বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১১ ভাদ্র ১৪৩৩
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্রেণিকক্ষে ৭০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত হলে কিশোর গ্যাং কমবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১ জুলাই, ২০২৪ ১৯:৩৮

সারা দেশে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে কিশোর গ্যাংসহ সমাজে নানা অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলে বিভিন্ন অপরাধমূলক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবে এবং মনোজগতের উন্নততর বিকাশ ঘটবে। ফলে কিশোর গ্যাংসহ সমাজে নানা অপরাধ কমে আসবে।

আজ সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সময় সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতির ওপর নির্দিষ্ট নম্বর প্রদান, পরপর কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকলে জরিমানাসহ বিদ্যালয় পরিত্যাগ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়মিত পরিদর্শন করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন-খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি নিয়মিত আয়োজন করা হয়।

একই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের অভিভাবকদের অবগত করা ও সময় সময় অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বছরের প্রথমে শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন-খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি নিয়মিত আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ’ উদযাপন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ করা হয়। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে শিখন-শিখানো কার্যক্রমে মনোযোগী ও ব্যস্ত থাকছে।

কিশোর গ্যাংসহ সমাজের অপরাধ নিবারণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিপথগামী কিশোরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা, উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। বিপথগামী কিশোরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে সকল স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সিসিটিভির আওতায় আনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

পরবর্তী জনশুমারি ২০৩১ সালে : আওয়ামী লীগের মাহমুদুল হক সায়েমের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী ২০৩১ সালে পরবর্তী জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হবে। পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ এর ৬(গ) ধারা মোতাবেক আদমশুমারি শব্দের পরিবর্তে জনশুমারি করা হয়েছে। ২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন দেশে সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী দেশে বর্তমান মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন, নারী ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন ও হিজড়া ৮ হাজার ১২৪ জন। তিনি আরও জানান, পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ এবং সেন্সাস অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। অতীতের ধারাবাহিকতায় আগামী ২০৩১ সালে পরবর্তী জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হবে।


নির্বাচিত

পুলিশ বাহিনীকে ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব ও সেবামূলক সংস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো বড় পরিবর্তনই রাতারাতি সম্ভব নয়; দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট ও জঞ্জাল পরিষ্কার করে নতুন গতি আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। আজ বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রংপুরের সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেখানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

পুলিশের চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, “পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। তারা বর্তমানে জনগণের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এই আমূল পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন দেখতে হলে দেশবাসীর ধৈর্য ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।” সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের লজিস্টিক ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি আয়োজিত এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সরকারের এই মেয়াদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।


নির্বাচিত

প্রতিবেদনে তথ্য বিভ্রাট, সিপিডির দুঃখ প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বড় ধরনের তথ্য বিভ্রাট ধরা পড়েছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে সিপিডি দাবি করেছিল যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং এতে ৬২ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, এই তথ্যটি আসলে বর্তমান সময়ের নয়, বরং এক বছর আগের।

সিপিডির প্রকাশিত প্রতিবেদনের ১১ নম্বর স্লাইডে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে এই কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে। সংস্থাটি এই তথ্যের উৎস হিসেবে গত ২২ আগস্ট একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে উদ্ধৃত করেছিল। কিন্তু অধিকতর যাচাইয়ে দেখা গেছে, উক্ত সংবাদটি প্রকৃতপক্ষে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ অন্য একটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত সংবাদের হুবহু অনুকরণ, যা বর্তমান সরকারের আমলের চিত্র নয়।

এই ভুলের বিষয়টি নজরে আসার পর গতকাল রাতে সিপিডি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্যের মূল উৎস সঠিকভাবে যাচাই না করায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সিপিডি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসাবধানতাবশত ভুলের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে সিপিডি আরও জানায়, “অসাবধানতাবশত বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।” পাশাপাশি সংস্থাটির গবেষণা দল ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এক বছর আগের তথ্যকে বর্তমান সরকারের আমলের বলে চালিয়ে দেওয়ায় জনমনে এবং গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তা নিরসনে এই স্পষ্টীকরণ প্রদান করা হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই সংস্থাটি দ্রুত তাদের ভুল স্বীকার করল।


নির্বাচিত

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মানবজাতির মুক্তির দিশারি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হচ্ছে। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল মহানবী (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ ৬৩ বছরের কর্মময় জীবন শেষে একই তারিখে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগে আলোর মশাল হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার মূর্ত প্রতীক। নবুয়ত লাভের পর দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি ইসলামের শান্তির বাণী প্রচার করেন এবং মদিনায় ইনসাফ ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ক্ষমা, ধৈর্য এবং মানবিক গুণাবলি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে আজও বিশ্ববাসীর কাছে স্বীকৃত।

পবিত্র এই দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের মুসলমানদের ন্যায় দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে প্রিয় নবীর প্রতি গভীর মহব্বত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ নফল নামাজ ও রোজা আদায়ের মাধ্যমেও দিবসটি অতিবাহিত করছেন। রাজধানীর প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কালেমাখচিত পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে মোবারকবাদ জানিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মহানবী (সা.)-এর শান্তি, সাম্য ও সহনশীলতার আদর্শ অনুসরণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ার আহ্বান জানান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পক্ষকালব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও আলোচনার উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন দিনটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রিয় নবীর আদর্শকে ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত করার মধ্যেই মানবতার প্রকৃত মুক্তি নিহিত বলে মনে করছেন ধর্মপ্রাণ মুমিনরা।


নির্বাচিত

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি

বিমানবন্দরে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুকের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে আজ বুধবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান ফেরার পথে রাজার বহনকারী বিশেষ বিমানটি ঢাকায় সাময়িক যাত্রাবিরতি করলে রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।

প্রায় এক ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির সময় বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে ভুটানের রাজা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতিও বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে রাজাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রদান করেন।

আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ভুটানের প্রথম স্বীকৃতির ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে।” এ সময় তিনি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতার বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ মমত্ববোধের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পারস্পরিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ভুটানের রাজা।

ভুটানের রাজা তাঁর উচ্চাভিলাষী ও দূরদর্শী প্রকল্প ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এই উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি এই প্রকল্পের প্রশংসা করে জানান যে, টেকসই উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সমৃদ্ধি অর্জনে রূপান্তরমূলক যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ ভুটানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সদাপ্রস্তুত।

সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে রাজাও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিশেষ বিমানটি ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।


নির্বাচিত

জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে স্থবিরতা, বাড়ছে ভোগান্তি

* দুই বছরে বন্ধ প্রায় এক হাজার শিল্পকারখানা * ৬ মাসে কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার মানুষ * অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনেও সংকট * ঢাকার লোডশেডিংয়ে সমন্বয়, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পুনর্বণ্টন * এলপিজি আমদানি বাড়লেও বাজারে সংকট * ভরসার বৈদ্যুতিক চুলাতেও সংকট * প্রয়োজন সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের জ্বালানি সংকট এখন আর শুধু গ্যাস বা বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা নয়। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, গৃহস্থালির ব্যয় এবং এলপিজি বাজারে। একদিকে গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন কমছে ও বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে বাসাবাড়িতে বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করলেও বাড়তি বিদ্যুৎ বিল ও বিদ্যুৎ সংকটে সেই ভরসার বৈদ্যুতিক চুলাতেও তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি ঘাটতি, কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যা ও গ্রিড সীমাবদ্ধতায় লোডশেডিংও বেড়েছে। একই সময়ে বাড়তি আমদানির পরও এলপিজি বাজারে তৈরি হয়েছে সরবরাহ সংকট।

দেশের শিল্প খাত দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, ব্যাংক ঋণের চাপ, কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রয়াদেশের অনিশ্চয়তায় গভীর সংকটে পড়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মাসে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন। তবে সাময়িকভাবে বন্ধ ও অর্ধেক সক্ষমতায় চলা কারখানা ধরলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বন্ধ কারখানার তুলনায় কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, সার্ভিস বেনিফিট ও ক্ষতিপূরণ নিয়েও সংকট তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, আগামী দুই বছর গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই—এমন ধারণা থেকেই তিনি তার মালিকানাধীন একটি পার্টিকেল বোর্ড মিল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে জ্বালানি সংকটে তার পাঁচটি স্পিনিং মিলও বন্ধ হয়েছে।

আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিজিএমইএ’র ৪৯৯টি, বিকেএমইএ’র ২৩৫টি, বিটিএমএ’র ১৬৬টি এবং বেপজার ৫৯টি সদস্য কারখানা বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ এসব সংগঠনের সদস্য কারখানার মধ্যেই বন্ধের সংখ্যা ৯৫৯টি। অন্যান্য শিল্প খাতেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এক হাজারের বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো জানিয়েছে।

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা, এলএনজি সংগ্রহ ও কার্গো গ্রহণের জটিলতায় গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিক শিল্প। শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার ১ হাজার ১৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ১ হাজার ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধিও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার ভাড়া, শ্রমিকের বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদসহ স্থায়ী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। আবার কম সক্ষমতায় কারখানা চালালেও প্রতি ইউনিট পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি ব্যয় ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় উদ্যোক্তারা লোকসানে উৎপাদন চালাবেন, নাকি কারখানা বন্ধ রাখবেন—সেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন।

কারখানা বন্ধ হলে নগদ অর্থপ্রবাহ কমে যায়, কিন্তু ব্যাংকের কিস্তি ও সুদের দায় থেকে যায়। শওকত আজিজ রাসেল জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধ হলেও ব্যাংকের দায় পরিশোধের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে অবশিষ্ট সম্পদ বিক্রি করেও পাওনা পরিশোধ করতে হতে পারে।

সিপিডির পর্যালোচনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। নিট বিদেশি বিনিয়োগ ৬৬২ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ পুরোনো কারখানা যেমন বন্ধ হচ্ছে, তেমনি নতুন শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির গতিও কমছে।

একটি কারখানা বন্ধ হলে শুধু শ্রমিক নয়—পরিবহন শ্রমিক, কাঁচামাল সরবরাহকারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, খাবারের দোকান ও ভাড়াবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শিল্পাঞ্চলে সংকটের প্রভাব দ্রুত স্থানীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক দশমিক ২৮ শতাংশে নেমেছে।

জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি ওষুধ শিল্পেও তৈরি হয়েছে বড় সংকট। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বাপি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টির মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের দাম সে অনুযায়ী সমন্বয় না হওয়ায় উৎপাদকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে এসব ওষুধের অনেকগুলোর উৎপাদন খরচ বিক্রয়মূল্য থেকে উঠে আসে না। মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।’

বাপির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, ‘ওষুধ শিল্পকে শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ তার মতে, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে এবং দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কম দামে এসব ওষুধ সরবরাহ করতে পারে। তবে ভর্তুকি ছাড়া বেসরকারি উৎপাদনকারীদের দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।’

শিল্পের পাশাপাশি গ্যাস সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আজমল হোসাইন জানান, আড়াই মাস ধরে তার বাসায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে তিনি সাত হাজার টাকা দিয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করলেও বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের কারণে তার সংসারের খরচ বেড়েছে। তার ভাষায়, আগে বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ৫০০ টাকা এলেও এখন তা বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ গ্যাসের সংকট থেকে বাঁচতে যে বৈদ্যুতিক চুলার ওপর ভরসা করতে হচ্ছে, বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের কারণে সেই বিকল্পও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাস না থাকায় নিরাপদ পানি নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন তিনি। পানি ফুটিয়ে খেতে না পারায় তার দুই সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে জানান আজমল।

মিরপুরের আয়েশা সিদ্দিকা জানান, চার মাস ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। তিনি সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। আগে তার বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১ হাজার টাকা হলেও এখন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা আসে। তার বক্তব্য, গ্যাসের বিল দেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির জন্যও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করেও সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না।

পূর্ব শেওড়াপাড়ার শান্তা রানী জানান, গ্যাস না থাকায় মাটির চুলা বানিয়ে রান্না করছেন। ভেজা লাকড়ি জ্বলে না। বেলা দুইটার দিকে সামান্য গ্যাস এলে রান্না শুরু করেন। তার ভাষায়, সকালে রান্না না হওয়ায় দুপুরের খাবার খেতেও অনেক সময় বিকাল হয়ে যায়।

কালশীর বাসিন্দা শিল্পী খাতুন জানান, কয়েকটি পরিবার মিলে একটি টিনশেড বাসায় থাকায় পালা করে রান্না করতে হয়। বাড়িওয়ালা বৈদ্যুতিক ও লাকড়ির চুলা ব্যবহার করতে দেন না। তার স্বামী রিকশা চালান এবং অনেক সময় দৈনিক আয়ের বড় অংশ খাবার কিনতেই চলে যায়। শিল্পীর ভাষায়, রান্না না হইলে বাইরে খাইতে হয়। তখন দুই আড়াইশ টাকা চইলা যায়।

