কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এদেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশ্বাস করে— এদেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে।’
সংসদে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ যাদের নির্বাচিত করেছেন, সেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সকল কর্মসূচি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর ফাঁকা প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কেউ কেউ তো টিকিটও বিলি করেছিল। তবে গত নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষ বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’সহ অন্যান্য কল্যাণমুখী পরিকল্পনার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়েছে।’
শেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের এই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে। তাদের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পালন করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)।
পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
সংসদ নেতা তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আদালত কর্তৃক দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ হাজার ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের (রংপুর ৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে প্রশ্নটি করেছেন-কতজন মানুষের কাছে আমরা কার্ড পৌঁছে দেব, মূল্যস্ফীতি হবে কি না, বাজেট কত, স্বাভাবিকভাবে বাজেট কত, এটি আমরা এখনই বলছি না। অর্থাৎ আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে বিষয়গুলো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আমরা যেহেতু প্রতি মাসে এটি সম্প্রসারণ করতে থাকব, অর্থাৎ অধিক সংখ্যক নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং অধিক সংখ্যক পুরুষ কৃষক কার্ড পাবেন-একবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই একবারে এটি করা সম্ভব নয়। সেজন্য প্রতি বছর আমরা বাজেটের পরিমাণ বাড়াব এবং প্রতি বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে।
তিনি বলেন, এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে আমরা এগোব এবং অবশ্যই এটি বাজেটে প্রাধান্য পাবে। আর আপনি যেটা বলেছেন মূল্যস্ফীতি হবে কিনা-আমরা তো টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না। কাজেই মূল্যস্ফীতি হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বরং আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন বাজারে যাবে, তখন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও নারীরা তা দেশের ভেতরেই ব্যয় করবেন। তারা এই টাকা বিদেশে পাচার করবেন না; বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে খরচ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন নারী এই টাকা দিয়ে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের খাদ্যব্যবস্থা বা ছোট কোনো ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ফলে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।’
উদাহরণ হিসেবে তারেক রহমান বলেন, ‘কোনো নারী যদি এই টাকা দিয়ে স্থানীয় মুদির দোকান থেকে পণ্য কেনেন, তাহলে ওই দোকানের বিক্রি বাড়বে। এতে দোকানির আয় বাড়বে এবং প্রয়োজনে তিনি নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে। দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ স্থানীয় শিল্পের পণ্য ব্যবহার করে। ফলে এসব উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি না যে এতে মূল্যস্ফীতি হবে। বরং অর্থনীতি আরও সচল ও শক্তিশালী হবে। হয়তো আগামী ছয় মাসে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে না, তবে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে অধিক সংক্রমণপ্রবণ উপজেলাগুলোতে এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ছয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সি সব শিশুকে এই টিকাদানের আওতায় আনা হবে।
টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরে তাদের এই টিকা ফেরত দেওয়া হবে। প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে অর্ধশতাধিক শিশু মারা গেছে।
এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শিশু; বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫; চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪; রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে এবং বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮ শিশু মারা গেছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী (৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রংপুর বিভাগ।
ইপিআই সারা বছর যে ১২টি রোগের জন্য ১০টি টিকা দেয়, সেগুলোর মধ্যে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকাও রয়েছে। হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের অধীনে ৯-১৫ মাস বয়সি শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছেন, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোয় মোট শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। বুধবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মরত আছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৫৭ এবং অন্যান্য শ্রেণিতে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৯৮০।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য শ্রেণিতে শূন্য পদ ৮ হাজার ১৩৬টি।
সদ্যবিদায়ী মার্চের পুরো সময়ে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্বাধীনতার পর এটিই দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, মার্চের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে (মার্চ ২০২৫) ৪৬ কোটি ডলার বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স আসে ৩০২ কোটি ডলার আর গত বছরের মার্চে এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের (২০২৫ সালের) মার্চে। ওই মাসটিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন)। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে, যার পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি বা ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টরা তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী মার্চে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটির (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। তবে এ সময়ে ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে-বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক, বিদেশি খাতের ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বলছেন, মার্চে ঈদ ঘিরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, এটি স্বাভাবিক একটি প্রবণতা। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এখনো কাজের সুযোগ বজায় আছে এবং বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও খুব বেশি না বাড়ায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সামনের মাসগুলোতে এই প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে, হুন্ডি কমে আসায় বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এখন স্বাভাবিক পর্যায় মনে হলেও এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষত, নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার পথ এখনো সীমিত থাকায় ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখনো সামষ্টিকভাবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর খুব বেশি পড়েনি। তবে ভবিষ্যতে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের মহানগর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়েও (সরকারি ও বেসরকারি) অনলাইন ও অফলাইন (সশরীর) মিলিয়ে (ব্লেন্ডেড) শ্রেণি কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান, প্রাথমিকের একাধিক সংগঠনের শিক্ষক নেতা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) প্রাথমিকেও তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সূত্র আরও বলছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জোড়-বিজোড় তারিখের ভিত্তিতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস পরিচালনা করা হতে পারে। শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস নেবেন এবং প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো অফলাইনে (সশরীরে) হবে।
এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে ক্লাস চালুর বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়েছিল।
জানতে চাইলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, সভায় প্রাথমিকেও সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষামন্ত্রী বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ‘অনলাইন ও সশরীরে’—দুই পদ্ধতি মিলিয়ে ক্লাস নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান। তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবেন। এরপর এটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত আসবে।
অনলাইনে ক্লাস চালুর ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটা যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা, শুধু বাংলাদেশের নয়; আমরা জানি না, এ সংকট কত দিন চলবে; সে কারণে আমরা ভাবছি, অনলাইন-অফলাইন দুভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা যায় কি না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা একটি জরিপ করেছি। সেই জরিপে ৮৫ শতাংশ মানুষ চাচ্ছে, তারা যেন অনলাইনে যায়। কিন্তু পুরোপুরি অনলাইনে যদি যাওয়া হয়, তাহলে আমরা আবার অসামাজিক হয়ে যাব। এটা নিয়ে আমরা ভাবছি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে দুটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নদী খাল জলাশয় যাতে কেউ দখল করতে না পারে সেজন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া সরকারে পূর্ব প্রতিশ্রুতি ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করছেন বলেও জানান মন্ত্রী।
দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এগুলো হলো— উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, কম রাজস্ব আদায় এবং নতুন করে যুক্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যার ফলে ব্যয় বেড়ে গেছে। তিনি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় রাজস্ব আদায় বাড়ানোর মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণ নেওয়া এবং টাকা ছাপানোর ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন ঋণনির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ঢালাওভাবে টাকা ছাপানোর যে প্রবণতা, তা থেকে বেরিয়ে আসবে সরকার। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হলে অর্থনীতিকে আগে শক্তিশালী করতে হবে। আর সেই শক্তির মূল উৎস হবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন বন্ধ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত পলিসি বা নীতি অপরিবর্তিত রাখা হবে। এছাড়া বিনিয়োগের পথ সুগম করতে সরকার 'ডিরেগুলেশন'-এর পথে হাঁটবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছন্দ হারানো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ধীরে ধীরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাড়তে থাকা খুন, ছিনতাই, ডাকাতি থেকে শুরু করে মব-সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধের মাত্রা নতুন সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে কমতে শুরু করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়ায় উন্নতির দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় পুলিশের কাজে গতি বেড়েছে, টহল বাড়ার কারণে কমেছে ছিনতাই, বখাটেদের দৌরাত্ম্য; অরাজকতা বন্ধে করা হচ্ছে মব-সন্ত্রাসীদের তালিকা।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গেল বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসে ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩৮৩টি। এর মধ্যে খুন হয়েছে ২ হাজার ৬১৬টি। পুলিশের ওপর হামলায় মামলা ৪১৯টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৫ হাজার ৪৯টি। এরপরই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হয় নবগঠিত সরকার।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন হলে সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস পাবে; কমবে অপরাধ—বাড়বে জবাবদিহিতা।
তারা জানান, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ১ মাসের কিছু বেশি হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সরকার আসার পর মব কালচার থেকে কিছুটা বের হয়ে আসাও ইতিবাচক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। ১৮০ দিনের একটি খসড়া পরিকল্পনায় আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। পুলিশ বাহিনীতে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা, জনমনে স্বস্তি ফেরানো এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশবাহিনী সংকল্পবদ্ধ।
এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আইনের শাসন বাস্তবায়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশ কাজ করবে। বেশিরভাগ নাগরিক মব সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত নয়। মূল মব সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরি করছি, তারা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় থানাকে ঘিরে কোনো নাগরিকের আর অভিযোগ থাকবে না। আমরা প্রত্যেক সদর থানাকে ‘জিরো কম্পেইন’ থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
তিনি জানান, পুলিশের জোরালো তৎপরতার ফলে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পুলিশের সক্রিয় অভিযানের কারণে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ অনেকাংশে কমে এসেছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ৫৩ বছরে এই প্রথম ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারি দলের কোনো সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিষয়টি সামনে আসে। এদিন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক মুলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এবং পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আলোচনার জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফসল এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এটি আমাদের ভবিষ্যতের পথরেখা। আমি কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধি অনুযায়ী একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করছি। এই সনদটি মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে।
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর প্রকৃত বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে বর্তমান সংসদের কার্যক্রম মুলতবি রেখে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমি এই প্রস্তাবটি উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করছি।”
