আর মাত্র ১১ হাজার ঘর বিতরণের পরই বাংলাদেশ একটি গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত দেশে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ইইউ রাষ্ট্রদূতকে বলেন, তার সরকার বস্তিবাসীদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করেছে, যেখানে তারা বস্তিতে যে ভাড়া দিতেন তা পরিশোধ করে বসবাস করতে পারবেন। এছাড়াও, তার সরকার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্যও অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করেছে এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে গৃহহীনদের ঘর দেওয়া হচ্ছে। আসলে তার সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে কোনো গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষ থাকবে না।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে গ্র্যাজুয়েশন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে ইইউ বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে। তিনি তার পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে ব্রাসেলসে অবস্থান করবেন এবং সেখানে তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কাজ করবেন এবং এজন্য তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ চালু করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই স্কিমটি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের দ্বার উন্মোচন করবে কারণ বাংলাদেশি দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিরা সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে পারবেন এবং বৈধভাবে ওয়ার্ক পারমিট পাবেন। অভিবাসীরা ৪/৫ বছর পর দেশে ফিরতে পারবে, তাই ব্রেন ড্রেনের কোনো সমস্যা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লোকেরা বিদেশে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং দেশে এসে অবদান রাখবে। তাই আমি এটাকে ব্রেন ড্রেন বলে মনে করি না।’
ইইউ সহায়তা দিতে আগ্রহী লাকসাম-চট্টগ্রাম রুটে রেল সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর প্রকল্প বলে মনে হচ্ছে। সরকার বরং ইইউ অর্থায়নের সঙ্গে একটি উপযুক্ত এবং টেকসই প্রকল্প খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে কারণ তাদের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে সম্পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সংযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ভারতের মাধ্যমে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায় এবং ভারতও বাংলাদেশের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।আমরা এইভাবে ট্রান্স-এশিয়ান রেল সংযোগের কথাও বিবেচনা করছি।
এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বিমসটেককে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন কারণ থাইল্যান্ডের পর বাংলাদেশ এর পরবর্তী চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ইইউ রাষ্ট্রদূত ইউক্রেন ও রাশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন কারণ সেখানে যুদ্ধ চলছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ইউক্রেন-রাশিয়া এবং গাজাতেই নয়, আমরা সর্বত্র শান্তি চাই।
অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শর্ত হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিআইআই) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার প্রতিটি জ্বালানি খাতে অন্তত তিন মাসের মজুদ বা রিজার্ভ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সেমিনারে আমির খসরু বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে সরকার যে নাজুক জ্বালানি পরিস্থিতি পেয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটানো রাতারাতি সম্ভব নয়। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো কোনো জ্বালানি খাতে মাত্র ১৫-১৭ দিনের মজুদ ছিল, যা বর্তমানে এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। এখন লক্ষ্য হচ্ছে এই মজুদকে তিন মাসে নিয়ে যাওয়া। গ্যাসের সংকট সমাধানে অনশোর গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং পাইপলাইন নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বেসরকারি খাতের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর এবং বিএনপির অর্থনৈতিক দর্শনও এই খাতের বিকাশকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তিনি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আস্থাশীল হবে না। ব্যবসার খরচ কমাতে কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং সময়বদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এবং কোনো ধরনের জটিলতা দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে একটি ওয়েবসাইট চালুর কথাও তিনি ঘোষণা করেন।
ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ পুনঃতফসিল এবং ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্টের বিশেষ প্যাকেজ কার্যকর হবে। যারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান তাঁরা পুনঃতফসিল সুবিধা পাবেন এবং যারা বেরিয়ে যেতে চান তাঁরা ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্টের মাধ্যমে দায়মুক্তি নিতে পারবেন। অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বা হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। বাজার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই আর্থিক খাতের সংবেদনশীলতা রক্ষা করা হবে।
সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ও কুটির শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করতে কাজ করছে। গ্রামীণ কারুশিল্পী ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সাথে যুক্ত উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া থিয়েটার, চলচ্চিত্র, সংগীত এবং ক্রীড়া খাতকেও জিডিপির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনিটাইজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে ড. জাইদি সাত্তার, মাহবুবুর রহমান এবং ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্যানেল আলোচনায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান এবং বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক অংশ নেন। সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন সদ্য শপথ গ্রহণকারী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ। আজ শনিবার দুপুরে তাঁরা স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করেন।
এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাভারে পৌঁছে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ সেখানে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বীর সেনানীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে চারজন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ গ্রহণের পরপরই তাঁদের মাঝে দাপ্তরিক দায়িত্ব বা দপ্তর বণ্টন করা হয়।
