রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
৫ মাঘ ১৪৩২

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার নির্দেশ সেতু সচিবের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতু এবং উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ বা সাসেক-২ প্রকল্পের নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি যমুনা সেতু এলাকা এবং সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধে চলমান নদীশাসন কাজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক এবং সাইট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে সচিব মহোদয় যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে চলমান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং সেতুর স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং যানচলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে টোল প্লাজায় যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন সিস্টেম বা ইটিসি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার নির্দেশনা দেন।

পরবর্তীতে সেতু সচিব টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়নাধীন সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাসেক-২ প্রকল্পটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং এটি পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সচিব প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন, যাতে প্রকল্পের সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষায় নির্মাণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে নির্মাণকাজ চলাকালীন মহাসড়কে যেন যানজট বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পর্যাপ্ত ডাইভারশন ও রোড সাইন স্থাপন করতে এবং ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।


যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে: আসিফ নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে কোনো সংস্কার হয়নি বলে যারা প্রচার করছেন, তাদের দাবি সঠিক নয়। বরং বিগত সময়ে যথেষ্ট সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথাবার্তা বলাটা উদ্দীপকের মতো কাজ করে এবং এতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি ভিউ বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা সংস্কারের অগ্রগতির বিষয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা যদি ১০ থাকে, তবে অন্তত চার ভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার যেভাবে করার পরিকল্পনা বা ইচ্ছা সরকারের ছিল, বাস্তবে নানাবিধ কারণে তা সেভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবুও সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইন প্রণয়ন ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আসিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে শুধুমাত্র ১০ বছর ধরে জয় বাংলা কিংবা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিলেই কেউ বিচারক হতে পারবেন না। বিচারক হওয়ার জন্য যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিই প্রধান বিবেচ্য হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে সেই সংস্কার উচ্চ আদালতের ভেতর থেকেই আসতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা করণীয়, তার সবই করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ড. আসিফ নজরুল বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ব্যাপকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যতটা পরামর্শ বা কনসালটেশন করেছেন, তা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশে পূর্ণাঙ্গ আইনের শাসন বা রুল অব ল প্রতিষ্ঠা করতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান সরকার সংস্কারের পথে যে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যদি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবেই জনগণ এই সংস্কারের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে।


লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনকালে ব্যবহার হবে না, নিশ্চিত করলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, পুলিশের লুট হওয়া কোনো অস্ত্র আসন্ন নির্বাচনকালে ব্যবহার হবে না। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো যাতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই অস্ত্রগুলো ব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্তপথে কিছু অস্ত্র আসার চেষ্টা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো উদ্ধার করছে এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি কোনো প্রার্থীর প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করাও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তারা যদি সঠিক পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন, তবে এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে গণ্য হবে।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে জঙ্গি ও চরমপন্থি তৎপরতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং জঙ্গিবাদ এখন নেই বললেই চলে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি বিদেশে অবস্থান করছে। সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে।

সারদায় অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জনসহ বিভিন্ন ব্যাচের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তারা আজ থেকে বাস্তবিক কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য অনুষ্ঠানে সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। এবার বেস্ট প্রবেশনার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডে সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজে সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপে সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। নবীন এই কর্মকর্তারা এখন মাঠ পর্যায়ে ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় যোগ দেবেন।


নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয় বরং তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। রবিবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে যদি কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি তথ্য প্রকাশ করেন।

মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষার বিষয়টি মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।


ভাসানচরকে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা আলোচিত দ্বীপ ভাসানচরের প্রশাসনিক সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হতে যাচ্ছে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দ্বীপটিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি টিমের পর্যালোচনায় ভাসানচরসহ মোট ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপ উপজেলার ভৌগোলিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই প্রতিবেদনের আলোকে এই মৌজাগুলোকে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, বিরোধপূর্ণ ছয়টি মৌজা—ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কাউয়ারচরের সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) এবং আরএস ম্যাপের পেন্টাগ্রাফ ও আর্কাইভ জিআইএস পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো মূলত সন্দ্বীপ উপজেলার অংশ। যদিও দিয়ারা জরিপে ভুলবশত এগুলোকে হাতিয়ার অংশ করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবিক পর্যালোচনায় তা সন্দ্বীপের সীমানায় পড়ে।

ভাসানচরের মালিকানা নিয়ে এই বিরোধের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ২০১০ সালে জেগে ওঠা এই দ্বীপটি ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্বীপটিকে তার নিজ জেলা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের দাবি ও ক্ষোভ থাকলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সন্দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষ দ্বীপটিকে নিজেদের মানচিত্রে ফিরে পেতে সরব হন।

জনগণের দাবির মুখে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সীমানা জটিলতা নিরসনে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির একাধিক সভার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই ভূমি মন্ত্রণালয় ভাসানচরকে সন্দ্বীপে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।


