মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

হঠাৎ ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ জুলাই, ২০২৪ ১৬:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ জুলাই, ২০২৪ ১৬:৪৮

পাঁচজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সামছুন্নাহার চাঁপা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রোমানা আলী এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এ অংশ নেন।

আজ দুপুড় সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন কাদের। এদিন খুব একটা দীর্ঘ হয়নি সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলন শেষে দপ্তরে কক্ষে চলে যান ওবায়দুল কাদের। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে দপ্তর কক্ষে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুই মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। বেলা দেড়টার দিকে আরও বাকি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এসে যোগ দেন। বৈঠকে আসতে দেখা গেছে দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াকেও।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাদ রাখার চলমান আন্দোলন নিয়ে তারা বৈঠকে বসেন।

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকা।

অন্যদিকে সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাদ রেখে আগের মতোই পেনশন–ব্যবস্থা চালু রাখাসহ তিন দফা দাবিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন।


নির্বাচিত

স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেধাবী উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন পূরণে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় অঙ্কের অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ৫ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত একজন স্ট্যার্টআপ উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি মূলত উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যেখান থেকে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং এবং সরকারি সহায়তার সব তথ্য পাওয়া যাবে। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে জামানত ও কাগজপত্রের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা চিন্তা করেছি, এমন উদ্যোক্তা থাকে যাকে ব্যাংকের হ্যাচেলগুলো সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে হয়, এটি যাতে ফেস করতে না হয়, সে জন্য কমিটি করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা নেই। নিরপেক্ষ কমিটি, তারা বিষয়টি দেখবে।"

অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তরের পর্বে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জামানত ছাড়াই প্রকল্পের গুণমান বিচার করে এই তহবিল দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "এ সংক্রান্ত নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট দেখে তারা ফান্ড করবে।" সরকার এই অর্থকে জনগণের সম্পদ হিসেবে দেখছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান যে, সম্ভাবনা থাকলে কোনো উদ্যোক্তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যে হেল্প করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি পটেনসিয়াল থাকে, ফের ফান্ডের বিষয়টি চিন্তা করা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই ভালো করে না। সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবে।"

নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর আলোকে গঠিত এই ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড দেশের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে একটি কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।


নির্বাচিত

এলডিসির টেকসই উত্তরণ নিশ্চিতে বৈশ্বিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে এই দাবি জানানো হয়। এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্যের শুরুতে ড. তিতুমীর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দুটি বৈশ্বিক কাঠামো এলডিসি দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে। তবে বর্তমানে এসডিজি অর্জনের গতি নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ড. তিতুমীর বলেন, "এসব সংকট শুধু ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং দোহা কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য-২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে টেকসই ও অপরিবর্তনীয়ভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ-সেটিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।"

বর্তমানে ১৪টি স্বল্পোন্নত দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। নজিরবিহীন সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণকালীন সময় ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।"

এলডিসিগুলোর সংকট উত্তরণে এবং দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে উপদেষ্টা পাঁচটি বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সাথে এলডিসিগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ প্রাপ্তি এবং অভিযোজন প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর সুরক্ষাবাদী অবস্থান থেকে সরে এসে এলডিসিগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ডিজিটাল রূপান্তরে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দোহা কর্মসূচির মধ্য মেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, এলডিসিগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বিশ্ববাসীর সংহতি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দোহা কর্মসূচির এই পর্যালোচনা যাতে বাস্তবমুখী ও কার্যকর ফলাফল নিয়ে আসে, সেজন্য তিনি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। এলডিসি গ্রুপ এই লক্ষ্য অর্জনে সব অংশীদারের সাথে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।


নির্বাচিত

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত এই নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন ধর্মীয় ও স্মরণ সভার আয়োজন করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির কর্মসূচির বিষয়ে জানান, মঙ্গলবার সকালে রংপুরের সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। দিনব্যাপী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মাইকের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিভিন্ন সময়ের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা হবে।

