মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২

দেশজুড়ে কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ক্যাম্পাস

সড়ক-মহাসড়ক ও ট্রেন অবরোধ শিক্ষার্থীদের
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে গতকাল সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৪ জুলাই, ২০২৪ ০২:৪৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৪ ০২:৪৭

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে।

বেলা আড়াইটার পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দোয়েল চত্বর ও সুপ্রিম কোর্টের সামনে দিয়ে গিয়ে বিকেল পৌনে চারটায় শাহবাগ মোড়ে সড়কের ওপর অবস্থান নেয় শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।

চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দাবিতে তারা নানা স্লোগান দিতে থাকে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ মোড় ছেড়ে যায় শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। আজ বৃহস্পতিবার তারা আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা দেয়। অবরোধের কারণে শাহবাগের চারপাশের সড়কের যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়ক-মহসড়ক ও ট্রেন লাইন অবরোধ করার ঘটনা ঘটায়। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা গতকাল এ আন্দোলন করে এবং আজ বৃহস্পতিবারও ফের মিছিলসহ বিভিন্ন অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করার খবর পাওয়া গেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকার তাঁতীবাজার অবরোধ করে। বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটক থেকে মিরপুর সড়ক হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ঘুরে নীলক্ষেত হয়ে পুনরায় কলেজের মূল ফটকে আসে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন করার খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও (বাকৃবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

যে ৪ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, তা হলো ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা, পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত), সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়াসহ দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল। ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে সে বছরের ৪ অক্টোবর কোটাপদ্ধতি বাতিলবিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পরে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। তারপর থেকেই গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে কি না, এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানি হবে।

আজও শাহবাগে অবস্থান নেবে শিক্ষার্থীরা

নতুন করে আজ বৃহস্পতিবার কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেব। আপিল বিভাগ থেকে আমাদের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’ এর আগে গতকাল বিকেল পৌনে চারটায় শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করে আন্দোলনকারীরা। পরে তাদের এই অবস্থানে মিছিল সহকারে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগ এলে শিক্ষার্থীরা এই মোড়ে বসে পড়ে। এর আগে সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশ। তবে অবরোধের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের কোনো সংস্পর্শ হয়নি।

জাহাঙ্গীরনগরে বিক্ষোভ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

এই আন্দোলনে শামিল হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটের দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারীরা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল অবরোধ কর্মসূচির শুরুতে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের গাড়িবহর আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে কেন্দ্রীয় গো প্রজননকেন্দ্রের (ডেইরি ফার্ম) মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্য চলে যান।

জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ

বুধবার ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁতীবাজারে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করে দেয়। শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের সময় পুরো পুরান ঢাকা অচল হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। সদরঘাটগামী গাড়িগুলোও আটকে পড়ে এ সময়।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘মেধাবীরা আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘মুক্তি চাই-মুক্তি চাই, কোটা থেকে মুক্তি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

চবি শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ

একই দাবিতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। এতে করে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় তীব্র যানজট। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এরপর মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত অবরোধে প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘মেধা না কোটা? মেধা-মেধা’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না, আর না’, ‘কোটার বিরুদ্ধে-লড়াই হবে একসাথে’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেয়।

আন্দোলনে উত্তাল বাকৃবি, ট্রেন অবরোধ

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে জব্বারের মোড়ে রেলপথ অবরোধ করে তারা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকে মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন। দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের।

বিষয়টি স্বীকার করে রেলওয়ে থানার উপরিদর্শক দীপক পাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেনটি প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকে। পরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন তুলে নিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ট্রেন আটকে থাকায় সাধারণ যাত্রীসহ মানুষকে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’


গুম–নির্যাতনের বিবরণ দিলেন হুম্মাম কাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাকে গুম করে রাখার সময় তিনি বারবার নির্যাতনের শিকার হতেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল সোমবার এই জবানবন্দি দেন হুম্মাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার বাবা বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিলেন হুম্মাম।

এর আগে এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির বিচার শুরু হলো। সূচনা বক্তব্যের পর হুম্মামের সাক্ষ্যগ্রহণ (জবানবন্দি) শুরু হয়।

জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তাকে গুম করা হয়। গুম থাকা অবস্থায় তিনি দিন–রাতে পার্থক্য বুঝতে পারতেন না। তিনি দিন গুনতেন খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আনলে বুঝতে পারতেন, নতুন দিন শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতের খাবারে থাকত ভাত, এক পিস মাছ অথবা এক পিস মুরগি, সঙ্গে কিছু সবজি। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ঈদের দিন ছিল।

জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, প্রথম দুই মাস তিনি একটি পেরেক দিয়ে দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতেন। দুই মাস পর তিনি হিসাব রাখা বন্ধ করে দেন। পেরেকটি তিনি জানালার কোনায় পেয়েছিলেন।

কক্ষের ভেতর দেয়ালে অনেক কিছু লেখা ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন হুম্মাম। হুম্মাম বলেন, তিনি বুঝতে পারেন, তার আগে যারা এই কক্ষে বন্দী ছিলেন, সেগুলো তাদের লেখা। একজন লিখেছিলেন, ‘আপনাকে কত দিন এখানে রাখা হবে, তা কেউ আপনাকে বলবে না।’

অন্য পাশের দেয়ালে বাংলাদেশের পতাকা আঁকা ছিল বলে উল্লেখ করেন হুম্মাম। হুম্মাম বলেন, তিনি যে কক্ষে ছিলেন, তার দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ১৮ ফুট। প্রস্থ ৮ থেকে ১০ ফুট। তিনি দেয়ালের এক কোনায় তার ইনিশিয়াল (এইচকিউসি) ও তার গুম হওয়ার তারিখ পেরেক দিয়ে লিখে রেখেছিলেন।

জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, গুম থাকাকালে মাঝেমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে মারধর করা হতো। তার বাবার রাজনীতির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। তিনি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেন কি না, বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কি না, এসব বিষয়ে তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হতো।

এই মামলার আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে ১২ জনই বর্তমান–সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

আসামিদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এই মামলার আসামি।


বায়ুদূষণের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বায়ুদূষণের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের গতকাল সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, ২৭২ স্কোর নিয়ে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ছিল ঢাকার বাতাস।

একই সময়ে ৫৪১ স্কোর নিয়ে বায়ু দূষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। এছাড়া ৩১২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারতের আরেক শহর কলকাতার বায়ুমান ২০৪। আর, পঞ্চম অবস্থানে আছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা বায়ুমানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আইকিউএয়ার। যা শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য আশঙ্কার কারণ হতে পারে।

আর বায়ুমান ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হয়। যা নির্দিষ্ট একটি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।


বাংলাদেশি ট্রলারসহ ২৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশি ট্রলারসহ ২৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতের কোস্ট গার্ড। জব্দ ট্রলারটির নাম এফবি সাফওয়ান। আটক বাংলাদেশি জেলেদের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছে টহল দিচ্ছিল। সে সময় তারা আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি বাংলাদেশি ফিশিং ট্রলার আটকায়।

ট্রলার থেকে আটক করা হয় ২৪ জেলেকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

গতকাল সোমবার সকালে ২৪ জেলেসহ আটক ট্রলারটি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আটক জেলেদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হবে।


ভবিষ্যতে যেন কোনো অবস্থাতেই এক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ শাসিত না হয়: আলী রীয়াজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট–সংক্রান্ত কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে যেন কোনো অবস্থাতেই এক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ শাসিত না হয়। যেন জবাবদিহির ব্যবস্থা তৈরি হয়, স্বাধীন বিচার বিভাগ আমরা তৈরি করতে পারি, লোকের কাছে ইনসাফের দরজাটা অন্তত খুলতে পারি, সে জন্যই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।’

গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে বিভাগীয় কর্মকর্তা-প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এ কথা বলেন। ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

মতবিনিময় সভায় আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটের প্রচার নিয়ে সরকার এমন কিছু করছে না, যার আগের কোনো ইতিহাস নেই। নৈতিকতার জায়গা ও আইনি দিক থেকে বলা হলে সমস্ত কিছুর দিক থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ইতিবাচক প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণ কি ‘না’ ভোট দিতে পারবেন? অবশ্যই দিতে পারবেন। কেউ যদি ‘না’ ভোট দিতে চান, দিতে পারেন।’

