কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা বা কোম্পানির মোট গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। বিদ্যুৎ বিল যাতে যথাযথ হয়, সে বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও অকারিগরি কারণে অনেক সময় ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিল রোধকল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রিপেইড বা স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সীমিত লোডশেডিং
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে সাধারণত লোডশেডিং হয়। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য লোডশেডিং করা হয়। সরকার শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সচেষ্ট রয়েছে। সেচ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বকেয়া পাওনা থাকলে নিয়মানুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ভুতুড়ে বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাইপূর্বক প্রতিকার প্রদান করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা
বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাড়ে তিন হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছয় হাজার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দরকার হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হয়। ওই সময় সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ার ফলে নভেম্বর ২০১৪ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারকে জ্বালানি তেলে কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান দেয়।
সরকার বর্তমানে ডাইনামিক প্রাইসিং ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করায় এ খাতে কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভর্তুকির অর্থের মধ্যে ৩১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭শ কোটি নগদ ও ২০ হাজার ১৩৩ কোটি বন্ডের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদনপ্রাপ্ত এলপিজি প্ল্যানের সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫২টি, চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত ২৪টি ও বিপিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২টি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়েও স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তীকালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যধিক গরম ও দেশের কোথাও কোথাও দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১৩১২ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে উল্লেখ করে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস হতে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫৪৭ দশমিক ২২ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে এগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি বিভিন্ন ধরনের কূপ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে গড়ে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ১১ টির খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক ৩৩ মিলিয়ন ঘটফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত ৫টি পরিত্যক্ত এবং ৪টির উৎপাদন কার্যক্রম চলমান।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রায় দৈনিক ৩৮০০-৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি করে ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে এবং বিদ্যুৎ ও সার খাতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গ্যাস সংযোগ চালু রয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ/রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ণ/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৫টি, বিএসএসআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন স্থগিত চিনিকল ৬টি, বিএসইসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ কারখানা ৪টি।
এমপি আব্দুল কাদের আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাসহ বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়কাল পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যও এসেছে।
তিনি জানান, বিসিকের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি শিল্পনগরী, তিনটি শিল্পপার্ক ও দুটি অন্যসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৮১১টি শিল্প প্লটে সম্ভাব্য ৩ হাজার ৫৬৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরএডিপিতে সবুজ পাতাভুক্ত ১১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বিসিক কর্তৃক ১২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১৬৭টি শিল্প প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হোসিয়ারি শিল্পনগরী, পঞ্চবটী, নারায়ণগঞ্জ; জামদানি শিল্পনগরী, তারাবো, নারায়ণগঞ্জ; চামড়া শিল্পনগরী, সাভার, ঢাকা; এপিআই শিল্পপার্ক, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ এবং বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, মুন্সিগঞ্জ শীর্ষক বিশেষায়িত শিল্পনগরী বা শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে ঢাকার সাভারে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন ইনফ্লুয়েন্স প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে হাজারীবাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ট্যানারি কারখানাসমূহকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিল্পনগরীর ২০৫টি শিল্পপ্লটে ১৬২টি ট্যানারি কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বিসিকের দেশব্যাপী বাস্তবায়িত ৮২টি শিল্পনগরীর মোট ১২ হাজার ৩৬০টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২টি শিল্প প্লটে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ কর্তৃক ৬ হাজার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্পনগরীর কারখানাসমূহে গত জুন, ২০২৩ পর্যন্ত বিনিয়োগের হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা প্রায়।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখ্রেইজি, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং নির্বাহী পরিচালনা কমিটির চেয়ারপারসন ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদুউ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে তারা অভিনন্দন জানান।
তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উন্নয়নের ধারা জোরদার হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতিও তারা সমর্থন জানান।
আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে বের হন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। গভীর রাতে আকস্মিক এই তদারকিতে তিনি নিজেই উপস্থিত থাকেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, টাউন হল ও তিন রাস্তার মোড়সহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
রাত ১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের সক্রিয়তায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে তিনি সরাসরি মাঠে নেমেছেন। কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর নিরাপত্তায় আমি নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি। অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে।’