বেলা ১১টায় রংপুরের দর্শনা এলাকায় অবস্থিত ‘পল্লী নিবাস’ প্রাঙ্গণে এরশাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এছাড়াও দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নেও দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার শাসনামলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রেণর লক্ষ্যে উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন ছিল অত্যন্ত যুগান্তকারী। এছাড়া রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা, শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে নির্ধারণ, ধর্মীয় উপাসনালয়ের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান ছিল তার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ওষুধ নীতি প্রণয়ন, ঢাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং যমুনা সেতুর পরিকল্পনা গ্রহণের মতো বড় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কৃতিত্বও তাকে দেওয়া হয়।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই রাজনীতিক ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেও উত্তরবঙ্গে তার জনপ্রিয়তা ছিল অটুট। ভক্ত ও অনুসারীদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মৃত্যুর পর তাকে রংপুরের পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয়। ৯০ বছর বয়সে ২০১৯ সালের এই দিনে তার প্রয়াণ ঘটে।


নির্বাচিত

বন্যা ও পাহাড়ধসে ৫৪ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবারের (১৩ জুলাই) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাতটি জেলার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এবং সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ।

সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা বর্তমানে প্লাবিত। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ছয়, রাঙ্গামাটিতে তিন ও মৌলভীবাজারে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিপন্ন মানুষদের তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের জন্য সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করার পাশাপাশি পরিস্থিতি তদারকির জন্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।”

আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিবরণে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরছেন। তবে ঘরে ফিরে কাদা এবং আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ায় তারা নতুন সংকটে পড়েছেন। অন্যদিকে বাঁশখালীতে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি এবং নতুন করে বৃষ্টির ফলে পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কক্সবাজারে টানা বৃষ্টির পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও ৬৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন বলে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন।

সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে প্রাণিসম্পদ খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কম থাকবে। এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে ফের বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে। যদিও নিম্নচাপের প্রভাব কমেছে, বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় থাকায় পুরো মাসজুড়েই বৃষ্টির ধারা বজায় থাকতে পারে।”

এদিকে দেশের বিশাল এলাকা বন্যায় প্লাবিত থাকলেও পূর্বনির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কিংবা নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে শুধু চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হলেও অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি চলছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।”


নির্বাচিত

জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

* ৪ কোটি পরিবারের নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার * বরিশালে বৃক্ষরোপণ সাগরদী খাল পাড়ে কর্মসূচির উদ্বোধন * পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান
গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না। আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনো কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।’

বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।’

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।’

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলে থাকি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

এদিকে, বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে সোমবার (১৩ জুলাই) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি। মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র ক’দিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সকল শ্রেণিপেশা, সকল ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে এই দেশটাকে হটিয়েছে। তার মানে আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যদি ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।

প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আজকে বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই — সকলে মিলে দেশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, ঠিক রাখব। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা, আমাদের ঘরবাড়ির আশেপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশেপাশের এলাকা, আমাদের স্কুল-কলেজের আশেপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।’

ত্রিশ গোডাউনে সাগরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দু’পাশে যে সকল মানুষ আছেন, তাদের সকলকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই খালের পানির মধ্যে অনেক সময় অনেক প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের কাগজ, টিস্যু পেপারসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ভাসতে থাকে। অর্থাৎ আমরা যারা এখানে পার্কে আসি, হয়তো পানি খেলাম আর বোতলটা ফেলে দিলাম খালের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, এখানে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন সকলের কাছে, আপনারা যখনই যার সাথে দেখা হবে— দয়া করে প্রত্যেককে বলবেন যে, খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না।’

সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা ময়লা ফেলার বিন লাগানো আছে। সবাইকে আপনারা দয়া করে মাইকেও প্রচার করবেন, যারা এই খালের পাশে বসবেন, বিকেল বেলায় অনেকে বেড়াতে আসেন তারা যেন বিনের মধ্যে ময়লা ফেলেন। খাল পরিষ্কার রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেখুন, খালের অপরপাড়ে একটা পাইপ লাগানো হয়েছে, এটা কীসের পাইপ? যা খালের সাথে এসে যুক্ত হয়েছে। বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি? সিটি করপোরেশনের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা বাসা-বাড়ির পানির ড্রেনেজ সিস্টেম করুন। কিন্তু পানি বা সুয়ারেজ লাইনের কানেকশনগুলো খালের মধ্যে না রাখাই ভালো। এগুলো থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, পানি দূষিত হয়ে যায়। কাজেই আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের নিজের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘরটা যেমন ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ যদি আমরা নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করব, কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব আমরা নষ্ট করে দেব।’

