শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২

‘আন্দোলন করে কি কোর্টের রায় পরিবর্তন করা যাবে’

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৪ ১৬:৫৩

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি ‘নট টুডে’ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর কোটা নিয়ে নিয়মিত আপিল করার নির্দেশও দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজপথে আন্দোলন করে কি কোর্টের রায় পরিবর্তন করা যায়?

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতির বৈধতার হাইকোর্টের রায় স্থগিত আবেদনের শুনানিকালে অ্যার্টনি জেনারেলের উদ্দেশে আপিল বিভাগ বলেন, রাস্তায় কিসের এত আন্দোলন শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন?

পরে শুনানি ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দেন আদালত। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মামলাটি আজ শুনানি শুরু হলে রিট আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মো. জহিরুল ইসলাম সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই শুনানির জন্য সময় প্রয়োজন।

এসময় শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন বলেন, আগে কোটা ছিল। ২০১৮ সালে কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করা হয়। এটা বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, চেম্বার আদালত কী আদেশ দিয়েছিলেন? তখন মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন। এ সময় আদালত বলেন, নট টুডে (আজ নয়)। আপনারা সিপি (লিভ টু আপিল) ফাইল করেন। আমরা এখন ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করবো না।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, রায়টা (হাইকোর্ট) পাইনি। আদালত বলেন, পাবেন। একপর্যায়ে আদালত বলেন, কিসের এত আন্দোলন রাস্তায় শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন? তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নো, নো’ (না, না)।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে।

১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চের স্মারক সংশোধন করে জারি করা পরিপত্রের ভাষ্য, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) ও ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) ও ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি বাতিল করা হলো।

পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।


নৌবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কোটি টাকার মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। এই ধারাবাহিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট বিভিন্ন স্থানে সাড়াসি অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টালম্যাথ আইস, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি জুনায়েদ ওরফে মুন্না এবং তার রোহিঙ্গা সহযোগী হামিদুল্লাহকে আটক করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ধৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুনায়েদ ও স্থানীয় মো. ইউনুসের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ১২৫০ গ্রাম ক্রিস্টালম্যাথ আইস, ১২৬ পিস ইয়াবা, ১টি এক নলা বন্দুক, ২টি ওয়াকি-টকি, ৪৭ রাউন্ড তাজা গোলা এবং ৮টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত এই মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রগুলো রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাসায় মজুত করে রাখা হয়েছিল।

একই সময়ে পৃথক আরেকটি অভিযানে বরগুনার বামনা এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সালমা পারভীনকে আটক করা হয়, যার কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ নগদ ৬৪,৪৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ভোলার দৌলতখানে পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে ১০টি ককটেল ও ১টি দেশীয় পাইপগান উদ্ধার করে নৌবাহিনী। অভিযান পরবর্তী সময়ে জব্দকৃত মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নৌবাহিনীর এমন সক্রিয় ভূমিকার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে।


অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকার কঠোর নির্দেশ আইজিপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত এক প্রাক-নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়।’

আইজিপি তাঁর বক্তব্যে জনগণের জান-মাল রক্ষা এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পেশাদারিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কার্যকর পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের প্রস্তুতি এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই সভা থেকে।


গণতন্ত্রের সুসংহতকরণ ও গণভোট সফল করতে আইন উপদেষ্টার উদাত্ত আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মাদারীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আসন্ন নির্বাচনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। মাদারীপুরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর তিনি জানান যে, "এ নির্বাচনে দুটি বৈশিষ্ট্য আছে, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট।" দীর্ঘ ১৭ বছর পর আয়োজিত এই জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। এটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রস্তুত আছে।"

নির্বাচনের বিশেষ দিকগুলো আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং একই সাথে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারা ও আইনের শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে তিনি দেশবাসীকে গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন শক্ত হোক। অনেক বেশি দৃঢ়তর হোক, এজন্য হ্যাঁ ভোট দেওয়া জরুরি।" এ সময় মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোকনুজ্জামান, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


