চার দিনের সফরে আগামীকাল সোমবার (৮ জুলাই) চীনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে দু’দেশের মধ্যে ২০টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
আজ রোববার (৭ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ৮ থেকে ১১ জুলাই বেইজিং সফর করবেন। এ সফরে প্রায় ২০টির মতো সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে কিছু প্রকল্পও ঘোষণা করা হবে।’
সফরের দ্বিতীয় দিন (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। পরদিন ১০ জুলাই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন চীনের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অব চায়নার প্রেসিডেন্ট ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও চীনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রীন এ সফরে প্রাধান্য পাবে বাণিজ্য সহায়তা ও বাজেট সহায়তার আওতায় ঋণ, বিনিয়োগ সুরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্লু ইকোনমি, মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সমীক্ষার ঘোষণা, সড়ক নেটওয়ার্ক, একাধিক সেতু নির্মাণ ও সংস্কার। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পে চীন কীভাবে কাজ করতে চায়, এ নিয়েও আলোচনা হবে।
গত এক দশকে দুইবার চীন সফরের পাশাপাশি মোট চারবার দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ২০১৪ সালে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর, ২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফর, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আবার বেইজিং সফর এবং ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়।
বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকির প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। এটা তো ফ্যাক্টাম ভ্যালেট, এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন পরবর্তী বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণভোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেছেন।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলামও বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, এটার বিষয়ে নতুন করে আইন করে— আগামীতে তো এর ওপরে কোনো গণভোট হবে না। ভবিষ্যতে যদি কোনো গণভোট করতেই হয়, আইদার (দুটির মধ্যে যে কোনো একটি) সাংবিধানিক গণভোট হবে আর্টিকেল ১৪২ অনুসারে, অথবা যদি সংবিধানের বাইরে, যেহেতু সংবিধানে এমন কিছু বলা নাই যে, আর কোনো গণভোট কোনো বিষয়ে করতে পারবে না সরকার চাইলে। সুতরাং সেটা যদি করতে চায় অন্য কোনো বিষয়ে, সেটা আলাদা একটা আইন করতে হবে...সুতরাং এটা হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয় নাই। এটার বৈধতা তো আছেই। অবৈধ তো বলছি না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যখন বিগত গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তী সরকার) সকল কর্মকাণ্ডকে, দুই-একটা বাদে বৈধতা দেওয়া হবে তখন সেটা লেজিটিমেট (বৈধ) হয়ে যাবে।’
সরকার গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ—বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, নির্বাহী ক্ষমতা ও সংশোধন-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর আগেও একটি গণভোট অধ্যাদেশ জারি এবং সেই অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং তার আইনি বৈধতা ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ কারণে ভবিষ্যতে গণভোট আয়োজন করতে হলে তা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই করতে হবে। সংবিধানের বাইরে কোনো গণভোট হলে তা আইনি জটিলতায় পড়তে পারে।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যদি গণভোট আয়োজন করতে হয়, তাহলে তা হয় সংবিধানসম্মতভাবে, নয়তো আলাদা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে করতে হবে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই বলে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই। আমাদের জোর প্রস্তুতি রয়েছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য।
রোববার রমনা বটমূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
এর আগে নববর্ষের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। যাতে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে, সেজন্য ডিএমপি ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, নববর্ষের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকা মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে ‘সুইপিং’ করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কমিশনার আরও বলেন, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। সিসিটিভি, ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও রুফটপে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ইভটিজিং ও অপরাধ দমনে বিশেষ টিম সাদা পোশাকে কাজ করবে। এছাড়া হকারদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতেও থাকবে আলাদা নজরদারি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বা গুজব ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
ছায়ানট ও বৈশাখী শোভাযাত্রার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো রাস্তা কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। অনুষ্ঠানমালা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনাও দেন তিনি। বিকাল ৫টার পর রমনা পার্কের সব গেট শুধু বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে, নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাফিক ডাইভারশন প্রসঙ্গে তিনি জানান, পহেলা বৈশাখ ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট, নীলক্ষেতসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড থাকবে। এই সময়ে যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম এবং নৌপুলিশের ডুবুরি দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন। কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানান।
অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব আইন নতুন করে করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ মের পরে মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে বিলগুলো আনতে চাই। ১২ এপ্রিলের মধ্যে বিলগুলো পাস হলে আলোচনার সুযোগ থাকত না। আমরা বিলগুলো আনব, অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।’
আইনমন্ত্রী জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি অধ্যাদেশ বিল করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু, ১৩টি সংশোধিত আকারে এবং সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি।
চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুক্রবার রাত থেকে শুরু হবে। যা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হাজী ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন। সভায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও হজ ফ্লাইটের শিডিউলে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে হজযাত্রীরা নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেন।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ তিন দিনেই এসেছে ২৪ কোটি ডলারের বেশি, যা প্রবাহ বৃদ্ধির ধারাকে আরও জোরালো করেছে।
রোববার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত বছরের একই সময়ে এপ্রিল মাসে মোট রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ১০৩ কোটি ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনিশ্চয়তা এড়াতে দেশে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। ওই মাসে মোট ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। আগের বছরের মার্চের তুলনায় এ প্রবাহ প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় ছয়টি দেশ— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন এবং কুয়েত থেকেই দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব মিলিয়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ধারা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে এ প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।
রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সৌদি আরবের সাথে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
মন্ত্রী বাংলাদেশের যাত্রী সাধারণের জন্য সৌদি আরবের এয়ারলাইন্সগুলোর সেবার মান আরো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত এয়ারলাইন্সগুলোর সেবার মান দ্রুত উন্নয়নের ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত সৌদি আরবের এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার এর বাংলাদেশে স্টেশন চালু ও ফ্লাইট পরিচালনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ঢাকার পাশাপাশি সিলেট এবং চট্টগ্রাম থেকেও ফ্লাইট পরিচালনার ব্যাপারে সৌদি আরবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে অনেক কমিশন গঠিত হয়েছিল, নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু, শিক্ষার সঠিক মানোন্নয়ন সম্ভব হয়নি। কারণ, আমাদের দেশের শিক্ষার কোনো ভিশন ছিল না। শিক্ষার ভিশন হবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্যারিয়ার গঠন।
রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা মিলনায়তনে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ কথা বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মমুখী সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। এজন্য আমাদের দেশে গার্মেন্টস সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশিরা চাকরি করে বেতন নিয়ে যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। দক্ষতার অভাবে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের এসব পদে চাকরি দেওয়া হয় না।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম।
সারাদেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওর পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরিখে সাময়িকভাবে উক্ত পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনা ঘটে। দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হলে গুলিবিদ্ধ হন আশরাফুল ওরফে ফাহিম, যার একটি গুলি চোখে লাগে। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর গত বছরের ২৫ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ১৩০ জনকে নামীয় আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও ১১৫-১২০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করলে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করে এবং আসামিপক্ষ জামিন চান। সেদিন আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় তিনি জামিন লাভ করে কারামুক্ত হন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরো মহিমান্বিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ সেবার বাইরেও সময়োপযোগী নতুন নতুন সেবা যুক্ত হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কৃষিকে আরও লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় পরিণত করবে এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কৃষকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট উপযোগী কৃষক কার্ড দিতে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক রূপে গড়ে তুলতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সারের অপচয় কমবে, উৎপাদন পরিকল্পনা উন্নত হবে এবং কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কৃষকের হাতে। আমাদের কৃষি জমির উর্বরতা, মাটির গুণাগুণ ও ফসলের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রণোদনা ও সেবা গ্রহণ করবেন; সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য/প্রাণী খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।
কৃষক কার্ডে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে
ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ; ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা; সহজ শর্তে কৃষি ঋণ; স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি; সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা; মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য; কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ; ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ; কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে সড়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বর্তমান সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এসময় তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এই দুই সিটিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকা দেওয়া গেলে হাম রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্মেলন কক্ষে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে বর্তমান সরকার। ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান সম্পন্ন করা গেলে হাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।’
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। সরকার এরইমধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সেইসঙ্গে মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’
এদিকে রাজধানীর কড়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী আয়োজনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করুন। এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫৯ মাস পর্যন্ত যাদের বয়সি শিশুদের অবশ্যই টিকা দিতে হবে। শুধু আপনার বাচ্চা টিকা নিল কিনা তাতেই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীর সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করা গেলেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
এম এ মুহিত বলেন, ‘অন্তত ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাতে দু-চারজন বাদ গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে’
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। আজ ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার এই টিকাদান কর্মসূচি। ঢাকার দুই সিটিতে টিকা পাবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার শিশু। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।
পহেলা বৈশাখে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দফায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক, মৎস্যচাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে এ কার্ড দেওয়া হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, আগামী পহেলা বৈশাখে নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের 'কৃষক কার্ড' বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।
কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী বাস্তবায়ন এ তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রাক-পাইলটিংয়ে ১১ এপ্রিল মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোটের প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ। এসব কৃষকের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী, মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা করা হবে। প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্ব সফল হলে আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি সেবা চালু করা হবে। সারা দেশের প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড হবে একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি হ্রাসও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।