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতৃবৃন্দরা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়।


নির্বাচিত

মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মডেল মসজিদ নির্মাণের নামে প্রকল্প ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‌‘ইসলামের নাম ভাঙিয়ে যারা এই অপকর্ম করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ও ব্যয় নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে।’

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অর্থ লোপাটের উদ্দেশে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। মসজিদের নামে করা এসব অনিয়ম কেবল দুর্নীতির নয়, বরং ধর্মীয় অবমাননার শামিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রেও মেগাপ্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সময় ও ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে লুটপাট করা হয়েছে। মডেল মসজিদের ক্ষেত্রেও ঠিক একইভাবে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরকারের অন্যান্য সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে তিনি জানান।

এ সময় জয়নুল আবদীন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ মডেল মসজিদ মানসম্মতভাবে নির্মিত হয়নি এবং নির্মাণের পরপরই অনেকগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তার নিজের নির্বাচনী এলাকা সেনবাগের মডেল মসজিদের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে মসজিদে প্রবেশ করাই দায় এবং ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। একই অভিযোগ শোনা যায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের কণ্ঠেও।


নির্বাচিত

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমিয়ে অর্ধেক করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিনা সুদে গাড়ির ঋণ স্থগিতের পর এবার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাচ্ছে সরকার। এতে অর্ধেকে নামতে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের মাসিক ব্যয়। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পেতেন। তবে ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় এর পরিমাণ কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

উপসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি অর্থে বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের (এফইবিডি) বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিমানের টিকিটের নামে শত শত গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডি জানায়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর ৪(২) ও ৪(৪) ধারায় সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন ও আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা চালু করে। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্লাইট এক্সপার্ট ও এফইবিডি—উভয় নামেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করত।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিমানের টিকিট সরবরাহ করা হয়নি।

সিআইডির তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশত্যাগ করেন।

সিআইডির দাবি, প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরে অন্য হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেছেন বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে পুরো মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরে বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে ওই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।


নির্বাচিত

আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তুষ্ট আইএমএফ, নতুন ঋণেও অগ্রগতি

* বাদ পড়ছে আ. লীগ আমলের ঋণ কর্মসূচি * আলোচনা হয়নি পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতে সংস্কার, করখাতে প্রবৃদ্ধিসহ সার্বিকভাবে আইএমএফ সন্তুষ্ট। তবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আইএমএফের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে এ পর্যন্ত আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফের দেওয়া শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সংস্থাটি নতুন রাজনৈতিক সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট।’

নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন আইএমএফ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।

এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলের কর্মসূচি দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল বলে সেখান থেকে সরকার বের হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আইএমএফের সাথে আওয়ামী লীগের সময়ের প্রোগ্রাম থেকে বের হয়ে আসছে সরকার। আগের প্রোগ্রামের অনেকগুলো বিষয়ে সম্মত নই, তাই বেরিয়ে এসে নতুন প্রোগ্রামে যাচ্ছি। নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের মানুষের সুরক্ষা করে যে ধরনের প্রোগ্রামে যাওয়া দরকার সে ধরনের প্রোগ্রামে যাচ্ছি।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য, জনগণে স্বার্থে যে ধরনের প্রোগ্রাম প্রয়োজন সেটি নেওয়া হবে। কিস্তির টাকা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই, যে প্রোগ্রামে যাবো সেটিতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটিই চিন্তা। কিস্তির টাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রোগ্রামে যাব সেটি দেশ ও মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

আইএমএফের সঙ্গে কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের সাথে আওয়ামী লীগ আমলের প্রোগ্রাম দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল, না হলে বের হলাম কেন! অনেকগুলো শর্ত ছিল, যেগুলো নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা মনে করি গ্রহণযোগ্য নয়।’