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মোহাম্মদপুরেই তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় মাদক ও অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে সন্ধ্যার পর বিশেষ ‘ব্লক রেইড’ চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ বাহিনীর জনবল প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ২০ কোটি মানুষের দেশে পুলিশ সদস্য আছেন মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি মানুষের শহর ঢাকায় স্বস্তি ফেরাতে নাগরিক সহযোগিতা ও আইন মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও সতর্ক করেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজে রাতের টহলে থাকার ঘোষণা দেন আইজিপি। ট্রাফিক বিভাগ পুনর্গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর মানসিকতায় পরিবর্তন এনে পুলিশকে প্রকৃত জনসেবক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই ‘হোয়াইট কলার’ অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান এবং মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
দেশের বৈদেশিক ঋণের প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এই প্রথমবারের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের অর্থের চেয়ে কিস্তি বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২.৬৪১ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, একই সময়ে আগের নেওয়া বিভিন্ন ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ২.৬৭৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রাপ্তি বা অর্থছাড়ের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বেশি।
গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমেছে ৩২.৩৯ শতাংশ। গত বছরের এই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৩.৯৩৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ। গত বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছিল ২.৪১৮ বিলিয়ন ডলার।
ইআরডির কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ধীর থাকায় বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কম হয়েছে। অন্যদিকে, অতীতে নেওয়া অনেক ঋণের বড় অঙ্কের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তবে ইআরডি মনে করছে, পুরো অর্থবছরের হিসাব করলে অর্থছাড়ের চেয়ে পরিশোধ বেশি হবে না। যেমন, গত অর্থবছরে পরিশোধ করা হয়েছিল ৪.০৮৬ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে ছাড় হয়েছিল ৮.৫৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছর শেষেও প্রাপ্তি পরিশোধের চেয়ে বেশি থাকবে বলে আশা করছে বিভাগটি।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি বা চুক্তি সইও কমেছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ২.২৭৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (২.৩৫০ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ৩.২৬ শতাংশ কম।
অর্থছাড়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তারা এই সময়ে ৫৭৬.০৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৫৫৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫৩৬.৬৪ মিলিয়ন, চীন ২২০.৪৫ মিলিয়ন, জাপান ১৮৩.৫১ মিলিয়ন এবং ভারত ১১৮.৩৯ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে।
তবে প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে এডিবি। সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে প্রথম ৭ মাসে সর্বোচ্চ ১.২৬৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ৩৯১.৪২ মিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক ২৬৫.৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে. মুজেরি এ বিষয়ে বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা সাধারণত স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিনির্ধারণে সক্ষম সরকারের সঙ্গে বড় ঋণের চুক্তি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নীতিগত অনিশ্চয়তা থাকলে নতুন করে বৈদেশিক ঋণ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি ধীর হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত নতুন সরকার এখন দায়িত্ব নিয়েছে। ভবিষ্যৎ চাপ সামলাতে হলে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন ও জরুরি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। তা না হলে বৈদেশিক সহায়তার ঘাটতি তীব্র হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বাড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মেধায় নিজেদেরকে সমৃদ্ধ হতে হবে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।’
জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার হিসেবে বইমেলা ভূমিকা রাখবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া অমর একুশে বইমেলা এখন জাতির মেধা-মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মেলা শুরুর কথা থাকলেও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এ বছর মেলা শুরু হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলা হয়, তবে বাংলাদেশের বইমেলা ভিন্ন। এটি মাতৃভাষার অধিকার আদায় ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারক।’
বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি উল্লেখ করেন—‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষে নতুন সংযোগ তৈরি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করছে। যদিও ইন্টারনেটেও বই পড়া যায়, তবে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের পর্দায় ডুবে থাকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।
পাঠাভ্যাস নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের প্রকাশিত জরিপে ১০২টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ায় শীর্ষে রয়েছে। তালিকার সর্বনিম্নে আফগানিস্তান। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশে একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটি বই পড়েন এবং বছরে বই পড়ায় সময় ব্যয় করেন ৬২ ঘ‘যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। সময়ের প্রেক্ষিতে জন জীবনে ইন্টারনেট অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজনকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের উদ্যোগী ভূমিকার পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা দেবে বলে জানান তিনি।
বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। দেশের সাহিত্য ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রমও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে বইমেলা ও একুশে অনুষ্ঠানমালা ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
দ্রব্যমূল্য কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি রোধ এবং দীর্ঘ ১০–১৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জনগণের স্বল্পমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণ করা। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য যাতে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয় এবং এ খাতে ১০-১৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। গতানুগতিক পন্থার বাইরে গিয়ে নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সারা দেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহর ও বড় নগরগুলো থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালেম সোলায়মান ও সচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সেনা সদর থেকে এসংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ৮টি পদে রদবদল আনা হয়েছিল।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। কিউএমজির দায়িত্ব পালন করা আসা লে. জেনারেল ফয়জুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল শাহীন। লে. জেনারেল ফয়জুরকে এনডিসিতে বদলি করা হয়।
এছাড়া সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন থেকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) করা হয়েছে।
এছাড়া অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট করা হয়। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি হিসবে বদলি করা হয়।