পে-স্কেলের কাঠামো চূড়ান্ত, বাড়ল ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন হবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

আগামী ২১ জানুয়ারি নতুন বেতনকাঠামো–সংক্রান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ–এর কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন। এরপর প্রতিবেদনটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। বেতন কমিশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

সুপারিশকৃত কাঠামোয় নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান–কে কমিশনের প্রধান করা হয়। ২১ সদস্যের এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।


এলপিজি সংকট: দ্বিগুণ দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

ঢাকাজুড়ে পাইপলাইনের গ্যাসে মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও আবার অল্প আঁচে টিমটিম করে জ্বললেও রান্না করতে লাগছে দ্বিগুণ সময়। এ সংকটের মধ্যেই বিকল্প হিসেবে এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। কিন্তু সেখানেও চলছে চরম নৈরাজ্য– এলপিজির বাজার চলে গেছে সিন্ডিকেটে কব্জায়। দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ভোক্তা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে আসে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। আর গত বছর আসে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। আমদানি বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো ১০ শতাংশ কমেছে। এতে বছর শেষে যেটুকু মজুত থাকার কথা, তা–ও বাজারে বিক্রি করা হয়ে গেছে। এরপরও বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।

বিইআরসি বলছে, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছে ৫২টি কোম্পানি। এর মধ্যে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরতে ৩২টি কোম্পানির নিজস্ব প্ল্যান্ট আছে। আমদানি করার সক্ষমতা আছে ২৩টি কোম্পানির। গত বছর কোনো না কোনো মাসে আমদানি করেছে ১৭টি কোম্পানি। আর প্রতি মাসে আমদানি করেছে মাত্র ৮টি কোম্পানি। বছরের শুরুতে আমদানি করলেও শেষ দিকে কেউ কেউ আমদানি বন্ধ রাখে।

বিইআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এলপিজির এ সংকট আরও আগেই বুঝতে পারার কথা ছিল। প্রতি মাসে আমদানি কমার এসব তথ্য সরকারের কাছে আছে। তাই যারা নিয়মিত আমদানি করে, তাদের আমদানি বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। যথাসময়ে অনুমতি দিলে বর্তমানের এ সংকট তৈরি হতো না।

বিইআরসি বলছে, এলপিজি আমদানি বাড়াতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। ঋণপত্র (এলসি) খোলায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমদানির অনুমতি বাড়িয়ে দিয়েছে বিইআরসি। ব্যবসায়ীরা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আমদানি বাড়লে সরবরাহ-সংকট কমে আসবে।

২০২৪ সালে আসে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। আর গত বছর আসে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। আমদানি বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো ১০ শতাংশ কমেছে। এতে বছর শেষে যেটুকু মজুত থাকার কথা, তা–ও বাজারে বিক্রি করা হয়ে গেছে। এরপরও বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ভোক্তা।

বর্তমানে এলপিজির যে সংকট, তা সরবরাহজনিত সংকট বলে করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। এলপিজির বাজার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, গত নভেম্বর পর্যন্ত ১৭০টি জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। ডিসেম্বরে আরও ২৯টি জাহাজ নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের মতো বড় ক্রেতারাও এখন বৈশ্বিক এলপিজি বাজার থেকে কিনছে। তাই এলপিজি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

তবে চলমান এলপিজিপর সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করেন এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক। একই গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, লোয়াবের পাঁচ সদস্য কোম্পানি এক বছর আগে আমদানি বাড়াতে অনুমোদন চেয়েছিল। এক বছর পর চিঠির জবাবে মন্ত্রণালয় বলেছে, এটা নীতিমালা অনুমোদন করে না। এরপর আবার চিঠি দেওয়া হয়েছে গত আগস্টে। নতুন প্ল্যান্টের অনুমোদন চাইলেও দেয়নি।

দোকানিদের ভাষ্য, পরিবেশকেরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার দিচ্ছে না। কোথাও দিনে যে কটি সিলিন্ডার আসে, তা ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।

এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান বলেন, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এখনো ৭০ শতাংশ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। শিগগিরই সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।


পে কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় পে কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই সরকার তা বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

নতুন পে-স্কেল বা বেতনকাঠামো প্রসঙ্গে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর পর দেশে জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং কমিশন বর্তমানে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে অনেকগুলো বাস্তবিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো অর্থের জোগান বা বাজেটের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। তাই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সরকার সব দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।

গণভোট সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতেই এই গণভোটে অংশগ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কার্যক্রমকে ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ বা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যেন এই সংস্কার কার্যক্রমকে সহজেই এগিয়ে নিতে পারে, সেই পথ সুগম করতেই মূলত গণভোটের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আগামী নির্বাচন খুবই ক্রিটিক্যাল: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটপূর্ণ বা ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের দিন সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সবাইকে গণভোটে অংশ নিতে হবে। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করলে দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে দেশের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইতিপূর্বে দেশে অনেক নির্বাচন হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধামতো একতরফাভাবে সংস্কার কাজ করেছে। কিন্তু কোনো সময়ই সেসব সংস্কার জনবান্ধব বা টেকসই হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে, ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। জনগণের ম্যান্ডেট বা সম্মতি ছাড়া একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট প্রদান করা জরুরি, যা রাষ্ট্রীয় সংস্কার কাজগুলোকে ত্বরান্বিত করবে।