সংস্কার বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। এই পুনরাবৃত্তি আমরা রোধ করতে চাই। তারই একটি তালিকা ভবিষ্যতের রূপরেখা হিসেবে তৈরি হয়েছে জুলাই সনদ। যদি আমরা ইতিবাচকভাবে রাষ্ট্রের সংস্কার করতে চাই, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে যে দলিল আছে, জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে তার একধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা প্রয়োজন। যে কারণে ত্রয়োদশ যে সংসদ তৈরি হবে, সে সংসদ কেবল জাতীয় সংসদ নয়। জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—সংবিধান সংশোধন পরিষদ হিসেবে ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করবেন। কেন বলা হয়েছে, তার একটি কারণ রয়েছে। এটি সংবিধানে স্বাভাবিক সংশোধনী নয়, এটি সংবিধান সংস্কার করার প্রচেষ্টা। যাতে করে ভবিষ্যতে আদালতে এটা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য ত্রয়োদশ সংসদকে কিছু কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার দেওয়া হয়েছে।’

গণভোট বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘অনেকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এত দিন আলোচনা করলেন, তারপর আবার গণভোট কেন? গণভোটের কারণ হচ্ছে, ৩০টি রাজনৈতিক দল অনেকের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু এমন লোকও তো আছেন, যারা রাজনৈতিক দল করেন না। তাদের বক্তব্য শুনতে হবে, সম্মতির প্রয়োজন হবে। সে কারণেই গণভোট। আমরা বলেছি, দেশের চাবি আপনার হাতে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দেশের মালিক জনগণ। সেটারই চর্চার জায়গা হচ্ছে এই গণভোট। আসুন, সকলে মিলে চেষ্টা করি। সাফল্য অর্জন নিঃসন্দেহে করা যাবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া।


তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে শিগগিরই: চীনা রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবসময় পাশে থাকতে চায়। তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এই পরিদর্শন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিবেশ উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত একটি নৌকায় করে তিস্তার উভয় তীর পর্যবেক্ষণ করেন। তারা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং পরিবেশগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত নদীর তীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা, জীবনযাত্রার সংকট এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা। এ সময় তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের মনে আজকের এই উচ্চপর্যায়ের সফর নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কাউনিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা ত্রাণ নয়, বরং নদীর স্থায়ী বাঁধ এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চান।

তিস্তা পাড়ের স্থানীয় আকবর আলী বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত আজকে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি তারা একটি নিশ্চিত জীবন পাবেন।

পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে চীন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। আজকের এই সফর সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ সময় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষ প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা বন্ধুপ্রতিম চীনের সঙ্গে মিলে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছি।

তিনি আরও বলেন, এখন এটা দুই ধরনের সমীক্ষা চলছে। একটা হচ্ছে এই প্রকল্পটার যে ফিজিবিলিটি হয়েছে, এটা শতভাগ ফুলপ্রুফ কি না, সঠিক কি না; এটা হচ্ছে প্রযুক্তিগত দিক। আরেকটা হচ্ছে আর্থিক দিক। এখানে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ তো, এই আর্থিক বিনিয়োগটা চীন সরকার করলে ওটা তাদের জন্য টেকসই হবে কি না।

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তার সরকারের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।


পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আকাশে কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আজ মঙ্গলবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং বুধবার থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুসারে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালন করা হবে। গতকাল সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিন সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের শাবান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি।


৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সব বৈধ অস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৪ শাখা থেকে উপসচিব আবেদা আফসারী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সোমবার সাংবাদিকদের এতথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারি মধ্যে নিকটস্থ থানায় বৈধ অস্ত্র জমা দিতে হবে।

এছাড়া ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীগণের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তার সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এ আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে The Arms Act, 1878 এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না, ভোট হবে নিরপেক্ষ: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সৈনিককে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এতে কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না।

গত রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক দুটি সভায় সৈনিকদের সাথে দরবার এবং কর্মকর্তাদের সাথে অফিসার্স অ্যাড্রেসে, সেনাপ্রধান এসব নির্দেশনা দেন। সভায় ঢাকার বাইরে অবস্থানরত সেনাকর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, ওই অফিসার অ্যাড্রেসে সেনাবাহিনী প্রধান বর্তমান পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না। কোনো স্বজনপ্রীতি বা কারও পক্ষ নেওয়া যাবে না। ভোটের মাঠে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিতে হবে, যাতে সব শ্রেণির মানুষ ভোটকেন্দ্রে যান। ভোটকেন্দ্র বা মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সবাই নির্বিঘ্নে-নিশ্চিন্তে ভোট দিয়ে বাসায় ফিরবেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেনাসদস্যরা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী নিষ্ঠার সঙ্গে যে দায়িত্ব পালন করছে, সেটি দেশ ও জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। আগামী নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরতে হবে।