জবাবদিহিতার মধ্যে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বনানীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেছেন।
তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ১০টি বিষয় নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বেসরকারি টেলিভিশন মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বিকেলে রাজধানীর বনানীতে তথ্যমন্ত্রীর নিজ বাসভবনে এ সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।
এসময় গণমাধ্যমে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হওয়া এবং একইসঙ্গে জবাবদিহিতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের যেন কণ্ঠরোধ না করা হয় সে বিষয়েও আলোচনা করেন।
সাক্ষাতে এটকোর নেতারাও জানান, যে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা উভয়ের মধ্যে আলোচনা করে বাস্তবায়ন করা হবে।
দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জব্দ হওয়া এসব সম্পদের ঘোষিত মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান যুক্তরাজ্যের এসব স্থাবর সম্পদ জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সহযোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে দুদক, সিআইডি ও এনবিআর থেকে ৯ সদস্যের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মামলার ২৩ বস্তা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
জব্দের সময় উদ্ধারকৃত নথিপত্রের একটি তালিকা যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে জব্দ করা আলামত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে এসে সেগুলো পর্যালোচনা, পরীক্ষা এবং ডকুমেন্টারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। উদ্ধার করা রেকর্ডগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল চুক্তি, দলিল, পেমেন্ট অর্ডার, বুকিং মানি রসিদ, বিভিন্ন চেক, ভাউচার এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে সম্পত্তি ক্রয় সম্পর্কিত অন্যান্য নথিপত্রের মূল কপি। উদ্ধার করা তথ্য ও নথিপত্রের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দেশে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব স্থাবর সম্পদ যাতে তিনি অন্যত্র হস্তান্তর ও স্থানান্তর করতে না পারেন, সেজন্য স্থাবর সম্পদ জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর তাকে সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দেখা যায়নি।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে নৌযানের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ঈদে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল ও নৌযানে দৃশ্যমান রাখতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য ঘাটগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দিনের বেলায় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতে টহল জোরদার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যাগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে কৃষির সম্ভাবনা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এ ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ সীমিত কৃষি মৌসুম থাকা সত্ত্বেও কৃষিকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর মাটির কারণে সারা বছর ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
গরুর গোবরের যথাযথ ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত থাকবে। আমদানিনির্ভর রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব উপকরণ ব্যবহারে মাটি ও পরিবেশ দুটিই সুরক্ষিত থাকবে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ পাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা প্রদান এবং বাজারজাতকরণে সহায়তার জন্য ফার্মার্স কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষুদ্র খামারি ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। সভাপতিত্ব করেন ড. মো. আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নতুন কেউ যোগদান না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) শামিমা ইয়াছমিন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তার চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ছিল।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা শেখ মো. সাজ্জাত আলী পূর্বে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের নভেম্বরে চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তিনি ডিএমপির ৩৮তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫–এ মনোনীত হওয়ার পরও পুরস্কার পাননি কবি মোহন রায়হান। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান তিনি।
এদিন দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
গত সোমবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কবিতা বিভাগে মোহন রায়হানের মনোনীত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাকে এ পুরস্করের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’
কী ধরনের অভিযোগ, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তাই তাকে আপাতত পুরস্কার দেওয়া হয়নি। আমরা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছি। সেগুলো বিবেচনার পর নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে।’
ফেসবুক পোস্টে মোহন রায়হান লেখেন, ‘আপনারা অবগত আছেন এবার ২০২৫ বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার (কবিতায়) আমাকে প্রদান করা হয়েছিল। এই পুরস্কার আমার একদমই প্রত্যাশা ছিল না। আমি একজনের কাছেও পুরস্কারের জন্য তদবির করিনি। পুরস্কার কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে নির্বাচিত করে।’
৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডেকে এসএসএফ পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সালও প্রদান করে। যথারীতি আজ পুরস্কার গ্রহণের জন্য এসে জানতে পারলাম, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে।’
পুরস্কার ঘোষণা করে না দেওয়ার বিষয়টি অসম্মান কি না, জানতে চাইলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মনোনয়ন আমরা দিই না। এটা বাংলা একাডেমি দেয়। আমরা এখন শুধু অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি। এটা সাময়িক সমস্যা। দু-এক দিনের মধ্যেই পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে।’
বর্তমানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হানকে পুরস্কার না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘মোহন রায়হানের কবিতা ও লেখালেখি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার স্বার্থে সাময়িকভাবে পুরস্কার স্থগিত করেছে। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে গেলে আমরা অবিলম্বে এটা জানাবো।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
সচিব বলেন, যারা সময়মতো অফিসে আসবেন না, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সময়নিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই অফিসে পৌঁছান। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যানজট এড়াতে অনেক সময় তিনি প্রটোকল ছাড়াই খুব ভোরে সচিবালয়ে আসেন। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে সময় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং ইতিবাচক চাপও তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত অফিস করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গনি বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অফিস রয়েছে। তিনি চাইলে যে কোনো দিন সেখানে অফিস করতে পারেন, এটি পুরোপুরি তার সিদ্ধান্ত।
প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সময় হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রতি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।