কর্ণফুলী টানেলে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ট্রাফিক ডাইভারসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালনাধীন কর্ণফুলী টানেলের সুষ্ঠু ও নিরাপদ রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের স্বার্থে আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ট্রাফিক ডাইভারসন ও যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, উক্ত দিনগুলোতে দিবাগত রাত ১০:০০টা হতে ভোর ০৪:০০টা পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী 'পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা' অথবা 'আনোয়ারা টু পতেঙ্গা' টিউবের মাধ্যমে ট্রাফিক ডাইভারসন করা হবে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত থাকবে। এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে বিদ্যমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের টানেলের উভয় প্রবেশমুখে সর্বনিম্ন ০৫(পাঁচ) হতে সর্বোচ্চ ১০(দশ) মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষমাণ থাকার প্রয়োজন হতে পারে। সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।


ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি ৭ দফা ‘পরিবেশ অ্যাজেন্ডা’ দিলেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পুঞ্জীভূত পরিবেশগত সংকট ও অব্যবস্থাপনা মাত্র ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সম্পূর্ণ সমাধান করা অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমস্যার বিশাল পাহাড় রাতারাতি সরানো সম্ভব না হলেও বর্তমান সরকার একটি সুসংহত সমাধানের ভিত্তি তৈরি করছে। তাঁর মতে, "চীন যে সমস্যা ১০ বছরে শেষ করতে পারে না, তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেড় বছরে প্রত্যাশা করা যুক্তিযুক্ত নয়।" তবে এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য সাত দফার একটি সুনির্দিষ্ট ‘পরিবেশ অ্যাজেন্ডা’ উপস্থাপন করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির আধিক্য থাকলেও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পথরেখা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সস্তা জনপ্রিয়তার বাইরে এসে প্রকৃত দায়বদ্ধতা প্রদর্শন জরুরি। তিনি আগামী সরকারের জন্য বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো, শব্দদূষণ রোধে পুলিশকে সরাসরি জরিমানার ক্ষমতা প্রদান, দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং প্রাকৃতিক বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একইসাথে বন্যপ্রাণী কল্যাণ, অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিল্প দূষণ রোধ, তিস্তা ও পদ্মার মতো আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে সার উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তাঁর মতে, ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট না হলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না।

অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান অর্জনগুলো তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান যে, ইতিমধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ‘যানবাহন স্ক্র্যাপ পলিসি’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস আমদানির প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া বেজা ও প্রশাসনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ২০ হাজার একরের বেশি বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা কয়েক মিটার পলিথিন স্তরের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পলিথিনমুক্ত বাজার নিশ্চিতে জনগণের আচরণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

পরিশেষে ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, "যদি পরিবেশবান্ধব কাজ করা হয়, আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু পরিবেশের বিরুদ্ধে গেলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার পরিবেশগত যে মজবুত ভিত্তি স্থাপন করছে, আগামী নির্বাচিত সরকার তা আরও সুদৃঢ় করবে। পরিবেশ রক্ষা কোনো প্রান্তিক বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মূল অ্যাজেন্ডায় পরিণত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্তর্বর্তী সরকার কেবল সংস্কারের পথ দেখাচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ প্রশাসনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।


সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান সুজনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। উক্ত সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গুরুত্বারোপ করেন যে, নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও একটি সার্থক নির্বাচনের জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। অংশীজনদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে বহু অংশীজন জড়িত। সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটার সবার সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।"

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতি শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার দাবি জানানো হয়। একইসাথে নির্বাচন কমিশনকে কালোটাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত হয়ে কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয় এবং অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনে ভোট স্থগিত বা ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। গণমাধ্যমকে অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের এবং পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে ভোটারদের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বর্জনের আহ্বান জানিয়ে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলিপ কুমার সরকার বলেন, "জনগণ যেন কোনও দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মানবতাবিরোধী, নারী বিদ্বেষী ও নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, ঋণখেলাপী, বিলখেলাপী, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, ভূমিদস্যু, পরিবেশ ধ্বংসকারী, কালোটাকার মালিক অর্থাৎ কোনও অসৎ, অযোগ্য ও গণবিরোধী ব্যক্তিকে ভোটদানে বিরত থাকেন।"

নির্বাচনী সংস্কার প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার কিছু অপ্রাপ্তি ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী মনোনয়নের বিধান বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়টিকে তিনি নেতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন যে, "নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো কার্যকর করা হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হতো।" পরিশেষে, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং সকল অংশীজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা প্রয়োজন: শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে সরাসরি সংলাপ ও সংবেদনশীল প্রশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন যে, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখেই কেবল নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা সম্ভব। ড. আবরারের মতে, শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নাগরিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির একটি প্রধান ক্ষেত্র। তরুণদের সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা টোকেনিজম চাই না, চাই অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট।"

নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি আরও বলেন যে, রাষ্ট্র পরিচালিত হয় জনগণের অর্থে, যার একটি বিশাল অংশ হলো তরুণ সমাজ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় নাগরিক অধিকার হরণের শঙ্কা থাকলেও তরুণরাই পরিবর্তনের পথ উন্মোচন করেছে। শিক্ষা উপদেষ্টার মতে, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, যেখানে ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। বর্তমান সময়ে সমাজে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা উচিত নয়। এ ধরনের সংকীর্ণ ও একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সবশেষে, আসন্ন নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে ড. রফিকুল আবরার প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক যেহেতু জনগণই, তাই সব স্তরে স্বচ্ছতা ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


পোস্টাল ব্যালট গণনা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জরুরি নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার ইসি থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, "নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যে পোস্টাল ভোটগুলো আসবে, শুধু সেগুলোই গণনা করা হবে"।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, "মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ভোটারদেরকে ব্যালট প্রাপ্তির পর যত দ্রুত সম্ভব ভোটদান সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিস কিংবা ডাক বাক্সে হলুদ খাম জমা দিতে হবে"। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, "রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট পৌঁছালে ভোট গণনায় সম্পৃক্ত হবে"।

উল্লেখ্য, দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার এই প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি প্রবাসী। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এবং "ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত" অনুষ্ঠিত হবে।


কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী তেজগাঁও থানায় মামলা করার পর গোয়েন্দা পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে জিন্নাত, আবদুল কাদির, মো. রিয়াজ ও বিলালের পর সর্বশেষ গতকাল নরসিংদী থেকে কথিত শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, “তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।” বর্তমানে এসব অপরাধী চক্র নির্মূলে গোয়েন্দা পুলিশ সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে।”


শিক্ষা সংস্কারে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান ইউনেসকোর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউনেসকোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশে রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ মন্তব্য করেছেন যে, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থার তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। তাদের শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ বানানোই সময়ের দাবি।” বর্তমানে বাংলাদেশ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের আবেগ ও দায়বদ্ধতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ইউনেসকো তরুণদের কেবল উপদেশগ্রহীতা নয় বরং মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনী অংশীদার হিসেবে দেখে। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মূল্যায়নে অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকা এবং গণিতে আরও পিছিয়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগামী কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ এবং শিক্ষকদের কেবল জ্ঞানদাতা নয় বরং মেন্টর ও মানসিক বিকাশের সহযাত্রী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে ইউনেসকো ও ইউনিসেফ আগামী চার বছর শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেসকো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীরের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।


রায়েরবাজারে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাংসহ আটক ১৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর রায়েরবাজারের ক্যান্সার গলি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে মধ্যরাত ১টা পর্যন্ত বসিলা সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শাহরিয়ার, লিংকু, ইয়াসিন (২০), ইয়াসিন (২১), জসিম, স্বাধীন, রিয়াজ, নিজাম, মাহাবুব, হৃদয়, আকাশ, নিদ্রয়, সানি, করিম, রুজন, সাকিব, ফয়সাল ও উজ্জ্বল নামে ১৮ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে ১২টি ধারালো তলোয়ার, ২টি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুঠার, ২টি ধারালো সামুরাই, ১৩টি স্মার্টফোন, মাদক বিক্রির নগদ ৪০ হাজার ২০০ টাকা ও ১২৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা নিয়মিত মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।


রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ

আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমার যে বক্তব্য দিয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বাংলাদেশ বলছে, রোহিঙ্গাদের আদি পরিচয় মুছে ফেলে তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে প্রমাণের এই চেষ্টা মূলত গণহত্যার দায় এড়ানোর একটি অপকৌশল।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করছে। তাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে ২০১৬-১৭ সালে চালানো ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা নৃশংসতাকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি। অথচ ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, রোহিঙ্গারা আরাকানের একটি স্বতন্ত্র নৃগোষ্ঠী, যারা ১৭৮৫ সালে বার্মিজদের দখলের অনেক আগে থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছে।

পরিকল্পিতভাবে প্রান্তিকীকরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনীতি, সমাজ ও সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এমনকি ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার ছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে এই জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রহীন করতে এবং নির্মূল করতে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং দেশ থেকে বিতাড়ন করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় ৫ লাখ মানুষ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল–মিয়ানমারের এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘যুক্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

