চিঠিটি প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে সিপিজে নতুন সরকারকে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মামলা প্রত্যাহার, অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্তকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায়।
সংস্থাটি জানায়, এই সাংবাদিকরা ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে হত্যা মামলায় আটক রয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং এখনো কোনও চার্জশিট দাখিল করা হয়নি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আগের সরকারের সময় সাংবাদিকদের গ্রেফতার তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রতিশোধ হিসেবে হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৬০০ দিন পার হলেও আইনগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে পুলিশ এখনও অভিযোগ প্রমাণে কোনও চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি।
চিঠিতে আটক সাংবাদিকদের মানবিক পরিস্থিতির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, শ্যামল দত্ত হৃদরোগ এবং গুরুতর স্লিপ অ্যাপনিয়া সমস্যায় ভুগলেও তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। মোজাম্মেল হক বাবু ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রস্টেট ক্যান্সারের বড় অস্ত্রোপচারের শিকার হলেও ফলো-আপ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এছাড়া ফারজানা রূপাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই সপ্তাহ ধরে মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে রাখা হয়েছিল।
আইনমন্ত্রী মো আসাদুজ্জামান বলেছেন, নিপীড়িত মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীতে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
মিথ্যা মামলা দেয়ার সংস্কৃতি থেকে মানুষকে বের হবার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, নিপীড়িত মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
লিগ্যাল এইড সেবা থেকে কেউ বঞ্চিত হলে আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতে যাওয়ার আগে কোনো সমস্যার সমাধানে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মিমাংসা করার চেষ্টা করুন।
যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন কিন্তু আদালতে যেতে পারছেন না তারা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাবেন আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা মামলা জট কমাতে চাই তাই লিগ্যাল এইড কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আবার কেউ মামলার মাঝামাঝিতে সমঝোতা করতে চাইলে তারও ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ভুল তথ্য এবং অপতথ্য রোধ করা বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা এখন। এ সমস্যা বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছে। এটি রোধে নৈতিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
‘গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ এবং নৈতিক সহায়তা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র’, যোগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক যে সম্পর্ক রয়েছে-- তা আরও জোরালো করতে চায় দুই দেশ।
এমন একটি উন্নত দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের এবার এলপিজি কার্ড সেবা দেওয়া হবে।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে বক্তব্যে বিষয়টি জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের এলপিজি কার্ড সেবা দেয়া হবে। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে ভালো রাখা।’
তিনি আরও জানান, ‘শার্শার উলাশী খালে পানি আসলে ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যশোরের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এয়ারলাইন্সটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সফরসূচি অনুযায়ী, শার্শা উপজেলার উলশী খাল খননের পর আয়োজিত পথসভা বা সুধী সমাবেশে যোগ দেন তিনি। শার্শা থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকালে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটাই যশোরে প্রথম সফর। আর গত তিন মাসের মধ্যে যশোরে এটা তার দ্বিতীয় সফর।
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আজ সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে শার্শা যাওয়ার পথে রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান।
শার্শার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী যশোর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন। এরপর বিকেলে তিনি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। একে যশোরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি বড় উপহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের শেষ পর্যায়ে বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো যশোর জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভা শেষে আজ সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকেই ঢাকার উদ্দেশ্যে আকাশপথে প্রধানমন্ত্রীর রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫টি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, ৫টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ৪টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের ১০ম একনেক সভায় গৃহীত এই প্রকল্পগুলো দেশের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আরও ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পরিকল্পনামন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশাল এই বাজেটের প্রকল্পগুলো দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সভায় জানানো হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন, মধুখালী থেকে মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ এবং বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ প্রকল্পগুলো এই তালিকায় রয়েছে। সামাজিক খাতের উন্নয়নে নগর জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পটিও এই সভায় সবুজ সংকেত পেয়েছে।
এবারের সভায় তিনটি নির্দিষ্ট সড়ক প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচবার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয় এবং এর কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার নিচে ব্যয় ধরা হয়েছে এমন ৩৩টি ছোট প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক পূর্বেই অনুমোদনের বিষয়টি একনেক সভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং যথাযথ স্বচ্ছতা বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন যে, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং কাস্টমস আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন গতির সঞ্চার হবে। সামগ্রিকভাবে এই বিশাল বিনিয়োগ প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশের অবকাঠামোগত ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসাবে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার। পার্থক্য তুলনামূলক কম হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতির আকারের বিচারে ভারত এখনো অনেক এগিয়ে। ২০২৫ সালের হিসাবে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড়। তবে মাথাপিছু আয়ের সূচকে ছোট অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই প্রবণতাকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও কিছু ভারতীয় বিশ্লেষকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটি বাংলাদেশের প্রকৃত অগ্রগতি, নাকি কেবল বিনিময় হারভিত্তিক পরিসংখ্যানের প্রতিফলন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ মুদ্রার বিনিময় হার। ২০১৮ সালের পর কয়েক বছর ডলারের হিসাবে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে সেই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়েও বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। পরবর্তীতে প্রায় দেড় দশক ভারত এগিয়ে থাকলেও ২০১৮ সালে আবারও বাংলাদেশ শীর্ষে উঠে আসে।
