মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্রেণিকক্ষে ৭০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত হলে কিশোর গ্যাং কমবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১ জুলাই, ২০২৪ ১৯:৩৮

সারা দেশে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে কিশোর গ্যাংসহ সমাজে নানা অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলে বিভিন্ন অপরাধমূলক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবে এবং মনোজগতের উন্নততর বিকাশ ঘটবে। ফলে কিশোর গ্যাংসহ সমাজে নানা অপরাধ কমে আসবে।

আজ সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সময় সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতির ওপর নির্দিষ্ট নম্বর প্রদান, পরপর কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকলে জরিমানাসহ বিদ্যালয় পরিত্যাগ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়মিত পরিদর্শন করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন-খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি নিয়মিত আয়োজন করা হয়।

একই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের অভিভাবকদের অবগত করা ও সময় সময় অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বছরের প্রথমে শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন-খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি নিয়মিত আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ’ উদযাপন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ করা হয়। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে শিখন-শিখানো কার্যক্রমে মনোযোগী ও ব্যস্ত থাকছে।

কিশোর গ্যাংসহ সমাজের অপরাধ নিবারণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিপথগামী কিশোরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা, উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। বিপথগামী কিশোরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে সকল স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সিসিটিভির আওতায় আনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

পরবর্তী জনশুমারি ২০৩১ সালে : আওয়ামী লীগের মাহমুদুল হক সায়েমের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী ২০৩১ সালে পরবর্তী জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হবে। পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ এর ৬(গ) ধারা মোতাবেক আদমশুমারি শব্দের পরিবর্তে জনশুমারি করা হয়েছে। ২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন দেশে সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী দেশে বর্তমান মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন, নারী ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন ও হিজড়া ৮ হাজার ১২৪ জন। তিনি আরও জানান, পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ এবং সেন্সাস অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। অতীতের ধারাবাহিকতায় আগামী ২০৩১ সালে পরবর্তী জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হবে।


আইজিপির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, তদন্ত কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ফরেনসিক ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং আইনগত সহযোগিতার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হওয়ায় সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জেন্ডার সংবেদনশীল পুলিশিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, পেশাদার, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে আরও সক্ষম করে তুলতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারিগরি সহায়তা ও দক্ষতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শের মাধ্যমে পুলিশের টেকসই সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে এবার ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, ওই অভিযোগের পর তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর পাটওয়ারীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব দাবি করেন। তাঁর পোস্টের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযোগের কথা প্রকাশিত হয়েছে।

রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ছাত্র ফেডারেশনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ঢাবির এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তাঁর দাবি, তদন্ত কমিটি বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর পাটওয়ারী কিছু সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরে এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন বলে দাবি করেন রাশেদ।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবি পার্টির নেতাকর্মীরা পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ওঠা ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ সম্পর্কে জানতেন না। জানলে তাঁরা তাঁকে দলে নিতেন কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আরও একটি চুরির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক সমালোচনা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে অতীতের অভিযোগের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ অংশে তিনি পাটওয়ারীকে ‘ল্যাপটপ চোর’ ও ‘ছাগলচোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তবে রাশেদ খাঁনের পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগের বিষয়ে ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, বহিষ্কারের লিখিত সিদ্ধান্ত বা সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যের কোনো নথি প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগটি রাশেদ খাঁনের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।


উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা এবং তা কঠোরভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে থাকা পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে। এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে বিলম্ব হলে দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চর্চা নিয়েও নতুন করে ভাবার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে তা পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে।

এর ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পটি সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকাতেও রয়েছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। এসব প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

এ ছাড়া ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগ সমন্বয়ের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’–সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।

জোনায়েদ সাকি বলেন, এসব ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমবে এবং ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল তদারকি আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতেও এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে।


বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদে দেওয়া নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে যদি বিরোধীদল পরিবর্তন আনতে চায়, সেটাও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে বিশেষ কমিটিতে এসে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।’

সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিরোধীদলকে কমিটিতে সদস্য দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এর আগে, সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, জুলাই জাতীয় সনদই তাদের কাজের প্রধান ভিত্তি। সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে আসা প্রস্তাবের পাশাপাশি ভিন্নমতও বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে কমিটি।

বিরোধীদলের জন্য কমিটিতে সদস্য থাকার সুযোগ রাখা হলেও তারা এখনো সদস্যের নাম দেয়নি বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে যারা সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবার কাছ থেকেও মতামত নেয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশীজনের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।


সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ১ম বৈঠক মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং মূল্য সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি’র ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং জ্বালানী সরবরাহ ব‌্যবস্থা সংকটকালীন ও পরবর্তীতে একই থাকার পরেও শুধু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে কিভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এ সময় দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস’কে একথা জানিয়েছেন।

বিকাল ৩টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিবিধিদের সাথে বৈঠকসহ সফরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং বক্তব্যটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভাষণটিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এবং প্রধান বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত ও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এসময় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সূত্র: বাসস


প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কুয়েট-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এই তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভাকে হ্রাস করছে। তাই জনকল্যাণে ও পরিমিত মাত্রায় এর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপাচার্য কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিবগণ ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজ করতে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেন নাগরিক সেবার মান বাড়ায় এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী করণীয় দ্রুত নির্ধারণ করতে তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। এতে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী।

এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা ও সার্বিক বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলাম মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি বিষয়ে প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।