মন্ত্রিসভায় নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া চারজন পূর্ণ মন্ত্রী হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। নবনিযুক্ত এই সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করলেন।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) প্রেরিত এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
মালদ্বীপ সরকার ও সে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে জানানো এই শুভেচ্ছা বার্তায় প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি বড় অর্জন। তিনি মনে করেন, এই বিজয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সুগভীর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুযোগ্য নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বিশ্বাস করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কার্যকালে বাংলাদেশ স্থায়ী শান্তি, নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর আগে গতকাল বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর সংসদীয় আসনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়। ফলে মির্জা ফখরুলের কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনটি সরকারি গেজেটে প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যেই সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে শূন্য হওয়া এই আসনটিতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের এই আদেশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের দপ্তর এবং বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এখন বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের সংসদীয় এলাকার প্রতিনিধিত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত প্ল্যাটফর্ম ‘এফডব্লিউসিএমএস’ ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। শুক্রবার সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই তালিকাভুক্তি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করে। তবে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার একটি বড় অংশ বাংলাদেশের সকল লাইসেন্সধারী এজেন্সির জন্য বাজারটি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসলেও আপাতত এই ২৫টি এজেন্সিকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এফডব্লিউসিএমএস-এর তালিকায় স্থান পাওয়া এজেন্সিগুলো হলো: বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে হাজার হাজার কর্মী টিকিট থাকা সত্ত্বেও যাত্রা করতে পারেননি এবং অনেকে বিমানবন্দরে গিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দফায় দফায় চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘ সময় বাজারটি বন্ধ ছিল। সরকারের পটপরিবর্তনের পর এবং বর্তমানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। এই সফরের পরপরই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শ্রমবাজারটি পুনরায় খোলার বিষয়ে আশার আলো সঞ্চার হয়।
তবে এই ২৫টি এজেন্সি ঠিক কোন মানদণ্ডে নির্বাচিত হলো এবং কর্মী প্রেরণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া ও সময়সূচি কী হবে—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই সময় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় কায়দায় অভিবাদন বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন চারদিকে বিউগলের করুণ সুর ধ্বনিত হয়।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ নেওয়ার আগে ওই দিন দুপুরেই তিনি রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন। দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজ সকালে তিনি বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে যান।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা এবং একাধিকবার কারাবরণ করে নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পা রাখলেন এক নতুন দিগন্তে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে 'রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬'-এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পুনর্বন্টিত দপ্তর ও নতুন দায়িত্ব সংবলিত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বঙ্গভবনে শপথ ও মন্ত্রিসভার নতুন মুখসমূহ:
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
নতুন চার পূর্ণমন্ত্রী:
আবদুল মঈন খান – স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি
আন্দালিব রহমান পার্থ – চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)
রশিদুজ্জামান মিল্লাত – সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
সাচিং প্রু জেরী – সংসদ সদস্য, বান্দরবান
নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী:
হুমায়ুন কবির – প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন – সংসদ সদস্য, গাইবান্ধা-৪
আন্দালিব রহমান পার্থ'র পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষাজীবন:
১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল এক সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক পরিবারে আন্দালিব রহমান পার্থের জন্ম।
পারিবারিক পরিচিতি: তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মা শেখ রেবা রহমান। পারিবারিকভাবেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠার সুযোগ পান তিনি।
শিক্ষাজীবন ও আইন পেশা: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান। ১৯৯৭ সালে মর্যাদাপূর্ণ লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার ‘ব্রিটিশ স্কুল অব ল’-এর অধ্যক্ষ হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবন ও সাফল্যের মাইলফলক
রাজনীতিতে অভিষেক:
২০০০ সাল থেকে তিনি বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ২০০৮ সালের এপ্রিলে বাবার প্রয়াণের পর তিনি সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
প্রথমবার সংসদে (২০০৮): নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করেন এবং প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ভোট বর্জন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা: জোটগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে তার দল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
দ্বিতীয়বার এমপি ও মন্ত্রী পদে আসীন: পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার পার্থ। নির্বাচনে এই অসাধারণ বিজয়ের পরই তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন।
সংসদীয় অভিজ্ঞতা, আইন পেশায় দক্ষতা এবং চমৎকার বাগ্মিতার কারণে তরুণের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ব্যারিস্টার পার্থ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেশ সেবায় তাঁর নতুন পথচলা শুরু হলো।
সরকার গঠনের ছয় মাস পর বাড়ল মন্ত্রিসভার আকার । নতুন করে পাঁচজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন। আর একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। সব মিলিয়ে চারজন নতুন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার রাতেই মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।