তবে আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারত পুনরায় এগিয়ে যেতে পারে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ডলার মূল্যে মাথাপিছু জিডিপি একটি পরিবর্তনশীল সূচক, যা বিনিময় হারের ওঠানামার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কোনও দেশের মুদ্রার মান কমে গেলে উৎপাদন অপরিবর্তিত থাকলেও ডলারে তার মূল্য কমে যায়।
অপরদিকে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি)-ভিত্তিক হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এই পদ্ধতিতে দেশীয় মুদ্রার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেখানে ভারত এখনো স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপিভিত্তিক মাথাপিছু আয় ছিল ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের ১০ হাজার ২৭১ ডলারের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সাল নাগাদ এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তখন ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার, বিপরীতে বাংলাদেশের হতে পারে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারভিত্তিক মাথাপিছু আয়ের এই সাময়িক অগ্রগতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তা এককভাবে জনগণের জীবনমানের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। এজন্য পিপিপি, আয়বৈষম্য ও জীবনযাত্রার মানসহ অন্যান্য সূচক সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। একদিনেই ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নুর-এ আলম স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ, খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা), পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার চাকরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে এই নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. লুৎফর রহমান। তার চাকরি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশা। তার চাকরি কৃষি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। তার চাকরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। তার চাকরি শিল্প মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন। তার চাকরি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক হয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এজন্য তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার চাকরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক করে তার চাকরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল হয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদ। তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত এবং হামের উপসর্গ থাকা ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৬৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৪৩ জন। বাকিদের শরীরে হামের উপসর্গ আছে। মৃত শিশুদের মধ্যে একজন হামে আক্রান্ত ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২১৬ শিশু। মৃত্যুর হার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০২ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ২৮ শিশু মারা গেছে।
১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে ৩২ হাজার ২৮ জন আর হামে আক্রান্ত হয় ৪ হাজার ৬০৩ শিশু।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদকে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গ্রেড-১ পদমর্যাদায় তাকে এক বছর মেয়াদে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সৈয়দ আবদাল আহমদকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, সৈয়দ আবদাল আহমদ আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন।
দেশে প্রায় ৮০ লাখ ইটিআইএনধারী তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেননি এখনও। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের তালিকা তৈরি করে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার এনবিআর ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী আছেন। সেখান থেকে হয়তো ৫০ লাখের মতো রিটার্ন পড়বে। যারা রিটার্ন দেন নাই, ই-টিআইএন ডাটাবেজ এবং ই-রিটার্ন ডাটাবেজ আমাকে অটোমেটিক্যালি লিস্ট তৈরি করে দেবে কারা রিটার্ন দেয়নি অর্থাৎ নন-ফাইলার। আমরা অটোমেটেড বেসিসে এই নন-ফাইলারদের লিস্ট থেকে তাদের কাছে নোটিশ যাবে। এরপরও যদি রিটার্ন না দেন তাহলে ইন্সপেক্টর যাবে, সে তার আয়-ব্যয় হিসাব করে দেখবে।
তিনি বলেন, আমরা অডিট সিস্টেমটাকে স্বচ্ছ করার জন্য আমরা ম্যানুয়াল সিলেকশন পদ্ধতি টোটালি স্টপ করে দিয়েছি। এখন রিস্ক বেসড অটোমেটেড অডিট সিলেকশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ এর জন্য প্রথম পর্যায়ে আমরা ১৫ হাজারের মতো র্যান্ডম সিলেকশন করেছিলাম। সেকেন্ড ফেজে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি সিলেকশন হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ম্যানুয়াল ইন্টারঅ্যাকশন নেই, এটি টোটালি সিস্টেম জেনারেটেড। ফলে ট্রান্সপারেন্সি এনশিওর হবে।
অন্যদিকে ভ্যাটের অডিট সিস্টেমের বিষয়ে আবদুর রহমান বলেন, ভ্যাটের ক্ষেত্রেও আমরা ২০টি ক্রাইটেরিয়া দিয়ে ৬০০টি প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করেছি। লার্জ ট্যাক্সপেয়ারদের জন্য জয়েন্ট অডিট শুরু করেছি যেখানে ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাক্স টিম একসঙ্গে অডিট করবে। আমাদের দেশে রিটেইল লেভেলে ভ্যাটের আওতা খুবই ছোট। বর্তমানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ৮ লাখেরও কম, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা আইনে কিছু পরিবর্তন এনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাড়ানো এবং প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, যারা নতুন ভ্যাটে আসবে, তাদের লাইফ ইজি করার জন্য আমরা কাজ করছি। তাদের হয়তো প্রতি মাসে রিটার্নই সাবমিট করতে হবে না; বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট দিলেই হবে। তারা মোবাইল বা ডেস্কটপ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ভ্যাট দিতে পারবে। কেউ তাদের কাছে খাতা-পত্র বা কম্পিউটার নিয়ে আসবে না। কর ফাঁকি, ভ্যাট ফাঁকি এবং বন্ডের মিসইউজ রোধ করতে আমাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমরা প্রত্যেকটি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটকে ট্র্যাক এবং ট্রেস করতে চাই। কিউআর কোড এবং এআর কোড জেনারেট করে স্ট্যাম্পের মতো লাগিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে টোব্যাকো দিয়ে শুরু করলেও পরে পানির বোতল, ড্রিঙ্কস, সাবান, শ্যাম্পু এমনকি চিপসের প্যাকেটেও এটি চালু হবে।
সাধারণ মানুষকে হুইসেল ব্লোয়ার উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ১৮ কোটি জনগণের ৩৬ কোটি চোখকে ব্যবহার করবো কর ফাঁকি উদ্ধারে। সাধারণ মানুষ মোবাইল দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখবে পণ্যটি ট্যাক্স দিয়ে বাজারে এসেছে কি না। তারা যদি হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে তথ্য দেয়, তবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং ফাঁকিদাতাদের পেনাল্টি দেওয়া হবে।
একটি ট্রান্সপারেন্ট সিস্টেম তৈরি হলে ট্যাক্সপেয়ারদের হয়রানি কমবে এবং ট্যাক্স নেট বড় হবে, যার ফলে কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ারদের ওপর চাপ কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।