রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

‘আপাতত কোটা বাতিলের পরিপত্র বহাল থাকবে’

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৪ ১৫:১৬

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থিতাবস্থার (স্ট্যাটাসকো) ফলে আপাতত কোটা বাতিল করে দেওয়া পরিপত্র বহাল থাকবে। আজ বুধবার এ বিষয়ে আপিল বিভাগের আদেশের পর একথা জানিয়েছেন দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা থাকছে। এর ফলে নিয়োগ পদ্ধতিতে আপাতত কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ হবে না। ২০১৮ সালের পর যেভাবে নিয়োগ হয়ে আসছিল, সেই পদ্ধতিই বহাল থাকবে।

এর আগে রাষ্ট্র ও শিক্ষার্থীদের করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ চার সপ্তাহের জন্য এই আদেশ দেন। আগামী ৭ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

আজ সকাল ১০টার দিকে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপিত হয়। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির জন্য সাড়ে ১১টায় সময় দেওয়া হয়েছে। দুটি আবেদন একসঙ্গে শুনানি হোক। এ জন্য সময় চান। তবে আদালত সময় নামঞ্জুর করে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবেদন শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক শুনানি করেন। আর রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী শুনানি করেন।

এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভুইয়া এবং উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান চেম্বার কোর্টের অনুমতি নিয়ে একটি সিএমপি (হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে) আবেদন করেন। ওইদিনই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সেই আবেনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন চেম্বার আদালত।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের এক রিটে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ জুন কোটা পুনর্বহাল করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ রায়টি স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত গত ৯ জুন আবেদনটি শুনানির জন্য ৪ জুলাই নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। ৪ জুলাই হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়নি। তবে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায় স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ ‘নট টু ডে’ (আজ শুনানি নয়) আদেশ দেন। রিট আবেদনকারী পক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

নবম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) ও ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকার পরিপত্র জারি করে।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা এমন পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট দায়ের করেন অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছরের ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী জানান, পুরো কোটা বাতিল না করে কেবল নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের কোটা বাতিল করা হয়েছিল। এটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে এসব গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাদের সন্তানদের নিয়োগে আর কোনো বাধা নেই।

এরপর ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।


প্রশ্নফাঁস করে নিজেদের লোককে চাকরি দেওয়া জিয়ার আমল থেকে শুরু হয়েছিল

রোববার গণভবনে চীন সফর নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড ১৪ জুলাই, ২০২৪ ১৮:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রশ্নফাঁস করে নিজেদের লোককে চাকরি দেওয়াটা সেই জিয়ার আমল থেকে শুরু হয়েছিল। খালেদার আমলে সেটা চলেছে। আমরা এটা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি। কোটা বাতিলের পর অনেকে চাকরিতে ঢুকে গেলো। তারা এখন অনেক জায়গায় বসে এসব প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে।

আজ রোববার বিকেলে চীন সফর নিয়ে গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নফাঁস বিষয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোনো পরীক্ষা নয়, হাওয়া ভবন থেকে পাঠানো তালিকায় বিসিএসে চাকরি হতো।

তিনি বলেন, ২৪তম বিসিএস পরীক্ষা হয়েছিল ২০০২ সালে। ঢাকা কলেজে সেই সময় একটা বিশেষ কামরা রাখা হতো। সেখানে বসে তাদের (বিএনপি) লোক পরীক্ষা দিতো। তাদেরই চাকরি হতো। কোনো উচ্চবাচ্য সেসব কিন্তু নেই। আমরা সরকারে আসার পর ২০০৯ সাল থেকে সম্পূর্ণভাবে এগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলাম। যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৮- এর পরে এই গ্রুপটা কী করে যেন আবার জায়গা করে ফেলে। যেটা এখন ধরা পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় এগুলো ধরতে গেলে অনেকে বলে যে প্রচার হলে ভালো হবে না ইমেজ নষ্ট হবে। আমি বলেছি যে আমি এগুলোতে বিশ্বাস করি না। কীসের ইমেজ নষ্ট হবে? অন্যায়-অবিচার যারা করবে তাদেরকে আমরা ধরবোই। তাদেরকে ধরতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে যেন চলতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সময়ে প্রশ্নফাঁস নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, যখন ধরা পড়ছে, তদন্ত হবে বিচার হবে। যারা বেনেফিসিয়াল তাদেরকে খুঁজে বের করা গেলে ব্যবস্থা নেব। তাদের চাকরি করার অধিকারই থাকবে না। তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ এসব কাজ করবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রশ্নপত্র যারা ফাঁস করে আর যারা প্রশ্নপত্র ক্রয় করে, দুইজনই অপরাধী। খুঁজে বের করে দেবে কে? সাংবাদিকরা যদি খুঁজে বের করে দেয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কোটা পুনর্বহাল করে‌ হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) কোটা পুনর্বহাল করে দেওয়া হাইকোর্টের আলোচিত রায়ের মূল অংশ প্রকাশ করা হয়। এরপর আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হল। রায়ে বলা হয়, ‘সরকার প্রয়োজনে অথবা চাইলে কোটা সংস্কার করতে পারবে।’