স্পিকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যপ্রণালী বিধির ৬৫(২) বিধি অনুযায়ী আমি এটি আলোচনার অনুমতি দিচ্ছি।
সংসদের বর্তমান কাজের অবস্থা বিবেচনা করে আগামী ৫ এপ্রিল রবিবার দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে এই প্রস্তাবের ওপর অনধিক দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের ৫৩ বছরে এই প্রথম ট্রেজারি বেঞ্চের (সরকারি দল) কোনো সদস্য মুলতবি প্রস্তাব আনলেন। আমরা আগামী ৫ তারিখে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চললেও বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। এর প্রতিবাদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
অনির্ধারিত আলোচনায় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আইনমন্ত্রী সম্ভবত আমার বক্তব্যটি সঠিকভাবে খেয়াল করেননি; তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই না যে তিনি এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন। মূলত গতকাল আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল গণভোট এবং এর সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদের সভা আহ্বান করা।
আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম যে, সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে যদি কোনো বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, তবে আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। সেই সঙ্গে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, সংকট নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য রাখা হলে তা অনেক বেশি অর্থবহ ও কার্যকর হবে। আমরা এখানে এসেছি বিদ্যমান সংকট সমাধানের জন্য, নতুন কোনো সংকট তৈরির জন্য নয়।
কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংসদ কমিটি’র ৩য় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কমিটির সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. অলি উল্লাহ, মো. সাইফুল আলম ও মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থিত সংসদ সদস্য ভবন ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্য ভবনসমূহ বরাদ্দের নিমিত্ত সংস্কার ও মেরামত সম্পর্কিত সিভিল, ই/এম ও কাঠের কারখানা বিভাগের কাজের অগ্রগতি; শেরে-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত (এমপি হোস্টেল) ১৫৬টি অফিস কক্ষসমূহ বরাদ্দের নিমিত্ত সংস্কার ও মেরামত; সংসদ সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে (২৪ ঘণ্টা) চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণের জন্য জাতীয় সংসদের মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও মেডিকেল অফিসার পদায়ন/সংযুক্তি প্রদান; মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত ফ্ল্যাটসমূহে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ; মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত ভবনসমূহের জন্য নির্ধারিত জনবল আগের রেওয়াজ অনুযায়ী সদস্য ভবন শাখায় পদায়ন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে সংসদ অধিবেশন কক্ষে শব্দ তৈরি হওয়ার ১ সেকেন্ড বা তার কম সময়ের মধ্যে শোষণ করতে সক্ষম ও প্রতিধ্বনিবিহীন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া সংসদ অধিবেশন কক্ষে ইন্টারনেটের ধীরগতি দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে সংসদ এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও আগামী ১০ তারিখের মধ্যে বাসা প্রস্তুতপূর্বক সংসদ সদস্যদের বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঈদুল ফিতরের চেয়ে ঈদুল আজহার যাত্রা চ্যালেঞ্জিং হবে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আগামী ঈদে সড়ক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদানি অ্যাভিনিউ সংযোগ সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এবারের ঈদুল আজহা আরো চ্যালেঞ্জিং, কারণ দেড় কোটি মানুষ ঢাকার বাইরে গেলেও ১ কোটি কোরবানির পশু ঢাকায় ঢুকবে। নতুন করে আরো একটি যমুনা সেতু করা যায় নাকি সেটি চিন্তা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি ডেমু ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে আনা হবে, তবে সেটি কাজ না করলে প্রকল্প নেওয়া হবে না। এর জন্য কোনো অতিরিক্ত ব্যয় করবে না সরকার। উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে নতুন করে আরো একটি যমুনা সেতু করা যায় কি না সরকার সেটি নিয়ে ভাবছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে গৃহীত এ কর্মসূচিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বাংলাদেশকে উপযুক্ত বাসযোগ্য করে তুলতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে বাস্তবায়ন করতে হবে মন্তব্য করেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি এবং একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগের বিকল্প নেই। বৃক্ষরোপণকে আমরা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বা সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না; বরং এটিকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দিতে চাই। দেশের প্রতিটি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেবল একটি সূচনা মাত্র—এটি যেন কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং আজ থেকেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী, অনাড়ম্বর এবং কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ গ্রহণ করা হয়েছে, যা একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কর্মসূচিটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে (২০০৯-২০২৩ সাল) বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাচার হওয়া এই বিপুল অর্থ উদ্ধারে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের বরাতে জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ ছিল বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)। অর্থ পাচারের প্রধান গন্তব্য হিসেবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশগুলো হলো— যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং (চীন)।
তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (MLAT) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তিটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আদালতের নির্দেশে এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশে ক্রোক হওয়া সম্পদের পরিমাণ ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দেশ-বিদেশ মিলিয়ে মোট ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।
অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল এবং ছয়টির রায় প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি মামলাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের বড় কয়েকটি শিল্পগ্রুপের নাম রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন— শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, এইচবিএম ইকবাল ও তার পরিবার এবং সামিট গ্রুপ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের অর্থপাচার ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিচার করা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার। বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং দমনে সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।