২০২৩ সালে আইএমএফের অনুমোদিত ঋণের পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঋণের প্রায় ২০০ কোটি ডলার এখনো বকেয়া রয়েছে। অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ ছাড় হয়নি। তাই পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া ঋণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে নতুন করে আইএমএফের কাছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে চায় বিএনপি সরকার।


নির্বাচিত

আগামী এক বছরে ৪১ লাখ নারী ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ নারী ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, "এতে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে সাত হাজার নারী এই কার্ড পাবেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর সরকার দেশের চার কোটি পরিবারের নারীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় নারকেল, নিমসহ চারটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী

বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পৌঁছালে স্থানীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। গৌরনদীর সরিকল সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। জনসমাবেশে উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "গাছ বড় হওয়া পর্যন্ত যে যতটুকু পারবেন, ততটুকু যত্ন করবেন।" এ সময় তিনি স্লোগান দেন, "বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।" নিজস্ব উদ্যোগে চারটি চারা রোপণ করে তিনি যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলারও অনুরোধ জানান।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রী নারীর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করেছে এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করব। এদের মধ্যে যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।"

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, "আমরা দেশের সবাইকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। সবাইকে নিয়ে, সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলতে চাই। সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে মানবিকতার ভিত্তিতে আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা যদি সবাই ধৈর্য নিয়ে চলতে পারি, তাহলে এই দেশটাকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—যে ধর্মেরই হই না কেন, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে, এই দেশে আমরা সবাই শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করেছি।"

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের সাগরদী খালে বৃক্ষরোপণ এবং বিকেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকা ফেরার কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন যে, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশের স্বার্থে যেকোনো বাধা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে।


নির্বাচিত

আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার বরিশাল সফর করছেন তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা হতে সড়কপথে রওয়ানা হয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পৌঁছান। এক দিনের এই সংক্ষিপ্ত অথচ বিশেষ সফরে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের তীরে বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। অনেকগুলি কর্মসূচির মধ্যে আমরা সারাদেশে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু রাখতে চাই। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।” রোপণকৃত চারার সঠিক যত্নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মন্তব্য করেন, “আজ এখানে দুই হাজার ৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ চারা রোপণের পর দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। একটি শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয় তার পরপর বাবা-মায়ের কাজ শেষ হয়ে যায় না। শিশুটাকে যত্ন সহকারে গড়ে তুলে মানুষ করা হচ্ছে আসল কাজ। তাই আজকে যে গাছের চারা রোপণ করা হবে সেটি নির্দিষ্ট সাইজে বড় না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে।”

বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সেখানে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের সুবিধাভোগীদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি বরিশাল বিভাগীয় শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দুপুর নাগাদ কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সেখানে তিনি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ও জিআই স্বীকৃত আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করবেন। বিকেলের দিকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি বিশেষ সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি, যেখানে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এই সফরে কোনো তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে গৌরনদী হতে বরিশাল শহর পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই প্রান্তে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে ‘মানবপ্রাচীর’ তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও দলীয় কর্মীরা তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ হতে কঠোর নিরাপত্তা ও যাবতীয় লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকল নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে আজ সন্ধ্যার দিকেই তাঁর পুনরায় রাজধানী ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

জলে ভাসে শহর, তলিয়ে যায় প্রতিশ্রুতি

-প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ -ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে মহাপরিকল্পনা -ব্যর্থতার গ্লানি মুছতে ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি দুই সিটির -ড্রেন, খাল ও পাম্প স্টেশন আসছে এক সুতোয় -সহায়তা করবে আইডব্লিউএম ও বিশ্বব্যাংক
শনিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গতকাল গ্রীণ রোড এলাকা থেকে তোলা। ছবি : দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