যদিও এর আগেই রাষ্ট্র ও সাধারণত শিক্ষার্থীদের পক্ষে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ওই প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে আদেশ দিয়েছেন। গত ১০ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর একমাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এর আগে গত ৫ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে। এ সংক্রান্ত রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) সাইফুজ্জামান জামান।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সাতদিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর এ পরিপত্র জারি করা হয়। তখন রিটকারীরা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কোটা নবম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেড (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) বাতিল করে (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) ১৪ থেকে ২০তম গ্রেডে রাখা হয়েছে। যা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে হেয়প্রতিপন্ন করার শামিল।


সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ জুলাই, ২০২৪ ১৭:৫৮
ঢাবি প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের জন্য দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ফিরে এসে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। এই ২৪ ঘণ্টা সময় পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ বলেন, আমাদের স্মারকলিপিতে আমাদের দাবি তুলে ধরে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমরা ২৪ ঘণ্টার একটি সুপারিশ করেছি। আমরা চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদের অধিবেশন ডেকে আইন পাশের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক অথবা শুধু অধিবেশন ডাকা হোক। অর্থাৎ আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে চাই। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করব। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বা দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে কী বক্তব্য বা পদক্ষেপ আসছে সেটা পর্যবেক্ষণ করে আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

নাহিদ বলেন, শাহবাগ থানায় আমাদের নামে যে অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে, আমরা গতকাল বলেছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা সেটি আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিচ্ছি আজকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি মামলা প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে কিন্তু আমাদের কর্মসূচি কঠোর থেকে কঠোর হবে। গত ১ জুলাই থেকে অবরোধ আর অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি বিক্ষোভ এবং স্মারকলিপি দেওয়ার মতো কর্মসূচি নিয়েছি। কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আমরা নাকি বারবার দাবি পরিবর্তন করছি। কিন্তু আমাদের দাবি শুরু থেকেই স্পষ্ট। আমরা প্রথম দিন থেকে বলেছি, কোটা সংস্কারের এখতিয়ার সরকার এবং নির্বাহী বিভাগের। বরং সরকার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। তাই আমরা চেয়েছি আইন বিভাগ বা জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইন পাশ করা হোক যাতে জনপ্রতিনিধিরা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি বা বক্তব্য কখনো স্ববিরোধী নয়। দাবি উপস্থাপনের যত দরজা আছে সব দরজায় যাচ্ছি। কিন্তু আমাদেরকে ফেরানো হচ্ছে। আর বলা হচ্ছে আমাদের দাবি স্ববিরোধী। সরকার যদি প্রথম দিনেই আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করত তাহলে কিন্তু আমাদের এত জায়গায় যাওয়ার দরকার হতো না।

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ওনার সামরিক সচিব আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, অতি দ্রুত তিনি এই স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দিবেন। সেখানে আমরা স্পষ্ট করে আমাদের এক দফা দাবি উল্লেখ করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, অতিসত্বর আমাদের দাবি বাস্তবায়ন জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এর আগে আজ দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এক দফা দাবির স্মারকলিপি জমা দিতে বঙ্গভবনে যান। তবে তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে তাদের স্মারকলিপি জমা দেন।

