মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

আ. লীগ ছেড়ে যাওয়া নেতারা আর জ্বলে উঠতে পারেননি: শেখ হাসিনা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আজ রোববার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২৪ ১৮:৪৮

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাওয়ায় অনেক নেতা হারিয়ে গেছেন, তারা আর জ্বলে উঠতে পারেননি। সেই তারা নিভু নিভু হয়ে গেছেন। আজ রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যে দেওয়াকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাঙালির প্রতিটি অর্জনে এ দল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেই তো বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। যা আমরা প্রমাণ করেছি। ৭৫ আগস্টের পর বার বার ক্ষমতা বদল হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা বদল হয়েছে হয় অস্ত্রের মাধ্যমে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল না। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তনই তারা করতে পারিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেমন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তেমনি আমাদের দলের প্রতিটি পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির যতটুকু অর্জন সেটি আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই হয়েছে। বার বার এ দলের ওপরই আঘাত এসেছে। খণ্ড বিখণ্ড করার চেষ্টা হয়েছিলো। কিন্তু গণমানুষের দল বলেই বার বার জেগে উঠেছে এ দল। ঠিক ফিনিক্স পাখির মত। কারণ আওয়ামী লীগের শক্তি তৃণমূল। তারা কখনও পরাভোগ মানে না।

দল ছেড়ে যারা চলে গেছেন, তারা আর জ্বলে উঠতে পারেননি। সেই তারা নিভু নিভু হয়ে গেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বারবার আঘাত করেও আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেওয়া যায়নি। ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। কারণ আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের সাধারণ জনগণ। তৃণমূলের কর্মীরা, সৈনিকরা। তারা কখনও মাথানত করে না। বিভিন্ন সময় নেতারা অনেকে ভুল করেছেন। আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গেছেন। যেসব নেতা ভুল করেছেন, তারা বোঝেননি। চলে যাওয়ায় হারিয়ে গেছেন। হ্যাঁ, অনেকে ফিরে এসেছেন, আমরা গ্রহণ করেছি। আবার অনেকে এখনও সরকার পতনের আন্দোলন করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে। আজ বাংলাদেশের যত অর্জন, সেগুলো আওয়ামী লীগের দ্বারাই। কিন্তু বারবার এ আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগই গণমানুষের সংগঠন। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন। রাজনৈতিক দলের কাজ হলো দেশের মানুষের সেবা করা, মানুষের ভাগ্যন্নোয়ন করা। মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে কাজ করে যাওয়া। যা আমরা করে যাচ্ছি৷ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি ঘাতকের দল। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে৷

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হব। শক্তিশালী সংগঠন থাকলে, গণমানুষের সমর্থন থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছি বলেই বারবার সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে দেশের জনগণ। দেশের মানুষের আস্থা পূরণ করতে পেরেছি বলেই জনগণ ভোট দিয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারা আছে বলেই, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রতিজ্ঞায় আওয়ামী লীগের পাশেই থাকুন সবাই।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভায় যোগ দিতে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে যান তিনি। মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। সভাস্থ‌লের নেতাকর্মীরাও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছার জবাব দেন।

আলোচনা সভার আগে শেখ হাসিনা প্রথমে পায়রা উড়িয়ে দেন। এরপর বেলুন ওড়ানোর পর পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর আসেন আলোচনা সভাস্থলে।


নির্বাচিত

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাবা-মায়ের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত তাঁদের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারতের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই সময় তাঁর সাথে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শেরেবাংলা নগর এলাকায় সমবেত হন। সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তারেক রহমান ফাতেহা পাঠ করেন এবং সেখানে মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, ‘গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।’ দলের চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশে জনগণ বারবার বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।’

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।’

দলটির পক্ষ থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশজুড়ে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গুরুত্ব নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বৃক্ষরোপণসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

দেশের ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩

ছবি: সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের তালিকায় অন্তুভু©ক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ এবং নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার জন। ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার জন।

ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফরম-৬ এর মাধ্যমে দাবি, ফরম-৭ এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮ এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে তা ২৭ আগস্টের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনগুলোর ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত ২৮ আগস্টের মধ্যে তালিকায় সংযোজন করে আজ ৩১ আগস্ট হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।