আষাঢ়ের চেনা বৃষ্টি মানেই এখন বাংলাদেশের দুই প্রধান মেগাসিটির বুকে এক অচেনা আতঙ্ক। আকাশে কালো মেঘের গুড়গুড় ডাক শুনলেই বুক কাঁপে কোটি নগরবাসীর। আধা ঘণ্টার এক পশলা বৃষ্টিতেই ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম—সবখানে তৈরি হয় রূপক অর্থে ‘নগর-নদী’। অলিতে-গলিতে জমে হাঁটু থেকে কোমর জল, কোথাও কোথাও তা বুক সমান উচ্চতাও ছাড়িয়ে যায়। নোংরা, দূষিত পানিতে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বছরের পর বছর গেছে, দশক পার হয়েছে; নতুন নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিটি মেয়ররা এসেছেন দৃশ্যপটে। প্রতিবারই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ইশতেহারে বড় বড় হরফে লেখা হয়েছে জলাবদ্ধতা মুক্তির স্বপ্ন। ড্রেন চওড়া করা, খাল উদ্ধার, কালভার্ট পরিষ্কারের হিড়িক পড়েছে, খরচ হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস, টোকিও কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো আধুনিক মেগাসিটি হওয়ার স্বপ্ন দেখা রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম প্রতি বর্ষায় এসে থমকে যায় আদিম এক জলজটের বৃত্তে। যেন প্রতিবারই মৌসুমি বৃষ্টিতে জলে ভাসে আধুনিকতার দাবিদার দুই শহর, আর নর্দমার নোংরা পানিতে তলিয়ে যায় জনপ্রতিনিধিদের রঙ-বেরঙের প্রতিশ্রুতি।
তবে এবারের সংকট শুধু দুই প্রধান শহরের জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নেই; তা রূপ নিয়েছে এক জাতীয় সংকটে। টানা ভারি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরো ৩৯ জন।
একদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গিয়ে পরিণত হয়েছে অচল নগরীতে; অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রামীণ ও মফস্বল জনপদে বন্যা পরিস্থিতি ধারণ করেছে এক ভয়াবহ ও মানবিক বিপর্যয়কর রূপ। প্রকৃতির এই চরম বৈরী আচরণ এবং মানুষের তৈরি কাঠামোগত ব্যর্থতার মুখে পড়ে বর্তমানে থমকে গেছে দেশের কোটি মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন।
ডুবন্ত ঢাকা, নাকাল নগরবাসী: শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার আধুনিক ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৬ মিলিমিটার এবং সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়ও বৃষ্টি হয়েছে ৯৮ মিলিমিটার।
স্বল্প সময়ে এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে নগরীর পানি নিষ্কাশন নালাগুলো। ফলে ভোর হতেই গ্রিন রোড, পান্থপথ, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও মনিপুর এলাকা কার্যত পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার অলিগলিতে এখন হাঁটুর ওপর পানি।
ফুটপাত তলিয়ে যাওয়ায় পথচারীরা মূল সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। নোংরা পানির ঢেউয়ে ভিজে একাকার হচ্ছেন অফিসগামী মানুষ। সড়কগুলোতে শত শত রিকশা, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজট। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা।
জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় কোপটি পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। রাস্তাঘাট ও সরু গলিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় সকালে অনেক শিক্ষার্থী বাসা থেকেই বের হতে পারেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং কাকরাইলের লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলসহ বহু প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ স্কুল বন্ধের নোটিশে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অভিভাবকেরা।
ঢাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণ : ঢাকার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। এর ফলে শহরের বেশিরভাগ প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ড্রেনে পলিথিন ও ময়লা জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হওয়া এই সমস্যার প্রধান কারণ।
খাল ও জলাশয় ভরাট: শহরের ভেতরের অনেক প্রাকৃতিক খাল বেদখল হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা হয়েছে।
পাকা বা কংক্রিটের আধিক্য: রাস্তা ও বাড়ি-ঘর সব পাকা হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে মাটিতে শোষিত হতে পারে না।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি: ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এছাড়া বিভিন্ন ড্রেনে পলিথিন, বর্জ্য ও পলি জমে পানি সহজে সরতে পারে না।সমন্বয়ের অভাব: বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সময় ড্রেন পরিষ্কার বা সংস্কারের কাজ ঠিকমতো হয় না।
