গ্রেনেড হামলা, মানিলন্ডারিংসহ দুর্নীতির একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে (তারেক জিয়া) প্রাপ্য সাজার মুখোমুখি করতে সকল প্রকার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, খুনি জিয়া রক্তাক্ত হাতে খাবার খেতেন এবং খেতে খেতেই ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর করতেন।
আজ বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, খুনি ফারুক-রশিদরা আগে নিজ থেকেই জাতির পিতাকে হত্যার পরিকল্পনা করে, যেটা জিয়া জানতেন। অথচ জাতির পিতাই মেজর জিয়াকে ১৯৭২ সালে কর্নেল এবং ১৯৭৩ সালে ব্রিগেডিয়ার এবং একই বছরে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির চেয়ারে নিজেকে আজীবন আসীন করে রাখার বাসনা নিয়ে আইয়ুব খানের অনুকরণে সেনাছাউনিতে বসে দলছুট রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিএনপি গঠন করেন। তিনি যেমন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন, তেমনি অবৈধভাবেই বিএনপি সৃষ্টি করেন।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে একাধারে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন।
ইতিহাসের ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সংশ্লিষ্টতা ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, খুনি জিয়া তো রক্তাক্ত হাতেই খাবার খেতে বসতেন এবং খেতে খেতেই ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর করতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী নিহত হয়। জিয়া ইনডেমনিটি জারি করে জাতির পিতার খুনিদের রক্ষা করে। তাদেরকে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করে। ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর দালাল আইন বাতিল করে সাজাপ্রাপ্ত ১১ হাজার রাজাকার ও আলবদরকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়। যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি নাগরিক গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে এনে এবং স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজ ও আলীমকে মন্ত্রী বানায়। স্বাধীনতাবিরোধীদের ছেড়ে দিয়ে তাদের পুনর্বাসন ও মন্ত্রী বানানোর মধ্য দিয়ে জিয়া প্রমাণ করে, সে পরাজিত শক্তির দালাল। জিয়ার সাড়ে ৫ বছরের শাসনামলে ২১টি ক্যু ও পাল্টা-ক্যু হয়। অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল তাহেরকে সে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগই স্বৈরাচারের হাত থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৯১ সালে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া সরকার গঠন করে। যে তার স্বামীকে অনুসরণ করে যুদ্ধাপরাধী নিজামী ও মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়িতে উপহার দেয় লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা জাতীয় পতাকা। বঙ্গবন্ধুর খুনী রশীদ ও হুদাকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে এমপি বানিয়ে খালেদা জিয়া প্রমাণ করেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তার আত্মার আত্মীয়তা। তিনি আরও জানান, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট দুঃসহ অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। যা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে প্রতিহিংসার জঘন্য কালো অধ্যায় হিসেবে মানুষ মনে রাখবে। ২০০১ সালে কারচুপির নির্বাচনে জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড এবং দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমননীতির ফলে দেশের অবস্থা চরম বিপর্যন্ত ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল। বিএনপি জঙ্গিবাদে মদদ দিয়ে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, বাংলা ভাই ইত্যাদি সৃষ্টি করে দেশব্যাপী সন্ত্রাসী তাণ্ডবলীলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে। এতে আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করে এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। অনেককেই পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। শুধু আমার ওপরেই ১৯ বার হত্যাচেষ্টায় হামলা করেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়া এবং সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার ও মমতাজউদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।
একই প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, একমাত্র আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছে। আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি, দেশের উন্নয়ন করি। জাতির পিতার নীতি অনুসরণ করে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষের জীবনের শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন উত্থাপিত অপর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে। যুক্তরাজ্য থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত জটিলতা আছে। ওইসব জটিলতা আইনি প্রক্রিয়ায় নিরসন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তার প্রাপ্য সাজার মুখোমুখি করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ উদ্দেশ্যে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা ও আইনি কার্যক্রম একই সঙ্গে চলছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। দ্রুতই ফলাফল পাওয়া যাবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ জন পলাতক আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, মেজর (অব.) নূর চৌধুরী, রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খান ও লে. কর্নেল (অব.) রাশেদ চৌধুরী এবং একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, হারিছ চৌধুরী ও রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা আছে। পলাতক আসামিরা যে দেশে অবস্থান করছে, সে দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রচলিত কূটনীতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রী ও সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশগুলোর সঙ্গে সরকারের যেকোনো পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যে সকল পলাতক খুনিদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তাদের অবস্থান খুঁজে বের করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা জানান, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নকল্পে ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর আলোকে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, ভারতসহ সমরাস্ত্র শিল্পে উন্নত বিভিন্ন দেশ থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, বাহিনীগুলোর গঠন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। বর্তমানে তার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলছে।
রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নতুনভাবে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সকাল দশটার দিকে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং সংস্কারকৃত পুরো উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পার্কটির আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্যানটি আজ নগরবাসীর সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।
উদ্বোধনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন)।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাকে ডাকা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি উপস্থিত হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেন।
এর আগে শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারকে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়েছি। আমরা একটু অপেক্ষা করি। দেশটির জবাব পেলে তারপরে পরিষ্কারভাবে বলতে পারব। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদির কাছে যা যা জানার দরকার, সবকিছুই জানতে চেয়েছি’—উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বুধবার ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি আইনের ‘তাজির’ ধারায় এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটি।