প্যানেলে অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বদরুল সারওয়ার।

আলোচকেরা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প খাতের অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। বিএইআর সামিটসহ সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষায়ও দক্ষ করে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও এআইয়ের সঠিক ব্যবহার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। মূল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে নতুন শিক্ষাপদ্ধতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।


বাংলাদেশি পাট পণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাট পণ্যে (যার মধ্যে পাটের সুতা ও টুইনও রয়েছে) প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশের পাট পণ্য রপ্তানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত এলো। তিন মাস আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভারতে পাট পণ্য ডাম্পিং অব্যাহত রেখেছেন। এতে দেশটির স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটিআর গত বছরের জুনে এ পর্যালোচনা শুরু করে। বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাট পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এ জন্য বাংলাদেশে ৫৪টি ও নেপালে ৩৬টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি ও নেপালের পাঁচটি মিল সাড়া দেয়।

এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছিল ভারত। পরে বাংলাদেশের পাটের বস্তার কাপড়ও এ শুল্কের আওতায় আনা হয়। এতে বাংলাদেশের পাট পণ্যের অন্যতম বড় বাজার ভারতে রপ্তানি কমে যায়।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি পাট পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের পাটের সুতা, বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ে প্রতি টনে ৫৯ ডলার থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাটের সুতা রপ্তানিকারক আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর প্রতি টনে সবচেয়ে কম ৫৯ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্কারোপ করা হয়েছে।

ছয়টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের রপ্তানি করা সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। সেগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।

আরও দুটি প্রতিষ্ঠান—নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো উৎপাদনকারী পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানি করলে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

ডিজিটিআরের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাট পণ্যের চাহিদা ২০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। এতে ভারতীয় মিলগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে বিদেশি উৎপাদনকারীরা বাজারের অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

পাট পণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ককে ‘একতরফা’ ও ‘জুলুমবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপের ক্ষেত্রে তারা যে ভর্তুকির হার বিবেচনায় নিয়েছে, তা কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাদের ধারণা, আমরা অনেক বেশি ভর্তুকি পাই, যা বাস্তবতা নয়।

বিজেএসএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও পাটের বস্তার ওপর ৩-৫ শতাংশ ভর্তুকি দেয়।’

তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘ভারতে পাট পণ্য রপ্তানি কমেছে। তবে প্রাকৃতিক ফাইবারভিত্তিক পণ্যের সামগ্রিক রপ্তানি আরও কমার সম্ভাবনা নেই।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ১১৬ কোটি ডলার আয় করে। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।


চীন-আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সঙ্গে চীন-আমিরাতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি তার সঙ্গে সাক্ষাতে এলে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাসংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়। শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাকে অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।

এ সময় বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া জ্বালানি, অবকাঠামো, এভিয়েশন, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির সঙ্গে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।


১৮ দেশের বাজার ঘিরে সমন্বিত রপ্তানি কৌশল

* পণ্য বহুমুখীকরণে ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও আইটি সেবায় জোর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করে পৃথক রপ্তানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি প্রধান বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।’

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণ: বাজার বিশ্লেষণে একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় এবং বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

১৮টি বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নির্ধারণ করা হবে। ফলে কোন বাজারে কোন পণ্যের সম্ভাবনা বেশি এবং কোথায় কী ধরনের বাধা রয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পোশাকের বাইরে নজর: কর্মশালায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এই নির্ভরতা কমাতে নতুন পণ্য ও সেবা খাতকে রপ্তানি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেসব পণ্য ইতোমধ্যে রপ্তানি হচ্ছে, সেগুলোর নতুন বাজার তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

সেবা রপ্তানিতে গুরুত্ব: কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, সেবা রপ্তানিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি ও সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদারের পরামর্শ দেন।

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতি: বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্ক, অশুল্ক বাধা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

এ কারণে ১৮টি বাজারের জন্য প্রস্তাবিত কৌশলে শুধু সম্ভাবনাময় পণ্যের তালিকা নয়, বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূর করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

শিল্প খাতের প্রস্তাব: কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা রপ্তানি সম্প্রসারণে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও কর্মশালায় অংশ নেন।

শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

বহুমুখী রপ্তানি কাঠামোর লক্ষ্য: ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রণীত এই কৌশলের লক্ষ্য শুধু নতুন বাজার খোঁজা নয়; বরং বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের অংশ বাড়ানো, নতুন পণ্য চিহ্নিত করা এবং সেবা রপ্তানির পরিধি সম্প্রসারণ করা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারভিত্তিক তথ্য ও চাহিদা বিশ্লেষণ করে পৃথক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে। তবে এর জন্য উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, বাণিজ্য অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।

১৮টি বাজারকে ঘিরে সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, কৃষি, ইলেকট্রনিকস, চামড়া, হালকা প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি ভিত্তি আরও বিস্তৃত ও বহুমুখী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


বন্ধ পাটকল চালুর উদ্যোগ, ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা

* ১৭ পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু * প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান
ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যেই লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মিলগুলো হলো— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড ও নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুট মিল।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুইটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।

চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিলগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটির বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মিল দুটি হলো ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামুনুর রশিদ আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুট মিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুট মিলস ফেরত পাওয়া গেছে এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।’

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।’

পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে (৫ থেকে ২০ বছর) বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পাটকল চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প খাতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে ও পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও তিনি সাতটি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন।

পাশাপাশি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা বলে অভিহিত করে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা দেশের জন্যও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী প্রথম ভাষণ দেন। এর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

সূত্র: বাসস


banner close