আগামী সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি৷ এক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভোট আগে করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিদ্যমান মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা বহাল থাকবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ মূল্য কার্যকর হচ্ছে।

এর আগে গত ৩১ মে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের এসব মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সেপ্টেম্বর মাসের জন্যও নির্ধারিত ওই মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় আইপিইউর

জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সফরকালে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আইপিইউ’র পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।

নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে।

তিনি সংসদে নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউ’র নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, সংসদ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন।

গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধি দলকে ঘটনাগুলো সরাসরি দেখার এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ অন্যান্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।

স্পিকার পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন এবং আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধি দলকে প্রতিবেদনটি পড়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ প্রতিবেদন প্রণয়ন বা প্রকাশে কোনো ভূমিকা ছিল না।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিফ হুইপ এ সময় আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।

মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মোছা. তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ফ্যাসিস্ট আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অনুমোদন পেল নবম জাতীয় পে-স্কেল, মূল বেতনে রেকর্ড লাফ

* একসঙ্গে নয়, বাড়বে তিন ধাপে   * ৩৩ লাখ মানুষের জীবনে পড়বে প্রভাব * গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়ছে ১০০–১৪২ শতাংশ * ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডেই মোবাইল ভাতা * সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার * কম পেনশনে বাড়ছে বেশি—সর্বোচ্চ সুবিধা ১০০ শতাংশ * বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এ গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে বাড়তি বেতন একসঙ্গে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। বৈঠক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ।

গ্রেডভেদে কত হচ্ছে নতুন মূল বেতন: নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার, ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার এবং ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার এবং ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার এবং ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নিচের গ্রেডগুলোতেও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার এবং ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইভাবে ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ এবং ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আর ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে।

একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে বাড়বে বেতন: নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকারের ওপর একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ কমানো এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব সামাল দিতেই এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কম পেনশনে বাড়ছে বেশি—সর্বোচ্চ সুবিধা ১০০ শতাংশ: নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এসেছে বড় পরিবর্তন। কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন স্ল্যাব অনুযায়ী—৯ হাজার টাকা বা কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ, ৯,০০১ থেকে ২০ হাজার টাকা হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ, ২০,০০১ থেকে ৩০ হাজার টাকা হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ, ৩০,০০১ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বাড়বে ৬০ শতাংশ এবং ৪০,০০১ টাকা বা বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ যারা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম পেনশন পান, তারাই এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।

তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‌্যাংক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। তথ্যের ঘাটতি ও বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা: নতুন বেতনস্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য একজন সরকারি কর্মচারী মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। অতিরিক্ত পরিচর্যা, চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম মানবিক সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডেই মোবাইল ভাতা: ডিজিটাল সরকারি কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোবাইল ভাতার আওতাও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন। আগে নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত কর্মচারীরা এই সুবিধা পেতেন।

ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজের কারণে এখন প্রায় সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীকেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী।

তবে এই সুবিধার বিপরীতে সরকারের ব্যয়ও বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

এখন অপেক্ষা প্রজ্ঞাপনের: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন শুরু হবে নতুন বেতনস্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে নতুন বেতনস্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটালেও এর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। বেতন বাড়ার স্বস্তির পাশাপাশি সরকারের সামনে থাকবে বাড়তি ব্যয় সামলানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য নতুন কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও ময়লার বিন প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মন্ত্রী বলেন, ‘দিনের বেলায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে তা নগরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই রাতের বেলায় বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’

ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নে রাস্তার দুই পাশে বারোমাসি ফুলের চারা রোপণের পরামর্শ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘নগরকে শুধু পরিচ্ছন্ন নয়, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশন দ্রুত বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় ঢাকা মহানগরীর চলমান উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খালগুলোর সীমানা চিহ্নিতকরণও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উভয় সিটি করপোরেশনে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ঢাকার মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে ইতোমধ্যে রাতে জোনাকির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা পরিবেশ উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সবার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে কাজে আরও গতি আনার তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন উল্লেখ করে তিনি বাস্তবভিত্তিক সমাধান, আগে-পরের তুলনামূলক চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দেন, যা পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চীন সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল বললেন মাহদী আমিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কারিগরি শিক্ষাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, একটি আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন এবং তিনটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম চালুর মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক ৩ দিনের চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে’ এ তথ্য জানান তিনি।

ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত কার্যকর ও স্বল্প খরচে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা প্রদানে চীনের সুখ্যাতি রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে আমাদের এই স্বল্পসময়ের সফরে চীনের ৫০টিরও বেশি প্রথম সারির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ও শিল্প খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সফরের মূল অর্জনকথা হলো বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচিত হয়েছে।’

তিনি জানান, সফরকালে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল অ্যাডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ’ সেন্টার শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক ছাড়াও ‘চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড অ্যাডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি যৌথ সহযোগিতা জোরদারে আরও তিনটি প্ল্যাটফর্মের সূচনা হয়েছে, যা হলো ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল অ্যাডুকেশন রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের তরুণদের দক্ষতায় উন্নীত করে দ্রুত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন চীনা ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহজে কর্মসংস্থান পেতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষতাকে সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা। শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুকরণ এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ শেখার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এ দেশের তরুণরা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। চীন থেকে আগত কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতেও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেই জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গৌরবোজ্জ্বল ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি দেশে রুদ্ধ হওয়া গণতন্ত্র পুনরায় ফিরিয়ে এনেছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক রাজনীতির নতুন পথচলা শুরু হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় 'বাকশাল' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।’

শহীদ জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়। বিএনপির গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।’

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ ক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।’

তারেক রহমান তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি কেবল সুশাসন নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে, করছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, আমি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।’

বিগত বছরগুলোতে বিএনপির জনপ্রিয়তা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে জনগণের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম- একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আবারও গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।’


নির্বাচিত

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্গঠনে পাশে থাকার আশ্বাস আইপিইউর

জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আইপিইউ-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সফরকালে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আইপিইউ’র পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ।

আজ জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।

নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে।

তিনি সংসদে নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউ’র নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, সংসদ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন।

গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে ঘটনাগুলো সরাসরি দেখার এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ অন্যান্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।

স্পিকার পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন এবং আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে প্রতিবেদনটি পড়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ প্রতিবেদন প্রণয়ন বা প্রকাশে কোনো ভূমিকা ছিল না।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিফ হুইপ এ সময় আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।

মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মোছা. তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ফ্যাসিস্ট আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বাসস


নির্বাচিত

মাদক, চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর সঙ্গে বঙ্গভবনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সীমান্তে মাদকপাচার, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত হত্যা নিরসনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আজ বঙ্গভবনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকার চলাকালে বিজিবি মহাপরিচালক নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। সীমান্তে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে বিজিবিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।


বিজিবির ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫ উন্নয়ন প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা জোরদার, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জরুরি সাড়াদান সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলো অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা সেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রতিফলন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইং-১-এর সংকলিত প্রকল্প-তথ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মধ্যে পুলিশ অবকাঠামো, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমন, সাইবার অপরাধ তদন্ত, ই-পাসপোর্ট, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামুদ্রিক কার্যক্রম, মাদকাসক্তি নিরাময়, কারা অবকাঠামো এবং অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ হলো দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ভবন কাম ব্যারাক নির্মাণ প্রকল্প। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ১৬ হাজার ২৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

পুলিশ অবকাঠামোসংক্রান্ত আরেকটি বড় প্রকল্পের আওতায় থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ স্থাপনা, পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র এবং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ হাজার ৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং এটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ বাস্তবায়িত হবে।

বিশেষায়িত পুলিশিং ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সরকার বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এছাড়া সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পৃথক একটি প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ডিজিটাল নিরাপত্তাও মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ: এনহ্যান্সিং ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ক্যাপাসিটি অব বাংলাদেশ পুলিশ’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়ন ও প্রকল্প সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের লক্ষ্য সাইবার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো।

র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড

উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও বড় বিনিয়োগ রয়েছে। র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