এর মধ্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। আর বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন (আগে এই মন্ত্রণালয়েরই প্রতিমন্ত্রী ছিলেন)। আর এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন মো. আব্দুল বারী।
শুক্রবার(২১ আগস্ট-২০২৬) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর কিছুক্ষণ আগে রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। শপথের পর রাতে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মঈন খান। নতুন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠনের তিন মাসের মাথায় দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করায় এই মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়েছিল।
অন্যদিকে নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে শামীম কায়সার (লিংকন) পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে শামা ওবায়েদ ইসলামও বহাল আছেন। অর্থাৎ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন এবং ১ মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।
গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা হলেন-
ড. আবদুল মঈন খান : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
সাচিং প্রু জেরি : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আন্দালিব রহমান : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
আফরোজা খানম : খাদ্য মন্ত্রণালয় (পূর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন)।
প্রতিমন্ত্রীরা হলেন-
হুমায়ুন কবির : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মোহাম্মদ শামীম কায়সার : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ৪ মার্চ, ১২ মার্চ ও ২৫ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনসমূহের অন্যান্য বিষয়াবলি অপরিবর্তিত থাকবে।
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের রাষ্ট্রপতিসহ চীন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
চীন
নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।
ভারত
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।
দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, আত্মত্যাগ, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।
দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি তিনি মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
পাকিস্তান
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
জারদারি বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের জন্য মির্জা ফখরুলকে আমন্ত্রণ জানান। তার আশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
নেপাল
নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও শুক্রবার (২১ আগস্ট) অভিনন্দন বার্তায় মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।
তিনি নেপাল ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
যুক্তরাজ্য
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবারের এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ঢাকা ও লন্ডনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
ফ্রান্স
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্স দূতাবাস বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানায়। বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়।
সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ডের ঢাকাস্থ দূতাবাসও মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
জার্মানি
জার্মান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
দূতাবাস তার নতুন দায়িত্বে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছে। পাশাপাশি জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা জানিয়েছে।
নাইজেরিয়া
নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকারও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর বিয়াঙ্কা ওদুমেগউ-ওজুকউ ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান।
নাইজেরিয়া মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠিত হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএর। সংস্থা তিনটির সমন্বয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতির আদশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) থেকে এ আইন কার্যকর করল।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।
কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।
নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করবেন নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবজীবন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
বর্তমানে দেশেরে শিক্ষাব্যবস্থা কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেখান থেকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। বাস্তবজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষে একজন শিক্ষার্থী যেন দেশ-বিদেশে নিজের যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।
ইউজিসির হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন উপাচার্যসহ নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সংলাপে উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, শ্রমবাজারের চাহিদা, শিক্ষার গুণগত মান, জবাবদিহি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী ও সুশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর জোর দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ঘিরে শুরু হওয়া গুঞ্জনের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ঢাকা। আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তারেক রহমানের দিল্লি সফর করতে পারেন–ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) তার প্রেস সচিব বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ।
সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়।
এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক আমেজ কিছুটা ফিকে হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মমভাবে দমনের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অনলাইনে ভাষণ দেন এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও ‘অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সফরটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, এ বিষয়ে নতুন করে তথ্য দেওয়ার মতো কিছু তাদের কাছে নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়ে ভারত জানায়, বিষয়টি তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য আরো বেশি অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। মূলত শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার পরই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ফের জটিল হয়েছে।