তাজির হলো ইসলামি আইনে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি। রায়ের পর রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করতে বলা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে। তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস আর কান্না। কেউ এসেছেন স্ত্রীকে খুঁজতে, কেউ সন্তানকে, কেউবা পরিবারের একাধিক সদস্যকে। কিন্তু আগুনে মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে বিকৃত হয়েছে যে, দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিচয় শনাক্তের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় এখন ডিএনএ পরীক্ষা। অথচ পর্যটননগরী কক্সবাজারে নেই এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার। ফলে নিহত ১০ পর্যটকের পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে। এতে মরদেহ হস্তান্তরে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
গত শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি তিন তলা টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটক নিহত হন, দগ্ধ হন আরও ছয়জন। প্রায় সাত ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল ৩টায় ১০টি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ হয়। দগ্ধ চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্য দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ছাড়া পান। রোববার সকাল থেকে নিহতদের স্বজনেরা হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেছেন, কক্সবাজারের ঘটনায় নিহত পরিবারের কয়েকজন রবিবার সকালে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন। আমাদের ফরেনসিক বিভাগ কাজ করছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করতে পেরেছে। তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেলের ভাষ্য, দগ্ধ ও বিকৃত মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। কক্সবাজারে এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ল্যাব ও যন্ত্রপাতি নেই। তাই নমুনা ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে পাঠাতে হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর যশোরের একই পরিবারের চারজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা হলেন নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোবাইনা (৭) ও সুনাইনা (৩)। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের থাকার বুকিং ছিল। নিহতদের তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা আগুনে মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।
ঢাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই বান্ধবী আইরীন জাহান ও ইসরাত জাহানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন তিনি। আইরীন জানান, শনিবার ভোরে তারা সূর্যোদয় দেখতে সমুদ্রসৈকতে যান। নাসরিনকে সঙ্গে যেতে বললেও তিনি ঘুমানোর জন্য রিসোর্টে থেকে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা রিসোর্টে আগুন দেখতে পান।
খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে কক্সবাজারে আসেন নাসরিনের স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে ছুটে গিয়েও নাসরিনকে পেলাম না। হাসপাতালে লাশের যে অবস্থা দেখলাম, কারও পরিচয় শনাক্ত করার উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট লাগবে।
নাসরিন আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ছয় বছর আগে দেওয়ান ফয়সালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও রিসোর্ট পরিচালনায় অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আগুনের সূত্রপাত, অনুমোদন সংক্রান্ত অনিয়ম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান সাংবাদিকদের বলেছেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে উখিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর আহমদ ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদ এবং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন (সংশোধন) পাস করা হলে সরকারের জন্য বুমেরাং ও আত্মঘাতী হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট মেটার (ফেসবুক) মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়। রোববার রাজধানীর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, মহিলা পরিষদসহ মোট ১৯টি সংগঠন এই বৈঠকে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারবো না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে। নোয়াব সভাপতি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন করতে চায়, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর তারাই অন্যায়ের শিকার। পৃথিবীতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এ কারণে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি রয়েছে।
বৈঠকে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা মেটার অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে প্ল্যাটফরমগুলোর বিপুল আর্থিক মুনাফার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে মেটা সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্যকে বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ বা যৌক্তিক আলোচনাকে সেন্সর করে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবসার অশুভ আঁতাতের ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আইন চাপিয়ে দেয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়।
বৈঠকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি দেখে মনে হচ্ছে, এটি শুধু ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের হাত-পা বেঁধে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তির অপরাধ বা ভুলের কারণে পুরো গণমাধ্যম বা মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দেয়ার মতো বিধানও রয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ প্রমুখ অংশ নেন।
জনপ্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সচিব পদমর্যাদার সাতজন কর্মকর্তার দপ্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি একজন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে এবং দুজনকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদলের আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজ আয়েশা আক্তারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের দুজন অতিরিক্ত সচিবকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে নিজ মন্ত্রণালয়েরই ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবিরকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে।
বর্তমান সচিবদের কর্মস্থল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) রেক্টর হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মো. কামরুজ্জামানকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা মো. জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও সরকারের আয় বাড়াতে বর্তমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে—এমন নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেন, কর দেওয়ার নিয়ম সহজ করতে হবে, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে হবে এবং যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘তৃতীয় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে রপ্তানির পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়ানো, অর্থের সঠিক হিসাব রাখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে এ হার প্রায় ১২ শতাংশ এবং চীনে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তাই সরকারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি করব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) বিবেচনা করতে হবে। সরকারি অর্থ খরচের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এমটিএম অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে তিনি করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, অনলাইনে করব্যবস্থা বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নত করতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠের ৩১ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যেই সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের সমন্বিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত ও কাজের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সার্বিক ব্যয় নির্ধারণের হিসাব-নিকাশ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