র‌্যাবের পরিচালন, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৃথক কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ৭৩টি কম্পোজিট ও আধুনিক বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এছাড়া গাজীপুরে নবগঠিত ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো উন্নয়নে আরেকটি প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ২৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে। লজিস্টিকস ও নৌযান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং প্রতিস্থাপনযোগ্য নৌযান সংগ্রহের দুটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং ২৩ হাজার ১৪৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

বড় প্রকল্পগুলোর একটি ই-পাসপোর্ট

মন্ত্রণালয়ের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অ্যান্ড অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৯ হাজার ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং এটি ২০২৮ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবা আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি আধুনিক ও কার্যকর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদকাসক্তি নিরাময় ও কারা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার মোকাবিলা এবং পুনর্বাসন সেবা উন্নয়নেও মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং জেলা কার্যালয় নির্মাণের মতো প্রকল্প রয়েছে।

সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৪১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে।

এদিকে কারা অধিদপ্তর কয়েকটি কারাগারের সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এসবের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, জামালপুর ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুনর্নির্মাণ, নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন।

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ, নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, বিদ্যমান স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের একটি বড় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৫০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১২টি নতুন করে এবং ৮টি পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে পৃথক একটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

ব্যাপক নিরাপত্তা আধুনিকায়ন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান ২৫টি প্রকল্পের সম্মিলিত চিত্রে দেখা যায়, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এখন শুধু প্রচলিত অবকাঠামো সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ভৌত নিরাপত্তা অবকাঠামোর সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধ তদন্ত, স্বয়ংক্রিয় অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার দিকে এগোচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং অন্যগুলো ২০২৮ সাল ও তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত চলবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে জননিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা আরও কার্যকরভাবে দেওয়ার সক্ষমতা জোরদার হবে বলে সরকার আশা করছে।


নির্বাচিত

থার্ড টার্মিনাল সচলে বরাদ্দ বাড়ছে ৯০২ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল সচল করতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, প্রায় ২.১ বিলিয়ন (২১০ কোটি) ডলার মূল্যের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ দ্রুত চালু করতে কাজ চূড়ান্ত করা, ঠিকাদারের কিছু বকেয়া এবং অন্যান্য সংস্থার পাওনা পরিশোধে এই অর্থ প্রয়োজন।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

হান্নান মাসউদ প্রশ্নে বলেন, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কয়েক দফায় বেড়ে ২১,৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তর তদন্ত করে প্রায় ৪,৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করেছে।

এ অবস্থায় কাজের প্রায় ৯৯.৯১ শতাংশ শেষ হওয়ার পর— শেষ মুহূর্তে আরও ৯০২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো ঠিকাদারকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়ার শামিল কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শুধু ভবন উদ্বোধন করেই কাজ শেষ বলে চালিয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা ছিল। কিন্তু থার্ড টার্মিনালের মেশিনারিজ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকেত বা সংযোজন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, টার্মিনালে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ফলে একদিকে সরকার এটি ব্যবহার করতে পারছিল না, অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা– জাইকার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বড় অংকের কিস্তি পরিশোধ শুরু হলেও, অবকাঠামো সচল না থাকায় কোনো আয় হচ্ছিল না।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে দেখে যে, কাজ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা, ঠিকাদারের পূর্বের কিছু বকেয়া পরিশোধ এবং অন্যান্য সংস্থার বকেয়া মেটানোর মাধ্যমে অবকাঠামো চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন’ –জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই এই অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদন না হলে সুবিশাল টার্মিনালটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকত, যা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতো।

বিমানমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা অনুমোদন হলে খুব দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে। এতে বর্তমানে ১.২ মিলিয়ন যাত্রীর জায়গায় দ্বিগুণ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সেখান থেকে পাওয়া আয় দিয়ে জাইকার ঋণ সহজেই পরিশোধ করা যাবে বলেও জানান তিনি। এই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।


নির্বাচিত

জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের চেয়ে পরিশোধ হয়েছে দ্বিগুণের বেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে, তার দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। রোববার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বাংলাদেশকে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ ছাড় করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।

ইআরডি’র প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণের ছাড় হয়েছিল ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি জুলাইয়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম অর্থছাড় হয়েছে।

অন্যদিকে, গত অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছিল ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধ প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।


নির্বাচিত

banner close