মিরপুর-১২ এর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শিহাব জানান, দেড় মাস ধরে চুলায় গ্যাস নেই। রান্না করতে না পারলেও মাসিক বিল দিতে হচ্ছে এবং বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। এতে তার খরচ বেড়েছে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও বেড়েছে। কাজীপাড়ার আরেক শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান জানান, সিলিন্ডার ব্যবহারে তাদের চারজনের বাসায় জনপ্রতি প্রায় ৭০০-৮০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

দেশে প্রায় নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। গত ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ বাড়লেও নতুন এলএনজি কার্গোর সংকটে গত বুধবার এক্সিলারেটের সরবরাহ আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে নতুন কার্গো আসায় সরবরাহ শুরু হলেও সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার সম্মিলিত প্রভাবেই বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদন কমছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এতে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলেও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের চাপ কমানো সম্ভব হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে ] মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট।

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রিডের সীমাবদ্ধতা দূর হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

পাইপলাইনে গ্যাসের ঘাটতির কারণে ভোক্তাপর্যায়ে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালে এলপিজি আমদানি ২৫ শতাংশের বেশি বাড়লেও বাজারে সংকট কাটেনি। ভারত মহাসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলপিজির চালান বিলম্বিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘এলপিজি ব্যবসার উদ্যোক্তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।’ তার মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বড় আমদানিকারকদের কাছ থেকে এলপিজি নিয়ে বোতলজাত করে বাজারজাত করেন। আগে ওমান, দুবাই ও কাতার থেকে এলপিজি এলেও বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে গেছে।

সান গ্যাস লিমিটেডের এরিয়া হেড একরামুল হক জুয়েল বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ আসতে না পারায় সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না।’ তার দাবি, মূল আমদানিকারক বা বোটলাররা দাম না বাড়ালেও সরবরাহ কম থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটর অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা হলেও কিছু ডিলার তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বিইআরসি গত ২ আগস্ট ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করে, যা আগের মাসের তুলনায় ৭০ টাকা বেশি। অন্যদিকে সরকারি এলপিজিএলের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এলপিজির মূল্য নির্ধারণে সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য বা সৌদি সিপি বিবেচনা করা হয়।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৮ লাখ ৩৫ হাজার ২৫৬ টন এলপিজি উপাদান আমদানি হলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১১ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৪ টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৫২৮ টন।

বিএম এনার্জির নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাইনুল আহসান খান বলেন, ‘এখনো সংকট নেই’, তবে ভারত মহাসাগরের সাইক্লোন পরিস্থিতির কারণে তাদের একটি জাহাজ নির্ধারিত ২০ আগস্টের পরিবর্তে ২৫ আগস্ট (গতকাল মঙ্গলবার) আসবে। তার মতে, আপাতত সরবরাহে ঘাটতি নেই। অন্যদিকে যমুনা স্পেসটেক জয়েন্ট ভেঞ্চারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বাজারে কিছুটা সমস্যা রয়েছে এবং একটি জাহাজ এলে পরিস্থিতির কিছুটা লাঘব হতে পারে।

শিল্প উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

উদ্যোক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য রোডম্যাপ চান—কোথায় কতদিন সংকট থাকবে, কোন শিল্পাঞ্চলে কতটুকু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের পরিকল্পনা কী, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সাময়িক আর্থিক সংকটে থাকা সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ব্যাংক ঋণ পুনর্বিন্যাস, কার্যকর মূলধন সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রয়োজন রয়েছে। কারণ কারখানা একবার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে দক্ষ শ্রমিক, সরবরাহকারী ও ক্রেতার নেটওয়ার্ক হারিয়ে যায় এবং পুনরায় চালু করা কঠিন হয়ে পড়ে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটকে আর শুধু গ্যাস-বিদ্যুতের সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ঘাটতি, এলপিজির সরবরাহ জটিলতা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, ব্যাংক ঋণের চাপ, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট। গত দুই বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের উচ্চ সুদ, ডলার সংকট ও আমদানি জটিলতার ওপর নতুন করে যোগ হয়েছে জ্বালানি সংকট।

ফলে একজন উদ্যোক্তার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত এখন আর কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকের ঋণ, নতুন বিনিয়োগ, স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতা।

বিশেষজ্ঞ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মতামত অনুযায়ী, নির্ভরযোগ্য গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের রোডম্যাপ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, শিল্পে অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ, সম্ভাবনাময় শিল্পে ঋণ পুনর্বিন্যাস ও কার্যকর মূলধন সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। কারণ কারখানা বন্ধ হওয়ার পর পুনরায় চালুর চেয়ে বন্ধ হওয়ার আগেই তাকে টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি কার্যকর।


নির্বাচিত

চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কিনতে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের তৈরি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে আলোচনার জন্য খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আমরা সম্ভবত এমন আলোচনা দেখেছি যে বাংলাদেশ জে-১০ যুদ্ধবিমান কিনতে পারে।’

তিনি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যবহারের অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই বিমান নিয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল এবং বিষয়টি এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাফাল বিশ্বের অন্যতম আধুনিক সাড়ে ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত। এর বিপরীতে জে-১০ যুদ্ধক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।’ তাই বাংলাদেশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে সরকার সামনে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাহিদ উর রহমান আরও বলেন, ‘একই মানের ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান, যেমন রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমান তুলনামূলকভাবে অনেক কম দামে পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি চীনের তৈরি অ্যাটাক হেলিকপ্টার নিয়েও আলোচনার জন্য একটি কমিটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

বাংলাদেশের ‘নতুন স্বাধীনতা’ প্রসঙ্গে জাহিদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে দেখে না এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে ২০২৪ সালের ঘটনাকে তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ ২০২৪ ও ১৯৭১ সালকে একই পাল্লায় রেখে ২০২৪ সালকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলার চেষ্টা করেছেন, যা ‘‘সম্পূর্ণ বোকামি’’।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন স্বাধীনতা’ বলতে মূলত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে বোঝানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারত না। এখন নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্টের আগে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার মতো বিষয়ে আলোচনা করাও সম্ভব হতো না।


নির্বাচিত

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতার আশ্বস ইউএনডিপির

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। এ সময় তিনি সহযোগিতার কথা জানান।

বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।’

তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনি সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপির সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন-পাহাড়ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।’

আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।’

মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।’

প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

বৈঠকে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।’ এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।’

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সব সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।’

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

৪৮তম বিসিএসের আরও ১৮৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগে প্রজ্ঞাপন জারি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চিকিৎসক সংকট দূর করতে আয়োজিত ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) থেকে আরও ১৮৪ জন চিকিৎসককে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে এই সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করল সরকার।

নতুন নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৯ জন এবং সহকারী সার্জন পদে ১৬৫ জন রয়েছেন। জাতীয় বেতনকাঠামো ২০১৫ অনুযায়ী তাদের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

চাকরিতে যোগদানের পর চিকিৎসকদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে। শিক্ষানবিশকাল শেষে তিন বছরের মধ্যে চাকরি ছাড়লে প্রশিক্ষণের সমুদয় খরচ ফেরত দিতে হবে। এর জন্য যোগদানের সময়ই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বন্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া যোগদানের সময় সম্পত্তির হিসাব বিবরণী এবং যৌতুক না নেওয়ার অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে।

সারা দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ২০২৫ সালে ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। পরীক্ষা ও মৌখিক সাক্ষাৎকার শেষে পিএসসি প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রথম গেজেট প্রকাশ করেছিল। প্রথম গেজেটে ৩ হাজার ২৬৩ চিকিৎসককে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা গত ১ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরিতে যোগদান করেন।


নির্বাচিত

৯ বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়া উদ্বেগজনক: ইইউ রাষ্ট্রদূত 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৯ বছরেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, ‘৯ বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়া সত্যিই উদ্বেগজনক। ইউরোপ চায় তাদের প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছায়, শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে হোক। আর আপনারা জানেন, ২০২৫ সালে ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপ। চলতি বছরেও তা অব্যাহত থাকবে।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর অনুষ্ঠানে ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের নানা বিষয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে ইউরোপের ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন মিলার।

তার ভাষায়, বিশাল জনসংখ্যার কারণেই বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্বর্গভূমি। কিন্তু সেটা কাজে লাগানোর জন্য বিশ্বের কাছে ইতিবাচকভাবে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে হবে। বাংলাদেশের এলডিসি গ্র‍্যাজুয়েশনের পর তিন বছর পর্যন্ত কর সুবিধা পাবে। এরপরেও যেন পথচলা মসৃণ হয়, সেই চেষ্টা আমরা করব। এ ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র সঠিক পথে আছে।’ ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সারাবিশ্বে গণতন্ত্রের যে চর্চা সেটাতেই আছে বাংলাদেশ। প্রত্যেকের মতপ্রকাশ করতে পারছে। এই সবুজ সংকেতগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে হবে। তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানোর এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

এ ছাড়া ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে দালাল, প্রতারক, মানবপাচারকারীদের এই চক্রকে ভাঙতে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কাউকে আটক বা কারাগারে রাখা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে আটক বা কারাগারে রাখা হবে না। মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, বিরোধী দল, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের সমর্থক—রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কাউকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হবে না।

তিনি বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অতীতে বাংলাদেশে নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না।

শামা ওবায়েদ বলেন, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং বিচারব্যবস্থা যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ নীতি’—অর্থাৎ সব দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার থাকায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। চীনসহ অন্যান্য অংশীজন এখন বাংলাদেশের বক্তব্যকে আরও গুরুত্ব দিয়ে শুনছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক সমস্যা এবং এর টেকসই সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। সংকট সমাধানে মিয়ানমারের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংকট সমাধানে মুসলিম বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে পারে কি না, সেটিও বাংলাদেশ বিবেচনা করছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির উত্থান এবং মানবপাচার ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে মানুষ আসা এবং নিয়মিত শিশুর জন্ম অব্যাহত থাকায় বর্তমানে দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে এ সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে বেইজিংয়ের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত না হলে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখবে বাংলাদেশ।


নির্বাচিত

বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপ্রবণতা কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপ্রবণতা কখনো কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সমাজে যেন আর কখনো কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদ কিংবা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করে মহানবী (সা.) যে শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, জাতীয় জীবনেও তা অনুসরণীয়। সেই শিক্ষাকে পাথেয় করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন।

জাতীয় জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করে সেই ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০৩০ সালের আগেই দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয়কে এই সরকারি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সত্য, ন্যায় ও মানবতার বাণী প্রচারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, গুজব, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূলে ধর্মীয় নেতাদের সোচ্চার ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।


নির্বাচিত

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর

মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি খরা মোকাবিলায় কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিতভাবে খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসের ক্ষতি করছে। বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। সেখানে প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (BAMIS)-এর মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করে কৃষকদের এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ন্যাশনাল গ্রিন মিশন-এর আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। বাংলাদেশ এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য পানিসংকটপ্রবণ দেশের কাজে লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে প্রবেশ করছে, যা লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে। এ সংকট মোকাবিলায় ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা ভূমি অবক্ষয় মোকাবিলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। খরা সহনশীলতা গড়ে তুলতে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনকে মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (National Adaptation Plan)-এ ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি International Drought Resilience Observatory চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের BAMIS-এর তথ্য এ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি। তিনি একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তুলতে UNCCD-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া FAO, ESCAP, IOM, UNICEF, UNDRR, UNDP, IFAD, AIIB, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, ‘যিনি মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন। মহানবী (সা.)-এর ওপর মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং তাঁর মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন ‘সমগ্র জগতের জন্য রহমত’ হিসেবে। পবিত্র কুরআনে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে মহান আল্লাহ বলে ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’(সুরা আল-কলম, ৪)। মানবমুক্তির এই দিশারি তাঁর অনুপম চরিত্র, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের চিরন্তন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তাঁর জীবন ও আদর্শ চিরকাল মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। নারী, শিশু, প্রতিবেশী, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দিয়ে গেছেন সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে তিনি মানবিক মার্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সর্বজনীন ও সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বদা অনুসরণীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসিহষ্ণুতায় বিপর্যন্ত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ ততোধিক প্রাসঙ্গিক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর এই পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়ে আসুন, আমরা তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।’

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। কায়মনোবাক্যে দোয়া করি, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সকল মানুষের উপর আল্লাহর রহমত, বরকত, অপার শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক।’

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close