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আসন্ন নির্বাচনকে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শুধু দেশের মানুষই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা পর্যবেক্ষণ করছে যে বাংলাদেশ সংস্কারের পথে হাঁটছে কি না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে। তাই বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। গ্রামের সাধারণ মানুষও গণভোট সম্পর্কে সচেতন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সুসজ্জিত ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্বোধন করা হয়, যা প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরি করবে।


আগামী ২১ জানুয়ারি জমা হচ্ছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন: ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের সুপারিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে সরকার গঠিত বেতন কমিশন। আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন এই বেতনকাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা প্রতিবেদনটি গ্রহণ করার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বেতনকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এবারের কাঠামোতে বিশেষ করে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অপেক্ষাকৃত বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তারা খাপ খাওয়াতে পারেন।

প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন কাঠামোতে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ রয়েছে। এছাড়া বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যুগোপযোগী বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২১ সদস্যের এই বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশনে জমা দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যেই তারা এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন, যারা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পে-স্কেলের খবরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।


বায়ুদূষণে দিল্লি ও কলকাতাকেও ছাড়াল ঢাকা: বিশ্বজুড়ে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশের রাজধানী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার ছুটির দিন সকালে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ সারিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর সর্বশেষ তথ্যানুসারে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় অবস্থানে ছিল। এ সময় ঢাকার বাতাসের মান সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৮৪। বাতাসের মান ২০০ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই হিসেবে ঢাকার বাতাস বর্তমানে নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

দূষণের এই তালিকায় ঢাকার ঠিক পরেই অবস্থান করছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের দুটি প্রধান শহর নয়াদিল্লি ও কলকাতা। ২৮২ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক পেছনেই রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। অন্যদিকে ২০১ স্কোর নিয়ে তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে কলকাতা। ঢাকা ও দিল্লির মতো কলকাতার বাতাসও বর্তমানে খুবই অস্বাস্থ্যকর ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। এছাড়া তালিকার চার, পাঁচ ও ছয় নম্বরে রয়েছে চীনের তিনটি শহর যথাক্রমে চেংদু, চঙ্কিং ও উহান। এই তিনটি শহরের বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোরের মাধ্যমে বাতাসের গুণাগুণ নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ০ থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ভালো বা বিশুদ্ধ বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয় বা মধ্যম মানের হিসেবে গণ্য হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠী বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু স্কোর যখন ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর ৩০০ এর বেশি স্কোর হলে বাতাসকে দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান স্কোরের ভিত্তিতে ঢাকার বাতাস দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।


বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড বাতিল, নতুনভাবে গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ বাতিল করে একটি নতুন বোর্ড গঠন করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদল ও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন এই উচ্চপর্যায়ের বোর্ডটি মোট ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে। পদাধিকারবলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

পুনর্গঠিত এই বোর্ডে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের ন্যূনতম যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির একজন করে প্রতিনিধি বা প্রথিতযশা সদস্যকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ এবং পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন’-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এই নতুন বোর্ড গঠন করেছে। এই আদেশের ফলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত পূর্ববর্তী বোর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। দেশের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও বিতর্কমুক্ত করার লক্ষ্যেই সরকার এই নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালেন শফিক রেহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগ চলছে। মিস্টার ট্রাম্প আপনি বাংলাদেশে আসেন, আপনাকে দাওয়াত করছি।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শফিক রেহমান তাঁর বক্তব্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি ৭ নভেম্বর না যেতেন, তাহলে আরও কিছুদিন সুস্থ থাকতেন। তরুণ সমাজকে অনুরোধ করব আপনারা জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে এ অনুষ্ঠানের বক্তব্যগুলো অনুধাবন করবেন।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে শফিক রেহমান তাঁর গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। নির্বাচনকালীন স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে। এখানে একটা গুলিতে যদি কারো কিছু হয়ে তাহলে ১২ তারিখের নির্বাচন হয়তো পেছাতে হতে পারে। আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ডক্টর ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময়।’ ভোটারদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যিনি ভোট চাইতে আসবেন, তাকে আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন, চাল ডাল চিনির দাম ঠিক থাকবে তো। তাদের জিজ্ঞাস করবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকবে তো। ব্যাংকে যারা আমানত রাখছেন আমানত ঠিক থাকবে তো।’

গুরুত্বপূর্ণ এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জায়মা রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। মূলত সুষ্ঠু নির্বাচন ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে শফিক রেহমানের এই বক্তব্য উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সুধীসমাজের মাঝে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।


banner close