তার আগে তিন দফায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে পৌঁছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে বঙ্গভবন অভিমুখে তাদের পদযাত্রা শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা টিএসসি, শাহবাগ, মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শিক্ষা ভবন মোড়ে এলে প্রথম দফায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তবে সেখানে কোনো ব্যারিকেড দেওয়া ছিল না। পুলিশ মানব ব্যারিকেড তৈরি করলে সেটি ভেঙে জিপিও মোড়ের দিকে এগিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। এখানেও ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় শিক্ষার্থীদের এখানে আটকে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনের সমন্বয়কদের অনুরোধ করা হয় আর সামনে না যাওয়ার জন্য। পুলিশ তাদের ১২ জন প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তাব করে। প্রস্তাবে রাজি হয়ে ১২ জন প্রতিনিধি বঙ্গভবনে যান ও বাকিরা জিপিও মোড়ে বসে পড়েন।


ধৈর্য ধরে সংঘাত নিরসনে কাজ করেছে পুলিশ: বিপ্লব

ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনে কোনো ধরনের সংঘাত যেন না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশে পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে কাজ করছে।’

আজ রোববার গুলিস্তানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিপ্লব বলেন, ‘ডিএমপির সব ইউনিটের সব পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করছি।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ কিংবা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ চেষ্টা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যতটুকু ধৈর্য ধরা প্রয়োজন ততটুকু ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে।’

ডিএমপির এ যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘শুরুতেই আমরা যদি কাউকে মারপিট করি সেটা সমাধান নয়। শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছি। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে, কোনো ধরনের সংঘাত যেন না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

জনদুর্ভোগের বিষয়ে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সব সদস্যের এজন্য অত্যন্ত কষ্ট হচ্ছে। যানজট কীভাবে নিরসন করা যায় এবং জনগণকে কীভাবে স্বস্তি দেওয়া যায় সে ব্যাপারে পুলিশ কাজ করছে।’

জনদুর্ভোগ যেন ন হয় সেজন্য শিক্ষার্থীসহ সবাইকে অনুরোধ জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

বিষয়:

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সহযোগিতা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আজ রোববার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গবেষণা, শিক্ষা, আইসিটি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

শেখ হাসিনা তার এই চীন সফর প্রসঙ্গে বলেন, সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার সম্পর্ক “সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব” পর্যায়ে উন্নীত হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, আগামী বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্র নীতি “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়”, এটিকে মূলনীতি হিসেবে ধরে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফলভাবে তার কূটনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা, ফিলিস্তিন সঙ্কট, মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন, জাতিসংঘ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রই নয়, ঐতিহ্যগত দিক থেকেও এশীয় দেশ হিসেবে আমাদের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের সংযোগ রয়েছে।


সেপ্টেম্বরে ব্যাংকক যাবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দি‌তে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকক যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রোববার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক নি‌য়ে করা সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিমসটেক মন্ত্রিপর্যায়ের সভায় যে আলোচনা হয়েছে, যে ঐকমত্যে আমরা পৌঁছেছি সেটি হচ্ছে— সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখে বিমসটেক সম্মেলন হবে। ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর সরকারপ্রধানরা যোগ দেবেন।

তি‌নি ব‌লেন, আমরা বিমসটেকের আগামী চেয়ারম্যান হবো। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের পর নতুন চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবো। সেজন্য এ বৈঠক আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা-জানতে চান এক সাংবা‌দিক। জবাবে হাছান মাহমুদ ব‌লেন, চীন সফর নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।


চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন, দেখুন সরাসরি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনে তিন দিনের সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার বিকেল ৪টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

বেইজিংয়ে অবস্থানকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া, চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

গত ৮ জুলাই বেইজিং সফর শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ জুলাই দেশে ফিরে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু সফরসূচিতে পরিবর্তন এনে একদিন আগে ১০ জুলাই দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের শেষ দিন ১০ জুলাই বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্যা পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়। এরপর দুই দেশ ২১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে এবং সাতটি প্রকল্পের ঘোষণা দেয়।


আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কোটা আদালতের একটি বিচারাধীন বিষয়। সে কারণে এর ওপর সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাহলে আদালত অবমাননা হবে। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।

চলমান কোটা আন্দোলন নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোটার বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে এসেছে। সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর সহানুভূতিশীল হয়ে পুরো কোটাই বাতিল করে দিয়েছিল। কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পর, কোটাবিহীনভাবেই চাকরিতে অন্তর্ভুক্তি হচ্ছিল। সরকার সেটিকে পুনর্বহাল করেনি বা সে ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগও ছিল না। কিন্তু হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল সেটিকে পুনর্বহাল করতে হবে। আবার সেটিকে স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। যেহেতু আদালতের কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে। আদালতের একটি বিচারাধীন বিষয়ের ওপর সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাহলে আদালত অবমাননা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন যে আন্দোলন হচ্ছে সেটির কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না। এটি আসলে আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলিও বটে। সরকার সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। সে কারণে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল। তবে বাতিল করার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। যেমন অনেক জেলা থেকে সরকারি চাকরিতে অনেক ক্যাডারে কেউ সুযোগ পাচ্ছে না। মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে গেছে। এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সরকার কিন্তু কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি তো সবসময় চায়... নিজেদের তো কিছু করার ক্ষমতা নেই, তারা অপরের ঘাড়ে চেপে কোনো সময় কোটার ওপর ভর করে, কোনো সময় তেল-গ্যাসের ওপর ভর করে, কোনো সময় আবার অন্য কিছুর ওপর ভর করে। বিএনপি এখান থেকে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর সুপ্রিম কোর্ট স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ কোটা যে বাতিল সরকার করেছে সেটিই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। এরপরও যখন আন্দোলন হয় বুঝতে হবে এটির সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের ভুল পথে নেওয়ার লোকের অভাব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উস্কানিদাতারা বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভুল পথে নেওয়ার লোকের অভাব নেই। সেই ধরনের ঘটনাই ঘটছে।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কারা উস্কানি দিয়েছে, কার দায়ী সবগুলো বিষয় তদন্তের পর বলা যাবে। যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে সেটি তদন্ত হবে। তদন্তের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। তদন্তের আগে আমি কিছু বলতে পারছি না।

মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে কোটা আন্দলোনকারীরা, সেক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে মামলা করতে পারে। মামলা তদন্তের পর যদি এটার মেরিড না থাকে তাহলে অটোমেটিক বাতিল হয়ে যাবে। এখানে ২৪ ঘণ্টা, ১০ দিন, ২৪ দিন এগুলোর কোনো প্রশ্ন আসে না। তদন্তে যদি মামলার মেরিড থাকে তবে বিচার শুরু হবে।

পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙে আজও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে, এ পরিস্থিতিতে কী ব্যবস্থা নেবেন? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যা করছে আমার মনে হয় তারা না বুঝেই করছে। এটা পরিষ্কার যে আদালত বলেছে এ বিষয়ে আগামী ৮ আগস্ট শুনানি হবে। আদালত তাদেরও (শিক্ষার্থীদের) অংশগ্রহণ করতে বলেছেন। কিন্তু এগুলো না করে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করছে। এ বিষয়ে সব কিছুই এখন বিচারবিভাগের হাতে, আমাদের হাতে কিছু নেই, কিছু থাকলে আমরা সেটার ব্যবস্থা করবো।


মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পণ্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, গালফ অঞ্চল, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর বাজারে রপ্তানি আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার সকালে রাজধানীর ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় ২০২১-২২ অর্থবছরের রপ্তানি পদক পেয়েছে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৭৬টি প্রতিষ্ঠান জাতীয় রপ্তানি পদক এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি পদক দিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কিছু রপ্তানি পণ্যের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হবে। তাই আমাদের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের আর একটি কথা বলব, আসলে যুদ্ধ জড়িয়ে পড়ে ইউরোপীয় দেশগুলো কিংবা আমেরিকাই বলেন, তাদের মূল্যস্কীতি বেশি এবং অর্থনীতি কিন্তু খুব চাপের মুখে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু নতুন সুযোগ আছে। মিডল ইস্টে, গালফ কান্ট্রি, আফ্রিকা, সাউথ এশিয়া, সাউথ-ইস্ট এশিয়া, ইস্ট এশিয়ান কান্ট্রিগুলো, ইস্ট ইউরোপীয় কান্ট্রিগুলো এদের সাথে যত বেশি আমরা যোগাযোগ রাখতে পারব, আমাদের রপ্তানি বহুমুখিকরণ করতে পারব। এই সুযোগটা আমাদের নিতে হবে। এজন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ করছি। মাঝে মাঝে প্রতিনিধিও পাঠাচ্ছি এসব জায়গায়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদেরও বলব, এসব দেশের দিকে আপনারা আরও বেশি করে নজর দেন। কারণ যেসব দেশের সঙ্গে এত দিন আমরা (রপ্তানি বাণিজ্য) করতাম, তাদের ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে, দারিদ্র্যের হার বেড়ে গেছে, সেখানকার অবস্থা হয়তো ওপর দিয়ে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু সেসব দেশে যারা থাকে তারা জানে। সেজন্যই আমাদের নতুন নতুন জায়গা এবং নতুন নতুন পণ্য খুঁজতে হবে।

রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা কেবল আরএমজি পণ্যের ওপরই নির্ভরশীল থাকব কেন? ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের পোশাকের ডিজাইনগুলো পরিবর্তন করতে হবে। সরকার এজন্য বেসরকারি খাতের সহায়তায় ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছে, কেননা এক্ষেত্রে গবেষণারও প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমান যুগ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির যুগ এবং সেভাবেই বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন দেশের বাজারে আমরা ঢুকতে পারব, সেটা সরকারের পক্ষ থেকেও আমরা করব কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও নিজেদের পার্টনার নিজেদের খুঁজে নিতে হবে। সেদিকেও আপনাদের নিজেদের দৃষ্টি দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের উৎপাদন যেমন বাড়াব, রপ্তানিও বাড়াব আবার দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবেও আমরা এগিয়ে যাব।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘরে ঘরে ইন্টারনেট, ছেলে মেয়েদের জন্য কম্পিউটার ট্রেনিং ও কম্পিউটার ইনকিউবেশন সেন্টার করে দিয়ে কারিগরি শিক্ষা ও ভোকেশনাল ট্রেনিংকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ৪র্থ শিল্প বিপ্লব যখন আসবে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জনশক্তি তৈরি করা-এটাও আমাদের জন্য প্রয়োজন। সেভাবে উপযুক্ত জনশক্তি তৈরিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে।

তিনি বলেন, স্টার্টআপ প্রোগ্রাম নিয়ে এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে আমাদের যুব সমাজ যাতে এগিয়ে আসে, এজন্য ‘কোম্পানি আইন’ সংশোধন করে সরকার ‘ওয়ান ম্যান কোম্পানি’ করার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশনে নারীদের জন্য উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকার ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে, সেখানে নারীরা চাইলে আলাদাভাবে প্লট নিয়ে নিজের ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। কারণ আমি চাই আমাদের সমাজে মেয়েরাও এগিয়ে আসুক এবং তারাও এই ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হোক।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।


৭ জেলায় ওপর দিয়ে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৭ জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানার স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপিতে বলা হয়, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।


নতুন করে ১৪ জনের করোনা শনাক্ত

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১৪ জুলাই, ২০২৪ ০০:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে নতুন করে ১৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ২২১ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শনিবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৯৮ জনের।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সময় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মোট পরীক্ষায় এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৭ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম ১ জনের মৃত্যু হয়।


প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন আজ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৪ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
বিশেষ প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি চীনে তার সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।

শেখ হাসিনার প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গত সোমবার সরকারি সফরে চীনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গত বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন।

বেইজিংয়ে অবস্থানকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।

বুধবার সকালে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীন ২১টি সহযোগিতার নথিতে সই এবং নবায়ন করেছে। এসবের বেশির ভাগই সমঝোতা স্মারক। বৈঠকে এশিয়ার এই দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ও চীন উভয়েই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সমাপ্তিসহ সাতটি ঘোষণাপত্র সই করেছে।


banner close