সরকার বলছে, মিয়ানমার এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেনি। তৎকালীন রাখাইনের জনসংখ্যার তুলনায় ৩০ শতাংশ মানুষের অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটলে তা অবশ্যই বিশ্ববাসীর নজরে আসত এবং আর্থ-সামাজিক সংকটের সৃষ্টি হতো। কোনো যৌক্তিক কারণেই মানুষ যুদ্ধ এড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রাখাইনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যাবে না।

বাংলাদেশ জানায়, রোহিঙ্গাদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার কিছু মিল থাকলেও তা সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সামাজিক রীতি রয়েছে। তাদের ‘বাঙালি’ ডাকা কেবল একটি পরিচয় বির্তক নয়, বরং এটি তাদের মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার একটি হাতিয়ার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত আট বছরেও রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বদলে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এই অনীহা তাদের রোহিঙ্গা নির্মূলের অশুভ ইচ্ছারই প্রতিফলন।

বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং রাখাইনের বর্তমান নিয়ন্ত্রকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা রোহিঙ্গাদের নিজস্ব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করে।


আগে ছিল ভয়, এখন অসহিষ্ণুতা: রওনক জাহান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানের আগে ও পরের বাংলাদেশে জননিরাপত্তা একটি বড় হুমকি হয়েই রয়েছে বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহানের পর্যবেক্ষণ। তার মতে, আগে ছিল ভয়ের পরিবেশ। গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এখন ভয়ের সঙ্গে অসহিষ্ণু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রওনক জাহান। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটেছিল। তারপরের বাংলাদেশে ‘মব’ হয়ে ওঠে আলোচনার নতুন উপাদান।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, আগে ভয়ের পরিবেশ শুধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে আসত। এখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গোষ্ঠীর দিক থেকে ভয় আসছে। অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারছে না, ভয়টা ঠিক কোথা থেকে আসছে।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরমতসহিষ্ণুতার ওপর জোর দিয়ে রওনক জাহান বলেন, ‘আমাদের সে জন্য একটু সহিষ্ণু হতে হবে। সঠিক পথে না চললে প্রশ্ন তুলতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন তোলার অর্থ এই নয় যে ভাঙচুর করতে হবে কিংবা কাউকে গিয়ে পেটাতে হবে।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই মানুষ ভয় পাচ্ছে বলে সহিংসতা রোধে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান রওনক জাহান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিযোগিতার অর্থ হলো নির্বাচনে একটি দল হারবে, অপর একটি দল জিতবে। দেশে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হারার মানসিকতা তৈরি হয়নি। অতীতে দেখা গেছে, যারা নির্বাচনে হেরে যান, তারা নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন।

আগে ভয়ের পরিবেশ শুধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে আসত। এখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গোষ্ঠীর দিক থেকে ভয় আসছে। অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারছে না, ভয়টা ঠিক কোথা থেকে আসছে।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, আগামী নির্বাচনে মানুষ দল ও মার্কার চেয়ে ব্যক্তিকে বাছাই করে ভোট দেবেন। তবে জটিল এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের বেশি সচেতন থাকতে হবে।

গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক জবাবদিহির মধ্যে রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রওনক জাহান বলেন, ‘নাগরিকেরা এটা যদি না করে, তাহলে তারা তাদের অধিকারকে রক্ষা করতে পারবে না। গণতন্ত্রের জন্য এটা সবচেয়ে জরুরি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হচ্ছে, সেটা দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতামতের ওপরও নির্ভর করবে বলে মনে করেন রওনক জাহান। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু শব্দের নানা রকম ব্যাখ্যা হতে পারে। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে ও বিদেশে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

একেবারে ‘পারফেক্ট’ না হলেও নির্বাচন যাতে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হয়, সেই চেষ্টা সবাইকে করতে হবে বলে মন্তব্য করেন রওনক জাহান।

‘আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিষয়বস্তুর পক্ষে অবস্থান নেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হলেই আগামী দিনে দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকবে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এর বিকল্প নেই।

বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু গণভোট আয়োজনের মতো আনুষ্ঠানিকতাই গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করবে না; বরং দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কার না করলে যেকোনো সংস্কার বিফলে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ। আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূলে রাখতে হবে। অনেকে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে কালোটাকা, পেশিশক্তি ও প্রভাব বিস্তারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


banner close