শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
২১ ফাল্গুন ১৪৩২

‘কারিগরি-অকারিগরি কারণে ঘটতে পারে ভুতুড়ে বিলের ঘটনা’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ২২:০৬

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।

সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।

এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।

তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।


গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় রাজনীতিতে ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এদিন আরো ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনা ধারণ করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর আলোচনায় এসেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম।

রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা: ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৯১ সালে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালেও আবার সরকার গঠন করে তার নেতৃত্বাধীন জোট। এই সময়কালে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সংসদ ও রাজপথে দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তার ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা পদক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, এই সম্মাননা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি। তারা বলছেন, দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা একজন নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান অস্বীকার করা কঠিন।

খালেদা জিয়া ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। এছাড়া বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এ সম্মাননা পাচ্ছেন।

পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পল্লী ‍উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই পদক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান করেন।


শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পল কাপুরের শ্রদ্ধা

আপডেটেড ৬ মার্চ, ২০২৬ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানী জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যান পল কাপুর। সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে সংস্কার কাজ চলায় তারা কবরের গেইটের সামনে পুস্পস্তবক অপর্ণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এদিকে, ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীতে এই বৈঠক হয়।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ডা. মাহবুবুর রহমান, নায়েবা ইউসূফ ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।

বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকায় এসে পৌঁছান পল কাপুর। এটিই তার প্রথম ঢাকা সফর।


জাকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় জাকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনীতিক এবং এতিম-আলেম-উলামাদের সন্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুটি ইফতার মাহফিলে থাকবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একথা জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে শুধু দুটি ইফতার মাহফিল যথাক্রমে (শুক্রবার) আজ কূটনীতিকদের সম্মানে এবং আগামীকাল ৭ মার্চ এতিম-আলেম-উলামা-মাশায়েক সন্মানে দুটি ইফতার আয়োজন করছেন। এই দুটি হবে যমুনায়।

প্রধানমন্ত্রী রাজনীবিদদের সম্মানে ৮ মার্চ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সন্মানের ১০ মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় ইফতার পার্টির সময়সূচি নির্ধারিত থাকলেও তার ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাতিল করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় খরচ সাশ্রয়ের জন্য একই ভেন্যু ও একই মঞ্চে দুইটি ইফতার মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি টাকাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে খরচ করতে চান না। তাই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন এড়িয়ে সীমিত পরিসরে দুইটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সম্মানের ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে তারেক রহমান নিজের বাসায় পরিবারের সঙ্গেই ইফতার করছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রথম রোজায় রাজধানীর ভাষানটেকসহ কয়েকটি এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।

রমজানজুড়ে তারা মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণও করছেন।


ঈদযাত্রায় যানজটের ২০৭ স্পট চিহ্নিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদে সারা দেশে যানজটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ। যদিও গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৯। গতবারের চেয়ে এবার যানজটের স্পট বেড়েছে ৪৮টি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার সভার কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয় সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রী।

এদিকে যানজটের এসব স্পট ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে যানজটের ২০৭টি স্পটের মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আছে ১৪টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ৫৫, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪ ও যশোর-খুলনা মহাসড়কে ৬টি।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকার পাঁচটি টার্মিনালে সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং কর্ণফুলী টানেলে ইটিসি টোল বুথ চালু থাকবে। ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। যাত্রী পারাপারে পর্যাপ্ত ফেরির ব্যবস্থা রাখা হবে এবং রাজধানীর কাঞ্চন ব্রিজ ও বছিলা এলাকায় লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থাও করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারাসহ পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


সুদসহ টাকা ফেরতের দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুদসহ পুরো আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের কিছু আমানতকারী।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা একপর্যায়ে শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে জলকামান ব্যবহার করে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একীভূত করা ব্যাংক পাঁচটি হলো ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। এই ব্যাংকের আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ করে সুদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা ‘হেয়ার কাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে আমানতের ওপর গত দুই বছরের ৪ শতাংশ করে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক ও অন্যায্য। অনেক আমানতকারী এসব ব্যাংক থেকে মূলধন ও মুনাফা তুলতে পারছেন না। এতে অনেকেই কষ্টে জীবন যাপন করছেন।

তারা ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিল করে মুনাফাসহ পুরো আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমানতকারীদের জন্য অমানবিক ও অন্যায্য। দাবি মানা না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।


ঈদে মিলছে টানা ৭ দিনের ছুটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এবারের ঈদুল ফিতরে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষে আগে ঘোষিত ছুটির সঙ্গে আগামী ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করায় দীর্ঘ এই বন্ধ পাওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ঈদের আগে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরেই আগে পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণায় ঈদের আগে মিলছে চার দিনের ছুটি। আর ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা রয়েছে। ফলে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে: টিআইবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারকে কেবল মুখে নয়, বরং দলীয় পর্যায়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের প্রতি একগুচ্ছ সুপারিশমালা পেশ করার সময় এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে, নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে জোড়ালো স্বার্থের সংঘাত বিদ্যমান। টিআইবির মতে, এমন নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরাপদ নয় এবং এর ফলে নজরদারি সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের সুযোগ বিঘ্নিত হবে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা অর্থপাচারকারী শীর্ষ ব্যক্তিরা পুনরায় কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা রাষ্ট্রের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর হবে ন। তাই এই নিয়োগ বাতিল করে একজন সৎ, অভিজ্ঞ এবং স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্সের ঘোষণাটি যেন কেবল সাধারণ জনগণের উদ্দেশে দেওয়া কোনো বক্তৃতা না হয়।

তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বার্তাটি নিজের দল, মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য এবং সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান যেন সরকারের অভ্যন্তরীণ চর্চায় প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ বা দখলদারিত্বের সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আগে অন্যরা দুর্নীতি করেছে বলে এখন আমাদের কর্মীরা করবে—এই মানসিকতা বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বা সরকারি অবস্থানকে যেন দুর্নীতির ‘লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেজন্য দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকার যদি তার অভ্যন্তরে থাকা দুর্নীতিবাজ বা স্বার্থান্বেষী মহলের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তাদের সকল সংস্কার উদ্যোগ আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।


প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও প্রত্যাবর্তনে বিমানবন্দরে থাকবেন যে ৪ জন

আপডেটেড ৬ মার্চ, ২০২৬ ০০:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও দেশে ফিরে আসার সময় বিমানবন্দরে ৪ জন উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক বিধিমালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

তারা হলেন, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সামরিক ও অসামরিক বাহিনীর প্রধান (যেমন, তিন বাহিনীর প্রধান) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতেন।


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষে সরকারি সব অফিসে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দেশের সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সকল সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার পরিহার করতে হবে। এ জন্য জানালা, দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অফিসে বিদ্যমান আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট জ্বালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। অফিস চলাকালীন ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখার নির্দেশ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় বাতি, ফ্যান, এসিসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এছাড়া অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমের মতো স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো যাবে না। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে চিঠিতে।

সাশ্রয়ী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অফিস সময় শেষ হওয়ার পর লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এসিসহ সকল যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিদ্যুতের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করার এবং সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ৫ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পাচ্ছেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি। একইসঙ্গে পাঁচ প্রতিষ্ঠানও এই পুরস্কার পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী হলেন পাবনার খালেদ হোসেন পরাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনার কৃতি সন্তান এবং দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফটোসাংবাদিক খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তাঁকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-৯ ভুক্ত সুযোগ-সুবিধাসহ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন এই দায়িত্বে খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় সফর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আলোকচিত্র ধারণ ও সংরক্ষণের কাজ করবেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচির ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন এবং আর্কাইভ তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পেশাদার এই আলোকচিত্রীর নিয়োগের খবরে তাঁর জন্মস্থান পাবনাসহ সাংবাদিক মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।

খালেদ হোসেন পরাগের আলোকচিত্র জীবনের পথচলা শুরু হয় ১৯৯৩ সাল থেকে। প্রায় তিন দশকের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দৈনিক দিনকাল, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক নির্ভরসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক দিনকাল পত্রিকার স্টাফ ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে পাবনা শহরের এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া পরাগ ছোটবেলা থেকেই ক্যামেরার প্রতি এক ধরণের বিশেষ টান অনুভব করতেন। সেই নেশাই পরবর্তীতে তাঁকে পেশাদার আলোকচিত্রীর আসনে বসিয়েছে। ১৯৯৭ সালে পাবনায় তাঁর প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘আজকের প্রজন্ম ধারা’ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

ফটোসাংবাদিকতার পাশাপাশি খালেদ হোসেন পরাগ একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ও সমাজকর্মী। তাঁর হাত ধরেই পাবনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’, ‘পাবনা ফটোগ্রাফারস ফোরাম’, ‘পাবনা ফিল্ম সোসাইটি’ এবং ‘পাবনা ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরাম’-এর মতো জনপ্রিয় সব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক জেলা পর্যায়ের প্রথম পত্রিকা ‘প্রযুক্তির সূর্য’ প্রকাশের কৃতিত্বও তাঁর। তিনি সবসময় চেয়েছেন তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে।

তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিরল সব মুহূর্তের সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ছবির গল্প বাংলাদেশ’ নামক একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘ছবির গল্প’ এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘দেশনেত্রী’ নামক ফটোডকুমেন্টেশন বই দুটি তাঁকে এক অনন্য পরিচিতি দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করা এই গুণী আলোকচিত্রী এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টিমে যুক্ত হয়ে দেশের জন্য নতুন এক দায়িত্বে নামলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সঠিক নথিবদ্ধকরণে সহায়ক হবে।


অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাতিল হবে রুট পারমিট: সেতুমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদযাত্রা সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি জানান, সীমিত সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্থানান্তর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অনৈতিক সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমিতির নামে নিবন্ধিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ অর্থ আদায় করলে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে এসি বাসগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঈদের আগে যানজট কমাতে পোশাক কারখানার ছুটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ১৬ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টস ছুটি হবে। এ ছাড়া মহাসড়কের ওপর অস্থায়ী দোকানপাট, যত্রতত্র পার্কিং এবং থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে। ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিন পচনশীল দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া ভারী ট্রাক ও লরি চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সড়কের অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকার প্রবেশপথ এবং মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ঈদের ১০ দিন আগেই সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টোল প্লাজায় যানজট কমাতে প্রয়োজনে আগাম টিকিট সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও বিবেচনা করছে সরকার। এ ছাড়া নৌপথে সদরঘাটের চাপ কমাতে বসিলা ও কাঞ্চনঘাটে দুটি নতুন অস্থায়ী স্টেশন চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গার্মেন্টস কর্মীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস প্রস্তুত রাখা হবে এবং বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রী হয়রানি রোধে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোতে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে ক্রসিংয়ের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয়।


হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় প্রবীণ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তাঁর বিষয়ে ইতিপূর্বে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস কারাবাসের পর তাঁর মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো।

আদালতে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তামান্না ফেরদৌস। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। নিম্ন আদালতে ন্যায়বিচার না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং আদালত তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন। আজ সেই রুলটি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করে তাঁকে জামিন দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি টানা কয়েক মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো গুরুতর মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করায় সাংবাদিক মহলে সে সময় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর মুক্তি চাওয়া হচ্ছিল। অবশেষে উচ্চ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে তিনি আইনি স্বস্তি পেলেন। এখন আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন তাঁর আইনজীবীরা।


banner close