ঢাকার নতুন ‘ব্লু-পিনে’র স্বপ্ন: এক বৈজ্ঞানিক নেটওয়ার্কের আশাবাদ: অতীতের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলতে এবার আর জোড়াতালির সমাধান নয়, ঢাকার তলিয়ে যাওয়া ভাগ্য ফেরাতে সম্পূর্ণ নতুন এক পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার দুই নগর প্রশাসন। বিচ্ছিন্নভাবে টাকা ওড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি যৌথভাবে হাত বাড়িয়েছে এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যানের দিকে। পানি নিষ্কাশনের পুরো প্রক্রিয়াকে একটি একক বৈজ্ঞানিক নেটওয়ার্কে বেঁধে ফেলার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের মহাপরিকল্পনার মূল দর্শন হলো ‘সমন্বিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা’। ঢাকা শহরের ভূ-প্রকৃতি, ঢাল এবং পানির প্রবাহকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করে পুরো শহরের ড্রেনেজ নেটওয়ার্ককে একটি একক সফটওয়্যার বা সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। এই পরিকল্পনার প্রধান স্তম্ভ চারটি হলো-
স্মার্ট ড্রেনেজ লাইন: অলিগলির ছোট ড্রেনগুলো থেকে পানি কীভাবে মূল ড্রেনে যাবে, তার সুনির্দিষ্ট ঢাল বৈজ্ঞানিক উপায়ে নির্ধারণ করা।
খালের পুনরুজ্জীবন: ঢাকার বুক চিরে বয়ে যাওয়া খালগুলোকে উদ্ধার করে সেগুলোর ধারণক্ষমতা ও নাব্য বৃদ্ধি করা, যাতে পানি দ্রুত সরতে পারে।
আউটলেট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: খাল থেকে পানি বুড়িগঙ্গা, তুরাগ বা বালু নদীতে পড়ার পথগুলোকে বাধামুক্ত ও দখলমুক্ত করা।
হাই-টেক পাম্পিং স্টেশন: নদীর পানি যখন শহরের চেয়ে উঁচুতে থাকবে, তখন স্বয়ংক্রিয় পাম্পের সাহায্যে শহরের পানি সেচে নদীতে ফেলার আধুনিক ব্যবস্থা।
দক্ষিণের কাণ্ডারি আইডব্লিউএম: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পানি গবেষণা ও প্রযুক্তি সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংকে (আইডব্লিউএম)। পুরো দক্ষিণ ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে এই কাজ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এবং তীব্র জলাবদ্ধতাপ্রবণ ৫টি অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলগুলোর ড্রেন, খাল ও কালভার্টের থ্রি-ডি ম্যাপিং করা হচ্ছে। ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসির পুরো এলাকার মাস্টারপ্ল্যানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, এই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যদি মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করা যায়, তবে ঢাকার জলাবদ্ধতার একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব।
উত্তরের সঙ্গী বিশ্বব্যাংক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত মিলিয়েছে বিশ্বব্যাংকের সাথে। বিশ্বব্যাংকের একটি চলমান বড় প্রকল্পের আওতায় উত্তর ঢাকার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন যে, মাস্টারপ্ল্যানের একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ জানান, বিশ্বব্যাংকের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগের প্রাথমিক কাজ গোছানো হয়েছে এবং খুব দ্রুতই মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। উত্তর ঢাকার খালগুলোর উন্নয়ন ও নতুন পাম্প স্টেশন স্থাপনে বিশ্বব্যাংকের এই প্রজেক্ট গেম-চেঞ্জার হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা যে জটিল আকার ধারণ করেছে, এটি নিরসনে সমন্বিত প্ল্যান বা মাস্টারপ্ল্যান সবার আগে জরুরি। বিচ্ছিন্নভাবে ড্রেন বড় করলে বা রাস্তা উঁচু করলে সমস্যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয় মাত্র, সমাধান হয় না।
শত কোটি টাকার অপরিকল্পিত প্রকল্পে ডুবুডুবু চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা রূপ নিয়েছে এক অন্তহীন ট্র্যাজেডিতে। পাহাড়ি ঢাল আর সাগরের জোয়ার-ভাটার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক শহরটি এখন সামান্য বৃষ্টিতেই হাবুডুবু খায়। চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও হালিশহর—সবখানে এখন পানির রাজত্ব।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক বছরে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে চারটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিডিএ-এর অধীনে পরিচালিত মেগা প্রকল্পটিই অন্যতম। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও এবং হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও চট্টগ্রামের ডুবন্ত ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো এবারের বর্ষায় দেখা গেছে চেনা দৃশ্য—বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচে কোমর জল, আর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে পানির ওপর ভাসছে মানুষের আসবাবপত্র।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো কী: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোয়ারের পানি আটকাতে খালের মুখে যেসব রেগুলেটর বা স্লুইস গেট তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর সঠিক পরিচালন পদ্ধতি এখনও ঠিক করা যায়নি। ফলে ভারি বৃষ্টির সময় যখন গেট বন্ধ থাকে, তখন শহরের ভেতরের পানি বের হতে না পেরে কৃত্রিম বন্যা তৈরি করে।
পাহাড় কাটা ও বালুর আস্তরণ: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের অংশ পাহাড়গুলো নির্বিচারে কাটার ফলে বৃষ্টির পানির সাথে বিপুল পরিমাণ বালু ও মাটি নেমে আসে। এই মাটি ড্রেন ও খালগুলোকে ভরাট করে ফেলে। ফলে খালের গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়।
সংস্থাগুলোর মধ্যে রেষারেষি ও সমন্বয়হীনতা: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ওয়াসা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এখন ওপেন সিক্রেট। ড্রেন পরিষ্কারের দায়িত্ব কার, আর খাল খননের দায়িত্ব কার—এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতেই পার হয় বছরের পর বছর।
চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ট্যাক্স দিই ঠিকই, কিন্তু বর্ষা এলেই আমাদের ঘরের ভেতর ড্রেনের নোংরা পানি ঢোকে। কোটি কোটি টাকার প্রজেক্টের কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে আমাদের কোনো লাভ হয়নি। প্রজেক্টের টাকা পানিতে গেছে, আমরাও পানিতেই আছি।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মহাবিপর্যয়: ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিস্থিতি যখন মূলত নাগরিক ভোগান্তি আর অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চিত্র তখন সম্পূর্ণ মৃত্যুরূপী। গত ৫ জুলাইয়ের পর থেকে মাত্র চার দিনে চট্টগ্রামে প্রায় ১,০০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনোর জলবায়ুগত প্রভাবের কারণেই এত অল্প সময়ে এই অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ধসের কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিভাগটির বিভিন্ন জেলায় হতাহতের বিবরণ: কক্সবাজার: সবচেয়ে বেশি ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বান্দরবানে ৬ জন মারা গেছেন। রাঙ্গামাটিতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্যোগের ফলে সাতটি জেলার প্রায় ৮ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ এখন সরাসরি পানিবন্দি ও চরম দুর্গত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সেবার চরম বিপর্যয়: বন্যার তোড়ে এই অঞ্চলের কয়েকশ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ধসে গেছে, যার ফলে বহু গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকা দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে উপড়ে গেছে শত শত বিদ্যুতের খুঁটি, পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রিড স্টেশন। ফলে বিকল হয়ে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারগুলোও। লাখ লাখ মানুষ এখন অন্ধকার, বিশুদ্ধ পানিহীন এবং আধুনিক যোগাযোগহীন এক বিচ্ছিন্ন ও আদিম দুনিয়ায় দিন কাটাচ্ছেন। বাইরের পৃথিবীর সাথে তাদের যোগাযোগের কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই।
আশ্রয়কেন্দ্রে হাহাকার ও ত্রাণের জন্য আর্তনাদ: বিভাগজুড়ে দুর্গত মানুষদের আশ্রয়ের জন্য ১,৭০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে সেখানে ঠাঁই নেওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে এখন কেবলই কান্নার রোল। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শিশুখাদ্য, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা স্পিডবোট ও হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী অন্তত দুই দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি রয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত। আগামী ১৪-১৫ জুলাইয়ের দিকে রাজধানীতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও, দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close