নতুন সচিবালয় নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে বেজমেন্টসহ মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ১৪টি ১২ তলাবিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, দুটি মসজিদ, মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও একটি আধুনিক ডাকঘর। এছাড়া আগারগাঁও এলাকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড রাস্তা ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এদিকে বর্তমান সচিবালয়ের জায়গাটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর বা আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নির্ধারণ করা হবে।
একই বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা লেজিসলেটিভ যাচাই শেষে সোমবারই জারি হতে পারে। বৈশ্বিক সংঘাতের বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনে ওপেক্স এবং ক্যাপেক্স—উভয় মডেলে দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে এই নতুন আইনে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক কিংবা কীটনাশকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আমদানির পূর্বেই অবগত হওয়ার এবং ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। পূর্বে বাংলাদেশ এই কনভেনশনের বাইরে থাকলেও এখন থেকে সব ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো কার্যকর হবে।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবনের মাস্টার প্ল্যানের মূল কনসেপ্টেরও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের আন্তর্জাতিক প্রশংসিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর মূল ভাবাদর্শ বজায় রেখে এবং কানের ফর্মুলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আধুনিক কিছু প্রয়োজনীয় সংযোজন যুক্ত করা হয়েছে। মূল কনসেপ্ট অনুমোদনের পর এখন স্থাপত্য, প্রকৌশল কাঠামো, বিদ্যুৎ এবং প্লাম্বিংসহ বিস্তারিত কারিগরি নকশা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৭’-এর। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বইমেলার এই আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এ মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও সচিব ইয়াসমিন বেগম। বিস্তারিত আলোচনার পর সবার ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বইমেলার এই সময়সীমা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। বিশেষ করে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। এছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দুই দেশের প্রশংসনীয় ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ভবিষ্যৎ পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা শিল্প ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতালি সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ইতালির অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও যোগাযোগ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এবং সার্বিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকার আমিনবাজারে গত দুই মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এর বড় প্রমাণ।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয়জনগণকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা থাকলে পরিবেশদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে সড়কের পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে আমিনবাজার এলাকার যে অবস্থা ছিল, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।এতে এলাকাটি যেমন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে, তেমনি আশপাশের মানুষের জন্য অপেক্ষাকৃত সুন্দর পরিবেশে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
তিনি এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা বেগমসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের উদ্যোগে একটি এলাকাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখন সেই সৌন্দর্য ও পরিবেশের উন্নয়ন ধরে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিতে হবে। সবাই সহযোগিতা করলে এলাকাটিকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে আমিনবাজারের আশপাশে ঢাকা জেলার আওতাধীন এলাকায় সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে বলেন।
তিনি বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট কিছু জায়গার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের দেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে যেসব স্থানে এখনো ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে, সেসব জায়গা উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আমিনবাজার ও এর আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ কমিয়ে স্থানীয় মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের প্রতিও আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যেন নির্মল পরিবেশে বুকভরে শ্বাস নিতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক আমিনবাজারে পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য জেলার জেলা প্রশাসকরাও নিজ নিজ এলাকার অনুরূপ স্থানগুলোকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আওতায় ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস
আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গাছের চারা রোপণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজ হাতে চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তিনি মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আমিনবাজার এলাকায় গিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সড়কের পাশে সবুজায়ন নিশ্চিত করতে এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে যখন হিংসা ও হানাহানির বিস্তার ঘটছে, তখন বাংলাদেশে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন। দেশের এই দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সুধীজনের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার সমালোচনা করে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
পূজার অন্তর্নিহিত দর্শন ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি জানান, এই উৎসবের মূল চেতনার সঙ্গে অশুভ ও অসুরের বিরুদ্ধে বিজয়ের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। অতীতেও এই জনপদে অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল, তবে দেশের আপামর জনতা সম্মিলিতভাবে তাদের রুখে দিয়েছে। তিনি স্মরণ করেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসুরের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের নাগরিকরা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন যে এমন সম্প্রীতির আবহ অন্য কোথাও নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিদ্যমান অস্থিরতার বিপরীতে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্ভয়ে পূজা উদযাপন এ দেশের সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য নিদর্শন।
মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকেও প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র রাখার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্তের নিন্দা জানিয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে দেশের সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার কারণে অনেক সাধারণ ভক্ত মণ্ডপের মূল অনুষ্ঠানে সমবেত হতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হাজারো মানুষের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে মণ্ডপে পৌঁছাতে পারলে তিনি আরও আনন্দিত হতেন। ভবিষ্যতে কোনো প্রকার কঠোর নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই যাতে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে সবাই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করতে পারেন, এমন এক ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাত দিনে ১১টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস হাউজ, ঢাকা। এসব অভিযানে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকার সোনা ও সোনার অলংকারসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য থেকে এক কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর আদায় করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে ৫৮৯ লিটার মদ, ২ হাজার ৯২৩ কার্টন সিগারেট, ৩৫০টি ই-সিগারেট, আমদানি নিষিদ্ধ ২৮৬ কেজি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৯২টি মোবাইল ফোন এবং ৩১৫ কেজি ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক বিভিন্ন পণ্যও জব্দ করা হয়।
এনবিআর জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্য আনার ক্ষেত্রেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।