আদর্শ, মেনোফেস্টো, নেতৃত্ব ও কর্মী বাহিনী— এই চার জিনিস সংগঠনের জন্য প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে এর সবই আছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদ আর আওয়ামী লীগ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পদার্পণ (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কলাবাগানের বশির উদ্দিন রোডে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ৭৫ পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ দ্বি-ধারায় বিভক্ত হয়ে গেল। এক পক্ষ বললেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কাজেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে হবে। অন্যপক্ষ বললেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ কর্মসূচি বাকশাল কাজেই বাকশালের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাইতে হবে। এই সময়ে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো বঙ্গবন্ধু পরিষদ। তখন কিন্তু আর আওয়ামী লীগ আর বাকশাল দ্বিধারা বিভক্ত থাকলো না। সকল ধারা বঙ্গবন্ধু পরিষদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রাণপুরুষ প্রয়াত নেতা ডা. এস এ মালেক ৮১ পূর্ববর্তী সময়ে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার জন্য সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন, যা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন।’
এ সময় সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের সমর্থন, গ্রহণযোগ্যতা, আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অধ্যায় যদি বিবেচনা করি দেখা যাবে, ১৯৪৯ সালের প্রতিষ্ঠার পর নানা লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান, ১৯৭৫ সালের জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা এবং পরবর্তী পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছর অনেক কিছু ঘটেছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়ন, জেল-জুলম, হত্যা এবং দলীয় ভাঙন।’
তিনি বলেন, তৃতীয় যে অধ্যায় সেটি হলো- এসব প্রতিকূলতা ভেদ করে আওয়ামী লীগ কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন সে লক্ষ্য কি অর্জিত হবে? ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে বিদেশে নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রক্ষতায় এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার হাত দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, তৎকালীন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল সামন্ততান্ত্রিক, জমিদারি শাসনব্যবস্থা। জনগণের কথা বলার সুযোগ ছিল না। বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, মানুষের অধিকার আদায় করতে গেলে আগে দরকার বাকস্বাধীনতা। এরপর অধিকার আদায়ের জন্য রাজনৈতিক দল দরকার। কথা বলার স্বাধীনতা এলে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা আদায় করা সম্ভব।
সহসভাপতি মাহাতাব আলী বলেন, বঙ্গবন্ধু চার হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে জেল খেটেছেন। এমন ত্যাগ অন্য কেউ করে নাই। ধাপে ধাপে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। জনমত গঠন করেছেন। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী সভা, সমাবেশ, জনসভা করেছেন। প্রতিষ্ঠার ২২ বছরের মাথায় স্বাধীনতা দিয়েছে আওয়ামী। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি এখনও আসেনি। শেখ হাসিনার হাত ধরে এ লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে দেশ।
সহসভাপতি সঞ্জীব কুমার রায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, স্বাধীনতা। অন্যটি অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের এগুতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে। সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।
সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল রঞ্জন বলেন, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্ম। এ দেশের যত আন্দোলন-সংগ্রাম সবগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত। বাংলাদেশের যে কোনো সাফল্য ও অর্জনের কথা বললে আওয়ামী লীগের নাম চলে আসবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আমেজ কাটিয়ে আবারও চিরচেনা কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের বিশেষ ছুটি শেষে আগামীকাল রোববার থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত খুলে যাচ্ছে। ফলে নাড়ির টানে গ্রামে যাওয়া মানুষ আজ শনিবার ছুটির শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় পরিসরে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রেলপথ ও সড়কপথে যাত্রীদের চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি।
রাজধানীর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে আজ ভোর থেকেই দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল থেকে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রীতে ঠাসা। স্টেশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে অধিকাংশ ট্রেন ঢাকায় পৌঁছালেও প্রতিটি কোচে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ফিরতে পারেন সেজন্য রেলওয়ে বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের এই ভিড় আরও বেড়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এই প্রবাহ আগামীকাল রোববার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সড়কপথের প্রধান টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীতেও সকাল থেকে ঢাকামুখী বাসের চাপ বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোতে সিট না পেয়ে অনেককে বিকল্প উপায়ে ফিরতে দেখা গেছে। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃজেলা রুটের বাসের অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে যারা ফিরছেন তাদের কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ছুটিতে যাওয়ার সময় যাত্রীরা দীর্ঘ যানজটের সম্মুখীন হলেও ফেরার পথে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আজ রাতের দিকে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে নৌপথেও। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আজ সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় লঞ্চগুলো যাত্রীদের নিয়ে ভিড়তে শুরু করেছে। লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে কেবিন—সবখানেই ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে মানুষ ভিড় ঠেলে লঞ্চে করে ঢাকায় আসছেন। অন্যদিকে, আজ শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে যানজট ও মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও শহরের প্রবেশপথগুলোতে ছিল ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট উপলক্ষে যানবাহনের ওপর যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা আজ থেকে পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন রাজপথে বাস, মিনিবাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। এমনকি মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও আজ থেকে আর কার্যকর নেই। এর ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজতর হয়েছে। আগামীকাল রোববার অফিস খুললে ঢাকা শহর আবারও তার নিয়মিত ব্যস্ততা ও যানজটের চিরচেনা রূপে ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। মানুষের এই ফিরে আসার মধ্য দিয়ে প্রাণহীন ঢাকা আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব সফলভাবে পালন শেষে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পুনরায় তাঁর আগের পেশায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জানান যে, দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পথ সুগম হওয়ার পর ড. ইউনূস তাঁর শিক্ষকতা, গবেষণা ও সামাজিক ব্যবসা সংক্রান্ত পূর্বের কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেন, গণভোটের এই ঐতিহাসিক রায় থেকে এটি স্পষ্ট যে, দেশের সাধারণ মানুষ আর কোনোভাবেই পুরোনো শাসনব্যবস্থা বা রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দিকে ফিরে যেতে চায় না। সাধারণ নির্বাচনের চেয়েও গণভোটে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বেশি হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের এই স্পষ্ট রায়কে ধারণ করে রাজনৈতিক দলগুলো আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে যেসব অঙ্গীকার করেছে, তারা তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে বলেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বাস করে। বিশেষ করে বিএনপির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলটি অতীতেও দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে বিশেষ বিশেষ সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই পথটি বেশ কঠিন হলেও যদি সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য থাকে, তবে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তিনি দলগুলোর প্রতি জনগণের রায়কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করারও আহ্বান জানান।
একই সাথে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আলী রীয়াজ সংস্কার কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপগুলো নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি জানান, দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা তথা সংসদের উচ্চ কক্ষ প্রবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের শেষ মুহূর্তের কাজগুলো গুছিয়ে আনছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টার এই প্রস্থানের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়সূচি নিয়ে বড় তথ্য জানিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিজয়ী সকল প্রার্থীর শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিজয়ীদের নামের গেজেট প্রকাশের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে চাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১৬ অথবা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। কোনোভাবেই এটি এর চেয়ে বেশি দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মূলত গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার সাংবিধানিক ও প্রথাগত রীতির কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই নতুন সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আইনি বৈধতা ও দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল শুক্রবার রাতেই নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের বিজয়ীদের নামের গেজেট প্রকাশ করেছে। প্রেস সচিবের এই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই নতুন সংসদ সদস্যরা রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে স্পিকারের কাছে শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন এবং মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা দেশে দীর্ঘ দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকারের পথ চলা নিশ্চিত করবে।
ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব আরও ইঙ্গিত দেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পুনর্গঠনের কাজে দ্রুত গতি আনতে সরকার এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। নির্বাচনের পর থেকে দেশে বিরাজমান স্থিতিশীল পরিবেশ ও উৎসবমুখর আবহে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হবে। ফরেন সার্ভিস একাডেমির এই ব্রিফিংয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর এই সময়সূচিকে রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়লাভ করায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় তিনি এই শুভকামনা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় এই বিজয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিনন্দন বার্তায় প্রফেসর ইউনূস উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই বিপুল বিজয় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে জনগণের এক সুস্পষ্ট রায়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারেক রহমান তাঁর প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমুখী চেতনার প্রতিফলন ঘটাবেন। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে যাবে, যেখানে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাবা-মায়ের এই মহান আদর্শ তারেক রহমানের আগামী দিনের পথচলাকে আরও আলোকিত ও সুদৃঢ় করবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত করতে সুসমন্বিত মেধা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য হবে।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে তারেক রহমানের গঠনমূলক ভূমিকা ও মূল্যবান সহযোগিতার জন্য প্রফেসর ইউনূস আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের এই পরিবর্তনের সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারেক রহমান যে সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন, তা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন সরকারের সব উদ্যোগের সফলতা কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য কামনা করেন। তারেক রহমানের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি বার্তার শেষে উল্লেখ করেন।
