বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
আলোচনা সভায় সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল

বঙ্গবন্ধু পরিষদ আর আওয়ামী লীগ অবিচ্ছেদ্য অংশ

আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২ জুলাই, ২০২৪ ১৭:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২ জুলাই, ২০২৪ ১৭:১৬

আদর্শ, মেনোফেস্টো, নেতৃত্ব ও কর্মী বাহিনী— এই চার জিনিস সংগঠনের জন্য প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে এর সবই আছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদ আর আওয়ামী লীগ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পদার্পণ (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কলাবাগানের বশির উদ্দিন রোডে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ৭৫ পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ দ্বি-ধারায় বিভক্ত হয়ে গেল। এক পক্ষ বললেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কাজেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে হবে। অন্যপক্ষ বললেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ কর্মসূচি বাকশাল কাজেই বাকশালের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাইতে হবে। এই সময়ে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো বঙ্গবন্ধু পরিষদ। তখন কিন্তু আর আওয়ামী লীগ আর বাকশাল দ্বিধারা বিভক্ত থাকলো না। সকল ধারা বঙ্গবন্ধু পরিষদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রাণপুরুষ প্রয়াত নেতা ডা. এস এ মালেক ৮১ পূর্ববর্তী সময়ে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার জন্য সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন, যা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন।’

আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

এ সময় সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের সমর্থন, গ্রহণযোগ্যতা, আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অধ্যায় যদি বিবেচনা করি দেখা যাবে, ১৯৪৯ সালের প্রতিষ্ঠার পর নানা লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান, ১৯৭৫ সালের জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা এবং পরবর্তী পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছর অনেক কিছু ঘটেছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়ন, জেল-জুলম, হত্যা এবং দলীয় ভাঙন।’

তিনি বলেন, তৃতীয় যে অধ্যায় সেটি হলো- এসব প্রতিকূলতা ভেদ করে আওয়ামী লীগ কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন সে লক্ষ্য কি অর্জিত হবে? ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে বিদেশে নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রক্ষতায় এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার হাত দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, তৎকালীন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল সামন্ততান্ত্রিক, জমিদারি শাসনব্যবস্থা। জনগণের কথা বলার সুযোগ ছিল না। বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, মানুষের অধিকার আদায় করতে গেলে আগে দরকার বাকস্বাধীনতা। এরপর অধিকার আদায়ের জন্য রাজনৈতিক দল দরকার। কথা বলার স্বাধীনতা এলে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা আদায় করা সম্ভব।

সহসভাপতি মাহাতাব আলী বলেন, বঙ্গবন্ধু চার হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে জেল খেটেছেন। এমন ত্যাগ অন্য কেউ করে নাই। ধাপে ধাপে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। জনমত গঠন করেছেন। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী সভা, সমাবেশ, জনসভা করেছেন। প্রতিষ্ঠার ২২ বছরের মাথায় স্বাধীনতা দিয়েছে আওয়ামী। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি এখনও আসেনি। শেখ হাসিনার হাত ধরে এ লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে দেশ।

আলোচনা সভায় উপস্থিত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

সহসভাপতি সঞ্জীব কুমার রায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, স্বাধীনতা। অন্যটি অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের এগুতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে। সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল রঞ্জন বলেন, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্ম। এ দেশের যত আন্দোলন-সংগ্রাম সবগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত। বাংলাদেশের যে কোনো সাফল্য ও অর্জনের কথা বললে আওয়ামী লীগের নাম চলে আসবে।

বিষয়:

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে চিফ হুইপের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। এরপর তিনি নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি ১১৭ ভোলা-২ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি ১৫৭ নেত্রকোনা-১ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিকট শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই শপথের মাধ্যমে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


খালেদা জিয়া, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনকে স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম শোকপ্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন তিনি।

শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশ হারিয়েছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। জাতীয় সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এছাড়া অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান কে. এম. সফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকার এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ মোট ৩১ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।


মন্ত্রী হলেন আহমদ আজম খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বিরতির সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আহমেদ আযম খান পান ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর হরিণ প্রতীক নিয়ে পান ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট। ৩৬ হাজার ৭৬৬ ভোটে জিতে এমপি হন বিএনপির এ নেতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ও হওয়ায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আর মন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

এদিনই টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি এডভোকেট আহমেদ আযম খানকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়। তবে এখনো তাকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব নির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে এ শপথ পড়ানো হয়। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ পড়ানো হয়।

তার আগে সংসদ সদস্যের হ্যাঁ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথমে সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয় সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।


ডেপুটি স্পিকার হলেন কায়সার কামাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এর আগে ডেপুটি স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নাম প্রস্তাব করেন। পরে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটি সমর্থন জানান।

তারপর এ সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমর্থন জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ অধিবেশন শুরু হয়।

এ অধিবেশনের শুরুতেই উত্তাপ তৈরি হতে পারে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিতর্ক ও উত্তাপ ক্রমে বাড়তে পারে।

অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব উত্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াত পেয়েছে ৬৮ আসন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল প্রতিনিধিত্ব করছে।


অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদে পৌঁছান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।


সংসদের প্রথম অধিবেশন: ভাগ্য নির্ধারণে বিশেষ কমিটিতে যাচ্ছে ১৩৩ অধ্যাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর এই প্রথম স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই শুরু হচ্ছে নতুন সংসদের যাত্রা। এ অধিবেশনেই ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সরকার দলীয় নেতারা।

বুধবার সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন। ফলে স্পিকারের আসনটি বর্তমানে শূন্য। অধিবেশনের শুরুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেবেন। এরপর তার আহ্বানে বিধি অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য প্রারম্ভিক সভাপতিত্ব করবেন। তার অধীনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নবনির্বাচিতদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

তিনি জানান, অধিবেশনের প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করবেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে।

জামায়াত ও এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, জুলাই সনদের সমঝোতা অনুযায়ী প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে একক কোনো পদ নয়, বরং পুরো ‘প্যাকেজ’ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় বিরোধীরা।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিত কোনো সুবিধা চাচ্ছি না। আমরা চাই পুরো প্যাকেজটির বাস্তবায়ন। এর ভিত্তিতেই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে ১২ মার্চ এই প্রথম বৈঠক আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি।


কার্যকর সংসদ গড়তে চায় সরকার: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, ‘আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমেই সংসদের ভেতরে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’ বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারই ধারাবাহিক প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই জাতীয় সংসদ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।’

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এই সংসদ হবে দেশের মানুষের অধিকার, আশা ও স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।’

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা। আমরা চাই সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ তর্ক ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

দেশের জনগণের সমর্থন কামনা করে নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন কামনা করছি। একই সঙ্গে আমরা বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতাও প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব।’

সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘দারিদ্র্য দূর করা এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

পরিশেষে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ  

* রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন * নির্বাচিত হবেন স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও ডেপুটি স্পিকার * নির্ধারিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম। বেলা ১১টায় শুরু হবে অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এদিন স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচন হবে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে এই অধিবেশনে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

প্রথম দিন যা হবে: নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কাজ হয়। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে, নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। কারণ, দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই সংসদে সরকার দল, বিরোধী দলসহ যেসব দল নির্বাচনে জয় পেয়েছে তার সবগুলো দলীয় প্রধানরাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের ২৯৬ জনের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর। সে হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে এই সংসদের।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন যেসব কাজ করে থাকে তা পরিচালিত হয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সংসদের কার্যপ্রণালি, বিধি-বিধান, স্থায়ী কমিটির কাজ, আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়াগুলো বুঝতেও কিছুটা সময় লাগবে আগামী সংসদের।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমত এবারের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবারের মতো সংসদে। তাদের অনেকেরই কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই। যে কারণে এবারে সংসদে কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ও দেখা যেতে পারে।’


প্রতি সপ্তাহে চলবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক   

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী শনিবার থেকে প্রতি সপ্তাহে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১১ মার্চ) এক বার্তায় তিনি দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান। পরে বার্তাটি তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ এরই মধ্যে মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সবাই সচেতন হলে এ ধরনের রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত বর্ষা মৌসুম, জুন থেকে অক্টোবর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ডেঙ্গু নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই; বছরের যেকোনো সময় মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্মায় এবং মাত্র ৩ দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই ড্রেন, ডোবা, নর্দমা কিংবা যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।’

এ কারণে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা কিংবা বাসার ছাদে পানি জমে থাকতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।’ এ কাজে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি শনিবার নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূল দর্শন হলো, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’, অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই কোথাও ময়লা পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে সবাইকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।’

বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।


banner close