এ সময় সেনাপ্রধান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নানা ধরনের অপপ্রচার, গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর বিষয়েও সতর্ক করেন। পাশাপাশি সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাদের সাজা দিতে হবে, যাতে নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।


আ.লীগ ‘দেশ বিক্রি’ করে ক্ষমতা ভোগ করেছিল: আসিফ নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনের সমালোচনা করে বলেন, "গত তিনটা নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকার কাউকে ভোট দিতে দেয়নি। একবার রাতের ভোট, একবার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া ভোট ও একবার আমি-ডামির ভুয়া ভোট। দেশের মানুষের ১৫ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে নিজেরা নিজেদের ইলেকটেড ঘোষণা করে মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিল।"

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ এক নতুন সুযোগের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম ভূমিকার কারণে আমরা নতুন সময়ে উপস্থিত হয়েছি। যেখানে আমাদের ভোট দেয়ার সুযোগ হয়েছে। এ সুযোগ কোনোভাবেই হারানো যাবে না। আপনার সরকার আপনি ঠিক করবেন, এটা আগে ঠিক করত শেখ হাসিনা। এখন দেশের মানুষ এটা ঠিক করবে।"

নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আইন উপদেষ্টা বলেন, "আমরা অসাধারণ একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করার চেষ্টা করবো। আমরা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেব। অন্যের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করব না। অন্যকে ভোট দিতে বাধা দিলে আপনারা শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন।" এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, "এবার নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে। প্রথমবার প্রবাসীরা ভোট দিচ্ছেন এবং জাতীয় ভোট ও গণভোট একসঙ্গে হচ্ছে।" বিগত সময়ের অরাজকতা ও দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "এমন একটা সিস্টেম ছিল, যেখানে আয়না ঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতো। গুম খুন গায়েবি মামলা হতো, জেলে রেখে মারা যেত। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পর্যন্ত ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে। দেশে যাতে দুর্নীতি না হয়, যাতে দেশের টাকা বিদেশে পাচার না হয়, ব্যাংক লুট না হয়, ভারতের কাছে যাতে নতজানু হয়ে না থাকতে হয়। এজন্য পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। অনেক কাজ হয়েছে।"

ড. আসিফ নজরুল রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে আয়োজিত গণভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য হয়েছে। এবার জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। বৈষম্য, নিপীড়ন, দুর্নীতি দূর করতে হ্যাঁ ভোট দিন। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে হ্যাঁ ভোট দিন। দুর্নীতি অনিয়ম শোষণ দূর করতে হ্যাঁ ভোট দিন। আর দলের স্বার্থে গণভোট নয়, দেশের স্বার্থে গণভোট।" জেলা প্রশাসন আয়োজিত উক্ত সভায় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেনসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


এনসিপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মতবিনিময় করেছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

বৈঠকে এনসিপি নেতৃবৃন্দ নির্বাচন নিয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগের কথা জানান এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে তাঁদের নেতাকর্মীরা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলটির প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মাঠ প্রশাসনের রদবদল প্রসঙ্গে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জন্যই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এ নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে।’ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরার ব্যবহারসহ কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

একইসাথে গণভোটে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট কেন দেওয়া প্রয়োজন, “হ্যাঁ” ভোট দিলে কী হবে আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সকলের- সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি’। উক্ত বৈঠকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও উপস্থিত ছিলেন।


একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের তাগিদ বিমান বাহিনী প্রধানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার অফিসার্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, এই সম্মেলনে উপস্থিত বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিমান বাহিনী প্রধান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আকাশসীমা সুরক্ষার পাশাপাশি দেশমাতৃকার সেবায় বাহিনীর অনবদ্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমান বাহিনীর সকল সদস্যবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিমান বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।" মূলত বাহিনীর সক্ষমতা ও দেশপ্রেমের সংমিশ্রণে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণই ছিল এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহাদী আমিন ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এই সৌজন্য সাক্ষাতে যোগ দেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়েও নেতারা মতবিনিময় করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


দুর্গম কেন্দ্রের ব্যালট-কর্মকর্তাদের পরিবহনের থাকবে হেলিকপ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দুর্গম কেন্দ্রসমূহে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপদে পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই তথ্য জানান। নির্বাচনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ আকাশপথ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনের চার দিন আগে থেকেই নিবিড় টহল পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে এই টহল কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চলমান বিশেষ অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানের আওতায় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজ, ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। এই সময়কালে মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ সর্বমোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানের অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা পার না পেতে পারে এবং অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়।


banner close