‘বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে...’—কবির এই পঙক্তিমালাকে সত্য প্রমাণ করে প্রকৃতিতে আজ নতুনের আবাহন। আজ পয়লা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বাংলা সনের একাদশ মাসের এই আগমনী বার্তায় শীতের রুক্ষতা বিদায় নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের হাত ধরে যে বসন্ত উৎসবের সূচনা হয়েছিল, আজ তা ছড়িয়ে পড়েছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। কাকতালীয়ভাবে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় বসন্তের বাসন্তী রঙের সাথে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার আবেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
বসন্ত মানেই প্রকৃতির এক অনন্য রূপান্তর। কচি পাতায় ভরে ওঠা গাছ, আম্রমুকুলের ম ম গন্ধ আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারিদিক। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা যেন প্রকৃতির কপালে এক নতুন টিপ পরিয়ে দিয়েছে। বসন্তের এই মোহনীয় দিনে তরুণ-তরুণীরা বাসন্তী ও হলুদ রঙের পোশাকে সেজে উৎসবে মেতে উঠেছে। নারীদের মাথায় ফুলের টায়রা আর খোঁপায় গোঁজা গাঁদা ও গোলাপ ফুল বসন্তের রঙকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে বসন্ত বরণ উৎসবের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংগীত ও নৃত্যের ছন্দে ঋতুরাজকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে ফাল্গুন মাসের নামকরণ হয়েছে ‘ফাল্গুনী’ নক্ষত্র থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকেও এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তবে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন উদযাপনের শেকড় রয়েছে গত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। তৎকালীন পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাঙালির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে রবীন্দ্রসংগীতের সুর আর দেশীয় ঢঙে বসন্ত পালন ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ। বাংলা সাহিত্যে বসন্ত নিয়ে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর কালজয়ী কবিতায় বলেছিলেন, ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। একইভাবে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে’ গানটি আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে বসন্তের আবহ তৈরি করে।
তবে বাঙালির কাছে ফাল্গুন মাস কেবল আনন্দ বা প্রেমের ঋতু নয়, এটি দ্রোহ এবং ত্যাগের রক্তিম ইতিহাস বহন করে। বায়ান্নর এই ফাগুনেই রফিক, সালাম, বরকত আর জব্বাররা রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে রক্ষা করেছিলেন মায়ের ভাষার মর্যাদা। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ আজও আমাদের বায়ান্নর সেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভাষা আন্দোলনের সেই লড়াই থেকেই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তাই ফাগুন আমাদের কাছে যেমন মিলনের মাস, তেমনি এটি বাঙালির দ্রোহ ও অধিকার আদায়ের মাসও বটে। ঋতুরাজের এই নতুন যাত্রায় প্রতিটি মানুষের মনে জরাজীর্ণতা মুছে গিয়ে নতুন সম্ভাবনা জাগুক—এমনই প্রত্যাশা আজ সবার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন বাংলাদেশের পথচলায় পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বসংস্থাটি। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিক্রিয়া জানান তাঁর মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করায় তিনি বাংলাদেশের জনগণের সাহসিকতা ও অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।
ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ যে রায় দিয়েছে, তাকে জাতিসংঘ স্বাগত জানায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে উদ্ধৃত করে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক জাতীয় সংহতি জোরদার করা এবং বিভেদ ভুলে দেশ গঠনে একাত্ম হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের কাছে মানবাধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। স্টিফান ডুজারিক বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে যেসব টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা যেন স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে বিশ্বসংস্থাটি। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করেন মহাসচিব।
অন্যদিকে, প্রেস ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা প্রদান করেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বর্তমান বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সুদানের মতো দেশগুলোতে মানুষ চরম ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রমজানের ত্যাগের মহিমা ও শান্তির তাৎপর্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আর্তমানবতার সেবা এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্বনেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতিসংঘের এই ইতিবাচক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এক দীর্ঘ ও স্পষ্ট পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। শুক্রবার এক ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে দাবি করেন। একই সাথে তাকে নিয়ে প্রচলিত নানা রাজনৈতিক তকমা বা বিশেষণের বিষয়েও নিজের খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সক্রিয় সমর্থক হিসেবে কাজ করেছেন বলে ওই পোস্টে উল্লেখ করেন।
শেহরীন আমিন মোনামী তার পোস্টে জানান, সমাজের একটি বড় অংশ তাকে ‘জামায়াত-শিবির ম্যাডাম’ হিসেবে সম্বোধন করে থাকে। তবে এই বিশেষণে তিনি মোটেও বিচলিত বা ক্ষুব্ধ নন; বরং তিনি এই পরিচয়ে বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি বলেন, কখনো কখনো তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথেই এই নামগুলো নিজের করে নেন। তার মতে, কে তাকে কী নামে ডাকল তার চেয়ে তার আদর্শিক বিশ্বাসটি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই শিক্ষিকা উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে একজন মধ্যপন্থী মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাকে প্রায়ই ডানপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তাকে ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করলে সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়, তবে তারা সেটিই বিশ্বাস করতে পারেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকার কথা জানান এবং স্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি কোনোভাবেই ইসলামবিদ্বেষী নন। প্রচলিত একটি ধারণা যে ‘ইসলাম নারী-বিরোধী’, এই বিশ্বাসের সাথেও তিনি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি তার ফ্রেন্ড লিস্ট এবং অনুসারীদের উদ্দেশ্যে একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা তার রাজনৈতিক অবস্থান বা আদর্শ নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন, তারা যেন তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো থেকে বিরত থাকেন। নিজেকে একজন উদারপন্থী দাবি করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় পছন্দ-অপছন্দ নির্বিশেষে তিনি সবার অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। তিনি তার অপছন্দের মানুষদের নিজের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, সবার কাছে প্রিয় হওয়া তার লক্ষ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকার এমন সাহসী ও স্পষ্টবাদী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নিরঙ্কুশ ও অভাবনীয় জয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানকে ফোন করার বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি এই ফোনালাপের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে তার প্রচেষ্টায় আমি আমার শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাই।"
দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও নিবিড় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "গভীর শিকড়ে আবদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কযুক্ত দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে আমি আমাদের উভয় দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।" মূলত বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের এই শুভেচ্ছা ও সমর্থন নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি নরেন্দ্র মোদির এই বিশেষ অভিনন্দন বার্তাটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার হিসেবেই প্রকাশ পেয়েছে।
নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণভোটে সংস্কারপন্থী ‘হ্যাঁ’ পক্ষ বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই গণভোটের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, এই গণভোটে মোট ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যেখানে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। জনগণের এই বলিষ্ঠ রায়ের মাধ্যমে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখাটি চূড়ান্তভাবে জনসমর্থিত হিসেবে গৃহীত হলো বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসন লাভ করে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। মূলত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দলগত ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণে ইসি সচিব জানান যে, জামায়াতে ইসলামী একক দল হিসেবে ৬৮টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া জোটভুক্ত অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ প্রত্যেকে ১টি করে আসন লাভ করেছে। তবে আইনি ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। ইসি সচিব আখতার আহমেদ তার সমাপনী বক্তব্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ফলাফলগুলোর সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তিনি এই অভিনন্দন জানান। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমি আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাই এবং মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও অগ্রসর ও গভীর করতে একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের অংশীদারিত্ব সামনের বছরগুলোতে আরও সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শক্তিশালী করবে।"
মূলত নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং সামনের বছরগুলোতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধান। এছাড়া এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ শুক্রবার দেশের ২৯৭টি সংসদীয় আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান যে, গতকাল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কমিশনের দাবি অনুযায়ী, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিরেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ ছিল সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ। ব্রিফিংকালে আখতার আহমেদ বলেন, "সারা দেশে মোট ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক গণনা শেষে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।"
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব আরও জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের স্বাভাবিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২৯৯টি আসনের মধ্যে প্রস্তুতকৃত ২৯৭টির ফলাফল আজই গেজেটভুক্ত করা হচ্ছে এবং বাকি দুটি আসনের কারিগরি বা আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে জয়ী প্রার্থীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কার্যক্রম শেষ হবে এবং এর পরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই আজ এই গেজেট জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথে থাকা বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রেরিত এক বার্তায় তিনি এই অভাবনীয় সাফল্যকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তাদের এই অভাবনীয় নির্বাচনি বিজয়ে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। এটি প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্রের বিজয়। বাংলাদেশের মানুষ নানা চড়াই-উতরাই ও অসাধারণ সব চ্যালেঞ্জ পার করে ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।’
দেশের ক্রান্তিকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকালীন সময়ে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তার সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে গভীরভাবে আগ্রহী।
তিনি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, এই নবযাত্রার মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে। পরিশেষে মালয়েশিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মূলত এই বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে গভীর সংহতি ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর ফলাফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার ইতি টানেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দুটি আসনের ফলাফল তদন্ত সাপেক্ষে স্থগিত রেখে বাকি ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটারসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। কমিশনের পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বিশাল এই কর্মযজ্ঞে কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসনিক ঘাটতি বা সীমাবদ্ধতা হয়তো ছিল। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আবেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচনকে কমিশন কেবল একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং জাতির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে গ্রহণ করে তা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই কার্যত নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের ও ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো।